মধ্যপ্রাচ্যে ৩০০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল আকারে আরও ৩০০টিরও বেশি সামরিক বিমান মোতায়েন করেছে। এই কাণ্ডকারখানা ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাকে আরও জোরদার করেছে, যা মনোযোগ আকর্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহলে।

তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু প্রকাশিত ওপেন সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং সমুদ্রে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এর মতো বহরে এই বিশাল সামরিক মোতায়েন হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারির শুরুর সময় থেকেই মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই বিমান বহরকে একত্রিত করার জন্য প্রায় ২৭০টি বিভিন্ন ধরনের সরবরাহকারী বিমান পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট এবং থার্ড ডিফেন্স সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক বহরে প্রায় ৭০ শতাংশই আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান এবং বাকি ভারসাম্য সহায়ক বিমান। তাদের মধ্যে রয়েছে ৮৪টি এফ-১৮, ৩৬টি এফ-১৫, ৪৮টি এফ-১৬, এবং ৪২টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। এছাড়াও রয়েছে ট্যাঙ্কার বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও ভূমিকা পালনের জন্য ব্যবহৃত ১৮টি ইএ-১৮জি ‘গ্রোলার’, ১২টি এ-১০সি ‘থান্ডারবোল্ট’, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশনস নোড এবং ৬টি ই৩ ‘সেন্ট্রি’ ওয়ার্নিং ও কন্ট্রোল সিস্টেম বিমান।

তবে, গত জুনে অপারেশন মিডনাইট হ্যামার এর অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো बी-২ বোমারু বিমানের কোনও গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়নি।

অপরদিকে, এই বড় গুটিপোড়া বিমান শক্তির ওপরে নজর থাকলেও ইসরায়েলও গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলের ৬৬টি এফ-১৫, ১৭৩টি এফ-১৬ এবং ৪৮টি নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এর ফলে মার্কিন সেনার বিমান শক্তি কার্যকরভাবে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি ওই দেশ ১২টি মার্কিন বিমান, পূর্ববর্তী সবচেয়ে উন্নত স্টিলথ ফাইটার এফ-২২, সংগ্রহ করেছে। এগুলো সম্ভাব্য ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার স্থাপনা ধ্বংসের জন্য।

এদিকে, পরমাণু আলোচনা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর আগেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি হুমকি দিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান তিনি চান, তবে প্রয়োজনে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারেও তিনি পিছু হটবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমি এই সমস্যার সমাধানে কূটনীতি নির্ভর করব, কিন্তু একটি ব্যাপার স্পষ্ট— আমি কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না। ইরান ইতোমধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালাতে সক্ষম।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মিসাইল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কা ক্রমশই বাড়ছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এমন উচ্চমানের মিসাইল বিকাশ করছে, যা দেশের অভ্যন্তরে বা বিদেশি ঘাঁটিতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

অবশেষে, ইরান এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নির্লিপ্ত হয়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলাদা করে রেখেছে। ফলে, আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকই হয়ত নতুন করে পরিস্থিতি সুচারু করবে।