Blog

  • পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে বাংলাদেশ: টানা তৃতীয় জয়

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে বাংলাদেশ: টানা তৃতীয় জয়

    “যদি তারা সাহস দেখায়—৭০ ওভারে ২৬০ রানের টার্গেট দিলে আমরা তা তাড়া করব। কিন্তু আমার মনে হয় তারা তা করবে না।” চতুর্থ দিনের খেলায় এমন চ্যালেঞ্জ দিয়ে সামান্য হুমকিও দিয়েছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আলী আঘা। কিন্তু সেই মাইন্ডগেমের চ্যালেঞ্জ নিতে দেরি করেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চের কয়েক মিনিট আগে শান্ত ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে টার্গেট তাড়া করতে পাঠালেন—সালমান যা চেয়েছিল, তাই মিলল।

    তবে আঘা নিজেই সেই চ্যালেঞ্জে সফল হতে পারেননি। ডানহাতা এই ব্যাটসম্যান মাত্র ২৬ রানে আউট হয়ে ফিরে যান। পাকিস্তানের ইনিংস শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের আঘাত লাগে—ইমাম-উল হক প্রথম ওভারেই কটবিহাইন্ড হয়ে হাঁটেন ফিরে (৫ বলে ২)। আজান আওয়াইস করেন ৩৩ বলে ১৫। দলের হয়ে শান মাসউমের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।

    পাকিস্তান ৬৮ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চিন্তায় পড়লেও চতুর্থ উইকেটে আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আঘার ৫১ রানের জুটিতে চাপ কিছুটা হ্রাস পায়। ফজল ১১৩ বলে ৬৬ রান করে এক ফিফটি তুলে নেন; ১১টি চারের সাহায্যে তিনি তাসকিনের করে তুলে দেওয়া বলেই তাইজুল ইসলামের হাতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। পরের ওভারেই তাসকিনই সালমান আঘাকে ফেরান (২৬ বলে ৩৯)।

    পাকিস্তান ফের একবার চাপে পড়লে ষষ্ঠ উইকেটে শঙ্কা কাটাতে চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌধ শাকিল। কিন্তু নাহিদ রানার টানা দুই ওভারে ওই দুই ব্যাটারকেই সাজঘরে পাঠান—দুইজনই করেন মাত্র ১৫ রান। এরপর তাইজুল হাসান আলিকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এবং শেষে পাকিস্তানের শেষ দুই উইকেট তুলে নেন নাহিদ; মাত্র ৪০ রানের খরচায় তিনি পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ফলে পাকিস্তান অলআউট হয়ে থামে ১৬৩ রানে।

    নাহিদের আগুনঝরা বোলিং ও দিনের শেষ ভাগে গতিশীল আক্রমণে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়—পাকিস্তানকে ১৬৩ রানে আটকে রেখে টাইগাররা অর্জন করে ১০৪ রানের বড় জয়। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নাজমুল হোসেন শান্তের দল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

    বলে দেওয়া ভালো যে, ম্যাচের পেছনটাও রোমাঞ্চকর ছিল। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে শান্তের সেঞ্চুরি ও মুমিনুল-মুশফিকের ফিফটিতে বাংলাদেশ আগে ৪১৩ রান করেছিল। জবাবে আজান আওয়াইসের শতকে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৮৬। ফলে বাংলাদেশকে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিডে রেখেছিলেন। পরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে টাইগাররা ৯ উইকেটে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে এবং পাকিস্তানের সামনে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

    এছাড়া ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম দুইটি করে উইকেট নেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ একটি উইকেট নেন। বাংলাদেশের জন্য এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয়—স্মরণ করিয়ে দেয় ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ইতিহাস রচিত প্রথম জয়ের কথা এবং পরে সেই সফলতা ভিন্ন মঞ্চেও দলের ধারাবাহিকতাকে প্রমাণ করে।

  • স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নাট্যকার আতাউর রহমান আর নেই

    স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নাট্যকার আতাউর রহমান আর নেই

    ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন—স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান মারা গেছেন। আজ ১২ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

    অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন (অপু) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করে লিখেছেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমাদের সম্মানিত সদস্য ও প্রিয় সহকর্মী মঞ্চসারথী আতাউর রহমান কিছুক্ষণ আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”

    পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার বাড়িতে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখা দেয়। প্রথমে রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তা জানান। ওই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে তাকে ধানমন্ডির আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    ভর্তির সময় তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কোনও কিছুতে সাময়িক উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও আবার অবস্থার অবনতি হলে গতকাল তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের সবচেষ্টা সত্ত্বেও এখনও রাতে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন।

    তার কন্যা শর্মিষ্ঠা রহমান হাসপাতালে এক সূত্রে বলেন, “আব্বার অবস্থা খুবই জটিল ছিল। শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুষ্ঠুভাবে কাজ করছিল না—চিকিৎসকরা তাই বলেছিলেন। সবার কাছে আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছিলাম।” চিকিৎসকদের কঠোর চেষ্টা শেষে তিনি চলে গেলেন।

    আতাউর রহমান ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মঞ্চ ও চলচ্চিত্রজগতের বহুমুখী প্রতিভা — অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক, নাট্যকার ও লেখক হিসেবে দীর্ঘকালীন অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের একজন অগ্রদূত হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য সরকার তাকে স্বাধীনতা পদক এবং একুশে পদকে ভূষিত করে।

    তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে তার জন্য দোয়া ও স্মৃতিগুলো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • দোকান মালিক সমিতি: ঈদ পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে

    দোকান মালিক সমিতি: ঈদ পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে

    বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাজার, বিপণি বিতান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিধান ছিল। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেই সময়সীমা বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে — বাংলা‌দেশ দোকান মালিক সমিতি মঙ্গলবার (১০ মে) প্রকাশ করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা বিবেচনায় সরকার দোকানপাট খোলা রাখার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী সমিতিকে অবহিত করেছেন যে ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণি বিতান ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে।

    আগেই বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবিলার অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। এই প্রাথমিক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মালিকদের আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

    তবে সমিতি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে বলে হলেও অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে না। সকল ব্যবসায়ীকে এই শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    দোকান মালিক সমিতি গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেছে যাতে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত উপভোগ্য ও সুশৃঙ্খলভাবে কার্যকর করা যায়।

  • এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা: ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌরসভা মেয়র

    এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ প্রার্থী ঘোষণা: ৫০ উপজেলা চেয়ারম্যান, ৫০ পৌরসভা মেয়র

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আংশিক প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছে — আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জনকে সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম জানান, বর্তমান ধাপটি প্রাথমিক। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল; সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে আজ ১০০ জনকে এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের আগেই—এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে যাওয়ার কাজ চলবে।

    প্রার্থীতার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে সারজিস আলম আরও বলেন, এনসিপিতে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বা যারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে আসতে চান—তাদেরও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে; যাদের বিরুদ্ধে মানুষের ওপর অত্যাচার বা সাজানো অপরাধ, ফ্যাসিস্ট বা অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য নেই, এমন প্রার্থীদের সুযোগ প্রদানের চেষ্টা করবে দল।

    ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ৫০ জন পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী রয়েছেন। নিচে বিভাগভিত্তিক ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়ার কুমারখালি — অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভেড়ামারা — জান্নাতুল ফেরদৌস টনি (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাগেরহাট চিতলমারি — ইশতিয়াক হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফকিরমারি — লাবিব আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), মোংলা — মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ, বাগেরহাট — মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার, যশোর বাঘারপাড়া — ইয়াহিয়া জিসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), নোয়াপাড়া — মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবির, খুলনা চালনা — মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ, চুয়াডাঙ্গা সদর — খায়রুল বাশার বিপ্লব (উপজেলা চেয়ারম্যান), জীবননগর — মেয়র প্রার্থী সোহেল পারভেজ, মেহেরপুর গাংনী — মেয়র প্রার্থী শাকিল আহমেদ, ঝিনাইদহ — মেয়র প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — মো. হাবিবুর রহমান হাবিব (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোদা — শিশির আসাদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ, ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — গোলাম মর্তুজা সেলিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দিনাজপুর ফুলবাড়ি — ইমরান চৌধুরী নিশাত (উপজেলা চেয়ারম্যান), বোচাগঞ্জ — মাওলানা এম এ তাফসির হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট — মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, হাকিমপুর — মেয়র প্রার্থী রায়হান কবির; নীলফামারীর জলঢাকা — আবু সাইদ লিয়ন (উপজেলা চেয়ারম্যান), নীলফামারী সদর — ড. কামরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুড়িগ্রাম সদর — মেয়র প্রার্থী মো. মাসুম মিয়া, লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), রংপুর সদর — কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — খাদিমুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    রাজশাহী বিভাগ: গোদাগাড়ি — মো. আতিকুল রহমান (উপজেলা চেয়ারম্যান), চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — আবু মাসুদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), নওগাঁ নেয়ামতপুর — বিশাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), বাদলগাছী — আসাদ মোর্শেদ আজম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধামুরহাট — পৌর মেয়র প্রার্থী মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়ার শিবগঞ্জ — মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দুপচাঁচিয়া — পৌর মেয়র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক, বগুড়া সদর — এ এম জেড শাহরিয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), নাটোর সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান, পাবনা চাটমোহর — মেয়র প্রার্থী খন্দকার আক্তার হোসেন, সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান ও উল্লাপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ: হবিগঞ্জ আজমিরীগঞ্জ — মো. কামাল আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), হবিগঞ্জ সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী, মৌলভীবাজার রাজনগর — খালেদ হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), কুলাউড়া — আবু রুকিয়ান (উপজেলা চেয়ারম্যান), সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — ওবায়েদ আহমেদ (উপজেলা চেয়ারম্যান), কানাইঘাট — বোরহান উদ্দিন ইউনূস (উপজেলা চেয়ারম্যান), ওসমানীনগর — হাজি মো. মোশাহিদ আলী (উপজেলা চেয়ারম্যান), জৈন্তাপুর — জাকারিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), গোয়াইনঘাট — মনসুরুল হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর সদর — ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান), সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী নূর ইসলাম, জামালপুর সদর — অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু (উপজেলা চেয়ারম্যান), বারহাটা — শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু (উপজেলা চেয়ারম্যান), নেত্রকোণা সদর — পৌর মেয়র প্রার্থী সোহাগ মিয়া প্রিতম, ময়মনসিংহ তারাকান্দা — ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), ভালুকা — নূরুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), হালুয়াঘাট — আবু হেলাল (উপজেলা চেয়ারম্যান), ধোবাউড়া — মো. সাইফুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর): কিশোরগঞ্জ সদর — আহনাফ সাইদ খান (উপজেলা চেয়ারম্যান), তাড়াইল — ইকরাম হোসেন (উপজেলা চেয়ারম্যান), করিমগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী খায়রুল কবির, সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবদুল্লাহ রনি, মানিকগঞ্জ সদর — আরিফুল ইসলাম (উপজেলা চেয়ারম্যান), দৌলতপুর — আবু আব্দুল্লাহ (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল কালিহাতি — মেহদী হাসান (উপজেলা চেয়ারম্যান), টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল, ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী হাসান ইমাম তালুকদার, শফিপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলী, নরসিংদী সদর — সাইফ ইবনে সারওয়ার (উপজেলা চেয়ারম্যান), গাজীপুর কালীগঞ্জ — শোয়েব মিয়া (উপজেলা চেয়ারম্যান)।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ): নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন মাহবুব, মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ: নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ, নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী নাজমুল হুদা, ফরিদপুর — পৌর মেয়র সাইদ খান, মাদারীপুর — পৌর মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ — পৌর মেয়র প্রার্থী ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি জানিয়েছে, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর যাচাই-বাছাই এবং ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়ার কাজ চলবে; পরে চাইলে আরও প্রার্থী যোগ করা হবে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য লোকদের মাঠে নামানোই তাদের উদ্দেশ্য।

  • মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে

    মিয়া গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ: সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, উন্নয়নের কাজে সরকার জেলায়ভিত্তিকভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বললেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি; নির্বাচিত এলাকার স্বার্থের কথা ভেবে যদি বিমানবন্দর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়, তা হলে তা অসাম্য-ন্যায়হীনতা হবে।

    শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড়গামী একটি ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দुल হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা এমপিদের নির্বাচনী এলাকার প্রাধান্য দিয়ে নতুন উপজেলা তৈরী বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে হওয়া উচিত ছিল।

    তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ — এখন বাস্তবেও সেটাই দেখা যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সেই চরিত্রটা ধারণ করেছে। তারা ৭০ ভাগ জনমতকে উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতিতে লিপ্ত হচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের ফল অস্বীকার করছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না সরকার; এটা জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা।’’ তিনি বলেন, বিএনপি জনস্বার্থে ব্যাকপাস খেলায় সরাসরি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা দেশেও ক্ষতিকর হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমকে ইঙ্গিত করে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিলেন, এখন তাদের মধ্য থেকেই বিভিন্ন মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিক বরখাস্ত ও হয়রানির মতো কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে। বিশেষত সরকারের সমালোচক সাংবাদিকদের টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীদের ফুলে শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী।

    সবশেষে তিনি এবং তার সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

  • অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী: আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আর্থিক খাতসহ সকল সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক সেক্টরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না এবং এই ক্ষেত্রগুলো হবে শতভাগ পেশাদার ভিত্তিতে পরিচালিত। তিনি এই কথা বলেন মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে।

    অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএসআইসির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বিএবির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারের কোনো রাজনৈতিক নিয়োগ বা প্রভাব এখানে কাজ করবে না; এটি হবে সম্পূর্ণ দক্ষ ও পেশাদার একটি প্রতিষ্ঠান। যে পরিমাণ মূলধন নিয়ে বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি যাত্রা শুরু করেছে, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে। তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে কেবল বিনিয়োগকারী সংস্থা হিসেবে না দেখে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে দৃশ্যমান করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় দুইটি সমস্যা হলো ফান্ডের অভাব ও জামানত প্রদানের অক্ষমতা। এই উদ্যোগ সেই দুই বাধা দূর করবে। এখানে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ, দক্ষ ও পেশাদার।

    মন্ত্রী আরো বলেন, এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত; আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি। বিশেষ করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরের তরুণদের অর্থনীতির মূলধারায় আনা হবে।

    আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বর্তমান সময়কে চ্যালেঞ্জিং বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে সংস্কার ও প্রয়োজনমত ডিরেগুলেশনের দিকে কাজ করা হচ্ছে। বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারে দক্ষ ব্যক্তিদের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি বড় ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। দেশের ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের আন্ডার-ক্যাপিটালাইজেশন দূর করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    অবশেষে মন্ত্রী আশাব্যঞ্জকভাবে বলেন, এই স্টার্টআপ কোম্পানি কেবল ব্যাংকিং খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের সফলতার জন্য সর্বাত্মক নীতিগত সমর্থন দেবে। দেশের কয়েকটি ব্যাংক মিলিতভাবে যে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, তা দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • বৈদেশিক রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার; আইএমএফ পদ্ধতিতে ২৯.৫৬ বিলিয়ন

    বৈদেশিক রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার; আইএমএফ পদ্ধতিতে ২৯.৫৬ বিলিয়ন

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ এখন ৩৪.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম‑৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়ায় ২৯.৫৬ বিলিয়ন ডলার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় অনুযায়ী সোমবার বিকেল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার (১১ মে) বিপিএম‑৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ ছিল দুই হাজার ৯৫৬ কোটি ৫৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২৯.৫৬ বিলিয়ন ডলার)। অন্যদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী মোট রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪২২ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার)।

    এর আগে রোববার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) মার্চ ও এপ্রিলের দুই মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করে, যার পরিমাণ ছিল ১৫১ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আকুর এই বিলে পরিশোধ শেষ হওয়ার পর আইএমএফের বিপিএম‑৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ তখন দাঁড়ায় দুই হাজার ৯৪৭ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল তিন হাজার ৪১৪ কোটি ২০ হাজার ডলার।

    তুলনামূলকভাবে বলা যায়, গত ৭ মে বিপিএম‑৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩০.৯৬ বিলিয়ন ডলার (তৎকালীন প্রকাশিত কাগজে উল্লেখ করা হিসাবে তিন হাজার ৯৬ কোটি ৪০ হাজার ডলার) এবং ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার (তথ্য অনুযায়ী তিন হাজার ৫৬১ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার)।

    বিপিএম‑৬ হলো আইএমএফের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আয়-ব্যয়ের হিসাব করার পদ্ধতি; অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব কিছু সময়তালিকা ও অ্যাকাউন্টিং আইটেমের ভিন্নতার কারণে তা থেকে আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই সকল তথ্য সরকারি রেকর্ড ও হিসাবের ভিত্তিতে নিশ্চিত করেছেন।

  • ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাব ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নেই: গালিবাফ

    ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাব ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নেই: গালিবাফ

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, চলমান সংঘাত নিরসনে তেহরানের ১৪-দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোষ্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    গালিবাফ বলেন, ‘‘চলমান সংকট শিথিল করার জন্য ইরানের ১৪-দফা প্রস্তাবই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ; তা মানেনি যে কোনো বিকল্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘প্রস্তাবে বর্ণিত ইরানি জনগণের অধিকার স্বীকার না করলে অন্য কোনো পথ ফলদায়ক হবে না।’’

    সংসদ স্পিকার সতর্কভাবেই যুক্তরাষ্ট্রকে বলছেন যে যত বেশি সময় নেবে এবং গড়িমসি করবে, তত বেশি খরচই তাদের (অর্থাৎ আমেরিকান করদাতাদের) বহন করতে হবে। তার বক্তব্য থেকে তেহরানের কৌশল স্পষ্ট: দৃঢ় সংকল্প দেখানো, ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক স্বার্থে দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং প্রতিরোধকে জাতীয় অধিকারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে পরবর্তী তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই বিবৃতি এসেছে। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের জবাব ইরান পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রে পাঠায়, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি— একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’’

    গালিবাফের ভাষায়, আলোচনার পথ বাঁচাতে এবং উত্তেজনা কমাতে ইরানের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে হবে; তা না হলে সহিংসতা এবং ব্যয় দুটোই বাড়বে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’ রাজ সিং

    শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুনে অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ‘শুটার’ রাজ সিং

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রাজ সিংকে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও এসটিএফের যৌথ অভিযানে হাইওয়ের পাশে অবস্থানকালে তাঁকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর থেকে এই ঘটনা দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

    পুলিশ সূত্রে দাবি, রাজ সিং একজন পেশাদার ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো যোগ রয়েছে কী না। গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন পুলিশি ও গোয়েন্দা সংস্থা রাজের অপরাধপটভূমি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখছে।

    রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার সদর কোতোয়ালি থানার আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই কালো স্করপিও গাড়িতে, যার উপর বিজেপি-পতাকা লাগানো থাকত, চলাফেরা করতেন।

    রাজ সিং উত্তরপ্রদেশ অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে তিনি বালিয়া নগর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়াই করেছিলেন এবং চলতি বছর চিলকাহার ব্লক থেকে স্থানীয় منتخبপদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

    তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, রাজ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি রয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ এখন এসব ছবির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক যোগসূত্র ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কড়ি জোড়া খুঁজছে।

    রাজের বিরুদ্ধে পুরনো এক মামলা-ফাইলও আলোচনায় এসেছে। প্রায় ছয় বছর আগে বালিয়ায় এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছিল; সেই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তদন্তকারীরা দেখছেন, ওই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে চন্দ্রনাথ রথ খুনের কোনো যোগ আছে কি না।

    ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের কাছেও হস্তান্তর করা হয়েছে; একটি সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্তকারীরা একসাথে ঘটনায় রাজনৈতিক ও অপরাধজগতের অংশীদারদের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন।

    রাজ সিংয়ের পরিবার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাজের মা জামবন্ত্রী সিং, যিনি বালিয়ার প্রধান ডাকঘরের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত, দাবি করেছেন যে তার ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ লখনউতে এক বিজেপি নেতার মেয়ের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে গ্রেপ্তার হন এবং ঘটনার দিন রাজ বালিয়াতেই উপস্থিত ছিলেন — সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা প্রমাণিত হবে বলে তাঁর দাবি।

    অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভারকে সাধারণত রাজপুত সম্প্রদায়ের সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; সমালোচকরা বলেন তাঁদের কিছু অংশ করনি সেনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পক্ষান্তরে এ সংগঠনের প্রতিনিধিরা সময়-সময় বিভিন্ন ঐতিহ্যগত নামকরণ ও সংস্কৃতিগত দাবি তুলে থাকেন। দলটির নেতা-কর্মীদের বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত দেখা গেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। এগুলোকে আদালত বা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হবে।

    শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীর হত্যাকাণ্ডে রাজ সিংয়ের গ্রেপ্তারি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর সিবিআই ও এসআইটির তৎপরতায় — তারা জেরা ও প্রমাণ-উপাত্তের মাধ্যমে খোঁজার চেষ্টা করবে খুনের প্রকৃত অদৃশ্য হাতগুলো কারা এবং ঘটনার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল।

  • স্ত্রীর অভিযোগ: খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা

    স্ত্রীর অভিযোগ: খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ ও গুমের চেষ্টা

    খুলনায় ব্যবসায়ী কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে অপহরণ করে গুমের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনামিকা দাস (পপি)। তিনি সোমবার খুলনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

    অনামিকা দাস লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সন্তান নিয়ে পরিত্যক্তাবস্থায় খুলনায় বসবাস করেছেন। এ সময় কালী শংকর সাহা অরবিন্দু তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন এবং হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় ৮ এপ্রিল ২০২৬ সালে।

    তবে অনামিকা অভিযোগ করেন, কালী শংকর সাহার প্রথম পক্ষের ছেলে ডাঃ হিমেল সাহা ও পুত্রবধূ তন্নী দেবনাথ তাদের বিয়ে মেনে নেননি। বিয়ের পর থেকেই তিনি মানসিক নির্যাতন, হুমকি এবং অপমান ভোগ করেছেন। এমনকি বাড়িতে প্রবেশ করতেও তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা বলেন, গত ১৬ এপ্রিল স্বামীকে কৌশলে আটকে রেখে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। পরে জানতে পারেন তাকে খুলনা থেকে জোরপূর্বক ঢাকা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি একটি মামলা করেছেন; মামলা নং (সিআর) ৯৪১/২৬। আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করলেও এখন পর্যন্ত তার স্বামীকে উদ্ধারের কোনো সাফল্য হয়নি বলে তিনি জানান।

    অনামিকা আরও অভিযোগ করেন, স্বামীকে অসুস্থ দেখিয়ে ঢাকা আটকে রাখা হয়েছে এবং জোরপূর্বক তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ছেলে ও পুত্রবধূর ওপর থেকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসা হয়েছে; বিষয়টি আড়াল করতে এবং দায় এড়াতে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুমের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা দাস প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আবেদন জানিয়ে দ্রুত কালী শংকর সাহা অরবিন্দুকে উদ্ধার, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাকে বিদেশে নেওয়া ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।