Author: bangladiganta

  • বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে বিসিবির উদ্যোগ

    বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে বিসিবির উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটি এখন বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার স্টেডিয়ামগুলোকে আবার আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে সেখানে বিদেশি ও জাতীয় দলগুলোর খেলা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে একচেটিয়া হয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু বিস্তৃত করতে চাইছে।

    ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব মাঠে সর্বশেষ কখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল, সেটা উল্লেখযোগ্য। বগুড়ায় ছেলেদের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছিল ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে; এর পর সেখানে নারী ক্রিকেটের এক ম্যাচ ছাড়া আন্তর্জাতিক খেলা হয়নি। খুলনায় ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আর ফতুল্লার মাঠে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়েছে ২০১৪ সালে, বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ওয়ানডেতে।

    বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিতুল ইসলাম বাবু শুক্রবার জানিয়েছেন, এসব মাঠ সংস্কার করে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, “এই মাঠগুলো একসময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খেলা না হওয়ায় স্বীকৃতি হারিয়েছে। এখন আমাদের অনেক মাঠের প্রয়োজন। তাই এগুলোকে আবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কাজ করব।”

    কমিটি শুধু অস্থায়ী সংস্কারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাঠগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে ফেরাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সঠিক উইকেট প্রস্তুতি, বৈদেশিক দলের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও দর্শকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

    এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের ও বিদেশি দলের খেলার ভেন্যু বাড়ার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেটে উৎসাহ ফিরবে, দর্শক সুবিধা বাড়বে এবং মাঠ সংলগ্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রমও সজীব হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

    বিসিবির এডহক কমিটি এখন মাঠগুলো মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় কাজের পরিকল্পনা বানাচ্ছে। কবে করে কোন স্টেডিয়ামে কাজ শুরু হবে বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন হবে— তা সংস্থাটি পরবর্তী ঘোষণা করবে।

  • বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন বিপাশা হায়াত

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী, চিত্রশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে এসে একটি পডকাস্টে কথা বলেছেন। নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী মঞ্চ থেকে টিভি ও চলচ্চিত্র—সব মাধ‍্যমে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন এবং তার ক্যারিয়ার ও দর্শকপ্রিয়তা নিয়ে আলাপকথা শেয়ার করেছেন।

    সঞ্চালক যখন জানতে চান যে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর সময় কোন প্রস্তাব এসেছিল কি না এবং বলিউড থেকেও কোনো অফার ছিল কি—তার জবাবে বিপাশা জানান যে বলিউডের প্রস্তাবটি ততদিনে, পরে এসে ছিল। তিনি বলেন, তা ছিল পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব। সিনেমার নামটি তিনি সঠিকভাবে মনে করতে পারছেন না, তবে প্রস্তাব দেওয়ার সময় যে ব্যক্তিটি ফোন করেছিলেন তার নাম্বার এখনো তার ফোনে সংরক্ষিত আছে এবং তাদের সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে।

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিপাশা বলেন, তখন তার মনে ছিল তিনি কখনোই নিজের দেশের মানুষকে ছোট করে দেখতে চান না। দর্শকরা যেভাবে তাকে গ্রহণ করেছেন এবং ভালোবেসে সমর্থন করেছেন, সেই মানুষের প্রতি তার এই শ্রদ্ধাবোধই প্রধান। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেকে কেবল ‘তারকা’ হিসেবে দেখেন না, বরং একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে দেখি—এ ধরনের অবস্থান অনেক বড় দায়িত্ব নিয়ে আসে। প্রত্যেকটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়বোধ বহন করা উচিত এবং এটা তিনি করতে চান।

    বিপাশা তার বক্তব্যে ব্যক্ত করেন যে মানুষের ভালোবাসা তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান—এ ভালোবাসাই মানুষের মধ্যে শান্তি ও সহমর্মিতা গড়ে তোলে। সেই কারণে তিনি মনে করেছিলেন বাঙালি দর্শকের সামনে এমনভাবে উপস্থিত হওয়া উচিত নয় যে তারা মনে করবে তিনি নিজের দেশের প্রতি অনীহা প্রকাশ করছেন। বিদেশে সুযোগ থাকলেও তিনি ভেবেছিলেন সেখানে গিয়ে বাংলাদেশের চাইতে বেশি কিছু করতে পারবেন না।

    সাক্ষাৎকারে বিপাশার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—তার জন্য দর্শকদের ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বোধই তার সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সালমান খান পেলেন সাময়িক রেহাই

    পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সালমান খান পেলেন সাময়িক রেহাই

    বছরের পর বছর ধরে চলা পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় অভিনয় করে সালমান খানকে সাময়িক রেহাই দিয়েছে রাজস্থান হাই কোর্ট। আগে বারবার আদালতে না হাজিরায় জারি করা হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা; কিন্তু এবার একটি স্থগিতাদেশে তিনি নির্দিষ্ট সময় আদালতে হাজিরার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন-২-এ হাজিরা দেয়ার যে নির্দেশ ছিল, সেটি রাজস্থান হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। ফলে ওই দিন কমিশনের সামনে হাজিরা থেকে মুক্তি মিলেছে।

    এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল। বাদিয়ালের অভিযোগ, সালমান একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনে কাজ করার মাধ্যমে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করেছেন। বিজ্ঞাপনে পণ্যের বিষয়ে বলা হয়েছিল ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ এবং ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’, অথচ বাস্তবে পণ্যটি সেভাবে উপাদান থেকে সমৃদ্ধ নয়—যা ক্রেতাদের ভ্রান্ত ধারণা দেয় এবং পণ্যের নিরাপত্তা-নির্ভরতা নিয়ে প্রভাব ফেলে।

    ঘটনার পর বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন এই ধরনের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তারপরও জয়পুর, কোটা সহ বিভিন্ন শহরে বিলবোর্ড ও অন্যান্য বিজ্ঞাপন দেখা গেলে কমিশন বলেছে, তাদের আদেশ অমান্য করা হয়েছে। একের পর এক শুনানিতে আদালতে হাজিরা না করার কারণে আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

    এসময় রাজস্থান হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ সাময়িক আরাম দিলেও মামলার কার্যক্রম চলতেই থাকবে এবং পরবর্তী শুনানিতে আদালত/কমিশন তাঁদের নির্দেশনা ঘোষণা করতে পারে।

    বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা যায়, বর্তমানে সালমান তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত। ছবিটির শুটিং শেষ হয়েছে; প্রথমদিকে এই ছবিটির নাম ছিল ‘ব্যাটেল অফ গলওয়ান’।

  • বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

    বিরোধীর জনমত যাচাই প্রস্তাব নাকচ, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ সংসদে পাস

    কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষা ও ব্যাংক খাতে বিশৃঙ্খলা রোধের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ আলোচনা শেষে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাজী হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তি এবং জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ করে বিলটি গৃহীত হয়।

    বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন (ঢাকা-১২) বিলটির কঠোর সমালোচনা করে তা জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর দাবি তোলেন।

    বিরোধিতায় সাইফুল ইসলাম মিলন উচ্চস্বরে বলেন, আমানতকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা উচিত। তার বক্তব্য, এই বিল আমানতকারীদের নিরাপত্তা দুর্বল করে দিচ্ছে এবং অতীতে রাজ্য কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানোর উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন—সেসব টাকা সাধারণ করদাতারই ছিল। তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে কোনও অপবাদমুক্ত বা ভঙ্গুর আইনি ধাঁচ থাকলে লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁকফোকর খুঁজে পেয়ে পলায়ন করতে পারবে।

    মিলন আরও যুক্তি দেখান যে পূর্বের নিয়মে ব্যাংক ডুবলে শেয়ারহোল্ডাররা প্রথমেই ক্ষতি বহন করতেন এবং আমানতকারীরা সুরক্ষিত থাকতেন। নতুন আইনি কাঠামো সেই চেইন অব কম্যান্ড ভাঙতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে তৈরি বিশৃঙ্খলা রোধে আগের কঠোর বিধান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার জোর দেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা এই বিলের কারণে সংকুচিত হবে বলে সর্তক করেন।

    বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তিনি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গুড গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা পরিবারের মতো তুলে ধরেন এবং আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সরকার ব্যাংক খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকারও প্রয়োজন হতে পারে—এমন বিশাল অর্থ সাধারণ সময়ের সরকারের পক্ষে বহন করা কঠিন।

