Blog

  • তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    তমা রশিদ ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’ চ্যাম্পিয়ন

    জনপ্রিয় উপস্থাপিকা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তমা রশিদ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।

    থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় তমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শিরোপা জিতেছেন। বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে ওই মঞ্চে উঠা এবং জয় ছিনিয়ে আনা এই অর্জন দেশের বিনোদন ও সংস্কৃতি জগতের জন্য গর্বের বিষয়।

    তমা রশিদ বলেন, এই খেতাবটা তার ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখা যায় না—এটি বাংলাদেশের নারীদের আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও ইতিবাচক কাহিনী বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরাই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে জামদানি শাড়ির মতো শিল্প ও ঐতিহ্যকে গ্লোবাল পর্যায়ে পরিচিত করাতে তিনি সচেষ্ট ছিলেন।

    মাত্র পাঁচ বছরের ছেলেবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত তমা রশিদ পরবর্তীতে মিডিয়ার জগতে কাজ করে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসই তাকে এই সফলতার দিকে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, তমা রশিদের এই জয় ২০২৬ সালের এ যুগে দেশের নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে। দেশবাসীও তার এই কৃতিত্বকে গর্বের সঙ্গে অভিবাদন জানাচ্ছে।

  • একই ছবিতে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরার দাবি—দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ প্রজেক্ট হতে পারে

    একই ছবিতে দুই রণবীর? মুকেশ ছাবরার দাবি—দেশের ‘সবচেয়ে বড়’ প্রজেক্ট হতে পারে

    বলিউডের দুই আলোচিত অভিনেতা—রণবীর কাপুর এবং রণবীর সিং—একসঙ্গে যদি একই ছবিতে দেখা যান, তা হলে সিনেমা দুনিয়ায় জল্পনার শেষ থাকবে না। সম্প্রতি নামী কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরা এই চর্চার তaptে ঘি ঢেলে বলেছেন, যদি এই দুজন একসঙ্গে কাজ করেন, তখন সেটা দেশীয় সিনেমার ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হবে।

    টিনসেল টাউনের মহাসড়কে এখন শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়ায়—কবে এই ‘দুয়েক রণবীর’ এক সঙ্গে পর্দায় আসবেন? মুকেশ ছাবরা বলছেন, দুজনের অভিনয়ের ধরন আলাদা হলেও উভয়েই প্রতিভাবান, আর তাদের একযোগে স্ক্রিন শেয়ার করা হলে দর্শকদের জন্য সেটা দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে।

    মুকেশ বর্তমানে আলোচনায় বেশি, কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িত দুটি বড় প্রজেক্ট—আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ এবং বহু প্রতিক্ষিত ‘রামায়ণ’। ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির আগে নানা সমালোচনা ও বিতর্কের կենտրոնে ছিল—ভুল রিভিউ, স্ক্রিনিং বাতিলের খবরসহ নানা নেগেটিভিটি দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়ামি গৌতম পর্যন্ত পেইড নেগেটিভিটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং বিষয়টিকে তোলাবাজির সঙ্গে তুলনা করেছেন। মুকেশের ভাষ্য, ‘‘মানুষ ছবি না দেখেই বিচার করতে শুরু করেন। এই ট্রোল সংস্কৃতি ক্রমশ বাড়ছে, কিন্তু ভালো filmmakers ও ছবিকে কেউ দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারে না।’’

    অন্যদিকে ‘রামায়ণ’ও নেটপাড়ায় বিতর্কে পিছিয়ে নেই। টিজার প্রকাশের পর থেকেই ভিএফএক্স এবং কাস্টিং নিয়ে বিশ্লেষণ তীব্র হয়েছে। কারও চোখে রণবীর কাপুর বা সাই পল্লবীর কাস্টিং প্রশ্ন তুললেও মুকেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘‘গ্যাংস অফ ওয়াসিপুরের পর এই দুটি ছবিতেই সঠিক কাস্টিং করা ছিল আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত।’’

    তাঁর মতে, ‘ধুরন্ধর’ মুক্তির পর যে নেতিবাচক সমালোচনা হয়েছিল, তা শেষমেষ ছবিকে থামাতে পারেনি—প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দর্শক চাহিদা এবং সিনেমার মান নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা তাঁকে ‘রামায়ণ’ নিয়েও আশাবাদী করে তুলেছে।

    এবার যেখানে আসল উত্তেজনা, তা হলো—দুই রণবীর একসাথে হলে সিনেমার বিস্ফোরণ কতটা জোরালো হবে? মুকেশ ছাবরা মনে করেন, ভিন্ন ধাঁচের অভিনয়শৈলী থাকলেও দুজনই তুখোড় প্রতিভা; তাদের জুটিতে ঐতিহাসিক সাফল্যের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। দর্শক অস্বীকৃতি বা তুলনা থাকলেও চলচ্চিত্র নির্মাণে সঠিক গল্প, দিকনির্দেশনা ও কাস্টিং থাকলে সব চ্যালেঞ্জ পেছনে পড়ে যায়—এটাই তাঁর বিশ্বাস।

    শেষ পর্যন্ত মুকেশের কথাতেই ভর করেই টিনসেলটাউনের জায়গায় নতুন কৌতূহল—কবে, কীভাবে এবং কোন প্রজেক্টে এই দুই মহাতারকাকে একসঙ্গে দেখা যাবে। যদি তা ঘটে, বলিউড তথা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সেটা নিঃসন্দেহেই স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে লেখা হতে পারে।

  • জেল দেখার কৌতূহলে ছুরিকাঘাত: ফতুল্লায় ১১ বছরের হোসাইনকে হত্যা, ৬ কিশোর গ্রেফতার

    জেল দেখার কৌতূহলে ছুরিকাঘাত: ফতুল্লায় ১১ বছরের হোসাইনকে হত্যা, ৬ কিশোর গ্রেফতার

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জেল খাটতে কেমন লাগে—এমন কৌতূহলে ছুরিকাঘাত করে ১১ বছর বয়সী একটি শিশুকে হত্যা করার ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    পুলিশি তদন্তে জানা যায়, ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের ছেলে হোসাইন (১১) গত ১৮ এপ্রিল সকালে নিখোঁজ হয়। পাঁচ দিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লা রোডের ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করা হয় এবং মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়।

    ইয়াসিনেরে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বরিশাল জেলাসহ অন্য স্থান থেকে আরও পাঁচ কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশ সুপার জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘কাকে হত্যা করলে জেলে যেতে হয়’—এমন কৌতূহল পূরণের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করেছিল। পরে পথ চলাকালীন হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বাকি তিন বন্ধু—রাহাত, (আরও একজন নামও হোসাইন) ও ওমর—আসছিল। সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং মরদেহ পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে পালিয়ে যায়।

    পুলিশি পর্যায়ে গ্রেফতার হওয়া ছয় কিশোরই ১৮ বছরের নিচে এবং প্রত্যেকে মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছে।

    জেলা পুলিশ সুপার আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও একজন কিশোর এখনও পলাতক রয়েছেন; তাকে গ্রেফতারে তল্লাশি অভিযান চলছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • ফরিদপুরে কোদাল নিয়ে ঘরে ঢুকে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

    ফরিদপুরে কোদাল নিয়ে ঘরে ঢুকে ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

    ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত প্রায় ১০টায় একজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে কোদাল দিয়ে তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

    হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আকাশ মোল্লা (৪০) বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। তিনি একই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে এবং ফরিদপুর যক্ষা হাসপাতালে পিয়ন পদে কর্মরত ছিলেন। নিহতরা হলেন অভিযুক্তের দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুপু সালেহা বেগম (৫৫) ও প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)।

    ঘটনায় আরেক প্রতিবেশী রিয়াজুল ইসলাম (৩৮) আহত হয়েছেন; এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

    আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রাজ্জাক শেখ জানান, রাত প্রায় দশটার দিকে আকাশ কোদাল দিয়ে তার দাদি ও ফুপুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। প্রতিবেশীরা আহত ঠেকাতে গেলে কাবুল চৌধুরীকে বেধড়ক মারধর করে মারা ফেলা হয়।

    ওয়ার্ড সদস্য আরও জানান, আকাশ মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির ছিল এবং তার বিয়ে করা হয়নি। তার এক বড় আত্মীয় তাকে সরকারি হাসপাতালে চাকরি দেয়া ছিলেন। মাঝে মাঝে তার ‘মাথা খারাপ’ থাকায় অফিসেও যেত না, তবে ভালো থাকলে স্বাভাবিক আচরণ করত।

    ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে আছে; তাকে আটক করার জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

    ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম রাত পৌনে বারোটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশি গাড়িতে করে সরাসরি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান: বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি এখন পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়েতে ইসলামী আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, একসময় বিএনপির সঙ্গে তারা একই সংকট ভূগেছিল এবং তখন তারা মজলুমের ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু এখন বিএনপি নিজের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে এমনভাবে এগোচ্ছে যে, এটি স্বাধীনতার আন্দোলন ও জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।

    ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি কোনওদিন আওয়ামী লীগ হতে পারবে না — সর্বোচ্চ হলে তারা দুর্বল আওয়ামী লীগই হতে পারবে। যে আওয়ামী লীগ একসময় জাতিকে সামনে নিয়ে নীতির প্রতিফলন হতো, আজ তাদের কীর্তি ও পরিস্থিতি আলাদা; আর বিএনপি ঠিক সেই একই পথে হাঁটছে।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, কিন্তু সেই দফায় আজ সেদিনকার লাঠিয়ালরা পাশে দাঁড়ায়নি।

    রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণের দিতে যে মৌলিক পরিবর্তন দরকার, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিএনপি বিরোধিতা করছে—এটি জাতির সাথে প্রতারণা বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষত বিএনপি তাদের ইশতেহারে থাকা ৩১ দফা কর্মসূচির বিরোধিতা করছে, যা ডা. শফিকুরের মতে নিজস্ব বোধেরও অভাব প্রকাশ করে।

    জামায়াতে আমির শহীদ পরিবারের ত্যাগের কথাও স্মরণ করান। তিনি বলেন, যদি ওই সিদ্ধান্ত ও ত্যাগ না থাকতো, যদিওবলে, বিএনপি আজকের ক্ষমতায় এসে উপভোগ করতে পারত না। শোকাহত শহীদ পরিবারদের প্রতি বিএনপির মনোভাব, আন্দোলনের পরে তাদের অবহেলা—এসবকে তিনি কড়া আক্রমণ করেন।

    তিনি একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথাও তুলে ধরেন—জেলের সহকর্মী আল্লামা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা স্মৃতি বর্ণনা করে বলেন, বহু নেতা বিদেশে ছিলেন, কিন্তু বিপ্লব না হলে তারা স্বদেশে ফিরতে পারত না। ২৪-এর অভ্যুত্থানের পর কিছু ঘটনা তিনি ‘খোদার দান’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, সেই দান আজ ভুলে যাওয়া হচ্ছে।

    তবু, ডা. শফিকুর বলেন, তারা কারও ন্যায্য অবদান অস্বীকার করেন না—সকলেই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু যারা সত্যিকারের ত্যাগ করেছিলেন তাদের প্রতি অসম্মান করা ঠিক নয়। তিনি জাতিকে অনুরোধ করেন, শহীদ-নায়ক, ছাত্র-শ্রমিক ও মায়েদের ত্যাগ কখনো ভুলে না যেতে।

    সংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত সংসদে প্রথম দিন থেকেই সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি তুলেছিল; তারা শপথ পালন করেছে, অন্যরা করেনি। যে আইনগুলো সংস্কার হবে না, সেগুলো বদলালে না ফ্যাসিবাদী শাসন রয়ে যাবে—এমন অবস্থান নিয়েছে বিএনপি।

    আজকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকাশ্যে হামলা-হানাহানি ও শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি ঝুঁকিয়ে রাখার ঘটনাকে তাঁরা উদ্বেগজনক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যখনই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, তখন থেকেই বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পথে চলা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

    ডা. শফিকুর উপসংহারে বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান না যেখানে মানুষ নিরাপদভাবে রাস্তায় বের হতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা না দেখে, খাতা-কলম আর নিরাপত্তাই তারা প্রত্যাশা করে। যদি এমন সংস্কৃতি বন্ধ না করা যায়, তাহলে ‘‘জুলাই’’ অনিবার্যভাবে ফিরে আসবে এবং ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে—তাই জনগণের রায়কে সম্মান করতে ও ৭০ শতাংশের ভোটকে মেনে নিতে তিনি আহ্বান করেন। জনমত বাস্তবায়িত না হলে তাদের লড়াই সংসদে এবং খোলা ময়দানে চালিয়ে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

  • তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে ভোটের প্রস্তুতি নিন—এনসিপি পাশে থাকবে

    তরুণদের উদ্দেশে নাহিদ: সারাদেশে ভোটের প্রস্তুতি নিন—এনসিপি পাশে থাকবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তরুণদের উদ্দেশ্যে সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনসিপি তাদের সমর্থন জানাবে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করছে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আন্দোলনকারী ছাত্র মহিউদ্দিন রনি অনানুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে। এই নির্বাচনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘লিগ্যাসি’ থেকে আলাদা করে সাধারণ ক্ষমতান্তর নির্বাচনে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংবিধানসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো ক্রমান্বয়ে বাতিল করা হচ্ছে। আবারও ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে এবং নানা ভাবে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের শিকার হচ্ছে।’

    তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবনের কথাও তুলে ধরে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ বা কোনো নতুন/পুরনো স্বৈরতন্ত্র চুরে উঠলে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলতেই ঐক্যবদ্ধ হবে—এই বার্তাই আমরা সব জায়গায় পাচ্ছি।’

    নাহিদ আরও জানান, এনসিপি সারাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতি সপ্তাহে যোগদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি দেশের রাজনীতিসচেতন মানুষ ও তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা রাজনীতি করতে চান, যারা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন—ঐক্যবদ্ধ হোন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগোতে চায়।’

    অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে গড়াচ্ছে। আর এই সংকটময় মুহূর্তে জনগণের পাশে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ।’

    অনুষ্ঠানে ‘রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদান’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্য নবাগতরা মঞ্চে এসে দলীয় ভারসাম্যে ফুল দিয়ে বরণ গ্রহণ করেন।

  • জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ তীব্র

    জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ক্রয়াদেশ স্থগিত, পোশাক খাতের উদ্বেগ তীব্র

    জ্বালানি সংকট নিয়ে আশংকায় বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি সতর্ক করেছেন, দুই থেকে তিন মাসে জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাতগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    বিসিআই সভাপতি বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অনিশ্চয়তা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসের অনেক ক্রয়াদেশ ইতিমধ্যে ধীরগতিতে চলে গেছে। কয়েকটি বড় ক্রেতা নেগেটিভ বার্তা পাঠানো শুরু করেছে এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ঢাকায় অবস্থানরত ক্রেতা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা নতুন অর্ডার দেওয়ার বিষয়ে পিছিয়ে পড়ছেন। এর ফলে তৈরি পোশাক খাত ঝুঁকিতে পড়ছে এবং দেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।

    আনোয়ার-উল আলম বর্তমান কর কাঠামোকে ব্যবসা-বান্ধব না হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, লাভ-লোকসান নির্বিশেষে এক শতাংশ হারে ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন — মুনাফা না থাকলেও কর দিতে হওয়ায় তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং রপ্তানি আয়ের ওপর উৎস কর কমানোর প্রস্তাব দেন।

    এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান সূত্রে জানানো হয় যে, উৎস কর কমানোর প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীরা কর নীতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা জানাচ্ছেন।

    বিসিআই সভাপতি income tax act ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কর যাচাইয়ের নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দ করার অকারণ ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং এটি ব্যবসায়িক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দাবি করেছে ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নেয়া এবং নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করার। তারা করের বোঝা না বাড়িয়ে ব্যবসা-সহায়ক একটি কর কাঠামো গড়ে তোলার কথাও বলেছেন।

    শিল্প উদ্যোক্তারা মনে করেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হয় এবং কর কাঠামো সহজীকরণ না করা হয়, তবে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়—দুইই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

  • এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স ঢুকল ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ২২ দিনে রেমিট্যান্স ঢুকল ২.৪২ বিলিয়ন ডলার

    রেমিট্যান্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারা এপ্রিলেও অব্যাহত আছে। চলতি মাসের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (২৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার) পাঠিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই তথ্য বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করেছে।

    গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এবারের প্রথম ২২ দিনে যে পরিমাণ এসেছে, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি—যার অর্থ প্রায় ৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

    বছরের মধ্যে প্রবাসী আয় সবচেয়ে বেশি এসেছে চলতি বছরের মার্চে—ওই মাসে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আছে গত বছরের মার্চ (৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার)। তৃতীয় ও চতুর্থ সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর (৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার) এবং চলতি বছরের জানুয়ারি (৩১৭ কোটি ডলার) মাসে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তা প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা বজায় থাকলে তা মুদ্রানীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে—তবে বহুসূত্রীয় ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত রিজার্ভ অপরিহার্য বলে তারা মনে করেন।

  • অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে লাশ গুমের উপায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মার্কিন আদালতে সময়ভিত্তিক চাঞ্চল্যকর তথ্য

    অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিকে লাশ গুমের উপায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মার্কিন আদালতে সময়ভিত্তিক চাঞ্চল্যকর তথ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যা মামলায় নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহ তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখার আগে চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিভাবে কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে তা আড়াল করা যায়—এমনই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি। ওপেনএআই এ বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

    আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল রাতেই হিশাম চ্যাটজিপিটিকে ‘কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দিলে কী হয়’—এমন ধরনের প্রশ্ন করেছিলেন এবং পরে ‘তদন্তকারীরা কীভাবে এটি খুঁজে পাবে’—এমনও জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তদন্তকারীরা এই কথোপকথন নথিভুক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

    নিহত লিমন ও বৃষ্টি উভয়েই ২৭ বছর বয়সি ও সম্ভাবনাময় ডক্টরাল শিক্ষার্থী ছিলেন। হিশাম—যিনি নিজেও আগে ইউএসএফ-এর ছাত্র ছিলেন—তাঁদের হত্যার অভিযোগে ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত হত্যার চার্জে অভিযুক্ত। মামলায় জমা দেওয়া তদন্ত নথি ও গণমাধ্যম রিপোর্ট অনুযায়ী ঘটনাপট ও সময়রেখা নির্দেশ করে একটি গড়িমসিহীন এবং পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য চিত্র।

    পুলিশি অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিমন ও বৃষ্টিকে শেষবার জীবিত দেখা গিয়েছিল ১৬ এপ্রিল সকালে। ওই দিন লিমনকে টাম্পার ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে তিন ব্লক দূরের বাড়িতে দেখা যায়; আর বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনে দেখা গিয়েছিল—ফ্লোরিডার সিএনএন এর প্রতিবেদন এই অবস্থান তথ্য প্রকাশ করে।

    ১৭ এপ্রিল হিশামের এক রুমমেট তাকে অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনে কিছু কাঠের বা কার্ডবোর্ড বক্স ফেলতে দেখেন; পরবর্তীতে পুলিশ সেই ডাস্টবিন তল্লাশি করে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও একটি ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করে। একই সময়ে ডাস্টবিনে পাওয়া একটি ধূসর রঙের টি-শার্টের ডিএনএ টেস্ট লিমনের সঙ্গে মিলেছে এবং একটি কিচেন ম্যাটে পাওয়া ডিএনএ বৃষ্টির জিনের সঙ্গে মিলে যায়—এমনটাই জানানো হয়েছে।

    গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশে একটি ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে লিমনের বিকৃত দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে যে তার শরীরে একাধিক ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একই সময়ে তদন্তকারীরা বলছেন, বৃষ্টির নিখোঁজ থাকা দেখে পুলিশের ধারণা তিনি বেঁচে নেই এবং অভিযুক্তই তার দেহ সরিয়ে ফেলেছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) তল্লাশিকালে ‘মানুষের দেহাবশেষ’ উদ্ধারের কথা জানালেও তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

    তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছে, ওই হত্যার রাতে হিশামের গাড়ি ব্রিজের কাছে দীর্ঘ সময় থেমে ছিল—এ খবরটি লিমনের ফোন লোকেশন ডেটা ও সিসিটিভি ফুটেজে উঠে এসেছে। প্রথম দিকে হিশাম দাবি করেছিলেন যে তিনি ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছিলেন; কিন্তু পরে যখন তার বিরুদ্ধে থাকা অবস্থানীয় প্রমাণ দেখানো হয়, তখন তার বিবৃতি পরিবর্তন করা হয়।

    পুলিশি খতিয়ান অনুযায়ী, হিশাম ওই রাত্রেই বড় ধরনের ডাস্টবিন ব্যাগ, লাইসল (পরিষ্কারের স্প্রে) ও সুগন্ধি স্প্রে (ফেব্রেজ) কেনা এবং তার অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এছাড়া বৃষ্টির ব্যবহৃত গোলাপি রঙের ফোন কভারসহ কয়েকটি বস্তু তিনি ফেলে দিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আর প্রথম জিজ্ঞাসাবাদে হিশামের বাঁ হাতে একটি আঙুলে ক্ষত ও পরে পায়েও জখমের চিহ্ন দেখা যায়; তিনি দাবি করেছিলেন সেগুলো পেঁয়াজ কাটা সময় দুর্ঘটনাবশত হয়েছে।

    হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক ও সম্প্রদায়কে নাড়া দেওয়া বলেছে। হিলসবোরো কাউন্টি পাবলিক ডিফেন্ডার অফিসের হোমিসাইড ব্যুরো প্রধান জেনিফার স্প্র্যাডলি বলেছেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নেই। হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক, মৃত্যুর খবর না জানানো, মৃতদেহ ঠিক স্থানে না রাখা ও আলামত নষ্ট করার মতো বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিন ছাড়াই হিলসবোরো কাউন্টি জেলে আটক আছেন এবং তাঁর পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার ধার্য করা হয়েছে।

    লিমনের পরিবারও ঝড়ের মত এই ঘটনার মধ্যে ভেঙে পড়েছে; ভাই জুবায়ের আহমেদকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে—লিমন ও বৃষ্টি দুইজনই ছিলেন সম্ভাবনাময় গবেষক, বন্ধুত্ব থেকে তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং তারা ভবিষ্যতে বিবাহের কথাও ভাবছিলেন। উভয়েই গ্রীষ্মের ছুটিতে বাংলাদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

    ঘটনার সব দিক এখন তদন্তাধীন। আদালতের নথি ও সাংবাদিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওঠা এই তথ্যগুলো মামলাটিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রমাণ-ভিত্তিক অনুসন্ধান চলমান এবং প্রয়োজনীয় হলফ-নথি, ফরেনসিক রিপোর্ট ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

  • পুতিন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন

    পুতিন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে পুতিন বলেন, ইরানি জনগণ এই ‘‘কঠিন সময়’’ অতিক্রম করবে এবং সেখানে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা রাখেন।

    বৈঠকে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে—বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর উত্তেজনা কমাতে এটি দেওয়া হয়েছে। এর আগে মস্কোও ওই হামলাগুলোকে নিন্দা জানিয়েছিল। শান্তি ফেরাতে উত্তেজনা প্রশমনের উপায় হিসেবেও রাশিয়া বারবার প্রস্তাব দিয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় গচ্ছিত রাখার কথা; তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

    রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত হলে পুতিন আরো বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এমন সবকিছুই করব যাতে আপনাদের এবং এই অঞ্চলের সকল মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে দ্রুততম সময়ে শান্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি জানান, গত সপ্তাহে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং আরাগচিকে অনুরোধ করেন সেটি প্রতি তার কাছে আন্তরিক ধন্যবাদ পৌঁছে দিতে। পুতিন বলেন, রাশিয়াও তেহরানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত রাখতে চায়।

    গত বছর ইরান রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাছাড়া রাশিয়া ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহরে দুটি নতুন ইউনিট নির্মাণে যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধযোগ্য ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করে ইরান রাশিয়াকে সহায়তা করেছে, যা অবশ্য ইউক্রেনে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, আরাগচি বৈঠকে পুতিনকে বলেছেন যে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন এবং মস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    সূত্র: রয়টার্স।