Author: bangladiganta

  • বিএনপির শোকজ এডভোকেট ফজলুর রহমানের অপ্রদোষ কথার কারণে

    বিএনপির শোকজ এডভোকেট ফজলুর রহমানের অপ্রদোষ কথার কারণে

    বর্তমানে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও বেফাঁস বক্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির উপদেষ্টা এডভোকেট ফজলুর রহমান। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামপন্থী দলগুলোর বিষয়ে অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। এই মন্তব্যের কারণে বিএনপি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে।

    বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৪ আগস্ট) বিকালে তার বক্তব্যের পরেও দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলটির পক্ষ থেকে আগ্রহের সঙ্গে জানানো হয়, এই নোটিশে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আপনি সম্প্রতি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিষংস্কারপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যা শত্রুরা অপপ্রচার হিসাবে ব্যবহার করছে। আপনি শহীদদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা দলীয় আদর্শ এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। আপনার এসব বক্তব্য জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং মহামানবত্তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে wielu মনে করছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের উপর আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    নোটিশে আরও বলা হয়, এই সময়ে হাজারো নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, অনেক গুরুতর আহত হয়েছেন, এই বীরজনাদের অবমাননা করে আপনি নানা বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক মন্তব্য করেছেন। আপনি কেন এই ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী বক্তব্যের জন্য দায়িত্বে থাকবেন না, তা বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিতে বলা হয়েছে।

    অতীতে, এই বিতর্কিত মন্তব্যগুলোর জন্য ফজলুর রহমান সর্বপ্রথম আলোচনায় আসেন ৫ আগস্ট, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সেই সময় বলেছিলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, যারা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, এই সংগঠন তরুণ সমাজকে প্রভাবিত ও বিভ্রান্ত করছে, এবং দেশের রাজনীতিতে তাদের প্রভাব এখন সার্বজনীন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের সাংগঠনিক ও অর্থনৈতিক শক্তি দিন দিন আরও বিকশিত হচ্ছে ও সামাজিক ও প্রশাসনিক স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এরপর তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব হলে বিএনপি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে ফিরে ক্ষমতায় যেতে পারে।

    এছাড়া, তিনি বলছিলেন যে, জামায়াতের জনসমর্থন বর্তমানে কমে গেছে, তবে তারা নিজেদের ছায়া-সরকার গঠন ও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে। দেশবাসীর কাছে তারা বেশ শক্তিশালী মনে করছে, যদিও তাদের রাজনৈতিক জনভিত্তি ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান। এই বক্তব্যগুলো দেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • বের হয়ে গেলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই মাইনাস: সালাহউদ্দিন

    বের হয়ে গেলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই মাইনাস: সালাহউদ্দিন

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের বিষয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ না নেওয়াই এক ধরনের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, তবে যারা বাহানা দিয়ে নির্বাচন বয়কট করবে, তারা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নিজেকে মাইনাস করে ফেলবে।

    আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) গুলশানে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে گفتگوকালে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কিছু কিছু দল বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে; এটা তাদের কৌশল হতে পারে। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য ধরে রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করি। এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হবে।”

    গণপরিষদ বা পিআর প্রতিষ্ঠার দাবিকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল বলেও আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এটি মাঠ গরম করার জন্য একটি রাজনৈতিক বক্তব্য।”

    দেশে নির্বাচনি উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাইয়ে ধারণা করা কিছু বিষয় অযৌক্তিক মনে করেছে বিএনপি। বিকল্প প্রস্তাব ও আলোচনার জন্য তারা কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করবে।”

    বিএনপির শীর্ষ এই নেতা আরও বলেন, “সংবিধানের ওপরে যা কিছু থাকবে, তা মানা হবে না। তবে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সাংবিধানিক সংস্কারগুলোর জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেগুলো সম্মতিতে সম্ভব। কিছু সংস্কার আজই কার্যকর হলে কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা নির্বাচনের পরে বাস্তবায়ন করা হবে।”

    সালাহউদ্দিন বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনে কোনো জটিলতা চায় না বিএনপি। সবার ঐক্যমতে এই সরকার গঠিত হয়েছে, এবং তত্ত্বাবধায়কের বিষয়টি পুনর্বহাল হলে পরবর্তী নির্বাচনে সেটা কার্যকর হবে। এই সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন হবে, অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই।”

    ভোটের সময় কোনো রাজনৈতিক জোট নিয়েও তিনি জানান, “জামায়াতের সঙ্গে জোটের امکان নেই। তবে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, তারা অন্যদের সঙ্গে জোট করতে পারেন। ভবিষ্যতেও তারা থাকতে পারে।”

    অতিরিক্তভাবে, তিনি জানান যে, কয়েকটি ইসলামি ঘরনার দলও তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। বলেন, “তাদের সঙ্গে জোট হতে পারে, তবে এখনই চূড়ান্ত নয়। বিগত আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে, এবং সেখানে জোটের সম্ভাবনা রয়েছে।”

  • ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

    ডাকসু নির্বাচনে ২৮ পদে লড়ছেন ৪৭১ প্রার্থী, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে। এই বার মোট ৪৭১ জন প্রার্থী ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, যার মধ্যে ৬২ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। কার্যক্রমের তৎপরতায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী সিনেট চৌধুরী ভবনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ে ২৮ জন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। এছাড়াও, নির্বাচন অযোগ্য হয়ে যাওয়া ১০ জন প্রার্থী আপিল না করায় তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে হয়েছে। এরপর, চূড়ান্তভাবে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পদভিত্তিক প্রার্থী সংখ্যা অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৪৫ জন, সাধারণ সম্পাদক ১৯ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ২৫ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ১৭ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক ১১ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৪ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ১২ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা ৯ জন, ক্রীড়া ১৩ জন, ছাত্র পরিবহন ১২ জন, সমাজসেবা ১৭ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ১৫ জন, মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক ১১ জন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ১৫ জন এবং সদস্য পদে মোট ২১৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। নারী প্রার্থী মোট ৬২ জন, যাদের মধ্যে ভিপি পদে ৫ জন, জিএস পদে একজন, এজিএস ৪ জন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন ২ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১ জন, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া ৯ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ৩ জন, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ২ জন, সমাজসেবা ১ জন, ক্রীড়া ১ জন, গবেষণা ও প্রকাশনা ৩ জন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ২ জন, মানবাধিকার ও আইন ৩ জন এবং সদস্য পদে ২৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছাত্রকদের মধ্যে আস্থা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীরাও বেশ উৎসাহিত। প্রার্থীরা উৎসাহ দেখিয়েছেন এবং ভোটারাদের মধ্যেও অপ্রতিরোধ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদি এই উৎসাহ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকে, তবে নিখুঁত ও নিঃস্পৃহ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ভোটের দিন ব্যবস্থাপনার জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত হয়েছে এবং নির্বাচনি কেন্দ্রে সব ধরনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও ভাবা যেতে পারে, তবে বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশের প্রত্যাশা করছি।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য নানা অপ্রাসঙ্গিক দাবি উত্থাপন করছে। তিনি এ দাবিগুলোর মাধ্যমে উদ্দেশ্যার্থ করে রাষ্ট্রের শান্তি ও গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি মনে করেন।

    আজ বুধবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত কাজী জাফর আহমেদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অতি দ্রুত নির্বাচন না হলে দেশের পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। তিনি বলেন, যখনই সুযোগ পান অগণতান্ত্রিক শক্তিগুলি ক্ষমতা লাভ করে, তখন তারাই দেশের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে। এজন্য তিনি সকলকে সচেতন ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

    স্মরণ করে তিনি বলেন, কাজী জাফর আহমেদ ষাট ও সত্তরের দশকে ছিলেন একজন কিংবদন্তি ছাত্রনেতা। তার বক্তৃতা শুনে তরুণরা অনুপ্রাণিত হতো। তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বললেন, যখন তিনি স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে যোগ দেন, তখন বিএনপি ও দেশের অনেকেই কষ্ট পায়। তবে অন্তর থেকে তিনি একজন দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রপ্রিয় ব্যক্তি, যা তার বিপ্লবী আদর্শের প্রমাণ।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু রাজনৈতিক মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল করতে নানা দাবি তুলছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, তারা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির মতো বিষয়ের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্পষ্ট নয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এর ফলে ভোটের সত্যিকার ফলাফল বোঝা ও গ্রহণ অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে।

    বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দ্রুত নির্বাচন করার দাবি জানিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতা পরিবর্তনের সাত-আট দিন পর আমি ঘোষণা করেছিলাম, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিন। কারণ, পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহণ করে অগণতান্ত্রিক শক্তিরা ক্ষমতা আঁকড়ে যায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

    ২০০৭ সালে এক-এগারো আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তখন দেরিতে নির্বাচন হওয়ায় ফ্যাসিস্টরা ক্ষমতা হাতে নেয়, যা দেশের ১৬ বছরের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ক্ষতি হয়।

