Author: bangladiganta

  • অবশেষে শপথ নিলেন জামায়াত ও ১১ দলীয় সংসদ সদস্যরা

    অবশেষে শপথ নিলেন জামায়াত ও ১১ দলীয় সংসদ সদস্যরা

    বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রথমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা এবং অন্যান্য জামায়াত কেন্দ্রীয় দলের সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।

    জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত বিদ্রোহী সাতজন সংসদ সদস্য, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, এবং ঢাকা-৬ আসনের ইশরাক হোসেন শপথ নেন। তবে ইশরাক হোসেন যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেননি, তাই তার শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। একই সঙ্গে শপথ নেন ইসলামী আন্দোলন থেকে নির্বাচিত একমাত্র সদস্য মো. ওয়ালীউল্লাহ।

    এর আগে সকালে বিএনপি সংসদ সদস্যরা শপথ নেন, তবে তাদেরকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে নয়।

    অন্যদিকে, পার্টির নেতারা শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে একটি বৈঠক করে, যেখানে তারা স্পষ্ট করে দেন যে, তারা শপথ নেবেন। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭ আসনে জয় লাভ করে। এখান থেকে বোঝা যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও শপথের গুরুত্বকে কেন্দ্র করে নতুন এই দিকপাল ঘটনা ঘটেছে।

  • এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্বে শপথ গ্রহণ করলেন

    এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্বে শপথ গ্রহণ করলেন

    নানান গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সংসদীয় কার্যক্রমে প্রবেশ করছেন। পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দ্বিতীয় ধাপে শপথ নিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে, এই তরুণদের অংশ নিয়ে গঠিত দলটির সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন। তাদের শপথ পড়ান ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এমএম নাসির উদ্দিন।

    এনসিপির যে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন, তারা হলেন- হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন।

    শপথ নেওয়ার আগেই, জামায়াত জোটের অন্যান্য এমপিরা একসঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ অনুষ্ঠানে এনসিপির এমপিরা ছিলেন না বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে, আর এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে হয়েছিল এনসিপির সংসদ সদস্যরা শপথে অংশ নেবেন না। তবে সম্প্রতি তারা স্পষ্ট করে জানান, শপথে তারা অংশ নিতে চান। শেষ পর্যন্ত, তারা শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

    শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে তারা সংসদ ভবনের লবিতে উপস্থিত হন। দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঐতিহ্যবাহী গেঞ্জি, আকতারের কোট এবং নাহিদ ইসলামকে শার্ট পরা দেখা যায়।

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ‘জুলাই সনদ’ আক্ষরিক অর্থে বাস্তবায়ন করবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের অর্থপূর্ণ প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, এই সনদে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই ‘জুলাই সনদ’ হলো রাজনৈতিক সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক দলিল, যার প্রতিটি অঙ্গীকার তারা পূরণের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের চেতনা ও রায়কে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিফলিত করতে এবং দেশকে নতুন ধারা ও গতিতে এগিয়ে নিতে সংসদই হবে মূল প্ল্যাটফর্ম। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে।

    তাঁর মতে, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর ক্ষমতা বা অধিকার নেই। এ কারণেই এই সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়াও ঘটছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে সংসদীয় ও সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনে চলছে। ভবিষ্যতেও দেশের প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের পরিচালনা—allই সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এর পাশাপাশি, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলীয় নেতা নির্বাচিত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান।

    শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সালাহউদ্দিন বলেন, মানুষের গণভোট ও ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পরে তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ অধিষ্ঠিত করবে। তিনি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ২(ক) ধারা উল্লেখ করে বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে না পারলে বা অনুপস্থিত থাকলে, তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। এই প্রক্রিয়াও না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে শপথ পড়াবেন। এই ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করিয়েছেন।

    শপথের পরে সংসদীয় দলের বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সালাহউদ্দিন আরও জানান, নেতৃস্থানীয় এই সিদ্ধান্তের পর থেকে, দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে— ১. কোন সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না। এবং ২. কোনো সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, অভিন্ন পরিবর্তনের এ সূচনা। সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা গ্রহণের চলমান ধারণা বদলে যেতে হবে যেন সবাই সমানভাবে দায়িত্বশীল হয়।

  • সরকারের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব হাসিনাসহ আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার কার্য সম্পন্ন করা

    সরকারের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব হাসিনাসহ আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার কার্য সম্পন্ন করা

