Author: bangladiganta

  • পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মৃত্যু

    পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মৃত্যু

    পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শামশাদ আখতার মারা গেছেন। তিনি দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং দুই দফা তত্তবধায়ক সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শনিবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ খবর নিশ্চিত করেছে।

    মৃত্যুর আগে তিনি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন, যেখানে তিনি দেশের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ও পুঁজিবাজারের বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন। পরে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে গঠিত তত্তবধায়ক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

    অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব শামশাদ আখতারকে দেশের অর্থনীতির একজন নীতিবান ও মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তার সততা, পেশাদারিতা এবং দীর্ঘকালীন পরিষেবার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, শামশাদ আখতার দেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করেছেন। অর্থমন্ত্রী তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, শামশাদ আখতার পাকিস্তানের অন্যতম অভিজ্ঞ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন ইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এর আগে তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেন।

    জন্ম হায়দরাবাদে, তবে পড়াশোনা করেছেন করাচি ও ইসলামাবাদে। তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স এবং যুক্তরাজ্যের পেইসলি কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি লাভ করেন। শামশাদ আখতার তার দীর্ঘ পেশাদার জীবন ও দেশসেবার জন্য শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ হবে।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৫ বিলিয়ন ডলার কিনল

    শক্তিশালী প্রবাসী আয় এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর ব্যাপকভাবে ডলার কিনছে। প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত ডলার জমা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরপর থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ডলার ধার দিচ্ছে। রোববার, তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বিশেষভাবে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে ডলারের মূল্য ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৯২ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। অর্থবছরজুড়ে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এখন পর্যন্ত মোট ডলার কেনা হয়েছে ৩ হাজার ৫৬ মিলিয়ন বা ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, এ মাসে ১ থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯.৫ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রবাসী আয় তুলনামূলকভাবে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশল, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নত করার ফলেই এই রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও সচল হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী ও স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। উল্লেখ্য, নভেম্বর মাসে দেশের প্রবাসীরা মোট ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে গণনা করে)।

  • টানা ৮ দফা বাড়ার পর এবার সোনার দাম কমলো

    টানা ৮ দফা বাড়ার পর এবার সোনার দাম কমলো

    দেশের বাজারে দীর্ঘ আট দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। আজ (২৯ ডিসেম্বর, সোমবার) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন দাম আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গুল্ডের মূল্য কমে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) নতুন মূল্য অনুযায়ী হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য নির্ধারিত হয়েছে যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ওই তারের জন্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সোনার বিক্রয় মূল্য নির্ধারণের সময় অবশ্যই সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানের ভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

    এর আগে, অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর, বাজুস সোনার দাম নতুন করে সমন্বয় করে ডেকেছে যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ দামে ছিল। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।

    এ পর্যন্ত চলতি বছরেই মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার এবং কমেছে ২৮ বার। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমানো হয়েছে।

    অন্যদিকে, দেশের বাজারে রুপার দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য মূল্য হলো ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৭৩২ টাকা।

    চলতি বছরে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে। গত বছর রুপার দাম সমন্বয় ছিল মাত্র ৩ বার।

  • জামায়াত আমিরের কদর্য দৃঢ়কন্ঠে বললেন, খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

    জামায়াত আমিরের কদর্য দৃঢ়কন্ঠে বললেন, খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার অর্জন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অদ্বিতীয় স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং প্রার্থনা করেন আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর যাবতীয় ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। এছাড়াও তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ সকলের জন্য ধৈর্য্য ও տոկামের দোয়া করেন, যেন এই কঠিন সময়ে তাঁদের ধৈর্য্য ও সাহস বাড়ে। এমতাবস্থায়, তিনি মরহুমার জন্য আল্লাহর কাছে রুহের মাগফিরাত ও জান্নাতের মর্যাদা কামনা করেন।”}}}## Additional Instructions? Let me know if you’d like any further adjustments or another version.“`#END_OF_RESPONSE#}]]}

  • খালেদা জিয়া: এক অনুপ্রেরণাদায়ক নেতৃত্বের պատմা

    খালেদা জিয়া: এক অনুপ্রেরণাদায়ক নেতৃত্বের պատմা

    চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির কঠিন সময়গুলোতে উঠে এসেছিলেন একজন সাহসী নারী, তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। খালেদা জিয়া তার আপসহীন নেতৃত্ব, দৃঢ়তা এবং স্বীয় স্বার্থের ওপরে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মনোভাবের জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন, এই দুঃখজনক খবর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    জেল, জুলুম, নির্যাতন—সবকিছুকেই উপেক্ষা করে, গণতন্ত্রের প্রশ্নে অবিচল থাকতে তিনি কখনও পিছপা হননি। তার এই সংগ্রামী জীবনই তাকে জনসম্মুখে ‘আপসহীন নেত্রী’ নামে খ্যাতি দিয়েছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে, এক সামরিক অভ্যুত্থানে শহীদ হন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তখনকার রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। এই ব্যথা ও শোকের মুহূর্তে দলটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়লেও, সেই বিপর্যয় মোকাবেলা করে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন খালেদা জিয়া। স্বামীর শূন্যতা দৃষ্টিতে নিয়ে তিনি দায়িত্ব নেন একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের জন্মদান ও উন্নয়ন।

    অতঃপর, ১৯৮১ সাল থেকে তিনি দলকে পুনর্গঠনে কাজ শুরু করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করেন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে একযোগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথই তারা ধরে এগিয়ে যান, যেখানে কোনও আপসের স্থান নেই।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা এবং সাহসের কারণে ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের পতন সাধিত হয়। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এই অর্জন তাকে ইতিহাসের পাতায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

    খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন অটুট। ভয় বা লোভের কাছে কখনও হস্তান্তর হননি। দীর্ঘ সময়কার কারাবরণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও কঠিন অসুস্থতার সময়েও তিনি দেশের জন্য তার আদর্শের লড়াই চালিয়ে গেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তার আত্মদান সাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের প্রশ্নে তার অবিচল ও দৃঢ়চেতা মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। তার জীবন আমাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস, তিনি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় নেত্রী।

  • খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়

    খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়

    জাতীয়তাবাদী দলের প্রবীণ নেত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ আর নেই। তিনি মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় শোকের ঘটনা।

    খালেদা জিয়া তার গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে ৪১ বছর ধরে দেশের মুখে হাসি সঞ্চার করেছেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে, কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচন হয় তার। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলের নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    তার ব্যক্তিত্ব, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সংগ্রামী জীবন তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরে স্থান করে দিয়েছে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি দলের নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়। ইতিহাসে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাক্ষী হয়ে আছেন।

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জিয়া(‘–‘)র হত্যার পর বিএনপি সংকটে পড়ে। তখন তিনি স্বামীকে হারানোর দুঃখের অভিঘাতে স্বামীকে হারানোর বেদনা নিয়ে দলটিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে তার প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হয় তার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

    তিনি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১ এপ্রিলের বর্ধিত সভায় তার বক্তৃতা সংগৃহীত হয়। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হওয়ার পর তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব সামলান। ১৯৮৪ সালের মে মাসে তিনি প্রকাশ্যে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

    খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু করে। তার নেতৃত্বে দলটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকে বাতিল করার জন্য তাঁর আপসহীন লড়াই এক বিস্ময়কর ইতিহাস গড়ে। বিভিন্ন সময় তাকে আদালতের নানা নিষেধাজ্ঞা ও মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে।

    জিয়া পরিবারের এই প্রবীণ নেত্রীর জীবনে নানা সংকট এসেছে। অগ্নিসংযোগে আক্রান্ত হয়েছেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে এরশাদের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন, নিজের বাড়ি হারানোর সর্বনাশের সময়েও তিনি দমে দেননি। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জেল জীবন উপভোগ করতে হয়েছে তাকে। পরে ২০০৮ সালে মুক্তির পর তার মা, বেগম তৈয়বা মজুমদার মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্য তা আরও গভীর শোকের বিষয়।

    করোনা মহামারীর সময় ২০২০ সালে পারিবারিক অনুরোধে তাকে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আবার মুক্তি পান। তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

    চিরঘুমে শায়িত হলেও তার রাজনীতিমুখী জীবন ও সংগ্রাম বাংলা রাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি, বরং প্রতিবারই জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের ইতিহাসে একজন সফল নারী নেত্রীর বৈচিত্র্য আয়ত্ত করেছেন। তার নেতৃত্বে নানা সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

