Author: bangladiganta

  • গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    গোলাম পরওয়ারের দাবি: শেরপুর ও বগুড়ায় নজীরবিহীন ভোট ডাকাতি

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনে নজীরবিহীনভাবে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের লোকজন প্রহারে লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি এমনভাবে আচরণ করেছে যে আওয়ামী লিগকেও হার মানিয়ে দিয়েছে।

    এসব অভিযোগ জানান তিনি শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। শেরপুর-৩ আসন ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত এই বিক্ষোভে ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।

    গণভোট সংক্রান্ত দ্বিচারিতার কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন সামনে থাকলে বিএনপি ঘোষণা করেছিল যে গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা সর্বস্ব মেনে চলবে; কিন্তু পরে ক্ষমতায় থাকার জন্য গণভোটের আদেশই বাতিল করা হচ্ছে—এইভাবে দলের আচরণ জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের ত্যাগের অবমাননা বলে তিনি আখ্যা দেন।

    নির্বাচনে ‘মাগুরা মার্কা’ পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তোলেন তিনি। বলেন, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং জামায়াতের প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ছবি ও ভিডিও মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পরও সিইসি ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে’ দাবি করে দেশের জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছেন।

    বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ও জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না; ক্ষমতায় থাকতে চাইলে বিএনপিকেই চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করতে হবে।

    সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমীর ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ড. আব্দুল মান্নান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হাসান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন এবং সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন প্রমুখ।

    বক্তাগণ বগুড়া ও শেরপুর উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও তদন্তের দাবি করেন। সমাবেশের আগে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায় শেষ হয়। মিছিলে অংশীরা উভয় কেন্দ্রেই অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের দাবি-অধিকারের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্য করেন শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ বলেন, এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকেরা গণআন্দোলনে রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদের সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য গণ-অভ্যুত্থানে জয় করেছে শ্রমজীবী মানুষরা। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানেও যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন, তিনি উল্লেখ করেন।

    অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘‘তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের নীতির বিরুদ্ধে বেঈমানি করেছে; গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে। এই সরকার গণবিরোধী সরকার—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল তা আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও বিএনপি ভঙ্গ করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি না মানলে এর ক্ষতিকর পরিণতি হবে, তিনি সতর্ক করেন এবং বলেন, ‘‘আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকারসহ দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ বলেন, বর্তমানে তারা একটি নতুন জাতীয় ঐক্যে কাজ করছে। ওই ঐক্যের উদ্দেশ্যটাও স্পষ্ট—জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি দেওয়া যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা পূরণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করা। এই লড়াইয়ে ঐক্য থাকা জরুরি, তিনি বলেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতায় আনতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ। ‘‘আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন—বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের আন্দোলনের বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে,’’ তিনি বলেন।

    রাজপথে নামার প্রস্তুতির কথাও বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়; আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব, যাতে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে; সিএসআর খাতে ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক অবনতি সরাসরি পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে। রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নানা চাপের ফলেই গত বারো মাসে সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামেছে এবং ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা — যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এটি গত এক দশকে সিএসআর খাতে নথিভুক্ত সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ওই বছরের তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭%) কমেছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    ট্রেন্ড আরও স্পষ্ট: ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩%) কম। ২০২২ সালের ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত দুই বছরে সিএসআর ব্যয় ৫১৩ কোটি টাকার বেশি কমেছে — প্রায় ৪৫% ক্ষেত্রে হ্রাস।

    ব্যাংকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতকে কড়া আঘাত হেনেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় অনেক ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান প্রকাশ পায় এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

    ব্যাংকাররা আরও জানাচ্ছেন, রাজনৈতিক প্রভাবও সিএসআর ব্যয়ের কমতে থাকা একটি বড় কারণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলো অনুগতভাবে ব্যয় করে; অনেক ক্ষেত্রেই এসব ব্যয় সিএসআরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্যখাতেও হয়েছে। ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটা ফুরিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে সংযতভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে — তার মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বাকী ২০% অন্যান্য খাতে। কিন্তু বাস্তবে নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬% ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় মাত্র ২৮.৫৩%, এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে কেবল ১০% হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। সে সব ব্যাংকের নাম — জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একইসঙ্গে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছেন: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যেই ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থও ব্যয় করেছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতের উদ্দেশ্য রক্ষা করতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক চাপ ও অনিয়মের কারণে অনেকসময়ই এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা মনে করান, ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, কড়াকড়ি নজরদারি ও সঠিক নীতিমালা অনবশ্যক।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি থাকায় দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়ের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময় এই ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    রপ্তানি কমা ও আমদানির বাড়তি চাপই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বহু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় আমদানির খরচ বেড়েছে। এছাড়া বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানিও হাঁকেছে। একদিকে আমদানির চাপ বাড়লেও রপ্তানি আয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেলে বাণিজ্য ঘাটতি তীব্র হয়।

    ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশে পণ্যের আমদানি হয়েছে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ডলার (৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। একই সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার প্রধান কারণ দেখা গেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। তিনি না হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বাড়বে এবং অর্থনীতিকে জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।

    চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সম্পর্কে রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশ এখন সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    অন্য সূচকে সামগ্রিক লেনদেন বা ওভারঅল ব্যালান্স ভালো অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের অবস্থান বেড়ে ৩৪৩ কোটি ডলার হয়েছে; যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ঋণাত্মক করে ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগের দিকে গেলে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই–ফেব্রুয়ারি সময়ে এটি ছিল ১০৬ কোটি ডলার, আর চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। তবে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নেগেটিভ অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নিটভাবে বিদেশি বিনিয়োগে ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরের অনুরূপ অবস্থার সঙ্গে মিলে যায়।

    সংক্ষেপে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও দেশজ আমদানির বাড়তি চাহিদা মিলিত হয়ে চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকে ফলপ্রসূ নীতি নেওয়া জরুরি।

  • ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    ইরানি জব্দ তহবিল ছাড়ের দাবি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি খণ্ডন করেছে

    যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে বিদেশি ব্যাংকে আটকা পড়া বা জব্দ হওয়া ইরানি কোনো তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে এক উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জব্দকৃত কোনো অর্থ মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    এর আগে রয়টার্সে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার এমন একটি পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে তেহরানের জব্দ করা অর্থ কিছু অংশ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সূত্র নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানাননি। অন্য এক ইরানি সূত্র আরও জানিয়েছিল কাতারে রাখা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার জব্দ তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে — তখন যুক্তরাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক टिप्पणी পাওয়া যায়নি।

    বর্তমানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হাই-র্যাংকিং এক আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিল ছাড়ের খবরটি সঠিক নয় এবং ওয়াশিংটন এটি অস্বীকার করেছে।

    ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আগেই বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর পূর্বশর্ত হিসাবে ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল প্রথমেই মুক্তি দিতে হবে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছৃ যে এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে—বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত মহল—গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হতে পারে।

    অপরদিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারি সূত্র এবং ইরানি প্রতিনিধিদল দু’পক্ষই বিবিসিকে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সরকারিভাবে এক ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শাহবাজকে একজন মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে।

    তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে কেন্দ্র করে সমন্বয় তৎপরতা তবুও নিশ্চিত করে না যে এটা শেষ পর্যন্ত দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মধ্যে সরাসরি ও ঐতিহাসিক কোনো আলোচনা বা চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো আলাপচারিতায় পৌঁছানোর সম্ভাব্যতা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজমান।

  • আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    আর্টেমিস-২: সফল চাঁদযাত্রার পরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরেছেন। দশ দিনব্যাপী পরিকল্পিত অভিযান শেষে তারা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৫টায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে সাগরে অবতরণ করেন।

    অবতরণকালে নাসার ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে সাগরে নিরাপদে নেমে আসে। কিছু সময় পর উদ্ধারকারী দল তাদের সহায়তায় ক্যাপসুল থেকে বের করে আনে, এবং সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন বলে নাসা জানায়।

    আর্টেমিস-২ মিশনটি ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে রওনা করেছিল। মিশনে অংশ নিয়েছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। প্রথম তিন জন মার্কিন নাগরিক, আর জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসার তথ্যে অনুযায়ী মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর চারপাশ প্রদক্ষিণের সময় মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের চূড়ান্ত ফ্লাইবাই-এর জন্য মোট ২,৫২,৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায়—কোনো মহাধারাকে খুব কাছ থেকে ছাড়িয়ে যাওয়া হলেও মহাকর্ষীয় টানে সেই বসুকে করে কক্ষপথে আটকে না পড়া।

    পৃথিবীতে ফিরে আসা মুহূর্তটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে কেবল ১৩ মিনিটের মধ্যেই ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে অবতরণ সম্পন্ন হয়। বায়ুর ঘর্ষণের কারণে ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল; ফলে ক্যাপসুলটি আকাশে একটি জ্বলন্ত বুদবুদ হিসেবে দেখা যায় এবং তীব্র তাপের কারণে রেডিও যোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুল ঠান্ডা হলে পর্যন্ত সাময়িকভাবে অপেক্ষা করতে হয়। তবে ওই তাপ কেবলে বাইরের অংশেই সীমাবদ্ধ ছিল—ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীরা নিরাপদে ছিলেন এবং তাদের সকলেই সুস্থ বলে নাসা নিশ্চিত করেছে। নাসার ইউটিউব লাইভে তাদের অবতরণের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছেন।

