Author: bangladiganta

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারনীতি ব্যতিরেকে আসছে উগ্রবাদ

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারনীতি ব্যতিরেকে আসছে উগ্রবাদ

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মূলোৎপাটনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত সভায়। গ্রন্থের লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম এবং এটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ষড়যন্ত্র কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো মধ্যপন্থী, উদার দৃষ্টিভঙ্গির রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে অবাধ ও একান্তই উগ্রবাদী রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়া। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। এ জন্য আমাদের উদারপন্থী গণতন্ত্রকে রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না হলে দেশের ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে। রাজনীতিতে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা গভীর বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে জনগণকে। মানুষ প্রশ্ন করে, কীভাবে নির্বাচন হবে? তার মানে রয়েছে শঙ্কা, আশঙ্কা এবং হতাশার ছায়া।

    মির্জা ফখরুল এও বলেন, নির্বাচন অবশ্যই হবে এবং সময়মতো ঘোষণা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর কোনো বিকল্প নেই। যদি নির্বাচন বন্ধ করা হয় বা হয়নি, তবে দেশের ক্ষতি অপ্রকাশ্য থাকবে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ বাড়বে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মহল আবার ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে, বিদেশেও এ বিষয়ে কাজ চলছে। তাই দ্রুত নির্বাচন দরকার। তিনি বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারব।

  • তাহেরের মূল্যায়ন: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভন্ডুলের নীলনকশা

    তাহেরের মূল্যায়ন: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভন্ডুলের নীলনকশা

    নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ আবুল্লাহ মাহমুদ তাহের মন্তব্য করেছেন, এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ভন্ডুলের পরিকল্পনা। তিনি আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সম্মেলনে এই মত প্রকাশ করেন।

    ডা. তাহের বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য বিএনপি কোনও আপত্তি করছে না। আমরা সেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে একটি সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠ, অবাধ ও অবিচল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই চার্টারকে বৈধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া, যাতে ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। কিন্তু এই বিষয়গুলোর উদ্যোগ না নিয়ে যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি পুরোপুরি মনোযোগী নয় এবং এটিই সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের চক্রান্ত বলে মনে করেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, বিএনপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবে জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। পাশাপাশি, অপার ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর এর মধ্যে কোনটি নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ধারণ না হওয়ার পর্যন্ত রোডম্যাপ কার্যকর হবে না। তিনি ভোটারদের প্রতি এই ধরনের অসাধুচরণে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

    এছাড়াও, তাহের বলেন, বাংলাদেশে জনগণ সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন প্রতীক্ষায় রয়েছে। যদি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ভারতীয় আভ্যন্তরীণ অপ্রতিরোধ্য প্রভাবের বিরুদ্ধে শক্তিশালী গণজোয়ার তৈরি হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।

    প্রধান অতিথি হিসেবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    দ্বৈত রাজনৈতিক দলের একজন বা একাধিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কারো কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন, আলোচনা করি। কোনোরকম বিভাজন বা বিভ্রান্তি না ঘটিয়ে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আলোচনা ও আলোচনার মাধ্যমে বিভ্রান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। রাজনীতি ক্ষেত্রে এসব বিভ্রান্তি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি আরও বলছেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি, সেটা গুম-খুনের ভয়-ভীতি উপেক্ষা করেও এগিয়ে চলছি। এক জন রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দেয়, তবে গুম রহিত করতে, অপরাধ নির্মূল করতে আমরা কোন রকম প্রয়াস নিতে পিছুপা হবো না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না। ২৯ আগস্ট, শুক্রবার, আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মা’য়ের ডাকের আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমার ভাগ্য ভাল আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি; আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি। অবিবেচকভাবে অতীত সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অনুশোচনার অভাব থাকার পাশাপাশি তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু জনগণ তাদের রাজনীতিতে যেমন আকৃষ্ট হবে না, তেমনি ক্ষমা করবে না। তিনি আরও বলেন, দু-একটি দল ধর্মের ভঙ্গিতে নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে, যেখানে কোনো সংশয় থাকলে আলোচনা হওয়া উচিত। ঐক্য ভাঙার অপচেষ্টা বন্ধ করে বাস্তব আলোচনা প্রয়োজন। পরে আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গুমের শিকার হওয়া কয়েকজনকে জীবিত ফিরে পেয়েছি। তবে আরও অনেকের দাবি রয়ে গেছে, যারা এখনও ফিরতে পারেনি। সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়, যারা গুম হয়েছে তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে সব আশ্বাস অপূর্ণই রয়ে গেছে। গুম হওয়া শায়রুল ইসলাম বলেন, আমি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হই। ঐ সময় আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, আমরা পাঁচজন গুম ছিলাম। তার মধ্যে আমি ও একজন নিরাপদে ফিরে আসি, অন্যরা এখনও অনিশ্চয়তার মুখে। আমি তখন একটি অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে জেল খেটেছি, যার কারণে আমি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার দাবী, এই মামলার থেকে আমাকে মুক্তি দেওয়া হোক। পাশাপাশি, আমি বলবো, যারা গুমের শিকার তারা এখনো ফিরেনি, যারা করেছিল তারা এখনো দায়িত্বহীন। এছাড়া, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ, পরে হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবা চায়ের দোকান থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে অনেক নির্যাতনের শিকার হন। এতটাই মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে বাবা মারা যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাবাকে আটকের সময় থেকে শুরু করে নির্যাতনের বিভীষিকা সহ্য করতে হয়েছে। এই সব দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন সজল ও তার পরিবারের সদস্যরা।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের মহাবিপর্যয় আসবে, বলে সতর্কতা অভিযান

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সুষ্ঠু ও অপক্ষু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে দেশের সংস্কার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনাদের কি সত্যিই সংস্কার চাচ্ছিলেন না? তিনি আরও বলেন, এই সময়ে নানা বিভ্রান্তি ও অসংগতি হচ্ছে। আমাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেওয়া উচিত, যাতে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের আয়োজন সম্ভব হয়।

    আমাদের কাছে ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, তবে এখনো পরিষ্কার করে বলা হয় নি, নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে। আমরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেকর্ড) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে আছি। তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের অপরাধে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে এবং ভোট জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।

    প্রধান বক্তা আরও বলেন, যারা এই পদ্ধতিটি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতভেদ নিরাপদ নয়; এটা দেশের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে।

    তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু আগে সরকারের দেওয়া তারিখে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি শেষবারের মত এই বললেন, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে, আগে যেসব বাধা রয়েছে তা মোকাবিলা করে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

  • কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে

    কাকরাইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর সহিংসতা, আইএসপিআর বলছে

    রাজধানীর কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮ টায় কাকরাইল এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এর ফলে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য অনুরোধ জানায়, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে থাকলে তারা সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়। এ সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং আহত হন কয়েকজন সদস্য।

    আইএসপিআর আরও জানায়, শুরুর দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে দেশের আইন মেনে চলার অনুরোধ করে। however, কিছু নেতাকর্মী সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে জনতার মধ্যে ক্ষিপ্তের সৃষ্টি করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারা মিছিলের মাধ্যমে মিছিলে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এর ফলে বিজয়নগর, নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং জনজীবন ভুগমান হয়।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফেরানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করে, কিন্তু বারবার উপেক্ষা করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আজকের ঘটনায় দুই পক্ষের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর পঞ্চম সদস্যও আহত হন।

    আইএসপিআর আরও উল্লেখ করে, বাংলাদেশ সরকার সব ধরনের জনবিক্ষোভ ও মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে সতর্ক করে দেয়, সকলের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য তারা সবসময় প্রস্তুত। তারা বলেছে, জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুত, এবং তারা যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

