Blog

  • তমা রশিদের গৌরব: ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    তমা রশিদের গৌরব: ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন এক সাফল্য যোগ করেছেন। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে তিনি ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতে দেশের জন্য ইতিহাস গড়েছেন।

    থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় তমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সেরা নির্বাচিত হন। আগে দেশের মঞ্চে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেও এবার আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে এই বড় জয় এনে দিয়েছেন তিনি।

    তমা রশিদ বলেন, এই অর্জন শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের নারীর আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা এবং ইতিবাচক গল্পগুলোকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি মূল্যবান সুযোগ। তিনি বিষয়টি পরিবার, অনুগামীদের সমর্থন ও নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে দেখেন।

    তিনি আরও জানান, প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন—বিশেষ করে জামদানি শাড়ির মতো সাংস্কৃতিক উপাদানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তমা বলেন, সাংস্কৃতিক পরিচয় দেখিয়ে নারীর শক্তি ও সৌন্দর্যকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

    ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে सक्रिय ছিলেন তমা। পরবর্তীতে মিডিয়ায় কাজ করে তিনি নিজস্ব একটি আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন, যা তাকে এমন বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তমা রশিদের এই সাফল্য ২০২৬ সালে দেশের নারীদের জন্য বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে। তমা আশা প্রকাশ করেছেন, আগামীদিনে তিনি এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আরও বেশি তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবেন এবং দেশের সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী পরিচিত করাবেন।

  • একই ছবিতে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরা বলেছেন—দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ ছবি হবে

    একই ছবিতে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরা বলেছেন—দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ ছবি হবে

    রণবীর কাপুর আর রণবীর সিং—বলিউডের দুই আলোচিত নাম। টিনসেল টাউনে এখন সর্বত্রই একটাই প্রশ্ন: কি সত্যিই এই দুই রণবীরকে একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখা যাবে? সাম্প্রতিকভাবে এই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন নামী কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা। তাঁর মন্তব্য, যদি তারা একসঙ্গে কোনো ছবিতে কাজ করেন, তা হয়ে উঠবে দেশের অন্যতম সবচেয়ে বড় ছবি। কিন্তু সেই ছবি কখনো আসবে — তা এখনো অনিশ্চিত।

    মুকেশ ছাবরা এখন সংবাদ শিরোনামে রয়েছেন তাঁর দুই প্রজেক্ট—’ধুরন্ধর’ ও ‘রামায়ণ’—কে কেন্দ্র করে। আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে নেতিবাচক রিভিউ, স্ক্রিনিং বাতিলের খবরসহ নানা ঝটকা খায়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ছবিটিকে আগে থেকেই মূল্যায়ন করে বসেছিলেন; এমনকী অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমও পেইড নেগেটিভিটি নিয়ে সরব হয়েছেন। মুকেশ বলছেন, ‘‘মানুষ ছবি না দেখেই বিচার করতে শুরু করেন। এই ট্রোল সংস্কৃতি বেড়েই চলছে, কিন্তু ভালো ছবি শেষ পর্যন্ত সামনে এসে অবস্থান করে ফেলছে।’’

    অন্যদিকে ‘রামায়ণ’ নিয়েও নেটপাড়ায় চর্চা থামছে না। টিজার প্রকাশের পর ভিএফএক্স ও কাস্টিং নিয়ে চুলচেরা সমালোচনা উঠেছে—দর্শকরা রণবীর কাপুর বা সাই পল্লবীকে কীভাবে নেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন চলেছে। তবুও মুকেশ আশাবাদী; তার কথায়, ‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’ করার পর এই দুটি ছবিতে কাস্টিং করার অভিজ্ঞতা তার জন্য ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ‘ধুরন্ধর’ যেখানে নেগেটিভ সমালোচনাগুলোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, ‘রামায়ণ’ নিয়েও তিনি মিশ্র প্রত্যাশায় রয়েছেন।

    সব কিছুর উপরে উঠে আসে দুই রণবীরকে একসঙ্গে আনার সম্ভাবনা। মুকেশ মনে করেন—রণবীর কাপুর ও রণবীর সিং—দুইজনের অভিনয় ধরন আলাদা হলেও দুজনেই.Fprintfতুখোড় প্রতিভাবান অভিনেতা। দর্শকদের মাঝে যেই রেষারেষি থাকুক না কেন, মুকেশ চান এই দুই মহাতারকা যখনই একসঙ্গে আসবেন, তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    কবে এমন একটা মিলন ঘটবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে টালিউড-বলিউডভিত্তিক জল্পনা ও অনুরাগীদের প্রত্যাশা ধরে রেখেই রণবীরদের একসঙ্গে দেখা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকবে।

  • রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু: বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎযাত্রা শুরু

    রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু: বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎযাত্রা শুরু

    পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দুপুরে এই কাজের উদ্বোধন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সচেতন সিদ্ধান্তের ফলে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে — 이제 বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল এবং ধাপে ধাপে hereের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

    রি-অ্যাক্টরে জ্বালানি লোডিং ও পরবর্তী পরিকল্পনা:

    রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের রি-অ্যাক্টরই হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। এখানে ইউরেনিয়াম ভিত্তিক জ্বালানি লোড করা হবে এবং নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে তা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রি-অ্যাক্টর কোরে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ করার জন্য আনুমানিক ৩০ দিন সময় লাগবে।

    জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ—এখানে নিয়ন্ত্রিতভাবে নিউক্লিয়ার ফিশন রিয়্যাকশন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে, যার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৪ দিন সময় নির্ধারিত আছে। সফল পরীক্ষার পর রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে ধাপে ধাপে ৩%, ৫%, ১০%, ২০%, ৩০% ইত্যাদি পর্যায়ে উন্নীত করা হবে; এ পর্যায়গুলো সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪০ দিন লাগতে পারে। রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার মাত্রা ৩ শতাংশে উঠলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পেতে প্রায় ১০ মাস সময় ধরা হয়েছে।

    জীবনকাল ও জ্বালানি কড়া:

    রূপপুর কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬০ বছর, প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সাপেক্ষে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। একবার জ্বালানি লোড করলে সেটি প্রায় দেড় বছর ধরে চলবে; এরপর এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী প্রথম তিন বছরের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া, ফলে শুরুতে জ্বালানি আমদানির ঝামেলা থাকবে না। এরপর বাংলাদেশ নিজেই প্রয়োজনমতো ইউরেনিয়াম আমদানি করে দুই বছরে একবার বদলাপত্র করবে।

    কেন্দ্রের সক্ষমতা ও লাভ-জনিত প্রভাব:

    রূপপুর কেন্দ্রের দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদনক্ষমতা ২৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটেই এইটুকু জ্বালানি লোডিং করা হচ্ছে; দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণও তৎপরতাসহ চলছে। পুরো কেন্দ্র চালু হলে এটি শিল্প, কৃষি ও শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন গতি আনবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মজবুত করবে।

    নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি:

    রূপপুরে ব্যবহৃত রি-অ্যাক্টর তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি—এটি ডিজাইন করা হয়েছে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে। জ্বালানি লোডিং ও স্টার্টআপের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা ও কড়া মনিটরিংয়ের অধীনে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    ইতিহাস ও প্রস্তুতি:

    পারমাণবিক শক্তি নিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক ভাবনা এসেছিল ষাটের দশকে; ১৯৬২ সালে সম্ভাব্য স্থানের মধ্যে পাবনার রূপপুর নির্বাচিত হয়। যদিও ১৯৭৭ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কারণে স্থবির ছিল, তবুও এর ফলাফল ভবিষ্যৎ নীতিমালার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৮৬ সালে সাভারে ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার গবেষণা রি-অ্যাক্টর চালু করে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে রূপপুর প্রকল্পে আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তি হয়, আর ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রসাটমের মধ্যে নির্মাণ ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়।

    জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগত সুবিধা:

    পারমাণবিক বিদ্যুতের জ্বালানি দক্ষতা অত্যন্ত বেশি। উদাহরণস্বরূপ, এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন কয়লা প্রয়োজন হয়; একই ক্ষমতার পারমাণবিক কেন্দ্র বছরে মাত্র প্রায় ২৭ টন পারমাণবিক জ্বালানি প্রয়োজন। রূপপুরের দুই ইউনিট থেকে বার্ষিক উৎপাদিত বিদ্যুৎ আনুমানিক ৪০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাসের সমমান। পরিবেশ সংরক্ষণের দিক থেকেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ: রূপপুর কেন্দ্র কয়লা-নির্ভর কেন্দ্রের তুলনায় বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় ৮ মিলিয়ন টন কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিতর্ক থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির বেশি ব্যবহারকে পরিচ্ছন্ন ও কম কার্বনযুক্ত জ্বালানি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

    রূপপুর প্রকল্প সরকারের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে এর বাস্তবায়ন চলছে। এখন যে ধাপে স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছিল—বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রথম ধাপের সূচনা—তাই আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে এটি দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।

  • মৃত শিক্ষার্থী মিমোর ঘটনায় ঢাবির অধ্যাপক সুদীপকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি

    মৃত শিক্ষার্থী মিমোর ঘটনায় ঢাবির অধ্যাপক সুদীপকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে সাময়িকভাবে সব ধরনের একাডেমিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যু ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায়।

    বিভাগীয় চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি গত ২৭ এপ্রিল এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভাগের ২০২৪ সনের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিনের আকস্মিক মৃত্য্যে বিভাগ গভীর শোকাহত এবং বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ অনুষ্ঠিত বিশেষ একাডেমিক কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ড. সুদীপ বিভাগের সকল ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।

    ঘটনার পর ঢাকা পুলিশ ড. সুদীপকে গ্রেপ্তার করে এবং মামলার প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আদেশ দেন। বাড্ডা থানা পুলিশ আদালতে তাকে হাজির করে এবং তদন্তের স্বার্থে কারাগারে রাখার আবেদন করে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী ইকবাল হোসেন আবেদনে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে জেলহাজতে রাখার প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতে রিমান্ডও দরকার হতে পারে।

    আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিন আবেদন করে দাবি করেন যে, ড. সুদীপ একজন সুনামধন্য শিক্ষক এবং তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে আর্থিক লেনদেনসহ কিছু ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ ছিল।

    নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ করে ড. সুদীপকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে ড. সুদীপকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তে মামলার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলছে।

  • জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে বক্তব্য দিন বিএনপিকে তীব্র সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ‘‘পলায়ন করা ফ্যাসিবাদের রাস্তা’’ ধরে হাঁটা শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, আমরা একসময় বিএনপির সঙ্গে একসঙ্গে মজলুম হিসেবে ছিলাম। কিন্তু এখন বিএনপি সেই একই কৃত্য শুরু করেছে—যারা আগে জাতি ও বিরোধীদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত, আজ তারাই ঠিক একইভাবে আচরণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীতের মতো আওয়ামী লীগের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব গঠন আর আজ সেই লাঠিয়ালরা তাদের পাশে নেই।

    ডা. শফিকুর আরও বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন ঘটানো ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া দরকার, সেগুলোতে বিএনপি অবিরতভাবে বাধা দেয়—এটিকে তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সরকারে আসার ইশতেহারে যে ৩১ দফার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোই বিএনপি বাধা দিচ্ছে; এমনকি এসব বিষয় বুঝবার ক্ষমতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সমাবেশে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে জামায়াতে আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণেই বহু মা-বাবা, ভাই-বোনের সন্তানের বীণপ্রাণ ত্যাগে দেশের পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় ওঠার আগেই কিছু দল শহীদ পরিবারদের দুঃখে চালিয়ে যায়নি; শহীদ পরিবারদের কষ্টের সময় তাদের পাশে ছিল না। ৫ আগস্ট ও ৭ আগস্টের ঘটনার পরও জনমানুষের কষ্টে তাদের কোনো সহমর্মিতা দেখা যায়নি, অথচ বদলে তারা আন্দোলনের বেনিফিশিয়ারি হয়েছেন।

    তিনি জেলবন্দী সময়ের এক ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, তাঁর জেলসাথী আল্লামা মামুনул হক স্মরণ করেছেন যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে ছিলেন এবং তাঁরা হতাশা প্রকাশ করতেন—বলতেন ৪১-এর আগে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব নয়। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার সময় কেউ এটাকে খোদার দান বলেছিল, সেই খোদার দান ভুলে যাওয়া এবং পরে বিভিন্ন দাবিতে নিজেদের মাস্টারমাইন্ড দাবি করা—সব কিছুই ভুয়া বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তবে ডা. শফিকুর বলেন, জামায়াতে ইসলামী কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করে না। দেশের মুক্তি আন্দোলনে ছাত্র সমাজ, শ্রমিক, মা-বোনেরা জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিল—তাদের কৃতিত্বকে ছোট করা উচিত নয়। তিনি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন যে আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা, শ্রমিকরা ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের তৎপরতা ভুলে যাওয়া চলবে না।

    সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ও শপথ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতে আমির অভিযোগ করেন, যারা শপথ গ্রহণ করেননি তারা জাতির সঙ্গে আস্থা ভঙ্গ করেছেন। পুনরায় আইন-শাসন ও অধ্যাদেশ সংশোধন না হলে পুরোনো স্বৈরাচারী শাসনাচরণ অব্যাহত থাকবে—এই কারণে বিএনপির মনোভাব উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এখান থেকে কয়েক গজ দূরে এমনকি থানার ভেতরে ঢুকেও ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচনে গণভোটের রায় মেনে না নেয়ার দিন থেকেই বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে।

    ডা. শফিকুর বলেন, তিনি এমন বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে না—শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতীরা, মা-বোনেরা ভয়ে বাড়ি থেকে বের হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-চাকু দেখা যাবে না, ছাত্রদের সামনে কলম-খাতা থাকবে—এটাই তারা চাই। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করা যায়, তাহলে জুলাই কেবল ২৪ সালের ঘটনাই থাকবে না; জুলাই বারবার ফিরে আসবে এবং অবশেষে ফ্যাসিবাদের কবর লেখা হবে।

    শেষে তিনি জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে ও ৭০ শতাংশ মানুষের রায় মেনে নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে লড়াই সংসদের ভেতরেই ও খোলা ময়দানে চলবে—এ বিষয়ে জোর দেন ইনশাআল্লাহ।

  • সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি আপনাদের সমর্থন দেবে: নাহিদ

    সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন; এনসিপি আপনাদের সমর্থন দেবে: নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সারাদেশের তরুণেরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিক—এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে যোগদানের ঘোষণা উপলক্ষে নাহিদ বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমে দুর্বল করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের উপর আনা আদেশগুলো ধীরে ধীরে বাতিল করা হচ্ছে এবং অর্থনৈতিকভাবে লুটপাটকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

    নাহিদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি নতুনভাবে জোরালো হচ্ছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্র ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। ‘‘আমরা সারা দেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি,’’ যোগ করেন তিনি।

    নাহিদ তরুণদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেন—‘‘আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।’’ তিনি বলেন, জাতিগত ও রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইলে তরুণদের একসাথে হয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে। এনসিপি তাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।

    দলীয় কাজকর্ম প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাই—এই দেশকে আর বিপথে যেতে দেব না।’’ তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছেত্ব বলে উল্লেখ করে বলেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত, গণতন্ত্রকে ঘটিত ঝুঁকি রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাসহ নানা ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানেSeveral ব্যক্তির এনসিপিতে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকার রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগ দেন।

    ফেরসামিন বিদেশে থাকায় অনুষ্ঠানে তাঁর সশরীর উপস্থিতি সম্ভব হয়নি; অন্য তিনজন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। নাম ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম ইসহাক সরকার, নুরুজ্জামান কাফি ও মহিউদ্দিন রনিকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ শেষ কথা হিসেবে বলেন, ‘‘এই সরকারের তোলে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে আমাদের সকলে এক হতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।’’

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিল মাসেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন ডলার (২৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) দেশে পাঠিয়েছেন, যা বর্তমান বাজারদর (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) হিসেবে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমান। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)।

    গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় উন্নতি হয়েছে। গত বছরের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স আসে ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার; অর্থাৎ এবার সেই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি এসেছে — যা টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকায় সমান।

    ঐতিহাসিক প্রসঙ্গে, দেশের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে চলতি বছরের মার্চে, যখন এক মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ এসেছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে (৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। সে ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চলমান প্রবাহ মনিটর করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত হচ্ছে রফতানি অর্ডার, বিসিআই উদ্বিগ্ন

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত হচ্ছে রফতানি অর্ডার, বিসিআই উদ্বিগ্ন

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি উদ্বিগ্ন যে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, এজন্য অনেক আন্তর্জাতিক ক্রেতা বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক হয়ে পিছু হটেছেন।

    বিসিআই সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের বিদ্যুৎ–জ্বালানি স্থিতিশীল না থাকার খবরগুলো বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্টের জন্য পরিকল্পিত অনেক ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে আছে; বড় কিছু ক্রেতা নেতিবাচক সংকেত দিচ্ছেন এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    চৌধুরী আরও জানান, যদিও ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবু তাদের হেডঅফিস বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী স্তরের কর্মকর্তারা নতুন অর্ডার দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। ফলে সরবরাহ চেইন ও রফতানিমুখী উৎপাদনে অস্থিরতা বেড়েছে।

    এ সময় তিনি বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসা-সহায়ক নয় বলে উল্লেখ করে বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মুনাফা না থাকলেও করের ভার বহন করতে হচ্ছে, যা উদ্যোক্তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন করছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন এবং রপ্তানি আয়ের ওপর আরোপিত উৎস কর কমানোর আহ্বান জানান। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করেছেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে এখনো যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অবারিত ক্ষমতা থাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেয়ার সময় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপরে আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানোর এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা করের বোঝা না বাড়িয়ে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গঠনেরও আহ্বান জানায়।

    শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামোকে সহজ ও ব্যবসা-বান্ধব না করা হয়, তাহলে দেশের রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে জ্বালানি স্থিতিশীল করা এবং কর সংস্কারে দ্রুততা আনার ওপর তাদের জোর দাবী।

  • অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

    অভিযোগ: ফিলিস্তিনি শিশুদের অপহরণ ও হত্যা করছে ইসরায়েল

    গাজার যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিখোঁজ হওয়া এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা তাদের আটক ও স্থানান্তরের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অধিকারকর্মী বলছেন, এসব ঘটনা বিচারহীনভাবে ঘটছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।

    ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা থেকে অনেক শিশুকে অভিযোগ বা বিচারের সুযোগ না দিয়েই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে ত্রাণ শিবির থেকে — এমনই একটি মামলায় ১৬ বছর বয়সী ওমর নিজার মাহমুদ আসফুরকে একটি ত্রাণ শিবির থেকে আটক করে সামরিক কারাগারে নেওয়া ও নির্যাতন করার কথা বলা হয়েছে।

    কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে শিশুদের জিজ্ঞাসাবদীর সময় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, এমনকি পানির খোঁজে বের হওয়া শিশুদের ওপর ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শিশু কল্যাণ সংক্রান্ত আইনভঙ্গ বলে বহু সংগঠন উল্লেখ করছে।

    সেভ দ্য চিলড্রেন-এর তথ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ রিপোর্ট করা হয়েছে — অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, কেউ কেউ গণকবরের মধ্যে, আবার অনেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানায়। যুদ্ধের কারণে এক বিশাল সংখ্যক শিশু তাদের অভিভাবক থেকে বিচ্ছিন্ন বা এতিম হয়েছে এবং পরিবারগুলো বন্দি বা নিখোঁজ সন্তানের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না।

    জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ থাকা দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে; মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছেন, এই ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অধিক ত্রাস ও মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগকে জোরালো করছে।

    অপরদিকে, ইসরায়েলের কনেসেটে (পার্লামেন্ট) একটি বিতর্কিত আইন পাসের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। ওই আইনের অধীনে অধিকৃত ভূখণ্ড থেকে ধরে আনা বন্দিদের ওপর হত্যাসহ ঘনিষ্ঠ আঘাতের দায়ে আদালত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনপ্রণেতারা, আর সমালোচকরা বলছেন এই আইন আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া ও মানবিক নিরাপত্তা সীমিত করে।

    বিবাদিত আইনের কিছু নানা ধারা অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কারারক্ষীদের মাধ্যমে ফাঁসি কার্যকর করা যেতে পারে, বিনা জনসম্মুখে পরিচয় গোপন রাখা যেতে পারে, বন্দিদের বিশেষ কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখা ও সাক্ষাতের সুযোগ কড়া শর্তে সীমাবদ্ধ করার কথাও বলা হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, এসব ব্যবস্থার ফলে দণ্ডপ্রাপ্তদের আইনি সুরক্ষা কমে যাবে এবং হয়ত নির্যাতন বা বিচারহীনতা আরও বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানে ও কূটনীতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। অধিকারকর্মীরা দাবি করছেন — নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, আটক শিশুদের দ্রুত ও অন্তরায়হীন বিচারবিভাগে উপস্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারগুলো তাদের সন্তানের সন্ধান কামনা করে বসে আছে, আর বিশ্ব এমন অভিযোগের প্রতি নিরব থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে।

  • ইরানের নতুন প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

    ইরানের তিন স্তরীয় শান্তি প্রস্তাবের পারমাণবিক ইস্যু প্রথম দফায় নয়—এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাবে ‘‘সন্তুষ্ট নন’’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন একটি কর্মকর্তা। এই তথ্য মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

    রয়টার্স উদ্ধৃত ঐ কর্মকর্তার সঙ্গে, ‘তিনি (ট্রাম্প) এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন’—এরকম মন্তব্য করা হয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রস্তাবটি জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন।

    ইরানের নতুন প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য তিনটি পর্যায় নির্ধারিত করা হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি সরাসরি প্রথম পর্যায়ে নেই—এটি যুদ্ধে অবসান ও পারস্য উপসাগরে নৌপরিবহন বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির পরে তৃতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ কারণেই ওয়াশিংটনে আপত্তি তৈরি হয়েছে।

    প্রস্তাবের প্রথম পর্যায়ে দাবি করা হয়েছে যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে যাতে ইরান ও লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা না হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে, প্রথম ধাপ মেনে নেয়া হলে, হরমুজ প্রণালি (স্ট্রেইট অব হারমুজ) ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কাঠামো নিয়ে আলোচনা চালানো হবে। তৃতীয় পর্যায়ে, যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার সুচনা হবে।

    ইরান জানিয়েছে, যদি ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে বসতে চায়, তবে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই আলোচনা সম্ভব। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ওই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত দুই দিনে পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করেছেন। তিনি ওই দেশে গিয়ে হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি বিষয়ক তেহরানের প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেছেন এবং সেগুলোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন।