Blog

  • রাশমিকা মান্দানা ফের টোকিওর গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডসে

    রাশমিকা মান্দানা ফের টোকিওর গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডসে

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন। আগামী ২৩ মে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য ১০তম ‘গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডস’-এ তিনি সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আগেও ২০২৪ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন।

    এবারের আসরের আরও বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী আবেল টেসফায়ে, যিনি ‘দ্য উইকেন্ড’ নামে পরিচিত। রাশমিকা ও আবেলের উপস্থিতি এই ইভেন্টকে আন্তর্জাতিকভাবে অধিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্যক্তিগত জীবনেও রাশমিকার আনন্দটা আছে—সম্প্রতি দীর্ঘদিনের প্রেমিক বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে তিনি বিয়ে করেছেন এবং হানিমুন শেষ করে এখন কাজে ফিরেছেন। কাজে ফেরার পর তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ ছবিতে।

    পেশাগতভাবে রাশমিকার হাতে বর্তমানে একগুচ্ছ প্রকল্প রয়েছে। আগামী ১৯ জুন মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন হিন্দি ছবি ‘ককটেল টু’, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন শাহিদ কাপুর এবং ছবিতে কৃতি শ্যাননও আছেন। এছাড়া চলতি বছর মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার দুই তেলেগু ছবি—’মাইসা’ ও ‘রণবালী’। বিশেষত ‘রণবালী’ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বেশি, কারণ তাতে তিনি অভিনয় করেছেন নিজের স্বামী বিজয় দেবরকোন্ডার বিপরীতে।

    রাশমিকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাবর্তন এবং একাধিক প্রজেক্টের ব্যস্ত সময়সূচি দেখে আশা করা যাচ্ছে, তিনি আগামীদিনেও ভারতীয় সিনেমা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বব্যাপী মানুষের সংযোগ বাড়িয়ে দেবেন।

  • নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম ‘টিটন’ নিহত

    নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম ‘টিটন’ নিহত

    রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ (৩৮), পরিচিত নাম টিটন, নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে; সময়টি বিভিন্ন সূত্রে ৭টা৫০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত বলা হচ্ছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীরা জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের সামনে বটতলা সড়কে সন্ধ্যার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে টিটনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের কয়েকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালানোর সময় লোকজনকে ভীত দেখাতে আরও কয়েকটি গুলি করে। দুইজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরিধান করছিলেন।

    ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়, বলে জানান উদ্ধারকারীর মধ্যে থাকা একজন শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতকে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি রাজধানীর হাজারীবাগ জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিটনকে তারা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন এবং তাঁর সানজিদুল ইসলাম उরফে ইমন নামে পরিচিত এক সন্ত্রাসীর শ্যালক ছিলেন।

    নিউ মার্কেট থানা ইনচার্জ মো. আইয়ুব জানান, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পাশে বটতলায় একজনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রচুর রক্ত লক্ষ্য করা গেছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, বিভিন্ন সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন বলে আমরা জানতে পেরেছি; বিষয়টি আরও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু বছর আগে এক আন্দোলনের পর টিটনসহ তালিকাভুক্ত কয়েকজন সন্ত্রাসী কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং এরপর থেকে টিটন আদালতে হাজিরা দেননি। তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রকাশিত ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তালিকায় টিটনের নাম ছিল দ্বিতীয় স্থানে। তার সম্পর্কিত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন সানজিদুল ইসলাম ইমন; তারা মোহাম্মদপুরভিত্তিক হারিছ-জোসেফ গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। টিটনের কর্মকাণ্ড প্রধানত ধানমণ্ডি ও হাজারীবাগ এলাকা কেন্দ্রে ছিল।

    পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল কল ডেটা সংগ্রহ করে তদন্ত আরও গভীর করছে।

  • এনসিপি নেতা সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি

    এনসিপি নেতা সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ঢাকার ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল পৌনে তিনটায় তিনি আচমকা পেটব্যথা অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সারজিস আলমের ছোট ভাই সাহাদাত হোসেন সাকিব নিশ্চিত করেছেন। সাহাদাত ভাইয়ের সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (২৫ এপ্রিল) জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সমাবেশে আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি দলটিকে জাতির কাছে প্রতারণার অভিযোগ এনে কঠোর সমালোচনা করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে একই কাতারে মজলুম ছিলাম, কিন্তু এখন তারা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মিলেজুলে কাজ করে সেই দুর্বৃত্তরাজ্যকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনই আওয়ামী লীগ হবে না; তারা কেবল দুর্বল আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, যে সময়ে আওয়ামী লীগ পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী ও সহিংস দলবল দিয়ে সমাজে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, তখন কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি; আজ বিএনপি ঠিক সেই পথটাই অনুসরণ করছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, সুশাসন ও সত্যিকারের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার প্রতিটি উদ্যোগে বিএনপি বাধা দেয়—এটি জাতির সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের নিজের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে এবং এমন আচরণে তারা বুদ্ধিগত দিক থেকেও হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    ডা. শফিকুর রহমান স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ ও তাদের পরিবারদের ত্যাগহীন অবদানও স্মরণ করান। তিনি বলেন, যদি জুলাইয়ের ত্যাগ না থাকত, বহু সন্তান-স্বামী-ভাই-বোন জীবন দেয়নি, আজকের ঘটনাগুলো ঘটত না। শহীদ পরিবারের প্রতি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও তাদের প্রতি সহানুভূতির অভাবের তীব্র নিন্দা করেন তিনি।

    একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, বিপ্লব না হলে যারা বিদেশে ছিলেন, দেশে ফেরার স্বপ্নও দেখতেন না। জেলবন্ধু সহকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, কীভাবে কেউ এই ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্ব ভুলে যেতে পারে এবং বিভিন্ন আন্দোলনের পেছনে মিথ্যা ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করে তা ছোট করে দেখায়।

    ডা. শফিকুর রহমান বঙ্গবন্ধু যুগের ত্যাগীদের সম্মান বLRয় করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্দোলনে ছাত্র-যুব, শ্রমিক, মায়েরা, স্ত্রী-সন্তানের সকল শ্রেণি অংশ নিয়েছিল—তাদের ত্যাগ ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে; ছাত্র-ছাত্ৰীর হাতে দা-কুড়াল নয়, খাতা-কলম দেখতে চান জামায়াত।

    সংসদীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছে এবং শপথ নিয়েছে; অন্য পক্ষ শপথ না করে প্রতারণা করেছে। তিনি আশঙ্কা করেন যে, যদি আইন ও সংবিধানগত সংশোধন না হয়, তাহলে পুরনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থাই থিতু থাকবে।

    শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ—ছাত্র সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, এমনকি আইন-আশ্রয় নেয়ার জন্য থানায় গেলে সেখানে আক্রান্ত করা হয়েছে। তিনি এটিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে ফ্যাসিবাদের পথে পা বাড়িয়েছে এবং এই পরিস্থিতি তিনি মেনে নেবেন না। তিনি এবঙ আওয়ামী নেতৃত্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন—একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চান যেখানে নারীরা ও শিশুরা নির্ভয়ে ঘোরাফেরা করতে পারবে। যারা গণভোটে ৭০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেয়েছে, তাদের রায়কে সম্মান জানাতে হবে; না হলে তাদের লড়াই সংসদে ও খোলা মাঠে অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

  • সারাদেশে নির্বাচন-প্রস্তুতি নিতে তরুণদের আহ্বান, এনসিপিই সমর্থন করবে: নাহিদ ইসলাম

    সারাদেশে নির্বাচন-প্রস্তুতি নিতে তরুণদের আহ্বান, এনসিপিই সমর্থন করবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”

    অনুষ্ঠানটিতে বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনকারী মহিউদ্দিন রনিকে দলীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; বাকিরা মঞ্চে অনাবৃত্তভাবে অংশ নেন এবং নাম ঘোষণা শেষে তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

    বক্তৃতায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচন হয়ে সরকার গঠনের পর নির্বাচিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। তারা ওই নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে এটিকে একটি সাধারণ ক্ষমতার হস্তান্তরের নির্বাচন বানিয়ে দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন যে সংবিধান সংশোধনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলো একে একে বাতিল করা হচ্ছে এবং ব্যাংক লুটারদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানাভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে নাহিদ অভিযোগ করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতি পুনরায় প্রসারে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা কোনো স্বৈরশাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। এনসিপির ছায়াতলেই মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে—এটাই আমরা ধীরে ধীরে পাচ্ছি। সারাদেশ থেকে আমাদের অভূতপূর্ব সাড়া আসছে।”

    এনসিপি সারাদেশে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি হবে। আমরা রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি—এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। যারা রাজনীতি করতে চান, পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।”

    বর্তমান সরকারের কর্মদক্ষতা নিয়ে গম্ভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, “সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতি টালমাটাল, দেশের গণতন্ত্র নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় স্থগিত পোশাক খাতের ক্রয়াদেশ, উদ্বেগ বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটকে ঘিরে বিদেশি ক্রেতারা নতুন ক্রয়াদেশ স্থগিত করায় তৈরি পোশাক খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী বুধবার এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় বহু বিদেশি ক্রেতাই বাংলাদেশে অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক ভূমিকা নিচ্ছেন। এর ফলে রপ্তানি-ভিত্তিক অর্থодержনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    আনোয়ার-উল আলম আরও জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্ট মাসে বিতরণযোগ্য অনেক ক্রয়াদেশ ইতোমধ্যেই ধীরগতিতে পড়েছে। কিছু বড় ক্রেতা নেতিবাচক সঙ্কেত দিচ্ছে এবং কয়েকটি অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে অবস্থিত ক্রেতাদের স্থানীয় অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এটি রপ্তানি খাতের টেকশীলতা ও বিদেশী মুদ্রা আয়ের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিসিআই সভাপতি বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসাবান্ধব নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাকে কঠিন করে তুলছে।

    তাই তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব দেন। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সূত্রের এই প্রস্তাব নাকচ করেছেন বলে আলোকপাত করা হয়।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ ব্যক্ত করে বলেন, কর যাচাইয়ের নামের সামনে কোনো প্রতিষ্ঠানকে তাদের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এতে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিলের দাবি জানান। তারা সরকারের প্রতি করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত না করে সহায়ক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    শিল্পশিল্পীদের মত, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না করা হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগী সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা বলছেন—তৎক্ষণাত ব্যবস্থা না নিলে চাকচিক্যময় অথচ নাজুক এই সেক্টরের ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে।

    সেক্টরের প্রতিনিধিরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কর নীতি আরও ব্যবসা-বান্ধব করা এবং রপ্তানি আদেশ ধরে রাখার জন্য কার্যকর সমাধান দাবি করেছেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা চলতি এপ্রিলেও বজায় রয়েছে। এই মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এর মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য জানিয়েছে। ব্যাংকের তথ্যে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়কার রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তাই চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলর, যা টাকায় প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান।

    এ বছরের মার্চ মাসটিতে দেশের ইতিহাসে এক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে—ওই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে, যখন রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। তৃতীয় এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখা জরুরি বলে তারা পরামর্শ দেন।

    রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় তা সহায়ক হবে, কিন্তু বৈশ্বিক অস্থিরতা ও এলাকাpecific সংকটগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীতিমালায় প্রস্তুতি বাড়ানোরও গুরুত্ব রয়েছে।

  • জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি করে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র

    জাতিসংঘের এনপিটি সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি করে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র

    জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদফতরে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার একাদশ সম্মেলন সোমবার শুরু হয়ে গেছে। এবারের সম্মেলনে ভিয়েতনামকে সভাপতি এবং ইরানসহ মোট ৩৪টি দেশকে সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে এনপিটি চুক্তির প্রতি একটি ‘‘উপহাস’’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    সভাপতি হওয়া ভিয়েতনামের জাতিসংঘ দূত দো হুং ভিয়েত বলেছেন, ‘‘এটি একটি জোটনিরপেক্ষ নির্বাচন—অন্যান্য সদস্যরাই ইরানকে বেছে নিয়েছে।’’

    অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও বলেন, ইরানকে সহ-সভাপতি করা এনপিটির প্রতি ‘‘অপমানজনক’’ একটি সংকেত। তিনি জানান, ‘‘ইরান দীর্ঘকাল ধরে এনপিটির ওপর নিজের প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে এসেছে এবং তার কর্মসূচি সম্পর্কে প্রশ্নগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক তদারকি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সহযোগিতা থেকে বিরত থেকেছে।’’ ইয়াও আরও বলেন, ইরানের মনোনয়ন সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বিব্রতকর।

    জবাবে তেহরানের আইএইএ প্রতিনিধি রেজা নাজাফি মার্কিন অভিযোগগুলোকে ‘‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রবণতাসক্রিয়’’ বলে খারিজ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে یاد করিয়ে দিয়েছেন যে, ইতিহাসে পারমাণবিক অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা একমাত্র দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, অথচ তারা এখনই নিজেকেই সালিশি-শাসক বানিয়ে ফেলতে চাচ্ছে।

    পারমাণবিক ইস্যু ইরান ও পশ্চিম্য দেশগুলোর—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের—মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূলকেন্দ্রে রয়েছে। রোববারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বলেছিলেন, ‘‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’’

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলেছে যে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে করতে চায় এবং এই অধিকার স্বীকার করার দাবি করে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, ইরানের সমৃদ্ধকরণের প্রকৃত লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

    সূত্র: রয়টার্স

  • সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ‘ওপেক প্লাস’ ত্যাগের ঘোষণা দিলো

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ও ‘ওপেক প্লাস’ ত্যাগের ঘোষণা দিলো

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ওপেক ও ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তটি আগামী ১ মে থেকে কার্যকর হবে — যা বিশ্বর অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আমিরাতের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং তেল বাজার ও জোটের নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    দেশটির সরকারি সংবাদসংস্থা WAM জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে করা বিনিয়োগকে সমন্বিত করার অংশ। ঘোষণায় বলা হয়েছে, দেশটি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে এবং নিজস্ব সরবরাহশৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আমিরাতের ‘দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য’ উৎপাদক হিসেবে অবস্থান বজায় রাখার অঙ্গীকারও জোরদার হবে বলে বলা হয়েছে।

    ঘোষণায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের জরুরি চাহিদা মেটাতে নেওয়া হচ্ছে, বিশেষত আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, যা সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।

    অন আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায়, অনেক বিশ্লেষক এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে অনুকূল বলে দেখছেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওপেককে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য সমালোচনা করেছেন; সেই প্রেক্ষিতে আমিরাতের প্রস্থান মার্কিন প্রভাবকে কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

    আরেকদিকে, আমিরাতের মতো বড় উৎপাদনকারীর জোট ত্যাগ ওপেককে দুর্বল করতে পারে। ওপেক থেকে বেরিয়ে এসে আমিরাত এখন কোটা-নির্ভরতা ছাড়াই নিজের উৎপাদন বাড়াতে পারবে, ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়—যা দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম কমাতে সহায়ক হতে পারে।

    তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছু অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেকে মনে করেন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চেই থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ নিয়মিত বাড়ালে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মূল্যে ধীরে ধীরে চাপ বাড়বে এবং ব্যারেলপ্রতি ৭০–৯০ ডলারের মধ্যে দাম নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে গঠিত ওপেক তেল সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শুরুতে পাঁচটি দেশ — সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও ভেনিজুয়েলা — মিলিত হয়ে জোটটি গঠন করেছিল; পরে অনেক দেশ এতে যোগ দেয়। গত কয়েক বছরে কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়েডর ও অ্যাঙ্গোলা মত দেশ কিছু সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে ওপেক ত্যাগ করেছে। বর্তমানে ওপেকের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১২টি, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

    অপরদিকে, ২০১৬ সালে ওপেক ও অ-ওপেক কিছু দেশ মিলিত হয়ে ‘ওপেক প্লাস’ গঠন করে — এতে রাশিয়া, কাজাখস্তান, ওমান, মেক্সিকোসহ বহু উৎপাদনকারী দেশ জড়িত হয়; এই জোট এখন বিশ্ব তেল উৎপাদনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

    এ প্রতিবেদনটি আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত।

  • খুলনায় ছাত্র নেতার পৈতৃক জমি দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    খুলনায় ছাত্র নেতার পৈতৃক জমি দখলচেষ্টা: বিএনপি নেতাসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও জেলা সদস্য সচিব সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি তাঁর পৈতৃক জমি দখলচেষ্টার, চাঁদা দাবি ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার খুলনার বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে নালিশি মামলা করেন ভুক্তভোগী বাপ্পি।

    মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসকে। অভিযোগে আরও রয়েছে—জহির (৪২), দ্বীপু ওরফে কাউন্টার দ্বীপু (৪২) ও অজ্ঞাতনামা আরও প্রমান ২০-২৫ জন।

    পুলিশি ও মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল সকালে কুয়েট রোড এলাকার বাপ্পিদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় পৈতৃক জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হলে ওই সত্তরাসক্রিয়া গ্রুপটি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে হানা দেয়। তারা প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

    চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামীরা বাপ্পির পিতাকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং একপর্যায়ে এক হাজার ৫ শত বর্গফুট বা ৩ শতক জমি আব্বাসের নামে লিখে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। একই সময় বাপ্পির পিতার কাছ থেকে জোরপূর্বক এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। পুরো টাকা না দিলে জমিতে আর কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না—এ ধরনের হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়।

    নালিশি বিবরণে উল্লেখ আছে, একাংশ আসামি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলীয় সূত্রে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্মের অভিযোগে মহানগর বিএনপি ওই নেতাকে একাধিকবার শোকজ করলেও তার বিরুদ্ধে আক্রামক প্রবণতা কমেনি; বর্তমানে তিনি শোকজপ্রাপ্ত অবস্থাতেই রয়েছেন।

    বাপ্পি তাঁর আরজিতে জানান, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে 먼저 আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়; এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দণ্ডবিধির ৩৮৬/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৭/৩৯৪/৩২৩/৩৯২/৫০৬ ও ৩৪ ধারায় নালিশি আবেদন দাখিল করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

    এ ঘটনার পর গত ২৬ এপ্রিল বাপ্পি মহানগর বিএনপির কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও করেন এবং সেখানে সংস্থাটিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে, আদালত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন বলে জানানো হয়েছে।