Blog

  • সোনার দামে ইতিহাসের নতুন রেকর্ড ভেঙে গেছে বাংলাদেশে

    সোনার দামে ইতিহাসের নতুন রেকর্ড ভেঙে গেছে বাংলাদেশে

    বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে নতুন এক ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, তারা দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুটি হাজার ৬২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, ফলে দেশের স্বর্ণের মূল্য গণনায় নতুন এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এখন ভালো মানের সোনার দামের দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা পর্যন্ত, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চতম।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দাম বৃদ্ধির কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে সোনার মূল্য বাড়ার প্রবণতা। এ ঘটনায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা ও গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

    বিশ্ববাজারের নির্ভরযোগ্য সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি থেকে জানা গেছে, স্বর্ণের বাজারে আউন্স প্রতি দাম চার হাজার ৬২০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা উল্লেখযোগ্য। এর ফলে বাংলাদেশে স্বর্ণের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    নতুন দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম now দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২২৪,০৭০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১৯১,৯৮৯ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম এক লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অপর দিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। এই দাম পরিবর্তনগুলো আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং বাজারে নতুন দামের প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • সোনার দাম আবার রেকর্ড ছুঁল, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা

    সোনার দাম আবার রেকর্ড ছুঁল, ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা

    দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে, যা আবারও রেকর্ড গড়েছে। এই মোক্ষম পরিবর্তনের ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন মূল্য নির্ধারণ করে বলেছে, এবার ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। তাদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) থেকে নতুন দামে বিক্রি শুরু হবে। বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই আপডেটটি করা হয়েছে। ফলে, এখন প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার মূল্য দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, যেমন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩০ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। গবেষণা ও নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ জানুয়ারি দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বশেষ সমন্বয় করে বাজুস, তখন ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল, যা ছিল দেশের এক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই সময় অন্যান্য ক্যারেটের মূল্য ছিল ২১ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। দেশের বাজারে এই বছরে মোটামুটি অষ্টমবারের মতো সোনার দাম সমন্বয় করা হলো, যেখানে দাম ছয় দফা বাড়ানো ও দুই দফা কমানো হয়েছে। পাশাপাশি, রুপার দামেও বেড়েছে, ভরিতে ২৯১ টাকা বৃদ্ধি করে এখন ২২ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ২৪০ টাকা। এই মূল্যও দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যারেটের জন্য রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ১৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।

  • রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, অর্থনীতি ও বিনিয়োগে স্পন্দন

    রাজনৈতিক পরিবর্তন আসছে, অর্থনীতি ও বিনিয়োগে স্পন্দন

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। এই পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক গতি আরো বেশি ত্বরিত হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই অর্থবছরে দেশের রিজার্ভ আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে এক বিশেষ সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

    গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের তারল্য সংকট ধীরে ধীরে কমে আসছে। যেমনটা অক্সিজেনের অভাব শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করে, তেমনি তারল্য না থাকাও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে এখন এই চাপ কমতে শুরু করেছে। আগে ব্যাংকগুলো অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি ছাড়াই অধিক মুনাফা করত, তবে এখন দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকের জন্য কঠোর পরিশ্রমের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকগু্লোকের সঠিক ঋণগ্রহীতাদের খুঁজে বের করতে হবে।

    গভর্নর বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান বেশ উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও পণ্যদ্রব্যের দাম কমার কারণে আমদানিতে চাপ কমছে।

    সুদের হার বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলেও তিনি উল্লেখ করেন, বিনিময় হার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার প্রতি মনোযোগ বাড়িয়েছে। ফলস্বরূপ, মানুষ ডলার বিক্রি করে টাকা ক্রয় করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩.৭ বিলিয়ন ডলার কিনেছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তা থেকেও বেশি। বাজারে ৪৫ বিলিয়ন টাকা ছাড়া হয়েছে, যার মাধ্যমে তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

    আর্থিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ব্যবসায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে, যাদের টিকে থাকার সক্ষমতা আছে, সবাই সহায়তা পেয়েছেন। কোনো গোষ্ঠী বা দলের ভিত্তিতে বৈষম্য করা হয়নি।

    গভর্নর সতর্ক করে জানিয়েছেন, অতো দ্রুত সুদের হার কমানো উচিত নয়, কারণ এতে বিনিময় হার ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, এখনো মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে, এবং এর লক্ষ্য ৫ শতাংশের নিচে নামানো। এজন্য কিছু সময় লাগবে। মূল্যস্ফীতি যদি ১ শতাংশ কমে তবে সুদের হার আরও কড়া করা হবে। ইতিমধ্যে, বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার প্রায় ২ শতাংশ কমানো হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিন উচ্চফ্রিকোয়েন্সি ডেটা বিশ্লেষণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে বিনিময় হার, সুদের হার, রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য। প্রতিদিন রেমিট্যান্সের প্রবাহ মনিটরিং করা হয়। গত সোমবার রেমিট্যান্স এসেছে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। এই মাসে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। সাপ্তাহিক ও মাসিক তথ্যের পাশাপাশি ত্রৈমাসিক জিডিপি সম্পর্কিত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে, যা অর্থনীতির বিশ্লেষণ সহজ করে তুলেছে।

    উপস্থিত ছিলেন এমসিসিআই এর সভাপতি কামরান টি রহমান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার প্রমুখ।

  • নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    নিপ্পন পেইন্টকে অ্যাডভান্সড ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

    ব্র্যাক ব্যাংক নিপ্পন পেইন্ট বাংলাদেশকে আধুনিক ও উন্নত ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা সরবরাহ করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিপ্পন পেইন্টের ডিলার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য রিসিভেবল ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করা হবে, যা তাদের আর্থিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও নির্ভুল করে তুলবে।

    চুক্তি অনুযায়ী, নিপ্পন পেইন্টের এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংকের সর্বাধুনিক ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘কর্পনেট’-এর সাথে সংযুক্ত হবে। এতে করে প্রায় ২০০ জন ডিস্ট্রিবিউটরের সংগৃহীত অর্থের তথ্য সঙ্গে সঙ্গে তাদের ERP (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সিস্টেমে দেখা যাবে, যা নগদ প্রবাহের ব্যাপারে আরো স্পষ্টতা ও নিয়ন্ত্রণ আনবে।

    এই সহযোগিতার ফলে নিপ্পন পেইন্টের নগদ অর্থের প্রবাহ সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য হয়ে উঠবে, রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হবে।

    ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল সিএফএ, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব কর্পোরেট, কমার্শিয়াল ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং আসিফ বিন ইদ্রিস, হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং এ. কে. এম. ফয়সাল হালিম ও এরিয়া হেড অব রিলেশনশিপ ইউনিট এস এম মুসা।

    নিপ্পন পেইন্টের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার রাজেশ সিরকার, সিনিয়র ম্যানেজার সালাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    এটি ব্র্যাক ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির অংশ, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং সেবা চালুর মাধ্যমে কর্পোরেট গ্রাহকদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও আস্থার প্রসার ঘটানো হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, তারা তাদের গ্রাহকদের জন্য এমন আর্থিক পরিবেশ সৃষ্টি করবে যেখানে তারা তাদের ব্যবসা আরও সুষ্ঠু ও টেকসইভাবে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।

  • মোবাইল ফোনের আমদানির শুল্ক কমে দাম কমতে পারে

    মোবাইল ফোনের আমদানির শুল্ক কমে দাম কমতে পারে

    মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকারের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল ফোনের আমদানি শুল্ক সরাসরি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মোবাইল ফোনের বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি, দেশের মোবাইল উৎপাদনকারীদের জন্য উপকরণ আমদানিতে ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।

    আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে সংশ্লিষ্ট শুল্কে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানদের জন্য উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে, মোবাইল ফোন সংযোজনের উপকরণের জন্য শুল্ক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

    অর্থাৎ, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের মোবাইল ফোন আমদানি করলে আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা এবং সেই সাথে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমবে।

    এমন শুল্ক হ্রাসের কারণে সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে, যা ডিজিটাল সেবা গ্রহণে সহজতর করবে। সরকার বিশ্বাস করে, এই নীতি অব্যাহত থাকলে দেশের নাগরিকরা আরও সহজে আধুনিক যোগাযোগ সেবা উপভোগ করতে পারবেন। সরকারের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে যাতে সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোন কিনতে ও ব্যবহার করতে আরো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন।

  • আসিফ মাহমুদ বলছেন, ব্যবসায়ীরা নয়, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি

    আসিফ মাহমুদ বলছেন, ব্যবসায়ীরা নয়, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি

    আজকের দিনেই কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এই সিদ্ধান্তটি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলছেন, তারা আর ব্যবসায়ীদের নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিজের ভোটারদের ছোট ছোট অনুদানের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় মেটানো, যাতে নির্বাচনকারীরা শুধুমাত্র জনগণের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন। তিনি যোগ করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ে জোর দেওয়ার কারণ হলো নির্বাচন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। দাতারা চাইলে সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অনুদান দিতে পারেন বা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সহায়তা করতে পারবেন। এই অর্থের ব্যবহার, খরচ ও অডিটের ব্যাপারে সবাই পুরোপুরি জানবে—প্রতি বছর আমরা একটি অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করব, যা সবাই দেখতে পারবেন।

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, যখন তারা অন্য দলগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন, তখন নিজেদের ক্ষেত্রেও সেই মানদণ্ড পালন করতে হবে। তারা জানান, তাদের প্রার্থীরা অগণিত কোটি টাকার ঋণখেলাপি বা বিদেশি নাগরিকত্বপ্রাপ্ত কেউ নন, বিদেশে বাড়িঘর নেই—এটি তাদের রাজনীতির অন্যতম পার্থক্য।

    বাহ্যিকভাবে রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী তরুণ পেশাজীবী, যারা সদ্য চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা পড়াশোনা শেষ করেছেন। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যাবে, খুব কম জনই আগে থেকে অর্থবচ্ছল বা কোটি টাকার মালিক। তাই তারা মূলত জনগণের সমর্থনে এগিয়ে চলেছেন।

    আসিফ মাহমুদ বলছেন, যদি কোনো প্রার্থী ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপি অর্থে নির্বাচিত হন, তবে সংসদে গিয়ে সেই অর্থদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করে থাকবেন। তিনি এই ধরনের রাজনীতিতে অংশ নিতে চান না।

    জনগণের মতামত ও পরামর্শের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বললেন, ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের ধারণা, সহায়তা ও সহযোগিতা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

    সবশেষে, তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান, যারা নিজেদের উপযুক্ত মনে করেন, তাঁদের থেকে অনুদান ও সমর্থন কামনা করেন। সহযোগিতার হাত বাড়ালে, নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরাটা সহজ হয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করেন।

  • তাহেরের দাবি, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যোগ্য মন্ত্রীদেরর বেশি মূল্যায়ন করবে

    তাহেরের দাবি, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যোগ্য মন্ত্রীদেরর বেশি মূল্যায়ন করবে

    জনগণের রায় পেলে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে শুধু দলীয় নেতা-কর্মীরাই নয়, যোগ্য ও প্রতিভাবান ব্যক্তিদেরকেও মন্ত্রীত্বের মর্যাদা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদে দক্ষ ও যোগ্য অনেক ব্যক্তিই রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর এক হোটেলে আয়োজিত দলের নীতিনির্ধারণী সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ডা. তাহের বলেন, আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। যদি সরকার গঠন হয়, তাহলে শুধু দলের অভ্যন্তরীণ ক্যাডারদেরকেই নয়, বাংলাদেশের প্রতিভাবান ও যোগ্য নাগরিকদেরকেও মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। আমাদের দেশে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিকারী হওয়ার জন্য দক্ষ লোকের অভাব নেই। অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা রয়েছেন। ফলে, জনগণের ভাষায় বললে, আমাদের पास প্রতিভাবান, যোগ্য ব্যক্তিরা ক্রমশই রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা কোনভাবেই দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্য থেকে পিছপা হই না। কিভাবে বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, শক্তিশালী অর্থনীতি ও পরিপক্ব পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা তৈরি করছি। পাশাপাশি, দেশের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নারীর নিরাপত্তা— বিশেষ করে ক্রাইসিসের শিকার নারীদের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এসব বিষয়ও আমরা আলোচনা করছি। বিদেশি বিনিয়োগ কীভাবে আরও বেশি আসবে এবং দেশের শিল্প-কারখানা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা যায়, সে ব্যাপারেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

    অনলাইনে নির্বাচন প্রচারণার বিষয়েও জামায়াতের এই নেতা বলেন, এখন এক নতুন কৌশল হিসেবে অনলাইন প্রচারণা শুরু হয়েছে। আগে এই মাধ্যমছাড়া প্রচার করার কোনো উপায় ছিল না। এখন ওটুকুই যা অনুমোদিত, তার মধ্যে বের করে আমরা আমাদের কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে, মূল লক্ষ্য আমাদের হলো ব্যক্তির কাছাকাছি গিয়ে, প্রত্যেকের কাছে সরাসরি পৌঁছানো— অর্থাৎ ওয়ান টু ওয়ান যোগাযোগ। আমাদের কর্মীরা ইতোমধ্যে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনোভাব ও সমর্থন নিতে পারি।

  • মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন বেশি দুষ্টামি করছে

    মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন বেশি দুষ্টামি করছে

    অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার না করে যারা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছিল, আজ তারা এখন সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। এটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল।

    মির্জা ফখরুল বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপি ও তার আন্দোলনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এখন সেই ওদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু। অতীতে যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, তারাই এখন অনবরত দুষ্টামি করছে এবং দেশ destabilize করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

    বিএনপি মহাসচিব এও দাবি করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই নির্ধারিত হবে, দেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক এবং লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিগুলোর স্বার্থে চলে যাবে।

    ফখরুল বলেন, যারা আমাদের মিছিলে মানুষ হত্যা করেছে, মা-বোনেদের সম্মানহানির পরিকল্পনা করেছে এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হস্তক্ষেপে আমাদের মা-বোনদের তুলে দিয়েছে—তাদের ভুলি নাই। তারপরও তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে সোজা পথে করতে হবে। ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুল বোঝানো বা ভোটের নাম করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়। এসব করে তারা মানুষের মনোভাব Alter করে দিয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এইসব ষড়যন্ত্রকারীরা আজ বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় দেশের মানুষ লড়াই করেছিল, সেই সময় সবাই তাদের বিরোধিতা করেছিল। এখন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক ও পরিবর্তনশীল রাজনীতি যাতে এগিয়ে যায়, তা দেশের সাধারণ মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। তবে তারা আবার ধর্মের নামে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের বিশ্বাস ধর্মের ওপর, এবং দেশের প্রথম সংবিধানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বস্তাবাদে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা প্রকাশ করে সংবিধানে লিখেছিলেন। ধর্মের নামে অপপ্রচার বা রাজনীতির জায়গা নেই।

    ফখরুল আরও বলেন, মাত্র ২৩ দিন বাকি নির্বাচনের জন্য। অনেকের মনে প্রশ্ন, আসলে নির্বাচন হবে কি না। তিনি দাবি করেন, যারা বাধা দিতে চায়, তাদের কাছে ভোটের ফলাফল গোপন নয়। তারা তো এখন পর্যন্ত ত্রিশোটা ভোটও পায়নি।

    তিনি বলেন, ওরা বড় গলায় বলে, নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। কিন্তু আমরা প্রস্তুত, নির্বাচন চাই। জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাই। যদি জনগণ আমাদের গ্রহণ করে, আমরা সক্রিয় থাকব। যদি না করে, তবে বিরোধী দলে থাকব। তাহলে কেন আগে থেকে এত গলাবাজি? তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে, দেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক পথেই এগোবে নাকি উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে থাকবে। এজন্য আমাদের উদার ও গণতান্ত্রিক পথে চলতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির ৩১ দফা এবং দলের চেয়ারপার্সনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি ও ফর্মুলা নিয়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। যেন নির্বাচনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত হয়।

    আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও অন্যান্য নেতৃত্ব।

  • এনসিপির আরও ৩ আসনে প্রার্থীর ঘোষণা

    এনসিপির আরও ৩ আসনে প্রার্থীর ঘোষণা

    জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার নিজেদের নির্বাচনী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে ৩০ এ নিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে গণমাধ্যমকে দলের মিডিয়া সেল প্রধান মাহবুব আলম নিশ্চিত করেছেন যে, ফাঁকা থাকা তিনটি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, এসব আসনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম পাঠান (নেত্রকোনা-২), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার-৪) এবং জামিল হিজাযী (রাজবাড়ী-২)।

    সদ্য প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ২৭টি আসনের প্রার্থীর নাম ও ছবি হাজির করে পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টারে দলটি তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট চাইছিল।

    এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকছেন ঢাকা–১১ আসনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, রংপুর–৪ এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা–৪ এর সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়–১ এর মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ঢাকা–৮ এর সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবং নোয়াখালী–৬ এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

    অন্য বিভিন্ন আসনে প্রার্থী হচ্ছেন: ঢাকা–৯ এর জাবেদ রাসিন, ঢাকা–১৮ এর আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা–১৯ এর দিলশানা পারুল, ঢাকা–২০ এর নাবিলা তাসনিদ, নারায়ণগঞ্জ–৪ এর আবদুল্লাহ আল আমিন, মুন্সিগঞ্জ–২ এর মাজেদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর–১ এর মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ–৬ এর এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী–২ এর সারোয়ার তুষার, পার্বত্য বান্দরবান আসনের এস এম সুজা উদ্দিন, চট্টগ্রাম–৮ এর জোবাইরুল হাসান আরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ এর মোঃ আশরাফ মাহদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ এর মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, দিনাজপুর–৫ এর মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী–২ এর সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, কুড়িগ্রাম–২ এর আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ–১১ এর জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল–৩ এর সাইফুল্লাহ হায়দার, গাজীপুর–২ এর আলী নাছের খান, পিরোজপুর–৩ এর শামীম হামিদী এবং নাটোর–৩ এর এস এম জার্জিস কাদির। তারা 모두 ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

    উল্লেখ্য, এর আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোট ২৫৩টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমঝোতা ঘোষণা করেছিল। এই জোটে মূলত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে দলটি আলাদা হয়ে ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকি ৩২টি আসনে তারা অন্যদের সমর্থন দেবে।

    এই নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপি ৩০টি আসনে নির্বাচন করছে, যদিও তারা মোট ৪৭ জন প্রার্থী মনোন্নয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত, ইসলামী আন্দোলন দলটি এই জোট থেকে বেরিয়ে গেলেও, এনসিপি তাদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় মনোযোগী হয়ে উঠেছে।

  • নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রয়েছে বিএনপির : মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রয়েছে বিএনপির : মির্জা ফখরুল

    নির্বাচন কমিশনের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন তাদের যোগ্যতা এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এই কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমাদের দেশকে একটি উদার ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তর করতে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ার পর আমরা নতুন করে শপথ নিয়েছি—বৈশ্বিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই দূর করতে হবে দুর্নীতি, ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনঃস্থাপন করতে হবে, এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে অনুসরণ করে অঙ্গীকার অনুসারে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের বৈধতা তৈরিতে কোনো সমস্যা থাকলেও তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিএনপির এই নেতারা বিশ্বাস করেন, সামনের নির্বাচনে এই কমিশন তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সত্যিকারের পুণরুত্থান ঘটাবে।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের নাম চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। তিনি দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং অর্থনীতিকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধশালী করে তুলেছিলেন। এজন্যই আমরা প্রতি বছর তার জন্মদিন স্মরণ করি এবং তার দেখানো পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করি।

    ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা আসে এবং একদিকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যায়। আবারও নতুন করে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাতে, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এভাবেই ভবিষ্যত বাংলাদেশ হবে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের আলোকন্ত্রে আলোকিত।

    উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, মীর্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খানসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।