Blog

  • দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

    দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে এগোচ্ছে সরকার: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ। তিনি এই কথা বলেন সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহার নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে।

    মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে মোট তিনটি প্রস্তাবনা আছে। এর মধ্যে একটি হলো দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুট, যা ইতোমধ্যে সবচেয়ে সম্ভাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডিও সম্পন্ন হয়েছে; এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন। তিনি জানান, অর্থায়ন বিষয়ক আলোচনা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে।

    ঈদযাত্রা ও নৌপথে নিরাপত্তা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেক ত্রুটি পাওয়া গেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি উঠতে না পারে।

    তিনি আরও জানান, সদরঘাট এলাকায় স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলে নতুন শৃঙ্খলা গৃহীত হয়েছে — এখন থেকে স্পিডবোটের যাত্রীরা সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না; তাদের নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এই সহজতায় নতুন সংযোগ সেতুও নির্মাণ করা হয়েছে।

    মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এবারের ঈদ পরিচালনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ দেড় কোটির বেশি মানুষ ঈদযাত্রা করবেন এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহন করতে হবে। তবু তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সমস্ত সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

  • এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার প্রাথমিক প্রার্থী

    এনসিপি ঘোষণা করল ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার প্রাথমিক প্রার্থী

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেন।

    সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রথম ধাপে আজ ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হলো। তিনি জানান, ঈদের আগে, অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জনের নাম প্রকাশ করা হবে এবং এই প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলবে।

    মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, এনসিপি যে কোনো রাজনৈতিক পটভূমির, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নেতৃত্বে থেকে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে এবং যারা মানুষের ওপর অত্যাচার কিংবা ফ্যাসিস্ট তৎপরতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না—এমন মানুষরাও যদি এনসিপির প্রার্থী হতে চান, তারা আবেদন করতে পারবেন। দলের সমন্বিত যাচাই-বাছাই শেষে অন্যান্য দল থেকে যোগদানের ক্ষেত্রেও সুযোগ দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

    ঘোষিত ১০০ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ৫০ জন পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। নিচে বিভাগভিত্তিক প্রার্থীদের নাম ও পদ দেওয়া হলো—

    খুলনা বিভাগ:

    কুষ্টিয়ার কুমারখালী — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা — উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট চিতলমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারি — উপজেলা চেয়ারম্যান লাবিব আহমেদ; মোংলা — পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোর বাঘারপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভা — মেয়র শাহজাহান কবির; খুলনা চালনা — মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভা — মেয়র সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর গাংনী — পৌর মেয়র শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভা — মেয়র তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ:

    পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া — উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা — উপজেলা চেয়ারম্যান শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ — পৌর মেয়র মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল — উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর ফুলবাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌরসভা — মেয়র শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট — পৌর মেয়র মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর — পৌর মেয়র রায়হান কবির; নীলফামারী জলঢাকা — উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর — পৌর মেয়র মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ:

    রাজশাহী গোদাগাড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মাসুদ; নওগাঁ নেয়ামতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান বিশাল আহমেদ; বাদলগাছী — উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ মোর্শেদ আজম; ধামুরহাট — পৌর মেয়র মাহফুজার রহমান চৌধুরী (রুবেল); বগুড়া শিবগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া — পৌরসভা মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক; বগুড়া সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌরসভা — মেয়র আব্দুল মান্নান; পাবনা চাটমোহর — পৌর মেয়র খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌরসভা — মেয়র ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ:

    হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর — পৌর মেয়র মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার রাজনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদ হাসান; কুলাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান আবু রুকিয়ান; সিলেট কোম্পানিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর — উপজেলা চেয়ারম্যান হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ:

    শেরপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র — নূর ইসলাম; জামালপুর সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোণা খালিয়াজুড়ি — উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টা — উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোণা সদর পৌরসভা — মেয়র সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ তারাকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা — উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট — উপজেলা চেয়ারম্যান আবু হেলাল; ধোবাউড়া — উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর):

    কিশোরগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল — উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র খায়রুল কবির; সাভার — উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর — উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আব্দুল্লাহ; টাঙ্গাইল কালিহাতি — উপজেলা চেয়ারম্যান মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌরসভা — মেয়র মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌরসভা — মেয়র হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌরসভা — মেয়র মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর — উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর কালিগঞ্জ — উপজেলা চেয়ারম্যান শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ):

    নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও — উপজেলা চেয়ারম্যান তুহিন মাহবুব; মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখান — উপজেলা চেয়ারম্যান আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ:

    নগরকান্দা — উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভা — মেয়র নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভা — মেয়র সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভা — মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভা — মেয়র ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে যে এ তালিকা প্রাথমিক এবং দল প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামীতে আরও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রার্থীদের চূড়ান্ত تایমলাইন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে সময়মতো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে।

  • সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা সবচেয়ে যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি; যদি নির্বাচিত কোনো এলাকার সুবিধা ভেবে এটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়, তাহলে তা চরম অন্যায় হবে।

    শনিবার সকালে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামে তিনি—সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু নির্বাচিত এলাকার স্বার্থকে সামনে রেখে উন্নয়ন করলে দেশের সার্বিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।’

    গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের এলাকায় নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে, অথচ জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় এসব উন্নয়ন কার্যক্রম সমবন্টিত হওয়া উচিত ছিল। তাতে সাধারণ জনগণের স্বার্থ বজায় থাকত বলে তার দাবি।

    সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিন, তিনি বললেন, ‘প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। এখন বাস্তবেও তা দেখা যাচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করেন বিএনপি ক্ষমতায় এসে ৭০ শতাংশ জনমত উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে এবং নির্বাচনের আগে যাঁরা ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন, তাঁরা এখন গণভোটের ফল মানতে নারাজ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা হলেও বাস্তবে গণভোটের রায় মানছে না সরকার, যা জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণার শামিল। তার মতে, বিএনপি যদি জনস্বার্থে ব্যাকপ্যাস খেলতে থাকে, তাতে কেবল বিএনপি নয়—সারা দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    গণমাধ্যম সম্পর্কে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলেছিল, এখন তাদেরই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত ও হয়রানি করার কাজগুলোতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষত সরকার সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের টার্গেট করার কার্যক্রম চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    এতে আগে বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। এছাড়া সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর পর গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • সোনার দাম কমলো—প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমলো—প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার সকালে দেশের বাজারে সোনার দর কমানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত নামানো হয়েছে এবং নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৪০,৩৩৭ টাকা। এটি করোনার পূর্ববর্তী দিন হিসেব করা গেলে গতকাল সোমবার (৪ মে) যে দাম ছিল—সেই মূল্য ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এখন ২,২৯,৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১,৯৬,৬৫৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১,৬০,১৪৭ টাকা।

    বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে—২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম রয়েছে ৫,৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩,৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও গত কিছু সময়ে সোনা ও রুপার দর ওঠানামা করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার ফলে আগে সোনার দাম বাড়তি চাপ পেয়েছিল, পরে হয়ত সমন্বয়ের মাধ্যমে দর নেমে এসেছে। বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪,৫০০ ডলারে; তুলনায় ৩০ জানুয়ারি ও ২৯ জানুয়ারি আগে এটি ছিল যথাক্রমে ৫,২০০ ও ৫,৫৫০ ডলার।

  • আবার বেড়েছে সোনার দাম

    আবার বেড়েছে সোনার দাম

    টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সংগঠন জানায়, সর্বোচ্চ এক ভরিতে দাম ২,২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেট সোনার দর গতকের তুলনায় বাড়ে এবং নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্যের বাড়তি প্রভাব সামলাতে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    বেধে দেওয়া দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির মূল্য এখন ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। ২১ ক্যারেট প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা; ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৫ হাজার ৫৪০ টাকা; ১৮ ক্যারেট রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুস বলেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল অঞ্চলে উত্তেজনার পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি’র তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪,৭০০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫,৫৫০ ডলার।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম তীব্রভাবে বাড়ায় দেশে দামও রেকর্ড পরিমাণে উঠেছিল। ২৯ জানুয়ারি সকালে একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা বাড়ানোর পর ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম তখন পৌঁকে গিয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওই সময়ে একধাপে এত বেশি মূল্যবৃদ্ধি আগে কখনো দেখা যায়নি।

  • এমভি হন্ডিয়াস क्रুজে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক: মার্কিন ও ফরাসি নাগরিক সহ তিনজনের মৃত্যু

    এমভি হন্ডিয়াস क्रুজে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক: মার্কিন ও ফরাসি নাগরিক সহ তিনজনের মৃত্যু

    আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করা এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি বিলাসবহুল ক্রুজশিপে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ঘটনা বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছে। জাহাজে বা জাহাজে ভ্রমণের পর অন্তত তিনজন যাত্রী মারা গেছেন এবং ভাইরাসের সংস্পর্শে আসা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    ওশেনওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এমভি হন্ডিয়াস ১ এপ্রিল উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা করেছিল। জাহাজটিতে প্রথমদিকে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন, তারা ছিল বিশ্বের প্রায় ২৮টি দেশের নাগরিক—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ফিলিপিন্স, রাশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য দেশসহ।

    ১১ এপ্রিল একজন ডাচ ব্যক্তি জাহাজেই মারা যান; নিহতের মৃত্যুর কারণ তখন অনিশ্চিত ছিল। দুই সপ্তাহ পর, ২৪ এপ্রিল সেই ব্যক্তির স্ত্রীকে সেন্ট হেলেনা থেকে নামিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরে নিশ্চিত করেছে যে ৬৯ বছর বয়সী ওই নারী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

    এরপর ২ মে জাহাজের আরও একজন যাত্রী—একজন জার্মান নারী—মারা যাওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা তিনে পৌঁছায়।

    দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার বলেছে, নমুনা পরিক্ষায় ভাইরাসটির ‘অ্যান্ডিস’ স্ট্রেইন শনাক্ত করা হয়েছে, যা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর ক্ষমতার জন্য পরিচিত। এই নৈসর্গিক ভ্রমণে অংশ নেওয়া এবং পরে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া অনেক যাত্রীর সংস্পর্শে থাকার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে, জাহাজ থেকে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সময় একজন আমেরিকান ও একজন ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে একজন মার্কিন নাগরিকের মাঝেমধ্যে মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে; উভয় ব্যক্তিকেই অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটে রাখা হয়েছে।

    ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, প্যারিসে ওই নারী বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। তার সংস্পর্শে থাকা ২২ জনকে শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    সেন্ট হেলেনায় যাত্রাবিরতি করার পর জাহাজ থেকে সাতজন ব্রিটিশসহ মোট ৩০ জন যাত্রী নেমে গিয়েছিলেন; জাহাজের অপারেটর জানিয়েছে, তাদের সকলের সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে নেদারল্যান্ডস থেকে দুইজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এমভি হন্ডিয়াসে যোগ দেওয়ার জন্য আসছেন এবং কেপ ভার্দেতে জাহাজ থামার পর সম্ভব হলে তারা ফের জাহাজে উঠবেন।

    এমভি হন্ডিয়াস তিন দিন কেপ ভার্দে নোঙর করার পর এখন স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাত্রা করছে।

    হান্টাভাইরাস কী— সংক্ষেপে: হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর শরীরে বসবাস করে। ইঁদুরের প্রস্রাব, মল বা লালা শুকিয়ে বাতাসে মিশে গেলে ঐ কণাগুলো শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটায়। বিরলভাবে ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় দিয়েও ভাইরাস ছড়াতে পারে।

    এই ভাইরাস থেকে দুটি প্রধান রোগ হতে পারে। একদিকে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (HPS) — যা শুরুতে ক্লান্তি, জ্বর ও পেশিতে ব্যথা দিয়ে শুরু করে এবং দ্রুত শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত জটিলতা তৈরি করতে পারে; সিডিসি অনুযায়ী এমন শ্বাসকষ্টজক্ক রোগীর মৃত্যু হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (HFRS) মূলত কিডনি নষ্ট করে, যার ফলে নিম্ন রক্তচাপ, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ ও কিডনি ব্যর্থতার মতো জটিলতা দেখা দেয়।

    ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে নজর কেড়েছে কারণ ক্রুজশিপে উপস্থিত বহু দেশের নাগরিক দ্রুত ফিরেছেন বা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন; তাই সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিবিসি।

  • ইরান: যুক্তরাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি

    ইরান: যুক্তরাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। তেহরান এই মন্তব্য করেছে তখনই, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের দেয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—এর এক দিন পর সোমবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানিত্বারা এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের ঘাঁটিগুলোই সহিংসতা এবং চাপ-প্রদর্শনের একটি মূল কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির নামে যুক্তরাষ্ট্র যে অযৌক্তিক দাবি তুলছে তা গ্রহণযোগ্য নয়, আর ইরানের দাবিগুলো খুবই যৌক্তিক। বাঘাই বলেন, “ইরান একটি দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমরা কোনো দাদাগিরি করিনি, বরং দাদাগিরির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।”

    বাঘাই ইরানের দাবি সমূহের একটি তালিকা তুলে ধরেন। তার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও লুটতরাজের মতো নীতিগুলো বন্ধ করা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্কে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা। তিনি বলেছিলেন, ইরানের দেয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উদার ও দায়িত্বশীল, এতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধের পাল্টা হিসেবে নানা ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দেখায়; এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে বলে বলা হচ্ছে। ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতিরও দাবি জানিয়েছে, যদিও সেখানে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল তা এখন ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে তারা জানিয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে নিজেদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত না; এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা নিজেদের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে। তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধ শুধু অনৈতিকই নয়, বরং অবৈধও।” বাঘাই এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলির উচিত এ ধরনের পরিস্থিতির ফাঁদে না পড়া।

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

  • সুন্দরবনে বাঘের থাবায় মৌয়াল বাবলু গাজী গুরুতর আহত

    সুন্দরবনে বাঘের থাবায় মৌয়াল বাবলু গাজী গুরুতর আহত

    সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের পায়রাটুনি খাল এলাকায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে বাবলু গাজী (৪৮) নামে একজন মৌয়াল গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মালেক গাজীর ছেলে।

    মৌয়ালদের সূত্রে জানা যায়, রোববার (১০ মে) সকাল সাড়ে আটটার দিকে মাঝি ইউসুফ গাজীর নেতৃত্বে মোটামুটি দশ সদস্যের একটি দল পায়রাটুনি খালে মধু ভাঙতে যায়। হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে একটি বাঘ বের হয়ে বাবলু গাজীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর চিৎকারে সঙ্গে থাকা অন্যান্য মৌয়ালরা হুঙ্কার দিয়ে লাঠি-ছড়ি নিয়ে এগিয়ে গেলে বাঘটি বনের দিকে পালিয়ে যায়।

    সে সময় গুরুতরভাবে আহত বাবলুকে সঙ্গে থাকা উৎসাহদের সাহায্যে দ্রুত লোকালয়ে নিয়ে আনা হয়। প্রথমে তাকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

    বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, গত ৬ মে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন থেকে পারমিট নিয়ে ওই দলের সদস্যরা সুন্দরবনে মধু আহরণে গিয়েছিলেন। রবিবারের ঘটনার পরে আহত বাবলুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

    মৌয়ালদের কাছে ঘটনাটি আতঙ্কের, এবং তারা বলেন দ্রুত প্রতিকার না হলে বনের জায়গায় কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। বন বিভাগের আরও তদন্ত ও নজরদারির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন।

  • যশোরে অস্ত্র মামলায় সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    যশোরে অস্ত্র মামলায় সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (১১ মে) চার্জশিটের ওপর শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি নূর আলম পান্নু।

    মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখা সব অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই নির্দেশনায় লাইসেন্সধারীদের সব অস্ত্র ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু শাহীন চাকলাদার তার লাইসেন্সকৃত পিস্তল (নম্বর-৬৯৪৪৬) জমা দেননি।

    এসআই তারেক মোহাম্মদ আল নাহিয়ান তদন্ত করে জানতে পারেন, তৎপরতায় সেই দিনেই শাহীন চাকলাদার ওই অস্ত্রটি নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অস্ত্রসহ পালিয়ে যাওয়ায় তিনি সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অস্ত্রটি অবৈধ কাজে ব্যবহার করতে পারেন।

    কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৮ মে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয় এবং আজ চার্জশিটের শুনানির পর আদালত তা গ্রহণ করে পলাতক আসামি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুদকের মামলায় শাহীন চাকলাদারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০২৪ সালের ছাত্রজোড়ার সময় ৫ আগস্ট দায়ের ঘটনায় যশোর শহরের চিত্রামোড়ে তাঁর মালিকানাধীন একটি হোটেলে আগুন লাগানো হয় এবং পরে কাজীপাড়ার বাসভবনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, অগ্নিসংযোগের আগে তিনি সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

    জনশ্রুতি আছে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শাহীন চাকলাদার ভারতে, কলকাতায় অবস্থান করছেন—তবে এ সংক্রান্ত দাবিগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। আদালত চলতি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতেই এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

  • ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধের নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট; আবেদনকারী জয়া আহসান

    ঘোড়ার মাংস বাণিজ্য নিষিদ্ধের নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট; আবেদনকারী জয়া আহসান

    ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে আবেদনকারী হিসেবে আছেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণকর্মী জয়া আহসান।

    সোমবার (১১ মে) দাখিল করা রিটের পক্ষে মামলা করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান। রিটে তারা বিশেষভাবে দাবি করেছেন যে অসুস্থ ও সংক্রমিত প্রাণীদের মাংস মানুষকে খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও প্রাণীর কল্যাণের জন্য বড় হুমকি। পূর্বে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ কারণেই উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

    রিটে আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে: পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া, গাজীপুরে উন্মোচিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ প্রদান এবং সেই তদন্তের প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশ।

    পিটিশনকারীরা আরও চেয়েছেন কর্তৃপক্ষকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি জাতীয় নির্দেশিকা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হোক, বাজেয়াপ্ত এবং অসুস্থ ঘোড়াগুলোর নিলাম অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং উদ্ধারকৃত প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা হিসেবে একটি উপযুক্ত অভয়ারণ্য (যেমন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন) স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হোক।

    রিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে তাৎক্ষণিক বিচারিক হস্তক্ষেপ না থাকলে এই অবৈধ বাণিজ্য জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে এবং প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণ চলতেই থাকবে।

    রিটে বর্ণিত ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি কটন কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তর করে সংগঠিতভাবে ঘোড়ার মাংস বিক্রির একটি চক্র চালানোর তথ্য পাওয়া যায়। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া, ৮টি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বড় পরিমাণে বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত মাংস উদ্ধার করা হয়।

    উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল—প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা-পরজীবী আক্রমণ, টিউমার ও অন্যান্য গুরুতর আঘাতের শিকার। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাকের দূষণ ও সন্দেহভাজন যক্ষ্মার লক্ষণ ধরা পড়ে, যা প্রাণী থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    রিটে বলা হয়েছে যে এসব দূষিত মাংস মানুষকে খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে গরুর মাংস বলে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষ সময়োচিত বন্ধের নির্দেশ ও মনিটারিং ব্যবস্থার কথা জানালেও বাস্তবে ধারাবাহিকতা নেই। পরে গাজীপুরে একটি মোবাইল কোর্ট ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পর্যাপ্ত তৎপরতা দেখা যায়নি।

    অভয়ারণ্য—বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন—বারবার গাজীপুর পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য ও নথি দিয়েছে। যদিও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অনুরোধে উদ্ধারকৃত কিছু ঘোড়া অভয়ারণ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে, সীমিত সক্ষমতার কারণে সংস্থাটি আরও প্রাণী নিতে পারেনি। এ সময় বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়াগুলো নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগও উঠেছে।

    সংস্থাটি সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে বারবার জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য চিঠি দিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বরও অভয়ারণ্য, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং জয়া আহসানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি পাঠানো হয়; তবু কোনো সন্তোষজনক সাড়া মেলেনি—এ কারণেই জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট জারি করা হয়েছে।

    রিটকারীরা আবেদন করেছেন হাইকোর্ট যেন অবিলম্বে উপযুক্ত নির্দেশনা জারি করে, জনগণের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রাণীর প্রতি বর্বর আচরণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে আদেশ দেন।