Author: bangladiganta

  • নির্বাচকালীন সরকার বিষয়ক সমাধানে আপিল বিভাগের জোর দাবি

    নির্বাচকালীন সরকার বিষয়ক সমাধানে আপিল বিভাগের জোর দাবি

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার প্রয়োজন নেই। তার মতে, আপিল বিভাগ এই বিষয়ে একটি কার্যকর এবং স্থায়ী সমাধান চাইছে, যাতে ভবিষ্যতে এটি বারবার বিঘ্নিত না হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের সমাধান চিরস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। বুধবার (২৭ আগস্ট) এর শুনানি চলাকালে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।

    সেই দিন সকালে, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা চারটি আবেদনের ওপর দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরু হয় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে, যেখানে নেতৃত্ব দেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সহ ৭ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বেঞ্চ।

    আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। উভয় পক্ষই তাদের দাসত্বপ্রাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন করেন।

    এর আগে, মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রথম দিন এই রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছিল। এটি বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছয় ব্যক্তির করা চারটি আবেদনের জন্য ছিল।

    ইতিহাসের দিকে তাকালে বুঝা যায়, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বৈধ বলে ঘোষণা দেন।

    প্রথমে, অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী ১৯৯৮ সালে এই সংশোধনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছিলেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট এই ব্যবস্থা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয় এবং ২০০৫ সালে তা আপিল বিভাগে আসে। এরপর, ২০১১ সালে আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে।

    এই রায়ের পর, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলোপসহ অন্যান্য কিছু পরিবর্তনের জন্য ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। এরপর, ৫ আগস্ট সরকার বদলে যায়, এবং এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবারও অনেকে আবেদন করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে সুজন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং অন্য ব্যক্তিদের কয়েকটি আবেদন। প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছরই বিভিন্ন ব্যক্তির পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও এই রায় পুনর্বিবেচনায় আবেদন করেছেন।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২১ অক্টোবর

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি ২১ অক্টোবর

    আদালত আজ ঘোষণা করেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) এই সিদ্ধান্ত নেন। শুনানির শুরুতে বিচারপতি শিশির মনির অভিযোগ করেন, যেসব বিচারপতি এই রায় দিয়েছিলেন তারা পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, যা নিশ্চিত করেছে রিভিউতে নতুন করে আলোচনা হওয়া দরকার।

    আদালত সুস্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে গভীরভাবে ভাবছে এবং এমন একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে চায়, যাতে ভবিষ্যতেও নির্বাচনপ্রক্রিয়া বারবার বিঘ্নিত না হয়।

    বিচারপতি শিশির মনির মো mouths গোপন করেন যে, ২০১১ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ এই ব্যবস্থা মান্যতা দিয়েছিল। ওই সময় এই সংশোধনী সংবিধানসম্মত বলে রায় দেয়ার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। ২০০৪ সালে এই সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট, কিন্তু পরে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিলের আদেশ দেয়।

    অতীতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিল। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার—all এই রায় আবার দেখার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়, যা ২০০৪ সালে হাইকোর্ট বৈধ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে শেষ জাতীয় নির্বাচন হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ বেশি আসনে জয়লাভ করে। তবে, ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়, যা এখনও দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

  • পৃথক তিন হত্যা মামলায় আনিসুল-সালমানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

    পৃথক তিন হত্যা মামলায় আনিসুল-সালমানসহ ৬ জন গ্রেপ্তার

    ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ইস্যুতে তিনটি পৃথক মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, কামরুল ইসলাম, জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং অপর তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম পুলিশ কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করার অনুমোদন দেন।

    এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামলার আসামিরা। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনায়েদ আহমেদ পলক, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান, কামরুল ইসলাম ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব চৌধুরী জাহাঙ্গীর আলম।

    প্রতিটি মামলার তদন্তকারীরা আদালতে পৃথক পৃথক আবেদন করেন, যার ভিত্তিতে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। আদালত এই শুনানি শেষ করে বুধবার তাদেরকে স্বীয় উপস্থিতিতে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

    রাসেল হত্যা মামলার তদন্তে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী পকেট গেইটের কাছে এ ঘটনার শুরু হয়। সেই দিন আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাসেল মিয়া গুলিবিদ্ধ হন, তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। নিহতের বোন আকলিমা আক্তার মামলা করেন ৩০ জুন।

    অন্যদিকে, ১৯ জুলাই রায়েরবাগ বাস স্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাসেল প্রান্ত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সেই মামলায় ৯৪ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার চাচা নাদিমও রয়েছেন।

    ৫ আগস্ট আন্দোলনের শেষ দিন, পুলিশের গুলিতে জীবন হারান ইমরান হাসান। তার মা কোহিনুর আক্তার বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৯৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    এই ঘটনার নোটিশে জানা যায়, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই মামলার সুবাদে আসামিদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে প্রকাশ করবে ইসি জানালো

    নির্বাচনের রোডম্যাপ কবে প্রকাশ করবে ইসি জানালো

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাঁধা খসড়া রোডম্যাপের অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই বিস্তারিত পরিকল্পনা আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে। বুধবার (২৭ আগস্ট) ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সংলাপ চালানো হবে।

    একই সময়ে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে চলমান শুনানিও চলছে ইসিতে। আজকের শুনানিতে জামায়াত মযদা সমর্থিতরা সাঁথিয়া নিয়ে দাবি জানায় এবং পাবনা-১ আসন গঠনের জন্য দাবি উপস্থাপন করেন। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর সন্তান নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বেড়া ও সুজানগর নিয়ে আরও একটি আসন তৈরি করার প্রস্তাব দেন। তবে, ইসির খসড়া সীমানা অনুযায়ী, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার কিছু অংশের জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।

    নির্বাচন কমিশনের জন্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংসদীয় আসনের খসড়া সীমানার ওপর শুরু হয়েছে শেষ দিনের শুনানি। সকাল ১০টায় এই শুনানি শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, চার নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মকর্তারা।

    শুনানিতে সিরাজগঞ্জ-২ ও ৬ আসনের বাসিন্দারা ২০০১ সালের মতো সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের দাবিতে অংশ নেন। এ সময় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বাসিন্দারা ২০১৪ সাল অনুযায়ী, চিলমারী উপজেলার রানিগঞ্জ, থানাহাট, রমনা ও চিলমারী ইউনিয়নকে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জানান। ইসি এ সকল দাবির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণ ও প্রকাশের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য খসড়া সংসদীয় সীমানার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

  • চলতি বছরেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার গত বছরের সমান বা বেশি

    চলতি বছরেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের হার গত বছরের সমান বা বেশি