    আজ তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন শোকেরাগ্নিতে দগ্ধ। তার জীবন ও সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিকার নেতা কখনো অস্ত যায় না। তার অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি

    বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই শূন্যতা শুধুমাত্র দেশের জন্যই নয়, বরং গণতান্ত্রিক পৃথিবীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও অসীম গুরুত্ববহ।

  • খালেদা জিয়া নির্বাচনে পরাজয় করেননি

    খালেদা জিয়া নির্বাচনে পরাজয় করেননি

    বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নেত্রী, যার জীবন boyunca কখনও নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে তিনি দেশের নির্বাচনী মাঠের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন, এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সফলতা অর্জন করেছেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে তিনি তিনটি আলাদা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যেকবারই জয় লাভ করেন। শেষবার ২০০৮ সালে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। তবে এরপরই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুরু হয়। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বয়কট করে নির্বাচনে অংশ নেয়নি, আর ২০১৮ সালে মামলার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের.Suppressb শেষের অংশটুকু বয়কট করেছে বিএনপি। ফলে, গত কিছু বছর ধরে তিনি নির্বাচনী মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার তিনটি আসন থেকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে দ্বিতীয় দায়িত্বকাল ছিল মাত্র এক মাস। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শাইরুল কবির খান জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বাংলার সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের পর ২০০১ সালে বিএনপি হেরে যায় এবং তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে অবস্থান করে যান। ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সমন্বয়ে এই সফলতা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন শেষে তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক পরম ধরনের নেত্রী, যিনি কখনও হার মানেননি এবং দেশের রাজনীতিতে তার অবদান অসীম।

  • বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর

    বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর

    বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এর জানাজা আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ মিটিংয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে চোখের সামনাে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে এবং তাকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হবে। সভায় মন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, আন্তঃসরকারি তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠান চলাকালে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও, তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল এবং তার এই মৃত্যু প্রতিটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে দেশের সাধারণ জনগণের শৃঙ্খলিত সমাগম ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে, এই তিন দিন—৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি—রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকবে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই শোয়েব রাজনীতিক নেত্রী, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই শোক ও শ্রদ্ধার মধ্যে তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের প্রতি সব মানুষের সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপি নেতারা

    সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপি নেতারা

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবর্ধনামূলক এক সংবাদ সম্মেলনে চোখে অশ্রু নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দুজনকে কাঁদতে দেখা যায়, যা নবনির্মিত নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের হৃদয় বিদ indruking করে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক যে, আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা কখনো ভাবিনি, এই দিনটি আসবে। আশা করেছিলাম, তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে ফিরবেন। কিন্তু আজ ভোর ৬টায় ড. শাহাবুদ্দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের নেতা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এই শোক অপূরণীয়, এই ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। তিনি সারাজীবন জনগণের অধিকার ও কল্যাণের জন্য আত্মনিয়ােগী হয়ে সংগ্রাম করেছেন, সেই নেত্রী আর আমাদের মধ্যে নেই। বাংলাদেশে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরী হলো, যা কোনোভাবেই পূরণ হবে না। এই শূন্যতা শুধু সাধারণের নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও বড় ক্ষতি।’

    রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন, ‘আমরা আজ এক গভীর শোকের মধ্যে আছি, যেন আমাদের মায়ের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনি ছিলেন অসুস্থ, হাসপাতালে ছিলেন, আবার বাড়িতে। তবুও আমাদের মনে হত, তিনি আছেন, কারণ তাঁর উপস্থিতি আমাদের সাহস দিত। এই দীর্ঘ সময় ছাত্র রাজনীতি থেকে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, তাঁর ত্যাগ স্বীকারের সাহায্যে আমরা শক্তি পেতাম। এত তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন, ভাবতেই কষ্ট হয়। এ শোক ও সংকট কাটিয়ে উঠা খুবই কঠিন। নিপীড়নের মধ্যেও তিনি স্বল্প সময়ে স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন, তাঁর লড়াইয়ের জন্য আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা। বিশ্বের সব মানুষের হৃদয় তাঁর জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছে। এই শোকময় সময়ে মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে ত্যাগ করে গেছেন, তার জন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবো।’