Blog

  • রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব, আমি সুস্থ ও বেঁচে আছি

    রুনা লায়লা জানালেন: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব, আমি সুস্থ ও বেঁচে আছি

    উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি অদ্ভুত এবং ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব গুজবের জবাব দিয়েই নিজেই ভক্তদের জানিয়েছেন তিনি সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমান সময়ে দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে অবস্থানরত রুনা লায়লার সম্পর্কে দেশে-বিদেশে মৃত্যুর খবর ছড়াতে থাকলে তা ব্যাপক ভ্রমের সৃষ্টি করে। বিষয়টি নজরে আসার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি সত্যতা স্পষ্ট করেছেন।

    পোস্টে রুনা লায়লা লিখেছেন, “আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, “আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। অনুগ্রহ করে এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করুন—এগুলো আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। সবার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল।”

    শিল্পী নিজের সুস্থতার খবর জানিয়েই ভক্তদের শান্ত করার পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেছেন।

    স্মরণীয়, ১৯৬০-এর দশকে টেলিভিশনে নিয়মিত পরিবেশনা করে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন রুনা লায়লা। ১৯৬৬ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা…’ গানটি দিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। পরে “ও মেরা বাবু চেল চাবিলা” এবং “দামা দম মাস্ত কালান্দার”সহ বহু জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানসহ উপমহাদেশে অম্লান সংগীতকীর্তি গড়ে তোলেন।

  • জাপানিজ এনসেফালাইটিসে সিভাসুর অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানার মৃত্যু

    জাপানিজ এনসেফালাইটিসে সিভাসুর অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানার মৃত্যু

    চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু)-র ফুড সায়েন্স ও টেকনোলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বিরল মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

    পারিবারিক ও হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে তিনি হালকা জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও বমি নিয়ে অসুস্থ বোধ করেন। প্রথম দিকে যেন সাধারণ শীতজ্বর বা ফ্লু বলে মনে হলেও দ্রুত তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে ‘মাল্টিপল স্ট্রোক’ ধরা পড়ে এবং লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

    উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, পৌঁছানোর সময় তিনি ক্লিনিক্যালি ব্রেইন ডেড অবস্থায় ছিলেন। ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ড. জুথির শারীরিক লক্ষণ ও দ্রুত স্নায়বিক জটিলতা বিবেচনায় তারা জাপানিজ এনসেফালাইটিসের সম্ভাব্যতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কাউসারুল আলম জানান, ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর স্নায়ুতন্ত্র গ্রাসের লক্ষণ ও স্ট্রোক দেখা দেয়; ক্লিনিকাল কন্ডিশন বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকরা জাপানিজ এনসেফালাইটিসের প্রবল ধারণা করেন।

    জাপানিজ এনসেফালাইটিস সাধারণত কিউলেক্স প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি সরাসরি মস্তিষ্কে আক্রমণ করে—দরুন বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ।

    ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৭-০৮ সেশনের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন এবং কিউশু ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সিভাসুতে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

    তার স্বামী ড. শাহরিয়ার হাসেম অর্ণবও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। দম্পতির একটি পাঁচ বছর বয়সী সন্তান আছে।

    সিভাসুর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এক শোকবার্তায় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক ও শিক্ষককে হারিয়েছে; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীরা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • ডিএনএ-র জবাবে মুক্তি: ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষ ঘোষণা, আসল অভিযুক্ত কিশোরীর বড়ভাই

    ডিএনএ-র জবাবে মুক্তি: ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষ ঘোষণা, আসল অভিযুক্ত কিশোরীর বড়ভাই

    ফেনীর পরশুরামের বক্সমাহমুদে এক কিশোরীর ধর্ষণ মামলায় ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) বিনাদোষী ঘোষণা করা হয়েছে। ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায় খুঁজে পাওয়া গেছে বাস্তব আসল অভিযুক্তের ডিএনএ — কিশোরীর বড়ভাই মোরশেদের — ফলে মোজাফফরকে ওই মামলায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে আসে দীর্ঘ তদন্ত ও একাধিক ফরেনসিক পরীক্ষার পর। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর। মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে মক্তব শিক্ষক ও ইমাম হিসেবে পরিচিত মোজাফফরকে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি শুরু থেকেই নিজেকে সংযুক্ত না বলে দাবি করলেও গ্রামে ও সামাজিকভাবে তার ওপর নানান অপবাদ ছড়ায় এবং এক মাস দুই দিন জেলের নাজেহাল জীবন কাটাতে হয় তাকে।

    মোজাফফর জানিয়েছেন, এই সময় তিনি মসজিদের ইমামতির পদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। সামাজিক কলঙ্ক, মানহানি ও মামলার খরচ আঞ্জাম দিতে বাড়ির পাশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা—৫ শতক—বিক্রি করে দিতে হয়। তিনি বলেন, “অবশেষে সত্যের জয় হয়েছে। আমি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অত্যধিক হেনস্তার শিকার হয়েছি। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করছি।”