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে তার মতামত দেন।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ সকল আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠামোতে আনা অত্যন্ত জরুরী। এটি এই সরকার의 সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনভাবেই যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয় বা মন্থর গতি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের এখনও গ্রেফতার করে বিচার শুরু করা হয়নি, যা আমরা ব্যর্থতা হিসেবে দেখছি। এই ব্যর্থতা সরকারের উচিত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা।’

    সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বিএনপির শপথ না নেওয়ার বিষয়ে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক পরিষদে তাদের অব্যাহত অসহযোগিতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা দেখিয়েছে যে, যাই কিছু হোক না কেন, তারা সংস্কারকে বিপক্ষে থাকবে। শুরু থেকে তারা সংস্কার মোকাবেলায় বিরোধিতা করে আসছে। জনমতের চাপের মুখে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য প্রচারণা চালিয়েছে।’

  • নির্বাচনের পরে সহিংসতা বন্ধ না হলে আবারও অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    নির্বাচনের পরে সহিংসতা বন্ধ না হলে আবারও অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    নির্বাচনের পর থেকে চলমান সহিংসতা যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ আবারও একটি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত একটি বিক্ষোভ মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং একে অন্যের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    বিক্ষোভ মিছিলটি দেশের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট, প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন ও শাহবাগের দিকে এগিয়ে শেষ হয়।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের পরে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা যদি অবিলম্বে রোধ না হয়, তবে বাংলাদেশ আবারও একটি ভয়ঙ্কর অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, রক্ত দিয়া গড়া সংবিধান বা জুলাই সনদ যদি কার্যকর করা হয় না, তাহলে পুরোনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যা হয়েছিল, সেরকমই নতুন ফ্যাসিবাদের সামনেও তাই হতে পারে।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে যে সব নির্বাচনী কেন্দ্রে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান চাইছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি আরো বলেন, যদি কোনো তালবাহানা বা বিলম্ব করে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে জনগণ তাদের ভোটের ফলাফল রাজপথে নেমে নিজস্ব দাবিতে পূরণ করবে।

    এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ ভোটের অধিকার নিয়ে তামাশা দেখা হয়েছে। এই প্রহসনের ফলাফলের পর পুরো দেশ জুড়ে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।’ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের পর এই দেশের জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদ সহ্য করবে না। জুলাইয়ে যে চেতনা সুদৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে, তা রক্ষা না হলে আবারও মাঠে নামা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

  • ফের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প অনুভূত হল দেশের বিভিন্ন অংশে, কেন্দ্রীয় পাহাড়ি অঞ্চল ছাতক

    ফের ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প অনুভূত হল দেশের বিভিন্ন অংশে, কেন্দ্রীয় পাহাড়ি অঞ্চল ছাতক

    দেশের বিভিন্ন এলাকা আবারও ভূকম্পনে কেঁপে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, এর মাত্রা ছিল ৪.১ রিখটার স্কেলে। তারা আরও জানায়, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তি ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাতে।

    অন্যদিকে, মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্টের মতে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকার কাছ থেকে প্রায় ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়। এই কম্পন সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কিছু সময়ের জন্য অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪.১। উৎপত্তিস্থল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে থাকায় আশপাশের এলাকাগুলোতে তা অনুভূত হয়েছে। এটি হয়তো ক্ষণস্থায়ী হলেও, মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করছে।

  • রমজানেই চালু হবে ফ্যামিলি কার্ড: পরিবেশ মন্ত্রী

    রমজানেই চালু হবে ফ্যামিলি কার্ড: পরিবেশ মন্ত্রী

    বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে এই রমজানেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার, জানিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সভায় ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন ও কার্যক্রমের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, এটি নির্বাচনী ইশতেহারে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কীভাবে এটি কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই কার্ড সুবিধা প্রত্যেকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নয়। একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে; যা হতদরিদ্র থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত করবে। আরও জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি জানান, এই প্রকল্পটি মূলত সার্বজনীন এবং সব সুবিধাভোগীর জন্য উন্মুক্ত। প্রশ্ন করা হয়, কি এই রমজানেই এই উদ্যোগের শুরু হবে কিনা, মন্ত্রী উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, ঈদের আগে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু হবে।’ প্রধানমন্ত্রী চান, অন্তত ঈদের আগে এর সূচনা সম্পন্ন হোক, বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, সিপিবি জোর দিয়েছে যে, আগামী অর্থবছরে যদি ফ্যামিলি কার্ড চালু না হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য আশা করা যায়। এ বিষয়ে সংবাদ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে, মন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘এটি অবশ্যই চালু হবে, কোনো সমস্যা নেই। আমাদের কাজ হচ্ছে কার্যক্রমের ব্যাখ্যা এবং কৌশল নির্ধারণ।’

  • ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিতে বৈর্থ্য ও চ্যালেঞ্জসমূহ

    ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অগ্রগতিতে বৈর্থ্য ও চ্যালেঞ্জসমূহ

    নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে পাঁচ লাখ পরিবারকে মাসে ২ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা প্রদানের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যা এই উদ্যোগের সফলতা প্রভাবিত করতে পারে। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম মনে করে, এই কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ সামুদ্রিক মোট আয়ের ০.১৫ থেকে ০.২০ শতাংশের কাছাকাছি হবে, যা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করতে পারে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তার করা যাবে, যা ভবিষ্যতে একটি সর্বজনীন মৌলিক আয়ের কর্মকাণ্ডের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে, উপকারভোগীর নির্বাচন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যদি এটি প্রথাগত প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদ্ধতিতে করা হয়। এ জন্য বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিসুবিধা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি। এর মাধ্যমে প্রকৃত প্রয়োজনী মানুষরা উপকৃত হবেন এবং নির্বাচনী ইশতেহার রূপায়িত সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা থাকলে, তা সময় উপযোগী হবে। কারণ, নির্বাচন আগে অপ্রতুল ডাটা ও দুর্নীতির ঝুঁকি থাকায় বিতরণে সমস্যা হতে পারে। তাই, একটু সময় নিয়ে সঠিক ডেটার ভিত্তিতে এই কর্মসূচি চালানো উত্তম।

    অতিরিক্তভাবে এ ধরনের পরিকল্পনার লক্ষ্য রয়েছে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার, যেখানে ২০২৫ সালে জিডিপির আকার ছিল ৪৬২ বিলিয়ন ডলার। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে গড়ে ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হবে, যা বর্তমানে খুবই উচ্চাভিলাষী তবে সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ২০২৫ সালে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬.৮ শতাংশ, আর ২০২৬ সালে সেটা ৮.৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে বাস্তবতা অনুসারে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে, কারণ প্রতি বছর প্রায় ০.৯ শতাংশ পয়েন্টের মতো উন্নতি দরকার। সঠিক সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

    সিপিডির তৌফিক ইসলাম উল্লেখ করেন, বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি উচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দরকার, যেখানে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকরী সংস্কার প্রধান ভূমিকা রাখবে। এর ফলে, এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ওপর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারে বিলাল এরদোয়ানের আহ্বান

    রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ওপর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারে বিলাল এরদোয়ানের আহ্বান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ও জোরদার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে তুরস্ক সরকার মানবিক সহায়তা ও পাশে থাকার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার সময়, কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে, বেলা সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে বিশেষ বিমানে করে একদিনের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজারে পৌঁছান নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ান ও তার ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল, তাদের মধ্যে জার্মানির সাবেক ফুটবলার মেসুত ওজিলও রয়েছেন।

    উখিয়া বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের স্বাগত জানান- জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান। এরপর তারা উখিয়ার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় পরিদর্শন করেন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত তুরস্কের সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিজ্ঞানভিত্তিক এই আলোচনা শেষে, তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়।

    মতবিনিময় সভা শেষে, প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে বিলাল এরদোয়ান রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান। যেখানে তারা বালুখালী ৯ নম্বর শিবিরে অবস্থিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল ও টিআইকেএ পরিচালিত মাল্টিপারপোজ অ্যাডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করবেন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য আয়োজিত একটি চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করবেন।

    ফুটবল ম্যাচ শেষে, এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে ইফতার করবেন, এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্টপুত্র এবং জার্মানির সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিলসহ সবাই যুক্ত থাকবেন। এই এক দিনের সরকারি সফরে, তারা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন।

    এছাড়াও, দলটির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ এরেন, ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং অন্যান্য গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা।

    ব্রিফিং ও পরিদর্শন শেষে রাতে দলটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরের মাধ্যমে তুরস্ক তাদের আঞ্চলিক ও মানবিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে তার দপ্তরে দ্বিতীয় দিনের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তারকার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এই সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম।

    এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে পৌঁছালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সত্তার তার স্বাগত জানান।

    সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এই বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী今日 প্রশাসনিক কার্যক্রমেও ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড স্কিম চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেন, যেখানে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

    সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ২টায় তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নেবেন। এই বৈঠকে দেশের পরিবেশ রক্ষার জন্য পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নদী, খাল ও অন্যান্য জলাশয় খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রমের বিস্তারিত আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।