  • নূর খান: এক হাজার ৮০০ এর বেশি গুমের অভিযোগ পেয়েছি

    নূর খান: এক হাজার ৮০০ এর বেশি গুমের অভিযোগ পেয়েছি

    গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশন এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮০০ এর বেশি অভিযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ ভুক্তভোগীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে গুম দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রিপ্রেশন টু রেভলিউশন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই তথ্য প্রকাশ করেন গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান। তিনি বলেন, আমাদের তদন্তকারী কমিশন কোনও তদন্তের দায়িত্ব নেয় না। ফলে, এই কমিশনের পক্ষে রিমান্ড নেওয়া বা গ্রেপ্তার করার অনুমতি নেই। আমরা শুধুই তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি। ভুক্তভোগী, সাংবাদিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে কাজ চলছে। নূর খান আরো জানিয়েছেন, যারা এই গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নির্দেশনা দিতেন, তাদের অনেকেই এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ৩০০ জন ভুক্তভোগীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল কারা, সেই সম্পর্কে কিছু তথ্য কমিশনের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকানোর পর কোথায় রাখা হয়েছিল এবং তারপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কারা, সে বিষয়ে কিছু ফাঁক রয়ে গেছে। নূর খান আরও জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্য থেকে কমিশন তাদের কাজের একটি অংশের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে পারবে। তবে এক হাজার ৮০০ অভিযোগের পুরোপুরি প্রতিবেদন একবারে দেওয়া সম্ভব হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশের নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন বাংলাদেশের নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্য

    দক্ষিণ সুদানের জুবা ও মালাকাল প্রদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রাখা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৯৯ সদস্যকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক প্রদান করা হয়েছে। এই অর্জন উদযাপন করতে গত বুধবার জুবায় একটি বিশাল মেডেল প্যারেডের আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের ফোর্স মেরিন ইউনিট (বেনএফএমইউ-১০) এর সদস্যরা অংশ নেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশন্স মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)-এর ফোর্স কমান্ডার, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহান সুব্রামানিয়াম। তিনি তাদের সাহসিকতা এবং দক্ষতার জন্য প্রশংসা জানিয়ে এই শান্তিরক্ষা অভিযানে অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতি স্বরূপ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের মধ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মেডেল বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে আনমিস এর বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

    মেডেল প্যারেডের সময় ফোর্স কমান্ডার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নীল নদের বিপদসংকুল পরিবেশ এবং সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলে এই সেনারা অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। তারা জাতিসংঘের জন্য জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহন, নদীপথে নিয়মিত টহল, উদ্ধারের অপারেশন, ডাইভিং ও রেকি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সব অবদান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বে অভিষিক্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অতিরিক্ত, এই পদকপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের নৌবাহিনী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। এই মিশনে বাংলাদেশ একমাত্র মেরিন ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট নীল নদের বিস্তার এলাকায় জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। তারা দীর্ঘ ১৩১১ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে ৭১টি লজিস্টিক অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। মোতায়েনের পর থেকে তারা দক্ষিণ সুদান সরকার ও জনগণের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

    এছাড়াও, উত্তাল আরব সাগরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা সংগ্রাম’ ধর্মের পতাকা উড়িয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।

  • বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখে দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য নয়

    বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখে দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য নয়

    গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি বিষয় এখন বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ কথা বলেন শুক্রবার সকালে, গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে। জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, বিচারকে এগিয়ে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এজন্য আমাদের সবাইকে নির্বাচনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বোঝা জরুরি। একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে দেশে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংস্কার অর্জিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে, যা বাস্তবায়নে দ্রুত ঐক্যমত সৃষ্টি সম্ভব। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
    জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্দোলনকারী দলগুলোর সঙ্গে বসে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই কমিটি নির্বাচনী পরিবেশে কোনো বিঘ্ন ঘটলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিরোধে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনই বর্তমান রাজনীতি ও দেশের অস্তিত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলার অন্যতম উপায়।
    তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ এখন সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। ২০২৪ সালে জনগণ বড় এক সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকার পতন ঘটেছে। তবে পুরো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে আমরা এখনও সরিয়ে ফেলতে পারিনি। তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বৈরাচার পতল মানেই পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়। শাসন ব্যবস্থা ও সংবিধান যদি রূপান্তর না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক স্বপ্ন পূরণ হবে না। সংবিধানের ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন তিনি।
    সাকি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারনা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে শক্তি বেশির ভাগই কেন্দ্রীভূত ছিল একজন ব্যক্তির হাতে, যা স্বৈরতন্ত্রের পথ সুগম করেছিল। এই সাংবিধানিক কাঠামোর অধীনেই একের পর এক স্বৈরশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও ফ্যাসিস্ট শাসন চেহারা নিয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন এখন অপরিহার্য।
    তিনি আরও বলেন, এখনও দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা স্বৈরশাসন ও গণআন্দোলনকে অস্বীকার করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা হত্যাযজ্ঞকে আড়াল করতে চায় এবং বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, অর্থনৈতিক সাহায্য নিচ্ছে, নাশকতা ছড়াচ্ছে—যাতে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে কিছু গোষ্ঠী পুরোনো স্বৈরশাসক কায়দায় নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে মব রাজত্ব বজায় থাকে। সাকি মনে করে, এক দিকে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী দৃষ্টিভঙ্গি, অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি ফ্যাসিস্ট শক্তির উঠানে দেশের জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
    তিনি উল্লেখ করে বলেন, জনগণ চায় একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, যেখানে তাদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত। তিনি স্পষ্ট করেন, অন্যায়কে আমরা কখনও প্রশ্রয় দিই না এবং কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। এ জন্য দরকার আইন ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মানসহ রক্ষা করা। অন্যথায়, নিজেরাই ফ্যাসিবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে; কোনো অপশক্তি এই অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না। গ্রন্থী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই দিন উপস্থিত ছিলেন।
    সংগঠনের ইতিহাসে জানা যায়, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনের সমন্বয়ে জনগণের স্বার্থে রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের নিজস্ব শক্তিকে শক্তিশালী করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা। ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে সহায়তা ও নেতৃত্ব দেয়ার পর, ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিক উন্মোচন করেছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দিক উন্মোচন করেছে

    ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ সুসংহত করেছে। দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা থাকা খুবই জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী এবং গণতান্ত্রিক হয়ে উঠে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তরুণরা এই পথে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখবে।

    মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক মন্তব্য করেন, বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার হয়েছে। নতুন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যা খুবই ইতিবাচক একটি দিক। তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলি শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশের জন্য একটি মূল্যবান উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান জানান, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নিয়ে নতুন চেতনাকে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি বোঝায়, বাংলাদেশ এখন দ্রুতগতিতে উন্নতির পথে।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলারের הגבুলে পৌঁছেছে। বুধবার দিনশেষে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রস রিজার্ভ এখন ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক মনিটরি ই মিনিস্টার ফর অ্যাফেয়ার্স (আইএমএফ) এর হিসাব পদ্ধতি, বিপিএম ৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ অবস্থান ২৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, গত রোববার, বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম ৬ এর হিসেবে সিঁড়িতে ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

    প্রায় তিন মাস আগে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) এর মাধ্যমে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে। এর ফলে গ্রস রিজার্ভ কিছুটা কমে এসে ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়নে এসে পৌঁছায়, আর বিপিএম অনুসারে তা পড়ে ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়নে।

    অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দেয়া ঋণের কারণে, গত জুন মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে। এটি ছিল গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে রিজার্ভ আবার ৩২ বিলিয়ন ডলার নিচে নেমেছিল। একই সময় আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, বিপিএম ৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগে ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে যেতে শুরু করে। গত জুলাই শেষে, অর্থাৎ অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আগে, রিজার্ভ ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তবে, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বৈদেশিক সাহায্য এবং অর্থের প্রবাহে পরিবর্তনের ফলস্বরূপ, প্রবাসী আয় বেড়ে ২৭ শতাংশের বেশি, যাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় আরও ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিনিয়োগ, রপ্তানি, রেমিটেন্সসহ নানা দিকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্টক উন্নতির ধারায় রয়েছে।