Author: bangladiganta

  • নড়াইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে খুলল আওয়ামী লীগ অফিস

    নড়াইলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে খুলল আওয়ামী লীগ অফিস

    দীর্ঘ ১৮ মাস পর নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় আবারও আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। এই উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে আনুষ্ঠানিকভাবে এর সূচনা করেন নেতা-কর্মীরা। مراسمে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন, যা উপমহাদেশের মানুষের মুখে মুখে ফিরে আসে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল বেলায় উপজেলার ৪ নম্বর নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের মানিকগঞ্জ বাজারে এই শুভ সূচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নড়াইল জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি কাজী আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে তারা অফিসটি উদ্বোধন করেন। এরপর অফিসের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন: ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘কে বলে রে মুজিব নাই, মুজিব সারা বাংলায়’, ‘আজকের এই দিনে, মুজিব তোমায় মনে পড়ে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘শেখ হাসিনা সরকার, বারবার দরকার’ ইত্যাদি।

    নড়াইল জেলা সেচ্ছাসেবক লীগে সহ-সভাপতি কাজী আব্দুল আলিম ফেসবুক পোস্টে বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস পর নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এই আঞ্চলিক কার্যালয়টি আবার চালু ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে এর উদ্বোধন করলাম।

    অপরদিকে, লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানান, ঘটনার খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

  • সুন্দরবনের ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

    সুন্দরবনের ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার

    সুন্দরবনের এক দুষ্চর্ষ ডাকাত সমিতির সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের অভিযানে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল- হকের তরফ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। আহতভাবে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের শ্যালা নদী সংলগ্ন মূর্তির খাল এলাকায় বিশেষ একটি অভিযান চালানো হয়, যেখানে তাকে আটক করা হয়।

    কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা শ্যালা নদী ও তৈয়বের খাল এলাকার বিশেষ একটি জায়গায় অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শুক্রবার সন্ধ্যায় কোস্ট গার্ড মোংলা বেইস এবং নলিয়ান এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে সেখানে থেকে চারটি একনলা বন্দুক, একজন ওয়ান শুটার গান, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১০ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। এর পাশাপাশি দুর্ধর্ষ ডাকাত করিম শরীফ বাহিনী’র এক সক্রিয় সদস্যকেও আটক করা হয়।

    আটককৃত ব্যক্তি বাদশা শেখ (২৫), রামপাল থানার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বাদশা দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ডাকাতি, অস্ত্র সরবরাহ এবং রসদ সরবরাহে সহায়তা করে আসছিলেন। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়া চলমান।

    একই সময়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের কয়েকটি দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র আবারও সুন্দরবনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। তবে, কোস্ট গার্ড ইতোমধ্যে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর পাঁচটি আস্তানা ধ্বংস করেছে এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে নিয়োজিত রয়েছে। কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের দস্যুমুক্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান শুরু করবে সরকার

    সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সমন্বিত অভিযান শুরু করবে সরকার

    পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবন আমাদের দেশের এক অতুলনীয় সম্পদ। এই বনকে রক্ষায় কোনো ধরনের জলদস্যুতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে খুব শিগগিরই একটি সমন্বিত অভিযান শুরু করা হবে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার খান জাহান আলীর মাজারে জিয়ারত শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে বনজ সম্পদ, মাছ শিকারিকে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন এবং পরিবেশ রক্ষায় আমরা পূর্ণ ধৈর্য্য ও একাগ্রতার সাথে কাজ করতে প্রতিজ্ঞবদ্ধ। সুন্দরবনের বিষমুক্তি ও সার্বিক রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও চেয়ারম্যান গোলাম মোঃ বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালামসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

  • খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

    খুলনায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

    শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়। এ দিনটির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বিশ্ববিদ্যালয়টি সূর্যোদয়ের আগে প্রশাসনিক ভবন থেকে প্রভাতফেরী বের করে শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়, যেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময়েউপ-উপাচার্য ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নুরুন্নবী, ডিনবৃন্দ, ডিসিপ্লিন প্রধান ও ছাত্র বিষয়ক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সকালেও প্রশাসনিক ভবনের সামনে পতাকা অর্ধনমিত করা হয়, যেখানে উপাচার্য জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ও উপ-উপাচার্য কালো পতাকা তুলে ধরেন।

    দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভার মাধ্যমে পালন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ড. মোঃ নুরুন্নবী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সরকারি ব্রজলাল কলেজের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোঃ আব্দুল মান্নান, যিনি মূল বক্তা হিসেবে ভাষা আন্দোলনের মাহাত্ম্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

    প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য একটি অনন্য দিন, যা আমাদের শিক্ষিত ও সাহসী করে তোলে। এই দিনটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও গর্বের শিক্ষা দেয়। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা ভাষার জন্য মানুষ এগিয়ে আসায় আমাদের গর্ব হয়, প্রবাসে বাংলা ভাষার প্রসার দেখে গ্লানি বা লজ্জা নেই।

    তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের উপরেও আলোকপাত করেন, উল্লেখ করেন ২৪ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু এবং সেই নেতৃত্বে যাতে বৈষম্যহীন, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হয়, এই প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। প্রজন্মের মধ্যে এই আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রগামী হওয়ারও আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথি ট্রেজারার বলেন, ভাষা কেবল শব্দ নয়, এটি অনুভূতি, স্বকীয়তা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। ভাষা আন্দোলন ছিল আত্মপরিচয় রক্ষার সংগ্রাম, যা আজকের দিনেও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলা ভাষার স্বকীয়তা রক্ষার জন্য এ সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ’২৪-এর আন্দোলন—এগুলো বাংলা ভাষার শক্তির উৎস। সবাই যেন ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে অংশ নেয়, সেটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

    মুখ্য আলোচক বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি আবেগে ভরা দুঃখ ও গৌরবের। এই দিন রক্তের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, যা আমাদের নৈতিক ও সত্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভাষা শহিদরা শোষণ-উৎপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছে। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা আমাদেরকে বিভেদের বিরুদ্ধে লড়াই ও সাহস দেখাতে শিখিয়েছে। একুশের সংগ্রামগুলো—অর্থাৎ ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪ এর আন্দোলন—একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, শোষণমুক্ত সমাজ গঠন। ভাষা আন্দোলনের চেতনা আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, এবং শহিদদের কাছে উৎসর্গকৃত এই সংগ্রাম আমাদের উৎসাহ দেয় প্রতিদিন নতুনভাবে।’

    সভায় বক্তারা ’৫২ এর ভাষা শহিদ, মুক্তিযুদ্ধের শহিদ ও ভাষা আন্দোলনের শহিদ—বিশেষ করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ছাত্রাদ্দৃত মীর মাহফুজুর রহমান, আবু সাঈদসহ সকল শহিদের প্রতি দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করেন।

    উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মোঃ আজমল হুদা। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত, আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের মোঃ রেজোয়ানুল হক রাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালক কানিজ ফাতেমা।

    এছাড়াও, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, প্রভোস্ট, পরিচালক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, দিবসটি উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও প্রশাসন ভবনের সংলগ্ন মসজিদে ভাষা শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রার্থনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

  • বাগেরহাটে সংসদ সদস্যরা ঝাড়ু হাতে পরিষ্কার করেছেন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো

    বাগেরহাটে সংসদ সদস্যরা ঝাড়ু হাতে পরিষ্কার করেছেন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো

    বাগেরহাটে ঝাড়ু হাতে সাঁজানো ছিলেন সংসদ সদস্যরা, যারা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো করোনার পাশাপাশি শহর ও আশেপাশের এলাকা পরিস্কার করেছেন। রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে বাগেরহাট কোর্ট মসজিদ চত্বরে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাগেরহাট-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। তিনি নিজেও ঝাড়ু হাতে নিয়ে ময়লা পরিষ্কার করেন এবং এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা, যারা কোর্ট মসজিদ চত্বর ও আশেপাশের এলাকার cleanliness নিশ্চিত করেন।

    পরবর্তী সময়ে তারা বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চত্বরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম সমাদ্দার, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোস্তাইন বিল্লাহ, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা শামীম আহসান, জামায়াত নেতা অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী, একরামুল হক এবং হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সংসদ সদস্যসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

    সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, রমজান মাসের আগেই বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাসব্যাপী এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চালানো হবে। হাসপাতাল, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং বাজারসহ সকল স্থানে এই সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। তিনি সবাইকে এগিয়ে এসে শহরকে স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর রাখার জন্য আহ্বান জানান।

    অন্যদিকে, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম মোরেলগঞ্জ পৌরসভা, প্রধান বাজার ও বিভিন্ন স্থানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজ করেন। উপস্থিত ছিলেন পৌর আমির মাষ্টার রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান, শ্রমিক ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    আলিম বলেন, শহর আমাদের, এখানে আমরা থাকি। দীর্ঘদিন ধরে শহরটি ময়লা আবর্জনায় ভরে থাকে, কিন্তু কেউ তা পরিষ্কার করতে এগিয়ে আসে না। আজ আমি এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এই প্রচেষ্টা যেন সবাইকে অনুপ্রেরণা দেয়, সেটাই লক্ষ্য।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতেই দেয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতেই দেয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক মূলধারাকে ফিরিয়ে আনাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিসের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা খুবই সমস্যাাপন্ন। তাই প্রথমে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কিভাবে করা যায়, সেটা নির্ধারণ করা। এরপর পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা চালু ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। যদি এসব উপাদান না থাকে, তাহলে আমাদের বড় বড় পরিকল্পনাও ফলপ্রসূ হবে না।

    তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য একটি সমান ভিত্তিতে অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। সব স্টেকহোল্ডার যেন সুযোগ পায় অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার, সেই সঙ্গে এই অর্থনৈতিক সুফল যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্যে সফল হতে হলে সরকারী নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণশীল হয়ে গেছে, যা বাস্তবতায় সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন, অভার রেগুলেটেড পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সকল নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে লিবারলাইজেশন বা মুক্তবাজারনীতিকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে সবই সমানভাবে সমতা বজায় থাকে।

    তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো হবে এবং পাশাপাশি সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে অর্থনৈতিক সম্পদ ও সুফল প্রত্যেকের কাছে পৌঁছবে।

    আলোচনায় তিনি জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নীত হওয়ার সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতিমধ্যে সরকার এ জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিনের অফিস কার্যক্রম শুরু করার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যা যা করণীয়, দ্রুত ও প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর অব্যাহতভাবে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ও মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। প্রথম সপ্তাহে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এখন থেকেই বিষয়টির ওপর কাজ শুরু করা হয়েছে।

    রপ্তানি ক্ষুদ্রতার বিষয়টি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি একক একটি পণ্য বা পণ্য শ্রেণির ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধানে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য সরকারের সহায়তা বাড়ানোও তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের জন্য পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জের, কারণ আমাদের সীমিত সুযোগ। দেশের মার্জিন অব এরোর খুব কম থাকায় ভুলের সুযোগ নেই। গত কয়েক মাসে দেখা গেছে মন্থর অর্থনৈতিক গতি; তাই সরকার এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান ও তার পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথাযথ মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্যও আছে। ফলে বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয় যখন আসরে আসে, তখন তিনি জানান, তিনি শুধু কথায় নয়, কাজে ফল দেখাতে চান। বলেন, আমি অতিরিক্ত কথা সৃষ্টি করতে চাই না, ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।

    রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে না, ফলে চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশিদিন থাকে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগ কমে আসে। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আশা করা যায় না। ব্যাকরণে বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করে, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে যথাযথ রিটার্ন পাওয়া যাবে।

    তিনি বলেন, দেশের বড় একটি তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, যেহেতু প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই-তিন বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা এই দিক থেকে দেশের জন্য বড় শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত না থামলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে রমজান মাসের শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রমজানকে সফল ভাবে সামাল দেওয়া এখন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারকে সফল হতে হবে, এবং এ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।

    অবশেষে, তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব। ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে সহযোগিতা করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সকলের আন্তরিকতা ও একমাত্র প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়ন আসবে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে অধিক অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ reaching 2 বিলিয়ন ডলার বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকে, তাহলে মাসের শেষের দিকে এর পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে অর্থনীতিবিদরা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানের সময় পরিবারের খরচ বাড়ানোর জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর এই ধারাটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম মাস হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। এর আগে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত মার্চে, যখন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩২৯ কোটি ডলার প্রেরণ করা হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট রেমিট্যান্সের প্রবাহের দিক থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, Augustে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    ১৮ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত, এই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২% বেশি। তৎসহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসীদের আয়ে গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়ায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

  • বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে প্রতি ভরি সোনার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সোনার মান সম্পন্ন ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে গতকাল একই সময়ে এর মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বাড়ানোর তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দাম সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের পরিমাণ অনুসারে, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের দামের মধ্যে রয়েছে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    অতিরিক্ত, সোনার পাশাপাশি রুপার দামো বাড়ানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    এর আগে, ৩০ জানুয়ারি বিশ্বের বাজারে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি এটি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের বাজারেও চরম মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একেবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করলে, এক মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম। একই সময়ে সোনার দাম এতটা বৃদ্ধির নজির আর কখনো দেখায়নি।

  • খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য এত বেশি বাড়ায়, উৎপাদন খরচ অনেকখানি বেড়ে গেছে, যার ফলে বেশ কিছু পাটমিল তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, অধিকাংশ কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতিও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার মুখে ঠেলে দিতে পারে তাদের।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলে প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে কেবল সময় কাটাচ্ছেন। দেশের অন্যত্রও অন্তত একটি ডজনের বেশি মিলের বেশির ভাগই এখন কার্যকলাপে স্থবির। কিছু মিল কিছুটা চালু থাকলেও আকারে কম। শ্রমিকদের আশা, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রায় দেড় মাস ধরে মিল বন্ধ, কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিক মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা থাকে, তবে হয়তো আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে দিতে পারেন। তো, আমরা কীভাবে আমাদের পরিবার চালাবো?’’ অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা কাজ করলে মালিক ২ টাকা আয় করেন, আর আমাদের দিতে হন ১ টাকা। শেষ তিন বছরে এই মিল ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বসে আছি। মালিক নিজে না বাঁচলে আমাদের বাঁচাবে কী করে?’’ তারা দাবি করেন, এই সংকটের জন্য সরকারই কঠিন পদক্ষেপ নেবেন।

    মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা মণ, এখন তা গিয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়লেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়নি সে অনুযায়ী। এর জন্য উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে উদ্যোক্তারা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলছেন, ‘‘বর্ধিত দামে পাট কেনার কারণে এখন উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা কিনলে আমরা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়। তবে সর্বশেষ ৪০০০ টাকা দরেও পাট কিনে মিল চালিয়েছি। শ্রমিকদের জন্য লোকসান সত্ত্বেও মিল চালু রেখেছিলাম। কিন্তু এখন ৫২০০ টাকা দরে পাট কিনছি, আর এক বস্তার খরচ এখন ૧২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রির মূল্য তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না। ফলে দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।’

    তাঁর দাবি, এই বছর কাঁচা পাটের উৎপাদন গত বছরের মতোই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি নথিপত্র না দেখে, বাজার তদারকি না করেন, তবে মিল চালানো সম্ভব হবে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে কাঁচা পাটের উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জবে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মে:টন পাট উৎপাদিত হয়, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মে:টন।

    মিল মালিকদের অভিযোগ, কয়েকটি ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করে পাট মজুত করে রাখছে, যার ফলে বাজারে দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি জোরদার করা। অপরাধমূলকভাবে কিছু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যা বা মূলত দাম বাড়ার পিছনে দায়ী।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকের ঋণ সমস্যা ও বাজারে বিভিন্ন সংকটের কারণে এই খাতের সমস্যা জটিল হয়ে পড়ছে। সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।’’

    এদিকে, পাট অধিদফতর নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘‘আড়তদার বা ডিলাররা সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন, যা আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি। বেশি মজুত পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।’’

    খুলনা অঞ্চলে ইজারা ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে ২০টি পাটকল আছে। এসব মিলের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই দেশের বাইরে রফতানি করা হয়। তবে যদি এই সংকট চলমান থাকে, তবে উত্পাদন ও রফতানি দুটোই বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।