Blog

  • এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮০ কোটি ডলার

    এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৮০ কোটি ডলার

    এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে দেশে বৈধ পথে প্রবাসী বাংলাদেশীরা মোট ১৮০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই অর্থপ্রবাহের মানে হচ্ছে দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ১৪০ কোটি টাকা, যখন প্রতি ডলার মান ধরা হয়েছে ১২৩ টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬.২ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য জানান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান অর্থ বছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ৮১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০.২ শতাংশ বেশি। আগের বছর মোট ২ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, প্রণোদনা ও ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    এছাড়া, ধারাবাহিক মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য বলছে, এই অর্থ প্রবাহ জুড়ে রয়েছে বেশ ধারাবাহিকতা। জুলাইয়ে পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ছিল ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার এবং মার্চে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে।

  • এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হয়েছে ২.১৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার) রেমিট্যান্স। এর ফলে দৈনিক গড় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বছর একই সময়ে দেশে পাঠানো হয়েছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এবছর জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসে পৌঁছেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    বিশেষ করে, চলমান মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ একক মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে, যেখানে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া জানুয়ারিতে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ এবং ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ, ও সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    আন্তর্জাতিক বাজারে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়েছে। ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে এর বিনিময় হার বেড়েছে, যার ফলে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠানোর পর বেশি টাকা পেয়ে থাকছেন।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অর্থনীতির ওপর। এজন্য তারা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়িয়ে চলা যায়।

  • দেশে বৈদেশিক ঋণের আকার ৭৮,০৬৭ মিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান

    দেশে বৈদেশিক ঋণের আকার ৭৮,০৬৭ মিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান

    বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৭৮,০৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮ তম দিনে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করেন, বর্তমানে দেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত? এই ঋণ পরিশোধে এখন পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছেন এর পর থেকে কি কোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে? তাঁদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, ডিসেম্বর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের মোট পরিমাণ ৭৮ হাজার ৬৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। প্রতি অর্থবছর এ জন্য ঋণের মূলধন ও সুদের বাবদ সম্ভাব্য মোট খরচের একটি পরিকল্পনা তৈরি হয়, এবং বাজেটের মধ্যে সেই অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়। বাজেটের বরাদ্দ অনুযায়ী বছরব্যাপী পরিশোধের সূচি অনুসারে ঋণ পরিশোধ চালানো হয়। এর পাশাপাশি, বর্তমান সরকার আজ পর্যন্ত মোট ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করেছে।

  • জ্বালানি সংকটের কারণে পاشাক খাতের অর্ডার স্থগিত, অর্থনৈতিক উন্নতির শঙ্কা বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের কারণে পاشাক খাতের অর্ডার স্থগিত, অর্থনৈতিক উন্নতির শঙ্কা বাড়ছে

    দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিতে চাইছেন না। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জ্বালানি পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে, যা নিশ্চিত করে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকেন্দ্রে প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিসিআই সভাপতি আরও জানান, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসের অনেক অর্ডার ইতোমধ্যে ধীরগতি শুরু করেছে। বড় বড় কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নেগেটিভ বার্তা পাঠাচ্ছেন এবং কিছু অর্ডার ভারতসহ অন্য দেশগুলোর দিকে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের ঢাকা অফিসগুলো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা বর্তমানে বাংলাদেশে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছেন। পাশাপাশি, আনোয়ার উল আলম উল্লেখ করেন, বর্তমান কর কাঠামো ব্যবসা বান্ধব নয়। লাভ-লোকসানের কোনো নিশ্চয়তা না থাকলেও এক শতাংশ হারে ন্যূনতম করের বাধ্যবাধকতা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চাপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এটি আরও বেশি ক্ষতিকর। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মুনাফা না থাকলেও কর পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা তাদের টিকে থাকাকে কঠিন করে দিচ্ছে।

    তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন এবং রপ্তানি আয় থেকে উৎস কর কমানোর আর্জি জানান। তবে, এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান এই প্রস্তাব নাকচ করেন।

    আয়কর আইন ২০২৩-এর ১৪৭ ধারায় প্রসঙ্গে বিসিআই সভাপতির বক্তব্য, কর যাচাইয়ের নামে যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার সিস্টেম বা নথিপত্র জব্দের ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এতে ব্যবসার পরিবেশ অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের ব্যাংক আমানতের মুনাফার ওপর উৎস কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামানোর আবেদন জানায়। তারা আরও দাবি করে, নিট সম্পদের উপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বাতিল করা হোক। একইসঙ্গে করের বোঝা কমিয়ে ব্যবসা সম্পদক কর কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    শিল্প উদ্যোক্তাররা মনে করেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং কর কাঠামো সহজ না করলে দেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

  • আফরোজা আব্বাস, পাপিয়া ও কনকচাঁপাসহ হেভিওয়েটরা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় নেই

    আফরোজা আব্বাস, পাপিয়া ও কনকচাঁপাসহ হেভিওয়েটরা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় নেই

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি প্রকাশ করেছে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা। দীর্ঘ দুই দশকের পাওয়ার পর, যখন বিএনপি আবারো ক্ষমতায় ফিরে আসার প্রত্যাশা jানি, তখনই বিভিন্ন পরিচিত মুখ এই তালিকায় স্থান পাননি। এতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, দেশের নারী রাজনীতিতে বিপুল পরিচিতি থাকা আফরোজা আব্বাস, সাবেক সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা—তারা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হননি। এর পাশাপাশি, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নারী নেত্রীদের মধ্যেও অনেকেই বাদ পড়েছেন।

    আজ সোমবার (২০ এপ্রিল), দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে বাদ পড়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হকের সহধর্মিণী ও মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী। এছাড়াও, মহিলা দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ, কন্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, বিএনপির প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, ছোট পর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক, এবং সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া।

    সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা দু’দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড এই ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। এই তালিকা বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘ মেয়াদী ও পরিচিত নেতাদের বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী নিয়ে অপেক্ষা করছে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

  • নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদলের নেত্রী মানসুরা আক্তার

    নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ছাত্রদলের নেত্রী মানসুরা আক্তার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই তালিকায় স্থান পান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী মানসুরা আক্তার। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার নাম ঘোষণা করেন।

    মানসুরা আক্তার বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ২০১২–১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। ছাত্রদলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি বিভিন্ন সময় মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন।

    বিশেষ করে ২০২২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের একটি মিছিলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উদ্ভুত হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার হাত ভেঙে যায় এবং দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় তিনি ছাত্রলীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

    এছাড়াও, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে মানসুরা পুনরায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বাইরের গেটের সামনে অবস্থানকালে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের জন্য তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন ছাত্রদল নেতা আহত হন। এই ঘটনাসমূহ তার জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয়তার পাশাপাশি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদের প্রতিফলন।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নতুন মুখ ২৮, পুরোনো ৮

    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নতুন মুখ ২৮, পুরোনো ৮

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি ৩৬ জনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংসদ সদস্যদের তালিকা ঘোষণা করেন।

    বিএনপির এই ঘোষিত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার নতুন প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে, পুরনোদের পাশাপাশি ২৮ জন নতুন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা হচ্ছেন। অন্যদিকে, আগে থেকে সংরক্ষিত আসনে ছিলেন ৮ জন। এঁরা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, রেহান আক্তার রানু, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সুলতানা আহমেদ এবং নেওয়াজ হালিমা আর্লি।

    তালিকায় আরও দুই নারী রয়েছেন যাদের পরিবারের সদস্যরা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী। তারা হলেন বিএনপি নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী, যাঁর বাবা সাংস্কৃতিক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও শ্বশুর বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আরেকজন হলেন শিরিন সুলতানা, যাঁর স্বামী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

    বিএনপির ঘোষিত তালিকায় দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বিথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনয়ন পেয়েছেন।

    এছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচন অংশ নিয়ে ক্ষুদ্র পরাজয়োত্তর ৩ জন সংরক্ষিত কোটায় সংসদ সদস্য হয়েছেন। তারা হলেন, ঢাকা-১৪ আসনের সানজিদা ইসলাম তুলি, যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানা এবং শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন।

    মহিলা দল থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। পাশাপাশি, বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে মনোনীত দুইজন হলেন মাহমুদা হাবিবা ও শাম্মী আক্তার।

    ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি থেকেও তিনজন মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা হলেন, ফেরদৌস আহমেদ, আরিফা সুলতানা এবং নাদিয়া পাঠান। এ তিনজনই প্রধানত ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়।

    বিকল্পভাবে, বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি একজন তরুণ নেতৃত্ব, যাঁর বাবা ছিলেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী।

    বিএনপির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলের সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছু ব্যক্তি সংরক্ষিত কোটায় মনোনয়ন পেয়েছেন না-ও থাকেন। এর মধ্যে একজন হলেন জহরত আবিদ চৌধুরী, যিনি মোবাইল অপারেটর বাংলা লিংকের সিইও।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, যারা রাজপথে নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। এটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। তিনি যোগ করেন, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • প্রয়োজনে নারী এমপিরাও আওয়াজ তুলে থাকবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    প্রয়োজনে নারী এমপিরাও আওয়াজ তুলে থাকবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার যদি ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও দৃঢ়ভাবে সোচ্চার থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে, আমরা যে কম্বাইন তালিকা দিয়ে নারী আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছি, তা সফল হলে এই আসনগুলিতে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবেন না। এই ১৩টি আসনে বিহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনীত হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করি, নির্বাচনের ফলাফল সেই অনুযায়ী হবে।’

    আযাদ উল্লেখ করেন, কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ স্বাচ্ছন্দ্যে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সরাসরি হয়েছে এবং সংসদও চলছে, তাই যদি মনোনীতরা সময়মতো সংসদে যোগদান করেন, তবে জাতির প্রত্যাশা ও নারী সমাজের আশা—বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিত্ব—সেগুলো সঠিক সময়ে পূরণ হবে। কমিশন যেন এ ক্ষেত্রে অন্য কিছু না করে বা পরিস্থিতি ভিন্ন না হয়, এই বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত।’

    তিনি ভবিষ্যতেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মনোনীত ১৩ জন নারী সংসদ সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। হামিদুর রহমান বলেন, দেশের জন্য, জাতির জন্য ও জনগণের স্বার্থে আইনপ্রণয়ন এবং অন্যান্য কার্যক্রমে নারীরা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অংশ নেবেন, কারণ সংবিধান তা নিশ্চিত করেছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত এই ১৩ জন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও বিরোধী মঞ্চে বসে দেশের গঠন ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

    আহ্বান জানিয়ে হামিদুর রহমান বলেন, ‘পার্লামেন্টে আমরা যে নীতি ও ভূমিকা নিয়েছি, তা হলো ন্যায়সঙ্গত, জনকল্যাণকর ও দেশের স্বার্থে সক্রিয়ভাবে কাজ করা। এই প্রত্যয়ে আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও জামায়াতের আমির শুরু থেকেই দৃষ্টি Aston করেছে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘যদি সরকার ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ক্ষতি করে—গণবিরোধী বা জনবিরোধী—সেক্ষেত্রে আমাদের অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা যেমন সোচ্চার থাকবেন, তেমনি নারীদেরও এই আন্দোলনে অংশ নেবেন। ৭৭ জনের সঙ্গে ১৩ নারী সদস্য যোগ দিয়ে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একযোগে কাজ করবেন বলে আমরা আশা করি।’

    গণভোটের বিষয়ে আযাদ বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পর্ষদ গঠন করা হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় আমরা ১১ দল একসঙ্গে সরকারের জনসমর্থন উপেক্ষা করে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছি। পার্লামেন্টেও আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি এবং সামনের দিনগুলোয়ও এ ধরনের ভূমিকা অব্যাহত রাখব।’

    তিনি আরও জানান, ‘জামায়াতের পলিসি হলো, পরিবারের দুইজন সংসদ সদস্যের নীতি না মেনে, আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত করা হয়নি। এর পরিবর্তে শহীদ পরিবারের মা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ নানা শ্রেণি-পেশার সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

    এছাড়াও, এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিন সাধারণত সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার তিন বছর পরই প্রার্থী হতে পারেন—এমন প্রেক্ষাপটে তিনি বিশ্বাস করেন, মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না।

    তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল, আপিলের সিদ্ধান্ত হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ মে।

  • বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন চার সংখ্যালঘু নারী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন নারী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীতরা হলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিনজ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা।اینরা সকলেই সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আসা এবং দলীয় ও সামাজিক প্রতিনিধিত্বের গুরুত্বকে গুরুত্ব দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন। কোনোটাই ব্যতিক্রম নয় বরং এ মনোনয়নগুলো সমাজের নানা অংশের প্রতিনিধিত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দলটি। ইনাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জন হলেন আন্না মিনজ, যিনি উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) এবং নাটোরের বাসিন্দা। তিনি সংখ্যালঘু খ্রিস্টিয়ান ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক। সংরক্ষিত আসনে মনোনীত অন্য নারী প্রার্থীরা হলেন সুবর্ণা সিকদার ও মাধবী মারমা। সুবর্ণা গোপালগঞ্জ ও মাধবী বান্দরবানের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সুবর্ণা মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা ও একজন শিক্ষক। তিনি আসনে মনোনয়ন পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সংবাদ ও প্রশংসা আসছে। তবে তিনি জানান, তিনি বিএনপি’র একজন সমর্থক এবং কোনো কমিটিতে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর একজন সাবেক যুবদল নেতা। আর মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক। দলটির শীর্ষ নেতা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ার জন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের সব অংশের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।

  • ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পাচার, দুদক জাল ফেলেছেন

    ইসলামী ব্যাংক থেকে ২ হাজার কোটি টাকা পাচার, দুদক জাল ফেলেছেন

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে যে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও সিঙ্গাপুরে পাচার করা হয়েছে। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা অন্তত ৮ শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা বিরুদ্ধে দদেশটি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র, তাদের এনআইডি, পাসপোর্ট এবং সম্পদ বিবরণী তলব করা হয়েছে। অনুসন্ধান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ মোমিনুল ইসলাম, উপস্থিত রয়েছেন দুই সদস্যের একটি বিশেষ টিম। দাপ্তরিক আকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকের জেএকিউ এম হাবিবুল্লাহ, আকিজ উদ্দিন, মোঃ সাব্বির, মিফতাহ উদ্দিন কাজী, মোঃ রেজাউল করিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, তাহের আহমেদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম ও আবু নোমান মুহাম্মদ শামসুদ্দীন সহ বেশ কিছু কর্মকর্তার নাম এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

    প্রতারণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, ভুয়া রপ্তানি বিল এবং জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে, হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ। এর বিনিময়ে তারা বিপুল অংকের কমিশন গ্রহণ করে, এবং এই অর্থের মাধ্যমে ঢাকাও চট্টগ্রামসহ ক্যানাডা, লন্ডন, দুবাই ও থাইল্যান্ডে অঢেল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

    বর্তমানে, এই বিশাল পরিমাণ অর্থের আত্মসাৎ ও পাচার কারণে সাধারণ গ্রাহকেরা ব্যাংক থেকে তাদের আমানত তুলতে গিয়ে সংকটে পড়েছেন। ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকখাতে এই বড় ধরনের অনিয়মগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।