    নভোচারীদের উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। নাসার কর্মকর্তারা জানান, নভোচারীরা শুক্রবার রাতটা নৌবাহিনীর জাহাজে কাটিয়েছেন এবং শনিবার টেক্সাসের হিউস্টনে সদর দফতরের সঙ্গে মিলন করবেন।

    প্রসঙ্গত, নাসার চাঁদ অভিযানগুলোর ইতিহাস অনেক পুরনো — ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া অ্যাপোলো কর্মসূচির আওতায় ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ মিশনে প্রথমবার মানুষ চাঁদে পৌঁছায়। অ্যাপোলো সিরিজের ক্রমশ পরিচালনা চালিয়ে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ কক্ষপথ অভিযান পর্যন্ত মানবসৃষ্ট চাঁদ অভিযানের ধারা বজায় ছিল। কয়েক দশক পর নাসা আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি করার লক্ষ্য রেখেছেন। আর্টেমিস-২ ছিল সেই বৃহত্তর লক্ষ্যের প্রস্তুতিমূলক একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন।

    একাধিক কারণে আর্টেমিস-২কে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে; নাসা জানিয়েছে, এই মিশনটি অ্যাপোলো-১৩ দ্বারা কৃত পূর্বের দূরত্বের রেকর্ড ভেঙেছে। অভিযানের শেষভাগে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান একটি রেডিওবার্তায় বলেছিলেন, “আমরা ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদটার দুর্দান্ত একটি দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স

  • বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাট মাজার দিঘি থেকে কুমির কুকুর ধরল, তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাটে গত বুধবার বিকেলে এক কুকুরকে শিকার করেছে মাজারস্থ কুমির। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ছড়ায় ও অভিযোগ ওঠে যে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

    ওই ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় দেখা যায়, কুকুরটি প্রথমে ঘাটে একা এসে পড়ে এবং পানির মধ্যে নামার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যে কাছাকাছি এসে কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা সেটি মাটি চাপা দিয়ে দাফন করে। কিছু লোক দাবি করেন কুকুরটি অসুস্থ্য হওয়ায় তারা সেটি মাটিচাপা দিয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী এবং মাজারের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান হাওলাদার জানান, ওইদিন ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় ছিল। হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিকে থেকে এক আক্রমণকারী কুকুর দৌড়ে এসে তার পায়ে কামড় দেয়। নিরাপত্তা প্রহরী কুকুরটিকে ঠেকাতে চাইলে কুকুরটি দিঘির দিকে নামতে উঠে; সে সময় কুমিরটি এসে কুকুরটিকে ধরে পানির ভেতরে নিয়ে যায়। ফোরকান বলেন কুকুরটি আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিল এবং অনেককে কামড়িয়েছে।

    মাজারের খাদেমরা ও স্থানীয়রা অভিযোগসমূহ খণ্ডন করে বলেছেন, ঘটনাটিকে অসত্যভাবে উপস্থাপন করে ভিডিও ও ম্যানিপুলেটেড তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলছেন, কাউকে কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ছুঁড়ে দেওয়ার মতো সাহস ছিল না। স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কয়েকদিন আগে ওই কুমির ডিম পেড়েছিল; ডিম পাড়ার পর কুমিরটি একটু হিংস্রভাবে আচরণ করতে পারে।

    ঘটনার পর জেলা প্রশাসন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হচ্ছেন সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

    আজ বিকালে কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে; কুকুরটির মাথা সিডিআইএল (সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি) এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএল এর রিপোর্ট পেলে কুকুরটি অসুস্থ্য ছিল কিনা বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কিনা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম ঘটনাটি হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করে বলেছেন, যদি কেউ ভিউ বা বিনোদনের জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ফেলে থাকে, তাহলে কঠোর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর কোনো প্রথা নেই এবং এরকম দাবি ভিত্তিহীন। তিনি খাদেমদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কুমিরকে কোনো জীবিত প্রাণী খাওয়ানো না হয় এবং এ ধরনের কুসংস্কার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো হয়। এছাড়া প্রাণিটির শরীরে কুমিরের আঘাত ছাড়া অন্য কোনো আঘাত আছে কিনা তাও আমরা যাচাই করছি; তদন্ত কমিটি পেলে দ্রুত প্রতিবেদন দেবে এবং তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তথ্য মতে, খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন ওই দিঘিতে দীর্ঘদিন ধরেই কুমির রাখা হলেও বর্তমানে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে কেবল একটি কুমিরই এখন দিঘীতে আছে। ওই কুমির আগেও মাঝে-মধ্যেই মানুষের ওপর আক্রমণ করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

