Blog

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনগণকে সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা আরও দ্রুত রুখে দিতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় জানাতে হবে। ঘৃণা নয়—মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও সহনশীল সমাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ—সবাই মিলে এই ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ক্ষেত্রটি বহুদিন ধরেই সব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে বসবাসের প্রতীক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে ধর্মের নামে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা ছিল; সেই অপচেষ্টা থেকে সবার মিলিতভাবে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে; সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তা সম্পন্ন করব।”

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে চার দিনের সর্বভৌম কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১ দলীয় জোট।

    মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকার মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করছে এবং সংস্কারসংক্রান্ত আগে থেকে হওয়া ঐকমত্যকে ধীরে ধীরে নষ্ট করা হচ্ছে।

    মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং যারা সরকারের সমালোচনা করছেন তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই নব্য ফ্যাসিবাদকে যে কোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কার্যক্রম সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ শুরু হবে। ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করা হবে এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোট রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে নেমে আন্দোলন করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে; গণভোটের রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে এবং সংসদে একক ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপি সংবিধান নিয়ে সংকট তৈরি করছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না এবং যারা দিল্লির আগ্রাসনবিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের নাম করে রাজাকার হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    জোটের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কিন্তু জোরালো কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রতিরোধ বজায় রাখবে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত একটি তীব্র বাস্তবতার সম্মুখীন হয়: বছরজুড়ে আর্থিক চাপের ফলে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি এবং বাকি ব্যাংকগুলোর আয়ও প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এরই প্রভাব পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে—ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এই চিত্রটি উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এ ব্যয় কমেছে ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা প্রায় ৪২ শতাংশের মতো।

    গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়। আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমেছে—এখনকার নেমন্তেই খাতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেটা আরো বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকার চেয়ে ৩০৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। ২০২২ সালে মোট ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় কমেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা, যা ৪৫ শতাংশেরও বেশি গড় হ্রাস।

    খাত সংশ্লিষ্টরা এবং ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব লোকসানের হিসাবও প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় চাপের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতি সামলাতে সরকার কিছু দুর্বল ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

    ব্যাংকারদের একাংশ বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার আরও একটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন: রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত, ফলে অনেক সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে অনুরোধে ব্যাংকগুলোকে ব্যয় করতে হতো—এগুলোর একাংশ প্রকৃত সিএসআর উদ্যোগের বাইরে চলে যেত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও আগস্টে সরকার বদলির পর সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে, ফলে এখন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে ধারণা করে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ו জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিরাপদ চাপের ফলে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল কাজে চলে, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা উচিত। তবে বাস্তবে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না—প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ৩৬ শতাংশ খরচ করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পাওয়া গেছে মাত্র ১০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যখাতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অংশ।

    রিপোর্টে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। ওই ব্যাংকগুলো হল— জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তথ্য অনুযায়ী, এই লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ছয়টি ব্যাংক—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—তবে সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে।

    সংক্ষেপে, ব্যাংকিং খাতে আর্থিক দুর্বলতার সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অনিয়মের প্রভাব মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ে বড় পতন দেখা যাচ্ছে। খাতটির পুনরুজ্জীবন ও সিএসআর অর্থের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতি-নিয়মের কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • সোনার দাম ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বাড়লো, ২২ ক্যারেটের ভরি ২,৫২,৪০৯ টাকা নির্ধারণ

    সোনার দাম ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বাড়লো, ২২ ক্যারেটের ভরি ২,৫২,৪০৯ টাকা নির্ধারণ

    দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম বাড়ল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) জানিয়েছে যে ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫২,৪০৯ টাকায়। এই নতুন মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দর বাড়ায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম হচ্ছে: ২২ ক্যারেট — ২,৫২,৪০৯ টাকা; ২১ ক্যারেট — ২,৪০,৯২০ টাকা; ১৮ ক্যারেট — ২,০৬,৫১১ টাকা; এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম — ১,৬৮,১৯৫ টাকা।

    সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫,৮৯০ টাকা। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে অন্যান্য ধাপের রুপার দামও যথাক্রমে ৫,৫৯৯ টাকা, ৪,৭৮২ টাকা ও ৩,৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ক্রেতা ও আভরণকর্মীদের জন্য এটি বাজারে স্বল্পকালীন দর ожল এবং স্বর্ণ-রূপা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

  • রাশিয়া বলছে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া বলছে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে একমুখী, আগ্রাসী ও উসকানিমূলক কৌশল গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে। এই মন্তব্যটি আসে তখনই যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার কথা বলা, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতবাদ ছড়ানো এবং ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের বক্তব্য এবং একটি একতরফা, উসকানিমূলক হামলার কৌশল চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই নীতিই পুনরায় ফলপ্রসু হচ্ছে না।

    জাখারোভা বলেন, শুরু থেকেই মস্কো ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং বিষয়টির একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিয়েছে। রাশিয়ার অবস্থান হচ্ছে, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

    রেলিজিয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে যেখানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশঃ জটিল হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই সংঘর্ষে ইরানে এক হাজার ৩৪০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে তখনকার শীর্ষ নেতারও উল্লেখ আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জবাবে ইরান মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুগুলোকে প্রতিহত করতে জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর নানা রকম বিধিনিষেধ আরোপ করে তেহরান।

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিক প্রচেষ্টার ওপর এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট থেকে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • লেবাননে হামলা থামাতে না হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে: আইআরজিসি

    লেবাননে হামলা থামাতে না হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে: আইআরজিসি

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বোমা বর্ষণে হাজারো সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। শতাধিক বিমান হামলায় বৈরুত ও দক্ষিণ লেবানে বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার প্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    আইআরজিসি-র ওই সতর্কবার্তা ইরানের আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে, আমরা এই অঞ্চলের দুষ্ট আগ্রাসনকারীদের কঠোর জবাব দেব।”

    লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, তারা আজ পর্যন্ত সময়সীমা ঘোষণা করেছে—যদি ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী শুক্রবারের পরিকল্পিত আলোচনা তারা বাতিল ভাববে এবং তাতে অংশগ্রহণ করবে না।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ ইরানী কর্মকর্তাও আলজাজিরার কাছে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে তেহরান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতিটি পুরো অঞ্চল জুড়ে প্রযোজ্য। ইসরায়েল বরাবরই কথা ভঙ্গে পরিচিত; তাদের প্রতিহত করতে শুধুমাত্র কথাবার্তা যথেষ্ট নয়।”

    একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনার পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদটি বলেছে, পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হচ্ছে এবং আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    এই উত্তেজনার প্রভাব সামুদ্রিক পথে দেখা গেছে—বহু ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতিতে দুটি ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করলেও পরে চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপটেও চোখ রাখতে হবে। সূত্রে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা আঘাত হানে; এরপর ইরানের পক্ষে লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহই ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননে প্রতিক্রিয়ায় হামলা অব্যাহত রেখেছে। কয়েকদিন আগে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে বৈরুত ও দক্ষিণ লেবানে একসঙ্গে শতাধিক বিমান হামলারও ঘটনা ঘটে, যার ফল স্বরূপ ব্যাপক প্রাণহানি ও আহতের খবর পাওয়া গেছে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যেয়াব গালান্ট–কাটজ (Israel Katz) বলেছে, তাদের সামরিক বাহিনী লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ও অবস্থানগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। তিনি হিজবুল্লাহ নেতৃবৃন্দকে কড়া শব্দে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-সমর্থক ও লেবাননের কর্মকর্তারা বেসামরিক জনগণের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক নয় এমন আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং হাসপাতালে মৃত ও আহত মানুষের উপসাগর ভরা বলেও জানানো হয়েছে।

    দীর্ঘ ৩৯ দিনের সংঘাত শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলা হয়; ইরান ১০ দফার শর্তে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করার কথাও। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, লেবাননসহ সবক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে—কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন, লেবানন এখানে অন্তর্ভুক্ত নয়।

    মানবিক তথা কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে—লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধে মিত্র ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।

  • খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে: প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা সিটি গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার উদ্যোগ চলছে: প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক আজ বুধবার (০৮ এপ্রিল) খুলনা কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস আয়োজন করা এ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিকে গ্রীন, ক্লিন ও ধূলামুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা অপরিহার্য। শহরের বড় সমস্যা হিসেবে তিনি জলাবদ্ধতা কমানো ও বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের ওপর জোর দেন। বস্তি উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

    প্রশাসক আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে শুধু সভা-সেমিনার করলেই হবে না; প্রতিটি স্তরে বাস্তব কাজ করতে হবে। শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ চলমান আছে। সাইক্লোন ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা জরুরি উল্লেখ করে তিনি খুলনার সার্বিক উন্নয়নে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানান।

    গোলটেবিল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহম্মেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনা কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুয়েটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। কারিতাসের টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ ইম্মানুয়েল চয়ন বিশ্বাসও সভায় বক্তব্য রাখেন।

    আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (DRR) ও জলবায়ু অভিযোজন (CCA) বিষয়ে নীতি ও পরিকল্পনায় গুরুত্ব থাকলেও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে। এই গোলটেবিলের উদ্দেশ্য ছিল সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নীতিগত সংলাপ সৃষ্টি করা, সম্ভাব্য সমাধান চিহ্নিত করা এবং বাস্তুচ্যুতদের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা ও কার্যক্রম বাড়ানোর উপায় নির্ধারণ করা। এছাড়া জাতীয় و আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, DRR-CCA-Social Protection সমন্বয় বাড়ানোর পথ খোঁজা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল সামাজিক নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নের জন্য সুপারিশমালা তৈরি করাও এ বৈঠকের লক্ষ্য ছিল।

    বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি ও কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব সমস্যা, नीति বাঞ্চিত সমন্বয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য পন্থাসমূহ নিয়ে তীব্র আলোচনা করেন।

  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ নতুন দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকি

    বিশ্বব্যাংকের এপ্রিল মাসের ডেভেলপমেন্ট আপডেটে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে এবছর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে তাদের বাস্তব আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারছেন না।

    রিপোর্টে poverty লাইন হিসেবে ধরা হয়েছে কর্মক্ষম ব্যক্তির দৈনিক আয় তিন ডলারের কম হলে তাকে দরিদ্র ধরা হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা প্রতিবেদনের প্রধান দিকগুলো উপস্থাপন করেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই বৃদ্ধি সরাসরি লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর اثر ফেলেছে। ওই সময়কালে আনুমানিক অতিরিক্ত মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে পড়েছেন।

    বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ না থাকলে চলতি বছরে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের বাইরে আসার আশা ছিল। কিন্তু সংঘটিত পরিস্থিতির কারণে এখন কেবলমাত্র প্রায় ৫ লাখ মানুষই সীমার ওপরে উঠতে পারছেন। এর ফল হিসেবে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে ধরা পড়ছেন—এই হিসাব রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।

    রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও চাপের কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমের বাস্তব মজুরি কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের ধীর গতি—এসবই দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম বলেন, রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল হচ্ছে না এবং কিছু আন্তর্জাতিক নীতিমালার পাল্টা প্রভাবের ফলে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ধীর হচ্ছে—এ পরিস্থিতি কাটাতে বিনিয়োগ-আকর্ষণ সহজ করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্বে শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কারগুলো অব্যাহত রাখা জরুরি, যদিও বাস্তবায়ন কঠিন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকট বিবেচনা করে দ্রুত স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেয়াও দরকার।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রভাব অন্তত ছয়টি মূল খাতে পড়তে পারে—হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হওয়া, আমদানি-রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া, টাকার অবমূল্যায়ন, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব এবং জ্বালানি-পরিবহন খরচ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়া। এসবের সমন্বয়ে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ আছে, এসব প্রভাবে গিনি সূচক ২০২৬ সালে প্রায় ০.২ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে—অর্থাৎ বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

    বিশ্বব্যাংক ও প্রতিবেদকরা সতর্ক করেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত নীতিগত কর্মপরিকল্পনা এবং স্বল্পমেয়াদি সোশ্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রসার জরুরি যাতে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা যায় এবং দারিদ্র্য পুনরায় বাড়ার ধারা মেনে করা যায় না।

  • বুলবুলের অভিযোগ: তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    বুলবুলের অভিযোগ: তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এডহক কমিটি ‘অবৈধ’, আইসিসির হস্তক্ষেপ চান

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্বলতা দেখায়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এনএসসি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন তামিম ইকবাল। তবে বুলবুল ওই এডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি)-র হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

    বুলবুল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, সরকারিভাবে হস্তক্ষেপ করে তার পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিনি চান আইসিসি যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ও ওই কমিটিকে কাজ করতে না দেয়। তিনি জানাচ্ছেন, তামিম যখন দায়িত্ব নেন, তখনই তিনি এনএসসিতে জমা হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    তদন্তে অংশ নেয়া পাঁচ সদস্যের কমিটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে হওয়া নির্বাচনে একগাদা নিয়মবিরতি, কারচুপির চেষ্টা ও বিভিন্ন দুর্বলতা পেয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। কিন্তু বুলবুল তার বক্তব্যে বলছেন, ওই নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠভাবে হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালি ও আইনগতভাবে অব্যাহতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    বুলবুলের মতে, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংবিধান মেনে কাজ করেছে। গত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছিলেন — সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক। তিনি দাবি করেন, তামিম ও ১৫ ক্লাবের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোই তখন আধা-বিচারিক পদ্ধতিতে সমাধান করা হয়েছিল।

    বুলবুল আরও বলেন, কিছু সাবেক ক্রিকেটার বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই ‘নির্বাচন ফিক্সিং’ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এনএসসির হাতে এমন ধরনের তদন্ত করার বা একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান—বিসিবি—ভেঙে দেওয়ার আইনি এবং নির্দেশিকার এখতিয়ার আছে কি না।

    বুলবুল আইসিসির নিয়মাক্রমের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—আইসিসি কোনো জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ সহ্য করে না। তাই তিনি এই ঘটনার উপরকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’ বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, এনএসসির পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাবলিক ইমেজ ক্ষুণ্ণ করছে।

    এনএসসি বুলবুলের বোর্ড ভেঙে নতুন এডহক কমিটি গঠনের খবর আইসিসিকে ইমেইল করে জানানো হলেও, বুলবুল তা ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এডহক কমিটিকে বিসিবির সংবিধানের পরিপন্থী ও সরকারি হস্তক্ষেপজনিত বলে অভিহিত করে ‘ভুয়া সংস্থা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

    বুলবুল আইসিসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, তারা যেন এ বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং মুলতুবি না দিয়ে এডহক কমিটিকে স্বীকৃতি না দেয়। এ পরিস্থিতিতে তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন। সমাপ্তিতে বুলবুল আবারও বলেন, হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হবেন।

  • খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার দুপুরে খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন মুসলিম হিসেবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা প্রয়োজন, কারণ ধর্মীয় শিক্ষাই তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

    মাদ্রাসাটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে—এমনটাই তার আহ্বান। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাদানে আরও আন্তরিক হলে প্রতিষ্ঠানটি সমাজে আরও বেশি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে।

    মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। চলতি বছরে পঞ্চম শ্রেণির ৯জন এবং অষ্টম শ্রেণির ২জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্ট পুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে, যাদের মধ্যে কৃতি শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

    প্রশাসক নিজে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নাজমুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক, মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।