বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম তার তৈরিকৃত ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। শনিবার (৯ মে) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সুযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াকিমুলের তৈরি ছোট এই বৈদ্যুতিন বাহনটি দেখেন এবং পরে তাকে নিয়ে স্বচালিত স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান। এই ব্যাটারিচালিত স্মার্ট যানটির নাম ‘এ টু আই স্মার্ট কার’ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলদেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুব সহজে ও কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা পেতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের সৃজনশীল প্রকল্পগুলোর জন্য সব ধরনের সহায়তা ও সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি তরুণের কাজের গল্প শুনে মুগ্ধ হন এবং বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হচ্ছে। দূরদর্শী এই তরুণ নিজেই জানান, একসময় তিনি সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাইরেযাত্রা করতে পারতেন না। এই সমস্যার সমাধানে তিনি নিজ উদ্যোগে ছোট এই স্মার্ট কার বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াকিমুল ইসলাম পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, যদি সরকারের সহযোগিতা পায় তিনি আরও উন্নতমানের ও সহজে ব্যবহারের উপযোগী স্মার্ট কার তৈরি করতে পারবেন। এতে বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি সহজে চলাফেরা করতে পারবে। বিপিকেসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল জানান, এই যানটি একবার চার্জ দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার চলতে পারে এবং সর্বোচ্চ গতিবেগ ৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
Blog
-

ফখরুল, তামিম ও ফাতেমাসহ ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ‘খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’ প্রদান
সম্প্রতি চালু করা নতুন বছর ২০২৬-এর জন্য ‘আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’ দেওয়ার জন্য দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই ঘোষণা শুক্রবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল, আরেকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমা বেগম, এবং বিভিন্ন খাতের সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গুণী ব্যক্তিরা।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আরো রয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউলাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়া গণমাধ্যম ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য উপস্থিত হয়েছেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জনপ্রিয় সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলী, সাহিত্যিক ড. মাহবুব হাসান, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার এবং সাংবাদিক আশরাফ কায়সার।
শিল্প ও বাণিজ্যক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন শিল্পপতি ড. আবুল কাশেম হায়দার এবং ব্যবসায়ী আবদুল হক। উল্লেখযোগ্য যে, এই পুরস্কারটির প্রবর্তন করেছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি, ইনক’। এই সংগঠনটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, দেশের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ব্যক্তিদের সম্মানিত করতে চলতি বছর থেকে এই পুরস্কারটি প্রতি বছর নিয়মিতভাবে প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের স্বার্থে কাজ করা ব্যক্তিদের উৎসাহিত ও সম্মাননা জানানো হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
-

ডিএনএ পরীক্ষায় ধরা পড়ল আসল পিতা, ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষে কারাভোগ করেন ইমাম
ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িয়ে এক ইমাম মাসখানেক জেলে কাটাতে বাধ্য হন — পরে ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকাশ পায় আসল দোষী ওই কিশোরীর বড়ভাই।
অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের সঙ্গে মোজাফফরের ডিএনএ মেলেনি। বরং তদন্তে ধরা পড়েছে শিশুটির পিতা ছিলেন কিশোরীর বড়ভাই মোরশেদ (২২)।
মোজাফফর অভিযোগ করেন, মিথ্যাচারের জের ধরে তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন। মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারাতে হয়; এক মাস দুই দিন কারাবন্দি ছিলেন; মানহানি ও আর্থিক ক্ষতির ফলে মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশে থাকা মূল্যবান ৫ শতক জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। তিনি কারাভোগ, মানহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
পুলিশ ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করার পর ওই কিশোরী পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরে সন্তান প্রসব করেন। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মক্তব শিক্ষক মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। মোজাফফর আপত্তি করলেও তাতে কাজ হয়নি; ২৬ নভেম্বর আদালতে মিথ্যা অভিযোগের মামলা দাখিল করতে গেলে তাঁকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। ২৮ ডিসেম্বর জামিনে বেরিয়ে আইনি লড়াই চালান তিনি।
প্রাথমিক ফরেনসিক তদন্তে কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষ বীর্যের উপাদান শনাক্ত না হওয়ায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তুলনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর কিশোরী ও তার সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের মাধ্যমে পরীক্ষাাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফরেনসিক রিপোর্ট ফেনীতে আসার পর পুলিশ কিশোরীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, আক্রমণকারী ছিলেন তার সহোদর ভাই মোরশেদ। পুলিশ তদন্ত করে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে; তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২০ মে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়া হয়।
পরবর্তীকালে কিশোরী, তার শিশু সন্তান ও মোরশেদকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশ হওয়া ডিএনএ প্রতিবেদনে মোরশেদের ও শিশুটির ডিএনএ মিলেছে—পরীক্ষায় ৯৯.৯৯ শতাংশের মত মিল পাওয়া যায়, যা মোরশেদকে শিশুটির পিতা হিসেবে নিশ্চিত করে। অপরদিকে মোজাফফরের ডিএনএ শিশুটির সঙ্গে মেলেনি।
এমতাবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৭ এপ্রিল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন, যার মাধ্যমে মোজাফফরকে মামলায় অব্যাহতি দেয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।
মোজাফফর বলেন, ‘‘অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। কিন্তু আমার জীবনে ক্ষতিটা ফিরে পাওয়া যাবে না — সামাজিক অপবাদ, চাকরি হারা, আর্থিক ক্ষতি সব কিছুই হয়েছে।’’
তাঁর আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এমন ঘটনাগুলো দুর্লভ, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে; ডিএনএ পরীক্ষায় সঠিক তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘তিনি একজন মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। তাকে যে মানসিক ও আর্থিক কষ্ট হয়েছে, সেটার ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আইনগত সহায়তা করা উচিত।’’
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্টের পর মোজাফফরের নাম চার্জশিট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা বা ভুল অভিযোগ সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’’
এই ঘটনার সূত্র ধরে স্থানীয়রা বলছে—সত্যি বেরোলে নিরপরাধরা বাঁচবে, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের দরুন একজন মানুষের জীবন ও সম্মান কতটা বিধ্বস্ত হতে পারে, তা ভাবতে বাধ্য করে।
-

বিরল মশাবাহিত রোগে সিভাসু’র অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথির মৃত্যু
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু)-র ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বিরল মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক ও হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মে ড. জুথি সামান্য জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরুতে এটি সাধারণ ফ্লু হিসেবে ধরা হলেও দ্রুত তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তাঁর শরীরে মারাত্মক পরিবর্তন দেখা দেয়; চিকিৎসকরা ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ নির্ণয় করে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে পৌঁছানোর সময় তিনি ক্লিনিক্যালভাবে ‘ব্রেইন ডেড’ অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসা কেন্দ্রীক একজন চিকিৎসক, ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর স্নায়বিক জটিলতা এবং স্ট্রোক দেখা দেয়; ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতি বিশ্লেষণের পর চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা ছিল এটি জাপানিজ এনসেফালাইটিস হতে পারে।
জাপানিজ এনসেফালাইটিস মূলত কিউলেক্স নামক মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং সরাসরি মানুষের মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও গুরুতর জটিলতা ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হাসপাতাল ও পরিবারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ড. জুথির ক্ষেত্রেও ভাইরাসজনিত ঘনিষ্ঠ স্নায়বিক জটিলতার ফলে দ্রুত অবনতি ঘটে।
ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি ছিলেন ২০০৭-০৮ সেশনের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের একজন। তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ও কিউশু ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। চলতি বছরের শুরুতে সিভাসুতে তিনি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।
ব্যক্তিগত জীবনে তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্ণবও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং তাদের একটি পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে।
সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানীকে হারাল; ড. জুথির মৃত্যু দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
-

হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে যে সারাক্ষণ হতাশা ছড়ায় এবং বিভিন্ন সময়ে সমাজকে অস্থির করার চেষ্টা চালায়। কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির উদ্দেশ্য করে তিনি কথা বলতে চান না বলে জানিয়ে বলেন, আমাদের রাজনীতি পরিষ্কার-স্বচ্ছ নয়; মানুষ বারবার পরিবর্তন চাইতে লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে, তবুও কাঙ্খিত পরিবর্তন আসেনি।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের প্রধান পরিচয় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা। আমরা সহজে স্বাধীনতা পাইনি—নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। গণতন্ত্রও লড়াই করে ফিরে পেয়েছি; সেটাও এমনি এমনি হয়নি। তিনি যোগ করেন, ‘‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানরা মিলেই যে লড়াই করেছে, আমরা তাকে জুলাইযুদ্ধ বলি—তার ফলেই পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে এবং মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়েছে।’’
তিনি অভিযোগ করেন যে যারা স্বৈরাচারী ছিলেন, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে—অর্থনীতি, ব্যাংক ও প্রশাসন লুটপাট ও ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই বর্তমান পরিস্থিতি এসেছে, আবার অনেকে চেষ্টা করছে সেই পরিবর্তনকে ভিন্ন পথে ঠেলে দিতে ও ছোটখাটো ইস্যু তুলে গোলযোগ সৃষ্টি করতে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারওই কামনা করি না যে দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি হোক।’’
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মন্ত্রীর ন্যাসও ভাবনা ভাগ করে তিনি বলেন, কবিগুরু এখানে আসতেও কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নীত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম সার্বজনীন—কবিতা, গদ্য, নাটক, গান সবই বিস্তৃত পরিধির। গীতাঞ্জলি দিয়ে তিনি বিশ্বকে নাড়িয়েছেন; রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়তেও কম মনে হয়—এমনটি তার অভিভাবক Remarks।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
আলোচনা সভার শেষে ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিহীন পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায় এবং দিনভর হাজারো দর্শনার্থী ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে ভিড় জমান।
-

আরেক দফা বাড়ল সোনার দাম, ২২ ক্যারেটে প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতি ভরি সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি দাম আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায়; যা গতকাল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।
বাজুস বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দর সমন্বয় করা হয়েছে।
বাজুস নির্ধারিত বেধে দেওয়া দাম অনুযায়ী মূল দামগুলো এরূপ: ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,৪৪,৭১১ টাকা, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,৩৩,৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।
সোনার দামের সঙ্গে রুপার দরও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা রাখা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম শেষ কিছু সময় ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল পুলিশিন্ত তীব্রতায় বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়লেও দর ওঠানামায় তা প্রতিফলিত হচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-এর তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলার হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগের সময়ে আউন্সপ্রতি দাম ৩০ জানুয়ারি ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
গত মাসের শেষদিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করলে দেশের বাজারেও তা তাত্ক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হয়। ২৯ জানুয়ারি একদিনে বাজুস ভরিপ্রতি দাম একভাবে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের সোনার দাম রেকর্ড করে দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দেয়—যা দেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধিই হিসেবে ধরা পড়েছিল।
-

বাজুস ঘোষণা: সোনার দাম কমলো — প্রতি ভরি সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত নামল
দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মঙ্গলবার (৫ মে) বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবার প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। আগের দিন সোমবার (৪ মে) ২২ ক্যারেটের দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্যের ঘাটতি দেখায় স্থানীয় বাজারে দাম কমানো হয়েছে।
অন্যান্য মানের সোনার নির্ধারিত মূল্যও প্রকাশ করা হয়েছে— ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রুপার দাম এখনও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও স্বল্প ওঠানামা দেখা দিয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে সোনার দর বৃদ্ধি পায়, এরপর কিছু সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে দাম ওঠানামা করছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে বাড়তি চাপের পর পতিত হয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।
বাজুসের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে। যে ক্রেতারা সদ্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য স্থানীয় বাজারের এই হালকা দরকাটার সময় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো হবে।
-

ইন্দোনেশিয়ায় মাউন্ট ডুকোনোতে দুর্দান্ত অগ্ন্যুৎপাত: নিহত ৩, ২০ নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর হলমাহেরা প্রদেশে মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাতে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং কমপক্ষে ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের খোঁজে তৎপরতা জারি রেখেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে আগ্নেয়গিরিটি অগ্ন্যুৎপাত শুরু করে; সেই বিস্ফোরণে ছাইয়ের মেঘ প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত উঠে আসে এবং শক্তিশালী গর্জনধ্বনি শোনা যায়। উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানির কথায়, পুলিশের নেতৃত্বে কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী এবং অন্যান্য দল সদস্যরা নিখোঁজ পর্বতারোহীদের উদ্ধারে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিখোঁজদের মধ্যে নয়জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। উত্তর হলমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানান, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক।
বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ্য করার পর থেকেই নিরাপত্তার কারণে গত ১৭ এপ্রিল থেকে এলাকা পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছিল। তবে লোকজনের চলাচল ও পর্যটন তৎপরতা আগে থেকেই উচ্চ থাকায় 이번 বিস্ফোরণে ক্ষতি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মাউন্ট ডুকোনোর প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে কমপক্ষে ৪ কিলোমিটার দূরে থাকতে বলেছে। এছাড়া ছাইয়ের মেঘ বর্তমানে উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ার কারণে তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের ছাই পড়া ও পরিবেশগত সমস্যার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তারা আরও সতর্ক করেছে যে আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে পড়া পাথর ও লাভার প্রবাহের ঝুঁকি রয়েছে।
মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত; মার্চ মাস থেকে এটি প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে বলে আগ্নেয়গিরি সংস্থার ডাটায় দেখা যায়। স্থানীয় ও জাতীয় উদ্ধারসেবা এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে, এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য আসলে তা জানানো হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
-

সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে না পেরে বিজয়ের শপথ আবারও আটকাল
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনকে ঘিরে নতুন নাটকীয়তা ছড়িয়েছে। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) নেতা থালাপতি বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানাননি — কারণ তিনি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে বিজয় আবারও রাজ্যপালকে সাক্ষাত করেন। এটা চলতি তিন দিনের মধ্যে তাদের তৃতীয় বৈঠক ছিল। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যে চলমান অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন সরকার গঠন করা।
বিজয় সাক্ষাৎকালে দাবি করেন যে তাঁর পক্ষে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন আছে। কিন্তু আরলেকারের কার্যালয়ের সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি শনিবার শপথ গ্রহণের জন্য বিজয়কে আমন্ত্রণ জানাননি। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন; এবং বিজয় এ পর্যন্ত মাত্র ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছেন — দুই সিট কম।
সূত্র আরও বলেছে যে বিজয় বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাজির (ভিসিকে), এএমএমকে এবং আইইউএমএলের এক বিধায়কের সঙ্গে জোরালো আলোচনা করেও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থনপত্র গভর্নরের কাছে জমা দিতে পারেননি। বিশেষ করে ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থনপত্র তিনি দাখিল করতে পারেননি। এদিকে আইইউএমএল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তারা টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হবে না।
এই নির্বাচনে তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম চমক দেখিয়ে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জিতেছিল। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই দলটি দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে–র রাজনৈতিক আধিপত্যে ভাটা ধরিয়েছে।
এখনো পরিস্থিতি অনিশ্চিত; রাজ্যপাল ও দলগুলোর মধ্যে আরও সংলাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় আছে।
-

বটিয়াঘাটায় অস্ত্রধারী হামলায় যুবক কুপিয়ে নিহত
খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় আজ (শুক্রবার, ৮ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের কুপিয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম আজিজুল ইসলাম (৩৫)। তিনি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বকুলতলা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় উত্তর রাঙ্গেমারীর বটতলা সংলগ্ন একটি বিলে এই ঘটনার কথা স্থানীয়রা ও পুলিশ জানায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়, চারটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন অস্ত্রধারী আজিজুলকে তুলে নিয়ে বিলের মধ্যে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করলেও তার মৃতদেহই পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে কোনো গুলির খোসা বা ম্যাগাজিন উদ্ধার করা যায়নি। নিহতের গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে আজিজুলের একটি পা পূর্বে উরুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল।
প্রাথমিকভাবে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আজিজুলের বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সিআইডি’র বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থলে এসে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