    ফরেনসিক পরীক্ষার প্রথম দফায় কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব পরীক্ষা করে কোনো বীর্যের উপাদান শনাক্ত করা যায়নি। এরপর তদন্ত আরও গভীর করে পুলিশ। কিশোরীর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে এক পর্যায়ে স্বীকার করে যে তাকে ধর্ষণ করেছে তারই সহোদর ভাই মোরশেদ। তদন্তের এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদ (২২) গ্রেপ্তার হন এবং পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন; পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।

    পরে কিশোরী, তার সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু কন্যা এবং অভিযুক্ত মোরশেদের নমুনা ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হলে ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট প্রদত্ত ডিএনএ রিপোর্টে বলা হয়—শিশুটির পিতা হিসেবে মোরশেদের ডিএনএ নমুনা ৯৯.৯৯ শতাংশ মিলেছে। মোজাফফরের ডিএনএ শিশুটির সঙ্গে মিলেনি। এ রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে মোজাফফরের নাম অভিযোগপত্র থেকে প্রত্যাহার করে মোরশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গ্রেপ্তারের পর থেকে মোরশেদ ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

    পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী ২০১৯ সালে মক্তবের পাঠ শেষ করার পর বাড়িতে থাকা অবস্থায় পাঁচ বছর না যাওয়া পর্যন্ত পরে অন্তঃসত্ত্বা হন এবং পরবর্তীতে সন্তান প্রসব করেন। ঘটনার প্রথম দফায় পরিবারের চাপ কিংবা প্রয়োজনে প্রকৃত দোষীর ওপর নজর রাখতে গিয়ে মোজাফফরের ওপর অভিযোগ চাপানো হয়—যার ফলে এক নির্দোষ মানুষ সমাজে, কাজ ও সংসারে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন।

    মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বিরল হলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দোষকে ফাঁসানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদঘাটিত হয়েছে।”

    জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “তিনি জেনুইন একটি মজলুম ইমাম ও তালেবে ইলম। ক্ষতিগ্রস্ত ইমামের ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তাকে মানসিকভাবে সাহসসঞ্চয় করার পাশাপাশি আর্থিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়া উচিত।”

    পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “মামলাটি নিয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করেছে। ডিএনএ রিপোর্টের আলোকে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ দেখে অভিযোগপত্র সংশোধন করা হয়েছে। নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে—এ ধরনের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

    কাহিনীর এই মোড় অত্যন্ত স্পর্শকাতর—একদিকে একটি কিশোরী ও তার শিশু সঠিক বিচার ও সুরক্ষা পাওয়ার দাবি, অন্যদিকে একজন নিরপরাধ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কলঙ্ক, কর্মহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়া ও ফরেনসিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এই ধরনের ভুল বুঝাবুঝি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তদন্তকারীরা মন্তব্য করেছেন।

    সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • কিছু হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    কিছু হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী সমাজ অস্থির করতে চায়: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে যারা বারবার হতাশা থেকে বের হয়ে এসে সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে নিশানা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর বা পরিশীলিত নয়। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়েছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তনের চেষ্টাও করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সত্যিকারের পরিবর্তন আসেনি।’’

    শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের মূল পরিচয় হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম। আমরা ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে যে সক্রিয়তা ও পরিচয় অর্জন করেছি, সেটা সবসময় মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতা এমনি এমনি পাওয়া হয়নি—নয় মাস ধরে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্রও সংগ্রাম করে ফেরত আনা হয়েছে; সেটিও হঠাৎ ফিরে আসেনি।’’

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে সার্বিক সংগ্রাম করেছে, আমরা সেটাকে ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। তাতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে, মানুষ নতুন সরকারের কাছে আশা নিয়েছে। যে ঘুণ ধরে থাকা শাসন ব্যবস্থা ছিল, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে—অর্থনৈতিক লুটপাট হয়েছে, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে, প্রশাসন দুর্বল করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আজকের অবস্থায় পৌঁছেছি। কেউ কেউ চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনকে বিকৃত করে ভিন্ন খাতে নেওয়ার, ছোট ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার। আমরা চাই না দেশ যেন অস্থির হয়।’’

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ যখন এখানে অবস্থান করতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে একটি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিকভাবে উন্নয়নের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিলেন। এটা তাঁর জীবন, কাজ ও কবিতার চর্চার বাইরের একটি কার্য্যগত প্রমাণ। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক ও গানে তাঁর বিচরণ ছিল প্রকৃত আদর্শমানবকল্যাণে প্রবাহিত—গীতাঞ্জলি লিখে তিনি বিশ্বের মন কাড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও শেষ করা যায় না—এই অনুভূতিই আমার প্রায়ই হয়।’’

    আলোচনা সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ এন এম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ এর সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ এর সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ এর সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ এর সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

    আলোচনা সভার পরে ঢাকার এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশন হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়—দিনভর হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে ভিড় করেন।

  • পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে পারে — নাহিদ

    পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: দেশবিরোধী গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়াতে পারে — নাহিদ

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িক অনুভূতি জাগিয়ে প্ররোচনা দেবে; তাই সবাইকে সতর্ক ও সংহত থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ‘জুলাই স্মৃতি’ হলে এনসিপি আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যদিও এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, নির্বাচনের আগেই কয়েক লক্ষ ভোটারের নাগরিকত্ব বাতিল এবং ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। এদের বড় একটি ভুক্তভোগী অংশ মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘‘আমি সংসদেও বলেছি, সেখানে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।’’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    বাংলাদেশে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘দেশবিরোধী গোষ্ঠী নানা রকম উসকানি দিবে, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াতে চেষ্টা করবে এবং প্রবল প্রোপাগান্ডা চালাবে। আমাদের সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।’’

    তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব ও দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে গেছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করবে।

    অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে নাহিদ দলের নেতা-কর্মীদের একতা ও ঐক্যের কথা বলেন। তিনি বলছিলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না। যে-ই যেখান থেকে আসুক, সকলকে এনসিপির পতাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’’ বক্তব্যের শেষে তিনি حاضرজনদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন—‘‘আমরা কি সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব?’’ জবাবে সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা এককথায় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সমর্থন জানান।

  • টানা দ্বিতীয় দফায় আবারও বেড়েছে সোনার দাম

    টানা দ্বিতীয় দফায় আবারও বেড়েছে সোনার দাম

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার মুল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, प्रति ভরি সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংঘটনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরি এখন দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। গতকাল এই দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মুল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত অন্য কট্টরের দামগুলো হল:

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: প্রতি ভরি এক লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা

    একই সাথে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ক্যাটাগরির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৫ হাজার ৫৪০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৪ হাজার ৭২৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা

    বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা—বিশেষত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল মহাকাশীয় সংঘাতের প্রভাব—সোনার দাম উর্ধ্বমুখী রাখছে বলে মনেই করছে বিশ্লেষকরা। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে এখন এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪ হাজার ৭০০ ডলার। সূত্রটিতে জানানো হয়েছে, এর আগে ৩০ জানুয়ারি আউন্সপ্রতি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি এক আউন্সের দাম ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    এদিকে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার ঝটিকা মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দেশে পড়ে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একধাক্কায় ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম এক সময় দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল—যা দেশের ইতিহাসে একক দফায় সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি ছিল।

  • সোনার দাম কমল, প্রতি ভরির নতুন কিমত কী?

    সোনার দাম কমল, প্রতি ভরির নতুন কিমত কী?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা পর্যন্ত হ্রাস করা হয়েছে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের নির্ধারিত নতুন কিমত অনুযায়ী ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম এখন ২৪০,৩৩৭ টাকা। সোমবার (৪ মে) এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য ছিল ২৪২,৪৯৫ টাকা।

    অন্যান্য ক্যারেটভিত্তিক কিমতগুলো হলো:

    – ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২২০,৪৩১ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১৯৬,৬৫৫ টাকা

    – সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি: ১৬০,১৪৭ টাকা

    রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত অনুযায়ী রূপার মূল্য:

    – ২২ ক্যারেট মানের রুপা (প্রতি ভরি): ৫,৪৮২ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৫,১৯০ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৪,৪৯০ টাকা

    – সনাতনী পদ্ধতি: ৩,৩৮৩ টাকা

    বাজুস বলেছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক মূল্য কমায় স্থানীয় বাজারে হিসাব সমন্বয় করে দাম কমানো হয়েছে। বিশ্ববাজারে সোনার চাহিদা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আগে দাম উঠা-নামা করেছে; গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বর্তমানে প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। তুলনায় গত ৩০ জানুয়ারি এটি ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ডুকোনো আগ্নেয়গিরার ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন নিহত, ২০ নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ডুকোনো আগ্নেয়গিরার ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিন নিহত, ২০ নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরার বৃহস্পতিবার সকালের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০ জন পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এখন তাদের উদ্ধারে তৎপর অভিযান চালাচ্ছে।

    আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি প্রশমন কেন্দ্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ডুকোনোতে শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। বিস্ফোরণের সময় ছাইয়ের কলরা প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচুতে উঠে যায় এবং বিক্ষিপ্ত ছাই আকাশে বিস্তৃত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ভয়ানক গর্জনের শব্দও স্থানীয়রা শোনেন।

    স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি জানান, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের উদ্ধারে পুলিশ, জরুরি উদ্ধারকর্মী এবং কয়েক ডজন স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে নয়জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক।

    উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু বলেছেন, ঘটনার সময় পর্বতারোহীদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং তাদের মধ্যে দুইজন বিদেশি নাগরিক।

    বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির অস্বাভাবিক গতিবিদ্যা লক্ষ্য করার পর ১৭ এপ্রিল থেকেই ওই অঞ্চল পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। তবু কয়েকজন হয়ত নিষেধ অমান্য করে সংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটারের কেন্দ্র থেকে অন্তত চার কিলোমিটার দূরে থাকতে বলা হয়। এছাড়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে পড়া বড় বড় পাথর এবং লাভার প্রবাহের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।

    সরকারি আগ্নেয়গিরি সংস্থার তথ্যমতে, ছাইয়ের মেঘ উত্তরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের ছাই-বর্ষণের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে জোর দেওয়া হচ্ছে।

    মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে খ্যাত। মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত লক্ষ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার রয়েছে এবং আরও তথ্য পাওয়া মাত্র জানানো হবে।

    সূত্র: আল-জাজিরা

  • নাটকীয় মোড়: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    নাটকীয় মোড়: সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

    নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঠিক করেছেন সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। শুক্রবার (৮ মে) সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, কংগ্রেস, ভিসিকে এবং দুই বামপন্থী দল—সিপিআইএম ও সিপিআই—থালাপতির দল টিভিকেকে সমর্থন জানাচ্ছে।

    সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস পাঁচটি, ভিসিকে চারটি এবং দু’টি বামপন্থী দল মিলিয়ে চারটি আসনে জিতেছে; মোট মিত্রদলের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি। গত ৪ মে তামিলনাড়ুর বিধানসভা ফল প্রকাশে দেখা যায়, মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে একাই পেয়েছে ১০৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১১৮ আসন হওয়ায় তাদের আরও ১০টি আসনের প্রয়োজন ছিল।

    তবে বিজয় নিজে দুটি আসনে জিতে যাওয়ায় তাকে একটি আসন ‘ছেড়ে’ দিতে হবে; এতে টিভিকের আসন সংখ্যা ১০৭-এ নেমে আসে। মিত্রদলগুলোর ১৩টি আসন যুক্ত করলে টিভিকে জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করে।

    স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটায় থালাপতি বিজয় তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আরভি আর্লেকারের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন; সেখানে প্রস্তাবিত সরকারের রূপায়ণ ও বর্তমান পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।

    উল্লেখ্য, যেসব দল এখন থালাপতি বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছে, তারা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন ডিএমকের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল; কিন্তু পরবর্তী কালে তারা বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। (সূত্র: এনডিটিভি)

  • বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। তারা অভিযোগ করেছে যে চলমান ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছুকিছুতেই ফসলি জমিতে লবণাক্ত পানি প্রবাহ করে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

    সকালে ভেড়িবাঁধের ধারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয়রা দাবি করেন—“স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং চলমান সংস্কার কাজ বন্ধ করা যাবে না।” আয়োজকদের অভিযোগ, আকরাম তালুকদার, জরুল শেখ, সালাম মোল্লা ও আকবর তালুকদার বাহিনীসহ কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত করছে।

    বক্তারা বলেন, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ এলাকার টেকসই ভেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবার জোয়ার ও লবণাক্ত পানি প্রবেশের ফলে বিস্তৃত ফসলি জমি নষ্ট হয়। তারা স্মরণ করান, ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরের সময় পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হয়েছিল।

    স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য জোর করে লবণ পানি প্রবেশ করাচ্ছে এবং ফলে কৃষিজমি ধ্বংসের পথ তৈরি হচ্ছে। এ কারণে যারা নিরাপদ, স্থায়ী বাঁধ চান তারাই বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেন।

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, যদিও ভেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে, তবে কিছু চক্র নানা ষড়যন্ত্র করে কাজ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের একটাই দাবি—যে কোনো অবস্থায় ভেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হবে না।

    এ সময় এলাকার গণ্যমান্যরা বলেন, বাঁধ নির্মাণের জন্য যদি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করা লাগে তাহলে সরকারকে অবশ্যই ন্যায্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী ভেড়িবাঁধ করা না হলে জনস্বাস্থ্যে ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় হুমকি থাকবে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    মানববন্ধনে পঞ্চকরণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম খান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শামীমুল হাসান, খলিলুর রহমান, মাইনুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও জামায়াত নেতা মশিউর রহমানসহ বহু স্থানীয় গণ্যমান্য উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে এলাকাবাসী দাবি আদায়ে একটি বিক্ষোভ মিছিলও প্রদর্শন করে।