Blog

  • বিসিবি নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

    বিসিবি নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের আগামী নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। আজ বিসিবি যেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তাতে কমিশনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম—তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    অন্য দুই দায়িত্বশীল সদস্য হলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপসচিব এ. বি. এম. এহসানুল মামুন। সংবাদে বলা হয়েছে, নিয়ম-কানুন মেনে নির্বাচন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা করার দায়িত্ব কমিশনেরই থাকবে।

    পটভূমিতে আছে গত ৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একটি সিদ্ধান্ত। এনএসসি তখন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে সেখানে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। ওই অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয় তামিম ইকবালকে এবং কমিটির উপর ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব আসে।

    এরপর থেকেই বিসিবি ও অ্যাডহক কমিটি নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠে। তামিমের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও ৩০ এপ্রিল মিরপুরে দেওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে তিনি পদত্যাগ করছেন না। পরে ৭ মে বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিপিএলের সম্ভাব্য ফিক্সিং ও ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক জটিলতা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন।

    তামিম মিরপুরে নিয়মিত উপস্থিত থেকে বিসিবির কার্যক্রম মনিটর করছেন এবং খেলা চলাকালীনও সেখানে দেখা যায় তাকে। নতুন গঠিত নির্বাচন কমিশন এখন নিয়ম ও নিয়মাবলী মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবে বলেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • পাকিস্তান ক্রিকেট ধুলোয় মিশে যাচ্ছে — বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের কাছে ধারাবাহিক হার

    পাকিস্তান ক্রিকেট ধুলোয় মিশে যাচ্ছে — বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের কাছে ধারাবাহিক হার

    পাকিস্তান ক্রিকেটের বিরুদ্ধে একরাশ প্রশ্নচিহ্ন। ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা গড়ে উঠলেও সেই মুহূর্তটাকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা। আইসিসির ওই ইভেন্টের পরে বাংলাদেশকে নিয়ে চার ম্যাচ খেলায় তিনটিতেই হেরেছে পাকিস্তান — যার উপর সংযুক্ত হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে সাবেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদের তীব্র সমালোচনা।

    মিরপুরের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ১০৪ রানে হারায় পাকিস্তান; আগে মার্চে ওয়ানডে সিরিজটাও হারিয়েছিল তারা। শেহজাদ এই ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক ও নাহিদ রানাদের পারফরম্যান্সকে প্রসংশা করে বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে পুরো পাঁচ দিন আধিপত্য বিস্তার করে খেলল এবং শেষ পর্যন্ত জয় পেল। তোমরা কখনো জিম্বাবুয়ের কাছে হারো, কখনো বাংলাদেশের কাছে — ধুলোয় মিশে যাচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট।’’

    শেহজাদ আরো ধরে দিয়েছেন যে ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-০ ব্যবধানে হারানো ছিল কোনো ফ্লুক নয়। তার মতে এরপর থেকেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে এবং পাকিস্তান পিছিয়ে পড়েছে — বিশ্বকাপ-সহ নানা টুর্নামেন্টে দেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়েকে হেরে সাফল্য এলেও পরে বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া, আর কিছু পরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুপারওভারে পরাজয়সহ আরো ব্যর্থতা পাকিস্তানকে ঘিরে নেতিবাচক প্রশ্ন জাগিয়েছে, বলে মন্তব্য করেন শেহজাদ।

    ব্যক্তিগত দিক থেকে মিরপুর ম্যাচে একাধিক নতুন মুখের উত্থান দেখা গেছে — অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন আজান আওয়াইস, আর আব্দুল্লাহ ফজল দুই ইনিংসেই ফিফটি করেছেন। পক্ষান্তরে দলীয় দায়িত্বে থাকা শান মাসুদ দুই ইনিংস মিলিয়ে করেছেন মাত্র ৯ রান; সালমান আলী আঘা ও রিজওয়ান প্রথম ইনিংসে ফিফটি করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছেন। সহ-অধিনায়ক সৌদ শাকিলও প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেননি।

    শেহজাদ এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ভাবার প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘আজান ও আব্দুল্লাহ ভালো খেলেছে। কিন্তু সিনিয়ররা—রিজওয়ান, শাকিল, মাসুদ—তারা কোথায়? বড় কথা বলাটা এক কথা, কিন্তু লজ্জাবোধ ও আত্মসম্মান থাকা দরকার। পাকিস্তান ক্রিকেটকে কোথায় নিয়ে গেছো? এই হারকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না; তা থেকে শেখা জরুরি।’’

    টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রেক্ষাপটেও মিরপুর জয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ২০২৫-২৭ চক্রে পাকিস্তান শীর্ষে এগিয়ে থাকলেও মিরপুর জয়ের পর বাংলাদেশ পয়েন্ট টেবিলে দুই ধাপ উঠে ছয় নম্বরে চলে এসেছে; তাদের সফলতার হার এখন ৪৪.৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান দুই ধাপ নেমে সাত নম্বরে, সফলতার হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। সিরিজের দ্বিতীয় এবং নির্ধারক টেস্ট শুরু হবে ১৬ মে সিলেটে।

    সংক্ষেপে, ফলাফল ও পারফরম্যান্স দেখে শেহজাদসহ অনেকে মনে করছেন পাকিস্তানকে দ্রুত বিশ্লেষণ করে পরিবর্তন প্রয়োজন — নইলে দেশের জাতীয় ক্রিকেটের নামকে ধুলোয় মিশিয়ে ফেলার ঝুঁকি কোথাও থাকবে না।

  • কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের লিভার ডোনার হিসেবে দুই ভাই চেন্নাই যাচ্ছেন

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের লিভার ডোনার হিসেবে দুই ভাই চেন্নাই যাচ্ছেন

    জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার (১১ মে) রাতে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে নেওয়া হয়েছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি রাত ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে।

    টিউটোরিয়াল ও সোশ্যাল মিডিয়া স্তরে বেশ পরিচিত কারিনার সঙ্গে এই যাত্রায় ছিলেন তার মা লোপা কায়সার। পাশাপাশি সম্ভাব্য লিভার ডোনার হিসেবে তার দুই ভাই—মোস্তফা এস. হামিদ ও সাদাত হামিদ—ও পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে সঙ্গে ছিলেন।

    মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে কারিনার বাবা কায়সার হামিদ সবাইকে মেয়ের জন্য দোয়া চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দোয়া করবেন সবাই, গত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমার মেয়ে কারিনাকে দেশের বাইরে নেওয়া হয়েছে জেট এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে।”

    দেশেই থাকা প্রসঙ্গে কায়সার হামিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার দেশেই এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং চিকিৎসার ব্যয় যোগাড় করতে সময় লাগায় তিনি যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, “এখনও দেশে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতেও সময় লাগছে। তাই আপাতত যেতে পারছি না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা কারিনার সঙ্গেই আছেন।”

    এর আগে সোমবার দুপুরে ভারতের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি কায়সার হামিদ নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চেন্নাই থেকে তাকে নিতে আসবে এবং হাসপাতালে বেশ বড় অর্থভিত্তিক বিল রয়েছে। আইভত চিকিৎসা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙার পাশাপাশি জমির বায়না করছেন বলে জানান।

    কারিনার অসুস্থতার খবর প্রথম করেন ‘ডানা ভাই’খ্যাত কনটেন্ট ক্রিয়েটর কামরুন নাহার ডানা। তিনি জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন কারিনা; হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরে জানিয়েছেন কারিনার মধ্যে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ধরা পড়েছে, যা লিভার ফেলিয়ারে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন ICU ও লাইফ সাপোর্টে রাখার পর আক্রান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    পরিবার এবং অনুরাগীদের তরফ থেকে কারিনার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া এবং সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত আপডেট মিললেই পরিবারের পক্ষ থেকে তা জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ৪৭ বছর বয়সে কন্নড় অভিনেতা-প্রযোজক দিলীপ রাজের আকস্মিক মৃত্যু

    ৪৭ বছর বয়সে কন্নড় অভিনেতা-প্রযোজক দিলীপ রাজের আকস্মিক মৃত্যু

    কন্নড় চলচ্চিত্র জগতে গভীর শোক নেমে এসেছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ বছর বয়সে প্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক দিলীপ রাজ আর নেই। বুধবার ভোরে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করলে দ্রুত বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ দুর্বলতাজনিত সমস্যা শুরু হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। আনন্দমিশ্রিত ক্যারিয়ারের মধ্যদিকে এভাবে আকস্মিক চলে যাওয়ায় কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

    দিলীপ রাজের উপরিভাগীয় প্রতিভা তাকে ছোটপর্দা ও বড়পর্দায় সমানভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। টেলিভিশনে তিনি ছিলেন সুপারস্টার; ‘রঙ্গোলি’, ‘কুমকুম ভাগ্য’ থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হিটলার কল্যাণ’-এ তার অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।

    ফিল্মে তার পথচলা শুরু হয় ২০০৫ সালে নায়ক হিসেবে অভিষেক দিয়ে। ২০০৭ সালে পুণিত রাজকুমারের ব্লকবাস্টার ‘মিলানা’-তে ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের sorpriz করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ‘ইউ-টার্ন’, ‘লাভ মকটেল ৩’–সহ প্রায় ২৪টির বেশি ছবিতে তাকে দেখা গেছে।

    অভিনয়ের পাশাপাশি দিলীপ রাজ সফল প্রযোজক হিসেবেও কার্যক্রম চালিয়েছেন। তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘ডিআর ক্রিয়েশনস’ থেকে টেলিহিরো ও হিট ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে। থিয়েটারেও তার অবদান ছিল লক্ষণীয়, যা তাঁর শিল্পী হিসেবে বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।

    সহকর্মী ও ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত শোকবার্তা জানাচ্ছেন। অভিনেতা চেতন কুমার স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, ‘দিলীপ শুধু একজন দক্ষ অভিনেতা ছিলেন না, মানুষ হিসেবেও অসাধারণ ছিলেন। ওর মতো আন্তরিকতা খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়।’

    দিলীপ রাজের অকালচরম প্রয়াণে ফিল্ম ও টিভি ইন্ডাস্ট্রির মাঝে শূন্যতা থাকবেই — তাঁর কর্মজীবন, আন্তরিকতা এবং অনুগত ভক্তসমাজ তাকে দীর্ঘদিন স্মরণ করবে। কার্যক্রম ও শেষকৃত্য সংক্রান্ত আরও তথ্য পরিবার বা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানানো হবে।

  • মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    মুক্তিপণের সাত লাখ টাকায় জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন ১৮ জলপরিজন

    সুন্দরবনের নদীতে জলদস্যুদের হাত থেকে অপহরণের শিকার ২০ জন জেলে ও মৌয়াল থেকে ১৮ জনকে প্রায় ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে। এ টাকা দিয়ে তারা ধাপে ধাপে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে এখনও দুজন জেলের মুক্তি মেলেনি। তাদের পরিবারের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত মুক্তিপেপ্রাপ্ত জেলেরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গ্রামে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ৪ ও ৫ মে দুর্বৃত্তরা ‘আলিফ’ বা ‘আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী জলদস্যুরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে। এর মধ্যে চুনকুড়ি নদীর গোয়াল বুনিয়া দুন, ধানোখালী খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খালে তাদের অপহরণ করা হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মহাজন, পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের কাছে মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ করা হয়।

    অপহরণকারীরা দর-কষাকষির মাধ্যমে দাবিকৃত ঋণের অংক কিছুটা কমিয়ে আনেন। পরে নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে টাকা পৌঁছে দেওয়ার পর দস্যুরা ধীরে ধীরে জেলেদের ছাড়তে আরম্ভ করেন।

    ফেরার সময়ে মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন বিভিন্ন জেলে ও মৌয়ালরা। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মন্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

    অন্যদিকে, শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামে দুজন জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে বিনিময় হলেও তারা এখনও বাড়ি ফিরেননি বলে জানা গেছে।

    পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, জলদস্যু দমন অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে যৌথভাবে কাজ চলছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য ও সহযোগিতা না পাওয়ায় দস্যু দমনে খুব একটা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে অসুবিধা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সুন্দরবনের জলদস্যু দমন সম্ভব হবে।

  • দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    দুই বছরেও উদঘাটন হয়নি এমপি আনার হত্যার রহস্য

    ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের দু’বছর পূর্ণ হলো। ২০২৪ সালের ১২ মে ভারতে চিকিৎসার জন্য যান তিনি, এরপর কলকাতার নিউটাউনের একটি ফ্ল্যাটে তাকে হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয় বলে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলে। তবে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দুটি বছর পার হলেও এখনো চলমান তদন্তে কোনও চূড়ান্ত রহস্য উন্মোচিত হয়নি এবং পরিবার তার মরদেহ বা নিশ্চিত কোনও ফরেনসিক প্রতিবেদনও পেয়েছেন না।

    প্রাপ্ত তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুমের জন্য তা খণ্ড-বিখণ্ড করে ছিন্নভিন্ন করা হয়। পরে বাংলাদেশ পুলিশের ডিবি এই ঘটনার তদন্তে কলকাতায় গিয়ে কিছু খণ্ডাংশ উদ্ধার করে। একই সময়ে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশি নাগরিক কসাই জেহাদসহ তিনজনকে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্য ভিত্তিতে কলকাতার একটি পুকুর থেকে অনেক টুকরো হাড় উদ্ধার হয়, যেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলে যাচ্ছে। তবে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট বা মরদেহের কোনো অংশই পৌঁছায়নি। ফলে, ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী জানাজা ও দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে আনোয়ারুল আজিম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, ‘আমরা বাবার হত্যাকাণ্ডের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি, কিন্তু এখনো একটীও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিসহ অন্যান্যদের জামিন পাওয়ায় আমাদের সন্দেহ রয়েছে। আমি প্রশ্ন করি, আমি কি আমার বাবার হত্যার বিচার পেতে পারব?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

    ডরিন জানান, ভারতের প্রশাসনের অনুরোধে তারা ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক নমুনা জমা দেন। কিন্তু অনেক সময় পার হলেও এখনো কোনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাননি। মরদেহের খণ্ডাংশ না পাওয়ায় এখনো জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে পারেননি। উপরন্তু, মৃত্যুসনদ না পাওয়ায় আইনি ও পারিবারিক কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় পার হলো, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি হওয়ায় পরিবার হতাশা প্রকাশ করছে।

  • নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেফতার

    নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় তাদের কাছ থেকে একটি চীনা কুড়াল, একটি ধাতব পাঞ্চ ও একটি স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) এবং মোঃ নাফিজুল ইসলাম (১৯)। পশ্চিম বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোঃ ফারুক আলম জানান, সোমবার রাতে ডিউটি পালনকালে তিনি বসুপাড়া মেইন রোডের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালান। সেখানে তারা সেগুন বাগানের একটি স্থান থেকে এসব অস্ত্র ও মালামালসহ তাদের আটক করেন। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মঙ্গলবার সোনাডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন সভাপতি রাসেল, সাধারণ সম্পাদক রাহুল

    দীর্ঘ আট বছর পর বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মো্ল্লা আকিতুর রহমান রাসেল হচ্ছেন কমিটির নতুন সভাপতি, আর নিয়ামুল কবির রাহুল মনোনীত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ ছাড়া শেখ আল মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির কর্তৃক অফিসিয়াল পত্রে এর অনুমোদন প্রদান করা হয়।

    নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান রাসেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়ামুল কবির রাহুল নির্বাচিত হয়েছেন। পাশাপাশি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন শেখ আল মামুন। এছাড়া সাবেক সহ-সভাপতি শামিম শিকদার এবং সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন শেখ মাইদুল ইসলাম মিন্টু ও রানা দিদার। আরও রয়েছে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফকির মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ওয়াহেদ হাবিব ও শেখ ফাহিম শাহরিয়ার রাব্বি।

    প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি নতুন কমিটি গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব না আসায় সংগঠনের কার্যক্রম ধীরে ধীরেধীরে স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনে নতুন গতি আসবে এবং কার্যক্রম আরও বেশি এগিয়ে যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    নিখোঁজ মিরাজের পরিবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যাকুল

    এক মাস তিন দিন হলো মোংলা চিলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে রয়েছে মা তাছলিমা বেগমের বুকফাটা কান্নায়। ১০ এপ্রিল, সকাল থেকেই নিখোঁজ তার একমাত্র ছেলে, মিরাজ শেখ (৩০), কে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত অপরিচিত কিছু ব্যক্তি। এরপর থেকে তিনি তার সন্তানকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। বারবার থানায় জিডি, প্রতিমন্ত্রী ও সরকারের অন্যান্য দফতরে আবেদন করেও কিছু ফল হয়নি। এই সন্তানের জন্য একটি অসহনীয় অপেক্ষা চলেছে, মা বলতে চান, তার ছেলে যেন জীবিত বা মৃত—কোনোটাই অবিচলভাবে জানতে চান। পরিবারের জন্য এই নিখোঁজের কান্না শুধু হৃদয় বিদারক নয়, বরং মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেও পরিণত হয়েছে। তারা এখন কেবল একটাই প্রত্যাশা করছেন— যেন তাদের সন্তানকে দ্রুত ফিরে পায় এবং সত্যতা নিশ্চিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, তার স্বামী সুন্দরবনের জেলে ও মাছধরা জেলায় মোটরসাইকেল চালক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৬ এপ্রিল বন্ধু বাচ্চু ও রফিকুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। চার দিনের পরিশ্রমের পরে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তারা ফিরে আসেন। তখনই স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনির ঘোলের একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সময় মিরাজকে অজ্ঞাত পরিচিত কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে একজনের সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা আন্দাজে দেখেন, একটি নৌযানে করে দ্রুত তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। মা তাছলিমা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘আমার পোলার জন্য আমার বুকের টুকরো যে এক মাস ধরে হারিয়ে গেছে, কেউ কেউ বলতে পারে না ও কই আছে। যদি ও কোনো অপরাধে জড়িত হয়, তবে দেশের আইন আছে, বিচার হবে। কিন্তু ওকে কেন লুকানো হচ্ছে? আমার মনে হচ্ছে, ওর ওগো কিছু করেছে, ও কি সাগরে ভাসিয়্যা ফেলছে?’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, ‘আমি চাই ও ফিরুক—আমি তার মুখটা একবার দেখবো। ও কি খাচ্ছে? ও কি মার খাচ্ছে? আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, ও যেন আমার কোল ফিরে আসে।’ Although তার পরিবার নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন, একটু অন্যরকম ঘটনা ঘটে গেলো ২২ এপ্রিল, মিরাজের বন্ধু বাচ্চুকে মোংলা কোস্ট গার্ডের একটি দল তুলে নিয়ে যায়। রাতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হলেও মিরাজের খোঁজে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন, হয়তো অভিযানের সময়ই তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে সরকারি পক্ষ কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। নিখোঁজের পর থেকে তার স্ত্রীর দায়িত্ব ভর করে, তিনি মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদনও জানানো হয়েছে, কিন্তু তৎপরতা কম থাকায় পরিবারের আতঙ্ক আরও বাড়ছে। মিরাজ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন, তাঁর হারিয়ে যাওয়ার পর সংসারে অস্থিরতা শুরু হয়। মা শোকে কাতর, স্ত্রী ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনার জন্য উদ্বিগ্ন। যখন সুন্দরবনে দস্যুমুক্ত অভিযানের খবর আসছে, তখনই এই অন্তর্ধান অন্য এক প্রশ্ন তুলে ধরছে— বিষয়টি কি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে? পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জনসম্মুখে আনা হোক। মোংলা সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, ‘মিরাজ শেখের নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। আমরা তদন্তে আন্তরিক, তার সন্ধানে গোয়েন্দা ও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। তাকে কোথায় কোথায় রাখা হয়েছে বা আটক করেছেন কি-না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছি। পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আশ্বাস দেন।’ প্রত্যাশা, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন দ্রুত সমাধান হয় এবং নিখোঁজের পরিবারের মনোবাসনা পূরণ হয়। মা তাছলিমার চোখের জল যেন অবহেলা না হয়, এবং তার সন্তানকে ফিরিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়—এটাই এখন বড় প্রত্যাশা।

  • সোনার দাম কমলো, ভরি কত হলো?

    সোনার দাম কমলো, ভরি কত হলো?

    দেশের বাজারে সোনার দাম হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা করে ভরি দামে কমতি এনেছে সংগঠনটি। এর ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দোকানে বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায়, যা আগের তুলনায় কমে গেছে। সোমবার (৪ মে) এই দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৯ টাকা। তবে মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০টার দ্বারায় কার্যকর হয়েছে নতুন মূল্য।

    বাজুসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারে এর দামও হ্রাস পেয়েছে। সংগঠনের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি এখন নির্দিষ্টভাবে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে মানের সোনার ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    অন্যদিকে, সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম স্থির ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বিশ্ববাজারে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে—যেমন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল মধ্যে চলমান সংকট—সোনার মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে মূল্য ওঠানামা করছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।