Author: bangladiganta

  • বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    বিশ্বে ২০২৫ সালে ১২৯ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েল দায়ী দুই-তৃতীয়াংশের জন্য

    গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজের সময় রেকর্ড সংখ্যক ১২৯ জন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই দায়ী ইসরায়েলি সেনা বাহিনী। এই তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), যেটি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

    বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য অশ্রুত ও দুঃখজনক এক বছর olmuş ২০২৫, যা গত বছরও একই রেকর্ড পুনরাবৃত্তি করেছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলি হামলায় গাজার ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে ৮৬ জন সাংবাদিক মারা গেছেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই গাজার ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মী। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পরিচালিত গণমাধ্যম কেন্দ্রেও ইসরায়েলি হামলা হয়, যার ফলে ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। এটি নিউজের ইতিহাসে দ্বিতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বলে গণ্য হচ্ছে।

    সিপিজে জানিয়েছে, যারা ৪৭টি হত্যাকাণ্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড বা লক্ষ্যবস্তু করেছেন বলে গণ্য করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮১ শতাংশের জন্যই দায়ী ইসরায়েল। গাজায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।

    ইসরায়েলি সেনারা এ বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও, তারা দাবি করে যে গাজায় তারা কেবল যুদ্ধকালীন বাধ্যবাধকতার জন্যই কাজ করছে এবং শুধুমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে। তবে, তারা আরও জানিয়েছে যে, গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অভিযোগেও ইসরায়েল সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে।

    গাজায় নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশিরভাগই ফিলিস্তিনি, কারণ সেখানে ইসরায়েলি প্রবেশাধিকার নেই। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে যে হামাসের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকের যোগাযোগ ছিল, যা সাংবাদিকরা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিষয়ে সিপিজে বলেছে, ইসরায়েলের এ সব কর্মকাণ্ড ভয়াবহ ও অগ্রহণযোগ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত তিন দশকের বেশি সময়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি সেনারা সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক হত্যা করেছে। নিহত ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনা। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সুদান, যেখানে নয় জন নিহত, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেক্সিকোতে ছয়জন, ইউক্রেনে চারজন ও ফিলিপাইনে তিনজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।

    রাশিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা জানার বা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকবিরোধী হামলা চালায়নি; বরং তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখনো কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল আকারে আরও ৩০০টিরও বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। এই কাণ্ডকারখানা ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে, যা মনোযোগ আকর্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহলে।

    তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু প্রকাশিত ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এর মতো বহরে এই বিশাল সামরিক মোতায়েন হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারির শুরুর সময় থেকেই মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য প্রায় ২৭০টি বিভিন্ন ধরনের সরবরাহকারী বিমান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট এবং থার্ড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক বহরে প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং বাকি ভারসাম্য সহায়ক বিমান। তাদের মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬, এবং ৪২টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। এছাড়াও রয়েছে ট্যাঙ্কার বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও ভূমিকা পালনের জন্য ব্যবহৃত ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ ওয়ার্নিং ও কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।

    তবে, গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার এর অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো बी-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

    অপরদিকে, এই বড় গুটিপোড়া বিমান শক্তির ওপরে নজর থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এর ফলে মার্কিন সেনার বিমান শক্তি কার্যকরভাবে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ওই দেশ ১২টি মার্কিন বিমান, পূর্ববর্তী সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ ফাইটার এফ-২২, সংগ্রহ করেছে। এগুলো সম্ভাব্য ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংসের জন্য।

    এদিকে, পরমাণু আলোচনা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর আগেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি হুমকি দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান তিনি চান, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারেও তিনি পিছু হটবেন না।

    তিনি বলেন, ‘আমি এই সমস্যার সমাধানে কূটনীতি নির্ভর করব, কিন্তু একটি ব্যাপার স্পষ্ট— আমি কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না। ইরান ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাতে সক্ষম।’

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমশই বাড়ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এমন উচ্চমানের মিসাইল বিকাশ করছে, যা দেশের অভ্যন্তরে বা বিদেশি ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

    অবশেষে, ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নির্লিপ্ত হয়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলাদা করে রেখেছে। ফলে, আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকই হয়ত নতুন করে পরিস্থিতি সুচারু করবে।

  • ট্রাম্পের দাবি, আমি থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    ট্রাম্পের দাবি, আমি থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মারা যেতেন

    আবারো ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি আমি না থাকতাম, তবে এই সংঘাতের কারণে দেশের ৩৫ মিলিয়ন মানুষ প্রাণ হারাতো। এছাড়াও তিনি দাবি করেন যে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে মৃত্যুবরণ করতেন। ট্রাম্প এই মন্তব্য মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে অনুষ্ঠিত ‘বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে জানান। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ১০ মাসের মধ্যে আমি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে পেরেছি। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনাও ছিল, কিন্তু আমার হস্তক্ষেপে সেটি এড়ানো সম্ভব হয়।’ ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, তিনি যদি থাকতেন না, তাহলে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতে পারতেন। তিনি কি না এমনটাই দাবি করেন।

  • খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩৪ সন্ত্রাসী নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তানে পৃথক নিরাপত্তা অভিযান চালিয়ে মোট ৩৪ সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। সূত্র মতে, নিরাপত্তা বাহিনী কয়েক দিন ধরে উচ্চ গতিসম্পন্ন গোয়েন্দা অভিযানে নেমে পড়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের প্ররোচনায় পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো—ফিতনা আল খারিজ এবং ফিতনা আল হিন্দুস্তান—কে নির্মূল করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ফিতনা আল খারিজ হলো তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) জন্য ব্যবহৃত একটি নাম, যা মূলত সন্ত্রাসের আড়ালে থাকা সংগঠনগুলোর প্রতীক। অন্যদিকে, ফিতনা আল হিন্দুস্তান নামে বালুচিস্তানের বিভিন্ন সন্ত্রাসী দলের সঙ্গে পরিচিত। খবর অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় চারটি পৃথক অভিযানে টিটিপির ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একই সময়ে, ঝোব জেলার সাম্বাজায় বালুচিস্তানের সন্ত্রাসী সংগঠন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের আটজন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তদের বিরুদ্ধে নর্থ ওয়াজিরিস্তানের পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা চালানো সন্ত্রাসী দলের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে একজন আফগান নাগরিক সন্ত্রাসী মারা গেছে। এ ছাড়াও, লাক্কি মারওয়াত জেলায় তিনজন, বান্নু জেলার নারমি খাল এলাকায় ১০ জন এবং নর্থ ওয়াজিরিস্তানের মির আলিতে ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সাম্বাজা অভিযানে আটজন ফিতনা আল হিন্দুস্তানের সন্ত্রাসী নিহত এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দমনকারী ‘স্যানিটাইজেশন অভিযান’ও অব্যাহত আছে। দেশপ্রিয় জনগণের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের হত্যা এবং অস্ত্র উদ্ধার তাদের পেশাদারিত্বের প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অভিযান চালাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও এই অভিযানগুলোর প্রশংসা করে বলেন, প্রতিদিনই সন্ত্রাসবিরোধী সফলতা নতুন করে প্রমাণিত হচ্ছে। তিনি দেশের সন্ত্রাসমুক্ত পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

  • রুশ বাহিনীর পক্ষে ১,৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা লড়ছে ইউক্রেনে

    রুশ বাহিনীর পক্ষে ১,৭৫০ এর বেশি আফ্রিকান সেনা লড়ছে ইউক্রেনে

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক নতুন দিক প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের সরকার। তারা জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর পক্ষে বিশ্বজুড়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ১,৭৫০ এর বেশি সেনা লড়াই করছে। এই তথ্যটি জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহা, যারা গতকাল বুধবার কিয়েভে ঘানা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

    সাইবিহা বলেছেন, “আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, রাশিয়া বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে আফ্রিকার নাগরিকদের এই যুদ্ধে জড়াচ্ছে। আমাদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ১,৭৮০ এর বেশি নাগরিক রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করছে।” তিনি আরও জানান, আফ্রিকা মহাদেশের ৩৬টি দেশের যুবকদের কাছ থেকে এই সেনাদের আনা হচ্ছে। তারা চাকরির প্রলোভনে বা অন্যান্য প্রতারণার মাধ্যমে প্রথমে রাশিয়ায় নেওয়া হচ্ছে, পরে তাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অন্যদিকে, এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আবলাকাওয়া জানান, রুশ বাহিনীতে লড়াইরত আফ্রিকান সেনাদের বেশিরভাগেরই কোনো অতীত সেনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর অভিজ্ঞতা নেই। তারা সাধারণ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে এবং পরে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এই আফ্রিকান সেনাদের আগেই কোনো নিরাপত্তা বা সেনা প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা নেই। তারা লোভে পড়ে, প্রতারণার শিকার হয় এবং শেষে তাদের বাধ্য হয়েই সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়।”

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোসহ অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো এই প্রলোভন ও প্রতারণা বন্ধে কাজ করবে বলে সৌজন্য আলোচনা হয়েছে। ঘানা এবং অন্যান্য আফ্রিকান দেশগুলো এই পরিস্থিতি রোধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানান ওকুদজেতো।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পরে রাশিয়া সেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার অজুহাতে আগ্রাসন চালায়। ইউক্রেনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। তখন থেকে এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করে এবং এখনও চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশনায় এই অভিযান চলমান থাকলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো এর নিন্দা জানিয়ে আসছে।

  • কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশু সন্তানের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার

    কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশু সন্তানের মরদেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা একদিন নিখোঁজ থাকার পর বিকট আবহে জানার অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে চার বছর বয়সী তাবাসসুমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। এই শিশুটি মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। আপাতত ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে পরে মরদেহটিকে বস্তায় ভরে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবারটি বর্তমানে কালীগঞ্জের বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকছিল। শিশুটির বাবা নজরুল হোসেন একজন দর্জির দোকানে কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। শিশুটি বুধবার বিকেল সাড়ে ২টার পর থেকে নিখোঁজ ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার সন্ধান পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে যাওয়ার পথে এক কৃষক রক্তাক্ত অবস্থায় একটি বস্তা দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি আতঙ্কও বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • প্রেমের বিয়ের এক বছর পর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

    প্রেমের বিয়ের এক বছর পর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

    মাদারীপুরে প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ের এক বছর পূর্তির পর মহান রহস্যজনকভাবে মারা গেলেন গৃহবধূ মিম আক্তার (২৫). এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় তার স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয়দের সাহায্যে।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টার দিকে শহরের বিসিক শিল্পনগরীতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত মিম আক্তার কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের উত্তর কানাইপুর গ্রামের নান্নু হাওলাদারের মেয়ে। অন্যদিকে, তার স্বামী রিয়াদ খান (একেএম আব্দুল্লাহ নোমান), সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা গ্রামের আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে।

    ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে রিয়াদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে মিমের বিয়ে হয়। এরপর তারা শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় একটি ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

    গত বুধবার রাতের দিকে হঠাৎ করে রিয়াদ তার পরিবারের কাছে জানায়, মিমের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ সময়, অভিযুক্ত স্বামীকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনার সত্যতা ও কারণ উদ্ঘাটনের জন্য স্বজন ও এলাকাবাসী তদন্ত ও দ্রুত দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন।

    মিমের চাচা মো. খবির হাওলাদার বলেন, আমার ভাতিজির মৃত্যুটা আমি মানতে পারছি না। ওর বাবা নেই, আমি ছোটবেলা থেকেই ওকে বড় করেছি। এই মৃত্যু রহস্যের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    এই বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর ব্যাপারে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা বা আত্মহত্যা। এছাড়াও, নিহতের পরিবারের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • খুলনায় জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    খুলনায় জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    আগামী ২ মার্চ উদযাপিত হবে জাতীয় ভোটার দিবস, এর প্রস্তুতি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম সভাপতিত্ব করেন।

    উপস্থিতিদের মধ্যে সভায় বক্তৃতা করেন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এবারকার দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ভোটারদের শক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি’, যা তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে এক অসাধারণ উদ্যোগ।

    সভায় উল্লেখ করা হয়, একজন নাগরিকের বয়স ১৬ বছর হলে তিনি ভোটার হতে পারবেন এবং এর জন্য নিবন্ধন করানো প্রয়োজন। ভোটার হলে বিভিন্ন সুবিধা যেমন সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। নতুন ভোটারদের জন্য সতর্কতার সাথে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ডাটাবেস তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। বিশেষ করে, রোহিঙ্গাদের ভোটার করে না তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়।

    প্রস্তুতিমূলক সভার সকল সদস্য যাতে নতুন ভোটারদের সঠিক ডাটাবেস সরবরাহ করে, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে, সরকারি দপ্তর, স্কুল, মসজিদ ও ধার্মিকস্থান ভিত্তিক ইমামদের মাধ্যমে যুবশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়।

    সভায় জানানো হয়, ২ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল সোয়া ১১টায় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা এবং নতুন ভোটারদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণের আয়োজন থাকবে।

    উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মো: সোহেল সামাদ, কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল-মাসুম এবং অন্যান্য সরকারি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি। এই সভার মাধ্যমে প্রস্তুতি ও উদ্বুদ্ধকরণের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • খুলনায় দিনেদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় দিনেদুপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি ভয়ঙ্কর জম্মে পড়েছে। শহরের খানজাহান আলী থানাধীন আফিল গেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে, বিসমিল্লাহ মোটরসের সামনে, এক ব্যবসায়ীকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তির নাম শেখ সোহেল (৪৫), তিনি মাছের ঘের ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে দুপুর আড়াইটার দিকে, যখন তিনি পেট্রোল পাম্পের পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য এসেছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা দুইজন দুর্বৃত্ত তার মাথায় লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়, আর শেখ সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় যে, এখন ঘটনাস্থলে তদন্ত চলাছিল, এর ফলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, সিআইডির একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত এবং দুর্বৃত্তদের দ্বারা সংঘটিত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন নিহত শেখ সোহেল, যিনি অন্যদের সঙ্গে থাকাকালীন এ ভয়ঙ্কর হামলার শিকার হন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অফিসার বলেন, হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে গেছে এবং নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে।

  • নড়াইলে চার খুনের ঘটনায় একপক্ষের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১০

    নড়াইলে চার খুনের ঘটনায় একপক্ষের ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১০

    নড়াইলের সদরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাবাসহ চারজন খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অবশেষে এক পক্ষের বিরুদ্ধে ৬৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রিয়জনহারানোর এই ঘটনায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সে সময় পুলিশে মামলা করেন নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ। তবে অন্য পক্ষের কেউ এ ঘটনায় এখনও অভিযোগ করেনি। এই ঘটনার পর থেকে পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুণ্ডু সময় সংবাদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন: সদর উপজেলার শোলপুর গ্রামের অলীপ সরকার (৩৫), অচিন্ত টিকাদার (৫৫), গোবরা গ্রামের শাকিল শেখ (২৭), সিংগা গ্রামের ইউপি সদস্য মোশফিকুর রহমান ওরফে মোফাজ্জেল (৫৫), তারপুর গ্রামের সদর মোল্য (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), জসিম মোল্লা (৩৬), একই গ্রামের রনি শিকদার (২৯), বড়কুলা গ্রামের হালিম ফকির (৬০) এবং কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তুফান মোল্লা (৩০)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খয়েরুজ্জামান মোল্যা খয়ের ও খলিল শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। এর জের ধরে বহুবার পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘটিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির সময় ‘খয়ের’ চেয়ারম্যানের সমর্থকরা খলিল শেখের অনুসারীদের উপর হামলা চালায়, গুলি ছোড়ে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ এবং তার চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখ ঘটনাস্থলে খুন হন।

    আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় চিকিৎসকরা নিহত খলিল শেখ, তাহাজ্জুদ শেখ ও ফেরদৌস শেখের মরদেহ ঘোষনা করেন। এরপর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মরদেহগুলো সিংগাশোলপুর বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর সাথে একই দিন একই গ্রামের অহিদুর ফকিরের মরদেহ তারাপুরে দাফন করা হয়েছে।