Blog

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা পাবে

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা পাবে

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন (বিএ) ডিসিপ্লিন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) ডিসিপ্লিনের সঙ্গে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রবিবার, ২৫ জানুয়ারি বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সমঝোতা স্মারকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী এবং আইসিএমএবির পক্ষে স্বাক্ষর করেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম জহির উদ্দিন হায়দার। স্বাক্ষরের পর উভয় পক্ষ সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন।

    ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী অনুষ্ঠানে বলেন, স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিএমএবি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উচ্চমানের পেশাদার কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, সময়োপযোগী যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ, একাডেমিক ও পেশাদার সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে লক্ষ্যটি অর্জন করা হবে।

    দুইটি পৃথক এমওইউ শিক্ষার্থীদের পেশাদার হিসাবরক্ষণ শিক্ষায় নতুন সুযোগ খুলে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর ফলে দেশে দক্ষ, যোগ্য ও মানসম্পন্ন ব্যবস্থাপনা হিসাবরক্ষক তৈরিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ নূর আলম, প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান, এইচআরএম ডিসিপ্লিনের প্রধান মোঃ মেহেদী হাসান, আইসিএমএবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম জহির উদ্দিন হায়দার, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন এবং খুলনা ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ এনামুল হক। দুই ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও আইসিএমএবির কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, উভয় প্রতিষ্ঠান অডিট ও হিসাবরক্ষণ শিক্ষার মানোন্নয়নে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং শিক্ষার প্রসারে একাডেমিক ও পেশাদার সম্পর্কের একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    এমওইউর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন থেকে বিবিএ ডিগ্রি প্রাপ্তরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে সিএমএ প্রোগ্রামে একাধিক কোর্সে মওকুফ পাবেন। একইভাবে এইচআরএম ডিসিপ্লিন থেকে বিবিএ ইন এইচআরএম শেষ করা শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আইসিএমএবির সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

    আরও এক সুবিধা হলো, যারা বিবিএ অধ্যয়নের পাশাপাশি সিএমএ প্রোগ্রাম অনুসরণ করতে চান, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে বিষয়ভিত্তিক বা ‘সাবজেক্ট টু সাবজেক্ট’ ভিত্তিতে মওকুফ সুবিধা পাবে। উদাহরণস্বরূপ, বিবিএ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যূনতম ৩.০০ সিজিপিএ অর্জন করতে হবে; একইভাবে এইচআরএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম ৩.০০ গড় জিপিএ থাকা সাপেক্ষে তালিকাভুক্ত আইসিএমএবি বিষয়গুলোতে বিষয়ভিত্তিক মওকুফ দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

    এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেশাদার যোগ্যতা অর্জনে দ্রুততা পাবেন এবং আইসিএমএবির সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ হিসাবরক্ষক হিসেবে গড়ে ওঠার পথ সুগম হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিএমএবি দুপক্ষই এই অংশীদারিত্বকে দীর্ঘমেয়াদি ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছে: নজরুল ইসলাম মঞ্জু

    খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও সর্বাধিক জনপ্রিয় দল; মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয়। দীর্ঘসময় মানুষ ভোট দিতে না পারায় এবার নির্বাচনী উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা প্রচারণায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং মানুষ আমাদেরকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে গ্রহণ করছেন—তারা চান জনপ্রিয় দল বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হোক। মঞ্জু মনে করেন জনগণের আস্থা থাকায় বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জিতবে।

    তিনি বলেন, বিএনপি বিগত ১৬ বছর ধরে জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে ছিল এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর ৩০ নং ওয়ার্ডের রূপসা স্ট্যান্ড রোড, চানমারী বাজার, খ্রিস্টান পাড়া ও অন্যান্য এলাকায় গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি। সেই সময় দলের পক্ষে লিফলেট বিতরণও করা হয়।

    মঞ্জু আরও বলেন, জাতির প্রিয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তায় আছেন এবং তার অনুপস্থিতির শোক মানুষ এখনও ভুলতে পারেনি। আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন এবং একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবপরায়ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং নিরাপত্তার কোন শঙ্কা নেই।

    গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মহিবুজ্জামান কচি, হাসানুর রশিদ মিরাজ, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, শের আলম সান্টু, এডভোকেট মাসুম রশিদ, কেএম হুমায়ুন কবির, ইউসুফ হারুন মজনু, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, কামরান হাসান, আলমগীর কবির, মীর কবির হোসেন, সালাউদ্দিন বুলবুল, সওগাতুল ইসলাম, আলম হাওলাদার, নূরুল ইসলাম লিটন, মেহেদী হাসান লিটন, হাসিনা আকরাম, সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক, রোকেঢা ফারুক, সেলিম বড় মিয়া, স্বপন হাওলাদার, মাসুদ খান বাদল, সমির সাহা, আবু তালেব, এসএম আব্দুর রব, শাহআলম, ইয়াকুব আলী, মোহাম্মদ আলী, পারভেজ আলম খান, সিরাজ মোল্লা, মহিউদ্দিন মঈন, জাহান আলী, শাহাদাৎ গাজী, ফিরোজ আহমেদ, আল আমিন হক পাপ্পু, জিএম মুজিবর রহমান, মো. মুন্না, খালেক গাজী, খায়রুল আলম, হানিফ ফরাজী, শামসুর রহমান নিশান, মামুনুর রহমান, ফারুক হোসেন খান, ইউনুচ মোল্লা, আব্দুর রশিদ, আব্দুল করিম, আলাউদ্দিন আলম, শাহনাজ পারভীন রিক্তা, মামুন রেজা ও নাজমা করিমসহ বিএনপির থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।

  • বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসিকে কড়া সমালোচনা আফ্রিদি ও ইউসুফের

    বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসিকে কড়া সমালোচনা আফ্রিদি ও ইউসুফের

    বাংলাদেশকে আইসিসির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অসম এবং বৈষম্যমূলক বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের সাবেক দুই অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ। জিও সুপার রির্পোট জানায়, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের হতাশা প্রকাশ করে আইসিসির নীতিতে অনিয়ম এবং দ্বৈতমাপকাঠির অভিযোগ তুলেছেন।

    আফ্রিদি এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লিখেছেন, একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তিনি আইসিসির এই আচরণে গভীর রাগ ও হতাশা অনুভব করছেন। তিনি ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি প্রসঙ্গে ভারতের পাকিস্তান সফর না করার সময় আইসিসির নিরাপত্তা উদ্বেগ মেনে নেওয়ার কথা তুলে ধরে বললেন, ‘‘কেন একই মানদণ্ড বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হচ্ছে না?’’

    আফ্রিদি আরও বলেছেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনায় সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা অপরিহার্য। খেলোয়াড় ও তাদের লক্ষ লক্ষ ভক্ত সম্মানের দাবিদার — দ্বৈত মানদণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইসিসির উচিত বিভাজন নয়, সেতুবন্ধন তৈরি করা।’’

    অন্যদিকে মোহাম্মদ ইউসুফও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘ক্রিকেটপ্রেমী একটি দেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। অতীতে এমন পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যু অনুমোদন করা হয়েছিল। দেশভিত্তিক মানদণ্ড বদলানো যায় না।’’

    ইউসুফ জোর দিয়ে বলেন, আইসিসির ভূমিকা হওয়া উচিত নিরপেক্ষ ও ন্যায্য; কোনো একক বোর্ডের স্বার্থের পক্ষে পক্ষপাত করা নয়। তিনি মনে করান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে এক দিনের মতো নির্দিষ্ট বোর্ডের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সমগ্র খেলাটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতে হবে।

    উল্লেখ্য, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপটি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা রয়েছে। আইসিসির সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারতের ভেন্যু থেকে ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন খারিজ হওয়ায় এবং ভারতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া না যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    আফ্রিদি ও ইউসুফ—দুই সতীর্থ—যে উদ্বেগগুলো উত্থাপন করেছেন, তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের কাছে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ক্রিকেট প্রধানরা কীভাবে এই অভিযোগগুলো মোকাবিলা করবেন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ বিতর্ক এড়ানো যাবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।

  • গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতে বাংলাদেশ দল পাঠানো হয়নি

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের ব্যাপারে সকল সম্ভব উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার ফল পাননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (আইসিসি) ও দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়ন একসাথে থাকার কারণে বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পাঠানো হয়নি, জানিয়েছেন বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।

    আসিফ আকবর বলেন, সরকারী সিদ্ধান্তে রাখা হয়েছে যে, গোয়েন্দা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্বেগ ছিল যে ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক কিংবা ট্যাকটিক্যাল স্টাফদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সরকার এই ঝুঁকির দায় নিতে রাজি না হওয়ায় দল পাঠানো হয়নি—তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটে, সেটার দায় আমরা নিতে পারি না। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত।”

    সংঘাতের সূত্রপাত বলা হচ্ছে ৩ জানুয়ারি, যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলে সরকারিভাবে দলের ভারতে পাঠানোর বিষয়ে সংশয়ে পড়ে। ২২ জানুয়ারি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও জানিয়েছিলেন নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিসিবির সঙ্গে প্রায় ২১ দিনের তর্ক-বিতর্কের পর আইসিসি অবশ্য গতকাল বাংলাদেশের বিশ্বকাপের নাম প্রত্যাহার করে চলে। আসিফ আকবর তা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, দেশের চারটি মন্ত্রণালয় — তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া ও আইন— মন্ত্রিসভার মাধ্যমে মিলিতভাবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা বাংলাদেশকে পাঠাবে না।

    আইসিসি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের স্থলে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে যোগ করেছিল এবং নতুন সূচি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ড বর্তমানে ১৪ নম্বরে আছে। তাদের ‘সি’ গ্রুপে ইতালি (নবাগত), নেপাল, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ থাকছে।

    বিসিবি ও সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমী ও দলের জন্য গভীরভাবে প্রভাব ফেলবে—খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশ নিতে পারল না এবং বিশ্বকাপের জন্য গঠিত সূচি ও পরিকল্পনাও পাল্টেছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলালে কীভাবে দলকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়, সেটি পরিবেশ-নির্ভর হবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালী সহযোগীর এক সময়কার দাপুটে নায়ক ও খ্যাতিমান নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

    মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি এবং কিছুদিন ধরেই দুই নার্স ও চিকিৎসকরা বাড়িতেই তার চিকিৎসা-সেবা দিচ্ছিলেন। শুক্রবার নয়—গত বছরের এপ্রিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী জানান, আজ সকালে তার স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। ‘‘একপর্যায়ে নার্সরা জানায়, তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন,’’ বলেন তিনি।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালের ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে সপরিবারে পাঞ্জাবে চলে গেলেও ভাগ্য তাঁকে ঢাকা টেনে আনে এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। তবে বড় পর্দায় নিয়মিত প্রতিষ্ঠা পান ১৯৬৬ সালে মুক্তিপাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মধ্য দিয়ে, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজ তাঁকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    নৃত্য-নৈপুণ্য ও পর্দার উপস্থিতি মিলিয়ে তিনি দর্শকদের মধ্যেই ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অপরিসীম জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নায়কের পাশাপাশি নৃত্যপরিচালনায় তাঁর হাতেখড়ি এবং ক্যারিয়ারে তিনি এক সময় শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে বিখ্যাত চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

    জাভেদের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব-শ্বশুর-গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা-বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানি, জীবনসঙ্গী ও আবদুল্লাহ প্রভৃতি।

    সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ ছিল নাচ ও অ্যাকশনের অনবদ্য সমন্বয়—তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বতন্ত্র অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকেও তিনি নীরবে চিকিৎসা চলিয়েছেন; আজ তাঁর চলে যাওয়ায় শিল্পী পরিবারের পাশাপাশি চলচ্চিত্রপ্রেমীদেরও শোক ভর করে।

  • ওশিওয়ারায় গুলি চালনার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কেআরকে গ্রেফতার

    ওশিওয়ারায় গুলি চালনার অভিযোগে বলিউড অভিনেতা কেআরকে গ্রেফতার

    মুম্বাইয়ের ওশিওয়ারা এলাকায় গুলি ছোড়ার ঘটনায় বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র সমালোচক কামাল আর খান বা কেআরকেকে মুম্বাই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওই আবাসিক এলাকায় চারটি গুলি ছোড়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে এবং কেআরকেকে গ্রেফতার করে।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই অভিনেতা স্বীকার করেছেন যে গুলিগুলো তারই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থেকে ছোড়া হয়েছিল। কেআরকে দাবি করেন, উদ্দেশ্য কাউকে আঘাত করা ছিল না — তিনি বন্দুক পরিষ্কার করার পর সেটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করার জন্য বাড়ির সামনের ম্যানগ্রোভ বনের দিকে গুলি ছোড়েন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বাতাসের কারণে গুলির পথ ভ্রান্ত হয়ে পরবর্তী একটি আবাসিক ভবনে লাগে।

    ঘটনার পর থেকে পুলিশ আরও প্রমাণ সংগ্রহ ও ফরেনসিক তদন্ত চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি প্রাপ্ত বুলেট ও শেলের বিশ্লেষণ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    কামাল আর খান বলিউডে বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে একটি যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ পেতেও চলমান আছে; পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে তার কটাক্ষাত্মক মন্তব্য ও উসকানিমূলক কটুক্তির কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানি ও আইনি মামলা রয়েছে।

    পুলিশ বলেছে, ঘটনার পুরো বিবরণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে এবং প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • তাহসানের আকুতি: আমাকে একটু শান্তিতে বাঁচতে দিন

    তাহসানের আকুতি: আমাকে একটু শান্তিতে বাঁচতে দিন

    বিচ্ছেদের খবর সামনে আসার পর থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছে তাহসান খান। সামাজিক মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রের খবরে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা চলছে ব্যাপকভাবে। সংবাদকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন, ফোনকল আসছে প্রচুর, যা তিনি মোটেও উপভোগ করছেন না। এই পরিস্থিতিতে তিনি চাচ্ছেন কিছুটা শান্তির দিন।

    তাহসান বলেন, ‘প্রচুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে। ফোনকলও আসছে অনেক। আমি চাই একটু শান্তি, আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন।’

    এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, স্ত্রী রোজা আহমেদের সঙ্গে আলাদা জীবনযাপন শুরু করার পর থেকে বেশ কঠিন সময় পার করছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি জানাতেন, অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে যাচ্ছেন, সেই ট্যুরের আগে থেকেই তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে সময় থেকেই ফেসবুক থেকে দূরে থাকছেন তিনি, গান থেকেও বিরত। এখন তিনি একাই ট্রাভেল করছেন, ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বই পড়ে সময় কাটাচ্ছেন।

    তাহসান খান গত ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে পেশাদার মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রোজা একজন দক্ষ মেকআপ আর্টিস্ট, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাইডাল মেকআপের ওপর বিশেষ কাজ করেন। এর মধ্যে তার নিজস্ব মেকআপ প্রতিষ্ঠানও রয়েছে নিউইয়র্কে।

    এর আগে ২০০৬ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে। দীর্ঘ ১১ বছর কোনও ধরনের জটিলতা ছাড়াই তাদের এই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে ২০১৭ সালে।

  • রাফসান-জেফার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ

    রাফসান-জেফার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ

    দীর্ঘ নাটকীয় আলোচনা ও ভক্তদের কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুখবর দিলেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান সাবাব ও খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী জেফার রহমান। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মহলে তাদের সম্পর্কের গুঞ্জন থাকলেও তারা সব সময় ব্যক্তিগত রেখেছিলেন বিষয়টি। তবে এখন তারা 공식ভাবে জানান দিলেন, তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাফসান নিজেই এই শুভ খবর শেয়ার করেছেন। তিনি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘পরিবার, বন্ধু এবং সবাইকে জানাতে চাই, আমাদের নতুন জীবন শুরু হলো। আমাদের এই নতুন যাত্রায় আপনাদের দোয়া ও শুভকামনা চাই। আজ থেকে আমরা একসাথে পথচলা শুরু করছি এবং এটি আমাদের জীবনের এক সুন্দর অধ্যায়।’

    রাফসান ও জেফারের ঘনিষ্ঠতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা ব্যক্তিগত আড্ডায় প্রকাশ পেতো। ভক্ত ও শোবিজ অঙ্গনের মানুষজনের আগ্রহ ছিল তাদের সম্পর্কের বিষয়ে। তবে তারা সব সময়ই এই সম্পর্ককে ব্যক্তিগত রেখেছেন, যতক্ষণ না তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন।

    অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো শুরু হয়েছে নেটিজেন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের তরফ থেকে। সবাই তাদের জন্য সুখী ও সততাময় বিবাহ জীবন কামনা করছেন।

    রাফসান সাবাব দেশের শীর্ষস্থানীয় ইভেন্ট ও শো উপস্থাপনা করে নিজেকে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। অন্যদিকে, জেফার রহমান তার গানের জগতে নিজস্ব স্থান করে নিয়েছেন এবং তার ফ্যাশন সেন্সের জন্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়। এই দুই সফল ব্যক্তির বিবাহের মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা এই খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক ভয়ংকর শোকের খবর ছড়িয়ে পড়েছে, দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির মারা গেছেন। তিনি গত ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে প্রিয়জনদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান, তার বয়স ছিল ৭৪ বছর। এই দুঃখের সংবাদটি শেয়ার করেছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ, সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জানান, ‘আমার মামি জয়শ্রী কবির, যা আরেক নাম ‘মিস ক্যালকাটা’, অবশেষে লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’ জাভেদ মাহমুদ আরো বলেন, জয়শ্রী অভিনয় করেছিলেন সত্যজিৎ রায়ের经典 সিনেমা ‘প্রতিদ্ব›দ্বী’, পাশাপাশি আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতি ছবিতে। বিষয়টি উল্লেখযোগ্য যে, জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে জাভেদ মাহমুদ জানিয়ে থাকেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

  • অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সুদীর্ঘকালীন একজন জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি অভিনেতা এবং নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মারাত্মক ক্যানসারের সাথে যুদ্ধ করে আসছিলেন। বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। আজ সকালে ঢাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান নিশ্চিত করেছেন মৃত্যুর খবর। ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু নিয়তি তাকে ফিরে আনে ঢাকার চলচ্চিত্র শিল্পে।

    শোনা যাচ্ছে, তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভুগতেন, যার কারণে গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আজ সোমবার বেলা Sসাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সকালেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তার আগে হাসপাতালে থেকে বাড়িতে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সেরা বেশ কয়েকদিন ধরে তার দেখভাল করছিলেন। আজ সকালেই তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    জাভেদের চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু ১৯৬৪ সালে আড়ম্বরের উদাহরণ ‘নয়ি জিন্দেগি’ সিনেমার মাধ্যমে। তবে তার বড় পরিচিতি আসে ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি রূপালি পর্দায় পা রাখেন এবং পরিচালক মুস্তাফিজ তাকে তার নাম দেন জাভেদ।

    এরপর তার পক্ষে আর পেছন ফিরে তাকানোর সুযোগ হয়নি। একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেন, যেখানে তিনি ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তার স্ত্রী ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।

    আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নৃত্য পরিচালনা দিয়ে, পরে চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আসেন। শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অটুট স্থান করে নিয়েছেন দর্শকের হৃদয়ে।

    সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে জাভেদের মানে ছিল পর্দা কাঁপানো নাচ, অসাধারণ অ্যাকশন ও অসামান্য স্টাইল। তার মৃত্যুসংবাদ বাংলার চলচ্চিত্র জগতের এক অধ্যায়ের শেষ ঘটিয়েছে। দীর্ঘ দিন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিভৃতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এই গুণী শিল্পী।

    তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।