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা গত বছর যা ছিল, তার সঙ্গে তুলনা করে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সংখ্যাগুলি প্রায় সমান বা কিছু ক্ষেত্রে আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, উত্ত্যক্তকরণ, বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনাও গত বছরের তুলনায় এখনই বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন: ২০২৪ সমীক্ষা’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সমীক্ষাটি ১৪টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে বয়সভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যেমন ১৮ বছরের কম বয়সী কন্যাশিশু ও ১৮ বছরের বেশি বয়সী নারী। এই সমীক্ষায় ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, গৃহকর্মী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ—এই আটটি অপরাধের বিষয়গুলো আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পরিসংখ্যানের হিসাবে দেখানো হয়েছে, ২০২৩ সালে মোট নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল ২,০৯৩৭, ২০২৪ সালে তা কমে ২,৫২৫ হলেও চলতি বছর ছয় মাসে ঘটে গেছে ১,৫৫৫টি ঘটনা। কর্মসূচিতে সমীক্ষার বিশদ তথ্য তুলে ধরেন মহিলা পরিষদের জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সাইবার অপরাধ ও গৃহকর্মী নির্যাতনের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাকিগুলো বেড়েছে। বিশেষ করে কম বয়সী মেয়েশিশুরা বেশি ভুক্তভোগী ও অপরাধী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। সমীক্ষার তথ্যে দেখা গেছে, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরাই বেশির ভাগ অপরাধের মূল কারিগর। ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে এই সময়ের মধ্যে ৩৬৪জন ধর্ষণের শিকার, তার মধ্যে ২২০ জন কন্যা এবং ১৪৪ জন নারী। এছাড়া, ১৪৮ জনের উপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৪৯ জন কন্যা এবং ৯৯ জন নারী। ধর্ষণের পরে হত্যার শিকার হয়েছেন ১৩৪জন কন্যা এবং ৭৭জন নারী। যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছেন ২২৪ জনের মধ্যে ১২৫ জন কন্যা। বাল্যবিবাহের শিকার ২০ জন এবং যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৬ জন নারী ও ২ কন্যা। গৃহকর্মী নির্যাতনের মধ্যে ১৬জন কন্যা ও ৮জন নারী এবং সাইবার অপরাধের শিকার ২৬জন কন্যা ও ৩জন নারী। ধর্ষণের অভিযুক্ত বেশির ভাগ ব্যক্তির বয়স ২১ থেকে ২৫ বছর, যেখানে ২৮ শতাংশ অভিযুক্তের বয়স ১১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এইভাবে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সের অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সূত্র জানায়, ২৪টি ঘটনার মধ্যে ১৪টি অভিযুক্তের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। শিক্ষক এবং বখাটেদের মধ্যে ২৪ শতাংশ নারী ও মেয়েশিশু উত্ত্যক্তের শিকার। দলের সঙ্গে অপরাধীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অজানা পরিচিত, যা ধর্ষণের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ। স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে বেশি প্রকাশ পায়। অপরাধের পর মামলা করার প্রবণতা বেড়েছে, বিশেষ করে ধর্ষণের পর ৬২ শতাংশ ঘটনাতেই মামলা হয়। সামাজিক উদ্যোগও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে। তবে, মহিলাদের ও শিশুদের নির্যাতনের সব ঘটনাই গণমাধ্যমে আসে না, বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা বা কিছু নির্যাতনের খবর কম প্রকাশিত হয়। আইনগত পদক্ষেপ, মামলা নিষ্পত্তি ও ঘটনার অনুসরণ-up সংক্রান্ত তথ্যও খুব কম সময়ই পাওয়া যায়। মহিলা পরিষদের সভাপতির মতে, নারী ও মেয়েশিশু নির্যাতনের অবস্থা ভয়াবহ হচ্ছে, এবং অপরাধীরা বারবার একই অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য রাজনৈতিক ও ক্ষমতাসীন দলগুলোর নানা সহযোগিতাও দায়ী বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে, দেশের নারীরা এখন আরও বেশি নিরাপত্তাহীন এবং এ পরিস্থিতি পুলিশ ও সমাজের সক্রিয় উদ্যোগ ছাড়া এই অবস্থা কঠিনেই রয়ে যাবে।

  • স্টেডিয়ামের অবস্থা দেখে চোখের জল ঝরল বিসিবি সভাপতি

    স্টেডিয়ামের অবস্থা দেখে চোখের জল ঝরল বিসিবি সভাপতি

    বিসিসি সভাপতি হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিকেটের বিকেন্দ্রীকরণে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জেলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিকেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড আইডিয়া’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

    নারায়ণগঞ্জে এসে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ফতুল্লা স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে তার চোখে জল এল। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জ আমাদের জন্য ছিল এক স্বপ্নের শহর। এখানকার ক্রিকেটের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আমি যখন নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন এখানকার ক্রিকেটের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তখন এই এলাকায় বিভিন্ন লিগের আয়োজন হত। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ক্লাবে খেলোয়াড়রা নিয়মিত খেলতেন। এই শহরের ক্রীড়াবিদরা ঢাকায় গিয়ে প্রতিযোগিতা করে আসতেন।”

    বুলবুল আরও বললেন, “এখানে এসে আমি দেখে খুবই দুঃখ পেয়েছি যে, সেই ক্রিকেটের ঐতিহ্য বজায় থাকলেও এখন এই স্টেডিয়ামটি একপ্রকার পরিত্যক্ত। দেশের ক্রিকেটের জন্য এই মাঠের ব্যবহার এখন খুবই কম। এটি দেখে আমার মন কাঁদি।” তিনি উল্লেখ করেন, “ফতুল্লা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। আমি দেখতে পেলাম, এখানে মাত্র তিনটি উইকেট। আমাদের পরিকল্পনা, এই স্টেডিয়ামে অন্তত ২০টি উইকেট তৈরি করার। আগে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে ক্রিকেট খেলা হলেও এখন সেটা পুরো বছর চলে। তাই এখানে কোচিং সুবিধা, খেলোয়াড়দের জায়গাসহ অন্য সুবিধাও বাড়ানোর চেষ্টা করব। আশা করি, এক বা দুই বছরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের এই স্টেডিয়ামের উন্নয়ন হবে, যাতে এখানকার খেলোয়াড়রা বাড়িতে থাকতেই প্রশিক্ষণ নিতে পারে। এর জন্য সব কিছুই আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। আমি চাই, যা বলি, তা বাস্তবায়ন করতে পারি। এর জন্য আপনাদের দোয়া প্রয়োজন। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমি আইসিসিতে থাকাকালীনও এই যাবতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছি।”

    বুলবুল আরও বলেন, “ক্রিকেট আমার জীবনের ছোট একটা অংশ। আমার সামনে আজ ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বসে আছেন। আমি জানি, এখান থেকে অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াজ উঠে আসবে, যারা হয়তো আগামী দিনের তামিম বা সাকিব হবে। আমি চাই, নারায়ণগঞ্জে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি হবে, যাতে ক্রিকেটাররা সবসময় খেলাধুলার মধ্যে থাকতে পারেন এবং ভবিষ্যতের জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেন।”

  • বাংলাদেশকে ৩ গোলে হারালো নেপাল

    বাংলাদেশকে ৩ গোলে হারালো নেপাল

    সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের জয় আবারও প্রত্যাশিত হয়েছে। আগের ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার পর, রোববার নেপালের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদশের মেয়েরা দুর্দান্ত খেলে ৩-০ গোলে জয় লাভ করে। এই ম্যাচটি ভুটানের চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখানো দেখে দর্শকরা অভিভূত হন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দ্রুতই নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে দুই গোল করে এগিয়ে যায়। ৬ মিনিটে উম্মে কুলসুমের শট গোলরক্ষকের হাতে গেলে প্রথম সুযোগটি নষ্ট হয়। এরপর ৭ মিনিটে আলপি আক্তার কাজে লাগাতে পারেননি গোলমুখ থেকে, বল চলে গেছে ফাঁকায় থাকা প্রীতির কাছে, কিন্তু তার শট ছিল লক্ষ্যে অনুপস্থিত। ১৪ মিনিটে প্রীতির প্লেসিং শট গোলরক্ষক ব fist করেন। ২০ মিনিটে নেপালের ইয়াম কুমারীর চিপ শটটিও গোলের কাছ থেকে দূরে ছিল। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও গোলের দেখা পায় না দল। তবে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে, বেশ ফাঁকা পোস্টে সুযোগ থাকা সুরভী আকন্দ প্রীতি বাইরে শট নিয়ে হতাশ করেন। এর ছয় মিনিট পর, ম্যাচের ডেডলক ভাঙে বাংলাদেশের পক্ষে। মামনি চাকমা ডান দিক থেকে ক্রস করেন, যার মধ্যে দৃষ্টিনন্দনভাবে গোল করেন থুইনুই মারমা। ৪৫ মিনিটে, গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে এসে ঠেকাতে পারেননি, ফলে বেঞ্চে থাকা প্রীতি সহজেই গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ মিস করলেও, যোগ করা সময়ে প্রীতির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। করছেনাৎ রিয়াই পোস্টে টেকনিক্যালি দুর্দান্ত একটা গোলে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ দল এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার প্রত্যয় প্রকাশ করেছে।”}]}“`

  • নতুন আইনে ফেঁসে গেল ড্রিম ১১, স্পন্সর হারালো বিসিসিআই

    নতুন আইনে ফেঁসে গেল ড্রিম ১১, স্পন্সর হারালো বিসিসিআই

    ভারতের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি গেমিং কোম্পানি ‘ড্রিম১১’ আজ, সোমবার (২৫ আগস্ট), তাদের স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। সরকারের নতুন আইন অনুযায়ী, অর্থভিত্তিক অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের টাইটেল স্পনসরশিপ এখন খালি, এবং বিসিসিআই নতুন স্পনসর পাওয়ার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে, চলমান এশিয়া কাপ শুরুর আগে নতুন স্পনসর নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ।

    রবিবার পিটিআই’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিত সাইকিয়া নিশ্চিত করেছেন, ড্রিম১১ আর ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘‘সরকারি নীতিমালা কঠোর হওয়ায়, ড্রিম১১ বা অন্য কোনো অনুরূপ গেমিং কোম্পানির সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের এখন বিকল্প স্পনসর খুঁজতে হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; পেলে জানানো হবে।’’

    নতুন ওই আইনের মধ্যে, কেউ অনলাইনে টাকা দিয়ে গেম খেলতে উৎসাহিত করতে পারবে না এবং এই ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়াও নিষেধ। আইন ভেঙে থাকলে এক কোটি রুপি জরিমানা বা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

    প্রায় এক বছর বাকি থাকলেও, ড্রিম১১ গত বছর তিন বছরের জন্য ভারতীয় জাতীয় দলের (পুরুষ, নারী, অনূর্ধ্ব–১৯ ও অনূর্ধ্ব–২৩) টাইটেল স্পনসর হিসেবে চুক্তি করেছিল ৩৫৮ কোটি রূপিতে (প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার)। তারা এখনো চুক্তি অনুযায়ী এক বছর বাকি থাকলেও, জরিমানা কিংবা অন্যান্য শর্তের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না।

    বিসিসিআইয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘এটি ড্রিম১১য়ের দোষ নয়। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনো জরিমানা ধার্য করা হয়নি। তবে স্বল্পমেয়াদে আমাদের আয়ের ওপর প্রভাব পড়বে। আমাদের নতুন পরিকল্পনা করতে হবে।’’

    তিনি আরও জানান, এশিয়া কাপে ভারতের প্রথম ম্যাচের জন্য মাত্র ১৫ দিন বাকি, এই স্বল্প সময়ে নতুন স্পনসর খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ এই প্রক্রিয়া সময় নেয়, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিড আহ্বান, যাচাই-বাছাই, এবং শেষে বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়।

    ড্রিম১১ এর সরে দাঁড়ানোর প্রভাব আইপিএলেও পড়তে পারে। অন্য এক ফ্যান্টাসি কোম্পানি ‘মাই১১সার্কেল’, যারা পাঁচ বছরের জন্য ৬২৫ কোটি রূপির চুক্তি করেছে, তারাও বড় ধাক্কা খেতে পারে। তবে বিসিসিআই মনে করছে, আইপিএলের জন্য এখনও যথেষ্ট সময় রয়েছে। প্রয়োজন হলে নতুন করে প্রক্রিয়া চালু করা যাবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার পুনরায় চ্যাম্পিয়নত্ব

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার পুনরায় চ্যাম্পিয়নত্ব

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শহিদ মীর মুগ্ধ আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের বাংলা ডিপার্টমেন্ট। সোমবার বিকেল ৩:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন চতুর্থ একাডেমিক ভবনের সামনে মাঠে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচে তারা ৪-০ গোলে computer science and engineering (CSE) ডিপার্টমেন্টকে হারায়। দলের পক্ষে দু’টি করে গোল করেন আবির ও আশরাফ।

    রোমাঞ্চকর এই ম্যাচের মধ্যে পারফরম্যান্সের জন্য বাংলা বিভাগের আবিরকে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ ঘোষণা করা হয়, অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পান সিএসই বিভাগ থেকে প্রান্ত মুখার্জি। পাশাপাশি যৌথভাবে শীর্ষ স্কোরার হন বাংলার আবির ও আশরাফ। সিএসইর আমান উল­াহ সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হন এবং প্রমিজিং প্লেয়ার হিসেবে বাংলার আশিকের নাম ঘোষণা করা হয়।

    ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, একাডেমিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই প্রাণবন্ত থাকে। শহিদ মীর মুগ্ধের নামে এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া আমাদের জন্য সত্যিই গৌরবের বিষয়। তিনি চ্যাম্পিয়ন ও রেজাল্ট অপরাজিত দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানান এবং খেলাধুলার উন্নয়নে শারীরিক শিক্ষা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল ক্লাবের দক্ষ কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, যিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শহিদ মীর মুগ্ধের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই ধরনের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রেরণা হয়ে উঠবে।

    অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়কদের হাতে ট্রফি তুলে দেন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য। এসময় দুই দলের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পুরস্কার ও মেডেল বিতরণ করা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অভিযোগ) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত। টুর্নামেন্টের পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ নবীউল ইসলাম খান, যার স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মঈনুল হোসেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগ প্রধানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ফিফা জানালো, ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে ক্লাব বিশ্বকাপ

    ফিফা জানালো, ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে ক্লাব বিশ্বকাপ

    ২০২৯ সালেই অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, এ সংক্রান্ত সূচি ও পরিকল্পনা অবশেষে নিশ্চিত করেছে ফিফা। এই খবরের আগে অনেকেরই ছিল অনিশ্চয়তা এই টুর্নামেন্ট কোথায় আয়োজন করা হবে।بعد مناقشায়, অবশেষে জানানো হয় যে, আসরটি গ্রীষ্মকালে অনুষ্ঠিত হবে। কাতার এই সময়সূচিতে আগ্রহী থাকলেও, শেষমেশ দেশের আয়োজক হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ঝরে গেল। এর মূল কারণ হলো সময়সূচির সমস্যায়। ২০২২ বিশ্বকাপের মতো এই ক্লাব বিশ্বকাপ যদি কাতারে আয়োজন করা হয়, তাহলে গরম আবহাওয়ার কারণে টুর্নামেন্টটি শীতকালে স্থানান্তর করতে হত। কিন্তু শীতকালীন সময়ে আয়োজন করলে ইউরোপীয় লিগের সূচির সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জুন-July মাসের গ্রীষ্মকালের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে কাতারের স্বপ্ন ভেঙে যায়। ফিফা ইতিমধ্যে মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোকে নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই ৩২ দলের টুর্নামেন্টের পর ২০২৯ সালে দলসংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারেও আলোচনা চলছে। বড় ক্লাবগুলোর চাপের মধ্যেও, ফিফা সরাসরি ৪৮ দলের ফরম্যাটের পরিবর্তে ধাপে ধাপে দল সংখ্যার স¤প্রসারণের পরিকল্পনা নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্পেন এবং মরক্কো এই আয়োজনের মূল পাল্লায় এগিয়ে আছে। ২০৩০ বিশ্বকাপও এই দুই দেশ যৌথভাবে আয়োজন করবে। যদিও পর্তুগাল এই আসরে সহ-আয়োজক থাকলেও, ক্লাব বিশ্বকাপের আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ তেমন চোখে পড়ছে না। অন্যদিকে, খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফিফা নতুন কাঠামোও ভাবছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়, মূল টুর্নামেন্ট শুরুর অন্তত এক সপ্তাহ আগে একটি বাছাইপর্ব আয়োজন করা হবে। এতে জয়ী দলগুলো মূল আসরে অংশগ্রহণ করবে। এর আগের তালিকা তৈরিতে দেখা গিয়েছিল, শেষবার কনকাকাফের প্রতিনিধি নির্ধারণের জন্য লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ও ক্লাব আমেরিকার মধ্যে প্লে-অফ আয়োজন করতে হয়েছিল। ভবিষ্যতে এই ধরনের জটিলতা এড়ানোর জন্য ফিফা নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে।