বনদস্যুদের কবলা ও আতঙ্কের কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন দুবলার চরের প্রায় পাঁচ হাজার শুঁটকিকরণ জেলেসহ শত শত সাধারণ জেলের দল। গত দুই দিনেও অপহৃত ২০ জন জেলের খোঁজ মেলেনি, আর এটা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত সোমবার রাতের দিকে বনদস্যুরা তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগের আয়-রোজগার কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুবলার জেলেগোষ্ঠীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বললেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বনদস্যুদের terror ও চেতনা বাড়ছে। এ কারণে তারা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে চরে অবস্থান নিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে বসে অবসর কাটাচ্ছেন এবং মৌসুম শেষের আগে ঘর ফিরে যাওয়ার বিষয়টি ভাবছেন।
তিনি আরও বললেন, সুন্দরবনে চারটি দল সক্রিয় রয়েছে— জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী। এ দলগুলো বনদস্যুদের নামে পরিচিত, যারা খাটাখাটনি ছাড়াই বন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, তারা জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করে, কিন্তু টাকা দিতে না পারলে মারধর করে থাকে। গত সপ্তাহে চারজন জেলে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য রামপালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলিষ্ঠ না থাকায় দস্যুরা প্রকাশ্যে বিচরণ করছে। গত ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিল, কিন্তু এখন আবার দস্যুরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে— এটা চরম উদ্বেগের বিষয়।
অন্যদিকে, আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে ছিলো, জলাধারে কুমির আর মাঠে বাঘ। এখন সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’ দস্যুদের তাণ্ডবের কারণে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। গত ১৫ দিনেও অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের আমলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জনের সঙ্গে দস্যুরা যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়েছে, কিন্তু এ পর্যনতেও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কের কারণে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, ফলে রাজস্ব ও আয় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও জানানো হয়, সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের বেশ কিছু মুদি দোকানী— যেমন জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদার— বলেছেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার খবর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চালাচ্ছেন।
