Blog

  • নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

    খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে বর্ণাঢ্য পরিবেশের মধ্যে বুধবার সকাল ১০টায় দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরীর মোংলা পোর্ট কলোনি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বেলুন, ফেস্টুন এবং কবুতর উড়িয়ে খেলার শুভ সূচনা করা হয়।

    অনুষ্ঠানটি ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কানাই লাল সরকার উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন ড. মোঃ ইমজামাম-উল-হোসেন, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডীন ফারজানা আক্তার, আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক হাসিবুল হোসেন সুমন, সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মেহেদী হাসান, রেজিস্ট্রার ড. শেখ শফিকুর রহমান, আইকিউএসি’র পরিচালক মোঃ আনিসুর রহমান, প্রক্টর শাকীল আহমদ সহ সহকারী প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

    উৎসবমুখর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা খেলাধুলারই মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও মহত্ম্য তুলে ধরেন। পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি বিভাগের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আগামী দুই দিন মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হবে। দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের উষ্ণ সাপোর্টExpected করে টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

  • টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা শান্ত; মুমিনুল ও নাহিদও এগিয়েছেন

    টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ারসেরা শান্ত; মুমিনুল ও নাহিদও এগিয়েছেন

    পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যাট হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলাদেশকে জয়ের কাঁধে তুলেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুর্দান্ত দুই ইনিংসের ব্যাটিংয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন দেশের টেস্ট অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের সেঞ্চুরি (এটি তার নবম টেস্ট সেঞ্চুরি) ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানের ঝটিকা ইনিংসে মিলিয়ে শান্ত করেছেন ১৮৮ রান এবং তার এই প্রদর্শন আইসিসি টেস্ট ব্যাটারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ নিয়ে এসেছে। রেটিং পয়েন্ট ৬৪৯ নিয়ে তিনি এখন ক্যারিয়ারসেরা অবস্থান—২৩ নম্বরে উঠেছেন, আগের অবস্থানের থেকে ১৬ ধাপ উন্নতি হয়েছে।

    খেলায় ছন্দ ফেরাতে দেশের জয়ের পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে দল যখন মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামকে হারিয়ে চাপের মুখে ছিল, তখন শান্ত উঠে আসে কাউন্টার অ্যাটাকে এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে স্বাগতিকদের অবস্থান শক্ত করেছেন।

    ব্যক্তিগত উত্থান ছাড়াও সিরিজের প্রথম টেস্টে বোলিং দিকেও কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ছক্কা বোলিং করে ৫ উইকেট নেন নাহিদ, যার ফলে তিনি আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ ধাপ এগিয়ে ৬৩ নম্বরে উঠে এসেছেন। একই ম্যাচে দুই ইনিংসে মিলিয়ে ৪ উইকেট সংগ্রহ করে তাইজুল ইসলামও ৩ ধাপ উন্নতি করে ১৩ নম্বরে অবস্থান করছেন; তার রেটিং পয়েন্ট ৭০৪।

    ব্যাটারদের মধ্যে মুশফিকুর রহিমও ভালো করে দুই ইনিংসে ৭১ ও ২২ রান করে র‌্যাঙ্কিংয়ে ২ ধাপ উন্নতি নিয়ে ২৬ নম্বরে উঠেছেন। মুমিনুল হক প্রথম ইনিংসে ৯১ (সেঞ্চুরির খুব কাছে) ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছেন এবং ১২ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৫ নম্বরে আছেন।

    অপরদিকে সাদমানের ব্যাটে কাঙ্ক্ষিত উজ্জ্বলতা না আসায় তিনি র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪ ধাপ পিছিয়ে গেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজ এক ধাপ ও মাহমুদুল জয় ছয় ধাপ পিছিয়ে গেছেন। তাসকিন আহমেদ ও মিরাজের অবস্থান বদল না হলেও হাসান মুরাদ ও নাঈম হাসানের র‌্যাঙ্কিংয়ে নেমে যাওয়া দেখা গেছে।

    সামগ্রিকভাবে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স র‍্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে—শান্তের ব্যাটিং থেকে শুরু করে নাহিদের দ্বিতীয় ইনিংসের বোলিং, সবমিলিয়ে দলের দক্ষতা ও আস্থার পরিচয় দিয়েছে।

  • কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের লিভার দানকারী হিসেবে দুই ভাই

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের লিভার দানকারী হিসেবে দুই ভাই

    জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সোমবার (১১ মে) রাত ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাই রওনা করে।

    মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্টে কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন তার মা লোপা কায়সার। পাশাপাশি সম্ভাব্য লিভার দাতারূপে তার দুই ছেলে — মোস্তফা এস. হামিদ ও সাদাত হামিদ — তার সাথে রয়েছেন।

    কায়সার হামিদ পোস্টে সবাইকে মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দোয়া করবেন সবাই, গত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার মেয়ে কারিনাকে দেশের বাইরে নেয়া হয় জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে।”

    দেশেই থাকার কারণ জানিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখনো তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেও সময় লাগছে, তাই আপাতত তিনি যেতে পারেননি। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কারিনার সঙ্গে আছেন এবং পরিবারের সবাই মেয়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

    এর আগে সোমবার দুপুরে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি কায়সার হামিদ নিজেই নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ‘‘ভিসা হাতে পেলাম। বিকেলের মধ্যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চেন্নাই থেকে এসে ওকে নিতে পারবে। হাসপাতালের বড় বিল আছে, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খরচও বেশি। আম্মা ও আমার কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙছি, আর একটি জমির বায়না করছি—এগুলো আজকের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।’’

    গেল শনিবার (৯ মে) কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ‘ডানা’ সামাজিক মাধ্যমে কারিনার অসুস্থতার খবর দেন। সেদিন তিনি জানান, চিকিৎসকরা কারিনাকে হেপাটাইটিস A ও E ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছেন, যার ফলে তার লিভার ফেলিয়র হয়েছে। কারিনাকে শুরুতে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    নিয়মিত জ্বর পেয়ে এক সপ্তাহের পর হঠাৎ করে জ্ঞান হারানোর কারণে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল—এ খবরও তাকে নিয়েই শেয়ার করা হয়েছিল।

    পরবর্তীতে পরিবার ও চিকিৎসকরা কারিনার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। পরিবার সবার কাছে দ্রুত আরোগ্য ও ভালো ফলের জন্য দোয়া চান, এবং চিকিৎসার আপডেট প্রকাশ পেলে তা জানানো হবে।

  • হৃদরোগে প্রয়াত কন্নড় অভিনেতা দিলীপ রাজ, পুরো শিল্পে শোক

    হৃদরোগে প্রয়াত কন্নড় অভিনেতা দিলীপ রাজ, পুরো শিল্পে শোক

    কন্নড় চলচ্চিত্র জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে—জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা গেছেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে দিলীপ রাজ হঠাৎ শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করছিলেন। বেশ কয়েক মিনিট পর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তড়িঘড়ি বেঙ্গালুরুয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বয়স ছিল ৪৭ বছর। খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস।

    দিলীপ রাজের আকস্মিক vertrek কন্নড় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও হাজারো অনুরাগী সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা জানাচ্ছেন। অভিনেতা চেতন কুমার স্ট্যাটাসে স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, “দিলীপ শুধু দক্ষ অভিনেতা ছিলেন না, মানুষ হিসেবেও তিনি অসাধারণ ছিলেন। ওর মতো আন্তরিকতা খুব কম কারো মধ্যে দেখা যায়।”

    দিলীপ রাজ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভাধর একজন শিল্পী। ছোটপর্দায় তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন—‘রঙ্গোলি’, ‘কুমকুম ভাগ্য’ থেকে শুরু করে হাল আমলের হিট সিরিয়াল ‘হিটলার কল্যাণ’-এ তার উপস্থিতি দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিল।

    ফিল্মে দিলীপ রাজ ২০০৫ সালে নায়ক হিসেবে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে। ২০০৭ সালে পুণিত রাজকুমারের ব্লকবাস্টার ‘মিলানা’-তে ভিলেনের ভূমিকায় তিনি নজরকাড়া অভিনয় দেখিয়ে সবাইকে চমকিত করেন। পরবর্তী সময়ে ‘ইউ-টার্ন’, ‘লাভ মকটেল ৩’ সহ প্রায় ২৪টির বেশি ছবিতে দর্শক ও সমালোচকদের মন জয় করেছেন।

    প্রযোজক হিসেবেও তার বিশিষ্টতা ছিল—তার প্রতিষ্ঠান ‘ডিআর ক্রিয়েশনস’ থেকে বহু হিট ধারাবাহিক তৈরি হয়েছে। এছাড়া থিয়েটার জীবনেও তার অবদান ছিল লক্ষযোগ্য, যা তাকে শিল্পী হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করেছিল।

    কর্মজীবন, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত উভয় দিক দিয়ে দিলীপ রাজ কন্নড় ইন্ডাস্ট্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিলেন। তার অপ্রত্যাশিত চলে যাওয়ায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন মহল শোকস্তব্ধ। অনুরাগীরা তাকে স্মরণ করবে তার স্মৃতিসৌধ রেখে দেওয়া অসংখ্য চরিত্র ও পরিশ্রমের জন্য।

    সংবাদ সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস

  • নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

    নারায়ণগঞ্জ হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার (১৩ মে) নারায়ণগঞ্জে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার সঙ্গে জড়িত শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্তি গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

    ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি শেষ করে অভিযোগ গঠন করার আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট—এই তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথকভাবে সংঘটিত হামলায় মোট ১০ জন নিহত হন। ঘটনার তিনটি আলাদা কেসে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ মোট ১২ জন। প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, ওই সময়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তরা সশস্ত্র ছিলেন এবং গুলি ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানোয় বহু মানুষ আহত হন। মামলা পরিচালনা করা প্রসিকিউশনের দাবি, শামীম ওসমান ওই ঘটনাগুলোর অন্যতম প্রধান অপরাধী।

    প্রসিকিউশন বলেছেন, শামীম ওসমান তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন বলে কল রেকর্ড ও সিডিআর ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে।

    আদালতকে দেওয়া ব্যাখ্যায় প্রসিকিউশন আরও জানিয়েছে, সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে পরে সিদ্ধিরগঞ্জ এবং চিটাগং রোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। এই ঘটনাগুলোতে বিভিন্ন স্থানে লোকজনকে নিশানা করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি শুনার পর ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ব্যাপকতার সঙ্গে বিচারের পথ শুরু করল। আগামী ১০ জুন অনুষ্ঠেয় ওপেনিং স্টেটমেন্টে রাষ্ট্রপক্ষ মূল বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং এরপর সাক্ষ্য-প্রশ্নোত্তর ও সুপাঠ্য প্রমাণ উপস্থাপনার মাধ্যমে মামলা চালানো হবে।

    খবর নিশ্চিত করা গেছে যে, আদালতে জমা দেওয়া প্রমাণপত্রের মধ্যে কল রেকর্ড, সিডিআর এবং ঘটনাস্থলের নানা বিবরণী রয়েছে, যা বিচারকরা বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করবেন। মামলার পরবর্তী তারিখ ও কার্যবিবরণী সম্পর্কে ট্রাইব্যুনাল নির্ধারিত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও সিদ্ধান্ত জানাবে।

  • কোরবানির চামড়ার নতুন মূল্য ঘোষণা

    কোরবানির চামড়ার নতুন মূল্য ঘোষণা

    আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এবারে লবণযুক্ত গরুর চামড়ায় প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা ও খাসির চামড়ায় ৩ টাকা বৃদ্ধি আনা হয়েছে।

    বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কোরবানি সংক্রান্ত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠিত সভার পর সচিবালয়ে সংবাদ-brিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    ঘোষণায় বলা হয়েছে, এ বছর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ঢাকার মধ্যে প্রতি বর্গফুটে ৬২–৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, আর ঢাকার বাইরে তা হবে ৫৭–৬২ টাকা। গত বছর ঢাকায় ওই চামড়ার দাম ছিল ৬০–৬৫ এবং ঢাকার বাইরে ৫৫–৬০ টাকা—সুতরাং প্রতি বর্গফুটে গড়ে ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্য দিকে দেশের সব অঞ্চলে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ২৫–৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া নির্ধারিত আছে ২২–২৫ টাকা। গত বছর খাসির চামড়া ছিল প্রতি বর্গফুটে ২২–২৭ টাকা এবং বকরের চামড়া ছিল ২০–২২ টাকা।

    মন্ত্রী জানান, ‘‘প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি পশু কোরবানি দেয়া হয় এবং সেখান থেকে সংগৃহীত চামড়া দেশীয় শিল্পে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনে কিছু সময়ের জন্য ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে, তবে সে বিষয়ে পরে সরকার জানাবে।’’

    চামড়া নষ্ট না হয়ে শিল্পে কাজে লাগানো যায় তা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে লবণ সরবরাহ করা হবে। সংরক্ষণ ও প্রাথমিক নিরাপত্তা বিধি বিষয়ে মাংস ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং মাদ্রাসাগুলোতেও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম ও লবণ সরবরাহে সরকারের আনুমানিক খরচ হবে ২০ কোটি টাকা বলে তিনি জানান।

    চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সমন্বিত উদ্যোগে দেশীয় চামড়া ও চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মন্ত্রী।

  • এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভা প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথম ধাপে ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সে জাতীয় অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে আজ ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি জানান, আগামী ঈদের আগেই—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই তালিকা বাড়ানো হবে।

    তিনি আরও বলেন, এনসিপি প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দেশব্যাপী যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন বা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, কিংবা অন্য কোনো প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের কর্মী—যারা গ্রহণযোগ্য, জনমনে বিশ্বাসযোগ্য এবং কোনোভাবেই জুলুম-অপরাধ বা ফ্যাসিস্ট কার্যকলাপে যুক্ত নয়—তারা এনসিপির প্রার্থী হিসেবে আবেদন করতে পারবেন। পার্টি সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন হলে অন্য দল থেকেও যোগ陽গ চাইলে সুযোগ করে দেবে।

    চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নামগুলো (যথাক্রমে) দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালী — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফকিরমারা — লাবিব আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), মোংলা পৌরসভা — মো. রহমত উল্লাহ (মেয়র), বাগেরহাট পৌরসভা — সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার (মেয়র), যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), নোয়াপাড়া পৌরসভা — শাহজাহান কবির (মেয়র), খুলনা চালনা — এস এম এ রশিদ (মেয়র), চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব (উপজেলা চেয়ারম্যান), জীবননগর পৌরসভা — সোহেল পারভেজ (মেয়র), মেহেরপুর গাংনী পৌরসভা — শাকিল আহমেদ (মেয়র), ঝিনাইদহ পৌরসভা — তারেকুল ইসলাম (মেয়র).

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোদা — শিশির আসাদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), দেবীগঞ্জ — মাসুদ পারভেজ (পৌর মেয়র), ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফুলবাড়ি পৌরসভা — শিহাব হোসেন (মেয়র), ঘোড়াঘাট — মো. আব্দুল মান্নান (মেয়র), হাকিমপুর — রায়হান কবির (মেয়র), নীলফামারী জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন (উপজেলা চেয়ারম্যান), নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম সদর — মো. মাসুম মিয়া (পৌর মেয়র), লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ Sultan নাসির উদ্দিন আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান (উপজেলা চেয়ারম্যান), চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাদলগাছী — আসাদ মোর্শেদ আজম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধামুরহাট — মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল (পৌর মেয়র), বগুড়া শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দুপচাঁচিয়া পৌরসভা — আবু বক্কর সিদ্দিক (মেয়র), বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর সদর পৌরসভা — আব্দুল মান্নান (মেয়র), পাবনা চাটমোহর — খন্দকার আক্তার হোসেন (পৌর মেয়র), সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান (উপজেলা চেয়ারম্যান), উল্লাপাড়া পৌরসভা — ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন (মেয়র).

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), হবিগঞ্জ সদর পৌরসভা — মাহবুবুল বারী চৌধুরী (মেয়র), মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান (উপজেলা চেয়ারম্যান), সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস (উপজেলা চেয়ারম্যান), ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী (উপজেলা চেয়ারম্যান), জৈন্তাপুর — জাকারিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), সদর পৌর মেয়র প্রার্থী — নূর ইসলাম, জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান), বারহাটা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — সোহাগ মিয়া প্রিতম (মেয়র), ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভালুকা — নূরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), হালুয়াঘাট — আবু হেলাল (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান (উপজেলা চেয়ারম্যান), তাড়াইল — ইকরাম হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), করিমগঞ্জ পৌরসভা — খায়রুল কবির (মেয়র), সাভার — শাহাবদুল্লাহ রনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল পৌরসভা — মাসুদুর রহমান রাসেল (মেয়র), ভূঞাপুর পৌরসভা — হাসান ইমাম তালুকদার (মেয়র), শফিপুর পৌরসভা — মাওলানা আনসার আলী (মেয়র), নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাজীপুর কালিগঞ্জ — শোয়েব মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — তুহিন মাহবুব (উপজেলা চেয়ারম্যান), মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — আলী নেওয়াজ (উপজেলা চেয়ারম্যান).

    ফরিদপুর বিভাগ: ফরিদপুর নগরকান্দা — রেজাউল করিম সবুজ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নগরকান্দা পৌরসভা — নাজমুল হুদা (মেয়র), ফরিদপুর পৌরসভা — সাইদ খান (মেয়র), মাদারীপুর পৌরসভা — মো. হাসিবুল্লাহ (মেয়র), গোপালগঞ্জ পৌরসভা — ফেরদৌম আমেনা (মেয়র).

    এনসিপি বলেছে, এই ঘোষণা প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং বিচ্ছিন্নভাবে আরও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। দল দাবি করেছে—যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে চান তারা।

  • সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে বৈষম্য করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সাংসদ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় পঞ্চগড় যাচ্ছিলেন বলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। যদি নির্বাচিত এলাকায় সুবিধা দেওয়ার কারণে এই ধরনের প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তাতে অত্যন্ত অনিয়ম ও অন্যায় হবে—মনে করেন তিনি।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘কয়েক জায়গায় দেখা যাচ্ছে বিএনপি-র নির্বাচিত এমপিদের এলাকায় নতুন উপজেলা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এসব উন্নয়ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুষমভাবে হওয়া উচিত ছিল।’’

    একই সঙ্গে তিনি বিএনপি’র আচরণকে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ—এখন ওটাই বাস্তবে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই ভূমিকাই নিচ্ছে। তারা সাতটি দশকের জনমতের বড় অংশকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ বলেছিল যারা, এখন তারা গণভোটের রায় অস্বীকার করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও সরকার বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না—এটি জনগণের সঙ্গে বিশাল প্রতারণা।’’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যখন জনস্বার্থে পেছন ফিরে দাঁড়ায়, তাতে উল্টো ক্ষতি সরকার ও দেশের জন্য উভয় ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, আজ তাদের মধ্যেই অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা ও হয়রানির ক্ষেত্রে জড়িত। বিশেষ করে সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে।’’

    এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে ও তার সফরসঙ্গী নেতৃবৃন্দকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। সেখানে সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। এরপর তারা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • ২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    ২৮ ব্যাংকের ক্ষতিতে দায়ী ৬ ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠী — বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট

    বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করেছে, আওয়ামী লীগের শাসনকালে ২৮টি ব্যাংকের ক্ষতির পেছনে মূলত ছয় ব্যক্তি ও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর দায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্টে এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন ও নাসা গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাধ্য হয়েই এসব গ্রুপকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ফলে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পাচার হওয়া অর্থ ফিরে আনার কাজ চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো, ওরিয়ন, এস আলম, সিকদার ও নাসা গ্রুপের কর্মকাণ্ডের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো—জনতা ও অগ্রণী—সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    শাস্ত্রীয় দিক ছাড়াও ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক—এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আল-আরাফাহ—এবং বেসরকারি পর্যায়ের ইউসিবি, আইএফআইসি, ন্যাশনাল ব্যাংকও এতে প্রভাবিত হয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু দায় স্বীকার করেই হবে না — পাচার হওয়া টাকা দ্রুত ফেরত এনে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরো বলেন, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত থাকেন, তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা অপরিহার্য। নতুবা দেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফেরত পাওয়া কঠিন হবে।

    বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ঋণদান সংক্রান্ত নীতিমালা স্পষ্টভাবে আছে—কোন ব্যক্তি কতপর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে, কতদিনের জন্য এবং কীভাবে। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক জেনে-বুঝে নিয়ম ভঙ্গ করে ও ওয়েভার দিয়ে থাকে, তাহলে তারও দায় আছে এবং ব্যাংককে তার দায়িত্ব নিতেই হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বহিরাগত চাপও ছিল; কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এই চাপের কারণে ভিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে—যেগুলো এড়ানো সম্ভব ছিল না। তিনি আরও জানান, যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো সংশোধন করে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজও চলছে।

    রিপোর্ট প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা পুনরায় জোর দিয়েছেন—তৎক্ষণাত তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা ও দণ্ড নিশ্চিত করা না হলে দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না এবং এসব প্রতিষ্ঠান শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। তিনি মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠান সভাপতি ছিলেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ও বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে তা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এটি কেবল একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান নয়; সমগ্র স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করে তোলার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়ার একটি প্ল্যাটফর্ম হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রধান দুইটি সমস্যা হলো তহবিলের অভাব ও জামানত জোটানোতে অক্ষমতা। এই উদ্যোগ উভয় বাধা কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে। এখানে বিনিয়োগ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার প্রক্রিয়ায়।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের বড় লক্ষ্য। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে গ্রাম-শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কঠিন সময় পার করছি এবং পুঁজিবাজারে সংস্কার নিয়ে কাজ চলছে; অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে কমানো হবে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থায় দক্ষ ব্যক্তিদের পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া ব্যাংক ও প্রাইভেট সেক্টরের আন্ডারক্যাপিটালাইজেশন দূর করতেও আমাদের কার্যক্রম আছে।

    আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি কেবল ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পের সফলতার জন্য সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। দেশের অনেক ব্যাংক মিলে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    মন্ত্রী শেষ দিকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় রাখা হবে—এটাই এই উদ্যোগের মূল প্রতিশ্রুতি।