Author: bangladiganta

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী চলাচল ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা

    বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী চলাচল ও আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা

    বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে সকল প্রকার পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি পুরো তিন দিন ব্যাপী স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ থাকছে। এই সিদ্ধান্ত সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

    জানা গেছে, এবার প্রথমবারের মতো সরকারের নির্দেশনায় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিবেশিত হয়। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, কঠোর নিরাপত্তার দাবিতে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সব ধরনের বহির্গত ও প্রেরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এই প্রথমবারের মতো নির্বাচন দিন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    বেনাপোল চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা ও ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকারের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার প্রথম দিন পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল বন্ধ থাকলেও, শুক্রবার সকাল ৬টার পর থেকে আবারও দু’দেশের মধ্যে স্বাভাবিক ট্রাফিক পুনরায় শুরু হবে। অতিরিক্তভাবে, জরুরি ও মারাত্মক অসুস্থ যাত্রীদের জন্য আগের মতো ইমিগ্রেশন খোলা থাকত; এবার সেটাও স্থগিত থাকবে।

    ইমিগ্রেশন ও বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিশ্চিত করেছন, এই সময়ের জন্য সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একইভাবে, বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ থাকবে। দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবার আবার সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালু হবে।

    বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, নির্বাচনের কারণে এই সময়ে নিয়োজিত ট্রাকচালক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগে নিজ নিজ এলাকায় যাবেন। ফলে কার্যক্রম তিন দিন বন্ধ থাকবে, তবে শনিবার থেকে আবারও বন্দরের সব কার্যক্রম শুরু হবে।

    অন্যদিকে, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন কল্যাণে এ সময়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। শনিবার সকাল থেকে ফের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

  • ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে জাল নোটের কনটেন্ট: জেল-জরিমানা হতে পারে শর্তসাপেক্ষে

    ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবে জাল নোটের কনটেন্ট: জেল-জরিমানা হতে পারে শর্তসাপেক্ষে

    বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাকার নোটের অনুরূপ কনটেন্ট ও প্রচারণা চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আসল নোটের মতো কাগজ তৈরি করে সেটি প্রচার বা ভিডিও ও ছবিতে দেখানোর কাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়েছে, যেখানে আসল নোটের ডিজাইন এবং আকারের অনুরূপ—কখনো আরও বড়—নমুনা নোট ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবমূল্যায়ন, জাল নোটের প্রচলন বৃদ্ধি ও অর্থনীতি বিনষ্টের আশঙ্কাও প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাজারে বা উম্মুক্ত স্থানে আসল টাকার অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক প্রচারণা চালানো কিছু ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের কার্যকলাপ জালনোটের প্রচার বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে এবং দেশের মুদ্রা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে বিঘ্নিত করতে পারে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(৬) অনুযায়ী, যদি কেউ বা কেউ এমন নথি, কাগজ বা বস্তু তৈরি, ব্যবহার বা বিতরণ করে, যা প্রচলিত ব্যাংকনোটের সদৃশ এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম, তাহলে সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তাছাড়া, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানোর জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনের ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তির ব্যাবস্থা থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    সবশেষে, ব্যাংক জনসাধারণকে অনুরোধ করেছে, জাল নোটের প্রচলন প্রতিরোধে আরও সতর্ক থাকতে এবং অননুমোদিত কিংবা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও প্রচারণা থেকে বিরত থাকার জন্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশ্বাস করে, এই সতর্কতা ও সচেতনতা দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রা ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ভ্যাট রিটার্নের সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি, শেষ হলো ২২ ফেব্রুয়ারি

    ভ্যাট রিটার্নের সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি, শেষ হলো ২২ ফেব্রুয়ারি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তার অনলাইон ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় রোববার রাতে এনবিআর এর দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মোঃ বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে। এর ফলে, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের বিক্রয় সম্পর্কিত তথ্য জানিয়ে রিটার্ন জমা প্রক্রিয়া আবারো সম্পন্ন করা যাবে।

    নোটিশে জানানো হয়, পবিত্র শবে বরাত এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ ছুটি থাকায় এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি আবারও ওটিপি সার্ভার বন্ধ থাকায়, দেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেয়। আইন অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা ও অর্থদণ্ডের সুযোগ রয়েছে। তবে, সার্ভার জটিলতার কারণে করদাতাদের অযথা জরিমানা থেকে রেহাই দিতে এই সময়সীমা আরও একটি সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

    এনবিআর সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার, যার মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই রিটার্ন দেয় না। ফলে, সময়ের এই প্রান্তিক বাড়ানোর মাধ্যমে করদাতাদের সুবিধা ও সময়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়েছে।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অর্থনীতিকে চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার গুরুত্ব জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনই অফিসে এসে তিনি এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যাংক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার অবস্থা খুবই খারাপ। তাই প্রথমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব আনতে এবং স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এছাড়া দক্ষতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি, কারণ এগুলো বিহীন কার্যক্রম কোনো লাভ আনবে না।

    তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চালিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। বাংলাদেশি অর্থনীতি সকল মানুষের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত ও প্রবেশযোগ্য করতে হবে। অর্থনীতিতে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে এবং এর সুফল যেন প্রত্যেক নাগরিকে পৌঁছে যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ ওভার-রেগুলেটেড অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সুপারিশ করা হয়েছিল রেগুলেশনের পরিমাণ কমানোর। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে হবে এবং শক্তিশালী ডিরেগুলেটেড অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে।

    আসন্ন অর্থনীতির জন্য লিবারলাইজেশন তথা মুক্ত বাজার ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে যাতে সব মানুষ সমান অধিকার পায়। তিনি দৃঢ় করেছেন, সবাই যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

    অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নিজের অবদান রাখতে আগ্রহী এবং এ ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি আগেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

  • নতুন সরকারের পরিকল্পনা এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ

    নতুন সরকারের পরিকল্পনা এলডিসি উত্তরণের পেছানোর উদ্যোগ

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নতির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পেছানোর পরিকল্পনা করছি। তিনি বলেছেন, এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম অফিসের দিন তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    মন্ত্রীর বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময়সীমা আরও কিছুটা ডিফার করা। এজন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সমন্বয় করে দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখছে। যদিও এ জন্য কোনও দফতর থেকে চিঠি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা নেই, তবে আমরা এখন থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছি।

    চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রপ্তানির পতনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আউটপুট এখনো সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই এক বা একাধিক নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারে প্রবেশে জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেয়াও সরকারের অঙ্গীকার।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, যা একটি দরিদ্র দেশ, খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে আছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, ভুল করার সুযোগ নেই। এর ফলে গত কয়েক মাসে দেখা গেছে মন্থর গতি, যা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি জানান, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ ও পাইপলাইন রয়েছে, ফলে মার্কেটের উদ্বেগের কিছু নেই।

    এমনকি যখন প্রশ্ন ওঠে, রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের অসঙ্গতি, তখন তিনি জানান, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। তিনি বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    পণ্যমূল্যের অস্থিরতা নিয়ে তিনি বলেন, কিছু পণ্যের দাম এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে একটু বেড়ে যায়, যা সাধারণত পুরো মাস জুড়ে থাকে না। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে অল্প সময়ের জন্য থাকেযার পর মূল্য আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসেনা। একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বিনিয়োগের প্রথম ও জরুরি শর্ত। যখন বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত হন যে, তাদের পুঁজির নিরাপত্তা ও শ্রমের বিনিময়ে তারা প্রত্যাশিত রিটার্ন পাবেন, তখনই তারা বিনিয়োগ করবেন।

    সর্বত্র উল্লেখ করেন, দেশে বড় সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে, প্রতিদিনই কয়েক লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ দিচ্ছেন। গত দু’টাকা তিন বছর ধরে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপে পরিণত হয়েছে। আর যদি দ্রুত এই পরিস্থিতি পরিবর্তন না হয়, তাহলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি থাকছে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে রমজান মাহের শুরু হওয়া এক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। বলছেন, রমজানের জন্য প্রস্তুতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের কাছে একটি বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে এবং এর জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি সহজ হবে। এজন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান, ভুল বোঝাবুঝি হলে তা ক্ষমা চেয়ে সংশোধন করতে বলেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

  • নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দু’বার শপথ নিলেন এনসিপির

    নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দু’বার শপথ নিলেন এনসিপির

    নানান গুঞ্জনের মধ্যে আলোচনার শেষে অবশেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই শপথের পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দ্বিতীয় দফায় শপথ নেন।

    মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টায় তারা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংসদে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এমএম নাসির উদ্দিন।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সাধারণ সম্পাদক, সংসদ সদস্যরা এবং অন্যান্য প্রার্থীরা। শপথ নেওয়া এনসিপির সংসদ সদস্যরা হলেন- হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন।

    শপথের আগে, অন্য দলগুলো যেমন জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তারা একসঙ্গে দুপক্ষের শপথ সম্পন্ন করেন। তবে এই সময় এনসিপির এমপিরা শপথে অংশ নেবে বলে খবর ছিল না। আসলে, হান্নান মাসুদ ও আতিকুর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তারা শপথে নিজেরা অংশ নেবেন না। তবে শেষ পর্যন্ত তারা শপথ গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেন।

    এনসিপির এমপিরা সংসদ ভবনের লবিতে উপস্থিত হয়ে দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে তাদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ চিরাচরিত গেঞ্জি পরা থাকনের পাশাপাশি আকতার তার কোট ও নাহিদ ইসলাম শার্ট পরে শপথ গ্রহণ করেন। এই দৃশ্যগুলো খুবই সাধারণ ও মানবিক উপভোগ্য ছিল।

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বিএনপি স্পষ্ট করে বলেছে, তারা ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের গঠিত সরকারের প্রারম্ভিক থেকেই বিএনপি এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত এই ‘জুলাই সনদ’ এক ঐতিহাসিক দলিল। এটি অনুযায়ী সব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দল দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরো জানান, জনগণের রায় এবং রাষ্ট্রকে নতুন পথে চালিত করতে সংসদ হবে মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এর সদস্যের শপথ করানোর ক্ষমতা স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে নেই। এজন্য কোনো প্রক্রিয়াও এখন পর্যন্ত প্রয়োগ হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যত রাষ্ট্র পরিচালনা হবে পুরোপুরি সাংবিধানিক পদ্ধতিতে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়, শপথগ্রহণ এবং সরকার গঠন—সবকিছু সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এছাড়া, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    শপথপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গণভোটের ফল ও জনগণের ইচ্ছা প্রকাশে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফসিলের মধ্যে শপথের ফরম সংযুক্ত করা হবে, যা সংসদ ঠিক করে দেবে।

    সালাহউদ্দিন সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারার উল্লেখ করেন। বলেন, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ করাতে অপারগ থাকেন বা উপস্থিত না থাকেন, তবে তিন দিনের মধ্যে তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। যদি তা না হয়, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এভাবেই শপথ পড়িয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

    তিনি আরো জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংসদ সদস্যরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানবেন: এক- কেউ ট্যাক্স-মুক্ত গাড়ি গ্রহণ করবেন না; দুই- সরকারি প্লটও গ্রহণ করবেন না। সালাহউদ্দিন বলেন, আজ থেকেই পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা পাবার ধারণা বদলে দিতে হবে।

  • হাসিনা ও অন্যান্য আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকার的重要 দায়িত্ব

    হাসিনা ও অন্যান্য আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা সরকার的重要 দায়িত্ব

    যৌলি গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বৃহস্পিতবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন, যেখানে তিনি মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিকে বিদেশ থেকে আনিয়ে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এটি সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনোভাবেই যেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতি বা বাধার মুখোমুখি না হয়।’ তাঁর মতে, ‘জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় মূল আসামিদের এখনো গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়নি, যা আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা সরকারের উপর থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়েও বিএনপি শপথ না নেওয়ায় প্রমাণ হয়, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থে সংস্কার চায়। এরা শুরু থেকেই সংস্কারবিরোধী ছিল। জনচাপের মুখে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ শুভেচ্ছা প্রচার চালিয়ে নিজেদের অজুহাত দেখিয়েছে।’

  • সরকারি দল গণরায়কদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের

    সরকারি দল গণরায়কদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকারী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রতারণার মাধ্যমে জনগণের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেদিন সংসদে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল, সেই একই দিনে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকার তাদের সেটি করাননি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই শপথের মাধ্যমে যোড়ানো ওই প্রক্রিয়াটিও ছিল একটি বড় ধরনের নিস্পত্তিহীনতা। নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ও স্ব স্ব দলের শপথ নেয়া হলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণের জন্য শপথ গ্রহণে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে গণভোটে জনেমতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অবিচার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে, যাতে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক মানসিকতা জাগ্রত হওয়ার আশা ছিল, পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু নানা কারনে সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা এই নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে, তবে তার সঙ্গে কিছু আলাদা দিকও লক্ষ্য করা উচিত। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, শপথ না নেওয়া সরকারের এক ধরনের প্রতারণা, কারণ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেওয়া লাগবে। অথচ, ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনেকের শপথ না নেয়া থেকে সরকার তাদের বিচ্যুত করছে, যা দেশ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করেন তিনি। আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ গ্রহণ করবেন। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া ভবিষ্যতের দেশের কোনো মূল্যই নেই এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব।

  • ইন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামাতে না পারলে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    ইন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামাতে না পারলে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় ঐক্যের নেতারা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান।

    নির্বাচন 후 পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন এলাকা হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

    গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সহিংসতা দ্রুত না থামে, তবে বাংলাদেশ আবারো অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, রক্ত দিয়ে গড়া ৭৫ সালের বিভীষিকাময় স্বাধিকৃতি যদি পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হয়, তবে আগের মতই নতুন ফ্যাসিবাদও ফিরে আসবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ১১ দলের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো যদি দ্রুত নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে জনগণ তাদের ভোটের ফল নিজেদের হাতেই ফলাসহ নিতে রাস্তায় নেমে আসবে।

    এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের মানুষকে প্রতারণার মধ্যে ফেলা হয়েছে। তার মতে, ফলাফল যেন সাবেক ও প্রহসনমূলক ছিল, যা দেশজুড়ে শত্রুতা ও জুলুম সৃষ্টি করছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর আর কোন ফ্যাসিবাদ এই দেশের মানুষের মানসিকতা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, যদি জুলুমের এই অবস্থা চলতেই থাকে, তবে আমরা আবারো আন্দোলনে নামব।