    ওই দিন ঘটা কুকুর শিকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ল্যাব রিপোর্টের ওপর সবাই অপেক্ষা করছে।

  • সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: কেসিসি প্রশাসক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। যেখানে মনের মতো পরিষেবা ও সুযোগ থাকবে—সেই খুলনাই গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরীর গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। সকলের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্ত করতে হবে—আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরির মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতে আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করব।’’ তিনি মন্দিরের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সম্ভব সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন।

    মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    এদিন সকালে প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল হতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সামাজিক কাজে নিবেদিত লোকজন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—যাদের মধ্যে সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন ও বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস আছেন—তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

  • নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছেন বিসিবির নির্বাচক প্যানেল। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঘোষণা করা স্কোয়াডে কোনো চমক নেই—পাকিস্তানের বিপক্ষে যে দলে খেলেছে তারা সকলেই কিউই সিরিজের দলে রয়েছেন।

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে এবং তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি নিয়ে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে, পরের ওয়ানডে হবে চট্টগ্রামে। পাকিস্তান সিরিজে ভালো করতে না পারলেও আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানকে রাখা হয়েছে; তাছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসও দলে সুযোগ পেয়েছেন।

    ম্যাচের সূচি অনুযায়ী ওয়ানডে তিনটি ম্যাচ হবে ১৭ ও ২০ (মিরপুর) এবং ২৩ (চট্টগ্রাম) এপ্রিল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং ফাইনাল ম্যাচ মিরপুরে ২ মে হবে।

    শুরুর সময়েও পরিবর্তন এসেছে—প্রাথমিকভাবে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকা ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কারণে সকাল ১১টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইভাবে ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৬টার বদলে বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হবে।

    প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ স্কোয়াড:

    মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

  • ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে কাতার টিকিট কেটেছে সেলেসাওরা; ম্যাচ শেষে ফুটবলংঘাটনী ও লাল কার্ড

    ব্রাজিলকে ৩-০ হারিয়ে কাতার টিকিট কেটেছে সেলেসাওরা; ম্যাচ শেষে ফুটবলংঘাটনী ও লাল কার্ড

    চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ম্যাচে বড় জয় পেল সেলেসাওরা। লাতিন আমেরিকার অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের শনিবারের লড়াইয়ে ব্রাজিল আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। এই ফলের ফলে ব্রাজিল আগামী নভেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে।

    ব্রাজিলের হয়ে রিকেলমে হেনরিক দুইটি গোল করেছেন এবং এদুয়ার্দো কন্সেকাও একটি গোল যোগ করায় লড়াইটা একতরফা হয়ে যায়। চলমান টুর্নামেন্টে ব্রাজিল এখনো অপরাজিত থেকে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে।

    হারার পরও আর্জেন্টিনা গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। তাদের পেছনে ভেনেজুয়েলা ও বলিভিয়া ৪ পয়েন্ট করে এবং পেরু শূন্য পয়েন্টে রয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা যদি বলিভিয়াকে পরাস্ত করতে পারে, তবে তারা চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে এবং বিশ্বকাপের বাকি টিকিটগুলোর জন্য চাইতে পারবেন না—অর্থাৎ সরাসরি বিশ্বকাপেও খেলবে। ওই নির্ধারিত ম্যাচটি হবে রোববার রাত ২টায়।

    ম্যাচের শেষপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে ফুটবলারেরা হাতাহাতি পর্যন্ত গিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার তোবিয়াস গয়তিয়া লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যার ফলে তিনি আগামীকাল বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। এই ঘটনার কারণে দলের জন্য চাপ আরও বেড়েছে।

    গ্রুপপর্বের বাকি ম্যাচগুলোও রোববার অনুষ্ঠিত হবে—আলবিলেস্তে ও বলিভিয়ার ম্যাচের পাশাপাশি ব্রাজিল ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে মাঠে নামবে। প্যারাগুয়েতে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট থেকে মোট সাতটি দল কাতারে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে এবং সেখান থেকেই বিশ্বকাপের সোজা টিকিট নিশ্চিত হবে; বাকি তিনটি স্থান প্লে-অফে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিগ্রহীত দলগুলোর মধ্যে নির্ধারিত হবে।

    ব্রাজিলের দিক থেকে এই জয় তাদের গ্রুপ জয় ও বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পথে বড় পদক্ষেপ। আর্জেন্টিনার জন্য এখনও একটি সুযোগ রয়ে গেছে—বলিভিয়ার বিপক্ষে বড় পারফরম্যান্সে তারা স্বপ্নরক্ষা করতে পারবে কি না, সেটাই এখন সকলের নজরকাড়া প্রশ্ন।