Author: bangladiganta

  • সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ ঘোষণা করেছে যে দেশে সোনার দাম নতুন করে বেড়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরি ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম বেড়ে এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা হয়েছে, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি। এই দাম বৃদ্ধি আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের মতে, স্বর্ণের তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার ফলস্বরূপ দেশের বাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, এর মানে এত দিন যে দামে বিক্রি হচ্ছিল তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যান্য ক্যারেটের সোনার দামে যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের এক ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারেও সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, গত মাসের শেষে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক দামে প্রবল উত্থানের কারণে দেশের বাজারেও দাম রেকর্ডবার বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম এক ভরি বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পৌঁছে গেলে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের স্বর্ণ বাজারে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে এবং এত ডাকা কখনোই আগে দেখা যায়নি।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) থেকে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাজুস এ তথ্য জানায়। আজ সকাল ১০টা থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটি বলেছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার মূল্যে সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

    নতুন দামে দেখা গেছে, ২২ ক্যারেট সোনার ভরি এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

    তবে এসব মূল্যের ওপর সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

    আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি আবারও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়। তখন ২২ ক্যারেটের ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে মূল্য দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত ৩২ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বার দাম বাড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়, এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে এবং ২৯ বার কমেছে।

    অপরদিকে, রুপার দাম মোটেও পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রোপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। তবে অন্যান্য মান অনুযায়ী— ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ বছর রুপার দাম ১৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ বার দাম পরিবর্তন হয়, তার মধ্যে ১০ বার বাড়ে এবং ৩ বার কমে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরের পরিবর্তে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরের পরিবর্তে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চলমান মেয়াদ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে অবসরে যাচ্ছেন তিনি, এবং তার স্থানে নতুন গভর্নর হিসাবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ আর কোনওভাবেই কার্যকর থাকবে না। এটি মূলত ২০২৪ সালের ১৩ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে নিয়োগের মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে, এখন থেকে মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

    নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগে বলা হয়েছে, তাকে অন্যান্য সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব সুবিধা ও বেতন-ভাতা ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করবেন তিনি। এ নিয়োগের বিস্তারিত শর্তচুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকবে।

    এ আদেশটি সবার জন্য অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সদস্য এবং হিরা সোয়েটারের মালিক।

    উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে গভর্নর সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর, ড. আহসান এইচ মনসুর তার অফিস ত্যাগ করেন। কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি তিনি। তিনি জানান, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। অন্য কারো সঙ্গে কথা বলেননি।

    খবর পাওয়ার পরই তিনি অফিস থেকে চলে যান, যার কারণে ব্যাংকে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এ সময়, তিনি তার সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে সরাসরি অফিস ত্যাগ করেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবার পর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন। এরপর, ১৩ আগস্ট নতুন গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

  • নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন

    সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতকে এগিয়ে নিয়ে আসতে সদ্য বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সাহসী উদ্যোগগুলি অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও গুরুত্বের সঙ্গে তার সেই কাজগুলো অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত কিছু সময়ে অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যে সব সংস্কারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর জন্য তিনি তাদের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে এগুলোর স্থায়ী বাস্তবায়ন ও আরও উন্নত করার জন্য এই উদ্যোগগুলো চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের মাধ্যমে এসব কথা জানান। এটি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রকাশ পায়।

    নতুন গভর্নর তার প্রথম দিনই নির্বাহী পরিচালক, ডেপুটি গভর্নরসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলোর পুনরায় চালু করতে দেশের ব্যাংকিংখাতের সহায়তা প্রদান।

    আরিফ হোসেন খান জানান, গভর্নর পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নেওয়া ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে মোস্তাকুর রহমান কাজ করবেন। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে তিনি নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং খাতে সমন্বয় জোরদার করার প plán ে উঠেছেন। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সভায় মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন গভর্নর। পাশাপাশি, উচ্চ সুদের হার যা বিনিয়োগের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

    তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি নিয়ম-ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন হবে। কাজের দ্রুততা বাড়াতে ‘ডেলিগেশন অব অথরিটি’ বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপত্র জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘মব’ কেলেঙ্কারিতে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, নতুন গভর্নর বলেছেন তিনি ব্যাংককে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে চান। যারা এই মব কালচার বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের खिलाफ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যথাযথ নিয়মবিধি অনুসরণ করা হবে।

  • নতুন গভর্নর কাজের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান

    নতুন গভর্নর কাজের মাধ্যমে ক্ষমতার প্রমাণ দিতে চান

    বাংলাদেশের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কথা নয়, কাজের মাধ্যমে সংকল্পবদ্ধ। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করেন। অভ্যর্থনা জানান ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রবেশের সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, কথায় নয়, প্রকৃত কাজের মধ্য দিয়ে নিজের সক্ষমতা দেখাতে চান। তিনি আরও বলেন, আমি এসেছি নির্মল কাজে মনোযোগ দেয়ার জন্য, এরপরই প্রকৃত ফলাফল দেখা যাবে।

    নতুন গভর্নর যোগদানের আগে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান, সেখানে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আসেন। গত বুধবার বিকেলে তাকে ৪ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থানাভিষিক্ত হয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ তার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে। এছাড়াও, সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

    মোস্তাকুর রহমানের জন্ম ১৯৬৬ সালে ঢাকায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) থেকে ফ্যাসিএমএ ডিগ্রি লাভ করেন।

    তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বিএনপির ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ২৩ তম সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য এবং হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। হেরা সোয়েটার্স নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত এক পরিবেশবান্ধব কারখানা।

  • আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলায় সরকারের অনুমতি নেই: মির্জা ফখরুল

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার باوجود বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিজেদের কার্যালয় খুলছে, যা নিয়ে নানা আলোচনা চলে আসছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি মহাসচিব ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই কার্যালয়গুলো খোলার জন্য কোনোরকম অনুমতি দেওয়া হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি দেখবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন। এটি প্রথমবারের মতো দলের কার্যালয়ে গিয়েছেন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর। তিনি স্মরণ করেন, প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই কার্যালয়ে অনেক কর্মসূচি পালন করেছেন। তার জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি।

    তিনি আরও জানান, নিয়ম অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার অনুমতি সরকারের নেই। কারণ, আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম এখনো সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ। তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টি নজরে রাখবে।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, ওরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল ও সরকার একসাথে মিলেঘটে সফলতা অর্জন করবে।

    সাংবাদিকদের থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আরও শক্তিশালী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন মির্জা ফখরুল।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, এতে কিছু প্রথাগত নিয়ম রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, দলের নারীদের মনোনয়ন প্রদানও চলবে।

    উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মুনির হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ আরও কিছু নেতা।

  • সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব পেলেন

    সারজিস আলমের নতুন দায়িত্ব পেলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের মূল সংগঠক, সারজিস আলম। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটির গঠন ও কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির সভাপতি মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনায় এই ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

    কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। এছাড়া আরিফুল ইসলাম আদীব, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি, সব বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এক্স-অফিসিও সদস্যেরূপে দায়িত্বে থাকবেন।

    কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এই কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সারজিস আলম বললেন, ‘সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড প্রার্থীরাও প্রস্তুতি নিন। আমরা আসছি আপনার খোঁজে।’

    এই কমিটির দ্রুত কার্যক্রম শুরু ও প্রার্থী সন্ধানের উদ্যোগ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়ে দিয়েছে।

  • এনসিপির পরিকল্পনা: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি, জোটের দরজা খোলা থাকছে

    এনসিপির পরিকল্পনা: স্থানীয় নির্বাচন এককভাবে করার প্রস্তুতি, জোটের দরজা খোলা থাকছে

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজস্ব উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে শেষ মুহূর্তে প্রয়োজন হলে দলটি জোটের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে বলেও ইঙ্গিত দেয় তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়ে বলেন, দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয়ভাবে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ঈদের পর থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গুরুত্বপূর্ণ এরিয়া ও অঞ্চলগুলোতে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই শুরু করবে। বর্তমানে দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ১১-দলীয় জোট যদি ঐকমত্যে আসে, তবে সে সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বিবেচনা করা হবে।

    সারজিস আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি এলাকায় প্রার্থীতা ঘোষণা করা। আপাতত দলটির সিদ্ধান্ত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায়। তবে শেষ মুহূর্তে সকলের সঙ্গে বসে বৃহৎ স্বার্থের জন্য সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়ার মনোভাব রয়েছে। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, সংগঠনের মধ্যে কোনো বিভাজন হবে না।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এ বছর আইন অনুযায়ী নির্বাচনে দলীয় মার্কা বা মনোনয়ন থাকবে না। সবাই ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হবেন। আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টি কিছু নির্দিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে দলীয় সমন্বয় করবে, যা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঠিক করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় প্রশাসনে পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার আগ্রহী ব্যক্তিদের যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    সারজিস আলম উল্লেখ করেন, এর আগে সম্পন্ন একান্ত প্রস্তুতি ও জোটগত প্রক্রিয়ার কারণে শেষ মুহূর্তে অনেক কিছু ঠিকভাবে করতে পারেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটি।

    সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে মেয়াদের উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এর ফলে, ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের সময়ও অতিক্রান্ত। দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য সময়সূচি ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি।

    নেতৃবৃন্দ পুলিশি অভিযান ও সাংবাদিক আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলন ও মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, যা ক্ষুণ্ণ হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

    সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাহসীন রিয়াজ ও মঞ্জিলা ঝুমা।

  • ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবন ঢেলে দেবো: শফিকুর রহমান

    ভোটের অধিকার রক্ষায় জীবন ঢেলে দেবো: শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আশার আলো জেগেছিল। তারা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করার অভিযোগ উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি বুথে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করবো। জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি, তবে মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করার জন্য অটুট থাকবো।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষ থেকে কথা বলবো এবং তাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বো। ঢাকা-১৫ আসনকে একটি দৃষ্টান্তমূলক সফল মডেল নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী কাফরুল উত্তর ও দক্ষিণ থানা আয়োজিত মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় (ব্রাঞ্চ-২, ইব্রাহিমপুর) প্রাঙ্গণে মূলত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ ৫৪ বছরে অনেক আদর্শ দেখেছে, কিন্তু ইসলামী আদর্শের শাসন দেখার সৌভাগ্য এ দেশবাসীর হয়নি। একইসাথে, তিনি সরকারের প্রতি চীনাবাজারের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। সংহতি ও শক্তির মাধ্যমে দেশব্যাপী একটি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

    শফিকুর রহমান দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নে জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক গৃহীত ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি, সরকারি প্লট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ও প্রবাসীদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে দেশে আনার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিরও প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচনে হবে ক্ষান্তি: গোলাম পরওয়ার

    পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচনে হবে ক্ষান্তি: গোলাম পরওয়ার

    দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মূল উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি, যদি আমরা সম্পূর্ণভাবে এই ধরনের বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চাই। এই মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও মহাসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ছিল, যা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি রাজধানীর পুরানাপল্টনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন। সভার উদ্দেশ্য ছিল, ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সংঘটিত নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রস্তুতি নেওয়া। গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের পেছনে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। যদি আমাদের দেশ এই রহস্য উন্মোচন করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ না কেউ আবার কোনওভাবেই এই ধরনের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। এজন্য আমাদের উচিত, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটন করে সবার সামনে তুলে ধরা। এক এক করে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম জানা গেলে, বিচারের মুখোমুখি করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের আহাজারি ও অশ্রু আমাদের জন্য এক বিশাল অভিশাপ। এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে, নাটকীয়তার তোয়াক্কা না করে, দোষীদের আইনের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা আর চলবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার সম্পন্ন করতে হবে। যারা এই শোকাভিভূত সময়ে নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন, তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সভায় জামায়াতের সহকারী মহাসচিব রফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, নিরীহ সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা প্রমাণ করে, তাঁরা এতে জড়িত থাকতে পারেন। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল, দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা, যেন স্বাধীনতাকামী শক্তির বিপক্ষে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। পরিকল্পনামাফিক তারা কোথাও না কোথাও সফলতা পেয়েছে বলেও ধারণা ব্যক্ত করেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব ড. আব্দুল মান্নান এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম।