Blog

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে গতিবরে অব্যাহতি দিয়েছে। বোর্ড আশ্বস্ত করেছে, ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নিই। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়িতে পৌঁছে পরিস্থিতি টের পেয়ে সাদিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তদন্ত করে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় কক্ষ পরিদর্শক—সুন্দুরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম এবং কে.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও স্থানে থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার অব্যাহতির বিষয়ে জানান, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বোধগম্য করেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে এখনো লিখিত কোনও নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না এবং সে প্রশ্নপত্র অনুযায়ী তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর সতর্কতা ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • নাহিদ রানা বাংলাদেশের বড় সম্পদ: শাহিন আফ্রিদি

    নাহিদ রানা বাংলাদেশের বড় সম্পদ: শাহিন আফ্রিদি

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতির আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আফ্রিদি নাহিদ রানাকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    নাহিদ রানা দুই বছর ধরে জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে খেলছেন। সাদা বলের ক্রিকেটে হয়তো তিনি সম্পূর্ণ নিয়মিত নন, কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে তার প্রদর্শন মনে রাখবার মতো ছিল এবং এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাল বলের ম্যাচেও তাকে খেলতে দেখা যেতে পারে।

    মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন বলেন, তিনি ওয়ানডে সিরিজের আগে শন টেইটের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার মতে নাহিদ রানা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় এক সম্ভাব্য সম্পদ। শাহিন আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তার এই প্রতিভাকে ভালোভাবে কাজে লাগাবে।

    একই সঙ্গে শাহিন হাশ্পাশ করে বলেন, রানা ভালো ফর্মে থাকলেও তিনি আশা করেন নাহিদ তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি বিপদ সৃজন করতে পারবে না (হাসি)।

    আগের টেস্ট সিরিজ হার নিয়ে প্রশ্নে আফ্রিদি বলেন, ‘‘অতীত তো অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীত ধরে রাখতে চাই না। আমাদের নজর বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর। আমরা কিভাবে নিজেদের তৈরি করছি সেটাই এখন মুখ্য।’’

    শাহিন আরও স্পষ্ট করে জানান, দল হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য কেবল কোনো একটি সিরিজ জেতা নয়, বরং ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার মতো বড় লক্ষ্য অর্জন করা। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দল ইতোমধ্যে নিজেদের তৈরি করে যাচ্ছে।

  • বিসিবি নির্বাচনে মনোনয়নের শেষ সময় ১৬ মে

    বিসিবি নির্বাচনে মনোনয়নের শেষ সময় ১৬ মে

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়া formally শুরু হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ধারা ১২.৭ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ মে।

    বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন তিনটি ক্যাটাগরিতে হয়। প্রথম ধাপ হিসেবে তিন ক্যাটাগরির সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও ক্লাবদের কাছে কাউন্সিলর মনোনয়নের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্যাটাগরি ভেদে বিশদ রয়েছে এভাবে:

    ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা): এখানে ৭১ জন কাউন্সিলর থাকবেন। এই ক্যাটাগরি থেকেই বোর্ডে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। ওই ১০ পরিচালক সাতটি বিভাগের মধ্যেই বণ্টিত — ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে প্রতিটি বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর থেকে প্রতিটি বিভাগে ১ জন করে পরিচালক আসে। প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব কাউন্সিলররা তাদের বিভাগীয় পরিচালক নির্ধারণ করবেন। বিভাগভিত্তিক কাউন্সিলর সংখ্যা ও পরিচালক বাছাইয়ের হিসাব: ঢাকা ১৮ কাউন্সিলর (২ পরিচালক), চট্টগ্রাম ১২ (২ পরিচালক), খুলনা ১১ (২ পরিচালক), রাজশাহী ৯ (১ পরিচালক), সিলেট ৫ (১ পরিচালক), বরিশাল ৭ (১ পরিচালক) এবং রংপুর ৯ (১ পরিচালক)।

