Blog

  • নৌ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে: নৌমন্ত্রী

    নৌ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে: নৌমন্ত্রী

    সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে নৌ ও নৌযান ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সব দপ্তর ও সংস্থা থাকলেও অসঙ্গতিসম্পন্ন সমন্বয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা যাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, নৌমন্ত্রীত্বের অধীনে প্রায় ১৬টি সংস্থা রয়েছে, যেখানে একটি মাত্র যাত্রী সেবার জন্য এতগুলো সংস্থা কাজ করছে, যা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে দেখা যায় না। তবুও, ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ এবং অপূর্ণতার বিষয় রয়ে গেছে। শুক্রবার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’ আয়োজনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    নৌমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমিক, নাবিক, মালিক, এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে এইসব সমস্যা দূর করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সুরক্ষা দেয়, শ্রমিকেরা দেশের অর্থনৈতিক গতি চালিয়ে যান। শ্রমিকরা আল্লাহর দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ উপহার; তাদের মত শক্তি ব্যতীত কোনো জাতি সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। দেশের অর্থনীতি এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমের উপর নির্ভরশীল। গার্মেন্ট শ্রমিক, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও শ্রমিকরা নিবেদিতভাবে কাজ করে চলেছেন।

    নৌপথকে বাংলাদেশের এক অপার সৌন্দর্য ও সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যা সত্যিই এক ধরনের বড় উপহার। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারিনি। বর্তমানে আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রয়েছে, এবং আরও এক হাজার দুইশ কিলোমিটারে ড্রেজিং কাজ চলমান। এই পরিমাণে আরও চার হাজার পাঁচশ কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে।

    বলেন, দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে আমরা ২৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের মহাসড়ক তৈরি করতে পেরেছি, অথচ প্রকৃতপক্ষে আমাদের রয়েছে বিস্তীর্ণ নৌপথ যা দেশের জন্য এক বিরাট অফার। যদি এই সম্পদকে রাষ্ট্রবান্ধবভাবে ব্যবহার করা যেত, তবে এটি দেশের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হিসেবেই পরিচিত হতো।

    নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মাসে যেমন আত্মশুদ্ধির জন্য কার্যক্রম নেওয়া হয়, তেমনি এ ধরনের সপ্তাহ উদযাপন সাধারণ মানুষের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা দেয়। কর্মক্ষেত্রের চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক সময় মানুষ দায়িত্বহীন হয়ে পড়ে। এই আয়োজন সেই সমস্যা কাটিয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

    নৌমন্ত্রী আরো বলেন, নিরাপদ নৌযাত্রা দীর্ঘদিনের দাবি, যদিও পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে, তবে সরকার এই ব্যবস্থাকে শতভাগ নিরাপদ করার জন্য স্বপ্রণোদিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই,如果 সবাই দায়িত্বশীল হলে এবং সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা গেলে, দেশের নৌখাতের চেহারা দ্রুত বদলে যাবে।

    সদরঘাটে ঈদযাত্রার ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি জানান, আগের চেয়ে এবার পরিস্থিতি অনেক উন্নত হলেও, আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এই উন্নয়নে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

    এছাড়া, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন নিরাপদ নৌযাত্রার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। গত ঈদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে এবার আরও সতর্ক হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নৌমন্ত্রী।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, এবং চীফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।

  • পাঁচ দিনের দুর্যোগের পূর্বাভাস: ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা

    পাঁচ দিনের দুর্যোগের পূর্বাভাস: ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, জানিয়েছে অগ্রাধিকাররত আবহাওয়া অফিস। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী পাঁচ দিনের জন্য এই পূর্বাভাসে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসময় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপের বর্ধিতাংশ অবস্থান করছে। পাশাপাশি, ১১ মে’র মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার (১০ মে) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, সঙ্গে বজ্রনিঃসরণ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় দেশের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই বিভাগের কিছু জায়গায় আবারো অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুতের ঝকমকি এবং বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে।

    সোমবার, ১১ মে, সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী এক দিনের সময়ের মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু অঞ্চল আবারো ঝড়ো হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং বিদ্যুতের ঝকঝকে আলোচনার শঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর। অন্যত্র আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে, তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার, ১২ মে, সন্ধ্যা থেকেই কিছু কিছু জায়গায় আবারো ঝড়ো বা দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। রংপুর এবং রাজশাহীর কিছু এলাকা, পাশাপাশি ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেটের কিছু অংশে এই ঝড়ের প্রবণতা বেশি। অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। দিনও রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতে কিছুটা বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বুধবার, ১৩ মে, একই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও অন্যান্য বিভাগগুলোতে হালকা ঝড় বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক তাপমাত্রা সামান্য কমিয়ে দিতে পারে।

    অবশেষে, পূর্বাভাসে বিশ্লেষণ করে বলা হচ্ছে যে, দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, যা সাম্প্রতিক কালের আবহাওয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি মানুষের জীবন-জাত্রা ও কৃষি কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে নিহত নাহিদা ‘বৃষ্টি’ দাদা-দাদির কবরের পাশে সমাহিত

    যুক্তরাষ্ট্রে নিহত নাহিদা ‘বৃষ্টি’ দাদা-দাদির কবরের পাশে সমাহিত

    যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৬) শনিবার (৯ মে) বিকেলে নিজ গ্রামের দাদা-দাদির কবরের পাশে সমাহিত হন। গোবিন্দপুর উত্তর কান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলও হয়েছে।

    জানাজার সময় মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন। শোকস্তব্ধ এলাকায় শুভেচ্ছা ও আহাজারি মিশিয়ে আবেগঘন মুহূর্ত সৃষ্টি হয়।

    দুপুর আড়াইটায় (প্রায় ১টা ১৫ মিনিট) মরদেহবাহী ফ্রিজিং ভ্যানটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বিদায় জানাতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষজবন দেখতে ভিড় করেন। গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা জানান, উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বৃষ্টি; তার অকাল মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

    বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছেছিল সকাল ৯টা ১০ মিনিটে—এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে কফিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর মা-বাবা, মামাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

    শিক্ষাজীবনে নাহিদা উজ্জ্বল ছিলেন। ঢাকার নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি-তে জিপিএ-৫ এবং শাহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি-তেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন।

    স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণ বৃত্তিতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি-র সুযোগ পান; ২৫ আগস্ট ২০২৫-এ তিনি যুক্তরাষ্ট্র যান। তবে ১৭ এপ্রিল নাহিদা ও তাঁর সহশিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। লিমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।

    নিখোঁজ হওয়ার পর তদন্তে বৃষ্টি ও লিমনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামিলের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।

    পারিবারিক ও সমাজিক সকল স্তরেই নাহিদার আচমকা প্রয়াণকে কেন্দ্র করে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁর স্মৃতিতে গ্রামের মানুষ ও সহপাঠীরা বিভিন্নভাবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন।

  • পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত: ১০৯ প্রাথমিক মনোনীত যাচাই-বিচারে

    পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত: ১০৯ প্রাথমিক মনোনীত যাচাই-বিচারে

    পুলিশ সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। চলতি বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০৯ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে প্রাথমিকভাবে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদকের তালিকায় কয়েকজন বিতর্কিত নাম থাকায় এবং বিশেষত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তার নাম উঠে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলের নজরে আসার পর সরকারি অর্ডার (জিও) জারি করা হয়নি এবং তাই কোনো প্রজ্ঞাপনও প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি ও পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, এ বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করে পুনর্বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    শনিবার রাতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের এক ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা বলেন, ‘‘রোববার পদক বিতরণ করা হচ্ছে না। পুরো প্রক্রিয়াটিই এখন যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যেই রয়েছে। যারা মনোনীত হয়েছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন, আবার নতুন করে কেউ যুক্তও হতে পারেন।’’

    পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মহলে এ সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তালিকা ঘোষণার পর থেকে কিছু পর্যায়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিভাগের ভিতরে তীব্র আলোচনা আছে।

    সাধারণত সাহসিকতা, কর্মদক্ষতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ পদক দেয়া হয়। এই সম্মানজনক পদকটি পাওয়া চৌকস ও নিবেদিত পুলিশ সদস্যদের জন্য মর্যাদার ব্যাপার। তবে এবারের মনোনীত তালিকা প্রকাশের পর মাঠ পর্যায়ের কিছু সদস্য অভিযোগ করেছেন যে রাজনৈতিক যোগ্যতা ও তদবিদের কারণে অনেকে পদকের জন্য বিবেচিত হয়েছেন। ফলে প্রত্যক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সক্রিয় থাকা অনেক মাঠকর্মীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কারণ অনেকে পদক পায়নি।

    পুলিশ সূত্র বলছে, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ হলে পুনরায় তালিকা প্রণয়ন করে পদক প্রদান করা হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং চূড়ান্ত ঘোষণার জন্য আরও সময় লাগতে পারে।

  • জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার টালবাহানা করছে।’ শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এই অভিযোগ জানান।

    নাহিদ ইসলাম বলার সময় জোর দিয়ে বলেন, সাংবিধানিক সংস্কার হলে তা হবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে। তাই তিনি দ্রুত গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান।

    বিএনপির নীতি-অভিনয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তির ছুড়েই তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও ক্ষমতায় এসে তারা তা প্রত্যাখ্যান করছে—যাতে মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হচ্ছে।

    আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভিতরে ও বাইরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও চলবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে যেতে হবে।

  • যেখানে মন্ত্রী নেই, সেখানে উন্নয়ন হবে না? — গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    যেখানে মন্ত্রী নেই, সেখানে উন্নয়ন হবে না? — গোলাম পরওয়ারের প্রশ্ন

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় না হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কীভাবে উন্নয়ন হবে। তিনি ওই মন্তব্য করেন শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকায় নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যমুক্ত করতে সরকারের উচিত জাতীয়ভাবে জরিপ করা—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব পালন করা জরুরি।’

    তিনি জুন/জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ স্মরণ করে বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এলেও আবারও বৈষম্যের সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে তারা ন্যায়ের বদলে অন্যায় করছেন। উন্নয়নে সমতা রক্ষা হচ্ছে না; আমরা যে বৈষম্যহীনতার জন্য লড়েছি, সেই আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটা শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    রেল যোগাযোগের বর্তমান বেহাল দশার দায় তিনি দুর্নীতিকেই দিয়েছেন। ‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ যখন আধুনিকীকরণ ও সাফল্যের শিখরে উঠছে, তখন বাংলাদেশে রেলখাত পিছিয়ে পড়ছে। এত বড় যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে আমরা এখনও আধুনিকায়ন করতে পারিনি’—গোলাম পরওয়ার জানান।

    আগামী বাজেটে প্লেস্কেল সংশোধন, রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মানা ও আধুনিক রেলপথ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেস্ক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল আধিপত্যকে আমরা মেনে নেব না। দেশকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’

    ট্রেড ইউনিয়ন প্রায় সংকুচিত করে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করারও তীব্র সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিক ও গণতন্ত্রের কথা বলে, মেহনতি মানুষের কষ্টের কথা বলে; কিন্তু বাস্তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সীমিত করা হয়েছে। এক কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না—এটা ঠিক হয়নি।’

    তিনি দাবি করেন, বৃহত কারখানায় আরও বেশি ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত। সংগঠনের সংখ্যা বেশি থাকলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিসহ মালিকদের সঙ্গে আলোচনাও সহজ হবে এবং দাবি আদায় করা সম্ভব হবে।

  • পুনরায় বাড়ল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা

    পুনরায় বাড়ল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা

    টানা দ্বিতীয় দফায় দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকায় — যা আগেরদিনের ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকার থেকে ২ হাজার ২১৬ টাকা বেশি।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সংগঠনের নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য মানের সোনার ভরিসমূহ হলো: ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লক্ষ ২ হাজার ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ২২ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার পেছনে আন্তর্জাতিক বৈরিতার ঘটনাবলি বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণের দর বাড়তে থাকে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে পাওয়া তথ্যে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলার। উল্লেখ্য, এই বছরের জানুয়ারিতে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ২৯ জানুয়ারি ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫৫০ ডলার এবং ৩০ জানুয়ারি প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলারও উঠেছিল।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার বিলকুল চড়্চড়ে বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে স্থানীয় বাজারে; ২৯ জানুয়ারি বাজুস একবারে প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম রেকর্ডভাবে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠিয়েছিল — যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ও এক ধাক্কায় এত বড় বৃদ্ধি ছিল অনন্য।

    বাজারের এই ওঠানামা গ্রাহক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা ও স্থানীয় দাম সমন্বয়ের পরিবেশ ভবিষ্যতেও দাম ওঠানামা করাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • সোনার দাম কমলো, এক ভরিতে কত?

    সোনার দাম কমলো, এক ভরিতে কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এক ওপর সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমিয়ে ২২ ক্যারেট মানের সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২,৪০,৩৩৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুস মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তনের কথা জানায় এবং নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়। সংবাদ প্রকাশের আগের দিন সোমবার (৪ মে) ২২ ক্যারেটের এক ভরির মূল্য ছিল ২,৪২,৪৯৫ টাকা।

    সংগঠনটি জানিয়েছে যে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দাম কমায় স্থানীয় বাজারে দরও কমিয়ে আনতে হয়েছে। বেঁধে দেওয়া নতুন দামের তথ্য অনুযায়ী: ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২,৪০,৩৩৭ টাকা, ২১ ক্যারেট ২,২৯,৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১,৯৬,৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১,৬০,১৪৭ টাকায় রাখা হয়েছে।

    অপরদিকে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫,৪৮২ টাকা; ২১ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা; ১৮ ক্যারেট ৪,৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩,৩৮৩ টাকা।

    আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাতের ফলে আগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়তে দেখেছিল। পরে দাম কমবাড়ি করে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে—এই তথ্য জানিয়েছে গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি। সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এর আগে ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে তা ৫,৫৫০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল।

  • টানা ৭০ দিন: ইরানে দেশব্যাপী প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

    টানা ৭০ দিন: ইরানে দেশব্যাপী প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

    ইরানে টানা ৭০ দিন ধরে প্রায় সম্পূর্ণ দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা চলছে। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস শুক্রবার (৯ মে) জানিয়েছে, সরকারের আরোপিত এই ব্ল্যাকআউট আজ ৭০ দিন পূর্ণ করেছে।

    সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ইতিমধ্যেই ১,৬৫৬ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। নেটব্লকসের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তেহরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, সংকটের সময় ডিজিটাল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবা সীমিত করে দেওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে প্রতিবন্ধী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের—তারা তথ্য, শিক্ষাসেবা ও আর্থ-সামাজিক সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

    এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেও ইরান সরকার পৃথকভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল। তখন দেশটিতে সবচেয়ে কঠোর সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছিল এবং সেই সময়ও ব্যাপক ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতার কারণে জনজীবন ও যোগাযোগ কাঠামোগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।

    ইন্টারনেটের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধের প্রভাব নাগরিক দায়িত্ব, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি।

  • এন.এস. রাজা সুব্রমণি ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক; নৌবাহিনীর প্রধান হচ্ছেন কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    এন.এস. রাজা সুব্রমণি ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক; নৌবাহিনীর প্রধান হচ্ছেন কৃষ্ণ স্বামীনাথন

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন.এস. রাজা সুব্রমণিকে দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে nombr করে দিয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ ৩০ মে শেষ হবে এবং এরপরই সুব্রমণি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সময়ে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে; বর্তমান নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর মেয়াদ ৩১ মে শেষ হচ্ছে।

    শনিবার (৯ মে) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই নিয়োগের খবর জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিন বাহিনীর সমন্বয়, উচ্চস্তরের সামরিক পরামর্শ এবং সামরিক নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

    সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমুখী। তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশন্ড হন। ব্রিটেনে জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজেও যোগদান করেন। দেশের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ ও সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রকাঠামোর অংশ হিসেবে কাজাখস্তানের ভারতীয় দূতাবাসে দায়িত্ব পালন — সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল নিরীক্ষণযোগ্য। ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি একাধিক জাতীয় সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে সাময়িক অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    নৌবাহিনীর নতুন প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন মুম্বাই থেকে পশ্চিম নেভাল কমান্ড নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বের মধ্যে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করা রয়েছে। কমান্ডে থাকা অবস্থায় তিনি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলাইশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই নিয়োগগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। আগামী মাসের শেষে উভয় পদেই দায়িত্বহস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতিকে সামনের ধাপে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করবেন।