Blog

  • হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশ

    হৃদয়ের হাফসেঞ্চুরি, ইমন-শামীমের ঝড়ে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশ

    ১৮৩ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নেমে শুরুটা ঠিকঠাক না হলেও মাঝের ওভারগুলোতে দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের ২৭ বলে অপরাজিত হাফসেঞ্চুরি ও পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন পাটোয়ারির ঝড়ো ইনিংসে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা নিউজিল্যান্ডকে ২ ওভার বাকি থাকতেই ৬ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল।

    কোয়েতে শুরুটা করেছিলেন ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম, কিন্তু কিউই বোলিং একাধিক সময় তাদের ওপর চাপ বাড়ায়। উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙে নাথান স্মিথ; ৫.৩ ওভারে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে, তখন উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ ছিল ৪১। আউট হওয়ার আগে সাইফ করেছেন ১৬ বলের ১৭ রান, আর তানজিদ করেছেন ২৫ বলের ২০। দলের মাঝখানে লিটন দাসও ১৫ বলে ২১ রান করে কতকটা ভরসা দিলেও দ্রুত আরও উইকেট পড়ে বাংলাদেশ খানিকটা ব্যাকফুটে থাকে। ১০.১ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৭৭/৩।

    ততক্ষণে দলের চাপ সামলাতে আসে তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ ইমন। এই চতুর্থ উইকেট জুটিই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দেয়। ইমন মাত্র ১৪ বলে ঝটপট ২৮ রান করেছে এরপর আউট হন, কিন্তু তাওহীদ মাঠেই দাঁড়িয়ে যান। হৃদয় ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান করে দলকে জয় নিশ্চিত করেন। ডানহাতি ব্যাটারকে সঙ্গ দিতে শামীম হোসেন পাটোয়ারি ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যার ফলে হাতে করে লিড নিয়েই টাইগাররা সহজ জয় পেয়েছে।

    এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রানের তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়েছে; এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ সফল তাড়া ছিল ১৩৫ রান। দেশের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া করার রেকর্ডটি এখনো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে—২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে টাইগাররা বড় জয় করেছিলেন।

    নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শুরু হয় চট্টগ্রামে, যেখানে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। কিউইরা শুরুতেই একটি উইকেট হারায়—ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টিম রবিনসন রানআউটে ফিরে যান। এরপর কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার দমবন্ধ করা পার্টনারশিপ গড়ে দলকে চালিত রাখেন; দুজন মিলে ৮৮ রানের জুটি করেন এবং দুজনই ফিফটি পূরণ করেন—ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১ (সাত চার ও একটি ছয়), আর ক্লেভার ২৮ বলে ৫১ (সাত চার ও একটি ছয়)।

    তবে তাদের আউট হওয়ার পর নিউজিল্যান্ড ফের চাপের মুখে পড়ে। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে রানগতিও নেমে আসে; প্রথম ১০ ওভারে করা ১০০ রানের পরে পরের ৫ ওভারে মাত্র ৩০ রান করতে পারে তারা। এই সময়ে বেভন জ্যাকবস মাত্র ১ রানের মাথায় এবং ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন। অধিনায়ক নিক কেলি কিছুটা রান উত্তোলন করলেও তিনি শরিফুল ইসলামের বলে আউট হয়ে ২৭ বলে ৩৯ করে ফিরে যান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন করেছেন ৩০ এবং নাথান স্মিথ মাত্র ৪ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হাসান; এছাড়া তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচটি শেষে টাইগারদের উল্লসিত মেজাজ দেখা গেছে—মাঝের ওভারগুলোর সংযোজিত ব্যাটিং ও শেষের দ্রুত পজিশনিং জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।

  • প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে ১৮৩ রানের লক্ষ্য

    চট্টগ্রামে টসে হারার পর আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে। দারুণ সূচনা করে কিউইরা; এক সময় ১০ ওভার শেষে তারা ছিল ১০০/২ এ।

    ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। টিম রবিনসন শূন্য রানে রানআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ক্লার্ক-ক্লিভার দ্রুত রান তুলেন। ক্লিভার ৫১ রান করে রিশাদ হোসেনের শিখানো বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর ক্লার্কও দ্রুততা বজায় রেখে ৩৭ বলেই নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন, তবে তিনি আর বেশি দূর যেতে পারেননি—তাঁরও উইকেট তুলে নেন রিশাদ।

    মাঝের ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডের ছন্দ ভেঙে পড়ে। তানজিম হাসান বেভন জ্যাকবসকে ফেরান, আর মেহেদী হাসান দেবেন ফক্সক্রাফটকে বোল্ড করে বড় চাল না হওয়ার সুযোগ করে দেন। ১০০/২ থেকে ১৩০/৫ পর্যন্ত পড়ে কিউইদের আর বড় সংগ্রহ গঠনে বাধা পড়ে।

    তবে ইনিংসের শেষ অংশে অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন অনমনীয় ব্যাটিং করে আবার রান বাড়ান। কেলি ৩৯ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে তানজিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান, আর ক্লার্কসন ১৪ বলেই ২৭ রানের ঝটপট ইনিংস খেলে দলকে ভয় দেখা তুলনামূলকভাবে দৃঢ় অবস্থায় পৌঁছে দেন।

    বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। তানজিম, শরিফুল ও মেহেদী হাসান একএকটি করে উইকেট নেন। লক্ষ্য বড় হলেও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশে রান তাড়া করার সুযোগ এখনো ভালই আছে—দলের ব্যাটসম্যানদের হলে রেসে ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল রয়ে গেছে।

  • তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতিহাস গড়েছেন। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ শিরোপা জিতে তিনি বাংলাদেশকে গর্বিত করলেন।

    বিশ্বের নানা দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তমা তার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন এবং বিচারকমণ্ডলীর মন জিতেছেন। এই সাফল্য তার দেশের জন্যও বিশেষ—তিনি আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের নারীশক্তি ও তাদের সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছেন বলে জানান।

    তমা বলেন, তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত জয়ের সীমা ছাড়িয়ে বাংলাদেশের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ। তিনি আরও বলেন, নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মঞ্চে তুলে ধরতেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং জামদানি শাড়ির মতো বাংলাদেশি শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করানোর চেষ্টা করেছেন।

    ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা তমাকে আরও পরিণত করেছে। পরবর্তীতে মিডিয়ায় কাজ করে তিনি নিজেই একটি আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন, যা আন্তর্জাতিক অর্জনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, তমা রশিদের এ সাফল্য ২০২৬ সালে দেশের নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় করবে।

  • বাবার আর্থিক লেনদেনে আমি সম্পৃক্ত নই: পূজা চেরি

    বাবার আর্থিক লেনদেনে আমি সম্পৃক্ত নই: পূজা চেরি

    ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরি বলছেন, তার বাবার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ সার্বিকভাবে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অংশীদারিত্ব নেই। সম্প্রতি দেব প্রসাদ রায় নামের তার বাবাকে ওই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদে আসে—এবং এই পরিস্থিতিতে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করতে তিনি রোববার (২৬ এপ্রিল) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

    পোস্টে পূজা জানান, মামলার খবর প্রকাশের পর থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী থেকে তিনি অসংখ্য ফোনকল ও বার্তা পেয়েছেন। বিভ্রান্তি ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে তিনি পরিষ্কার করতে চান যে, বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে তা তাঁর ব্যক্তিগত কোনো কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নয়।

    অভিনেত্রী বলেন, ‘‘আমি গত ১০–১২ বছর ধরে মিডিয়ায় কাজ করে যাচ্ছি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছি এবং জীবনযাপনের সব খরচ নিজেই বহন করছি।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, বাবার ব্যবসা বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ‘‘বিন্দুমাত্রও’’ সম্পর্ক নেই এবং বর্তমানে তিনি কোনো প্রডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকও নন।

    পূজা বলেন, পরিবারের মানুষের কারণে জন্ম নেওয়া এই পরিস্থিতি তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টের। তিনি বিষয়টিকে আইনি পর্যায়ের একটি সমস্যা হিসেবে দেখছেন এবং বিশ্বাস করছেন যে তদন্ত ও প্রক্রিয়া আইনানুগভাবে চলবে; বিষয়টি আদালত দেখবে এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    পোস্টের শেষ ভাগে পূজা অনুরোধ করেছেন যে এই সংবেদনশীল বিষয়ে অনাইনভাবে তাকে জড়ানো না হোক এবং ব্যক্তিগতভাবে তাকে পক্ষাঘাত করা থেকে বিরত থাকা যেতে।

  • জেল খাটার কৌতূহলেই ১১ বছরের হোসাইনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: স্বীকার ৬ কিশোর

    জেল খাটার কৌতূহলেই ১১ বছরের হোসাইনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: স্বীকার ৬ কিশোর

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী হোসাইনকে জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহলেই ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে পুলিশি তদন্তে গ্রেফতার হওয়া ছয় কিশোর। এই তথ্য সোমবার (২৭ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

    পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন ১৮ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফতুল্লা থানা তদন্ত শুরু করলে প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

    ইয়াসিনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশাল জেলা সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচ কিশোরকে ধরা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস মিলে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’– এমন ধারণা নিয়ে অভিজ্ঞতা লাভের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করেছিল। তারা হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে সুযোগে টার্গেট করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন তাদের আরও তিন সহযোগী—রাহাত, অপর এক কিশোর যার নামও হোসাইন এবং ওমর। একসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে হোসাইনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয় এবং মরদেহ পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায় বলে তদন্তে বলা হয়েছে।

    গ্রেফতার ছয় কিশোরের সবাই ১৮ বছরের নীচে এবং প্রত্যেকে মাদকাসক্ত বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার মুন্সী জানান, এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরও একজন কিশোর এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে; স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ রয়েছে। পুলিশে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

  • তারেক রহমান: মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তির আশ্বাস

    তারেক রহমান: মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তির আশ্বাস

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে করা হবে এবং ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টায় যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা করেন।

    তারেক রহমান জানান, ১৯৯১-৯৬ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেট্রিক পর্যন্ত এবং ২০০১-২০০৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “বিএনপি শহীদ জিয়ার দল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমরা তাদের অসমাপ্ত কাজগুলো পূরণ করব। ইনশাআল্লাহ মেয়েদের স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্য করা হবে এবং যারা ভালো রেজাল্ট করবে তাদের জন্য শর্তসাপেক্ষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে।”

    কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ করার উদ্যোগ নেবে। তারেক রহমান দাবি করেন, দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক এই সুবিধা পাবে। তিনি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুরও প্রতিশ্রুতি দেন এবং জানান, সেই কার্যক্রমও শুরু করা হবে।

    বেকারত্ব সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে; বন্ধ কল-কারখানা পুনরায় চালু করে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করা হবে। তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অনেক বন্ধ প্রতিষ্ঠান চালু করতে সক্ষম হবে।

    বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের শ্রমবাজারে সীমাবদ্ধতা আছে, তাই বেশ কয়েকটি দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ শিগগিরই এসব দেশে কর্মসংস্থান পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    জলবিচ্ছিন্নতার সমস্যা ও কৃষি সেচের বিষয়ে তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে সমগ্র দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খাল খনন হলে আশেপাশের কৃষকরা সেচ পাবেন, মাছ চাষ ও হাঁস পালনসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন এবং খালের দুপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব হবে।

    খেলাধুলার উন্নয়নে পরিকল্পনার কথা বললে তিনি জানান, আগামী মাসের ২ তারিখে তিনি সিলেট সফর করবেন এবং সেখান থেকেই সমগ্র দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ শুরু করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০ জন পেশাদার খেলোয়াড়কে সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানান।

    সভায় তারেক রহমান আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের—মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে নিয়োজিত ধর্মীয় নেতারা বহু সময় মানবেতর জীবনযাপন করেন; সরকার গঠিত হলে তাদের সম্মান ও কল্যাণের ব্যবস্থা করা হবে এবং সেই কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    জনসম্মুখে তার বক্তব্যের প্রতিটি উদ্যোগকে তিনি বিএনপির অঙ্গীকার হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং জনজোয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের দোয়া ও সমর্থন প্রয়োজন।

  • বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে: জামায়াত আমিরের অভিযোগ

    বিএনপি ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে: জামায়াত আমিরের অভিযোগ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অভিযোগ করেছেন, বিএনপি পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটা শুরু করেছে। তিনি বললেন, তারা ইতিমধ্যেই সেই পথ ধরে চলছে যা একসময় অন্যরা অনুসরণ করেছিল।

    ডা. শফিকুর বলেন, এক সময় আমরা বিএনপির সঙ্গে মজলুম ছিলেন, কিন্তু এখন আমরা বলতে চাই—তারা আসলে আওয়ামী লীগের মতো হতে পারবে না; সর্বোচ্চ হলে দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারে। যে আওয়ামী লীগ এক সময় পুরো জাতি বা বিরোধী দলকে কটাক্ষ করত, আজ বিএনপিই সেই একই আচরণ শুরু করেছে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আগে আওয়ামী লীগ তাদের অনুগত লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল; কিন্তু আজ তাদের সেই ‘লাঠিয়াল’রা পাশে নেই।

    সমাবেশে ডা. শফিকুর বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন আনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণকে প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ দেয়ার লক্ষ্যে যে উদ্যোগগুলো দরকার, তাতে বিএনপি সব সময় বাধা দেয়—এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে এবং এমন আচরণ তাদের যুক্তি-জ্ঞান হারিয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আন্দোলন ও বিপ্লবে দেশের অনেক মানুষের জীবনের আত্মত্যাগ ছিল—মায়েরা, বাবারা, ভাই-বোনেরা তাদের সন্তান ও স্বজন হারিয়েছিলেন; যদি তারা সেই জীবন না দিয়ে থাকতেন, তাহলে বর্তমান কতিপয়েরা ক্ষমতা ভোগ করতে পাননি। ক্ষমতা হাসিলের আগেই অনেকেই শহীদ ও আহত পরিবারদের প্রতি উদাসীন ছিলেন; শহীদ পরিবারদের দুঃখ-ব্যথা তাদের স্পর্শ করেনি। ৫ আগস্টের পরে ৭ আগস্ট তারা পার্টি অফিসে দাঁড়িয়ে নির্বাচন দাবি করেছিল—তারা শহীদ পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা দেখায়নি, তবুও আজ তারা বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি বলে দাবি করে।

    তিনি আরও স্মরণ করান, যারা বিদেশে ছিলেন তারা দেশের অভ্যুত্থান না হলে দেশে ফিরতে পারতেন না। তিনি বলেন, তার জেলের সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হকও বলেছেন যে তখন বিএনপির শীর্ষ নেতারা জেলে হতাশা প্রকাশ করতেন যে আগের শাসকদের ক্ষমতায় থেকে সরানো সম্ভব হবে না; কিন্তু পরে দেখা গেল এটি খোদার দান—কেও কেউ এই ঘটনা ভুলে গেছে এবং এখন অনেকে কৃতিত্ব দাবি করছেন, যা অবৈধ।

    জামায়াতে আমির যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করে না; আন্দোলনে সবাই অংশ নিয়েছিল। তবু যারা তীরে ফিরে গিয়েছে তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর আহ্বান জানান—জুলাই আন্দোলনের নায়েরা তোরি নিয়ে ঘাটে ভিড়ে জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, শ্রমিকরা পাশে দাঁড়ায়, মায়েরা রাস্তায় নেমে এসেছিল—এই ত্যাগ একনদে মুছতে হবে না।

    সংসদসংক্রান্ত বিষয়েও তিনি বলেন, তারা প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল; শপথগ্রহণে আমরা অনাগ্রহ দেখি, তারা জাতির সঙ্গে করা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এরপর আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা অবরোধ করা হয়েছে। যে আইনগুলো সংশোধন না হলে এবং অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে, ফ্যাসিবাদী শাসন পরিবর্তিত হবে না—বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে পুরনো স্বৈরাচারী সরকারের আইনগুলোকেই রক্ষা করতে চেয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কয়েকদিনে বিভিন্ন স্থানে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও—অপরাধী তৎপরতা বাড়ছে; এমনকি থানার ভিতরে ঢুকে দু:খজনকভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে তিনি ফ্যাসিবাদের লক্ষণ হিসেবে দেখেন এবং বলে দেন, যেদিন বিএনপি গণভোটের রায় অস্বীকার করেছে, সেদিন থেকেই তাদের ফ্যাসিবাদী পথচলা শুরু হয়েছে।

    শেষে ডা. শফিকুর বলেন, তারা এমন বাংলাদেশ চায় না যেখানে মানুষ বাইরে বের হতে কাঁপে। তারা চায় একটি নিরাপদ দেশ—যেখানে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতী, মা-বোনা সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুরি-চোপ পরিহিত পরিবেশ নয়, শ্রেণীকক্ষ-শিক্ষা উপকরণ দেখা যাবে। এমন দাদা-ভাই বা প্রতিহিংসামিশ্রিত সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে; তা না হলে প্রতি বছর জুলাইয়ের মতো জনআন্দোলন ফিরে আসবে এবং একসময় ফ্যাসিবাদের কবর খোড়া হবে।

    তিনি জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান—সাধারণ মানুষের প্রায় ৭০ শতাংশের রায় মান্য করুন। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত না হলে তাদের লড়াই সংসদের ভিতরেও এবং খোলা ময়দানে চলবে, ইনশাআল্লাহ।

  • নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে: নাহিদ

    নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন, এনসিপি তরুণদের সমর্থন করবে: নাহিদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শুক্রবার বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে। তিনি বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তরুণেরা এগিয়ে আসলে এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে—তাই সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে তিনি তরুণদের আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম এই কথা বলেন শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানটি মূলত বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারের, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবালসহ কয়েকজনের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল।

    উক্ত সভায় নাহিদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকারকে বিচ্ছিন্ন করে নির্বাচনকে একটি সাধারণ ক্ষমতা পটপরিবর্তনের ঘটনাই বানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সংবিধান সংক্রান্ত এবং অন্যান্য গুরুত্বর্পূণ সংস্কারবিরোধী অধ্যাদেশ একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, ‘ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা হচ্ছে।’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পেশীশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির আধিপত্য আবার ফিরে এসেছে—এমনও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    তিনি বলেন, যদি ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়, জনগণ তা প্রতিহত করবে এবং এনসিপির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবে। নাহিদ জানান, ইতোমধ্যেই সারাদেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং সারা দেশে যোগদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

    দলীয় কার্যক্রম এবং তরুণদের প্রতি বার্তা ადিয়ে তিনি জানান, ‘প্রতি সপ্তাহে আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি—এ দেশের ভবিষ্যত বিপথে যেতে দেবেন না। যারা রাজনীতি করতে চান বা দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনে এগোতে চায়।’

    অর্থনৈতিক অবস্থা, গণতন্ত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্রমশ ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত, গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাও শঙ্কিত। এসব পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই—এমনটাই তার দাবি।

    যোগদানের খবর:

    বিকেলে আইডিইবিতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার। এ ছাড়াও অবিভক্ত বাংলার শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও রেল অনিয়ম নিয়ে আন্দোলনে নাম করা মহিউদ্দিন রনি এনসিপিতে যোগদান করেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না; নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা মঞ্চে থেকে নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন (২৪১ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর ধরা হলে (প্রতি ডলার ≈ ১২২ টাকা) এর মূল্য প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানিয়েছে।

    গত বছরের একই সময় রেমিট্যান্স ছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তাই চলতি বছরের প্রথম ২২ দিনের সময়ে গত বছরের তুলনায় বেশি এসেছে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ।

    দেশে প্রবেশ করা রেমিট্যান্সের ধারার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাস ছিল এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ — ওই মাসে আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল গত বছরের মার্চে (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার), তৃতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ এসেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে (প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার)।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ও নীতি নির্ধারকরা এই প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন—বিশেষত বৈদেশিক আয় নিশ্চিত ও রিজার্ভ বলবান রাখতে।

  • জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের ভয়ে স্থগিত পোশাক খাতের অর্ডার, উদ্বেগ বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দিতে ঝুঁকছে না—এমন তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিসিআই সভাপতি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই অনেক ক্রেতা অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ায় বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টের জন্য যেসব ক্রয়াদেশ শিডিউল করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকটাই ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বড় কিছু আন্তর্জাতিক ক্রেতা নেগেটিভ সিগনাল দিচ্ছে এবং কিছু অর্ডার ইতোমধ্যে ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের ঢাকায় অবস্থিত অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দিতে পিছু হটছেন, যা তৈরি পোশাক খাত ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে।

    অন্যদিকে বর্তমান কর কাঠামোও ব্যবসার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লাভ-ক্ষতির পরোয়া না করে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা বিশেষত ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হয়, ফলে তাদের জীবিকা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

    বিসিআই সভাপতি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয় থেকে কর্তন (উৎস কর) কমানোর অনুরোধ জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এই উৎস কর কমানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

    এ ছাড়াও আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রসঙ্গে আনোয়ার-উল আলম বলেন, কর যাচাইয়ের নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অসীম ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করছে এবং এটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার দাবি উত্থাপন করে। তারা করের বোঝা বাড়িয়ে ব্যবসাকে সংকীর্ণ করার বদলে একটি সহায়ক ও বন্ধুমুখী কর ব্যবস্থা গড়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    শিল্প-উদ্যোক্তারা বলছেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ করা না হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হবে। সময়োপযোগী উদ্যোগ না নিলে পোশাক খাতসহ রপ্তানি নির্ভর শিল্পগুলোর ওপর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া বাড়বে—এমন সতর্কতা তারা দিয়েছেন।