Blog

  • খুলনায় নিখোঁজ ৩৫ বছর বয়সী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় নিখোঁজ ৩৫ বছর বয়সী যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    খুলনায় নিখুম এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (০৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর রেলওয়ে নিউ কলোনি থেকে নাজমুল (৩৫) নামের ওই যুবকের মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি স্থানীয় আলী আহমেদ ফারাজীর ছেলে।

    খুলনা থানা সূত্রে জানা যায়, নাজমুল শুক্রবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিল। খুলনা থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতে তিনি বাবার কাছে দুই হাজার ৫০০ টাকা চেয়েছিল; টাকা দিতে অস্বীকার করলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এর আগেও নাজমুল এই ধরনেরভাবে রাতভর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। নিখোঁজ থাকার সময় পরিবারের লোকজন তার সন্ধান করেননি।

    রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের সামনে গিয়ে নাজমুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ নিচে নামিয়ে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করে। সুরতহাল রিপোর্ট করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

    পুলিশ বলছে, ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

  • বাবর ছাড়াই পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায়

    বাবর ছাড়াই পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায়

    নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সিরিজ শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের বিশ্রতির সময় খুব একটা মেলেনি; লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তসহ অনেকেই এখন পরবর্তী টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পর এবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

    পাকিস্তান ক্রিকেট দল ঢাকায় পৌঁছেছে। আজ ভোর পাঁচটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাদের বহনকারী বিমান। শান মাসুদের নেতৃত্বে ঢাকায় নেমেছে পাকিস্তানের বেশিরভাগ খেলোয়াড়; তবে দলের নেতৃত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন বাবর আজম এই সময় ঢাকায় নেই। তিনি পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ফাইনালে অংশ নেওয়ার কারণে প্রথম ধাপের বাংলাদেশ সফরে যোগ দিতে পারছেন না।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কয়েক দিন আগে ১৬ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল, যে দলে বাবর আজমের নাম ছিল। কিন্তু পিএসএলের ফাইনালে পেশোয়ার জালমির নেতৃত্বে খেলায় ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি প্রথমে সফরে যোগ দিচ্ছেন না। তবু দলটির বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আজ ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন এবং বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সরাসরি হোটেলে নেয়া হয়েছে।

    টিমে চারজন নতুন মুখও আছেন — আমাদ বাট, আবদুল্লাহ ফজল, আজান আওয়াইস ও মুহাম্মদ গাজী ঘোরি। এই সিরিজ দিয়েই পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচ হিসেবে অভিষেক করতে যাচ্ছেন সরফরাজ আহমেদ। ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন আসাদ শফিক, আর বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন উমর গুল।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে ৮ মে, মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে ১৬ মে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুটি টেস্টই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে।

    পিসিবি ঘোষিত পাকিস্তানের ১৬ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড (বিবৃতি অনুযায়ী):

    শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম (পিএসএল ফাইনালের কারণে প্রথম দলে অনুপস্থিত), মোহাম্মদ রিজওয়ান, শাহীন শাহ আফ্রিদি, সালমান আলী, আবদুল্লাহ ফজল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, হাসান আলী, ইমাম উল হক, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আব্বাস, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, নোমান আলী, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল।

    পেসাশক্তি ও নতুন কোচিং স্টাফ নিয়ে পাকিস্তান টেস্ট দলের আগমন তর্কসাপেক্ষ হলেও সিরিজটি প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে প্রতীয়মান—বিশেষ করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দরকারি পয়েন্ট জিততে উভয় দলের আগ্রহ থাকবে।

  • টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা বহুবার হাত মেলিয়েছিলাম: সালমান আগা

    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা বহুবার হাত মেলিয়েছিলাম: সালমান আগা

    খেলার আগমুহূর্ত, টস, বিরতি কিংবা ম্যাচ শেষ—প্রতিপক্ষ দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যকার হাত মেলানো ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সৌজন্যতাবোধ। কিন্তু ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের অধিনায়করা মাঠে সেই রীতিটা মানেননি। সেই অস্বাভাবিক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা বলেছেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের সঙ্গে তার একাধিক বার হাত মেলানো হয়েছিল।

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নো হ্যান্ডশেক’ ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ে। মাঠে সেই মনোভাব বাস্তবায়ন করেন ভারতের অধিনায়ক সুর্যকুমার যাদব; টসের সময় তিনি সালমানের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন। সালমান জানিয়েছেন, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট তাঁকে টসের আগে আলাদাভাবে ডেকে বলেছিলেন যে সুর্য তাঁর সঙ্গে হাত মেলাবেন না—এই কথা শুনে তিনি অবাক হন, কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রেসকনফারেন্সে এবং ট্রফির ফটোশ্যুটের সময়ও তারা হাত মেলিয়েছিলেন।

    এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এআরআই–এর পডকাস্টে সালমান আগা বলেন, “টুর্নামেন্টের আগে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনে হাত মেলিয়েছি। ট্রফি নিয়ে ফটোশ্যুটেও একই রকম আচরণ ছিল। তাই আমি টসের সময় স্বাভাবিকভাবেই আশা করছিলাম যে সবকিছু ঠিক থাকবে। নিশ্চয়ই আমারও একটা ধারণা ছিল যে সবকিছু এমন নাও হতে পারে, কিন্তু হাত মেলানোই হবে না তা ভাবিনি।”

    তিনি আরও জানান, “আমি তখন পাকিস্তান দলের মিডিয়া ম্যানেজারকে সঙ্গে নিয়ে টসে গিয়েছিলাম। ম্যাচ রেফারি আমাকে আলাদা করে নিয়ে বললেন, ‘ওরা এমনটা করতে যাচ্ছে, কোনো হ্যান্ডশেক হবে না, তাই প্রস্তুত থাকুন।’ আমি বলেছিলাম—‘হাত মেলাবে না মেলাবে।’ এটা এমন কিছু ছিল না যে আমি হাত মেলাতে মরিচ্ছিলাম। টসের পর ম্যাচ শেষে আমরা হেরে প্যাভিলিয়নের দিকে গিয়ে হাত বাড়িয়েছিলাম, তখনও একই আচরণ দেখলাম।”

    সালমান এমন আচরণের সমর্থক নন। তিনি বলেন, “আমি যদি পাকিস্তানের অধিনায়ক হই, তখন অনেক তরুণ আমাকে দেখে অনুকরণ করবে। তাই হ্যান্ডশেক না করা—এই ধরনের আচরণ আমি সমর্থন করি না। একজন রোল মডেল হিসেবে এমন আচরণ ঠিক নয়।”

    একই পডকাস্টে পাকিস্তানের পেসার হাসান আলিও ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মতে এমন পরিস্থিতি হলে ম্যাচ না হওয়াটা উত্তম ছিল। দুই দল পরস্পর সমঝোতায় এসে ম্যাচ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারত এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিত।”

    ঘটনাটি ক্রীড়ানীতির সীমা, সৌহার্দ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বর্তমান উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সালমান ও হাসানের মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে—ক্রিকেটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই, কিন্তু খেলাধুলার অনুশাসন ও সৌজন্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তা সমাধানের উপায় খুঁজতেই হবে।

  • তানিয়া বৃষ্টি ফের অসুস্থ; দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

    তানিয়া বৃষ্টি ফের অসুস্থ; দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আবারও অসুস্থ রয়েছেন—এ খবর জানিয়ে তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ আছে; সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

    শনিবার (২ মে) তিনি একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আপু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে আছেন। তবে চিন্তার তেমন কিছু নেই, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।’ পোস্টে আরও বলা হয়েছিল, ‘আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন তিনি খুব দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।’

    গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তানিয়া গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন। অল্প সময়ের মধ্যে তার মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে এবং প্রথম সফল অস্ত্রোপচার ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে করা হয়। পরে শারীরিক জটিলতার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়, সেখানে দ্বিতীয় দফায় আরও একটি অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তবু তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন।

    তানিয়া বৃষ্টি ২০১২ সালে এক সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন। এরপর তিনি টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত কাজ শুরু করেন এবং ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে। যদিও তিনি বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন, তবু টেলিনাটকের মাধ্যমে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি অর্জন করেছেন। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গোয়েন্দাগিরি’ তার সর্বশেষ ছবিটি ছিল, এবং দীর্ঘ বিরতির পর রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় ফিরে আসার কথা ছিল।

    ভক্তরা এখন তার দ্রুত ও সম্পূর্ণ আরোগ্য কামনা করছেন। তানিয়ার দ্রুত সুস্থতা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দোয়া এবং শুভকামনা কামনা করা হচ্ছে।

  • কানাডায় ফের গুলি-হুমকি: কপিল শর্মার ক্যাফে এলাকায় উদ্বেগ

    কানাডায় ফের গুলি-হুমকি: কপিল শর্মার ক্যাফে এলাকায় উদ্বেগ

    কানাডায় জনপ্রিয় ভারতীয় কমেডিয়ান কপিল শর্মার মালিকানাধীন ক্যাফের সঙ্গে সঙ্গেই লাগোয়া এক ক্যাফেতে ফের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা এল এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা-উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, এই হামলার দায় দাবি করেছে ‘লরেন্স বিষ্ণোই’ গ্যাং—তবে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে কপিল শর্মা ও ওই ক্যাফের মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেই পোস্টটি ‘টাইসন বিষ্ণোই জোরা সিন্ধু’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    হঠাৎ হওয়া এই ঘটনার পর সারে শহরের ‘চাই সুট্টা বার’ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই বারটি কপিল শর্মার ‘ক্যাপস ক্যাফে’-র ঠিক পাশেই অবস্থিত।

    তথ্যগুলোতে বলা হয়েছে যে, যদি তাদের নির্দেশ অমান্য করা হয় তাহলে কপিল শর্মার রেস্তোরাঁকেও একইভাবে টার্গেট করা হবে—তবে এসব দাবির সত্যতা কীভাবে প্রমাণিত হবে তা এখনও আইনিভাবে নিরূপিত হয়নি।

    এ ঘটনায় নতুন বিষয় হলো—কপিল শর্মার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি অতীতে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে উদ্বোধনের কয়েকদিনের মধ্যেই সেখানে অভিযোগ ছিল খলিস্তানি সমর্থকরা হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে। পরে ২০২৫ সালের জুলাই, আগস্ট ও অক্টোবর মাসে ধারাবাহিকভাবে তিন দফায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম জড়িয়ে ক্যাফেটিকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    স্থানীয়রা এবং ক্যাফে কর্মীরা এখন নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটির সঠিক হালনাগাদ ও তদন্তের ফলাফল জানাতে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা সামনে থেকে ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। আইনি কর্তৃপক্ষ এখনও পোস্টের সত্তা ও হামলায় যথার্থ কোনো গ্যাংয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা যাচাই করে নিশ্চিত করেনি।

  • শাপলা হত্যাকাণ্ড: ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে—চিফ প্রসিকিউটর

    শাপলা হত্যাকাণ্ড: ঢাকায় ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে—চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঘটেছিল এমন শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে আছে এবং ঢাকায় অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন রোববার (৩ মে) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে তদন্ত এখনই শেষের জন্য চূড়ান্ত সংখ্যা বলা যাচ্ছে না, কারণ পরবর্তী যাচাই-বাছাই এখনও বাকি রয়েছে।

    ঐতিহাসিকভাবে বলা যায়, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম শহরে বড় ধরনের অবস্থান কর্মসূচি করে। হেফাজত তাদের ১৩ দফা দাবি তুলে ধর্ম নিয়ে ক্ষোভের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগও এনেছিলেন।

    তৎকালীন সময়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী—পুলিশ, র‍্যাব এবং বিজিবি—মিলে শাপলা চত্বর থেকে অবস্থানকারীদের উঠিয়ে দেওয়ার অভিযান চালায়। ট্রাইব্যুনালের তদন্তে বলা হচ্ছে, সেই অভিযানে ঢাকায় অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।

    এ মামলায় হেফাজতের একাধিক নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়; অভিযোগের মধ্যে ছিলেন হেফাজত নেতা আজিজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব ও মাওলানা মামুনুল হক প্রমুখের নাম।

    গত ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল একবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়েছিলেন। বর্তমানে তদন্তকারীর দল চূড়ান্ত প্রমাণ-জট কাটিয়ে রিপোর্ট দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য অনুসারে, তদন্তে যে প্রমাণগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো স্বচ্ছতার সাথে উপস্থাপন করা হবে; তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত পরিসর ও হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা জানতে হলে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

  • ঢাবির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

    ঢাবির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর তিন দিনের রিমান্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকেকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    রোববার (৩ মে) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য করেন এবং শুনানির পর বিচারক তদন্তের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়—ভিক্টিমের বাবার পর্যবেক্ষণে ঘটনার রাতে (রাত ১টার সময়) একটি চ্যাট দেখে তিনি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা দুই পক্ষের চ্যাট পরীক্ষা করেছেন এবং সেখানে মিমো ও সুদীপের সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুদীপের অন্যদের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল এবং তারা মিমোকে আশ্রয় বা সহায়তা দিয়েছে—যা তদন্তের জন্য যাচাই করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষ এমন তথ্য উদ্ধারে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার কথা বলেছে।

    আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন এবং পেনড্রাইভে একটি অডিও রেকর্ডিং আদালতে উপস্থাপন করেন। তাদের যুক্তি, ডিজিটাল যুগে নানা কিছুর অপব্যাখ্যা হতে পারে; রেকর্ড শুনিলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তারা বলেন, ভিক্টিমের আগের একটি বিয়ে ছিল, অন্য এক যুবকের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল এবং মানসিকভাবে সমস্যায় ভুগতেন—এসব বিষয় ওই অডিওতে আছে। আইনজীবীরা জানান, মিমোয়ের মা ও বান্ধবীর ২১ মিনিটের এক অডিও রেকর্ড রয়েছে যেখানে বান্ধবী মিমোকে নিয়ে কথোপকথনে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

    আসামিপক্ষ আরও বলেছেন, মামলাকারী ও অডিওর কথোপকথন থেকে বোঝা যায় মিমো মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। এ কারণে পরিবারের অনুরোধে সুদীপ আলাদাভাবে তাকে মানসিক সহায়তা দিতেন এবং কেবল নাটক-পারফরম্যান্সে উন্নতির জন্য সাবলীলভাবে দেখা করতেন। তাদের দাবি, সুদীপ একজন মেধাবী শিক্ষক এবং তাকে রিমান্ডে না রেখে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে চলবে।

    রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল (রোববার) মিমোর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল; সেখান থেকেই তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন বলে তদন্তকারী আবেদন করেছেন।

    মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড্ডায় থাকতেন। তাঁর বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মিমোকে মৃত ঘোষনা করেন। তার কক্ষে একটি চিরকুটও পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল: ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া…’।

    দুপুরে মিমোর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ সুদীপকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে; একই সঙ্গে তার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল যা আদালত নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তা সুদীপের সঙ্গে সম্পর্ক ও সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মেডিকেলে ছাত্রদলের ২৯টি কমিটি ঘোষণা

    বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও মেডিকেলে ছাত্রদলের ২৯টি কমিটি ঘোষণা

    দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কলেজ, মেডিকেল কলেজ, জেলা ও মহানগরে মিলিয়ে ছাত্রদল একযোগে ২৯টি কমিটি ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে কোনো কমিটি নতুন গঠন এবং বাকি কমিটিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ, আংশিক পূর্ণাঙ্গ কিংবা বর্ধিত করা হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি অনুমোদন করা হয়।

    সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি: বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং রাবি(রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে) আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাঙামাটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে আংশিক কমিটি রাখা হয়েছে। পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটিতে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত কমিটি করা হয়েছে।

    নয়টি মহানগর/মহানগরীয় কমিটি: ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর পশ্চিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা মহানগর পূর্ব—এই চার জেলার ছাত্রদলেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জামালপুর মহানগরকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং কুমিল্লা মহানগরকে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হয়েছে।

    পাঁচটি জেলা কমিটি: নেত্রকোনা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি ও মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রত্যেকেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

    পাঁচটি কলেজ কমিটি: জয়পুরহাট সরকারি কলেজে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি, ঢাকা কলেজে বর্ধিত কমিটি, আনন্দমোহন কলেজে পূর্ণাঙ্গ কমিটি, নারায়ণগঞ্জ হাজী মিছির আলী ডিগ্রি কলেজে আংশিক কমিটি এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজে আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    তিনটি মেডিকেল কলেজ: ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও জামালপুর মেডিক্যাল কলেজে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্যেক কমিটি অনুমোদনের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে কাজে নামাতে এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা কর্মপরিকল্পনা জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে: এনসিপি

    সংস্কার নিয়ে বিএনপি সরকার প্রতারণা করছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে: এনসিপি

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, সরকার তা পরিত্যাগ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। যদি এভাবে চলতে দেয়া হয়, তখন সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে—এজন্য সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে বলে বক্তারা মত দিয়েছেন।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার।

    প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী এবং সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। তারা ধরাশায়ী প্রতিশ্রুতি, সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পছন্দমত বদল এবং বিভিন্ন অধ্যাদেশ আইন করার ক্ষেত্রে সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

    হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরই স্পষ্ট হয়ে গেছে—অনেক প্রতিশ্রুতি কেবল ছদ্মবেশ। এমন আইন ও অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে যেগুলো সরকারের ক্ষমতা বাড়ালেও জবাবদিহি কমিয়ে দেয়। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বিরোধী দলের কাউকে অপছন্দ হলে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসক বসানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

    তিনি আরও বলেন, পুলিশের কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত উদ্যোগ ও সংবিধান সংশোধনের মতো বিভিন্ন প্রস্তাবকে বাতিল বা পিছিয়ে দিয়ে সরকার দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছে। এনসিপি কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও বিএনপির প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের আচরণ উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালের পরে যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেখা গেলো, তা বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর যে লক্ষ্যগুলো ছিল, সেগুলো ভেস্তে দিয়েছে একেকটি এলিট—সিভিল, মিলিটারি ও বুরোক্রেসি—যারা ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্য যদি কানাডার মতো গণতান্ত্রিক দেশে দেওয়া হতো, তাহলে সেই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হত।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান জুলাই সনদকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি অনন্য ডকুমেন্ট হিসেবে বর্ণনা করেন। তার কথায়, জুলাই সনদের মূল বক্তব্য ছিল বিচার, আইন ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। যদিও প্রথম দিকের কিছু প্রস্তাব র্যাডিকাল ছিল—যাতে একই ব্যক্তির দলীয় ও সরকার প্রধান হওয়ার বিরোধিতা ছিল—তবুও যা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল, তা বড় অর্জন ছিল এবং তা বাস্তবায়নই চাই।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অনেকেই বিএনপিকে সুবিধা দিতেই ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিয়েছেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এ ধারা শেষ করে দিয়েছে—বিএনপি সরকার আর সংস্কার করতে চায় না। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয়করণ করে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসিয়ে সরকার তাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করছে।

    সেশন সভাপত আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সরকারের প্রকৃত লক্ষ্য হল ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করা। তিনি নোট অব ডিসেন্ট সংক্রান্ত বিতর্কের প্রসঙ্গে বলেন, ঐকমত্য কমিশনের রিপোর্টে যেসব মূল বিষয়ে সবাই একমত ছিল, সেসবই প্রকৃত মূল ইস্যু—ব্যাঙ্গনগত নোট অব ডিসেন্ট নয়। তিনি বিএনপিকে প্রশ্ন করেন, কোন দিকগুলোতে তারা গণভোট বা সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবে আপত্তি করছে এবং কেন তা দেশের স্বার্থে নেতিবাচক মনে করে।

    সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের প্রতি দাবি জানান—প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়ন ও বিচার, শাসন ও নির্বাহী শক্তির মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী আয় ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার —つまり ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে দৈনিক গড় রেমিট্যান্স ছিল প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার (প্রায় ১০৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেন।

    মুখপাত্র জানান, শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিল ২০২৫) প্রথম ২৯ দিনে রেমিট্যান্স ছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ফলে এ বছর প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    এর আগে মার্চে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে; পুরো মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মোট ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতেও রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে — জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার পাঠানো হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক বৃদ্ধিই আন্তর্জাতিক আয়ের স্থিতিশীল উৎস হিসেবে দেশের বৈদেশিক জালিয়াতি ও মুদ্রানীতি পরিচালনায় সহায়ক হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকও রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও সুবিধাজনক পদ্ধতি বজায় রাখতে কাজ করছে।