Blog

  • চিতলমারীতে স্ট্রোক করে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ৪০ বছরের ব্যবসায়ী নিহত

    চিতলমারীতে স্ট্রোক করে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ৪০ বছরের ব্যবসায়ী নিহত

    বাগেরহাটের চিতলমারীতে স্ট্রোক করে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে নুরু মিয়া শেখ (৪০) নামের এক সবজি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নুরু মিয়া শেখ উপজেলার আড়-যাবর্নী গ্রামের মৃত মাওলানা কাওছার আলী শেখের ছেলে।

    প্রতক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই দিন বিকেলে কাজ শেষ করে বাজার থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নুরু মিয়া। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উদ্ধারকাজ চলাকালীন মাত্র প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে তিনি মারা যান।

    চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাণী খানম জানান, ছ-placeে তিনি স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর অক্সিজেন দেয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি প্রাণবায়ু ফিরে আনতে পারেননি।

    নিহত নুরু মিয়া শেখ স্ত্রী ও দুই নাবালক ছেলেসহ বহু অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী রেখে গেছেন। তার নামাজে জানাজা শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় আড়-যাবর্নী চরপাড়া জন্নাতুল বাকী কবরস্থানে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে সেখানে তাকে দাফন করা হবে।

  • শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপদ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: মঞ্জু

    শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপদ খুলনা গড়াই আমাদের লক্ষ্য: মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুলনাকে শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপদ করে গড়তে চান। তিনি বললেন, খুলনা এক সময় ছিল শিল্প-সমৃদ্ধ—a বন্দর ও শিল্পনগরীর পরিচয়ে খ্যাত। কিন্তু বর্তমানে শিল্পবন্ধের ফলে শহরটি ঐতিহ্যহীন হয়ে পড়েছে। সেই হারানো মর্যাদা ফিরে এনে খুলনাকে পুনরায় উন্নয়নমুখী বানানোই তাদের উদ্দেশ্য।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘‘তরুণদের জন্য আমাদের নানা কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে আমরা সমৃদ্ধ খুলনা গড়তে চাই। শান্তির, উন্নয়নের এবং নিরাপদ খুলনা তৈরি করা সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’’

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় খুলনা নিউ মার্কেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে এসব কথা বলেন তিনি। সেই সময় তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের গতানুগতিক নয়, নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফেরার কথাও উল্লেখ করেন। মঞ্জু জানান, ১৭ বছর পর দেশে এসে তিনি জানান ‘‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’’—এমন উন্নয়ননীতিই তারা সামনে এগিয়ে নিতে চায়।

    তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি উপহার দেবে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য সকল খাতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই তাদের লক্ষ্যমাত্রা। ভবিষ্যতে আরও নানা নির্বাচনী উদ্যোগ নিয়ে দলের নেতৃত্ব নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি জানান।

    নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরও বলেন, ‘‘আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই। জুলাই অভ্যুত্থানের পর যে যাত্রা শুরু হয়েছে, সেই যাত্রায় মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের নেতা তারেক রহমান উন্নয়নমুখী পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরে কয়ের কাজ করছেন এবং মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসছেন।’’ তিনি যুক্ত করেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল; অতীতের অভিজ্ঞতা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে ভালো ফল হবে এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

    গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব হাসান পিয়ারু, আলমগীর হোসেন আলম, আব্দুল হাকিম, শামীম খান, সুলতান মাহমুদ সুমন, সাইফুল বকসি, দাউদ বকসি, রাজিব খান রাজু, শহিদুল বেল্লাল, মোস্তফা সাব্বির, খোন্দকার সোহেল, শেখ মেহেদী হাসান, সিদ্দিক মাতবর, শামীম রেজা ও নাঈম ইসলাম। এছাড়া এলাকাবাসীও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

  • ফাইনাল শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরে পৌঁছালো বিপিএল ট্রফি

    ফাইনাল শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরে পৌঁছালো বিপিএল ট্রফি

    ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফাইনালে সন্ধ্যা ছয়টায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স মোকাবেলার অপেক্ষায় ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির করা হলো এবারের টুর্নামেন্টের নতুন ট্রফি।

    পূর্ব ঘোশণামতে বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে মাঠে এসে ট্রফিটি আনেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলী এবং দেশের সাবেক নারী দল অধিনায়ক সালমা খাতুন। এরপর ট্রফি উন্মোচন করেন দুই ফাইনালিস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও শেখ মেহেদী হাসান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রফিটি পিকআপে নিয়ে মাঠে প্রদর্শন করা হয়, দর্শকরা সেটি ঘিরে ভিড় জমান।

    প্রথম দফায় গভর্নিং কাউন্সিল একটি ট্রফি এনেছিল, কিন্তু সেটি গৃহীত হয়নি বলে নতুন করে ট্রফি অর্ডার দেয়া হয়। বিসিবির তথ্য অনুযায়ী এবারের ট্রফিটি দুবাই থেকে তৈরি করে আনা হয়েছে এবং এর জন্য খরচ হয়েছে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩০ লাখ টাকা।

    বিপিএলের এবারের পর্ব শুরু হয়েছিল সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে। ওই উদ্বোধনী দিনে ট্রফি না থাকায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেছিলেন। ফাইনালের আগে দর্শক ও গণমাধ্যমকে চমক দেখাতে ট্রফি নিয়ে আলাদা ফটোসেশন ও প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল, ফলে অবশেষে নতুন নকশার ট্রফি সবাই চোখে দেখলো।

    বিপিএলের ফাইনালের আয়োজনে বিনোদন সরঞ্জামও জোগার করে বিসিবি; ট্রফি উন্মোচন পর্বের শেষে দেশের জনপ্রিয় মডেল তানজিন তিশা স্টেজে পারফর্ম করেন। তিনি উদ্বোধনী দিনেও সিলেটে স্টেজ শো করেন।

  • বিসিবি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির হস্তক্ষেপ চায়

    বিসিবি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির হস্তক্ষেপ চায়

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে না করে অন্য দেশে আয়োজনের দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বারস্থ হয়েছে। বোর্ডটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে আইসিসিকে অনুরোধ করেছে যেন বিষয়টি স্বাধীন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি)-তে পাঠানো হয়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিসিবি এ বিষয়ে আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং মঞ্চ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষপাতী হয়ে তর্ক তুলে ধরেছে। বিসিবি বিশেষ করে চান যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নির্ধারিত ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে না হয়ে অন্য কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হোক।

    আইসিসির স্বাধীন সালিশি সংস্থা ডিআরসি সদস্য বোর্ড, আইসিসি কিংবা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা-ব্যবস্থার মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখে। সাধারণত অভ্যন্তরীণ সব প্রসেস শেষ হওয়ার পরই এই কমিটি হস্তক্ষেপ করে; বিসিবি আশা করে, তাদের আবেদন গ্রহণ করলে আইসিসি বিষয়টি ডিআরসিতে পাঠাবে।

    এর আগে বোর্ড সভার পর আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে এবং টুর্নামেন্টের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সময়ে আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানান দিতে বলেছে যে বাংলাদেশ দল কীভাবে এই পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণ করবে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, তারা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় খেলার বিকল্পের ব্যাপারে তারা এখনও আশাবাদী এবং এই দাবিতে হাল ছাড়ছে না।

    বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে চলমান এই কূটনীতি আগামী কয়েকদিনে টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ ও ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে—বিশেষত এমন সময়ে যখন সময় সীমিত এবং প্রতিযোগিতার সূচি আগে থেকেই ঘোষণা করা রয়েছে।

  • ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের প্রখ্যাত নায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ জীবনবোধ থেকে বিদায় করেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে ভুগে ৮২ বছর বয়সে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস জাভেদ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গতবছরের এপ্রিলেও তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিছু দিন ধরে বাড়িতে শয্যাশায়ীভাবে চিকিৎসা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে জানাচ্ছেন তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক এবং দুজন নার্স কয়েকদিন ধরে তাঁর পরিচর্যা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানান তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিনয়ের সূচনা। তবে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড়পর্দায় খ্যাতি পান; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং পরে নায়ক হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দর্শকের হৃদয়ে তিনি ‘ড্যানসিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন—সত্তরের ও আশির দশকে তাঁর নাচ-বলো ও অ্যাকশনের মেশানো অনবদ্য ধরনে কোটি দর্শক মুগ্ধ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুরো ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো: ‘নয়ী জিন্দেগি’, ‘পায়েল’, ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন কঠোর রোগঝঞ্ঝাটের মধ্যে থেকেও তিনি সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন—তার এই অবদান চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার প্রাক্তন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, আমার মামি জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।

    জাভেদ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমার মামি ছিলেন বিখ্যাত নায়িকা এবং এক সময়ের ‘মিস ক্যালকাটা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতির মতো চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন।’’

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়; শিক্ষাজীবনও কাটে সেখানেই—তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে পরিচিতি পান এবং ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন।

    পরবর্তীতে জয়শ্রী কবির বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরিচালক আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবিতে তিনি প্রধান ভূমিকায় দেখেন—সেগুলোর মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ উল্লেখযোগ্য।

    ১৯৭৫ সালে তিনি আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; কয়েক বছরে সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিচ্ছেদ করে। এই সংসারে তাদের এক পুত্র সন্তান—লেনিন সৌরভ কবির—আছেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী শুরুতে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে স্থায়ীভাবে লন্ডনে যান। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন।

    প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় একবার এসেছিলেন; এরপর থেকে তাকে দেশে দেখা যায়নি। শিল্পজীবনে বাংলাদেশের ও ভারতের চলচ্চিত্রের মাঝেই তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়েছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সহকর্মীরা শোক জানিয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালি দিনের পরিচিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন ৮২ বছর বয়সী।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে স্থায়ী হয়ে যান।

    জানা গেছে, অনেক বছর ধরে ক্যানসারসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের সহায়তায় এবং পরে বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে দিনের পর দিন দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্স দু’জন এসে জানান, তাঁর শরীর পুরোপুরি ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়কের ভূমিকায়। তবে বড় পর্দায় খ্যাতি পান ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে; সেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও পরে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে নাচ ও অ্যাকশনের অনবতিত মিশ্রণে দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবেই স্থায়ী জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মোটে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

    জাভেদের কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণকে বহু দর্শক ও কলাবিলাসী বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে মনে করছেন। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে ছিলেন এই গুণী শিল্পী; তাঁর চলে যাওয়া চলচ্চিত্র ও শিল্পাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানাই।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমার মামি, এককালের খ্যাতনামা নায়িকা জয়শ্রী কবির লন্ডনে মারা গেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’-এ ও আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতি ছবিতে নায়িকা ছিলেন।”

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবির বহু বছর লন্ডনে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় কয়েকবার এসেছিলেন; এরপর থেকে বাংলাদেশের কাঁধে তাকে আর দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবিরের জন্ম ১৯৫২ সালে কলকাতায়। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব-কৈশোর Kolkata-তেই কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে খেতাব অর্জন করে মিডিয়া ও বিনোদন জগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

    চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রে। পরে ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে শুরু করে জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত বেশ কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জয়শ্রী। এ বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয় এবং পরে বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে তারা আলাদা হন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে—লেনিন সৌরভ কবির।

    বিচ্ছের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান, এরপর জীবনের একপর্যায়ে লন্ডন পাড়ি জমান এবং সেখানে ছেলে লেনিনকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

    চলচ্চিত্র ও সাহিত্য প্রেক্ষাপটে দুই বাংলার একটি সময়ে আলোচিত মুখ ছিলেন জয়শ্রী কবির। তার নান্দনিক উপস্থিতি ও অভিনয়শৈলী দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে বিশেষ ছাপ রেখে গিয়েছে। পরিবারের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা থাকবে।

  • আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভারতের বাইরে না খেলতে যায়, তবে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে। যদিও এর জন্য আগে থেকেই অনড় অবস্থানে থাকলেও, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিসিবি। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসনকারী সংস্থার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মত আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে চান। বিসিবি মনে করছেন, আইসিসির কাছ থেকে তারা যেন ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটানোর আশায় আছেন।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে ভারতের বাইরে না খেলার ব্যাপারে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। তারা এই অনুরোধে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে চায়।’

    আমিনুলের মতে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনই অনুকূল নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট position হলো—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। তাই আমরা শ্রীলংকায় খেলার পক্ষে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরে তা আইসিসিকে জানানো হবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অনেকটাই অভিপ্রেত, তবে এখন মূল বিষয়ে হলো নিরাপত্তার কারণেই সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘আসলে, ক্রিকেটাররা চান দেশের হয়ে খেলতে, সরকারও চায়। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকারের চিন্তা-ভাবনা গুরুত্ব পায়।

    এমন পরিস্থিতিতে, আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটার জন্য তারা প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া, ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। তারা বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ব্যক্ত করলেও, গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি। বিসিবি আগামিতে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাদের গ্রুপের স্থান বিবেচনা করেছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা তাদের প্রস্তাব বিরত থেকেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা হলো ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। ঢাকায় প্রথম তিনটি ম্যাচ, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ মুক্তির দিন ৭ ফেব্রুয়ারি, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে।

    নিরাপত্তা ইস্যু শুরু হয় ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছিল, যদিও এর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হয়, ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কিছু অবনতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত আসে।

    পরের দিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে জানায় যে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়। তারপর বিভিন্ন বৈঠক হলেও, বোর্ডের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে আইসিসি মোস্তাফিজের ইস্যুকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ধরছেন না। সংস্থার মতে, একটি ঘরোয়া লীগের খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের ঘটনার সাথে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা চিত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।

    বিসিবি এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সময় খুবই কম থাকায়, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড পুরোপুরি নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হয়, তবে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা গাঢ় হয়ে উঠছে।

  • বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে চলছে তুমুল বিতর্ক। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, দল ভারতে গিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলবে না। তবে আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ক্রিকেটাররা অবশ্যই ভারতে উপস্থিত হতে হবে, এবং সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এমনকি বাংলাদেশের জন্য এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে, নইলে অন্য কোনো দল—যেমন স্কটল্যান্ড—কেঁদে উঠতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার একটি টেলিভিশন আলোচনায় বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে গিয়েছিল না, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে গিয়েছিল না, নিউজিল্যান্ড কানাডায় গিয়েছিল না—এগুলো কি তাদের ক্রিকেট বন্ধ করে দিয়েছে? ঠিক একইভাবে, যদি বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে না খেলে, তার মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।’

    অন্যদিকে, সরকার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছে। আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অতীতে, বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তারা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে—যেমন শ্রীলঙ্কা বা অন্য স্থান—আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করেছে, বলেছে, নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা যায়নি। এ কারণে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এতে বিশ্বকাপের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।