    ক্যাটাগরি-২ (প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্লাব, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ): এই বিভাগ থেকে ৭৬ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে একজন করে কাউন্সিলর থাকেন — প্রিমিয়ার ডিভিশনে ১২ জন, প্রথম বিভাগে ২০ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ২৪ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ২০ জন কাউন্সিলর। এই প্রতিনিধিরা মিলিয়ে ১২ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন।

    ক্যাটাগরি-৩ (সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা): এখানে কাউন্সিলর সংখ্যা মোট ৪৫ জন। এই ক্যাটাগরির মধ্য থেকে এক জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক দুইজন পরিচালক মনোনীত হবেন। এইভাবে সবমিলিয়ে তিনটি ক্যাটাগরির কাউন্সিলর সংখ্যা ৭১+৭৬+৪৫ = ১৯২ জন হয়।

    অন্যদিকে বিসিবি জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। বোর্ডের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে — ৬৪টি জেলা কোচ পদের জন্য আবেদনকারীদের মূল্যায়নে একটি কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমান জেলা কোচদের চুক্তি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে। বাছাইয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের পরীক্ষা নেয়া হবে।

    এছাড়া গত মাসে যারা ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারের মেয়াদ শেষ হয়েছিল, তাদের মেয়াদ বিসিবি আরো তিন মাস বাড়িয়েছে।

    বিসিবি এখন মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করবে; মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে প্রার্থীতা যাচাই ও ভোটের প্রস্তুতি শুরু হবে।

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে

    উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় শিল্পী নিজেই ভক্ত-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। এই সময়ে হঠাৎ তার মৃত্যুর খবরে দেশ-বিদেশে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নজরে আসার পর রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে সততা নিশ্চিত করেছেন।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে—আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। অনুগ্রহ করে এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন; এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদানক। সবার জন্য অনেক ভালোবাসা।’

    শিল্পীর এই বার্তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য দ্রুত কন্ট্রোল করতে সহায়তা করার অনুরোধও ছিল। রুনা লায়লা ভক্তদের ধৈর্য ও সচেতনতার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    রুনা লায়লা ১৯৬৬ সালে হাম দোনো চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ গান দিয়ে সংগীতে পরিচিতি পান। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা করতে থাকেন এবং পরবর্তীতে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ এর মতো গানগুলো দিয়ে ভারত ও সাবেকি উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    এই ঘটনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদ যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

  • বিজয়ের প্রথম নির্বাচনে এমজিআরের ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগি

    বিজয়ের প্রথম নির্বাচনে এমজিআরের ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগি

    দক্ষিণ ভারতের দর্শকপ্রিয় তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—যাকে দর্শক ‘থালাপতি বিজয়’ নামে চেনে—নিজের প্রথম নির্বাচনে দর্শক এবং রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় কেবল ব্যক্তিগতভাবেই জয়ী হননি; বরং তিনি ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রানের সৃষ্ট ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে দিয়েছেন।

    ১৯৭৭ সালে তৎকালীন চলচ্চিত্র তারকা এমজি রামাচন্দ্রান নিজের দল এআইএডিএমকে গঠন করে রাজ্যপালকে হারিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অভিনেত্রী জয়ার্মা (জয়ললিতা) মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসলেও তিনি নিজে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেননি; এমজিআরের দলেই উঠে আসতেন। এরপর দীর্ঘদিন কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজের প্রতিষ্ঠিত দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রীতে পৌঁছাননি—এই চিত্র এবার বদলে গেছে বিজয়ের হাতেই।

    বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে) ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে। এবারের ভোটে টিভিকে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। আইন অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে ১১৮টি আসন প্রয়োজন। তাই টিভিকে সরাসরি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, কিন্তু জোট গঠন করলেই দলের সিংহভাগ কণ্ঠস্বর এবং নেতৃত্বের ভূমিকা টিভিকেই নিতে হবে—যার ফলে বিজয়ের তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাবনা কার্যত নিশ্চিত বলে বলা হচ্ছে।

    এই সাফল্যের পেছনে বিজয়ের দীর্ঘতর ভূমিকা এবং ভক্তশ্রেণীর সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ গঠন করেন। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছিল, কিন্তু ২০২১ সালে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির পথে হাঁটেন বিজয়।

    ফিল্ম জগত থেকে উঠে এসে নিজের ভক্তকুলকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা—এই কৌশলটিই এমজি রামাচন্দ্রানের সময়ে কাজ করেছিল এবং বিজয়ও সেই পথই অনুসরণ করেছেন। টিভিকের দ্রুত ওঠা এবং নির্বাচনী ফলাফল ২০২৪ সালে গঠিত নতুন কোনো দলের জন্য অত্যন্ত নজিরবিহীন বলা চলে।

    এখন বিজয় শপথগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং রাজনৈতিক রণনীতির দিক থেকে টিভিকে জোট গঠন করেই সরকার গঠন করবেন—এমনটাই পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। (সূত্র: এনডিটিভি)

  • জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

    জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

    আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে ধাপে ধাপে মাঠ থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই সব সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হবে। দূরবর্তী জেলা থেকে প্রথম দফায় প্রত্যাহার করা হবে, এরপর বিভাগীয় শহর ও বড় জেলা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।

    গতকাল (মঙ্গলবার) কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকার গঠনের পর কোর কমিটি প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছে। গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময়ব্যাপী সভায় মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারাদেশে চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ নানা বিষয় আলোচনা হয়েছে।

    পটভূমি: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিকট আন্দোলন–দাঙ্গায় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে সৈন্য নামায়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই রয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই জানান যে, পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাসদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যেতে চান। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সেনাসদস্যরা মাঠে ছিলেন; এখনো সারাদেশে আনুমানিক ১৭ হাজার সেনা মাঠপর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল। সূত্র বলছে, দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালন করতে করতে সদস্যরা ক্লান্ত, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন—এটিই প্রত্যাহারের একটি বড় কারণ।

    কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—

    – ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। যাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপরাধ নেই, তাদের ক্ষেত্রে জামিন না আটকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যারা দেশের বাইরে যেতে চান তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    – আওয়ামী লীগ শাসনকালে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স পেয়েছেন যারা—তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়।

    – ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের জন্য গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।

    – মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ও जनসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    – সারাদেশে চাঁদাবাজি রোধে যাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণ আছে, তাদের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়; চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না—এ ধরনের নির্দেশও রয়েছে।

    – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    – পুলিশের পোশাক পরিবর্তন বিষয়েও আলোচনা হয়। আইজিপি পুলিশের প্যান্ট খাকি না রাখার অনুরোধ করেন, তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সরকারি দরকার অনুযায়ী নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই সরকারি ইউনিফর্ম হিসেবে থাকবে।

    কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ৬ জুন থেকে প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হলে, প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলার উপর দিয়ে প্রত্যাহার করা হবে এবং পরবর্তী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে বড় শহর ও জেলা থেকে সেনা সরানো হবে—মোট মিলিয়ে জুন মাসের মধ্যেই মাঠ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। সূত্র: প্রথম আলো।

  • নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন

    নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন

    অন্যের স্ত্রী প্রলুব্ধ করে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে করা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১০ জুন। এই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত, যেখানে বুধবার (৬ মে) উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

    শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন। শুনানিতে নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি উভয়েই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    মামলাটি ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের দায়ের করা অভিযোগ থেকেই শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয় ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যা রয়েছে। তাম্মি পেশায় কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ে সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন।

    বাদীর বক্তব্য, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থায় তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী; তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নাসির তাকে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন; এরপর তাম্মি ও নাসিরের সম্পর্কের ফলে রাকিব ও তাদের কন্যা মানসিক কষ্টে পড়েছেন এবং রাকিবের মানহানি হয়েছে।

    পরে বিচার প্রক্রিয়ায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে পরে মামলায় অব্যাহতি দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ বিচার চলার নির্দেশ দেন এবং সুমির অব্যাহতি বহাল রাখেন।

    মামলায় মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে; সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে ১৬ এপ্রিল। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। তাম্মির সাফাই সাক্ষীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আদালত ৬ মে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন, যা আবশ্যিক শুনানির পর ৬ মে অনুষ্ঠিত হয় এবং রায় ঘোষণার দিন ১০ জুন ঠিক করা হয়।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীর তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, পরিকল্পিত সময়সীমা মেনে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থী দেওয়ার কথা ছিল। ব্যক্তিগত ও সংগঠনগত কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার কারণে ওই সময়সীমা পিছিয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী ১০ মে’র মধ্যে এনসিপি থেকে প্রাথমিকভাবে সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করতে পারবো।’

    সারজিস আলম মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারের দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের যোগদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও জানান, এ মাসের মধ্যেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে বিরোধী হিসেবে কাজ করছে এবং সংসদে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তবুও তারা সংগঠনকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করে এককভাবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ‘সাংগঠনিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত হয়ে উঠার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা নিজে প্রার্থী দেবো’—দাবি করেন সারজিস আলম।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে টালবাহানা করে দূর্নীতিপুর্ণ উদ্দেশ্যে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছে এবং ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রশাসনিক কাজ প্রশাসনকে তুলে দিয়েছে।

    সারজিস আলম বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে এখন কার্যকরি চেয়ারম্যান নেই। তারা আবার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা শুরু করেছে; এমনকি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে। এমন ধরনের চেষ্টা তাদেরই জন্য ক্ষতিকর হবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের খসড়া এ বছরের মধ্যে করা উচিত এবং এই নির্বাচন দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

  • ড. নাদিমুর রহমানসহ নিজামীর পরিবারের সদস্য ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    ড. নাদিমুর রহমানসহ নিজামীর পরিবারের সদস্য ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিলেন জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ এবং ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের অনেকে। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি; তিনি অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি যুক্ত হয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ সংগঠনের প্রায় চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগ দিয়েছে; তবে সেই সংগঠনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৫০ জন।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি বংশগত মর্যাদা দেখে রাজনীতি করছেন না; ‘‘হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না, তিনি সাধারণ কৃষক-জনগণের নেতা ছিলেন। আমি উত্তরসূরী হয়েও এনসিপিতে একজন শ্রমিকসদৃশ কর্মী হয়ে কাজ করব। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না; যদি কোনো নেতা ভুল পথে যাওয়া শুরু করে, দল থাকায় আমরা তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। দলের মধ্যে ভুল হলে আমি ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে চাই এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই।’’

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, দেশের বিভ্রান্ত রাজনীতি ফেরাতে এনসিপি কাজ করবে। তিনি সংসদে বিএনপিকে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করে বলেন, এতে দেশ কোনো শুভ ফল পাবে না। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেন, স্থানীয় সরকারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো তারা নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা ও লুটপাটের মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছে। তিনি দ্রুত সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং আশা প্রকাশ করেন এগুলো এ বছরের মধ্যেই আয়োজন করা হবে।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমান সরকারকে জাতির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ এনে বলেন, ‘‘এমন প্রতারণার ইতিহাসে যারা আশ্রয় নিয়েছে, শেষ পর্যন্ত জনগণের বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে।’’ তিনি আরো বলেন, হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়ে প্রশাসক নিয়োগের মতো সংবিধানবিরোধী ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা ঘটেছে; একইভাবে তарেক রহমানও একই ছক ব্যবহার করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শেষে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স পৌঁছালো ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, এপ্রিলে প্রত্যেকদিন গড়ে দেশে পাঠানো হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার করে।

    গত সালের একই সময়ে (এপ্রিল) রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, ফলে বছরজুড়ে এ প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধি প্রদর্শন করে।

    এর আগে মার্চে এক মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে—যা কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার এবং ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অন্যদিকে অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে ছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এ দিকে সম্পূর্ণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশকে পাঠিয়েছেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স—যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় রেকর্ড।