    মন্ত্রী জানান, বিলটির মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে; এর অর্থ লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন পূনর্গঠন করে সংরক্ষণ করার সুযোগ তৈরি করা। এতে করে আমানতকারীদের আস্থা ফিরবে এবং ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,_bill_passed দায়ীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; বরং বাজারভিত্তিক উপায়ে ব্যাংকগুলোকে সচল রাখাই এই আইনের লক্ষ্য, যাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় থাকে।_

    বক্তব্য শেষ হলে সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন; স্পিকার তা ভোটে তোলেন। সরকারি দলের আপত্তিতে কণ্ঠভোটে ওই প্রস্তাব বাতিল হয়। এর পর অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে সংসদে তা অনুমোদন পায় এবং বিল আইনগত পথে এগোতে রাজপথ খোলে।

    বিল পাসের ফলে ব্যাংক সেক্টরে কিভাবে বাস্তবে পরিবর্তন আসবে এবং আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এ সংক্রান্ত বিশদ কার্যকর নীতিমালা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে। বিরোধী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাস্তব প্রয়োগ ও তদারকিতে স্বচ্ছতা না হলে উদ্বেগ থেকেই যাবে।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের পথে: অর্থমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে বিরামহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তিনি এটি উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে এসব সমস্যা সমাধান না হলে সামনের দিনের উন্নয়ন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    এ কথা তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন। ১৩তম দিনে সংসদের উপস্থিত ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান প্রশাসন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং তারা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে। এ প্রেক্ষাপটেই তিনি ২০০৫-০৬ অর্থবছর, ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো তুলে ধরে দেশবাসীর সামনে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেছেন।

    তথ্যগুলোতে দেখা যায়, যদিও মোট জিডিপির আকার বাড়ছে, ততটাই প্রকট হচ্ছে গভীর কাঠামোগত দুর্বলতা। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ; কিন্তু ২০২৩-২৪ শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশ হয়েছে। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে নেমেছে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধিও ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নামিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী বলছেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণরা বাধ্য হয়ে কৃষি খাতে ফিরে যাচ্ছেন—যার ফল হিসেবে ছদ্ম বেকারত্ব বাড়ছে এবং যুবজনের আয় ও উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি শেয়ার মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়তে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও কর্মসৃজনবিহীন বৃদ্ধির সতর্ক সংকেত।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অনুপাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে ২৮.৪২ শতাংশে নেমে এসেছে। মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি টাকার অভ্যন্তরীণ মানও উল্লেখযোগ্যভাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে; ২০০৫-০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল প্রায় ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলশ্রুতিতে আমদানি ও সাধারণ জীবনের ব্যয় বাড়েছে।

    অর্থ মন্ত্রীর ভাষ্য, মুদ্রা সরবরাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রবৃদ্ধিও চিন্তার বিষয়। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০২৪-২৫ সালে মাত্র ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগের মন্থরতার প্রকাশ। রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়েনি; রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহের ক্ষমতা সীমিত করে রেখেছে। বাজেট ঘাটতি বেড়ে ২০০৫-০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে ৪.০৫ শতাংশে উঠেছে।

    অতিরিক্তভাবে, অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন বিগত সরকারের সময় বাস্তবায়িত অনেক মেগা প্রকল্প অতিমূল্যায়িত এবং যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে; ফলে নৈতিক খাত থেকে লক্ষ কোটি টাকা অবৈধভাবে বহির্গমন হয়েছে। ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলতার ফলে সুদ পরিশোধের খরচ বাড়েছে—২০০৫-০৬ সালে যা ছিল প্রায় ৮৫ বিলিয়ন টাকা, তা ২০২৩-২৪ সালে বাড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায়, এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এএসএমই উদ্যোগে ঋণগহ্বর সৃষ্টি করেছে (‘ক্রাউডিং আউট’)।

    রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি ২০০৫-০৬ সালে ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ সালে তা নেতিবাচক হয়েছে এবং আর্থিক দুৰ্নীতি, হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবুও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে—এটাই বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক দিক বলে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।

    অর্থমন্ত্রী এসব পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে জোর দিয়ে বলেছেন—দেশকে সঠিক পথে ফেরাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি জরুরি।

  • শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এসব অনিয়মের মাধ্যমে বিএনপিই আওয়ামী লীগকে হার যুগিয়েছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের অনিয়মের প্রতিবাদ করে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত জটিলতার কথাও উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল গণভোটের ফল তাদের কাছে বাধ্যতামূলক হবে, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সে আদেশ বাতিল করে তারা দ্বিচারিতার পথ নেয়েছেন। তিনি বললেন, ‘‘বিএনপির এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সঙ্গেও চরম বেঈমানি।’’

    নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর হামলার ফুটেজ মিডিয়ায় প্রকাশের পরও সিইসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করে জাতির সঙ্গে তামাশা করছেন—এমন মন্তব্যও করেন তিনি। তিনি বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় থাকার কোনো টেকসই উপায় নেই; ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য নেতারা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন, আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে, পরে সেটি পল্টন মোড়—বিজয়নগর গোলচত্বর হয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন সৃষ্টি করতে কিছু শক্তি পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে; এগুলো ঠেকাতে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে। তিনি পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে সামনে রেখে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণার শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’’

    ফখরুল আরও দেখান, বাংলাদেশ হল একটি বহুজাতিক—বহুধর্মীয় সমাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ইসলাম ছাড়াও হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ মিশে রেখেই দেশ গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘‘খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধারার অনুসারীরাও এ মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকেই এই ভূমিতে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।’’

    তিনি সতর্ক করে জানান, অতীতে ধর্মভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধাঁচের অপচেষ্টা যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করে এগোতে হবে বলে তার মন্তব্য।

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে—সেগুলো সম্পন্ন করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে।’’

    আলোচনায় তিনি সামাজিক ঐক্য ও শান্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মাত্র বক্তব্য নয়, বাস্তব কর্মের মাধ্যমেই সচেতনতা ও সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

  • প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকা

    প্রথম ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকা

    রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুতবেগে বাড়ায় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অনুষঙ্গী পণ্যের দাম বাড়ায় চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বাড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি আয় কমে যাওয়াও ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়কালে পণ্যের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় ২.৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে আমদানি বেড়ে হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি–রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে বড় নেগেটিভ বেরিয়াল দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছিল। একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি আমদানি ব্যয়ের চাপ বাড়িয়েছে। ফলে সামগ্রিক আমদানিই রপ্তানিকে ছাপিয়ে গেছে। তারা সাবধান করে বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ না করে এবং রপ্তানি ত্বরান্বিত না করলে দেশের অর্থনীতি সংকটগ্রস্ত হতে পারে।

    বছরের প্রথম আট মাসে কারেন্ট অ্যাকাউন্টে অবস্থা সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাব অর্থাৎ কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    তবে সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে রিপোর্টে দেখানো হয়েছে। আলোচিত সময়ের ওভারঅল ব্যালান্স ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    অন্যান্য চলমান প্রবাহের মধ্যে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের দুই হাজার ১৮৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বেশি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল ১০৬ কোটি ডলার এফডিআই; চলতি অর্থবছরে একই সময়ে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। আর শেয়ারবাজারে প্রবাহিত বিদেশি পুঁজি (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) এই সময় নেতিবাচক অবস্থায় নেমে গেছে; প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে নেট আউটফ্লো হয়েছে ৮ কোটি ডলার।

    সংক্ষেপে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির তুলনায় আমদানির দ্রুত বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ-পরিকল্পনা alongside রপ্তানি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। না হলে চলতি হিসাব ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ বাড়তে পারে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এক বড় আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়ে; বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক চাপের এ ছিটকায় কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও ব্যাপকভাবে কমে আসে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) হিসাবসময়ে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশেরও বেশি। গত এক দশকে এ খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়; পূর্বের রেকর্ড নেমে এসেছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকায়—তার চেয়েও এবার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কম ব্যয় হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য আরও বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (প্রায় ৩৩%) কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকার থাকার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ দুবছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় গড়ে কমেছে ৫১৩ কোটি টাকারও বেশি—প্রায় ৪৫ শতাংশ।

    খাত সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় প্রভাব ফেলে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র ধরা পড়ে। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেলে নৈবৃত্তিক লোকসান স্পষ্ট হয়; বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক এ ধাক্কায় পড়ে। মাথাপিছু অনিয়ম ও অপরাধের কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাষ্ট্র একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, সিএসআর খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তা দেওয়ার চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সিএসআর উদ্দেশ্যের বাইরে খরচ করতে বাধ্য হতে হতো। জুলাই–আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনাগুলোর পরে এমন ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে জোর করে নয় বরং বিচক্ষণভাবে সিএসআর ব্যয় করে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক চাপের কারণে অনানুষ্ঠানিক বা অনুৎপাদনশীল খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ হলে সমাজকল্যাণমূলক প্রকৃত উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা আছে যে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে রাখতে হবে: এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু মোকাবিলা এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে এই নির্দেশিকা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না—প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশ (৩৬%) গেছে ‘অন্যান্য’ শিরোনামের প্রকল্পে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, আর পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% বরাদ্দ হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। এসব ব্যাংকের নাম হলো: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই সময়ে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় ছিল জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এদের মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—লোকসানে থাকা সত্ত্বেও সিএসআর খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করেছে।

    প্রতিবেদনের আলোকে স্পষ্ট যে, ব্যাংক খাতে মুনাফা সংকুচিত হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য বরাদ্দ অর্থও প্রভাবিত হয়। নীতিনির্ধারণ ও প্রয়োগে আরও জোরালো তদারকি, স্বচ্ছ রিপোর্টিং ও সরকারি নির্দেশনার কড়াকড়ি না থাকলে সিএসআর তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে না।

  • বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    বিশ্লেষক: মোদি পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতই বিচ্ছিন্ন হলো

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে প্রশংসা করা হয়েছে এবং এটাকে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি আনার সম্ভাবনার কড়া হিসেবে দেখা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাতের ধ্বংসাত্মক প্রভাব স্পষ্ট এবং এটি বিশ্বব্যাপী তেল, জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে; বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে সে আশাও ব্যক্ত করা হয়েছে।

    তবে একটাই জিনিস—পাকিস্তানের ভূমিকা—এই সরকারি বিবৃতিতে পুরোপুরি উপেক্ষিত ছিল। বিশ্ব নেতারা যখন পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রশংসা করছিলেন, তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের নামই উল্লেখ করেনি এবং ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনাক্রম সম্পর্কেও কিছু বলেনি।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে অনেকে বিশ্বমঞ্চে সফল বলে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বলেছেন, এমন ভূমিকা ভারতের করা উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলকে বিশেষ মর্যাদা দিলে তিনি কীভাবে যুদ্ধবিরতির কথা বলতে পারবেন? অন্যপক্ষে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় না।

    দীর্ঘ অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের ভূমিকা সরল অর্থে মধ্যস্থতা বললে ভুল হবে—বরং তারা মেসেজ আদান-প্রদান, সময়সীমা শিথিল এবং সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করে দিয়ে পরিস্থিতি մեղন করেছে। তিনি বলেন, এটা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নয়; বরং অবস্থানগুলোর পুনর্বিন্যাস, যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তাই ভারতের উচিত স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানানো—উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতকারীদের বিবৃতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার থেকে বিরত থাকা। তিনি উল্লেখ করেন, নীরব থাকা ঠিক নেই; বদলে পরিমিত কণ্ঠে বক্তব্য রাখা জরুরি।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের জয় ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, বিশ্বমঞ্চে মোদি যখন পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন উলটে ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অতীতেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতা করে এসেছে—এবং এখনও তারা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানের মধ্যকার আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

    অপর বিশ্লেষক অভিনব সিং সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানেরও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের কূটনীতি ও নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

    মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু টুইট ও মন্তব্য তােমনি গুরুত্ব পেয়েছে—কেউ কেউ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে ‘বড় কূটনৈতিক সাফল্য’ বলছেন, আবার অনেকে বলছেন ভারতের কূটনীতি ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন। সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর ও কয়েকজন লেখকও প্রকাশ্যভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার তাৎপর্য স্বীকার করেছেন।

    একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, তবে সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরান থেকে তেল ভারত পৌঁছাতে পারে—এই সপ্তাহেই একটি তেল ট্যাংকো এসে পৌঁছাবে।

    নাগরিক-শ্রেণি ও মন্তব্যকারীরা এখন ভারতের কূটনীতি, মতামত প্রকাশের সময় এবং ভুবনীয় সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। অনেকেই মনে করছেন, পাকিস্তানের যেসব কূটনৈতিক উদ্যোগ এবার কার্যকর হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভারতকে আত্মসমীক্ষা করতে হবে—কী কারণে আমরা সে জায়গায় ছিলাম না, আর ভবিষ্যতে কিভাবে আমাদের অবস্থান সুসংহত করা যাবে।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা