Author: bangladiganta

  • বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিপাশা হায়াত

    নব্বইয়ের দিকের সুপরিচিত অভিনেত্রী, মঞ্চশিল্পী ও নাট্যকার বিপাশা হায়াত শিল্পজীবনে বহু ধারায় কাজ করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। মঞ্চ থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—সব মাধ্যমেই তার সাবলীল উপস্থিতি লক্ষণীয়।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে গিয়ে একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দেন বিপাশা। ওই আলাপে অভিনয়জীবন নিয়ে নানা কাণ্ডকারখানা তুলে ধরার পাশাপাশি বলিউডে প্রস্তাব পাওয়া ও সেটি প্রত্যাখ্যানের পেছনের কারণ নিয়েও বিস্তারিত জানান তিনি।

    সঞ্চালকের প্রশ্ন ছিল—‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সময়টাতে কি বলিউড থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন কি? জবাবে বিপাশা বলেন, বলিউডের প্রস্তাবটি এত আগের নয়, তার পরের সময়েই এসেছে। এই প্রস্তাবটি ছিল এক ধরনের পার্শ্বচরিত্রের পথ—যখন ফোন করে প্রস্তাবটি জানানো হয়েছিল, তার ফোন নম্বরটি এখনো তার ফোনে সেভ আছে এবং সেই ব্যক্তির সঙ্গে কয়েকবার কথাও হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে নির্দিষ্ট সিনেমার নাম তিনি স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেননি।

    বলিউড প্রস্তাব কেন ফিরিয়েছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরে বিপাশা বলেন, তখন তার মনে হয়েছিল তিনি কখনোই নিজের দেশের মানুষকে ছোট করতে পারবেন না। ‘‘আমার দর্শক আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন, তাদের ভালোবাসা আমার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। ওখানে গিয়ে কোনো তুচ্ছ চরিত্রে অভিনয় করে যদি কেউ ভাবেন আমি দেশকে হেয় করছি, সেটা আমি চাইব না,’’ তিনি বলেন।

    তিনি আরও বলেন, নিজেকে তিনি একে ‘‘তারকা’’ হিসেবে না দেখে ‘‘পাবলিক ফিগার’’ মনে করেন। একটি পাবলিক ফিগার হওয়ার সঙ্গে বড় ধরনের দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে, এবং প্রতিটি কাজের মাধ্যমে সেই দায়িত্ববোধ বজায় রাখতে হবে—এটাই তার ব্যক্তিগত নীতি। মানুষের ভালোবাসাকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র ও মূল্যবান হিসেবে দেখেন এবং সেই ভালোবাসার দায় নিহিত করেই বিদেশি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার মতে, পৃথিবীতে নানা বিরোধ ও সহিংসতার মূল কারণ ভালোবাসার অভাব; তাই মানুষের ভালোবাসা রক্ষা করাই তার নীতিগত সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

    সংক্ষিপ্ত কথায়, বিপাশা হায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল আত্মসম্মান, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা ও পাবলিক ফিগার হিসেবে দায়িত্ববোধ বজায় রাখা—এই তিনটি কারণ থেকেই তিনি বলিউড প্রস্তাব বাজেয়াপ্ত করেননি।

  • শাকিবের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর—আজমান রুশো নিশ্চিত

    শাকিবের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর—আজমান রুশো নিশ্চিত

    ‘তাণ্ডব’-এর পর আবার শাকিব খান ও সাবিলা নূর একসঙ্গে বড়পর্দায় দেখা যাবে—এটাই চারদিকে আলোচনা। যদিও আগে официаль ঘোষণা হয়নি, শ্যুটিং সেট থেকে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে খুশির আভাস দেখা গিয়েছিল। এখন চলচ্চিত্রের পরিচালক আজমান রুশো নিশ্চয়তা দিলেন—সাবিলা নূরই রকস্টারের নায়িকা। তিনি জানান, নায়িকার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শাকিব খানের পরামর্শ ও সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    রুশো বলেন, “আমার মনে হয় রকস্টারের জন্য সাবিলা উপযুক্ত। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সম্মত হয়েছেন। কাস্টিংসহ সিনেমার বড় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোই আমরা শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করে নিয়েছি।” তিনি বললেন, শুটিং সেটেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।

    পরিচালকের আরও কথায় উঠে আসে এই ছবির জন্মকাহিনি—এটি শাকিব খানের আইডিয়ায় তৈরি হচ্ছে। শাকিব নিজেই পরিচালককে জানান যে তিনি পর্দায় রকস্টারের চরিত্রে অভিনয় করতে চান, আর সেই ইচ্ছে থেকেই গল্পের মূল রূপ নেয়। রুশো জানান, “শুরুর আলোচনা চলাকালীন একদিন শাকিব ভাই আমাকে বললেন, তিনি পর্দায় রকস্টার হতে চান। শুনে মনে হয়েছিল যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার একসময় মিউজিশিয়ান হিসেবেই কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল; সঙ্গীতশিল্পীদের জীবন ঘেঁটেছি, তাদের গল্পে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এ থেকেই এই ছবি গড়ে উঠছে।”

    ফিল্মের নাম ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই একরকম গুঞ্জন ছড়িয়েছে—এটি কি ইমতিয়াজ আলির ‘রকস্টার’-এর মতো? রুশো সেই তুলনা সরাসরি খণ্ডন করে বলেন, “ইমতিয়াজ আলির ‘রকস্টার’ আমারও খুব পছন্দের। তবুও রকস্টার নামে অনেক সিনেমা আছে—আমার ছবিটির নামও রকস্টার। কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত নয়।”

    রকস্টারের কাহিনি সম্পর্কে পরিচালক সংক্ষেপে জানালেন, “এটি এক রকস্টারের জীবনকে ঘিরে আবর্তিত গল্প—এখানে পরিবার, ভালোবাসা ও ট্র্যাজেডি সব মিলিয়ে একটি জীবনকথা বলা হয়েছে। দিনশেষে এটি মানুষের জীবনেরই একটি অংশ।”

    রকস্টার নির্মিত হচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের ব্যানারে। চিত্রনাট্য লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন। ছবির আরো বিস্তারিত তথ্য এবং আনুষ্ঠানিক কাস্টিং ঘোষণার জন্য প্রযোজক দল শীঘ্রই আপডেট ঘোষণা করবেন বলে সূত্র জানাচ্ছে।

  • র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাব তৈরি করছে নিরপেক্ষ চাঁদাবাজদের তালিকা, অভিযান যেকোনো সময়ে

    র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করছে এবং তালিকা শেষে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। র‍্যাব বলছে, চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চাঁদাবাজদের একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

    ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

    র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজি কোনো এক খাতে সীমাবদ্ধ নয়—এটি মহাসড়ক কেন্দ্রিক পরিবহন খাত, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি সহ বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। ছোট স্তরের থেকে বড় পর্যায়ের সব ধরনের অপরাধীরাই তালিকার মধ্যে থাকবে।

    বক্তা আরও জানান, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না, তাই তালিকা তৈরিতে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেয়া হচ্ছে।

    তালিকায় যদি রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আসে কি হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ; কোনো ধরনের পক্ষপাত থাকবে না। যাঁরা অপরাধ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান বা পরিচয় নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তালিকা প্রস্তুত হলেই দ্রুত মাঠে অভিযান শুরু করা হবে এবং তা আজ থেকেই হতে পারে।

  • লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ

    লন্ডন হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন পদত্যাগ

    লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আকবর হোসেন। তিনি একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্ট্যাটাসে আকবর হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে লন্ডনে দীর্ঘমেয়াদীভাবে দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন।

    আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ দেয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি/আধা সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করে দায়িত্ব গ্রহণের শর্তও উল্লেখ ছিল।

    লন্ডনে নিয়োগ পাওয়ার আগে আকবর হোসেন বিবিসি বাংলা সার্ভিসের ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছিলেন।

  • মির্জা ফখরুল সতর্ক: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে

    মির্জা ফখরুল সতর্ক: সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর নির্মিত একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কিছু শক্তি এখনো সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা রোধ করা জরুরি।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফখরুল বলেন, ‘‘কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।’’

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলাম ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীত থেকেই এই ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে চলছে এবং সেটাই আমাদের শক্তি।

    ফখরুল স্থানীয় সময়ে ধর্মের নামে বিভাজন চেষ্টার যে সব অপচেষ্টা হয়েছিল সেগুলোকে ছাপিয়ে তুলে সবাইকে সামনে আনতে হবে বলেও সতর্ক করেন। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো সবাইকে নিয়ে সমাধান করতে হবে।’’

    তিনি প্রত্যেককে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বাইরে থেকে ঐক্য ও সৌহার্দ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়ালো ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলারে, যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকায়ের বেশি। এক বছর আগে একই সময় এই ঘাটতি ছিল ১,৩৭১ কোটি ডলার।

    ইকোনোমিস্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি দ্রুত বেড়ে যাওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম ঊর্ধ্বগমনের কারণে ঘাটতি বাড়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে তীব্র বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল, যা সামগ্রিক আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য আমদানি করেছেন ৪,৬১৭ কোটি ডলার (৪৬.১৪ বিলিয়ন ডলার), যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৭৪ কোটি ডলার (৪৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার)।

    অপর দিকে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২.৬ শতাংশ বাড়তি। তবে রপ্তানির এই বৃদ্ধিও আমদানির ঊর্ধ্বগামী প্রবণতা মেটাতে পর্যাপ্ত হয়নি; আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান থেকেই বাণিজ্য ঘাটতি জোরালো হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং রপ্তানি বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে। নীতিনির্ধারকরা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বৈদেশিক লেনদেন ও মুদ্রা সংরক্ষণে চাপ বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    চলতি হিসাব-ঘাটতি: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষ পর্যন্ত কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার, যেখানে এক বছর আগে একই সময় এটি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ চলতি হিসাবের ঘাটতি কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

    ওভারঅল ব্যালান্স: সামগ্রিক লেনদেনের (ওভারঅল ব্যালান্স) অবস্থাও ভালো রয়েছে — আলোচিত সময়ে এটি ধনাত্মক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ: অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ২,২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ২১.৪ শতাংশ বাড়িয়েছে (গত বছর ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার)।

    প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমে এসেছে — গত বছর জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ১০৬ কোটি ডলারের বিপরীতে চলতি বছরে এফডিআই এসেছে ৮৭ কোটি ডলার। অন্যদিকে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টে নেট আউটফ্লো হয়েছে; চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শেয়ারবাজারে বিদেশি নিট বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৮ কোটি ডলার বাইরে গেছে, যা গত বছরের পর্যায়ও ছিল প্রায় একই রকম ঋণাত্মক পরিমাণ।

    সারসংক্ষেপ: তথ্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, যদিও রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক ব্যালান্স ধনাত্মক করে দেশের অবস্থান সচ্ছল রাখা হয়েছে, তবু আমদানির অতিবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক মূল্য ওঠানামার কারণে পণ্য বাণিজ্যের ঘাটতি বাড়ছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আমদানির নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়ানোর সুষ্পষ্ট নীতি গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বিশ্লেষকরা।

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামল

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নামল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে: বছরজুড়ে আর্থিক চাপের কারণে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তারই প্রভাব পরস্পরেই পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ২০২৫ সালে সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এটি আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এ ব্যয় গত এক দশকে সবচেয়ে ন্যূনতম; আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা — তাতে এই বার প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমতি রয়েছে, যা খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    তথ্যগুলো আরো বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে খাতে ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা; অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে ৫১৩ কোটি টাকার ওপরে, যা ৪৫ শতাংশেরও বেশি।

    খাতের প্রতিনিধিরা ও ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থপাচারের অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে প্রদর্শিত মুনাফার সঙ্গে প্রকৃত আর্থিক চিত্রের ফারাক খুলে পড়ে। খেলাপি ঋণ বাড়ার ফলে প্রকৃত লোকসান সামনে আসে এবং বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপগ্রস্ত হয়। দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকাররা আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও সিএসআর ব্যয় হ্রাসে একটি বড় কারণ। পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকায় ব্যাংকগুলোকে অনেকে অনুরোধ পেত — শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যয় করতে হতো; এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই এসব খরচ সিএসআরের প্রকৃত আওতার বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকারের পরিবর্তন পর সেই চাপ অনেকটাই কমে যায়; ফলে ব্যাংকগুলো এখন তুলনামূলকভাবে বিবেচনা করে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যয় হয় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে বলা হয়েছে: তাতে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয়ের কথা বলা আছে; বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা যায়। বাস্তবে অনুপাত ভাঙাচোড়া হয়ে গেছে: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে, শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকাও দেয়া হয়েছে। তাতে রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে: এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি সিএসআর ব্যয়ের সংকোচনে দেখা যাচ্ছে। এটি সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে—তাই কেবল ব্যয়ের পরিমাণ নয়, ব্যয়ের লক্ষ্য ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা এখন সময়োপযোগী সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি।

  • যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি: ইরানি কর্মকর্তা

    যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে রাজি: ইরানি কর্মকর্তা

    কাতার ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করে দিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—শনিবার (১১ এপ্রিল) রয়টার্সকে এক ইরানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন সিদ্ধান্তটি আলোচনার আগে তাদের ‘সদিচ্ছার পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি এটি ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, এই কর্মকর্তা আরও বলেছেন যে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হওয়া উচিত হরমুজ জলসীমায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি ইরান হরমুজ সাগরে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা না রাখে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদ ছেড়ে দেয়।

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের ঘালিবাফ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য مذاکرات তারা শুরু করবেন না যতক্ষণ লেবানে ইসরায়েল হামলা বন্ধ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করবে।

    রয়টার্স অনুসারে, মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পণ্য বিক্রির বহু বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন দেশে আটকে আছে।

    রয়টার্সের আরও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে উত্তেজনা ও সংঘাতের খবর প্রকাশ পায় এবং কিছু অবধিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে; তবে সেই বিরতিকে ভঙ্গুর বলে beskr করা হয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয় তাহলে আরেকটু শক্ত কণ্ঠে প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

    চন্দ্রাভিযান শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২-এর চার নভোচারী

    নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চারজন নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে অভিবাসন করেছেন। গত দশ দিনের অভিযান শেষে তাঁরা স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবতরণ করে এবং নাসার উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে উত্তরণ করেন।

    আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা থেকে চাঁদভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মিশনে ছিলেন রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) ও জেরেমি হ্যানসেন (৫০)। এই দলে প্রথম তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং জেরেমি হ্যানসেন কানাডার নাগরিক।

    নাসা জানিয়েছে, অভিযানে আর্টেমিস-২ পৃথিবীকে দুইবার প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে মোট ১,১১৭,৫১৫ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে এবং চাঁদের কাছাকাছি যাওয়ার চূড়ান্ত ফ্লাইবাইয়ে পৌঁছানোর সময় প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝানো হয় মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহের খুব কাছে থেকে মায়াজনিত গতিবেগ বদল করে চলে যায় — কক্ষপথে আটকে না থেকে কেবল পাশ কাটিয়ে যাওয়া।

    পৃথিবীতে পুনঃপ্রবেশের সময় ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে খুব দ্রুত গরম হয়ে ওঠে; ক্যাপসুলের বাইরের অংশের তাপমাত্রা প্রায় ২,৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। প্রবেশের পরের গুরুত্বপূর্ণ ১৩ মিনিটের মধ্যে এসব তাপ এবং বায়ুমণ্ডলের শক্ত ঘর্ষণের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ক্যাপসুল তখন এক ধরনের ‘অগ্নিগোল’র মধ্যে দেখা গিয়েছিল। তাই সাগরে অবতরণের পর উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটি পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

    খবর নিশ্চিত করেছে নাসা, বায়ুদাহচাপ ও তাপ ক্যাপসুলের ভিতরে থাকা নভোচারীদের স্পর্শ করেনি। সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং দ্রুততর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তারা নৌবাহিনীর জাহাজে রাত কাটিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার তাঁরা টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবার ও মিশন দলের সঙ্গে মিলিত হবেন।

    নাসার ইউটিউব চ্যানেলে অভিযানকালের ও অবতরণের সরাসরি চিত্র ও ফুটেজ দেখেছে প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারী ও সহায়তা তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

    আর্টেমিস-২ শুধুই একটি পরীক্ষামূলক সফরই নয়—এটি নাসার ধরে নেয়া ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক মিশন। মিশনটি অ্যাপোলো যুগের পর থেকে চন্দ্রাভিযানের ধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশিষ্ট একটি দিক হলো, আর্টেমিস-২ পূর্বের অ্যাপোলো-১৩ এর রেকর্ড ভেঙে মোট ২৫২,৭৫৬ মাইল ভ্রমণ করে নতুন দূরত্বরেকর্ড গড়ে দিয়েছে (অ্যাপোলো-১৩ ছিল প্রায় ২৪৮,০০০ মাইল)।

    অভিযানের শেষ দিকে মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা আমাদের ২ নম্বর জানালা দিয়ে চাঁদের একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি—গতকালের তুলনায় একটু ছোট মনে হলো। মনে হচ্ছে ফিরে যেতে হবে।’’

    সূত্র : রয়টার্স

  • প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল যশোরে—জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ২৭ এপ্রিল যশোরে—জানালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর সফরে আসছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ভ্রমণ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর মাধ্যমে যশোরের দীর্ঘ সময় থেমে থাকা উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন প্রাণ পাবে।

    শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থল ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    ভিত্তিপ্রস্তর পরিদর্শনের পর অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণ কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী উলাশী খালের পুনঃখননেরও উদ্বোধন করবেন—উলাশী খালটি আগে তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করিয়েছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সময়সাপেক্ষ পাবলিক পরিদর্শন ও ঈদগাহ মাঠে জনসভা করারও পরিকল্পনা রয়েছে। জনসভা শেষে তিনি যশোর ত্যাগ করবেন।

    জ্বালানি তেলের সংকট সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট, যা বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। তবে জনগণ যাতে ভোগান্তির মুখে না পড়ে, সেজন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন চলবে এবং কৃষকদের ক্ষতি না হয়—এমনভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অব্যাহত সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    মেডিকেল কলেজের উদ্বোধনী স্থল পরিদর্শনের পরে প্রতিমন্ত্রী শার্শায় উলাশী খাল পরিদর্শনও করেন। পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কর্সমকর্তা ও অন্যান্য সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।