Author: bangladiganta

  • বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন: সংসদের কার্যপ্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্ন: সংসদের কার্যপ্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের ওঠানো যে সব আপত্তি ছিল সেগুলোকে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। পরে কিছু সংযোজন করা হলেও তা কোনো স্বচ্ছ ও মানসম্মত প্রক্রিয়ায় করা হয়নি—এ থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিই যে কর্মকাণ্ডগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলোকে সামনে রেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন: সংসদের প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের পর সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের এসব মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান। চলতি সংসদে এ ছিল বিরোধী দলের চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট।

    তিনি বলেন, বিল পাসের অন্তত এক দিন আগে কাগজগুলো আমাদের দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অধিবেশনে আমরা বসার পরই একে একে বিলগুলো আসে এবং রিপোর্টগুলো বিভিন্ন অংশে ভাগ করে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তারা কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে তোলেন এবং জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের কাজ হচ্ছে সুপারিশসহ সংসদে উপস্থাপন করা—বাদ বা সংযোজন করার এখতিয়ার তাদের নেই, কারণ এটি সংসদের সম্পত্তি।

    তিনি আরও বলেন, বাস্তবে দেখা গেছে এমন কথাও শোনা গেছে যে মন্ত্রী ছাড়া এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে না। এমনকি তাদের বোঝানো হয়েছে, আজ তারা বিরোধী দলেই থাকলেও ভবিষ্যতে সরকারি দলে গেলেই এ সুবিধা নেবেন। এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ডা. শফিক জানান, তারা এখানে কোনো সুবিধা নিতে আসে নি; তারা এসেছে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য।

    স্বাভাবিক নিয়মে এক দিন আগেই ডকুমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি, বলে অভিযোগ করেন তিনি। অধিবেশনে বসে আতঙ্কভাজনভাবে একের পরে এক প্রস্তাব সামনে আনা হলে, যা তারা দেখেনি বা বিবেচনা করার সময় পায়নি—এসবের ওপর কিভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে?—তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন।

    বিশেষ কমিটির ব্যাপারেও তাদের আস্থা ভঙ্গ হয়েছে বলেও জানান জামায়াত আমির। শুরুতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটিতে তারা আস্থাশীল ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই আস্থা ভেঙে যায়। কিছু লোক দাবি করেছেন মন্ত্রী ছাড়া অন্যরা ‘বেসরকারি’ সদস্য; তাহলে সংস্কৃতি মন্ত্রী কেন এটি গ্রহণ করলেন—গ্রহণের পর তো আর তা বেসরকারি থাকবে না। বিষয়টি তোলার পর সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন তিনি নিজে নাকি জানতেন না। একজন মন্ত্রী এমন কথা বললে আত্মপ্রশ্ন জাগে: এই প্রক্রিয়া কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে?

    স্পিকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়ার পর তাঁদের বলা হয় ‘আপাতত এভাবে পাস করে নেওয়া যাক, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আপনাদের বিল আনার সুযোগ থাকবে’। কিন্তু যারা নিজেরাই নিজেদের বিল ও প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারে না, তাদের ভবিষ্যৎ আশ্বাস বিরোধী দল গ্রহণ করবে না—এই বক্তব্যও তিনি দেন।

    অধ্যাদেশ সংক্রান্ত প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ৩০ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে এগুলোর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সেই দিন সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন সরকারি দলের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। একাধিক বৈঠকের পর হঠাৎ করেই একটি রিপোর্ট তৈরি হয়।

    বিরোধী দলের সদস্যরা ওই রিপোর্ট যৌথভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন করলে তারা জানান, এ ধরনের কোনো চূড়ান্ত বৈঠক হয়নি। তখনই তাদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।

    সব মিলিয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংসদের স্বত্ব রক্ষার দাবি নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছে এবং এসব বোধগম্য ব্যাখ্যা না পেলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থান নেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

  • দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

    দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের অসীম দুর্নীতি ও লাগামছাড়া লুটপাটের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের প্রান্তে পৌঁছেছে। তিনি সেমসঙ্গে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোও কার্যকরতা হারাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে (শুক্রবার) সকালে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। ওই দিন সংসদের সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ পরিচালনার সাংঘাতিক বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে; সেই দায়বোধ থেকেই ২০০৫–০৬ অর্থবছর, বিগত ২০২৩–২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় হওয়া ২০২৪–২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার তুলনামূলক চিত্র পরিবেশন করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সূচকে ধস লক্ষ্যযোগ্য: ২০০৫–০৬ সালে স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে নেমে এসেছে ৪.২২ শতাংশে। সেইসাথে মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ থেকে बढ़ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্পখাতের বৃদ্ধিও ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিক্ষেত্রের প্রবৃদ্ধি ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

    শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না হওয়ার কারণে তরুণ প্রজন্ম বাধ্য হয়ে কৃষি বিভাগে ফিরে যাচ্ছেন; এতে ছদ্মবেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তরুণদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হচ্ছে। বর্তমানে কৃষি খাতে মোট কর্মসংস্থানের ৪১ শতাংশ থাকলেও জাতীয় জিডিপিতে তার অংশ মাত্র ১১.৬ শতাংশ—এটি শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও ‘জবলেস গ্রোথ’ বা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির সংকেত দেয়।

    সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্যও ঠেকেছে: ২০০৫–০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে নেমেছে। মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রার দর বাড়ার প্রভাব স্পষ্ট; ২০০৫–০৬ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ছিল ৬৭.২ টাকা, যা ২০২৪–২৫ সালে বেড়ে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে—ফলে আমদানি ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

    মুদ্রা সরবরাহ, রিজার্ভ ও ক্রেডিট প্রবৃদ্ধিও উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৮.৩ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২৪–২৫ সালে ৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে; এটি ব্যাংকিং সেক্টরের তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ মন্থরতার বহিঃপ্রকাশ। রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি এবং রাজস্ব ফাঁকি ও অপচয় সরকারের আয় সংগ্রহ ক্ষমতা সীমিত করেছে। বাজেট ঘাটতি ২০০৫–০৬ সালের ২.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে অতিমূল্যায়ন এবং সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই বাস্তবায়নের কারণে সাধারণ মানুষ সেগুলোর সুফল পাচ্ছে না; বরং অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

    ঋণ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০০৫–০৬ সালে সুদ পরিশোধে সরকার ব্যয় করত মাত্র ৮৫ বিলিয়ন টাকা; কিন্তু ২০২৩–২৪ সালে তা ১৩ গুণ বাড়িয়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য ঋণ প্রাপ্তি জটিল করে তুলেছে—যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধিও পূর্বের তুলনায় নেতিবাচক পর্যায়ে নেমে এসেছে। অবৈধ অর্থচক্র, হুন্ডি ও অর্থপাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিপজ্জনকভাবে নেমে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স উল্ল্Éেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী তার বিবৃতিতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার পুঞ্জীভূত কারণগুলো সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গভীর ঘাটতি, অনিয়ম ও দুর্নীতি বলে উপসংহার টানেন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় তা দ্রুত সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

  • শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির অভিযোগ: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব অনিয়মের ফলে বিএনপি এমন কৌশল অবলম্বন করেছে যে আওয়ামী লীগও হার মানিয়েছে।

    শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জুমা নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে এবং ফলাফল বাতিল করার দাবিতে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামি সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল তারা গণভোট জয়যুক্ত হলে তা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা সেই গণভোটের আদেশই বাতিলের চেষ্টা করছে—এ ধরনের দ্বিচারিতা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের আত্মার সঙ্গে বেঈমানি বলে তিনি আখ্যা দেন।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হঠাৎ করে আক্রমণের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরত না দিলে গণআন্দোলন তার শেষ বিকল্প হবে বলে ইঙ্গিত দেন।

    জামায়াত নেতাগণ বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না; বরং ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে হবে বলে তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

    অন্য উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কামরুল আহসান হাসান, আবদুস সাত্তার সুমন এবং আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকার্রমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পরে পল্টন মোড় ও বিজয়নগর গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিল ও ন্যায়বিচার দাবি জানানো হয়।

  • ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ১৭টি ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেক কমেছে

    ২০২৪ সালে দেশের বীমা-ব্যাংকিং খাত একটি কষ্টকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে—বছরজুড়ে আর্থিক চাপের ফলে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং মুনাফা করা ব্যাংকগুলোরও আয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশ কমেছে। তার প্রভাব সরাসরি পরিলক্ষিত হয়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ে; ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়কালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা খরচ করেছে। এর ফলে আগের বছরের তুলনায় ব্যয় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা প্রায় ৪২ শতাংশ পতন।

    গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়। এর আগে ২০১৫ সালে সেক্টরে সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা—তার তুলনায় এবারের ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৪.৫৭ শতাংশ কমেছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক: ২০২৪ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশের বেশি পতন।

    শিল্প-জ্ঞ এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্র ও জনতা আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো ‘মুনাফা’ আর বাস্তব আর্থিক চিত্রের সঙ্গে মিলে যায়নি। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের হিসাবও সামনে এসেছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কিছু দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতের এক বড় কারণ অভ্যন্তরীণ: রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। আগে রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত, ফলে ব্যাংকগুলো নানা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক বা স্থানীয় কাজে বেশি ব্যয় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তা সিএসআর-এর মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়েছিল। ২০২৪ সালের আন্দোলন ও পরে সরকার বদলের পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে কড়া বিবেচনায় সিএসআর খরচ করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। রাজনৈতিক চাপ বা অনিয়মের কারণে অনুৎপাদনশীল প্রকল্পে অর্থ খরচ হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে যে ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে—তার মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রাখতে হবে; বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি—৩৬ শতাংশ—ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়কালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। সেসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরেকটি উদ্বেগজনক দিক—বিগত বছরে লোকসানে থাকা ব্যাংকের সংখ্যা ছিল বেশি। ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছেন জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব লোকসানেথিত ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি—এিবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এনবিছেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সিইও ও নীতি নির্ধারকদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কিভাবে ব্যাংকিং খাতকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করা যায় এবং একই সঙ্গে সিএসআর-কে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিল রেখে স্বচ্ছভাবে কার্যকর করা যায়। ব্যাংকিং নিয়ম ও তদারকি শক্ত করা, সিএসআর-এ জবাবদিহিতা আর উদ্যোগগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করাই ভবিষ্যতে খাতের স্থিতিশীলতা এবং সমাজসেবা নিশ্চিত করার পথ হবে।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় দেশে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ওই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা এবং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নানা পণ্যের দাম বাড়ায় এবং ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় সেভাবে বাড়েনি, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার চাপ বাড়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে পণ্যের আমদানি হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি (গত বছর একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার)। পক্ষান্তরে ওই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় অল্প বাড়া—প্রায় ২.৬ শতাংশ বেশি (গত বছর ছিল ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলার)। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বড় আকারের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানিকে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়ানো অতীব জরুরি। তা না হলে বৈদেশিক ভারসাম্যে আরও চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণভাবে চলতি অ্যাকাউন্ট উদ্বৃত্ত থাকলে দেশের নিয়মিত লেনদেনে বহির্বিশ্বের কাছে নির্ভরতা কম থাকে; কিন্তু বর্তমানে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে চলতি হিসাব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    সমগ্র ব্যালান্সে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো থাকবে—আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স ইতিবাচক ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে前年 একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি (গত বছর ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার)।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) নিয়েও পাল্লা মেলে—গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারিতে দেশ পেয়েছিল ১০৬ কোটি ডলারের এফডিআই; এ বছর ওই সময়ে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। অন্য দিকে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট নেট হিসেবে নেতিবাচক অবস্থায় আছে; চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে নিটভাবে প্রায় ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের অর্থবছরেও অনুরূপভাবেই ছিল।

    বিশ্ববাজারের মূল্যউত্থান, বিশেষ করে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানো—এই দুই কার্যকর উপায় অবলম্বন না করলে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রার অভাব ও আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েই যায়, মনে করাচ্ছে অর্থনীতিবিদরা।

  • আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হতেই পারে: ট্রাম্প — রণতরি ‘রিসেট’-এ প্রস্তুত

    আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা হতেই পারে: ট্রাম্প — রণতরি ‘রিসেট’-এ প্রস্তুত

    ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় যদি কোনো চূড়ান্ত সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে ইরানের ওপর পুনরায় বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেই হামলার ক্ষমতা রাখার জন্য মার্কিন রণতরিগুলোকে নতুন করে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে।

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বর্তমান সামরিক প্রস্তুতিকে তিনি একটি ‘রিসেট’ বা নতুন বিন্যাস হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি রিসেট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জাহাজগুলোকে আমরা এখন পর্যন্ত তৈরি করা বিশ্বের সেরা সব গোলাবারুদ এবং সেরা অস্ত্র দিয়ে বোঝাই করছি। আগে যা ব্যবহার করে তচনছ করে দিয়েছিলাম, এগুলো তার চেয়েও উন্নত।”

    ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি আলোচনা থেকে কোনো চুক্তি না হয়, আমরা এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করব এবং অত্যন্ত কার্যকরভাবে তা প্রয়োগ করব।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে ইসলামাবাদে আলোচনা সফল হবে ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    যাওয়ার আগে জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘উন্মুক্ত মনে’ এবং ইতিবাচক প্রত্যাশা নিয়েই আলোচনায় যাচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই কড়া হুমকি আলোচনার টেবিলে নতুন করে উত্তেজনা ও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

    ইতিমধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করা এবং ইরানের জব্দ করে রাখা অর্থ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত কোনো কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়—এমন শর্ত তিনি আজ তুলেছেন।

  • পাকিস্তানকে আলাদা করে ফেলতে চেয়েছিলেন মোদি, শেষমেষ ভারতই বিচ্ছিন্ন—বিশ্লেষকরা

    পাকিস্তানকে আলাদা করে ফেলতে চেয়েছিলেন মোদি, শেষমেষ ভারতই বিচ্ছিন্ন—বিশ্লেষকরা

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকাকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনোভাবে উল্লেখ করেনি। ভারতের জারি করা নোটে পাকিস্তানের নাম নেই এবং ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে বিবৃতিতে নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।

    বিশ্ব নেতারা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রশংসা করলেও ভারতীয় বিবৃতির নীরবতা উল্লেখযোগ্য। MEA-র সরল ভাষার বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি, সংলাপ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির জন্য অপরিহার্য, এবং সংঘাতের ধ্বংসাত্মক রূপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী তেল ও জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি তুলে এনে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের স্বাধীন ও নিরাপদ চলাচলের প্রত্যাশা জানানো হয়েছে।

    তারপরও মন্ত্রক পাকিস্তানের ভূমিকাকে বাদ দিল কেন—এই প্রশ্ন অনেকেই তুলেছেন। পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছিল, তখনই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো এটাকে ভারতের কূটনীতিতে বড় ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেছে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করও বলেছিলেন, ভারত ‘ব্রোকার নেশন’ বা মিডলম্যান হতে চায় না।

    বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটি ভারতের করা উচিত ছিল; কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদির ইসরায়েল-সমর্থক অবস্থানের কারণে এমনটা সম্ভব হয়নি।

    সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তান এখানে আর্কিটেক্ট নয়—বরং মাধ্যম বা অনুঘটকের মতো কাজ করেছে। তারা বার্তা আদান-প্রদান সহজ করেছে, সময়সীমা শিথিল করেছে এবং একটি সংকীর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। এটা প্রচলিত অর্থে মধ্যস্থতা না হলেও, তা অস্বীকার করা যায় না। তার মতে, এখন যা দেখা যাচ্ছে তা সংঘাত সমাধান নয়, বরং অবস্থানের পুনর্বিন্যাস—যেখানে বলপ্রয়োগ ও আলোচনা একসঙ্গে চলছে। তিনি যোগ করেছেন, ভারতের উচিত স্পষ্ট ও পরিমিত কণ্ঠে নিজের অবস্থান জানান; উত্তেজনা প্রশমনকে সমর্থন করা, সমুদ্রপথে নেভিগেশন রক্ষা করা এবং সংঘাতের কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা থেকে বিরত থাকা দরকার।

    বিশ্লেষক অশোক সোয়াইন এই যুদ্ধবিরতিকে ইরানের ‘বিজয়’ এবং পাকিস্তানের জন্য ‘সম্মানের’ ঘটনা আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতা প্রমাণ করে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আস্থাভাজন, পাশাপাশি চীনেরও প্রতি বিশ্বাসযোগ্য। সোয়াইনের মন্তব্য, মোদি যদি পাকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন, তাহলে উল্টোদিকেই ঘটেছে—ভারতই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

    অন্য বিশ্লেষক অভিনব সিং বলেছেন, বর্তমানে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যার সম্পর্ক রয়েছে তিনটি মহাশক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া—এবং আঞ্চলিক উপসাগরীয় দেশসমূহ ও ইরানের সঙ্গে। তিনি তুলনা করেছেন যে মোদির কাছে রাজনৈতিক যোগসূত্র আছে নেতানিয়াহুর মতো নেতাদের সঙ্গে, কিন্তু সেই সম্পর্ক কূটনৈতিক ফলপ্রসূতা হারিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

    গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সাংবাদিক অঞ্জনা শঙ্কর লিখেছেন, যুদ্ধের চরম পরিস্থিতিতেও পাকিস্তান কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ করেনি এবং সময়সীমা শেষের কয়েক ঘণ্টা আগে তারা আলোচনার পথ সাফল্যের সঙ্গে তৈরি করতে পেরেছে—যা বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিবেচনায় বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, মোদির কূটনীতির ব্যর্থতার ফলেই পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে গুরুত্ব পেয়েছে; কেউ দাবি করছেন যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রেখেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও পরিশোধিত পণ্যের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবার ইরানের তেল ভারতে যাচ্ছে এবং তেলের একটি ট্যাংক চলতি সপ্তাহেই পৌঁছবে—একটি তথ্য যা অঞ্চলীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

    সাংবাদিক অঙ্কুর ভারদ্বাজ মনে করান, তুচ্ছ তিক্ততা ও বিভাজনের বদলে আমাদের উচিত স্বীকার করা যে এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এবং ভারতের কূটনীতিতে কোথায় ভুল হয়েছে—সেটা নিয়ে গভীর আত্মসমীক্ষা করা।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা।

  • খুলনায় ট্যাংক লরি থেকে অকটেন চুরির সময় ৫ জন আটক

    খুলনায় ট্যাংক লরি থেকে অকটেন চুরির সময় ৫ জন আটক

    খুলনায় পদ্মা ডিপো থেকে ট্যাংক লরি থেকে অকটেন চুরি করার সময় পাঁচজনকে ধরে নজিরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে খুলনার খালিশপুর থানার এলাকার পদ্মা ডিপোতে।

    ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এনএসআই খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের সদস্যরা ডিপোতে ইউনিট করে অভিযান চালায় এবং সন্দেহভাজন পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। তাদের কাছ থেকে মোট ১০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়।

    আটকদের মধ্যে মাগুরার ট্যাংকলরি চালক ইমরান ও তার সহযোগী হেল্পার সম্রাট, মিন্টি, রানা ও বিল্লাল রয়েছেন। তারা আটককালে ট্যাংক লরি (খুলনা মেট্রো-ঢ, ৪১-০০৭১) থেকে ড্রামে তেল উত্তোলন করতে গিয়ে ধরা পড়েন।

    ঘটনার পর ভ্রাম্যমান আদালত বসানো হয়। খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুন ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী প্রতিজনের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জব্দকৃত তেলও কাস্টডিতে নেওয়া হয়।

    এই অভিযান সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের তেল চুরির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই নিরাপত্তা তৎপরতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

  • খুলনায় নুর আজিম বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী ফয়সাল আটক

    খুলনায় নুর আজিম বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী ফয়সাল আটক

    খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকা থেকে নুর আজিম বাহিনীর পরিচিত শীর্ষ সহযোগী ফয়সালকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল নুর আজিমের অনুপস্থিতিতে বাহিনীর কম-কোহর দায়িত্ব পালন করছিল এবং তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খুঁজছিলো।

    মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈমুর ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সন্ত্রাসী নুর আজিমের অনুপস্থিতিতে ফয়সাল বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিল। সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। আজ তার সঠিক অবস্থান জানতে পেরে পরিপক্ক পরিকল্পনায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।’

    পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ফয়সালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের আছে। পুলিশ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। অভিযান চলাকালীন ও আটককালে বিশেষ কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

  • জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার চালু করলেন হজ্জ এজেন্সি ‘ফ্লাই রিহলার’

    জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার চালু করলেন হজ্জ এজেন্সি ‘ফ্লাই রিহলার’

    জাতীয় দলের দুই ফাস্ট বোলার তানজিম হাসান সাকিব ও মোঃ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বৃহৎ পরিসরে হজ্জ এজেন্সি ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের আরএন রোডে ‘ফ্লাই রিহলার’ নামে এজেন্সির প্রধান কার্যালয় উদযাপন ও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে এই দুই ক্রিকেটারের পাশাপাশি আরও একজন ফাস্ট বোলার এবাদাত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনী ককটেলে কার্যালয়টি দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন যশোরের দারুল আরকাম মাদ্রাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল মান্নান কাসেমী।

    তানজিম হাসান সাকিব বলেন, হজ্জ ও ওমরা শুধু একটা ভ্রমণ নয়; মানুষের হৃদয়ে থাকা একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা। আল্লাহর ঘরে যাওয়ার স্বপ্ন যেন প্রতিটি মুসলিমের জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে আমার সামনে অনেক ব্যবসার অপশন ছিল, তবুও এই সেবামূলক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটা শুধু বাণিজ্য নয়—এটি দাওয়াত এবং মানুষের স্বপ্ন পূরণের একটি দায়িত্ব। আমাদের মাধ্যমে কোনো মানুষের আল্লাহর ঘরে পৌঁছে দেওয়াটা সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    অন্য ফাস্ট বোলার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী বলেন, অনেক হজ্জ এজেন্সির অনিয়ম, প্রতারণা, বাড়িভাড়া ও ভিসা জটিলতার কারণে প্রতিবছর হাজিরা হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগভোগ করেন। এ কারণেই ‘ফ্লাই রিহলার’ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যাতে হজ্জগমন প্রার্থীদের মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দেয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে ঢাকা, যশোর ও ঝিনাইদহে শাখা রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেটসহ দেশের সব জেলায় তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তুল মুদাররেসীন-এর সহ-সভাপতি মাওলানা নুরুল ইসলাম, যশোর মহিলা আলিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মতিন, ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার ম্যানেজার জামিনুর রহমান, আল-ফিকহ ও আকীদা বিভাগের একাধিক লেকচারার, আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর খালিদ আবদুল্লাহ মাদানি প্রমুখ।

    স্থানীয় সমাজ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা আয়োজনকে প্রশংসা করেছেন এবং ক্রিকেটারদের এই সামাজিক দায়বদ্ধতাকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন।