Author: bangladiganta

  • তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে

    তারেক রহমান: ‘জুলাই সনদ’ বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে ‘জুলাই সনদে’ বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন এবং প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি এ বিষয়ে কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না বলে জানান।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারপ্রাঙ্গণে এক জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনসভার আগে তিনি মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন ও গণমানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের বিপ্লবের ফলস্বরূপ যে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়েছে, বিএনপি তা পূর্ণভাবে সমর্থন করেছে। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘যে সনদে বিএনপি সই করেছে, তাকে আমরা ইনশাআল্লাহ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।’

    তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে—এমন প্রত্যাশা থেকেই তারা দেশের কর্তৃত্বকেন্দ্রিক কাঠামো পরিবর্তনে অগ্রসর হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের জন্য দলের প্রস্তাবিত ৩১ দফা সংস্কারের মধ্যে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুশাসনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে রাখা হয়েছে এবং তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বক্তব্যের সময় তিনি বিরোধী পক্ষকে সতর্ক করে বলেন, স্বৈরাচারের ছায়া আবার কার ওপর অবস্থান করছে এবং কারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চাইছে—এসব নিয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    তিনি জানান, বিএনপি সবসময় জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করে এসেছে। অতীতে খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে; এমন কর্মসূচিকে যারা বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের তিনি ‘‘জনশত্রু’’ হিসেবে গণ্য করবেন এবং সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

    অনুষ্ঠানে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভাসানী সারাজীবন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কল্যাণের জন্য লড়েছেন। তার আদর্শ দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে এবং ভাসানীর দেখানো পথেই দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি।

  • ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম আলোচনা শুরু করে বলেন, এই দেশের জাতীয় ইতিহাসে শ্রমিকরাই বহুবার রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করেছে—১৯৪৭-এর স্বাধীনতার আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রয়োজনে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত অধিকাংশ শহীদই শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন। শ্রমজীবীর ত্যাগের ওপর দাঁড় করে ক্ষমতায় আছে বর্তমান বিএনপি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার শ্রমিকদের রক্তের ওপর বসে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু মাত্র এক মাসের মাথায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। ফলে এটি একটি গণবিরোধী সরকার।’

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া কিছু অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার এবং কাঙ্খিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও বিএনপি ভঙ্গ했다고 আক্রমণ করেন নাহিদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াদা ভঙ্গের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না—জনগণ ও শ্রমিককতৃক গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজ সর্বত্র ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা—সেই লক্ষ্যেই আমাদের ঐক্য প্রয়োজন।’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে বাংলাদেশের নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে, নতুন বাংলাদেশের পথে জুলাইয়ের আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।’

    সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্যে রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও ডাক দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এবার শুধু সংসদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব না; রাজপথের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলন ও রাজপথের মাধ্যমে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি অধিকার নিশ্চিত করাবো।’

  • সংস্কার পরিষদ না হলে সংকট ভোগ করবে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে সংকট ভোগ করবে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    বিরোধী চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার পরিষদ চলমান না হলে সৃষ্ট সংকটের পুরো ফল ভোগ করতে হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে। তিনি বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি দ্রুত যুদ্ধোক্ত মুখাপেক্ষী হয়ে উঠছে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে তৎপরতা নেওয়া জরুরি।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম মূল অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে তিন ধরন의 দাবি উঠে এসেছিল—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ফ্যাসিবাদ মোচনের ডাক দিল, বিএনপি নির্বাচন জানালো, আর আমরা (এনসিপি) সংস্কারের জন্য গণপরিষদের দাবি তুলেছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কার আলোচনায় অংশ নেওয়ায় আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদের দাবিতে আপোস করেছি।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন একটি কৃত্রিম বিরোধ গড়ে তুলছে। তারা জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে এবং জুলাই সনদকে নিজেদের দলের ইশতেহার বানিয়ে ফেলেছে; এর ফলে গণভোটের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্যই সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন তারা কথার বরখেলাপ করেছে এবং গণভোটের রায়কে অবহেলা করেছে।

    গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করলে সরকারকে তা ভোগ করতে হবে—এমন সতর্কবাণীও দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘এখন আমাদের যুদ্ধপরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা উচিত—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা হবে, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট কীভাবে মোকাবেলা করা যাবে।’’

    নাহিদ আরো মন্তব্য করেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের মডেল উপস্থাপন করেছিল, সেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই অব্যবস্থাই জাতিকে দুর্যোগে টেনে এনেছে, যার দায়ভার এবং পরিণতি বিএনপিকে বহন করতেই হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এর পরিণতি সাধারণ হবে না।’’

    সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন ও তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ সরকারকে অনুরোধ করেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখুন—না হলে এর ফল আপনাদের ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক রিজার্ভ বেড়ে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৪.৬৬ বিলিয়ন ডলার)। সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪,৬৬০.৯৯ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯,৯৭৭.৮৯ মিলিয়ন ডলার।

    তুলনামূলক হিসেবে বলা যায়, আগের হিসাব ছিল ৯ এপ্রিল পর্যন্ত—তখন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪,৬৪৫.০৪ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৯,৯৫২.৬৬ মিলিয়ন ডলার। এতে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভে বাড়তি ১৫.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ ভিত্তিক রিজার্ভে বাড়তি ২৫.২৩ মিলিয়ন ডলার দেখা গেছে।

    উল্লেখযোগ্য, নিট রিজার্ভ হিসাবও আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী করা হয়। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদী বৈদেশিক দায়-দায়িত্ব (short-term liabilities) বিয়োগ করলে যেই পরিমাণ পাওয়া যায় তাকে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ বলা হয়। এই ধরনের সংক্ষিপ্ত আপডেট দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থা ও লেনদেন পরিচালনার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলাতে অনীহা করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদলাতে অনীহা করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এগুলো গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকের সকল শাখায় নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করতে হবে। গ্রহণের চারপাশে নতুন বা পুনঃপ্রচলিত ব্যবহারযোগ্য নোট সরবরাহ করার কথাও নির্দেশে রাখা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যদিও আগেই এই নির্দেশনা ছিল, তবু বাজারে এ ধরণের নোটের আধিক্য রয়ে গেছে এবং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে সমস্যা তৈরি করছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ‘ক্লিন নোট পলিসি’ কার্যকর করার জন্য ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষভাবে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ছোট নিষ্পত্তিযোগ্য নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ করতে এবং নির্ধারিত কাউন্টারে বিনিময় নিশ্চিত করতে শাখাগুলোকে বলা হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে এমন নোট নেওয়া হলে তাদের বদলে ব্যবহারযোগ্য বা নতুন নোট দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা বা গাফিলতি করে, তাহলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

    এই নির্দেশনা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

  • ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ: প্রকাশ পেল ১০ দফার প্রস্তাব

    ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক পদক্ষেপ: প্রকাশ পেল ১০ দফার প্রস্তাব

    কুয়েতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ওয়াশিংটন একটি নতুন ১০ দফার কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়ে দিয়েছে। কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল-জারিদার রিপোর্টে এই প্রস্তাবকে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    প্রথম দফার আলোচনা ইসলামাবাদে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক আয়োজনের বিদ্যমান কূটনৈতিক যোগাযোগ তীব্র হয়েছে। এমন সময় মার্কিন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার খবর আসে, যা কূটনৈতিক মঞ্চে নতুনোভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

    ইরানের সূত্র জানায়, প্রথম দফায় অংশ নেওয়া একজন মার্কিন কর্মকর্তা—যাকে প্রতিবেদনে ‘জে.ডি. ভ্যান্স’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—শেষ মুহূর্তে তেহরানে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। সূত্রটি বলেছে, ওই প্রস্তাবের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির পর।

    সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক আলোচনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আংশিক ঐকমত্য গড়ে উঠায় নতুন প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবের মূল উপাদানগুলোতে রয়েছে: ইরানের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় তেহরানের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈরী ক্রিয়াকলাপ বন্ধের শর্ত।

    এছাড়া প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি সময়সীমার জন্য (প্রতিবেদন অনুসারে ১০ বছর) স্থগিত রাখা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া এবং আঞ্চলিক পারমাণবিক কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। তদুপরি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর অথবা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রাখতে বলা হয়েছে।

    প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণভাবে নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যৌথ তত্ত্বাবধানের কথাও উল্লেখ আছে। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন স্থগিত রাখা, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ নির্দিষ্ট শর্তে ফেরত দেওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তি পর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা প্রস্তাবে স্থান পেয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে এখনো ওয়াশিংটন কিংবা তেহরান থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলমান; প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও সমঝোতার সুযোগ তৈরি হলে তা দ্বিতীয় দফা বৈঠকে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • কানাডার ফেডারেল সংসদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হলেন ডলি বেগম

    কানাডার ফেডারেল সংসদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হলেন ডলি বেগম

    কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। তিনি ১৪ এপ্রিল টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের ফেডারেল উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক ভোটে জেতার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হিসেবে স্থান করে নেন।

    প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, ডলি বেগম প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই বিশাল বিজয় লিবারেল পার্টির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ — পার্লামেন্টে পার্টির অবস্থানকে শক্ত করার ক্ষেত্রে এ আসনের গুরুত্ব ছিল গভীর।

    ডলি বেগম শুধু একটি প্রতিশ্রুতিশীল ভোটজয়ী নেতা হিসেবে নয়, বরং কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে অভিবাসী কমিউনিটিদের কণ্ঠস্বরের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি নিজেকে সামাজিক ন্যায়বিচার, অভিবাসী অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সংরক্ষণ-উন্নয়নের দিকে নিবেদিত একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন।

    আগে ডলি অন্টারিও প্রদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে এমপিপি (Member of Provincial Parliament) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে স্থানীয় সমস্যা বোঝা ও সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নিতে সাহায্য করেছে।

    নিজের বিজয় ভাষণে ডলি বেগম বলেন, ‘‘এই জয় কেবলই একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, এটি বহুসাংস্কৃতিক কানাডার অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনারই জয়।’’ তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করতে তিনি জোরালোভাবে কাজ করবেন।

    বাংলাদেশি অভিবাসী সমাজ ও স্থানীয় প্রবাসীদের মধ্যে এই জয়ের ব্যাপারে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, ডলি বেগমের এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি ও নেতৃত্ব প্রশ্নে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা দেবে। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে তার কার্যক্রম ও প্রতিনিধিত্ব কিভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন নজরকাড়া বিষয়।

  • খুলনায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত

    খুলনায় বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত

    খুলনার দৌলতপুরে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুজন মারা গেছেন। সংঘর্ষটি দৌলতপুর থানার রেলিগেট এলাকায় ঘটে।

    ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ঘাতক বাস ও dessen চালককে গ্রেপ্তার করেছে। সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি দৌলতপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সঠিক কারণ выяс করার চেষ্টা চলছে। আহত বা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য স্বীকৃত হওয়া মাত্র তা জানানো হবে।

  • একুশে টিভির ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য উদযাপন

    একুশে টিভির ২৭ বছরে পদার্পণ: খুলনায় বর্ণাঢ্য উদযাপন

    “পরিবর্তনে অঙ্গিকারবদ্ধ” শ্লোগানকে হাতে নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সৃজনশীল অনুষ্ঠান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন ২৭ বছরে পা দিল। এ উপলক্ষে খুলনায় একটি বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালন করা হয়।

    পহেলা বৈশাখ সকাল ৯টায় খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা, কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও বৈশাখী আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। একুশে টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও সিইও আব্দুস সালামের পক্ষে খুলনা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম নূর নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং চ্যানেলের জন্মদিন উদযাপন করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস.এম. মনিরুল হাসান বাপ্পী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন ও যুগ্ম-মহাসচিব হেদায়েৎ হোসেন মোল্লা, খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম।

    খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক দিদারুল আলম, কৌশিদ দে বাপ্পী ও আহমদ মুসা রঞ্জু, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, কোষাধ্যক্ষ ও খুলনা টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম মতি সহ অন্যান্য সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসান হিমালয়, নির্বাহী সদস্য কেএম জিয়াউস সাদাত ও দৈনিক জন্মভূমির যুগ্ম-সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ্জামানও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

    অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, সিপিবি নেতা কমরেড মিজানুর রহমান বাবু, জনতা ব্যাংক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে মো. জাহাঙ্গীর আলম। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন স্তরের উপস্থিতিদের মধ্যে ছিলেন শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি কেএম হুমায়ুন কবির, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, খুলনা সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পি। বিএনপির নেতারা জাফরী নেওয়াজ চন্দন, ইকরামুল কবীর মিল্টন, জিএম হারুন অর রশীদ, মো. আমিন আহমেদ ও মেশকাত আলী উপস্থিত ছিলেন। নারীনেত্রী হোসনেওয়ারা চাঁদনী, সুজানা জলি ও উন্নয়ন কর্মী মো. আব্দুল হালিমসহ আরও অনেকে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উৎসবকে জমজমাট করে তোলেন।

    বাংলা নববর্ষ ও একুশে টিভির জন্মদিনকে কেন্দ্র করে হওয়া এই আয়োজনটি ছিল আন্তঃপেশাগত মিলনমেলা ও উৎসবমুখর — যেখানে সংবাদ, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব একসঙ্গে উপস্থিত ছিল।

  • ব্লেজিং মুজারাবানিকে পিএসএল থেকে দুই বছর নিষেধাজ্ঞা

    ব্লেজিং মুজারাবানিকে পিএসএল থেকে দুই বছর নিষেধাজ্ঞা

    পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ) মধ্যেই লিগ ছেড়ে আইপিএলে যোগ দেওয়ায় জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেজিং মুজারাবানিকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পিএসএল কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    পিএসএল এক বিবৃতিতে বলেছে, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। এক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকতে থাকা অবস্থায় অন্য কোনো লিগে মাঝপথে যোগ দেওয়া পেশাদারি আচরণের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মুজারাবানির এই আচরণ দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কতটা গুরুতর তা প্রমাণিত হয়।

    ঘটনা এসেছে এমন সময়ে যখন মুজারাবানি ২০২৬ সালের আরম্ভিক নিলামে কোনো দল পাননি। পরে তিনি পিএসএল দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে শামার জোসেফের বদলি হিসেবে সুযোগ পান। অন্যদিকে আইপিএলে তার সুযোগ সৃষ্টি হয় কলকাতা নাইট রাইডার্সের পথে — জানুয়ারিতে বিসিসিআই নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা বাদ দেয়ার পর মুজারাবানিকে সেখানে নেওয়া হয়। এরপরেই মুজারাবানি পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে চলে যান, যা নিয়ে লিগ কর্তৃপক্ষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    আইপিএলে মুজারাবানির পারফরম্যান্সও মিশ্র রকমের — এবারের টুর্নামেন্টে তিনি দুই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি ১০.৭১। সব উইকেটই এক ম্যাচে এসেছে: ২ এপ্রিল ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৪ ওভার বল করে ৪১ রানে ৪ উইকেট। সমগ্র টুর্নামেন্টে কলকাতা নাইট রাইডার্স চারে ৪ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে আছে এবং আজ প্রথম জয়ের খোঁজে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে খেলবে (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা, এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম)।

    আগে একই ধরনের ঘটনার উদাহরণ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বশকে এক বছর পিএসএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল; তখন বশকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে লিজাড উইলিয়ামসের প্রতিস্থাপন হিসেবে নেওয়ার কারণে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া এবার মুজারাবানির সঙ্গে সঙ্গে স্পেনসার জনসন ও দাসুন শানাকাও পিএসএল ছেড়ে আইপিএলে গেছেন—তাদের শাস্তি বা অনুসন্ধান সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।

    পিএসএল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ফ্র্যাঞ্চাইজির সাথে থাকা অবস্থায় কোথাও যোগ দেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের নিজেদের দায়বদ্ধতা ও চুক্তি মানার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা মুজারাবানির বিরুদ্ধে লিগ কর্তৃক নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ হিসাবে দেখা যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগগুলোর নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের নজির হিসেবে পরিগণিত হবে।