সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে আগের একই হার বহাল রেখেছে। রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। এর ফলে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেই হারে মুনাফা দেওয়া হতো, তা আগামী ছয় মাসও অপরিবর্তিত থাকবে। গত বৃহস্পতিবার সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর প্রস্তাব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা সাধারণ জনগনের মাঝে বেশ সমালোচনার সৃষ্টি করে। কারণ, মধ্যবিত্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বেশিরভাগ সময় তাদের সঞ্চয়পত্রের উপরেই নির্ভরশীল থাকেন। মঙ্গলবার সকালে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এই বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে এবং পরে প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে নতুন করে আগের হার অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি হয়।বর্তমানে সরকারি সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে। এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে নির্ধারিত হারে মুনাফা দেওয়া হয়। বেশি পরিমাণে বিনিয়োগের জন্য মুনাফার হার কিছুটা কম, যেমন ৫০ লাখ টাকার কাছাকাছি límites। এই সঞ্চয়পত্রগুলোতে সময়সীমা পূরণের আগে ভেঙে ফেললে মুনাফা কম হয় এবং মূলধন থেকে নির্ধারিত হারে লাভের পার্থক্য নির্ভর করে নির্ধারিত সময়ের উপর। পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার মধ্যে একমাত্র পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণের পর মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩%, যা এখন একই অবস্থায় রয়েছে। এছাড়াও, বেশি বিনিয়োগে হার ১১.৮০% থেকে ১০.৪১% এ নামানো হয়েছিল, কিন্তু নতুন প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের হার আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণে ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, যেখানে ৫ বছর ও ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদ হার অনুসারে হার নির্ধারিত হয়। সম্প্রতি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমার কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও কমে যায়। এটি কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন কেনা সঞ্চয়পত্রে। সাধারণত গ্রাহকরা দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, যারা অর্থসংকটে বা জরুরি প্রয়োজনের জন্য সঞ্চয়পত্র ভাঙেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এখনকার পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর বিষয়ে সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। অর্থনীতিবিদরাও পরামর্শ দেন যে, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার না কমানোই উত্তম এবং দেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বার বিবেচনা করা দরকার।
Author: bangladiganta
-

একদিনের ব্যবধানে আবার সোনার দামে বড় নজরদারি লাফ
বাংলাদেশের বাজারে এক দিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উচ্চ মানের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকার বেশি।
বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন দাম কার্যকর হবে ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে। সংস্থাটির মতে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।
বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের সর্বশেষ দামের তথ্য জানাতে গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি ওয়েবসাইটের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য প্রতি আউন্স এখন ৪৪৪৫ ডলার।
নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্মত বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের সোনার ভরি মূল্য ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ভরি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ হাজার ৪২৩ টাকায়।
এছাড়াও, সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৮৪১ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।
-

ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি গ্যাস ব্যবসায়ীরা কারসাজির মাধ্যমে এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। ফাওজুল কবির বলেন, কিছু ব্যবসায়ী আশঙ্কা করেছিলেন যে এলপিজির দাম আরও বাড়বে, এবং এখন দেখছেন বিএআরসির নির্ধারিত মূল্য ৫৩ টাকা বা তার কাছাকাছি বাড়ানো হয়েছে। এই সুযোগটিই কিছু ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, সরকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয় যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এ ধরনের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সম্পূর্ণ কারসাজির ফল। সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশি چوকসের মাধ্যমে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারসাজির জন্য মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একসাথে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
-

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে মীর আরশাদুল বিএনপিতে যোগ দিলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেন মীর আরশাদুল হক। তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর, উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি তার দলীয় সদস্য হিসেবে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির কনটেন্ট ক্রিয়েটর ড. সাইমুম পারভেজ ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রাপ্ত ছিলেন। তবে, জামায়াতে ইসলামী সঙ্গে এনসিপির আলোচনা চলাকালে, ২৫ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।
-

অবিশ্বাস্য পক্ষপাতদুষ্ট ডিসি-এসপির অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে
জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের অভিযোগ করেছেন যে, অনেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) নির্বাচনী পরিস্থিতিতে পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে এসব ডিসি-এসপিকে সরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সৈয়দ তাহের এ সব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন মামলার সিদ্ধান্তে দেশজুড়েও দ্বৈতভাব দেখা গেছে। আর তাই তারা বলছেন যে, কিছু ডিসি ও এসপি পক্ষপাতদুষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে। এসব কর্মকর্তাদের বদলি করে দেয়ার জন্য তিনি ইসিকে নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালীন একজন কর্মকর্তাকে অনেক বেশি প্রোটেকশন দেওয়া হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কারণ ক্ষমতায় থাকা দলীয় কার্ড, দেড় কাপড়ের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।
সৈয়দ তাহের বলেন, দলীয় ডিসি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সরকারি সিদ্ধান্তগুলোও দলীয় স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের মধ্যে লেভেল প্লেইং ফিল্ডের অভাব দেখা দিচ্ছে। কিছু ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। এতে নির্বাচন অবাধ ও স্বচ্ছ থাকার বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিসিটিভি ব্যবহার নিয়ে ইসি ইতিমধ্যে আলোচনা করছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। অন্যথায়, যদি নির্বাচন জুয়া খেলা হয়, তাহলে দেশের স্বনাম বহু ক্ষুণ্ন হবে। ক্ষমতাসীন দলের আচরণে ব্যতিক্রম দেখা দিলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, তারা কমিশনকে বলেছে, মাঠে প্রমাণ দিয়ে দেখাতে হবে। বিশেষ কোন তালিকা তারা দেননি, বরং পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন।
ভারতের সঙ্গে জামায়াতের নেতার বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিদেশি প্রভাব থাকার চেষ্টা হচ্ছে। তবে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে জামায়াতের আমিরের সরাসরি বৈঠক হয়নি। যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন, তখন তারা দেখা করতে চেয়েছিল, যা গোপন রাখা হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও তা গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কোথাও বাতিলও। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়ালের মনোনয়ন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদও দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে, তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এটি দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতির সত্যতা ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
-

নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে বার্ষিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হুমায়উন কবির।
তিনি বলেন, চীন এই সময়ে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এর পাশাপাশি, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করা এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে কীভাবে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যায়, সেই বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে হুমায়উন কবির সাংবাদিকদের জানান, আগামী দিনে দেশের উন্নয়নে চীন ও বাংলাদেশ কীভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারে, সেই বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এছাড়াও, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ভুমিকা কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, এবং বিএনপি’s ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। এই আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
-

সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিএনপি: সালাউদ্দিন
বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সংগঠনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রার্থীদের বোঝানোর জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে তিনি এই কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এর বহুপ্রার্থী থাকলেও অনেকের প্রত্যাশা থাকে যে, তারা মনোনীত হবেন। তবে দলের স্বার্থে অনেক সময় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। ফলে, কিছু প্রার্থী মনোমতো না পেয়ে হতাশ হন। তিনি বলেন, আমাদের সংগঠনে তাদের মনের কথা শুনি; কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিই এবং শান্ত রাখার চেষ্টা করি। আশাকরি খুব শিগগির এই বিষয়গুলো সমাধান হবে। এছাড়াও, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চলে সফরে যাওয়ার সময় কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা জাতির জন্য প্রত্যাশিত। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা সম্মান করি এবং এই চেতনাকে আরও উজ্জ্বল করতে চাই। এই জন্যই সেখানে যাচ্ছেন তিনি। কোনো নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন নেই। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সকলকে অনুরোধ করব, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ও আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, শহীদদের আত্মত্যাগকে মহিমান্বিত করব। তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন, তাহলে এটি অভ্যুত্থানের প্রতি সম্মান ও জাতির প্রত্যাশাকে নির্দেশ করে। তিনি মন্তব্য করেন, এই ধরনের শহীদদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের সংগঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা জাতির জন্য উৎসাহের বার্তা।
-

দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র নতুন করে হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছে: হেফাজত
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেছেন, দেশবিরোধী ফ্যাসিস্ট চক্র আবারও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হকের পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পতিত এবং দেশবিরোধী এই অবৈধ চক্র পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের ওপর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে। জুলাইযোদ্ধা হাদি ও মুসাব্বিরকে হত্যা করে এই জঙ্গি চক্র রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে।
তিনি মনে করেন, এসব হামলার মূল লক্ষ্য হল দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, বিদেশে দেশের সুনাম ধ্বংস করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অসহায় করে তোলা। এই ঘটনাগুলোর পেছনে কারা ইন্ধন দিচ্ছে, কারা লাভবান হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নারী নির্যাতন ও বিভিন্ন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে।
হেফাজতের মহাসচিব আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী এখনও ধরা পড়েনি। দিনে দিনে গুলি করে হত্যাকারী কিভাবে পালিয়ে যায়, সেটি রহস্যজনক। তারা জুলাই বিপ্লবীদের অপ্রিয় করে তুলতে চাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে গড়ে তোলা বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি আরো জানান, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের অভ্যন্তরেও একটি দুষ্টচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা ব্যাহত করতে চায়। এই জন্য তারা সন্ত্রাস ও সহিংসতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
হেফাজত মহাসচিব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব খুনের রহস্য উদঘাটনে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। দ্রুত সময়ে বিচার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
-

এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছিলো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন কার্যক্রম। তবে খুব শিগগিরি এই কাজটি আবার শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, এই বিষয়ে সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভোটার তালিকা এবং প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়। এছাড়া, পোস্টাল ব্যালটের প্রিন্টিং কাজও শেষের পথে। এই প্রিন্টিং কাজ ১৮ জানুয়ারীর মধ্যে সম্পন্ন হলে আমরা এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করব।’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত এবং সহজে তাদের এনআইডি সংশোধন করতে পারবেন।
-

বিশ্বব্যাংকের নামে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও আইডি খুলে প্রতারণা, সতর্কবার্তা
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে নিজেদের নাম ও লোগো ব্যবহার করে চলছে প্রতারণামূলক কার্যক্রম বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, বিশ্বব্যাংক কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ দেয় না এবং কারও ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যও সংগ্রহ করে না। সম্প্রতির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে, বিশ্বব্যাংকের নামে ভুয়া পেজ ও অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ‘ফি’ বা অন্যান্য খরচের বিনিময়ে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই প্রতারকরা বিশ্বব্যাংকের নাম, লোগো এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যদি কেউ এই ধরনের প্রতারণার শিকার হন বা সন্দেহজনক যোগাযোগ পান, তবে অবিলম্বে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করছে। বিশ্বব্যাংক পুনরাই উল্লেখ করে, তারা দেশের সরকার ও বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করে, কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে কোনও ঋণের জন্য কোনও অর্থ চাওয়া বা কাজের জন্য টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অপ্রযোজ্য। তাই এসব ভুয়া প্রচার বা প্রতারণার দাবি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
