Blog

  • এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    এনসিপি প্রথম ধাপে ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। রোববার (১০ মে) বিকেলে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এ প্রার্থীর নামগুলোর শিরোনামেই ঘোষণা করেন।

    সারজিস আলম বলেন, ‘‘আজ আমরা প্রাথমিকভাবে ১০০ জন এনসিপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করছি। এই তালিকায় ৫০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌর মেয়র প্রার্থী রয়েছেন।’’ তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল; সেই মধ্য থেকে প্রথম ধাপের ১০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    তিনি জানান, আগামী ঈদের আগেই—অর্থাৎ এই মাসের ২০ তারিখে—দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং নাম ঘোষণা প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে। সারজিস আলম বলেন, এনসিপি এমন প্রার্থীদের সুযোগ দেবে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের থেকেও আবেদন করতে চান, যাদের বিরুদ্ধে মানুষের ওপর জুলুম বা ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো অভিযোগ নেই; তাদের যাচাই-বাছাই করে সুযোগ দেওয়ার সর্বাধিক চেষ্টা করা হবে।

    নিচে বিভাগভিত্তিকভাবে ঘোষিত প্রার্থীদের নাম দেওয়া হলো:

    খুলনা বিভাগ — কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা; ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি; বাগেরহাট চিতলমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইশতিয়াক হোসেন; ফকিরমারী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী লাবিব আহমেদ; মোংলা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. রহমত উল্লাহ; বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার; যশোর বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান; নোয়াপাড়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী শাহজাহান কবির; খুলনা চালনায় মেয়র প্রার্থী এস এম এ রশিদ; চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খায়রুল বাশার বিপ্লব; জীবননগর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সোহেল পারভেজ; মেহেরপুর গাংনী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী শাকিল আহমেদ; ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।

    রংপুর বিভাগ — পঞ্চগড় তেঁতুলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব; বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শিশির আসাদ; দেবীগঞ্জ উপজেলায় পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদ পারভেজ; ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মর্তুজা সেলিম; দিনাজপুর ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইমরান চৌধুরী নিশাত; বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা এম এ তাফসির হাসান; ফুলবাড়ি পৌর মেয়র প্রার্থী শিহাব হোসেন; ঘোড়াঘাট পৌর মেয়র প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান; হাকিমপুর পৌর মেয়র প্রার্থী রায়হান কবির; নীলফামারী জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদ লিয়ন; নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ড. কামরুল ইসলাম; কুড়িগ্রাম সদর পৌর মেয়র প্রার্থী মো. মাসুম মিয়া; লালমনিরহাট কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ; রংপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ; গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খাদিমুল ইসলাম।

    রাজশাহী বিভাগ — রাজশাহী গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আতিকুল রহমান; চাঁপাইনবাগঞ্জ গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মাসুদ; নওগাঁ নেয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বিশাল আহমেদ; বদলগাছি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদ মোরশেদ আজম; ধামুরহাট পৌর মেয়র প্রার্থী মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল; বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম; দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক; বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এ এম জেড শাহরিয়ার; নাটোর সদর পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান; পাবনা চাটমোহর পৌর মেয়র প্রার্থী খন্দকার আক্তার হোসেন; সিরাজগঞ্জ উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান; উল্লাপাড়া পৌর মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।

    সিলেট বিভাগ — হবিগঞ্জ আজমিরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কামাল আহমেদ; হবিগঞ্জ সদর পৌর মেয়র প্রার্থী মাহবুবুল বারী চৌধুরী; মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী খালেদ হাসান; কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু রুকিয়ান; সিলেট কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ওবায়েদ আহমেদ; কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী বোরহান উদ্দিন ইউনূস; ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজি মো. মোশাহিদ আলী; জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকারিয়া; গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনসুরুল হাসান।

    ময়মনসিংহ বিভাগ — শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া; সদর পৌর মেয়র প্রার্থী নূর ইসলাম; জামালপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু সাইদ মো. শামিম; নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু; বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু; নেত্রকোণা সদর পৌর মেয়র প্রার্থী সোহাগ মিয়া প্রিতম; ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম; ভালুকা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুল ইসলাম; হালুয়াঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু হেলাল; ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সাইফুল্লাহ।

    ঢাকা বিভাগ (উত্তর) — কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আহনাফ সাইদ খান; তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ইকরাম হোসেন; করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী খায়রুল কবির; সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবদুল্লাহ রনি; মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফুল ইসলাম; দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু আবদুল্লাহ; টাঙ্গাইল কালিহাতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মেহদী হাসান; টাঙ্গাইল পৌর মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান রাসেল; ভূঞাপুর পৌর মেয়র প্রার্থী হাসান ইমাম তালুকদার; শফিপুর পৌর মেয়র প্রার্থী মাওলানা আনসার আলী; নরসিংদী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার; গাজীপুর কালিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শোয়েব মিয়া।

    ঢাকা বিভাগ (দক্ষিণ) — নারায়ণগঞ্জ সেনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী তুহিন মাহবুব; মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী নেওয়াজ।

    ফরিদপুর বিভাগ — ফরিদপুর নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম সবুজ; নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী নাজমুল হুদা; ফরিদপুর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী সাইদ খান; মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মো. হাসিবুল্লাহ; গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ফেরদৌম আমেনা।

    এনসিপি বলেছে, প্রাথমিক এই তালিকা দিয়ে তাদের কাজ শেষ নয়; যাচাই-বাছাই এবং আরও প্রার্থী ঘোষণা অব্যাহত থাকবে। দল শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব দাঁড় করানোর লক্ষ্যে আবেদন ও প্রতিযোগিতা উভয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

  • সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    সরকার উন্নয়নে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের স্বার্থে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে। এটি বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবিও বটে।

    শনিবার সকালে পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেই এসব মন্তব্য করেন তিনি। ওই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এটিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনপ্রাপ্ত এমপিদের সুবিধার্থে নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হচ্ছে কিছু গ্রামে—এ ধরনের সিদ্ধান্ত যদি কেবল নির্বাচনী অঞ্চলের কথা চিন্তা করে নেওয়া হয় তাহলে তা অন্যায়। তিনি মনে করান, জাতীয় স্বার্থে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম সর্বত্র সমভাবে ছড়িয়ে দেয়া উচিত ছিল।

    এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “প্রবাদ আছে, যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ। এখন বাস্তবেও তা-ই দেখা যাচ্ছে।” তিনি আরো অভিযোগ করেন যে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনমতের অপেক্ষা না করে প্রতারণার রাজনীতি করছে এবং ৭০ শতাংশ জনমতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে যাঁরা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ছিলেন, তারা এখন গণভোটের রায় মানছেন না—একে তিনি জনগণের সঙ্গে মহাপ্রতারণা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এভাবে বিএনপি জনস্বার্থে ব্যাকডোর কৌশল ব্যবহার করলে তা দেশেরও ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য।

    সাংবাদিকতার প্রতি সরকারের আচরণ নিয়েও আক্রমণ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা যারা বলেছিল, এখন তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত এবং সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া ও হয়রানির মত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন।

    এতে আগে বিমানবন্দরে স্থানীয় নেতারা গোলাম পরওয়ার ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েল। সৈয়দপুর উপজেলা জামায়াতের আমির শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম, শহর আমির শরফুদ্দিন খান, সেক্রেটারি মাওলানা ওয়াজেদ আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের শহর সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ শতাধিক নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

    এরপর তিনি এবং তাঁর দল সড়কপথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

  • সোনার দাম আবার বাড়ল

    সোনার দাম আবার বাড়ল

    টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলেছে, সর্বোচ্চ প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    বাজুসের দেওয়া নতুন তালিকা অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকালের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। এই পরিবর্তন বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে, বলে সমিতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

    সমিতি জানায়, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দামের উত্থানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নির্ধারিত নতুন দামের কাতারে অন্যান্য মানের সোনার দরগুলো এভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপা ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা করা হয়েছে।

    বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহিংস সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে—স্বর্ণের দর ঊর্ধ্বমুখী থাকতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক ভ্যালু ট্র্যাকিং সাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলারে উঠেছে। আগে ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি সেটি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার, যা দাম ওঠানামার প্রেক্ষাপট দেখায়।

    গত মাসের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও রেকর্ডগতভাবে দর বেড়ে যায়। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একবারে প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছিল।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ওঠানামা থাকায় স্থানীয় বাজারেও মুহূর্তে দর বদলে যেতে পারে; তাই ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

  • সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরি এখন কত?

    সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরি এখন কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) মঙ্গলবার (৫ মে) ঘোষণা করেছে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত ভরির দর নামানো হয়েছে, যা সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    এবার সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এদিনের পরিবর্তনের আগে সোমবার (৪ মে) ২২ ক্যারেটের ভরির দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী নতুন দরগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    রূপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বেঁধে দেওয়া দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫,৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৩,৩৮৩ টাকা রয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমার কারণে স্থানীয় বাজারে দর সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতেও ওঠা-নামা দেখা যাচ্ছে—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংযুক্ত খণ্ডে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে সোনার দামের ওঠানামা বেড়েছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে প্রায় ৪,৫০০ ডলার; এর আগে ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি উঠেছিল ৫,৫৫০ ডলার।

    বাজুসের এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য নির্দেশমূলক দাম হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

  • গবেষকেরা বলছেন: ‘অ্যান্ডিস’ হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে

    গবেষকেরা বলছেন: ‘অ্যান্ডিস’ হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে

    দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী প্রমোদতরী এমভি হুন্ডিয়াসের কয়েকজন যাত্রী হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরের পর থেকে বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বাড়েছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত তিন জন নিহত এবং ছয় জনের দেহে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার মূল টানাপোড়েন সম্পর্কিত ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন—‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’—মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের লালায়ও ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি-হাঁচি করে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, পরিবারের সদস্যদের তুলনায় যৌন সঙ্গীদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় দশ গুণ বেশি হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে রেলিভ্যান্ট জাহাজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখার সময় দুই ডাচ পর্যটক দু’জনকেই ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমণ হয় এবং তারা পরে জাহাজে এসে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। আর্জেন্টিনা থেকে ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা ওই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ আরোহী ছিলেন। পথে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪ এপ্রিল কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামেন। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ ঐ যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

    তবে ডব্লিউএইচও আশ্বস্ত করেছে যে, এই সংকটকে কোভিড-১৯-এর মতো একটি মহামারির সঙ্গে মিলিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেছেন, এমভি হুন্ডিয়াসের সব যাত্রীকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা সন্দেহভাজন রোগীর সংস্পর্শে এসে থাকেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের আরও স্বতন্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার করা উচিত—যেমন বিশেষ পোশাক ও পিপিই।

    তিনি আরও জানিয়েছেন যে, আক্রান্তদের আরও সংখ্য়া বাড়তে পারে এবং কারা কার সংস্পর্শে এসেছে তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে এই ভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে গেলে ছড়ায়; এর ছড়ানোর ধরন কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার থেকে ভিন্ন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে এটি প্রধানত একটি জাহাজভিত্তিক প্রাদুর্ভাব, এবং নতুন কোনো বিশ্বব্যাপী কোভিড-শৈলীর মহামারির সূচনাই নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, করোনাভাইরাস কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় অ্যান্ডিস স্ট্রেইন অনেক কম ছড়ায়। জাহাজের মতো সীমিত ও ঘন বসতিবেশে সংক্রমণের হার বাড়ার পেছনে ভাইরাসের শক্তি বৃদ্ধিই নয়, বরং ঘনাকীর্ণ পরিবেশ এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই দায়ী। তাদের বক্তব্য—রোগীদের পৃথক রাখা এবং কোয়ারান্টাইন ও ট্রেসিং প্রয়োগ করলে সংক্রমণ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার গতি মহামারি পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো নয়। জনপ্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ নজরদারি ও সংস্পর্শ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশনা জারি করেছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, একদিনে আরো ৩৯ জন নিহত

    লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, একদিনে আরো ৩৯ জন নিহত

    দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় একদিনে আরও ৩৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছেন। হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আক্রান্ত এলাকা ভেঙে বিচ্ছিন্ন, স্থানীয়দের কাছে আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা তীব্র।

