Author: bangladiganta

  • পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আর নেই

    পাকিস্তানের প্রথম নারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আর নেই

    পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শামশাদ আখতার। তিনি দুই দফা তত্ত¡াবধায়ক সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। শনিবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের মুদ্রানীতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং পুঁজিবাজারের মূল ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান স্টেট ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন, এরপর ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর ত্যাগের প্রশংসা করে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে সততা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলে গেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি পাকিস্তানের এক বিশিষ্ট অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন ইএসক্যাপ) নির্বাহী সচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকেও কাজ করেছেন। হায়দরাবাদে জন্ম নেওয়া এবং করাচি ও ইসলামাবাদে শিক্ষাজীবন заверш করা শামশাদ আখতার পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়, কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স এবং যুক্তরাজ্যের পেইসলি কলেজ অব টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। জানানো হয়েছে, তার মৃত্যুতে দেশের স্টক মার্কেট ও অর্থনীতি গভীর শোকাহত।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেল

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আবার কমে গেল

    জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত মুনাফার হার আবারও হ্রাস পেয়েছে। নতুন নির্দেশনায় জানা গেছে, এবার সর্বোচ্চ মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ, এবং সর্বনিম্ন হার হবে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগে গত জুলাই মাসে ও মুনাফার হার কমানো হয়েছিল।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা অপ্রতিহতভাবে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নতুন নির্দেশনায় উপরন্তু বলা হয়েছে, বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হবে। কম বিনিয়োগে (৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা কম) মুনাফার হার বেশি থাকছে, আর বেশি বিনিয়োগে হার কমে আসছে।

    প্রথমত, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবার সঞ্চয়পত্রে, পাঁচ বছরের মেয়াদে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের জন্য পূর্বে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার পূর্বের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল, এখন সেটি কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারিত হয়েছে।

    পেনশনার সঞ্চয়পত্রেও একই রকম হ্রাস চলেছে। এ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার পূর্বে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল, এখন তা কমে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে। আর, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীর জন্য পূর্বের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ নির্ধারিত।

    বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের পাঁচ বছরের মেয়াদেও মুনাফার হার কমেছে। এ ক্ষেত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফার হার আগে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকত, এখন তা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আরও, বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার পূর্বে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল, তা এখন ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে মুনাফার হার কমে গেছে। এই সঞ্চয়পত্রে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার কম বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে মুনাফার হার এখন ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যেখানে আগে ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার পূর্বের ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    উল্লেখ্য, ১ জুলাই ২০২৫ এর আগে ইস্যু হওয়া সব জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের জন্য তারা চলমান মেয়াদের হিসাবেই এই হার কার্যকর থাকবে। আবার, পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে, সেই তারিখের হারই প্রযোজ্য হবে, এবং ছয় মাস পরে যথাযথভাবে নতুন হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

  • টানা দফা বাড়ানোর পরে সোনার দাম কমলো

    টানা দফা বাড়ানোর পরে সোনার দাম কমলো

    বাংলাদেশের বাজারে বেশ কয়েক দফা মূল্য বৃদ্ধির পর অবশেষে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে ভরিতে ২ হাজার ৫০৮ টাকা মূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা সোনার নতুন দাম নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নতুন মূল্য অনুযায়ী ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে বাজুস এই তথ্যের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ থেকে জানা যায় যে, নতুন দাম আগামী মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। পরিস্থিতির বিবেচনায়, এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুসারে, ২২ ক্যারেটের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোনা বিক্রয়মূল্য থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ডিজাইন, মান ও বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব অনুযায়ী মজুরির দর কম বেশি হতে পারে।

    এর আগে, অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর বাজুস সোনার দাম আরও এক দফা সমন্বয় করে। ওইদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম নির্ধারিত হয় ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একদিনে সবোর্চ্চ দামের রেকর্ড। সেই সময়ে অন্য ক্যাটেগরিতে দাম ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৯২, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৩২ এবং সনাতন পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩১ টাকা।

    বর্তমানে, চলতি বছরসহ মোট ৯২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪ বার, কমেছে ২৮ বার। ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫ বার বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।

    তবে, দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ৩ হাজার ৭৩২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    চলতি বছর পর্যন্ত রুপার দাম ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে এবং ৩ বার কমেছে। গত বছর এই দাম সমন্বয় হয়েছিল ৩ বার।

  • মায়ের ত্যাগ, উদারতা ও দেশের জন্য শক্তি খুঁজে পাই: তারেক রহমান

    মায়ের ত্যাগ, উদারতা ও দেশের জন্য শক্তি খুঁজে পাই: তারেক রহমান

    দেশবাসীর গভীর মমত্ববোধে আপ্লুত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এই অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভরপুর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম শিক্ষক ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশের মতো নয়। তবে এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষজনের অপরিসীম উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বের দুঃখ কিছুটা প্রশমিত করেছে।’ তারেক রহমান আরও যোগ করেন, ‘অগণিত নেতা-কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশের মানুষজনের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমি গভীরভাবে আবেগপ্রবণ। লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মান ও ভালোবাসা, এবং এই কঠিন সময়ে পাশে থাকা আমাকে আবারো ভাবিয়ে তুলেছে—তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না, তিনি বহু দিক থেকে পুরো জাতির মা।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা আমার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন, এর জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যারা এই শোকসন্তপ্ত সময়ে সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতিও আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয়ে গভীর ছোঁয়া দিয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘শোকের এই মুহূর্তে আমি আমার প্রিয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করছি। আজ এত মানুষের ভালোবাসায় ভরপুর হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা কাটিয়ে বাংলাদেশ যেন পুরো পরিবারের মতো হয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘অব্যাহতভাবে মানুষের সেবা করে বৃথা যায়নি আমার মায়ের অর্জন। আজ আমি সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার অবিচলভাবে আপনা হাতে তুলে নেব। আমার মা যে পথচলা শেষ করেছেন, সেখানে আমি সেই পথ এগিয়ে নিয়ে যাব। তাদের জন্য, যারা ভালোবাসা ও বিশ্বাস দিয়ে তাকে জীবনশক্তি ও প্রেরণা দিয়েছেন। আল্লাহ যেন আমার মা’য়ের রুহকে শান্তি দেন, আর তিনি যে অসীম ভালোবাসা, ত্যাগ ও উদারতার দৃষ্টান্ত আমাদের দেখিয়ে গেছেন, এখান থেকেই আমরা শক্তি, ঐক্য ও দেশপ্রেম খুঁজে পাই।’

  • শেখ হাসিনা কখনই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি পাবেন না

    শেখ হাসিনা কখনই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে মুক্তি পাবেন না

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এই নির্মম প্রকোপের দায় থেকে শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবেন না। বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ‘ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রয়ারি থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় কারাগারে বন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের সকল মানুষ দেখছেন— তিনি হাঁটতে পারছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে বের হেতেন অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায়।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের মতে, পরবর্তী চার বছর গৃহবন্দি অবস্থায় থাকাকালীনই তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। বিদেশে উন্নত চিকিৎসা না পেলেই তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। অবশেষে এই নেত্রীকে মৃত্যুর কাছে হার মেনে নিতে হয়। এই মৃত্যুের জন্যই শেখ হাসিনা দায়ী, কারণ তিনি কখনোই এই দায় থেকে মুক্তি পাবেন না।’

    নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া জনগণের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বে ইমার্জিং টাইগার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।’

    বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়ার জন্ম, পারিবারিক জীবন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে তার বিবাহ, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর সংকটময় সময়ে তার রাজনৈতিক নেতৃত্বদান, পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সরকারের পরিচালনাসহ বিভিন্ন দিক বিশদে তুলে ধরেন।

  • বিএনপি র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেনি: বাবর

    বিএনপি র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেনি: বাবর

    সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় অবিচল থাকতেন। তার নির্দেশনায় আমরা র‌্যাব গঠন করেছি। তবে, বিএনপি কখনোই র‌্যাবকে দলীয় স্বার্থে এক ঘণ্টা বা একদিনের জন্যও ব্যবহার করেনি। শুক্রবার (১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই কথা বলেন।

    বাবর বলেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে র‌্যাবকে ব্যবহার করেছি, এটা কেউ বলতে বা প্রমাণ দেখাতে পারবে না। অন্যায় করলে বিএনপি নেতাকর্মীরাও ছাড় পেত না। তাদের মধ্যে নেত্রী খালেদা জিয়া এই সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছিলেন।

    তিনি আরও যোগ করেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার নেত্রীর মধ্যে যে গুণাবলী আমি খুঁজে পেরেছি, তা অন্য কারো মধ্যে দেখিনি। অনেক পরে তার ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে আমি সেই গুণাবলী দেখতে পেয়েছি। সব মানুষ দোয়া করবেন যেন তার নেতৃত্বে জনগণের জন্য এক সুন্দর রাষ্ট্র গঠন করতে পারি।

    বাবর ব্যক্ত করেন, তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে এখানে এসেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা নয়, ব্যক্তিগত আবেগের প্রকাশ। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি নিয়ে এসেছেন।

    এছাড়া, বিএনপির এই নেতা বলেন, নেত্রীর সঙ্গে তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং তার দেশের জন্য গভীর প্রেম দেখেছেন। স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের দিক থেকে তিনি কখনো আপস করেননি।

  • মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও উচ্চতায়: সালাহউদ্দিন

    মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও উচ্চতায়: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তবে সেই প্রত্যাশা পূরণে সফলতা কেমন হবে এই নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলের এ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মানুষের অন্তরে এখনও বেগম খালেদা জিয়া রয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের মা হিসেবে খ্যাত, মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। আজ তাঁকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাঁর জন্য সাধারণ জনগণের এক অম্লান ভালবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জানাজায় অসংখ্য মানুষ অংশ নিয়েছেন। যারা যেতে পারেননি তারা গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন। এত বড় একটি জনসমাগমের ঘটনা সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। ভবিষ্যতে বর্ণনা বা পরিসংখ্যান দেওয়া হতে পারে, কিন্তু এই আকাশচুম্বী সাড়া সত্যি অবর্ণনীয়।’

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশ্বাস করা হয় যে, একজন সাধারণ গৃহিণীও সারা বিশ্বের গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেদের জয়গান করতে পারেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে করতে নিজের জীবন, পরিবার সব কিছু উৎসর্গ করেছেন।’

    তিনি যোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্য দেশের প্রতি তার ভালবাসা, ভক্তি, এবং দেশপ্রেমের স্বভাব চিরঞ্জীব। তিনি অনেক কিছু হারিয়েছেন, কিন্তু তিনি অর্জন করেছেন যে উচ্চতায়, যা পৃথিবীর অন্য কারো নয়।’

    সালাহউদ্দিন ভবিষ্যতের লক্ষ্য করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের צעচেষ্টা থাকবে; যে একটি শক্তিশালী, উন্নত ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্যই আমাদের এই পরিশ্রম। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী নয়, গণতন্ত্রের জন্য এক অনুকরণীয় পথপ্রদর্শক। সবাই তাকে সেই মর্যাদার সামনে দাঁড় করিয়েছে।’

    মনের গভীর থেকে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শঙ্কা প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজকের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছে যে, তা পূরণ করতে পারবো কি না, সেটা মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা আকাশের মতো বিশাল। সেগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সবাইকে একত্রিত রেখে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়— এই নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সামর্থ্য ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সবাইকে একত্রিত করে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ দেখা হবে কতটুকু আলোকিত বা সফল হতে পারে।’

    বিএনপির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বেগম জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে চান। কিন্তু দলীয়ভাবে নির্বাচনের জন্য এই শোককে টুল হিসেবে ব্যবহার করার মতো আমরা সংকীর্ণ নই। তার শোককে জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে চাই। যেহেতু তিনি এখন আর আমাদের মাঝে নেই, তাই মনোনয়ন বা প্রতীক বাছাইয়ে প্রার্থীর পরিবর্তন হবে। নির্বাচনে যেখানে ভোটদানের আগে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার প্রভাব পড়বে না।

    নির্বাচন পেছানোর কোনও আইনি সুযোগও নেই, কারণ মনোনয়ন বাছাই ও প্রতীক বরাদ্দের পর যদি সেটি হতো, তাহলে আইনী জটিলতার কারণে নির্বাচন স্থগিত হতে পারত। কিন্তু এখন সেরকম পরিস্থিতি নেই, কারণ তিনি মনোনয়নের জন্য পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে মারা গেছেন। সুতরাং, তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে।

    মায়ের শোকের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোবল ভেঙে পড়েছেন কি না—এ প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাকে শক্ত মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে, এর বিকল্প কিছু নয়।’

  • খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের স্থিতিশীলতায় বড় আঘাত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর শুনে গভীর শান্তি অনুভব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও গণসংযোগ উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার এই মৃত্যু দেশের স্থিতিশীলতা স্থাপনে এক বিশাল ধাক্কা। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তিনি শোকপ্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি শোক প্রকাশ করছি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে, যখন দেশ চলমান গভীর সংকটে ভুগছে – সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় জীবন কাটাচ্ছেন, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে চলেছে – তাঁর চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য এক গভীর ক্ষতি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, “অতীতে নানা বিরাজনীতি ও অসংখ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখেও, খালেদা জিয়া নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য সফলতা অর্জন করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। তার অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে তার মৃত্যু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় এক বড় ধাক্কা বলেও তিনি মূল্যায়ন করেন।

    সবশেষে, তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অসংখ্য সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

  • ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    ঢাকার রাজপথে শোকের মাতম: খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

    দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ানের মৃত্যুতে রাজধানীর প্রতিটি কোলাহল যেন শোকের মাতমে পরিণত হয়। তার জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউসহ আশপাশের এলাকাগুলো জনসমুদ্রের মধ্যে রূপান্তরিত হয়, যেখানে এক দিকে চোখ যায়, অন্য দিকে মানুষের ঢল। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের দেখা মেলে, যারা তার বিদায় জানাতে এসেছেন। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই এককথায় বলেছেন—আর কখনো দেশের ইতিহাসে এত বড় মুক্তির ঝড়ের মতো জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। এই জানাজাকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বড় জানাজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

    বুধবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ানের জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৩টায় সেটা শুরু হয়। আগের দিন থেকেই মানিকমিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। জনতার বিশাল ঢল জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর রোড, ফার্মগেট ছাড়িয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং মগবাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মাইক থেকে উচ্চস্বরে প্রচার করা হয়, আর দর্শনার্থীরা রাস্তায় কাতারবন্দি হয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ বাসায়, কেউ ফুটওভার ব্রিজে, যেখানে যেখানে জায়গা পান সেখানে দাঁড়ান। এই জানাজায় অংশ নেন শুধু বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার মানুষ। এর পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকার গাছ, ফুটপাথ এমনকি কাছাকাছি ভবনের ছাদগুলোতেও ব্যাপক লোক সমাবেশ ছিল।

    প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদায়ে অংশ নিতে ভোর থেকে তীব্র শীতের মধ্যেও মানুষ ছড়িয়ে পড়েন। তারা মানিকমিয়া এভিনিউ, দলের কার্যালয়, এভারকেয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। সকাল থেকে দিনভর তারাও আসতে থাকেন আর বাড়তে থাকে জনস্রোত। জানাজায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরা বলেন, এই জানাজা ইতিহাসের অন্যতম বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে। শেষ বিদায় হিসেবে এত মানুষের উপস্থিতি খুব কমই দেখা যায়। অনেকের মুখে একটাই কথা—অতি সহজে জীবনধারায় পাওয়া যায় না এই ভাষা, এই অনুভূতি।

    বিশেষ করে ক্ষোভ-আকাশে বাতাসে, আবেগে ভরা এই আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ মোট ৩২ দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। ভারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পাকিস্তানের স্পিকারসহ অনেক বিদেশিপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা এই অনন্য মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ভাষা বুঝতে পেরেছেন।

    খালেদা জিয়ার জানাজায় নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়। জানাজার মূল আসরে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও আশপাশে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানাচ্ছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

    বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এ সময় সেনাবাহিনী তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করে। দাফনের পর মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মোনাজাতে উপস্থিত ছিল হৃদয় বিদারক অনেক দৃশ্য; নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গগণবিদারী কাঁদো কাঁদো দৃশ্য পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক অধ্যায় সমাপ্ত হয়, যা সবসময় স্মরণ থাকবে।

  • ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    ১৭ জেলায় শীতল প্রবাহ, তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা

    দেশের ১৭ জেলায় এখন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। এদিকে, সারাদেশে সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা অনেকে ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, যার ফলে কিছুটা শীতের এই পরিস্থিতি আবার অপেক্ষাকৃত প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আবহাওয়া অধিদফতর এসব তথ্য জানায়।

    আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বিস্তৃতি পশ্চিমবঙ্গ এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলসহ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে, যা উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

    তিনি আরও বলেন, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

    এছাড়া, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলাসহ কিছু কিছু স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সারাদিনে রাতের তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

    আজ যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি।

    আগামীকাল (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে মধ্যরাত ও সকাল থেকে অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতির কারণে উড়োজাহাজ, নৌকা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বেশিরভাগ অংশে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, তবে নদী অববাহিকাসহ কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার পরও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে, যেখানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার প্রবণতা থাকবে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) একই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শীতল আবহাওয়া চলমান থাকবে। রাত ও সকালে নদী তলদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সাথে থাকতে থাকবে। সামগ্রিকভাবে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে, এবং শীতের এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।