Author: bangladiganta

  • সোনার দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে ১৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দামে নতুন রেকর্ড, ভরিতে ১৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি

    দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি। সবচেয়ে উচ্চমানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে এখন এই সোনার ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। দেশের বাজারে এই দাম এত উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে যা আগে কখনো হয়নি। স্থানীয় বাজারে তেজাবী বা পাকা সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, নতুন দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে।

    শনিবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর কমিটির চেয়ারম্যান ডাঃ দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য ঘোষণা করেন।

    এর আগে ২৪ ডিসেম্বর সবোচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যা এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অন্যান্য ক্যারেটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা, ২২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১ হাজার ৪৭০ টাকা, ১৪ ডিসেম্বর ৩ হাজার ৪৪২ টাকা এবং ১২ ডিসেম্বর ১ হাজার ৫০ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই দাম আপডেট হয়েছিল।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা, যা ঠিক কিছুদিন আগে ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। এর ফলে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দাম।

    বিশেষ করে, ২১ ক্যারেটের সোনার এক ভরি ১ হাজার ৫১৭ টাকা বাড়িয়ে এখন ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, এবং ১৮ ক্যারেটের এক ভরির দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে (উত্তরনবতী) সোনার জন্য এক ভরি দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ১০৮ টাকা, যার ফলে এখন তার দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    গত ২৪ ডিসেম্বর, ২২ ক্যারেটের সবোচ্চ মানের সোনার ভরি দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা। তখন ২১ ক্যারেটের ভরি ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতিতে ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা। এই দামে সোনা আজ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

  • রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক ছাড় ঘোষণা করলো সরকার

    রমজানে খেজুর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক ছাড় ঘোষণা করলো সরকার

    আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য সরকার বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ ও চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে, খেজুরের আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের পরিমাণ ৪০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২৪ ডিসেম্বর), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খেজুরের আমদানিতে কাস্টমস ডিউটিকে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।

    এছাড়া, বাজেটে অপ্রতিদ্বন্দ্বীভাবে অগ্রিম আয়কর সংক্রান্ত বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে, খেজুরসহ সব ফলের আমদানিতে প্রযোজ্য অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশে নেমে আসে। পাশাপাশি, গত বছর অগ্রিম আয়কর হিসেবে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধাও এই বছর বহাল থাকছে।

    এনবিআর নিশ্চিত করেছে, এই শুল্ক ও অগ্রিম আয়করে ছাড়ের ফলে রমজান মাসে খেজুরের আমদানি বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হবে। এর ফলে, খুচরা বাজারে খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছে।

    রমজান মাসে ইফতারের অতি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে খেজুরের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোক্তাদের পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

  • পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শামশাদ আখতার মারা গেছেন

    পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শামশাদ আখতার মারা গেছেন

    পাকিস্তানের প্রথম ও একমাত্র নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং দুই দফায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ শামশাদ আখতার শনিবার মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দেশটির অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    শামশাদ আখতার পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলোতে নিজস্ব প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন। তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালে পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন। এর পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচণের আগে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    অর্থনীতি বিষয়ক তার দক্ষতা ও সততায় তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। এক আন্তর্জাতিক বিবৃতিতে আফরাঙ্গজেব তার সততা, পেশাদারিত্ব ও দীর্ঘজনসেবার জন্য তার প্রশংসা করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন ইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিবসহ বেশ কয়েকটি উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেছিলেন।

    শামশাদ আখতার হায়দরাবাদে জন্ম গ্রহণ করেন এবং করাচি ও ইসলামাবাদে তার পড়াশোনা চলে। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স ও যুক্তরাজ্যের পেইসলি কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই অসাধারণ জীবন ও কর্মের জন্য দেশবাসী তাকে স্মরণ করবে।

  • এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন তাজনূভা জাবীন

    এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন তাজনূভা জাবীন

    তাজনূভা জাবীন এবার নিজ অবস্থানে থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ ঘোষণা করেছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন। এনসিপি থেকে তাঁকে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও, শেষ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া কিছু রাজনৈতিক գործընթացে তিনি হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নেন বিদায়ের।

    স্ট্যাটাসে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনেকের ধারণা হয়তো জামায়াতের সঙ্গে জোটের ঐতিহাসিক অর্থ কিংবা নারী বিষয়ক প্রস্তাবের জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তার মতে, এর চেয়েও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো এই জোটের গোপন প্রক্রিয়া এবং ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, এটি পরিকল্পনা করে সাজানো হয়েছে এবং বিশ্বাসের বিনিময়ে এভাবে এগুচ্ছে, যা তার জন্য একেবারে অপ্রত্যাশিত নয়। কিছুদিন আগে পুরো জাতীয় মনোনয়নপ্রক্রিয়ার সময় তিনি মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন, অথচ শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, অন্যরা মনোনয়ন পেলে তিনি নিজের লড়াই চালিয়ে যেতে পারছেন না।

    তাজনূভা আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন মাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাঁর মনোনয়ন হারানোর ভয়েই তিনি জোটের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেন, যতই কষ্ট হোক, তিনি আগেও বলেছিলেন, প্রতিপক্ষ কঠিন হলেও তিনি নির্বাচন করবেন। কিন্তু তারা তার প্রত্যাশাগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয়ে যাচ্ছে, চরমোনাই পীরের ৭০টি আসনে এরা একত্রে কাজ করছে, এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত দলের ৩০টি আসনে রাজনৈতিক সমঝোতা চলছে।

    তাজনূভা জানাচ্ছেন, শুরু থেকেই তিনি গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক, এবং নারীর অধিকারসহ বিভিন্ন জাতিসত্তার স্বার্থে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তিনি সেই পার্টির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যার মূল নীতি ও ভাবনা ছিল রাজনীতি একান্তভাবে গণবিরুদ্ধ নয়। কিন্তু বছর কয়েকের মধ্যে পার্টির ভেতরে সংকট এবং অরাজনৈতিকতা অপ্রত্যাশিত অন্ধকারে ডুবতে শুরু করে। তাঁর মতে, পার্টির অনেক শীর্ষ নেতা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করে নিজেদের স্বার্থ লুকানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং দেশের জন্য নতুন ও প্রকৃত আঞ্চলিক ও গণনীতির উন্নয়নের পরিবর্তে ব্যর্থতার রাজনীতি চালাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, “এনসিপি এখন বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই ভণ্ডামির মধ্যে। আমি আছি, তবে এখন অনেকটাই হতাশ এবং বিরক্ত। আমি চাই, পার্টির আসল নীতি, গণমুখী রাজনীতি ফিরে আসুক। আমি সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিলাম।”

    জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই তিনি ভাবছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু অবশেষে আজ ঘোষণা দিলেন, কারণ প্রক্রিয়া ও বিশ্বাসের অভাব তাঁর মনকে ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, “নেতৃত্বের শুরুতেই গঠনের প্রক্রিয়া অন্যায় ও অনিশ্চিত ছিল। এখন বুঝতে পারছি, পার্টি অনেক বড় হলেও এর ভিতরকার অসংগতি ও বিশ্বাসের ঘাটতিই একদিন বড় বিপদ ডেকে আনবে।”

    উপসংহারে তাজনূভা জানান, তিনি আজ নিজেকে শক্ত করে রাজনৈতিক দলের বাইরে ঘোষণা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি এখন আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেব না, কারণ আমি বিশ্বাস করি না, এই জোট ও এই প্রক্রিয়া দেশের জন্য শুভ নয়। আমি আমার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে সমর্থন করেছেন। আমি আমার সমস্ত অর্থ, সময় ও আত্মসম্মানকে আগের মতো মূল্য দিচ্ছি। আপনাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

    তিনি জানান, সকল অনুদান ফিরিয়ে দেবেন এবং ধীরে ধীরে তার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আসন ফিরিয়ে দেবার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষবারের মতো বলেন, “আমি আগামী দিনগুলোতেও জনগণের জন্য কাজ করবো, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো। আমার লক্ষ্য থাকবে, সত্য ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গঠন।”

    উল্লেখ্য, শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা প্রথম আধ্যাত্মিকভাবে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্তের পর আজ তাজনূভা জাবীনও দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।

  • বিএনপি বলল, কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন হবে না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি বলল, কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন হবে না: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি কখনো কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনও আইন গ্রহণ করবে না। তিনি আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানবকল্যাণ পরিষদ প্রাঙ্গণে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ভিত্তিতে দেশের আইন করা আমাদের অঙ্গীকার, যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো চেষ্টা করছে যে আমরা ধর্মের বাইরে যাব, কিন্তু আমরা সর্বদা কোরআন ও সুন্নাহর পক্ষে আছি এবং থাকবো।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান দেশে ক্রান্তিকাল চলছে, কিছু অসাধু ব্যক্তির পেছন থেকে দেশের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচন বানচাল করার জন্য নানা ছত্রচালনা চলছে। তাই সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আগের সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য বিভিন্ন অবৈধ আইন পাস করেছিল, মানুষের অধিকার হরণ করেছিল এবং আলেম-ওলামাদের জঙ্গি বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। অনেককেই ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। এই অন্ধকার সময় আমরা পেরিয়ে এসেছি। এখন নতুন করে দেশ গড়ার সময়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

    আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, ধর্মীয় মূল্যবোধের রক্ষা ও ভবিষ্যত উন্নয়নের পথ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করা হয়।

  • প্রথমবারের মতো গুলশানে তারেক রহমানের প্রবেশ

    প্রথমবারের মতো গুলশানে তারেক রহমানের প্রবেশ

    ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘকাল যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত ছিলেন, এজন্য তারেক রহমান গুলশানের কার্যালয়ে কোনোদিন যাননি। তবে ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে। এর মাত্র তিন দিন পরে, তিনি গুলশানের বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

    গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে তারেক রহমান গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান, যা অনুসারে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান নিশ্চিত করেছেন।

    দুপুর ২টার পর, গুলশানের এই কার্যালয়ে গেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা তারেক রহমানকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান।

    প্রায় ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফিরেছেন। তার ফিরে আসার দিন, দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩শ’ ফিট এলাকার মধ্যে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    দেশে ফেরার পর, তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে দুই দফায় অসুস্থ তার মা’কে দেখতে যান। এর পাশাপাশি, তিনি প্রয়াত বাবা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও তিনি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর, শ্বশুরের কবর ও পিলখানা ট্রাজেডিতে শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তার কবর জিয়ারত করেন। তদ্ব্যতীত, তিনি ধানমন্ডিতে শ্বশুরের বাসাতেও যান।

  • আটটি দল জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে

    আটটি দল জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে

    দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামি সহ মোট আটটি সমমনা রাজনৈতিক দল। এই সভা অনুষ্ঠিত হবে রোববার, ২৮ ডিসেম্বর, বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় অবস্থিত আবদুস সালাম হলে। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের বিষয়ে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নানা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আন্দোলনরত দলের পক্ষ থেকে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে। এই সভায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

  • তারেক রহমান office কার্যক্রম শুরু করলেন

    তারেক রহমান office কার্যক্রম শুরু করলেন

    দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরেই তারেক রহমান তৃতীয় দিনেই তার রাজনৈতিক কার্যালয় দিয়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এসে নতুন নির্মিত চেম্বারে বসেন। এদিন বেলা ১টা ৪৮ মিনিটে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়ি থেকে তিনি পৌঁছান চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে। অফিসে প্রবেশের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা—খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সেলিমা রহমান ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। সবাই সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরে তিনি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় প্রস্তুত বিশেষ চেম্বারে গিয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এক সূত্র জানায়, এটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রথম অফিস হিসেবে চিহ্নিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, উপদেষ্টা মাহাদী আমিনসহ আরও অনেকে। এছাড়া বগুড়া জেলা বিএনপির নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, শুধু গুলশানের কার্যালয়ই নয়, নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তার জন্য একটি আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি, গুলশানে একটি পৃথক বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখানে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানই দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হবেন। গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় ফিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। প্রথম দিন সংবর্ধনা ও বক্তৃতার পর তিনি এভারকেয়ার হাসপাতাল গিয়ে মা খালেদা জিয়াকে দেখেন। শুক্রবার তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে যান, শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শনিবার তিনি কাজী নজরুল ইসলাম মাজার ও পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনা কর্মকর্তা ও নিহতদের কবর জিয়ারত করেন। একই দিন তিনি আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গিয়ে ভোটার হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

  • প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণ করলেন

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ গ্রহণ করলেন

    দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গভবনে জাতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধান বিচারপতিকে এই শপথবাক্য পাঠ করান। এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন সচিব लিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ তার শপথ নেওয়ার তারিখ থেকে কার্যকর হবে। তিনি ১৯৮৫ সালে জজ কোর্টে যোগ দেন এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে হাইকোর্টে নিয়োগ পান, এবং দুই বছর পরে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বৈশ্বিকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আরও শিক্ষাগ্রহণ করেন।

  • আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়লো

    আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়লো

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এটি ঘোষণা করেছে যে, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরেকটি মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে, করদাতারা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। আস originally, রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন ছিল ৩০ নভেম্বর, পরে সেটা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এনবিআরের সচিব মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ৩০ নভেম্বর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন থাকলেও, এই বছর অনলাইনে আয়কর জমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সময় বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ে। প্রথমে সময় বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ও করদাতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই সময় আরও এক মাস বাড়ানো হয়েছে।

    এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানান, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের এ সিদ্ধান্ত একটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং জনগণের সুবিধার্থে সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় এবার থেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, শারীরিকভাবে অক্ষম, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি বা মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল থাকবে। এছাড়া এই সুবিধা তারা চাইলে ই-রিটার্নও দিতে পারবেন।

    করদাতাদের সুবিধার জন্য, তারাও তার প্রতিনিধির মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ইমেইল ইত্যাদি তথ্য দিয়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন। এখন কোনো নথি বা দলিল আপলোডের প্রয়োজন ছাড়া, ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নের স্বীকারপত্র পেতে পারেন করদাতারা।

    এছাড়া, অন্য কোনও সমস্যায় সহায়তার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার চালু করেছে। করদাতারা এই কল সেন্টারে গিয়ে বা সারাদেশের ই-রিটার্ন হেল্প-ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন।

    বর্তমানে, এই অর্থবছরের জন্য, শনিবার পর্যন্ত মোট ২৮ লাখ ৮৫ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন।