Blog

  • থাইল্যান্ডে চিড়িয়াখানায় ৭২টি বাঘের মৃত্যু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়

    থাইল্যান্ডে চিড়িয়াখানায় ৭২টি বাঘের মৃত্যু, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়

    প্রাণঘাতী ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় এক বেসরকারি চিড়িয়াখানায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৭২টি বাঘট মারা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় চিয়াং মাই প্রদেশের প্রাণিসম্পদ দপ্তর, যা শনিবার এক বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে। খবর দ্যা গার্ডিয়ান।

    চিয়াং মাইয়ের প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ দপ্তর বলেছে, চিকিৎসা ও পরীক্ষায় ভাইরাসের মধ্যে সবচেয়ে সংক্রামক ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রে প্রভাব ফেলা একটি ব্যাকটেরিয়াও দেখা গেছে।

    জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতানামুংকলানন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বাঘগুলো অসুস্থ হলে সহজে শনাক্ত করা যায় যেমনটি কুকুর বা বিড়ালে হয়, কিন্তু বাঘের ক্ষেত্রে তা এতটা সহজ নয়। যখন বুঝতে পারা যায় যে তারা অসুস্থ, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

    মৃত্যুতে আক্রান্ত চিড়িয়াখানার নাম হলো ‘টাইগার কিংডম’। এজন্য জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য শনিবার যোগাযোগ করা হলেও, তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

    তাদের ওয়েবসাইটে দর্শনার্থীদের জন্য বড় আকারের বাঘের সঙ্গে ছবি তোলার ও স্পর্শ করার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।

    প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা এশিয়া জানিয়েছে, এই বাঘগুলো দুর্দশা, বন্দিত্ব ও ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যে জীবনযাপন করলেও নিজের চরিত্রে তারা অল্প সময়ে মারা গেছে। এটি স্পষ্ট করে দেয়, প্রাকৃতিক পরিবেশের বাইরে এমন পরিস্থিতিতে বাঘগুলোর জীবন কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

  • আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ১৭

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ১৭

    আফগানিস্তানের সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা আরও জোরদার করে পরিস্থিতি। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ঘটেছে এই হামলা। পাশাপাশি অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। তালেবান সরকার এই হামলার কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তারা উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পাকিস্তানি সেনারা আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে এ lourd আঘাত চালিয়েছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা চালানো হয়। এই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিদের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

    আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিরোধী। তারা আরও জানায়, নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে ধর্মীয় স্কুল এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে এই হামলা হয়েছে, যাতে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

    এক সূত্রের বরাতে আল জাজিরাকে জানানো হয়, আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আফগান পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলা জাতীয় সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে পরিচালিত।

    পাকিস্তান এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আইন ও সৌহার্দ্যজনক সম্পর্কের বিরুদ্ধে এবং আফগানিস্তানকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে তারা বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, কাবুলের পক্ষ থেকে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছে।

    বিস্তারিত বলছে, কিছু ঘণ্টা আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। পাকিস্তানের মন্তব্য অনুযায়ী, এই সব হামলার পেছনে রয়েছে আফগানিস্তানভিত্তিক সংগঠনগুলি, যারা বলে, পাকিস্তানের সীমানার ওপারে থাকা গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এ ব্যাপারে তালেবান সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

  • ইরানে আবার শুরু হয়েছে জেন-জি বিক্ষোভ

    ইরানে আবার শুরু হয়েছে জেন-জি বিক্ষোভ

    ইরানে আবারও জেন-জি বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যদিও এই সময় দেশে পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিন ধরে চলে চলমান এই বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল। সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আরও জোরদার হয়ে উঠছে।

    একটি প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, দীর্ঘ ডিসেম্বর-জানুয়ারি বিক্ষোভের চাপে নিহত মানুষের স্মরণে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি নিয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করে তরুণ প্রজন্মের অংশ। সেই আন্দোলনের পাল্টায় সরকারও পক্ষ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পতাকা হাতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন এবং রাজতন্ত্র ফেরানোর দাবিও উপস্থিত করছে।

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের মুদ্রা ইরানি রিয়াল এখন বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রা। অর্থনৈতিক চাপের কারণে জীবনে দুর্দশা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষে ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা আন্দোলনে নামে। কিন্তু ঈর্ষাকরভাবে, এই আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী প্রবণতায় পরিণত হয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আন্দোলনে সমর্থন জানান এবং ইরানে সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দেন। তবে দ্রুত তিনি নজর দেন- ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন হুমকি দিতে। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ব্যাপারে আলোচনা শুরু হলেও, এর মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

    ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভকে কঠোর দমন করে চলে ইরানের সরকার। সরকারি সূত্র বলছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছে প্রায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ। অন্য একটি মানবাধিকার সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা এই চেয়ে অনেক বেশি। তবে, বিভিন্ন সূত্রের নিজেদের মতে, ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • নেপালে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে নিহত ১৮

    নেপালে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে নিহত ১৮

    নেপালে ভয়াবহ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধাডিং জেলার পোখারা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা করা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ত্রিশুলি নদীতে ডুবে যায়। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৬ জন। নিহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের দুই পর্যটকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী, সোমবার ভোরে (২৩ ফেব্রুয়ারি) এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধাডিং জেলার বেনিঘাট রোরাং পৌরসভা এলাকার ভৈসেপাটি এলাকার কাছ দিয়ে পার হচ্ছিলো। তখন সে প্রতিপক্ষের আনুমানিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চিনাধারা এলাকার কাছ দিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার নিচে ত্রিশুলি নদীর তীরে পড়ে যায়। ফলে বাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ধাডিং জেলা ট্রাফিক পুলিশের প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, मृतকের সংখ্যা বর্তমানে ১৮ জনে পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। হাইওয়ে রেসকিউ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান রাজকুমার থাকুরি দাবি করেছেন, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসটিতে মোট ৪৪ জন যাত্রী সান্ত্বনা পেয়েছিলেন, তবে দুর্ঘটনায় নিহতের পাশাপাশি অনেকেই আহত হয়েছেন।

    বাসে থাকা দুইজন নিউজিল্যান্ডের পর্যটক—একজন নারী ও একজন পুরুষ—ও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সেনা, আর্মড পুলিশ ফোর্স এবং নেপাল পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। স্থানীয় মানুষও এতে অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, অন্ধকার পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীর অভাবে উদ্ধার কাজের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।

    জেলা প্রশাসকের হিসেবে সুবেদি জানান, রাতের অন্ধকারে টর্চলাইটের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে ত্রাণের অভাব থাকায় উদ্ধার কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভয়াবह দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

  • ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ

    ইরানে অবস্থানরত ভারতীয়দের দ্রুত সরে যাওয়ার পরামর্শ

    ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় দেশটিতে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দপ্তর। ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সবাইকে নিশ্চিত করতে বলেছে যে, ইরানে থাকা ভারতের নাগরিকরা যেন দ্রুত তাদের বর্তমান অবস্থান ত্যাগ করেন। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা অন্য যে কোনও উপলভ্য পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ছাড়তে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটি বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটকসহ সব ধরনের নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য।

    দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের পর থেকে এই পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সব ভারতীয় ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ বা প্রতিবাদমূলক এলাকার থেকে দূরে থাকাকরণে, ইরানের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার, এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, ভারতীয় নাগরিকদের পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত অন্যান্য নথিপত্র সবার কাছে হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তার জন্য ভারতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।

    দূতাবাস বিভিন্ন যোগাযোগ নম্বর ও ইমেইল আইডি প্রকাশ করেছে, যাতে সহজে সাহায্য বা পরামর্শ গ্রহণ করা যায়: +৯৮৯১২৮১০৯১১৫, +৯৮৯১২৮১০৯১১০৯, +৯৮৯১২৮১০৯১১০২; ইমেইল: [email protected]। তারা আরও জানিয়েছে, ইরানে থাকা প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিক যেন তাদের প্রশাসনিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

    এই সতর্কতা ও নির্দেশনা আমাদের দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সবাইকে যথাযথভাবে নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, বাবাসহ চারজন নিহত

    নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, বাবাসহ চারজন নিহত

    নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় কমপক্ষে ছয় থেকে সাতজন আহত হন। ঘটনা ঘটে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে पांचটার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া।

    নিহতরা হলেন— বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল ও তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ ও খলিল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের জন্য দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ شروع হয়। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত অন্য পক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনার স্থান বরাবর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

    নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার ঘিরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

    নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিক্ষোভের জের ধরে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ মোট পাঁচজন নিহত ও অন্তত সাত থেকে আটজন আহত হন। ঘটনাস্থলটি ছিল সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রাম, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল।

    নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতরা হলেন, উজ্জ্বল শেখ গ্রুপের রহমান খলিল ও তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ, পাশাপাশি সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যার পক্ষের ওসিবুর মিয়া।

    সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে চলছিল বিরোধ। এরই জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে উজ্জ্বল শেখের দলের রহম্ন খলিল, তাহাজ্জুদ হোসেন ও ফেরদৌস হুসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন। গুরুতর আহত সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্যার ওসিবুর মিয়াকেও উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুপুরের দিকে আহত মুন্না শেখ মৃত্যু বরণ করেন।

    অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করে পরিস্থিতি রব—তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা চেষ্টা চলছে।

  • খুলনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শিশুশিক্ষকদের শাহব

    খুলনায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শিশুশিক্ষকদের শাহব

    আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা পিটিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনসহ পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষিকার ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা। মূল আলোচনায় উঠে আসে সমাজকে সুস্থ ও সত্ম উন্নত করতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগের কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম। এ আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর উপস্থিত ছিল।

    প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন, মাদকাসক্তি একটি সমাজে মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে বিকাশ লাভ করছে। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে এর প্রভাব বাড়ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, সুস্থ, উন্নত জাতি গঠনের জন্য আমাদের মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে। এটা সম্ভব সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে। পরিবার থেকেই মানুষের মধ্যে শিক্ষার চর্চা শুরু হয়, যেখানে শেখানো হয় সঠিক মূল্যবোধ এবং আচরণ। শিক্ষকরাই আসল গাইড, যারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন।

    অতিরিক্তভাবে তিনি বলেছিলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমরা বিশ্বকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সচেতন না থাকায় নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। তাই পরিবেশ রক্ষা ও মাদকদ্রব্যের মতো ভয়ঙ্কর সমস্যার সমাধানে সচেতন হতে হবে। একজন শিক্ষিত ব্যক্তির জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

    অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিরা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিভাইসের কারণে মাদকের মতো ভয়াবহ সমস্যা ভয়ানক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে এই ডিভাইসগুলোর প্রতি, যার ফলে তাদের মনোভাব ও স্বভাব বিকৃত হচ্ছে।

    খুলনা পিটিআই এর সুপারিনটেডেন্ট মোহা: তোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসকে ইফতেখার মোহাম্মদ উমায়েন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: হারুন অর রশীদ, বিএল কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাড. শেখ জাকিরুল ইসলাম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো: রকিবুজ্জামান। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিটিআই এর সহকারী সুপারিনটেডেন্ট আব্দুল আল মামুন খান।

    অতিথির মধ্যে জায়গা করে নেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি রুমা মন্ডল। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাড. শেখ অলিউল ইসলাম। এ আলোচনা সভা মূলত সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

  • কালীগঞ্জে পরিচিতি সভায় মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এমপির যুদ্ধ ঘোষণা

    কালীগঞ্জে পরিচিতি সভায় মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এমপির যুদ্ধ ঘোষণা

    ঝিনাইদহ-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব আজ কালীগঞ্জে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে, মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেই তাঁর মূল যুদ্ধ চলবে। তিনি বলেন, এলাকায় অপরাধ দমনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন এবং কোনো অপশক্তিকে তিনি ছাড় দেবেন না।

    সোমবার সকাল ১১টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তর ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। শুরুতেই উপজেলা ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ফুলের শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজোয়ানা নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জেল্লাল হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

    বক্তব্যে এমপি আবু তালিব জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হিসেবে তাঁর মূল অঙ্গীকার হল আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। তিনি মাদক, চাঁদাবাজি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। এ জন্য তিনি প্রশাসনের সকল পর্যায়ের অফিসার ও কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূমি ব্যবস্থাপনা, সেবা প্রদান, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সভার সমাপ্তিতে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • আলমডাঙ্গায় ঘরের আড়ায় ঝুলতে দেখা গেল যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ

    আলমডাঙ্গায় ঘরের আড়ায় ঝুলতে দেখা গেল যুবকের অর্ধগলিত মৃতদেহ

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ বাড়ির ঘরের আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনা ঘটে আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার আসাননগর গ্রামে। মৃত যুবকের নাম সুজন আলী (৩৮), তিনি ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি। তিন সন্তানের জনক সুজন আলীর স্ত্রী পারিবারিক কলহের কারণে নির্বাচনপূর্ণ সময়ের আগে সন্তানদের নিয়ে তার বাবা-মা’দের বাড়ি চলে যান। এরপর থেকে তিনি একাই থাকতেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল জানিয়েছেন, সোমবার সকালে বড় ছেলে লিমন তার বাবার খোঁজ করতে বাড়িতে যায়। বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকায় সে ভেতরে যাওয়ার জন্য প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করে। দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে দেখেন, তার বাবাকে আড়ার সঙ্গে ঝুলতে। চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ওসি আরো জানান, মরদেহ কিছুটা গলাগলে ছিল, ধারণা করা হচ্ছে তিনি কয়েক দিন আগে গলায় ফাঁস দেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তে প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে।