Blog

  • সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি

    এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার মানের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮,৩৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে দেশের বাজারে সোনার সর্বোচ্চ দাম পৌঁছেছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায়। এটি এই পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চতম সোনার দাম।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই নতুন মূল্য আগামীকাল, ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে স্বর্ণের দামে বাড়তি চাপ এসেছে।

    বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট অরগ এর সূত্রে জানা গেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮০০ ডলারের ও বেশি।

    নতুন দাম অনুযায়ী, বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ:
    – ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা,
    – ২১ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা,
    – ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা,
    – এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের এক ভরি ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    একই সময়ে, রুপার দামেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা।

  • ভোটের মাঠে উত্তাপ ও হিংসাযুদ্ধ: প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও সহিংসতা

    ভোটের মাঠে উত্তাপ ও হিংসাযুদ্ধ: প্রচারণায় বাড়ছে বিষোদগার ও সহিংসতা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিন থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান রাজনৈতিক উত্তাপে প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেশের শীর্ষ স্থানীয় ও জাতীয় নেতারা নির্বাচনি জনসভার মাধ্যমে একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছুঁড়েছেন। একই সঙ্গে, কেরানীগঞ্জে গোলাগুলি ও ঢাকায় এক প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান বিকেলে রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, “দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার অতি গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর ধরেই ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নানা পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটের যাবতীয় প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এবার জনতার সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।” এই স্মরণসভায় তিনি ভোটারদের সাথে সরাসরি কথা বলে এলাকার গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেন।

    উত্তরবঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ব্যস্ত সময় কাটান। তিনি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠের জনসভা শেষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমাবেশ করেন। দিনাজপুরে তিনি বিশেষ করে বিএনপি-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা চাঁদাবাজি করি না, কারও কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে বিচারও হবে না। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রভাবশালী হবে।” অন্যদিকে, খুলনায় দলের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানের বক্তব্যের বড় ধরনের সমালোচনা করেন।

    কেরানীগঞ্জে সহিংসতা ও মির্জা ফখরুলের প্রতিবাদ:
    গত রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের পাশে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে দলীয় সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে আহত করে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যা নির্বাচনি পরিস্থিতিকে অশান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্রের অংশ।

    নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী জনসভা:
    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বা চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। আমরা প্রথমে ৫ দল ও পরে ৮ দলের সমন্বয়ে পরিচালিত ইসলামী নীতির মাধ্যমে দেশটিকে আলাউ করতে চেয়েছিলাম। তবে কিছু স্বার্থপর দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে ও ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশ্বাসী, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবে না, বরং ধর্মের লেবেল দিয়ে চতুরতা করছে।” শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জন্য হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হত্যাচেষ্টা:
    ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সন্ধ্যায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণসংযোগে গেলে, কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ওপরে ডিম ও নোংরা পানি ছুঁড়ে। এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাসীরুদ্দীন তার কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

    চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি:
    নগরীর বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় গঠন করা সমাবেশে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণজোয়ারে ভয় পেয়ে কিছু বড় দল আতঙ্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমি ঘোষণা দিচ্ছি, নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের কঠোরভাবে প্রতিহত করব।”

    বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি:
    নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রচারণার সময় দলের নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে। বিএনপি-প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন সূত্রাপুর_LOCে এক সভায় হুশিয়ারি দেন, “বিএনপি চাইলে ঢাকায় জামায়াত-শিবিরের জনসমাগম নিষিদ্ধ করবে।” তিনি তাদের দমন-নিপীড়নের ওপর সরাসরি সতর্কতা জারি করেন।

    অন্যদিকে, খুলনায় জামায়াতের মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “লন্ডন থেকে এক ব্যক্তি মুফতি ডিগ্রি নিয়ে আসা একজনের নামে কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি। দীর্ঘদিন সঙ্গেই থাকায় ধৈর্য ধরে থেকেছি। এর উত্তরে তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসনের নাম উল্লেখ না করে, কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন—এটি অনেক বাড়াবাড়ির উদাহরণ।” কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যারা বাসায় গেলে, তাদের আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এটি এক ধরনের হয়রানি।

  • বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

    বিএনপি নেতাকে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ মির্জা ফখরুলের

    ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লাকে গুলির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র, যার উদ্দেশ্য জনগণের মনোভাবকে অস্থিতিশীল করে তুলে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর থেকে আওয়ামী স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পায়ে পা মুড়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশকে অস্থির করে তুলছে। তারা নানাভাবে অরাজকতা ও নাশকতা চালিয়ে সরকারের অস্থিরতা বাড়িয়েছ으며, এই সব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হাসান মোল্লার উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হবে। অন্যথায়, অপ্রতিরোধ্য অরাজকতা আরও বাড়তে পারে, যা দেশের জন্য হতাশাজনক।’

    ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, ‘তবে শুধু পুলিশের উপর নির্ভর করে চলা সম্ভব নয়; আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে, যেন গণতন্ত্রেরacal ভবিষ্যত রক্ষা এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশের সকল দল, মত ও পেশার মানুষ এক হয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হবে। গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনকে অবশ্যই এক নিরাপদ, ভয়শূন্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

    অভিযোগের বিন্দুতে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাকে সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লার (৪২) উপর গুলি চালানো হয়। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

  • নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

    নর্থ বেঙ্গলের উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যদি তারা সরকার গঠনে সক্ষম হন, তবে নর্থ বেঙ্গলের মরা নদীগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে। নদীগুলোর জীবনী ফিরে এলে নর্থ বেঙ্গলের মানুষও আবার জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরে পাবেন, ইনশাআল্লাহ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দশ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বল putihেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো নর্থ বেঙ্গলকে একটি কৃষিক্ষেত্রভিত্তিক আধুনিক রাজধানীতে রূপান্তর করা। এখানকার মানুষ সহজ জীবন আর কঠোর শ্রমের মাধ্যমে জীবিকার অন্নসংস্থানের জন্য সন্তুষ্ট থাকেন। তাদের এই পরিশ্রমের ন্যায্য স্বীকৃতি দেয়া হবে। গত ৫৪ বছরে বহু নদী ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্য নদীগুলোর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে হবে। নদী যদি জীবিত থাকে, তাহলে উত্তরবঙ্গের মানুষও প্রাণ ফিরে পাবে। তিনি আরও বলেন, চুরি করা টাকা ফেরত নিয়ে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের হাত বন্ধ করে দিলে উন্নয়ন সম্ভব হবে। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। আমাদের একমাত্র ভয় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। বাংলাদেশে কোনও আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না। তবে তবে সকল দেশের সভ্যতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে থাকতে চাই। কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না, আবার কারো খবরদারিতেও চাই না। চাঁদাবাজদের ভীতি না দেখানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাতা নয়, আমরা কাজ দেবো। আপনাদেরও কাজে লাগাবো। আমরা আপনাদের সম্পদে পরিণত করতে চাই। এই মাটিকে ভালোবাসি বলেও তিনি উল্লেখ করেন, শত জুলুমের পরও আমরা কোথাও না গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। আল্লাহর ইচ্ছায় আগামী দিনেও আপনাদের সঙ্গে চলতে চাই। মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, হ্যাঁ, ভোটের জোয়ার তুলতে হবে। এই জোয়ারে অতীতের দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতি ভেসে যাবে। শেষে গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য, এই আসনের সবকটিই জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা। অন্য কোনো দলের প্রার্থী নেই। প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই পাঁচজনকে আপনি আমানত হিসেবে রাখুন। এই আমানত আমরা আপনাদের কাছে উপহার হিসেবে চাচ্ছি।

  • মির্জা ফখরুলের ভাষণে জামায়াতের স্বাধীনতা বিরোধিতা ও নির্বাচনের আহ্বান

    মির্জা ফখরুলের ভাষণে জামায়াতের স্বাধীনতা বিরোধিতা ও নির্বাচনের আহ্বান

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। একাত্তরে তাদের কারণে দেশের জনগণ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল এবং তারা লুটপাটও চালিয়েছিল। আজ আবার তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোটের জন্য আসছে, তবে আমরা (বিএনপি) স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলি। আমরা যুদ্ধ করে এই দেশ মুক্ত করেছিলাম, কখনো অন্যের依র ওপর নির্ভর করিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আজও তাজা হয়ে ওঠে। আমরা নিজেদের রক্তে লালন করে এই স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে হুঁকুমত নিয়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলাম। কেউ বাহির থেকে এসে আমাদের জন্য যুদ্ধ করেনি। নিজস্ব সংগ্রামে নিজেদেরই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যারা তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আজ তারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ভোট চাচ্ছে। আপনাদের বিচার করতে হবে—they স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, নাকি বিপক্ষে।’

    অন্য এক বক্তব্যে তিনি জানান, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ড মা-বোনদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি হাতিয়ার যেখানে তারা পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য সরাসরি উপকৃত হবেন।’

    এছাড়াও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর কথা জানান মির্জা ফখরুল। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নতিতে স্বাস্থ্যকার্ড কার্যকর ভূমিকা রাখবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

    আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আপনাদের ধানের শীষে ভোট চাই। আপনারা যখন আমাকে সমর্থন করেন, তখন আমি সংসদে বসে জনগণের জন্য কথা বলার চেষ্টা করি।’

    পথসভায় উপস্থিত অনেক ভোটার মঞ্চে উঠে বিগত সময়ে সংসদ সদস্য হিসেবে মির্জা ফখরুলের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন। তারা কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    নির্বাচিত হলে গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • মাহদী আমিনের দাবি: ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অপপ্রচার কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর

    মাহদী আমিনের দাবি: ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অপপ্রচার কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর

    বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, ভারত ও বিএনপির মধ্যে চুক্তি নিয়ে প্রচার চালানো সম্পূর্ণ অর্বাচীনতা এবং অপপ্রচার। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালকে গুলশানে বরাবরের মতন তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    মাহদী আমিন ব্যাখ্যা করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে যে দাবি করা হচ্ছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নানা দল ও নেতাদের মাঝে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। এই দাবির পক্ষে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব নয়, কারণ সেটি সত্যের সঙ্গে মিল নেই।

    তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দোষারোপ আর বিতর্ক সৃষ্টি করা। যদি কেউ এই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ায় বা ভুল তথ্য বিতরণ করে, তবে সেটি উনার অজ্ঞতা বা ষড়যন্ত্রের ফল। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপি এখনও কোনও চুক্তি বা সমঝোতা করেনি, যা দেশবিরোধী বা অপ্রয়োজনীয় অপপ্রচারের অংশ।

    মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, বিএনপির রাজনীতি মূলত বাংলাদেশের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের লক্ষ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করা।

    ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কেউ যদি এই নামে টাকা দাবি করে, তবে সেটি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং প্রতারকদের অপচেষ্টা। তিনি জানান, বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নারী ও কৃষকের ক্ষমতায়নের জন্য এই কার্ডগুলো উপকারভোগীদের জন্য বিনামূল্যে বিতরণ হবে। যদি কখনো কেউ অপপ্রয়োগের মাধ্যমে এ কর্মকাণ্ডে কর্পূর ছড়ানোর চেষ্টা করে, তবে জনগন তা অবশ্যই জানবেন।

    এর পাশাপাশি, আগামী পর্যায়ের রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারেক রহমান আজ রাতেই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন জানিয়ে দেন দলীয় কর্মকর্তা। তিনি বললেন, সারাদিনের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী, যুবকদের উদ্দেশ্যে মতবিনিময়, সাংগঠনিক আলোচনা, নির্বাচন সমাবেশ ও জনসংযোগ। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সভা দিয়ে এরপর ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানেও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা ও সভা করবেন। সফর শেষে রাতেই তিনি গুলশানে ফিরে আসবেন।

    মোট মিলিয়ে, এই সফর বিএনপির তরুণ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন, যারা দলের দুর্বলতা আর অগ্রসরতার জন্য নিবেদিত। এই সফরের মাধ্যমে বিএনপি আবারো তাদের জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যত রাজনীতির গতি পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে।

  • মসজিদের নামে যানবাহন ও রাস্তায় চাঁদা তোলা যাবে না

    মসজিদের নামে যানবাহন ও রাস্তায় চাঁদা তোলা যাবে না

    জনগণের স্বেচ্ছাসেবায় দান, অনুদান, সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থাগুলোর আর্থিক সহায়তায় মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা সম্ভব। তবে, মসজিদের নামে যানবাহন বা রাস্তায় চাঁদা আদায় বা উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্ত সহ অন্তর্বতী সরকার গত ২১ জানুয়ারি ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫’ জারি করেছে। এর পাশাপাশি বিধিমালায় বলা হয়েছে, অবৈধ স্থানে মসজিদ নির্মাণ হলে তা উচ্ছেদ করা হবে, এবং যারা অবৈধভাবে নির্মাণ করবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি অষ্টম জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের মধ্যে এক জরুরি নোটিশের প্রেক্ষিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে দেশের মসজিদ ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়। গেজেটের মাধ্যমে ২১ জানুয়ারি এটি প্রকাশিত হয়।নীতিমালার মধ্যে বলা হয়েছে, ‘শরিয়াহ্ সম্মত স্থান’ এবং ওয়াকফ, দান, ক্রয়কৃত বা আইনসিদ্ধ জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। এই নিয়ম লঙ্ঘিত হলে, নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদ করতে পারবে। এছাড়া, শরিয়াহ্-সম্মত স্থান বা ওয়াকফ, দান বা কেনাকৃত সম্পত্তি ছাড়া অন্যান্য স্থানে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি নেই।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ স্থানে নির্মিত মসজিদগুলো উচ্ছেদের জন্য সরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, নারীদের জন্য আলাদা সালাতের স্থান থাকাও অনুমোদিত, যেখানে নারীরা স্থান করে সালাত আদায় করতে পারবেন।প্রতিষ্ঠান বা মসজিদ পরিচালনা কমিটি তিন বছর মেয়াদে নির্বাচন হবে, তবে প্রয়োজনে এক বছর বেশি করা যেতে পারে। এই কমিটিতে নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে মুসল্লিদের ভোটে নির্বাচিত ব্যক্তিদের।মসজিদে কর্মরত ইমাম-খতিবরা বিভিন্ন ধরনের বেতন-ভাতা পাবেন ধরন ও গ্রেড অনুযায়ী, যা সরকার নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেলের ভিত্তিতে। এছাড়া, আর্থিকভাবে দুর্বল বা পাঞ্জেগানা মসজিদগুলো তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেতে পারেন।তবে অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন। তিনি জানান, অবৈধভাবে নির্মিত মসজিদ উচ্ছেদের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করে নিতে হবে, যেন সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও সমস্যা না সৃষ্টি হয়।কর্মকর্তারা মনে করেন, অবৈধ জায়গায় মসজিদ নির্মাণ বন্ধ করে সামাজিক শান্তি ও নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা জরুরি, যা এই নীতিমালার মূল অঙ্গীকার।

  • পুলিশের সদর দপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা

    পুলিশের সদর দপ্তর থেকে কঠোর নির্দেশনা

    পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সম্প্রতি একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যেখানে ইউনিট প্রধানদের ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলার adherence নিবার্চনোত্তর সময়ে আরও কঠোরভাবে পালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনও ইউনিট প্রধান অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করলে তা শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে। যা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও পুলিশি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষের একান্ত প্রয়োজন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি নজরে এসেছে যে কিছু ইউনিট প্রধান অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এ কারণেই একে শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে, ছুটি বা অন্য কোনও কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করার আগে আইজিপির অনুমতি নেওয়া একান্ত বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনার, র‌্যাব মহাপরিচালক, পুলিশ সদর দপ্তর, সব রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এবং দেশের অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পুলিশের শৃঙ্খলা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যদি কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থল ত্যাগ করে, তাহলে তা শৃঙ্খলাভঙ্গের দোষে গণ্য হবে। আশা করা যাচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে, যেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সচল রাখতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এজন্য নির্বাচনের আগে পর্যন্ত পুলিশের সব ইউনিট প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন নির্বাচন আলাদা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।

  • কারওয়ান বাজারে আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে মুছাব্বির হত্যাকা-

    কারওয়ান বাজারে আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দ্বন্দ্বে মুছাব্বির হত্যাকা-

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কারওয়ান বাজারের এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    শফিকুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় বিভিন্ন গ্রুপ প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদার দাবি জানিয়ে থাকে। এদের মধ্যে আট থেকে নয়টি সিন্ডিকেট সক্রিয়, যারা চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে, দিলীপ ওরফে বিনাশ নামে এক চাঁদাবাজ এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশের ধারণা, এই সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য তারা অভিযান চালাতে যাচ্ছে।

    প্রাথমিক তদন্তের পর জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুছাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী তেজগাঁও থানায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

    এছাড়া, গত ২৩ জানুয়ারি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মনোহরদী থানার শাহজাহান খলিফার ভাড়া বাড়ি থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন এবং ১২ রাউন্ড গুলিসহ, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অন্যতম শ্যুটার মো. রহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মাধবদী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কারওয়ান বাজারের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দখলবাজি ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। শফিকুল ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলে বিভিন্ন নামে ৮-৯টি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ডিবি কাজ করছে এবং শিগগিরই অভিযান চলবে।

    ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম, বিনাস, যারা দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকছেন, চাঁদা তোলার জন্য এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা সবাই চাঁদাবাজ হিসেবেই পরিচিত এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ধৃতরা ভাড়াটে খুনি এবং কারওয়ান বাজারের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রহিম ও জিন্নাত দ্রুত দৌড়াচ্ছে এবং গুলি চালাচ্ছে।

    বিনাসের সম্পর্কে জানতে চাইলে, শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি এক অন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী, দেশের বাইরে থাকেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, সামনে নির্বাচন, এবং দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য অনেকেই সক্রিয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এ মাসে প্রায় ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    অগ্রবর্তী তথ্য অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি নিহতের ঘটনায় জড়িত চারজন—জিন্নাৎ, আবদুল কাদির, মো. রিয়াজ ও মো. বিলালকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর গতকাল নরসিংদী থেকে আরও একজন শুটার রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন শফিকুল ইসলাম।

    অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সবাই চাঁদাবাজি এবং দখলবাজির জন্য পরিচিত এবং কোনো রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। চাঁদাবাজির জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানার ও ছদ্মনাম ব্যবহার করে থাকেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন চলছে তীব্র অভিযান, অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, ৮২ জন নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, ৮২ জন নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বানদুং অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এই মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৮২ জন।স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই घटनাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোররাত ২টার দিকে পাসিরলাঙ্গু গ্রামে। স্থানীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, তাই উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণের কারণে পাসিরলাঙ্গুসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে ধসের শিকার এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ও নিহতের সংখ্যা নিরূপণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে মানুষকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ আরও প্রানহানির আশঙ্কা রয়েছে।এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ হেক্টর (প্রায় ৭৪ একর)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, কম্পাস সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে যে, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ খুবই ব্যাপক। এর পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী এক সপ্তাহ জোড়া ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।