    মির্জা ফখরুল সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সংকটের সময় উঠে দাঁড়াতে জানে। তার মতে, বাংলাদেশ বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠে।

    অবশেষে তিনি মরহুম মাওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, যারা দেশের জন্য আপ্রাণ সংগ্রাম করেছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। দেশকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা সকলের দায়িত্ব।

  • মুক্তিযোদ্ধার নাম ভুয়ে সভা-সমাবেশ নয়: মুক্তিযোদ্ধা দল

    মুক্তিযোদ্ধার নাম ভুয়ে সভা-সমাবেশ নয়: মুক্তিযোদ্ধা দল

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় কমিটির নামে সভা-সমাবেশ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নিয়ে সতর্ক করেছে বিএনপি সমর্থক সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা দল। বুধবার সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের পূর্ববর্তী কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, এই কমিটির কোনও সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখন থেকে এই সংগঠনের কার্যক্রমে কোনো বৈধতা রাখেন না।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বা তাদের অনুসারীরা এখনও এই সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে সভা-সমাবেশ করছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে সংগঠনের শৃঙ্খলা বিরোধী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

    এ কারণেই, সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে, কোনও সদস্য বা তার অনুসারীরা যদি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সভা বা বিবৃতি দেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সংগঠনটি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে, বিভ্রান্ত না হয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তগুলো সম্মান করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। তিনি উল্লেখ করেছেন, অতি দ্রুত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে, যা সংগঠনের কার্যক্রম সুন্দরভাবে চলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

    সর্বোচ্চ আদালত আবারও রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নিয়ে আপিল শুনবেন

    দেশের সব থেকে উচ্চ আদালত আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পদমর্যাদার মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে করা আপিলের বিচার আবারও শুনানি হবে। একই সঙ্গে অ্যাপিলের নম্বর এবং তার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হলো ৪ নভেম্বর। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ নির্দেশনা দেয়।

    ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার করে দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম নির্ধারণ করে। ওই রায় প্রকাশ পায় ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর। এই রায়ে বলা হয়, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন, তাই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমে শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বকে বিবেচনায় নিয়ে তাদের উচ্চতা নির্ধারণ করা উচিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সরকারি সচিব, জেলা জজ ও সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান।

    রায় অনুযায়ী, জেলা জজ ও সমমর্যাদার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের ১৬ নম্বর থেকে ২৪ নম্বরের মধ্যে থাকবেন এবং তারা সরকারের সচিবদের সমমর্যাদায় উন্নীত হবেন। জুডিশিয়াল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদ হলো জেলা জজ। সরকারের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সচিবরা রয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা জজ ও অন্যান্য বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থান হবে জেলা জজদের ঠিক পরেই, অর্থাৎ ১৭ নম্বর পদের কাছাকাছি।

    আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম কেবল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের সময়ই ব্যবহার করা উচিত। এটি নীতিনির্ধারণ বা অন্য কোনও কার্যক্রমে প্রয়োগ করা যাবে না।

    প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি হয়, যা পরে ২০০০ সালে সংশোধন করা হয়। মূলত, এই ওয়ারেন্টের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট তখন এই ওয়ারেন্ট বাতিলের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন এবং কিছু নির্দেশনা দেন যাতে এই নথির ব্যবহার সীমিত হয়।

  • সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা

    সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা

    দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচির ব্যাপক ঘোষণা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম, প্রকৌশল অধিকার আন্দোলন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বুয়েটসহ দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার থেকে এই শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হবে। তবে আজ বৃহস্পতিবার বুয়েটে তাদের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় কিছুটা স্তব্ধ থাকে কর্মসূচির উদ্যোগ। বুয়েটের এক সরাসরি সংযুক্তiz শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, দুপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবরোধ করেনি বা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একত্রিত হয়নি।

    প্রকৌশলের শিক্ষার্থীদের প্রধান তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে— ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে ‘প্রকৌশলী’ শব্দটি ব্যবহার করতে না দেওয়া, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে পদোন্নতি না দেওয়া এবং স্নাতক প্রকৌশলীর জন্য দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা।

    অপরদিকে, গতকাল বুধবার বিকেলে শাহবাগের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে আরও পাঁচ দফা দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই দাবিগুলোর মধ্যে প্রধানগুলো হল—

    ১) প্রকৌশল আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে ক্ষমা চাইতে ও তার জবাবদিহি করতে হবে।

    ২) প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে গঠিত কমিটিকে অযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে দ্রুত নতুন এক কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে শিক্ষক এবং মূল stakeholders অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই কমিটির মাধ্যমে তিন দফা দাবিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের এই নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

    ৩) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ডিসি মাসুদকে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে।

    ৪) হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় সরকারকে বহন করতে হবে এবং আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দ্বারা কোনো ধরনের additional হামলা সহ্য করা হবে না।

    ৫) রোকন ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

    শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন যে, দাবি না মানা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দাবি মানা না হলে সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

    ২০০ কোটি টাকার চেক দেওয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান

    জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। অভিযোগে জানা গেছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পদে পদোন্নতিপ্রাপ্তির প্রলোভনে তিনি একটি সমন্বয়ক গ্রুপের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকার চেক এবং ১০ লাখ টাকা নগদ অর্থ গ্রহণ করেছেন। এই দুর্নীতির অভিযোগের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করার চেষ্টা করেছেন বলে সন্দেহ করছে দুদক।

    দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বিশেষ একটি দলের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তারা ডা. মোস্তফার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে তার অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, অঘোষিত সম্পদ এবং অসাধু প্রক্রিয়ায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

    অভিযোগে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডা. মোস্তফা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য চেষ্টার অংশ হিসেবে চেক এবং নগদ অর্থ সমন্বয়ক গ্রুপের কাছে দেন। এই লেনদেনের সময় একজন মধ্যস্থতাকারী আছেন, যার নাম আরিফুল ইসলাম। তিনি নিজের পরিচয় দেন সমন্বয়ক আরেফিনের ভাই হিসেবে এবং ডা. মোস্তফার চেম্বার থেকে সরাসরি ওই চেক গুলো গ্রহণ করেন। যদিও আরেফিন নিজে উপস্থিত ছিলেন না, তবে তিনি ফোনে যোগাযোগ করেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এই চেকগুলোতে তার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো আসলে সিকিউরিটি চেক ছিল এবং চেক গ্রহণের সময় অফিসে প্রবেশকারী কিছু ব্যক্তি সম্ভবত অস্ত্র ধারণ করে ছিল, যা তাকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করে। তিনি আরও বলেন, এই সব ঘটনা অবৈধ এবং তার কাছ থেকে স্বেচ্ছায় এই চেকগুলো নেওয়া হয়নি।

  • নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ: সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতება

    নির্বাচন কমিশনের নতুন উদ্যোগ: সীমানা নির্ধারণ, দল নিবন্ধন ও ভোটাধিকার নিশ্চিতება

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্য নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, রোডম্যাপটি অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম ও ভোটগ্রহণের জন্য অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা সময়মতো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরের পর নির্বাচন কমিশন এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে পারে।

    সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক সংসদীয় এলাকার সঠিক ভৌগোলিক সীমান্ত গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এই গেজেটে দেশের ৩০০টি সংসদীয় এলাকার সীমানা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি জিআইএস (ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা) ম্যাপও প্রকাশ করা হবে, যা ডিজিটাল ফরম্যাটে সেসব এলাকার সীমানা নির্ধারণে বলবৎ থাকবে। এর মাধ্যমে ভোঁগোলিক নির্দিষ্টতা, স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়াও পুরোপুরি চলমান। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিলে, তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো, কারাবন্দি ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। নির্বাচন কমিশন এই ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ব্যক্তিদের কাছে বিলট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা ভোট দিতে পারেন। এই পদক্ষেপটি নাগরিকের ভোটাধিকার সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

    নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এই সংস্থাগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সচেতনভাবে উপস্থিত থেকে নির্বাচনকে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ রাখার কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    তাছাড়া, নির্বাচন বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরদের সাথে সভা আলোচনা অব্যাহত আছে। এই কার্যক্রম আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

    নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থেকেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা চলে ভোটের কয়েকদিন আগে পর্যন্ত। পাশাপাশি, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যালট বাক্সও চূড়ান্ত করা হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাজেট চূড়ান্ত করার কাজ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত হয়। ভোটের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার জন্য নানা দিক বিবেচনা করে প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ধাপ সময়মতো এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আওতাভুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক হবে। তারা বিশ্বাস করেন, এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করে তুলতে পারবেন।

  • দেশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমতে পারে

    দেশে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি কমতে পারে

    বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতেও পারে বলে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।