    সাকসাকিয়েহ শহরে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একটি কিশোরী শিশু রয়েছে; এছাড়া আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশুও আছেন।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা সাকসাকিয়েহ ও আশেপাশের এলাকা থেকে হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছিল। আইডিএফ আরও জানিয়েছে, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তারা নির্ভুল অস্ত্র প্রয়োগ এবং আকাশপথে নজরদারি ব্যবহার করেছে।

    স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এসব তথ্যের সঙ্গে আইডিএফের দাবি অনানুষ্ঠানিকভাবে সংঘর্ষের ধাঁচ তুলে ধরে যে সাম্প্রতিক আঘাতগুলি সামরিক লক্ষ্যকেই কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে বলেই তারা বলছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হামলায় বহু ঘরবাড়ি ও বেসামরিক স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব তৈরী হয়েছে।

    একই সময়ে নাবাতিয়েহ এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আনা এক হামলায় একজন সিরীয় নাগরিক নিহত ও তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম হামলার পর সরে যাওয়ার সময় আবারও ড্রোন হামলা চালানো হয়, এতে বাবা নিহত হন। পরে একই বাড়িকে লক্ষ্য করে তৃতীয় দফায় আঘাত করা হয়, যেটিতে মেয়েটিও আহত হন; বর্তমানে ওই শিশুটির অস্ত্রোপচার চলছে।

    ঘটনাগুলোতে বেসামরিক প্রাণহানির খবর আসার পর হিজবুল্লাহও জবাবি পদক্ষেপ হিসেবে উত্তর ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, ওই হামলায় তিনজন সৈন্য আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থাও গুরুতর।

    মন্ত্রণালয়ের সাবেক তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্নস্থানে ইসরায়েলি হামলায় ১২০-এর বেশি জন নিহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। তবে কতজন নিহত আছেন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক ব্যক্তি— সে বিবরণ মন্ত্রণালয় আলাদা করে প্রকাশ করেনি।

    সীমান্তঘেঁষা কিছু লেবাননি এলাকা এখনও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েল বলছে, উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় একটি ‘হিজবুল্লাহমুক্ত নিরাপত্তা বলয়’ গঠন করা হবে—তাই তারা এসব অভিযান চালাচ্ছে।

    অপরদিকে কয়েক মাস ধরে থাকা অস্থিরতার মধ্যে গত কয়েক মাসে যুদ্ধবিরতি ও আক্রমণের ঘটনা নিজের লয়ের মতো চলমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে; বিভিন্ন পর্যায়ে অল্প-বিস্তর যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও সংঘর্ষ থামেনি এবং প্রতিদিন নতুন হামলার খবর আসে।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় মোট ২ হাজার ৭৯৫ জন নিহত হয়েছেন। ইস্যুতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের ১৭ সেনা ও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলেও আরও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    মানবিক দুর্দশা ও নিরাপত্তাহীনতায় স্থানীয়রা কঠিন সময়যাপন করছেন; আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত এবং বহু পরিবার ছাদবিহীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবিক সংস্থাগুলোকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও আরও তাত্ক্ষণিক সহায়তার তাগাদা রয়েছে।

  • যোগ্য মুআল্লিম গঠনে খুলনায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন

    যোগ্য মুআল্লিম গঠনে খুলনায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন

    দ্বীনি শিক্ষার মানউন্নয়ন ও যুগোপযোগী পাঠদানে দক্ষ, দায়বদ্ধ ও আদর্শবান মুআল্লিম তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে খুলনায় এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল রাবেতাতুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়্যাহ আল-মারকাযিয়্যাহ বাংলাদেশ।

    আজ রোববার (১০ মে) দক্ষিণ বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র, শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি জিহাদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত বয়রার রায়ের মহল জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ে হাসানার প্রাঙ্গণেই এ ইলমী ও প্রশিক্ষণমূলক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মাদ্রাসার প্রাঙ্গণ শিক্ষক, আলেম-উলামা, ছাত্র ও দ্বীনপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে জড়ো হয়ে এক পেশাদার ও মনোগ্রাহী শিক্ষামূলক পরিবেশের সৃষ্টি করে।

    খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তিন শতাধিক উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ও তালিবুল ইলম অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় দ্বীনপ্রেমী সাধারণ মানুষের আগমনও ছিল লক্ষণীয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইলম চর্চা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রতি গভীর আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় দেখা গেছে।

    ট্রেনিংয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—দারুল উলূম হাটহাজারীর সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসার অভিজ্ঞ আলেম ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে সময়োপযোগী ও গঠনমূলক আলোচনা করেন। আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল মুআল্লিমের চারিত্রিক গঠন, আধুনিক পাঠদানের পদ্ধতি, ছাত্রদের মানসিক-আত্মিক বিকাশ, আদব-আখলাক ও দ্বীনি খেদমতের প্রতি আনুগত্য ও দায়বোধ।

    প্রধান অতিথি দারুল উলূম হাটহাজারীর প্রধান মুফতি আল্লামা মুফতি জসীম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “একজন মুআল্লিম কেবল পাঠদানকারী নন; বরং তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর ইলম, আমল, আখlaq ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ছাত্রদের হৃদয়ে দ্বীনের ভালোবাসা সৃষ্টি করেন।” তিনি আরও যোগ করেন যে, দ্বীনি শিক্ষাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষকরা যুগের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জ্ঞানসমৃদ্ধ ও সচেতন হতে হবে এবং ছাত্রদের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

    বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা ওসমান ফয়জী ইখলাস, আত্মশুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুফতি মাহমুদুল হাসান ছাত্রদের সঙ্গে সদাচরণ, পাঠদানের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং শিক্ষকের ধৈর্য ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মুফতি ফুরকান আহমাদ মাদ্রাসার পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষক間 সুসম্পর্ক ও শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহ্য ও আধুনিকীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন। ডক্টর নুরুল আবসার দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “শিক্ষক যদি আদর্শবান হন, তাহলে ছাত্ররাও আদর্শবান হবে।”

    মাওলানা আনোয়ার শাহ আজহারী মুআল্লিমদের নববী আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। মুফতি রাশেদুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল হামিদ, হাফেজ মোহাম্মদ মোস্তফা, হাফেজ ক্বারী রেজওয়ান আহমেদ ও মাওলানা নিজাম সাঈদসহ আরও অনেকে মর্মস্পর্শী ও বাস্তবমুখী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মোশতাক আহমেদ এবং জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ায়ে হাসানার সম্মানিত সভাপতি ও সমাজসেবক মোঃ খান সাইফুল ইসলাম। শাইখুল হাদিস মুফতি জিহাদুল ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

    সমাপ্তিতে সারাজীবনের দ্বীনি খেদমত, দেশ ও উম্মাহর উন্নতি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়, যা দেশের বরেণ্য আলেমগণ পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ মাপের মুআল্লিম ট্রেনিং ও ইলমী সম্মেলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

  • যশোরের ভাঙ্গাগেটে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে; চালক নিহত

    যশোরের ভাঙ্গাগেটে ট্রেনের ধাক্কায় কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে; চালক নিহত

    যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় একটি কয়লাবাহী ট্রাক দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে চালক নিহত হয়েছেন এবং সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটেছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকিজ এ্যাসেনশিয়ালের কয়লা ডিপোর দিকে যাচ্ছিল দূরবাহি ট্রাকটি (রেজিস্ট্রেশন ঢাকা মেট্রো ট ১৮-৭৮৩৬)। ভাঙ্গাগেট এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় খুলনাগামী মহানন্দা মেইল ট্রেনটি ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক প্রাণ হারান।

    নিহত চালকের নাম মনোয়ার হোসেন। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত হেলপার রায়হানকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়; তাঁর অবস্থাকে গুরুতর বলা হচ্ছে।

    এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, ভাঙ্গাগেটের ওই রেলক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত এবং সেখানে কোনো গেটম্যান কিংবা সংকেত ব্যবস্থা নেই। ফলে সড়কচালক ও স্থানীয়রা বলছেন, ট্রেনের উপস্থিতি বুঝতে না পেয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ওই রুটে কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

    পুলিশ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে। এলাকাবাসীও জরুরি ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের অকাল মৃত্যুর ঘটনা না ঘটে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা

    ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আয়োজিত আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলটির নেতৃত্বে থাকছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি, আর সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন নাহিদা আক্তার।

    বিসিবির ঘোষণা অনুযায়ী স্কোয়াডে জায়গা হয়নি শারমিন সুলতানার। তাকে বাদ দিয়ে দলে ফেরানো হয়েছে তাজনেহারকে। এখনও পর্যন্ত আটটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তাজনেহার করেছেন ৪৪ রান; তবে তাকে নেওয়া হয়েছে মূলত এক থেকে ছয়—সব পজিশনে ব্যাটিং করার সক্ষমতা এবং দলের ভারসাম্যের কারণে।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নারী দল আগামী ২৫ মে এডিনবরোতে (স্কটল্যান্ড) যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সেখানে স্বাগতিক স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে টাইগারসরা, যাকে তারা গ্রুপগুলোর শুরুর আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে।

    ত্রিদেশীয় সিরিজের পর দল ইংল্যান্ডের লাফবরোতে যাবে এবং সেখানে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ও মূল আসরের আগে সেরা সমন্বয় তৈরি করাই এই প্রস্তুতি পর্বের প্রধান লক্ষ্য বলে বিসিবি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আগামী ১৪ জুন এজবাস্টনে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বিসিবি আশা করছে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও তরুণ প্রতিভাদের মিশেলে দল ভালো পারফরম্যান্স দেখাবে।

    বাংলাদেশ নারী দল (স্কোয়াড): নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুরাইরিয়া ফেরদৌস এবং তাজনেহার।

  • মিরাজের ফাইফারে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড

    মিরাজের ফাইফারে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড

    বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের জীবন-মোড় ঘোরানো ফাইফারের সাহায্যে পাকিস্তানকে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে স্বাগতিকরা পেল ২৭ রানের সূক্ষ্ম লিড।

    প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪১৩ রান। নাজমুল হাসান শান্ত সততা ও ধৈর্যে সেঞ্চুরির নজির রেখে খেলেন—১০১ রানে থামে তার ইনিংস। মুমিনুল হক ৯১ এবং মুশফিকুর রহিম ৭১ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে মুহাম্মদ আব্বাস একাজবি বোলিং করলেন এবং বাংলাদেশ দলের পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানদের রেপ্লাই শুরুটা ছিল শক্তিশালী। অভিষিক্ত ওপেনার আজান দিন শুরু করেন ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে এবং অবিরত ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৬৫ বল মোকাবিলা করে ১০৩ রান করে আউট হন, এই ইনিংসে ১৪টি চার রয়েছে।

    আজানের উইকেটের পর পাকিস্তান কিছু সময়ের জন্য ধাক্কা খান। তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ সঙ্গী ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রুতে; হার ফেরাতে গিয়ে দলের কয়েকটি উইকেট দ্রুত পড়ে যায়। ফজল (১২০ বল, ৬০) সংগ্রহ করেন এবং মিরাজের এক ওভারেই তাইজুলের হাতে ক্যাচও দিয়ে ফেরেন।

    পরে সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ষষ্ঠ উইকেটে গড়া ১১৯ রানের জুটি পাকিস্তানকে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পৌঁছান — রিজওয়ান ৭৯ বল খেলে ৫৯ এবং সালমান আগা ৯৪ বলের মোকাবিলায় ৫৮ রানে থামেন। কিন্তু জুটি ভাঙার পর পাকিস্তানের উইকেট হারানো অব্যাহত ছিল।

    মিরাজ শেষপর্যন্ত ম্যাচে বাঁধভাঙা ভূমিকা পালন করেন; মূল্যবান ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে তিনি পাঁচটি উইকেট নেন এবং দলকে শক্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন। পাকিস্তান তাদের ইনিংস ৩৮৬ রানে শেষ করে, ফলে বাংলাদেশ পেল ২৭ রানের লিড।

    এই বাঁকপ্রবাহিত ম্যাচে দুই দলের ব্যাটাররা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, আর বোলিং বিভাগেও দুপক্ষই শক্তিশালী লড়াই দেখিয়েছে—অবশেষে তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকরা সামান্য এগিয়ে থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখল।