Author: bangladiganta

  • ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা

    ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় ইরানের বড় কূটনৈতিক সাফল্যের সম্ভাবনা

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সরাসরি আলোচনা চলছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রথমবার উচ্চপর্যায়ের এই সাক্ষাতের ফলাফলের দিকে বিশ্ব—and বিশেষ করে ইরানি জনগণ—আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে।

    আলোচনাগুলো হচ্ছে ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায়, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রথম দফায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর রাতের খাবারের বিরতিতে যান। বিরতিচ্ছেদের পর সংক্ষিপ্ত বিরতির শেষে দ্বিতীয় দফায় আবারও আলোচনা শুরু হয়।

    আলোচনায় জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির টোল এবং ইরানিদের দাবিকৃত সম্পদ অবমুক্তকরাসহ ইরানের মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে আঞ্চলিক অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের এবং অনেক বিষয় নিশ্চিত নয়। পাকিস্তানি মধ্যস্ততাকারীরা পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন—যা হলে ইরানের জন্য এটি বড় কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    পাকিস্তান সরকার সূত্রে প্রকাশিত বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, প্রাথমিক আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর কারিগরি দিকগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

    আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সাহসিকতার সঙ্গে’ প্রতিনিধিদলটি আলোচনা চালিয়ে যাবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন জনগণের সেবায় কাজ থামবে না এবং আলোচনার ফলাফল যাই হোক সরকার সব সময় জনগণের পাশে থাকবে।

    স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় শুরু হওয়া আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে ইরান নেতৃত্ব দেয় পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জেডি ভ্যান্স; দলের অন্যান্য সদস্য ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।

    আলোচনায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।

    আলোচনাকে ঘিরে হোটেল সেরেনার আশপাশে শতশত সাংবাদিক সজাগভাবে অবস্থান করছেন; তাদেরকে সরাসরি আলোচনাস্থলে ঢুকতে অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বেশির ভাগ সংবাদকর্মী হোটেল থেকে আধা কিলোমিটার দূরে থাকা ইসলামাবাদের প্রধান সম্মেলন কেন্দ্রে অবস্থান করে সংবাদ পরিবেশন করছেন।

    লেখক: পাকিস্তানের ‘বোল’ টিভির নির্বাহী সম্পাদক ও এপির ইসলামাবাদ করেসপন্ডেন্ট

  • আর্টেমিস-২: চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে এলেন

    আর্টেমিস-২: চন্দ্রাভিযান শেষে চার নভোচারী নিরাপদে ফিরে এলেন

    যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ অনুষ্ঠানে থাকা চার নভোচারী সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। দশ দিনের অভিযানের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলের সমুদ্রে ওরিয়ন ক্যাপসুল অবতরণ করে এবং কিছু সময় পর উদ্ধারকারী বাহিনীর সাহায্যে তারা নিরাপদে ক্যাপসুল থেকে বের হন।

    নাসা জানিয়েছে, অবতরণ ঘটেছে স্থানীয় সময় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা পাঁচটায়। আর্টেমিস-২ গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। ক্রুতে ছিলেন কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান (৫০), ভিক্টর গ্লোভার (৪৯), ক্রিস্টিনা কোচ (৪৭) এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন (৫০)।前三জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, চতুর্থজন কানাডার নাগরিক।

    নাসার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মিশন চলাকালীন আর্টেমিস-২ পৃথিবীর দুই বার প্রদক্ষিণের সময় প্রায় ১১১৭৫১৫ কিলোমিটার এবং চাঁদের ফ্লাইবাইয়ের সময় মোট ২৫২৭৫৬ মাইল পথ অতিক্রম করেছে। ফ্লাইবাই বলতে বোঝায় কোনো মহাকাশযান যখন কোনো গ্রহ বা небস্তুর খুব কাছ দিয়ে যায় তথাপি তা মহাকর্ষের প্রভাবে কক্ষপথে আবদ্ধ হয় না।

    পৃথিবীতে ফিরে আসার মুহূর্তটি ছিল নাটকীয়। ওরিয়ন ক্যাপসুল বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর থেকে অবতরণে আসতে প্রায় ১৩ মিনিট সময় লাগে। প্রবেশের সময় বাতাসের ঘর্ষণে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; এত তাপে ক্যাপসুলটি বাহ্যিকভাবে একটি অগ্নিগোলাকের মতো প্রদর্শিত হলেও ভেতরের ক্রুদের ওপর তাপ পৌঁছায়নি। প্রবল তাপের কারণে অবর্তমানে রেডিও সংযোগ কিছুক্ষণ বিচ্ছিন্নও হয়েছিল।

    সমুদ্রে অবতরণের পরে উদ্ধারকারী দলকে ক্যাপসুলটিকে সহনীয় মাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল; এরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ক্রুদের উদ্ধার করা হয়। নাসা জানিয়েছে, নভোচারীরা সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। ঘটনাটি লাইভ সম্প্রচারে নাসার ইউটিউব চ্যানেলে বিশ্বের তিন মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দেখেন।

    নাসার উদ্ধারকাজে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সহযোগিতা করেছে। নভোচারীরা অবতরণকালের রাতে নৌবাহিনীর জাহাজে ছিলেন এবং পরে টেক্সাসের হিউস্টনে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবার কথা আছে।

    আর্টেমিস-২ প্রস্তুতিমূলক মিশন হলেও এর কিছু দিক ঐতিহাসিক। মিশনে ছিলেন একজন নারী নভোচারী (ক্রিস্টিনা কোচ) এবং একটি আন্তর্জাতিক উপাদানও ছিল—কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন ক্রুতে ছিলেন। এছাড়া মিশনটি পুরনো রেকর্ডও ভেঙেছে: অ্যাপোলো-১৩-এর পরে এতদূর পাড়ি দেয় এমন কোনো নাসা মানব-চালিত অভিযানের রেকর্ড আর্টেমিস-২ মাত্র পেরিয়ে গেছে।

    মিশনের শেষের দিকে, অবতরণের কয়েক মিনিট আগে কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান রেডিওবার্তায় বলেছিলেন: “আমরা (ক্যাপসুলের) দ্বিতীয় জানালা দিয়ে চাঁদের দারুণ এক দৃশ্য দেখেছি — গতকালের চেয়ে একটু ছোট লাগছে। মনে হচ্ছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।”

    সূত্র: রয়টার্স, নাসা.

  • বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটে মাজার সংলগ্ন দিঘীর ঘাট থেকে কুকুরকে কুমির তুলে নিয়ে গেল; তদন্ত কমিটি গঠন

    বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলী (রহ.) মাজারে সংলগ্ন দিঘির প্রধান ঘাট থেকে এক কুকুরকে কুমির ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিকেলে এ দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সরগরমি শুরু হয় এবং ঘটনার真তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ অনুযায়ী, মাজার এলাকায় একমাত্র কুমির ধলা পাহাড় ঘাটে অবস্থান করছিল। ঘটনার দিন কুকুরটি অসুস্থ মনে হচ্ছিল এবং আশপাশের মানুষের মধ্যেই কামড় দিয়েছে বলে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কুকুরটি নিজে থেকেই ঘাটে নামে; কিছু সময় পর কুমির এসে কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কুকুরটির মরদেহ ভেসে উঠলে মাজারের খাদেমরা তাকে মাটি চাপা দেয়।

    একটি ৫৬ সেকেন্ডের মধ্যে থাকা ভিডিওতে দেখা যায় কুকুরটি অর্ধেক পানিতে তলিয়ে আছে, পরে পানির গভীরে নামার চেষ্টা করে এবং কুমির কাছে এসে কুকুরটিকে ধরে নিয়ে যায়। ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধারণা ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে; কেউ কেউ বলছেন কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু লোক খাদেমদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘটনাস্থলে অনেক দর্শনার্থী ছিলেন। কুকুরটি হঠাৎ নারীদের ঘাটের দিক থেকে দৌড়ে এসে ফোরকানের পায়ে কামড় দেয়। পরে অন্যকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে ফোরকান কুকুরটিকে থামাতে চেষ্টা করেন; কুকুরটি পানির দিকে নেমে গেছে এবং মুহূর্তের মধ্যে কুমির এসে কুকুরটিকে পানি থেকে ধরে নিয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটির মরদেহ অন্য পাশে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা সেটি মাটিচাপা দেয়।

    মাজার সংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তারও বলেন, কুকুরটি আগে থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল, তাঁর দোকানের সামনে কয়েকজনকে কামড়িয়েছে, এক তিন বছরের শিশুকেও গ্রাসের চেষ্টা করেছে এবং বিভিন্ন পোলাপান খেয়েছে। তাই এখানে এখন মিথ্যা গল্প ও ভিত্তিহীন অভিযোগও ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    মাজার সংলগ্ন এলাকায় পরিচিত যুবক মেহেদী হাসান (তপু) বলেন, কুমিরটি কয়েকদিন আগে ডিম পাড়ায়; ডিম পাড়ার পরে মা কুমির একটু হিংস্র হয়ে যায়। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কিন্তু সেখানে অনেকেই ভিডিও করেছে এবং কাউকে কুমিরের মুখ থেকে কুকুর ছিনিয়ে আনতে অনেকে সাহস পায়নি।

    খাদেমরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিওতে এআই বা মিছমিছ তথ্য ব্যবহার করে মূল ঘটনা বিকৃতি করা হয়েছে। তাদের দাবি, কুকুরটিকে কেউ বেঁধে বা ঠেলে দিঘিতে ফেলেনি; কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং নিজে থেকেই ঘাটে নেমেছিল। প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলামও ঘটনার অনাকাঙ্ক্ষিততা স্বীকার করে বলেন, ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের কারণে তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

    ঘটনার তদন্তে জেলা প্রশাসক আতিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও আছেন। জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং কুকুরটির মাথা সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানিয়েছেন, রিপোর্ট পেলে কুকুরটির অসুস্থতা বা জলাতঙ্কের মতো রোগ ধরা পড়েছে কিনা তা জানা যাবে।

    বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)–র সদস্য শেখ মোহাম্মদ নূর আলম বলেন, যদি প্রমাণিত হয় কেউ বিনোদন বা ভিউ বৃদ্ধির জন্য কুকুরটিকে কুমিরের সামনে ঠেলে দিয়েছে, তাহলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানিয়েছেন, মাজারের দিঘিতে কখনও কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হয়নি এবং এমন কাজ করা হয় না—যদিও অনেকে কুসংস্কারের কারণে বেঁচে থাকা প্রাণি ছুড়ে দিতে চাইতে পারেন। তিনি খাদেম ও দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছেন যে কোনো জীবিত প্রাণি দিঘিতে না ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধও করেন।

    পটভূমি হিসেবে জানা গেছে, খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে প্রাচীনকাল থেকে কুমিরের বংশধর রাখা হলেও বর্তমানে ঐতিহ্যগত প্রাচীন কোনো কুমির নেই। ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা পাঁচটি কুমিরের মধ্যে একটিই এখনো দিঘীতে আছে এবং ঐ কুমির আগেও কয়েকবার মানুষের উপরে আক্রমণ করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি দ্রুত কাজ করছে; প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণেই সমৃদ্ধ নগরী গড়ার আহ্বান

    সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণেই সমৃদ্ধ নগরী গড়ার আহ্বান

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে পাশে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর নগরী গড়াই তাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনাকে সুন্দর করে তোলাই তার উদ্দেশ্য এবং এ কাজের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    কেসিসি প্রশাসক গতকাল বিকেলে নগরের গল্লামারিস্থ শ্রী শ্রী হরি মন্দির ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতুয়া মহাসম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি খুলনা বিভাগীয় শ্রী শ্রী হরিমন্দির পরিচালনা কমিটি ও গুরুচাঁদ ছাত্রাবাস আয়োজিত। প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনাস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) চন্দ্রজীৎ মুখার্জি।

    বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে যাত্রা শুরু করেছেন তা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি নিরাপদ, মানবিক, উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই—এমন লক্ষ্য তিনি ব্যক্ত করেন। তিনি সবাইকে আন্তরিকতা ও আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তুলে দেশের সমৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং মন্দিরের চলমান সমস্যাগুলো সমাধানে নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

