Author: bangladiganta

  • নাহিদ ইসলাম বললেন, আমরা আবারো আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি

    নাহিদ ইসলাম বললেন, আমরা আবারো আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। দল-মত নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়ে এই সংগ্রামে অংশ নিচ্ছি। এটি কোনো দলের স্বার্থের জন্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশের স্বার্থে মূল সংকট সমাধানের জন্য। তিনি বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে রক্ষা করতে হবে এবং শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেটাই আমাদের সংগ্রামের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য আমরা সবাই একযোগে ঐক্যবদ্ধ থাকব।

    রোববার দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবার, যোদ্ধারা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, হয়তো আমরা অন্তর্বতী সরকারের সময় এই সংগঠনের পাশে পুরোপুরি দাঁড়াতে পারিনি, তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই শহীদদের পক্ষে নানা বড় বড় কথা বললেও, তারা কি সত্যিই তার জন্য কিছু করে দেখাচ্ছে কিনা, সেটি দেখতে হবে। তিনি আরো যোগ করেন, অন্তর্বতী সরকারের সময় গঠন হওয়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন এখন কিছুটা কাজ করছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের উদ্যোগে অনীহা দেখা গেছে।

    জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, উপস্থিত সবাই হয়তো সব কথা বলতে পারেননি, তবে প্রত্যেকের মধ্যে একই স্পিরিট এবং আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। সবাই পুনরায় ঐক্যবদ্ধ এবং রাজপথে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত, ইনশাআল্লাহ। আপনি যারা শুনছেন, তাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলি।

    এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘রাজপথের এই আন্দোলনে আপনারা সন্তান হারিয়েছেন, কেউ কেউ পা বা হাত হারিয়েছেন। আজ এই মঞ্চে বসে থাকা আমরা সবাইই আপনাদের সাথে থাকব, সবার সামনের সারিতে থাকব। হ্যাঁ, যেখানে গুলি চলবে, সেটি আমাদের বুকেই লাগবে। কাজের জন্য আমাদের সবাইকে সংগঠিত থাকতে হবে এবং দোয়া করতে হবে। বিশ্বাস করে বলছি, ইনশাআল্লাহ, একদিন নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার প্রতিষ্ঠিত হবেই। শুধু বিএনপি বা অন্য শক্তি নয়, কোনও পরাশক্তি বা বিদেশি শক্তি আমাদের রুখতে পারবে না; আমরা অবশ্যই বিজয় ছিনিয়ে নেব।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান।

  • আন্দোলন শুরু হয়েছে, এবার সফলতার জন্য এগিয়ে যেতে হবে: জামায়াতের আমির

    আন্দোলন শুরু হয়েছে, এবার সফলতার জন্য এগিয়ে যেতে হবে: জামায়াতের আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে। এখন এটি তিলে তিলে সফলতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বক্তব্যের শুরুতেই একটি ছোট গল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। গল্পে তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, এক বিচারক একটি হত্যা মামলার রায় দেওয়ার সময় পরস্পরবিরোধী কথা বলছিলেন। পরে জানা গেল, পেছন থেকে দড়ি টানার অসুবিধার জন্য এমনটি ঘটছে। এ গল্পের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধপূর্ণ সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যারা থাকেন, তাদের মধ্যে কে দড়ি টানে? সেই দড়ি কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? এই প্রশ্ন এখন সবাই বুঝতে পারছেন।

    তিনি সরকারের দ্বৈত নীতিরও সমালোচনা করেন এবং বলেন, এক সময় গণভোট হারাম, আবার কিছু সময় হালাল। এক সময় অর্ডার অনুযায়ী গোস্ত হালাল, কিন্তু শুরুটা ঝোলের হারাম। এসব নিয়ে আমরা পার্লামেন্টে কথা বলেছি, তবে আমাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টাও হয়েছে। তবু আমরা আমাদের বক্তব্য অব্যাহত রেখেছি, কারণ জনগণ আমাদের এই অধিকার দিয়েছে বলেই আমরা কথা বলছি।

    তিনি বর্তমান সংসদকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ নামে অভিহিত করে বলেন, ‘জুলাই নয়, আমরা আছি, সরকারও আছে, বিরোধীদলও আছে, আর কিছুই নেই। এই জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াই এখন আমাদের লক্ষ্য। গণভোটের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশা আল্লাহ পূরণ হবে। তার জন্য জীবনের কমতি থাকলে করতেও প্রস্তুত।’

    নিজেদের সংসদে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, আমরা এই সংসদ থেকে সুবিধা নিতে যাচ্ছি না। অনেক কিছু সময়ের জন্য নেওয়া হবে, তবে নীতির বাইরে যাওয়া হবে না। যে বাধ্যবাধকতা আছে, সেটিতেই থাকবো, অবৈধ কিছু করব না।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান শুধু শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আন্দোলন নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন, এই শহীদদের মধ্যে ৬২ শতাংশই শ্রমিক। তিনি প্রশ্ন করেন, তারা কি কোটার বৈষম্য বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল? না, তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, পরিবর্তনের জন্য বুক চিতিয়ে লড়েছিল। তারা জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছে, তারা গুণগত রাজনীতির জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত।

    সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস আল্লামা মামিনুল হক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বাংলাদেশ) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।

    আন্দোলনের শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুরু করতে হবে এটিও আন্দোলনের অংশ। যখন আমরা সংস্কার পরিষদের সভার জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম, তখন সংখ্যাগরিষ্ঠের হোটে আমাদের গায়ের জোরে সেটি বাতিল করা হয়। এরপরই আমরা বলেছি, জনগণের রায় নিয়ে রায় বাস্তবায়নে আবার আমরা পার্লামেন্টে যাচ্ছি।’

    জামায়াতের আমির বলেন, এই আন্দোলন সুবিধাবাদী নয়, এটি ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে ৭০ ভাগ মানুষের রায় ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে অঙ্গীকার। বর্তমান সরকারের একচেটিয়া অধিকার ও আচরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের সন্তানদের কারো গোলামি করতে দিই না। বাংলাদেশে রাজতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ মেনে নেওয়া যাবে না। সবাই মিলেই এই দেশকে উন্নত করতে হবে, কোনও বোঝা বা অন্ধকারের উদ্যোগে পা দেওয়া চলবে না।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই দুষ্টচক্র ভেঙে ফেলার জন্য সবাই একসাথে কিছু করতে হবে। সংসদের সময়ের বড় অংশ অন্যের প্রশংসায় নষ্ট হলে চলবে না; বরং সেখানে জনতার সমস্যা ও সমাধানই মুখ্য হওয়া উচিত। তিনি সরকারের সমালোচনা করে আরও বলেন, আজও আমরা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখছি সংসদে। কিছু সদস্যের আচরণে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সকলকেই সংযত হতে হবে ও দেশরত্নের ইতিহাসকে সম্মান করতে হবে। এই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী তাদের মূল্যবোধ অটুট রাখতে হবে।

    সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।

  • সংস্কার পরিষদ না করলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ

    সংস্কার পরিষদ না করলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ

    সংস্কার পরিষদ না করে দেশের ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রধান দুটি প্রশ্ন সামনে আসে। একদিকে, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের অবসান, অন্যদিকে বিএনপির দাবি ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আমাদের পক্ষ থেকে সংস্কারসহ নতুন রিপ্লেসমেন্টের জন্য দাবি ওঠে গণপরিষদের। পরে বিএনপি আলোচনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় আসতে সম্মত হয়। এজন্য আমরা গণপরিষদ এর পরিবর্তে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব মেনে নিই।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি আসলে একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে। তারা জুলাই সনদ এবং জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টাও করছে। কারণ, তারা জুলাই সনদকে নিজেদের রাজনীতির ইশতেহারে পরিণত করেছে। এতে সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় গণভোটের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। সংবিধানের স্বাভাবিক ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সম্পাদনযোগ্য সংস্কারের জন্য গঠিত হয়েছে গঠনমূলক সংস্কার পরিষদ। এই প্রক্রিয়াটির অংশ হিসেবে ঐকমত্যে এসেও বিএনপি এখন এসব বিষয়ের বরখেলাপ করছে এবং গণরায়কে অগ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    বিরোধী দলীয় নেতা উল্লেখ করে বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের ফলে সরকারকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। এখন আমাদের দেশকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন সংকটে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে—যেমন যুদ্ধ পরিস্থিতি, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, হামর মতো মহামারী প্রতিরোধ ও জীবাশ্ম জ্বালানি সমস্যার সমাধান। আমাদের দুর্ভাগ্যবশত গত ১৬ বছর ধরে চলমান সংস্কার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আলোচনাগুলো এখনো ফলপ্রসূ হয়নি, এ কারণেই দেশ এনেছে এই দুর্যোগ। বিএনপির এই দায়ভার এড়ানো সম্ভব নয়, কারণ এর পরিণতি খুবই কঠিন হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, সংকট মোকাবেলায় দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংবিধানে সংস্কার দরকার। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত এই পরিষদ গঠন করুন, দেশের শান্তি ও ঐক্য রক্ষা করুন। তা না হলে এর ভবিষ্যৎ খুবই জটিল হয়ে উঠবে।

    এছাড়া, এনসিপির আহ্বায়ক গণহারে সংবিধান সংস্কার ও পরিষদ গঠনের জন্য সরকারের প্রতি প্রাধান্য দেন। তিনি বলেন, এই সংকটের সমাধানে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে দেশের ভবিষ্যৎ এক অন্ধকারের দিকে এগোবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও উত্তরাঞ্চলের এনসিপির প্রধান সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • ক্ষমতার আসক্তি বিএনপি জনগণের স্বার্থ ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার আসক্তি বিএনপি জনগণের স্বার্থ ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    নূতন ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতার লালন-পালনের জন্য তারা জনগণের দেহে রক্তের ঋণ ভুলে গেছে। আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জাতির ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি, শ্রমিকেরা রক্তের বিনিময়ে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদির সংগ্রাম থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রত্যেকটি গণঅভ্যুত্থানে জ্বলে উঠেছিল শ্রমজীবী মানুষরা। কিন্তু এখন ক্ষমতায় থাকা বিএনপি, যারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর বসে আছে, তারা এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, নতুন গঠিত সরকার শ্রমিকদের রক্তের ঋণে বসে থাকলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে, তারা জনগণের প্রত্যাশা ও ভোটের ফলের বিরুদ্ধে গিয়ে জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। গণবিরোধী এ সরকার জনগণের অধিকার ও স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে বলে দাবী করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া বিভিন্ন ধারায় করা অধ্যাদেশগুলো এখন আইন হিসেবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ছিল, যা বিএনপি ভঙ্গ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দেশের রাজনীতিতে আসন্ন দুর্বিপাক দেখা দিতে পারে যদি জোরপূর্বক অসৎ উদ্দেশ্য চালানো না হয়। শ্রমিকের অধিকার ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, আমরা এখন একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের পথে আছি, যেখানে জুলাই গৌরব গাঁথা গণঅভ্যুত্থানে দেশের শ্রমিকদের দূরদর্শী স্বপ্নের বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়সংগত বাংলাদেশ গড়ে তোলার, যেখানে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সব ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথ ধরে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনা এবং তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একτρ্যবদ্ধ হয়ে আমাদের দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, গণঅভ্যুত্থানের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।’

    নাহিদ শেষতঃ, রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান, যাতে আর শুধু সংসদ নয়, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হয় ঠিক সময়ে শ্রমিকের দাবি ও অধিকার পূরণে। এর মাধ্যমে নানা প্রতিশ্রুতি ও দাবির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে: ডা. জাহেদ

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে: ডা. জাহেদ

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সমাজে গণপিটুনি ও মবের মতো ঘটনাগুলো প্রশ্রয় পেয়েছে, যা সমাজে অত্যন্ত দুশ্চিন্তার বিষয়। এই পরিস্থিতির ফলে মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার এক বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. জাহেদ আরও বলেন, গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের কোনও স্থান নেই সমাজে। কোনো অপরাধীই যতই বড় বা দৃষ্টিকটু হোক না কেন, শাস্তির দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং এর জন্য কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিচার করার অধিকার নেই। আইন নিজের হাতে নেওয়া সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে এবং এটি বিচারবহির্ভুত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রশ্রয় পাওয়ার কারণে সমাজে ভুল ধারণা তৈরি হয় যে কেউ ইচ্ছে করলে অপরাধীদের শাস্তি দিতে পারে, যা একেবারেই অপ্রীতিকর। এই সংস্কৃতির থেকে বেরিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। এমনকি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ এলে শারীরিক আঘাত বা পিটুনি দণ্ডনীয় অপরাধ।

    এছাড়াও, তিনি জানান, প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

    সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে। সংগঠিত সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে, এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। গণপিটুনির মাধ্যমে নয়, আইনের শাসন বজায় রাখতে হবে। মানুষকে এই মানসিকতা থেকে সরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে।

  • বাহরাইনে নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    বাহরাইনে নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

    বাহরাইনে নিহত প্রবাসী গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে দেশে এসে পৌঁছেছে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সাড়ে ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার লাশ পৌঁছায়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, যিনি মরদেহ গ্রহণ করে নিহতের ছোট ভাই সমর চন্দ্র সূত্রধরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশির কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ সৎকারে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহের ভিত্তিতে নিহতের পরিবারকে আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে। মন্ত্রী সবাইকে বিদেশে যাওয়ার জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করে যাওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকেন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন। তিনি প্রবাসী সব বাংলাদেশির জন্য নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করেন এবং নিহত গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের আত্মার শান্তি কামনা করেন। উল্লেখ্য, গিরিশ চন্দ্র সূত্রধর সিলেট জেলার সিলেট সদর উপজেলার পূর্ব মাছপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। কয়েকদিন আগে বাহরাইনে কর্মরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

  • বঙ্গবন্ধুর হাতে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

    বঙ্গবন্ধুর হাতে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ লাখ নতুন সরকারি কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন দফতর ও সংস্থাগুলোর শূন্যপদে ইতোমধ্যে ২৮৭৯ জনের নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিতভাবে এ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠের উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা ও প্রতিটি উপজেলায় ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরি করা হবে।

    তিনি দেশের প্রযুক্তি খাতের উত্তরণের জন্য হাই-টেক পার্ক, সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টার গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পেপালের কার্যক্রম চালু করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশে ক্রীড়াবিদদের কল্যাণে বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে ক্রীড়াভাতা চালুর পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে। প্রাথমিক পর্যায়ে, একসঙ্গে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদ এই ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন, এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ইতোমধ্যেই ভাতা পেয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাঙ্গুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিশেষ করে জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা পাওয়ার আগে থেকেই ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে।

    চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে, প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা ও মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সরকার পরিচালিত ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির’ আওতায় ৩ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি শিক্ষক কাজ করছেন, এবং এরইমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি, যার মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদেরও এই প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    নরসিংদী-৫ আসনের বিএনপি সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের উত্তরে, তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন শ্রমবাজার খোঁজে সরকারের পরিকল্পনা বেশ স্পষ্টভাবে প্রস্তুত। এর অংশ হিসেবে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করার পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন দূতাবাসকে নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও পেশাগত চাহিদা নিরূপণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু দেশের সঙ্গে যেমন সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল ও রাশিয়ার সঙ্গে এই ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও চলমান।

    এছাড়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর জন্য কাজ করছে সরকার। বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের সফর এবং সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণ মানুষের জন্য ই-হেলথ কার্ড প্রদান প্রকল্পের আওতায়, ১৮০ দিনের মধ্যে সহযোগিতা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য একটি অনুমোদন প্রক্রিয়া চলছে, যার মাধ্যমে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণ এখন থেকে এই কার্ডের মাধ্যমে সহজে চিকিৎসা সেবা পাবেন।

  • ডাকসু নেতার ১২ মাসের নাম বলতে গিয়ে বিভ্রান্তি

    ডাকসু নেতার ১২ মাসের নাম বলতে গিয়ে বিভ্রান্তি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ পহেলা বৈশাখে এক আলাপচারিতায় বাংলা ১২ মাসের নাম বলতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বাংলা বছরের ১২ মাসের নাম কি কি, তখন তিনি ধারাবাহিকভাবে সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারেননি। আবার কখনো এটি হালকা রসিকতায় করেছেন বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

    সেখানে তিনি বলেন, “আষাঢ়, জ্যৈষ্ঠ, শ্রাবণ, আশ্বিন, কার্তিক, পৌষ, মাঘ, অগ্রহায়ণ, ভাদ্র… হয়ে গেল? হয়েছে? ফাল্গুন, ১২টা হয়েছে?” এই উত্তর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক হাস্যরসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই ঘটনায় তাকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় নেটিজেনদের মধ্যে, বিশেষ করে একজন দায়িত্বশীল পদের ব্যক্তির Such অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাব বেশ আলোচিত হয়েছে। আসলে, একজন ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে এই মৌলিক বিষয়টিতে তার অজ্ঞতা হতাশাজনক বলে মনে করেছেন অনেকেই।

    সহজভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের দাপ্তরিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় এই মাসগুলোর নাম সাধারণত মনে রাখা হয়। সময়ের বিশেষ প্রয়োজনের জন্য বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে এই মৌলিক বিষয় সম্পর্কে গভীর শিক্ষা থাকা দরকার। তার এই ভুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় এবং ট্রোলের সব থেকে বড় বিষয় হয়ে উঠে।

    আরো গল্পে প্রকাশ, মোসাদ্দেক তখন তোষামোদ বা ‘তৈল’ দেয়ার বিষয়েও নিজের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলা সাহিত্যজ্ঞ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘তৈল’ বিষয়ক প্রবন্ধের প্রসঙ্গ তুলে, সমাজের কিছু মানুষ ক্ষমতার তোষামোদা ও চাটুকারিতার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে থাকে। তিনি মনে করেন, এই আত্মপ্রচার ও তোষামোদ এখন সমাজেরই এক অসুস্থ রীতি।

    অবশ্যই, এই ঘটনাটি সামজিক মহলে শিক্ষার গুরুত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, বিশেষ করে সামনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে বা দায়িত্ব পালন করছে, তাদের জন্য এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

  • প্রথম ধাপে শুরু হলো ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা: কীভাবে পাবেন এবং আবেদন করবেন বিস্তারিত

    প্রথম ধাপে শুরু হলো ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা: কীভাবে পাবেন এবং আবেদন করবেন বিস্তারিত

    বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে জনসাধারণের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কার্যক্রমের শুভ সূচনা বিষয়ক আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই মহতী অনুষ্ঠানে তিনি ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হয়ে ল্যাপটপের সুইচ চাপেন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এই বহুমুখী কার্ডের বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের আরও ১০টি উপজেলায় এ প্রকল্পের প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের সূচনা করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত কার্ড বিতরণ শুরু হয়।

  • ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন

    ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু — কে পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন

    আজ পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপের সুইচ চেপে দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আটটি বিভাগের ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সেটআপে তিনি ‘‘বিসমিল্লাহ’’ বলে ডিজিটাল পোর্টালে সংযুক্ত হন এবং প্রায় ২০ হাজারের বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই কার্ড বিতরণের সূচনা ঘোষণা করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো কৃষির অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে কৃষকদের জন্য টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘‘এই ডিজিটাল কার্ড কেবল পরিচয়পত্র নয় — এটি কৃষকের অধিকার ও সুরক্ষার প্রতীক।’’

    কারা অন্তর্ভুক্ত হবেন

    সরকার জানিয়েছে, শুধু শস্যচাষী নয়—মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খাতের খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষিকরাও প্রকল্পের আওতায় আছেন। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমিয়ে সরকারি সুবিধা সরাসরি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া।

    বাস্তবায়নের ধাপ ও বাজেট

    কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

    ১) প্রাক-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক): আজ থেকে শুরু হয়েছে; এটির জন্য বরাদ্দ প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

    ২) পাইলটিং: আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় কার্যক্রম চালানো হবে।

    ৩) দেশব্যাপী কার্যক্রম: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশে তথ্যভাণ্ডার তৈরি ও কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

    প্রাক-পাইলটিংয়ে ১০টি জেলা, ১১টি উপজেলা ও ১১টি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসংসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে লবণচাষিরাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    কার্ডভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও তালিকা

    প্রাথমিকভাবে কৃষকদের পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে কার্ড দেওয়া হবে: ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রাক-পাইলটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২,০৬৫ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; এর মধ্যে ভূমিহীন ২,২৪৬, প্রান্তিক ৯,৪৫৮, ক্ষুদ্র ৮,৯৬৭, মাঝারি ১,৩০৩ এবং বড় ৯১ জন।

    রেজিস্ট্রেশনে থাকা ২০,৬৭১ জন কৃষক প্রতি বছর সরাসরি নগদভাবে বা উপকরণ ভর্তুকি হিসেবে বছরে ২,৫০০ টাকা গ্রহণ করবেন; এই অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে জমা হবে।

    কার্ডের প্রকৃতি ও প্রধান সুবিধা

    কৃষক কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের শাখায় কৃষকদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কার্ডধারীরা একঝাঁক সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে প্রধানগুলো:

    – ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও মৎস্য-প্রাণিখাদ্য; POS মেশিনের মাধ্যমে সরঞ্জাম ও উপকরণ কেনা যাবে।

    – সেচে সাশ্রয়ী ও নিয়মিত সুবিধা।

    – সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাগজপত্র ছাড়াই ঋণ সুবিধা।

    – স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি।

    – সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছানো।

    – কৃষি বিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর্থিক সুরক্ষা।

    – মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার সংবাদ।

    – ফসলের রোগ-বালাই নির্ণয় ও প্রতিরোধের পরামর্শ।

    – কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ।

    – ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।

    নিবন্ধন ও কার্ড সংগ্রহের পদ্ধতি

    কার্ড পেতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো হলো: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বর, জমির দলিল বা বর্গা/ভাগে চাষের প্রমাণপত্র এবং ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট নম্বর।

    প্রক্রিয়াটি সাধারণত হবে এভাবে:

    ১) স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করবেন।

    ২) এরপর উপজেলা কৃষি অফিস মাঠে যাচাই-বাছাই করে তথ্য যাচাই করবে।

    ৩) যাচাই শেষে কৃষকের এনআইডি ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

    ৪) শুদ্ধতা নিশ্চিত হওয়ার পর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।

    সরকার জানিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে নিবন্ধন অনলাইনেও করা যাবে এবং স্থানীয় অফিস পর্যায়ে ফরম পূরণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

    সতর্কতা ও সরকারের বক্তব্য

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা চাই কৃষককে তার ঘামের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হোক। এই কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং উৎপাদন বাড়বে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’’ তিনি আরও অনুরোধ করেছেন, কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে—কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনে জড়াবেন না। কৃষকদের কাছে বলা হয়েছে, কার্ড বা পরিষেবার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ দিতে যাবেন না এবং অননুমোদিত লেনদেনে সতর্ক থাকবেন।

    প্রকল্পটি ধাপে ধাপে চালু করে সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষি সেক্টরে স্বচ্ছতা, দ্রুত সহায়তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা—যা সরাসরি কৃষকের জীবনমান উন্নত করবে।