    মতুয়া মহাসম্মেলনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডাঃ দুলাল কৃষ্ণ রায় সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন ওড়াকান্দির ইন্টারন্যাশনাল হরি-গুরুচাঁদ মতুয়া মিশনের সভাপতি সুপতি ঠাকুর শিবু ও ওড়াকান্দির আন্তর্জাতিক মতুয়া প্রচার মিশনের সভাপতি সম্পদ ঠাকুর, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আশীর্বাদ দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রফুল্ল কুমার রায়। প্রধান আলোচক ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সত্যানন্দ দত্ত এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ঢাকাস্থ কিশোরলাল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক গৌতম কুমার ঢালী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মৌমি রায় এবং সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট অপূর্ব বৈদ্য।

    সকালেও প্রশাসক নগরীর বিআইডিসি রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নিজের তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। সমাজসেবক এডভোকেট জিএম ফজলে হালিম লিটন, বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ উদ্বোধন

    খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ উদ্বোধন

    খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬-এর উদ্বোধন। শনিবার সকাল ৮:৩০ টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের শুভসূচনা করা হয়।

    টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোলা খায়রুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, খুলনা শাখার এসএভিপি ও শাখা প্রধান মো. নাহিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, দৌলতপুর শাখার এসএভিপি ও শাখা প্রধান তাজবীন আলম খান।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, এস এম জাকির হোসেন রিপন, মো. বেলাল হোসেন, বিভাগীয় কোচ মো. মনোয়ার আলী মনু, জেলা কোচ মো. সামছুল আলম রনি, আজিজুর রহমান জুয়েলসহ বিভিন্ন স্কুলের কোচ ও শিক্ষকবৃন্দ। আয়োজকরা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্কুলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতা তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা উন্মোচনে এবং ভবিষ্যৎ ক্রিকেটার গড়াে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উদ্বোধনী দিনে খেলোয়াড়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত। প্রাণবন্ত মোটিভেশনে ভরা পরিবেশে টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী ম্যাচে গাজী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় বনাম ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুলের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠে প্রাণবন্ততা যোগ করে।

    আয়োজকরা জানান, চলমান পর্যায়ে ম্যাচগুলোতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করে দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা পরিচয় করিয়ে দেবে—এ বৈশ্বিক প্রত্যাশা নিয়েই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হয়েছে।

  • নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াড ঘোষণা — কোনো চমক নেই

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে। সিরিজের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক প্যানেল শনিবার, ১১ এপ্রিল স্কোয়াড ঘোষণা করেছে—ঘোষিত দলে বিশেষ কোনো চমক নেই।

    ঘোষিত স্কোয়াডে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ সিরিজে খেলানো সকল ক্রিকেটারই জায়গা পেয়েছেন। ফলে কাউকে বাদ দেওয়া কিংবা নতুন কোনো সিরপ্রাইজ ডাক নেই। পাকিস্তান সিরিজে দল প্রত্যাশিত ফল না দিলেও আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানকে রাখা হয়েছে, আর অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাসও জায়গা পেয়েছেন। স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে। মোট তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজে ওয়ানডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ১৭ ও ২০ এপ্রিল এবং চট্টগ্রামে ২৩ এপ্রিল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে (২৭ ও ২৯ এপ্রিল) এবং সিরিজের শেষ ম্যাচ দাঁড়িয়েছে মিরপুরে (২ মে)।

    প্রথমে ওয়ানডে ম্যাচগুলো বিকেল ৩টায় শুরু করার কথা ছিল; কিন্তু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সূচিতে পরিবর্তন এনে ওয়ানডে ম্যাচগুলো সকাল ১১টায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিনটি ম্যাচ প্রথম নির্ধারিত সময়ে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা সামঞ্জস্য করে বিকেল ৩টায় শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য নেয়া বাংলাদেশ দলের স্কোয়াডে স্থান পাওয়া ক্রিকেটারদের নামগুলো হলো: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

    বিডি-নিউজ সিরিজটি আয়োজক ও ভক্ত উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হবে—ছোট ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং নতুন করে রণনীতি গড়ে তোলার দিক থেকে দল কী পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটাই নজরবন্দি থাকবে।

  • শাকিবের আইডিয়ায় তৈরি হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর নিশ্চিত

    শাকিবের আইডিয়ায় তৈরি হচ্ছে ‘রকস্টার’, নায়িকা সাবিলা নূর নিশ্চিত

    তাণ্ডবের পর আবার আরও একসঙ্গে দেখা যাবে শাকিব খান ও সাবিলা নূরকে—এই খবর ইতোমধ্যেই ভাইরাল। যদিও সাবিলার উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগে আর হয়নি, শুটিং সেট থেকে ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় কৌতূহল বেড়েছে। এখন সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘রকস্টার’-এর নায়িকা হিসেবে সাবিলা নূরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    রুশো বলেন, তিনি মনে করেছিলেন সাবিলা ওই চরিত্রে ভাল লাগবেন। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করার পর শাকিব সম্মতি জানালে সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে সাবিলা চরিত্রটির জন্য সঠিক ব্যক্তি। রুশো আরও जोडেন, ‘‘শুধু কাস্টিং নয়, সিনেমার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়।’’

    পরিচালক জানিয়েছেন, এই সিনেমার মূল ধারণা এসেছে শাকিব খানই তুলে ধরার কথায়। শাকিবই পরিচালকের কাছে আগাভাবে এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, এবং সেই আইডিয়া থেকেই ‘রকস্টার’-এর গল্পের রূপরেখা নেওয়া হয়। রুশো বলেন, ‘‘সিনেমা নিয়ে যখন প্রাথমিক আলাপ হচ্ছিল, তখন একদিন শাকিব ভাই আমাকে বললেন, পর্দায় তিনি রকস্টার হতে চান। শুনে মনে হচ্ছিল, যেন স্বপ্ন সত্যি হলো। আমার আগে মিউজিশিয়ান হিসেবে থাকা এবং মিউজিশিয়ানের জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করাই এই গল্প গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে।’’

    সিনেমার নাম ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকে অনেকে বলছে, এটি বলিউডের ‘রকস্টার’ ছবির সঙ্গে মিল রয়েছে। এই গুঞ্জন উড়িয়ে রুশো জানান, তিনি ইমতিয়াজ আলির ‘রকস্টার’ পছন্দ করেন, কিন্তু তাঁর কাজ কোনো קודםকার চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত নয়। ‘‘রকস্টার’ নামে অনেক ছবি আছে, আমাররাও নামটিই নিয়েছি, কিন্তু এটা কোনো নির্দিষ্ট ছবির অনুকরণ নয়,’’ বলেন তিনি।

    রুশো আরও জানান, ছবির গল্প এক রকস্টারের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে—এখানে থাকবে পরিবার, ভালোবাসা ও ট্র্যাজেডি; সারমর্মে এটি এক জীবনের গল্প।

    ‘রকস্টার’ নির্মাণ করছে সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড ব্যানারে। চিত্রনাট্য লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন।

  • আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা গুরুতর

    আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা গুরুতর

    ভারতের কালজয়ী গায়িকা আশা ভোঁসলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তাকে অন্তঃশ্বাসকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

    ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হওয়ার পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা বর্তমানে তিনি যে অবস্থায় আছেন তা নিয়ে তত্ক্ষণাৎ সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।

    সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তবে পরিবার থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। বিগত কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে ভুগছিলেন আশা ভোঁসলে বলে জানা গেছে।

    দীর্ঘ কর্মজীবনে আশা ভোঁসলে ভারতীয় সঙ্গীতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’সহ একাধিক মর্যাদাবান সম্মানে ভূষণীত হয়েছেন। এছাড়া বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করে আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন—‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো বহু হিট গানে তার কণ্ঠ ভক্তদের মুগ্ধ করে রেখেছে। গিনেস বুকে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    চিকিৎসকরা আরও পরীক্ষার পর বিস্তারিত জানানোর কথা বলছেন; ততক্ষণে হাসপাতাল বা পরিবারের কোনও আনুষ্ঠানিক আপডেট এলে তা জানানো হবে। ভক্ত ও সহশিল্পীরা আশা ভোঁসলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন।

  • ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ দাবি পুনর্ব্যক্ত, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

    ঢাকা ভারতকে আবারও অনুরোধ করেছে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি এসব কথা বলেছেন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের কথাও আভাস দেন। এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

    খলিলুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহে (৮ এপ্রিল) দিল্লি সফরে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে, তিনি বলেন, ‘‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি এবং এই সফরে আমরা সেই দাবিটি পুনরাবৃত্তি করেছি।’’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব বিশদ এখনই প্রকাশ করেননি তিনি।

    প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের পরে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।

    সূত্রানুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে খলিলুরের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পর বাংলাদেশ সরকার নির্দেশিকাভাবে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়—যাতে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে খলিলুর বলেন, ‘‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি। আগামি কয়েক সপ্তাহে এই সফরের প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন; উভয় পক্ষই সম্পর্ককে এগিয়ে নেবার ব্যাপারে জোর দিনছেন।

    দিল্লির বৈঠকে বাংলাদেশ সীমিত হারায় কার্যরত ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর অনুরোধ করেছে বলে খলিলুর জানান। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতীয় সহযোগিতার আবেদনও করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই সংকট আরও জটিল হতে পারে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে—এই সমস্যার সম্মুখীন হলে আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’’

    খলিলুর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ বছর বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আঞ্চলিক এই জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার কথাও তিনি বলেছেন—যদি সদস্য দেশগুলো অংশ নেয়ার কারণগুলো দূর করা যায়, তবে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাধা থাকার কথা নয়।

    খলিলুর দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পর্কের অগ্রযাত্রা দেখা যাবে বলে আমি নিশ্চিত।’’

  • রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন: মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে সারাদেশে মোট ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত ও ২,২২১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৬ জন এবং শিশু ৯৮ জন রয়েছে।

    রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, একই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ ছিল। রেলপথে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন প্রাণ হারান এবং ২২৪ জন আহত হন।

    এই তথ্য জানিয়ে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেন, প্রতিবেদনটি তৈরি করতে তারা ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজেদের তথ্য ব্যবহার করেছে।

    যানবাহনভিত্তিক নিহতের বিশ্লেষণে দেখা যায়— মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২০৪ জন, তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) ৯৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ৪৬ জন, বাস যাত্রী ৪৫ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টরের আরোহী ২৮ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন, পাখিভ্যান, ভটভটি, টমটম, মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং সাইকেল আরোহী ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

    দুর্ঘটনার ভৌগলিক বিশ্লেষণে মোট ৫৭৬টির মধ্যে ১৭১টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে, ৭০টি গ্রামীণ সড়কে, ৬২টি শহরের সড়কে এবং ৯টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী ১৬৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৩১টি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারানো, ৮৬টি পথচারী চাপা বা ধাক্কা, ৮২টি পেছন থেকে আঘাত ও ১১টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    মার্চে মোট ১,০০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল; এর মধ্যে বাস ১৩৩টি, ট্রাক ১২০টি, মোটরসাইকেল ২৪৪টি, তিন চাকা ২০০টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৬৫টি, প্রাইভেটকার ৪২টি, মাইক্রোবাস ১৯টি সহ নানা ধরনের যানবাহন রয়েছে।

    আঞ্চলিক দিক দিয়ে ঢাকার বিভাগে সবচেয়ে বেশি — ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা সিলেট বিভাগে— ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় ৪৬টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছিলেন ১৫.৪২ জন, সেখানে মার্চে এটি বেড়ে হয়েছে ১৭.১৬ জন— যা প্রায় ১১.২৮ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করে অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ অতিরিক্ত গতি, যার ফলে চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারান। তারা সুপারিশ করেছে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের প্রেরণামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অপর প্রধান কারণ হিসেবে রয়েছে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, খারাপ বা ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা এবং শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা। তারা সুদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।