Blog

  • প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ভোটময় উত্তেজনা: অভিযোগ, হামলা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

    প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে ভোটময় উত্তেজনা: অভিযোগ, হামলা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর অলিগলি থেকে জেলা শহর পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা দলীয় জনসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করেছেন এবং একই দিনের কয়েকটি সহিংসতায় ভোটপ্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়েছে।

    তারেক রহমানের জনসভা

    বিএনপি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান সন্ধ্যায় ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেন। তিনি সেখানে বলেন, ‘‘দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য। গত ১৫ বছরে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে ‘ডামি’ নির্বাচন করা হয়েছে; এবার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে।’’ তিনি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এলাকায় গৃহহীনদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেন।

    জামায়াতের উত্তর সফর

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলে ব্যস্ত সময় কাটান। পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জনসভা করে তিনি দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে সমাবেশে অংশ নেন। দিনাজপুরে তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘আমরা চাঁদাবাজি করি না এবং করতে দেবো না। অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যাবে না; আইন সবার জন্য সমান হবে।’’ একই সময়ে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তারেক রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।

    কেরানীগঞ্জে গুলির ঘটনায় উদ্বেগ

    গত রাতে কেরানীগঞ্জে নির্বাচনি কার্যালয়ের পাশে হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান মোল্লাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচন বানচাল করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই গুপ্ত হামলা চালাচ্ছে।’’

    নারায়ণগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের কথা

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ফতুল্লার ফাজেলপুরের জনসভায় বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি জানান, তারা প্রথমে পাঁচ দল ও পরে আট দলে গঠনের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন, তবে কিছু দল এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে এবং শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনার আশ্বাস রেখে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে। (নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজীর সমর্থনে এসব বক্তব্য বলা হয়েছে।)

    আক্রমণ ও উত্তেজনা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনের ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণসংযোগে গেলে একটি ভবনের ওপরে থেকে অননুমোদিত ব্যক্তি একে লক্ষ্য করে ডিম ও নোংরা পানি নিক্ষেপ করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পাটওয়ারী তার কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বাড্ডার বাঁশতলা এলাকায় সমাবেশে বলেন, ‘‘১০ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভয় পেয়েছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’’ তিনি চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিহত করার কথা বলেন।

    বাক্যযুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত

    নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ চলছে। ঢাকা-৭ এলাকার বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন একটি সভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘বিএনপি চাইলে ঢাকায় জামায়াত-শিবিরকে রাস্তায় নামতে দেওয়া হবে না।’’

    অন্যদিকে খুলনায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বিদেশে থাকা কোনো ব্যক্তির বক্তব্যকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘লন্ডন থেকে কোনো ব্যক্তি আমাদেরকে কুফরি ফতোয়া দিচ্ছেন—এটি অত্যন্ত বাড়াবাড়ি।’’ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বিএনপি ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সমালোচনা করে বলেন, ‘‘কেউ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যদি বাসায় যায়, তাকে আটকে রাখার মত পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।’’

    প্রচারণার তৃতীয় দিনে পরিস্থিতির ওপর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থাকতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনা ও স্থানেম 경ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় নির্বাচন শৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান রয়েছে।

  • সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশে রেকর্ড দাম

    সোনার ভরি ছাড়ালো ২ লাখ ৫০ হাজার, দেশে রেকর্ড দাম

    একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দর বাড়ানোর ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সর্বোচ্চ হিসেবে প্রতি ভরিতে দাম ৮,৩৪০ টাকা বাড়ার পর ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    বাজুস বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বাড়তি দর ঘোষণা করেছে এবং নতুন দাম আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলেছে। সংগঠনটি জানায়, বৈশ্বিক বাজারে শুদ্ধ সোনার দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ে—প্রতি আউন্সের দাম ৪,৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

    নতুন তালিকায় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ২,৫২,৪৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,৪০,৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২,০৬,৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১,৬৯,৬৫৩ টাকা করা হয়েছে।

    সোনার সঙ্গে রুপার দামে ও বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ধরা হয়েছে ৬,৮৮২ টাকা; ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬,৫৩২ টাকা; ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫,৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪,২০০ টাকা।

    গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন এই দর আগামীকাল থেকে প্রযোজ্য হবে, তাই সোনা বা রুপা ক্রয়ের পরিকল্পনা থাকলে তা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাজার সংশ্লিষ্টরা।

  • ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    ইতিহাসের সর্বোচ্চ: প্রতি ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের স্বর্ণবাজারে রেকর্ড পর্যায়ের দাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫,২৪৯ টাকা বেড়ে ভালো মানের সোনার দাম দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায় পৌঁছেছে — এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার মূল্য।

    বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন এই মূল্য ২১ জানুয়ারি বুধবার থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর বাড়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বাড়তে বাধ্য হয়েছে।

    গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র মতো আন্তর্জাতিক পোর্টালের তথ্যমতে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামও চড়া। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরের দিকে উঠেছে, যা স্থানীয় মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।

    নতুন তালিকার অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের সবচেয়ে ভালো মানের এক ভরির দাম হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। অন্যান্য মানের সোনার নতুন দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    সোনার দামের সঙ্গে রূপার দামেও বাড়তি পর্যবেক্ষণ দেখা গেছে। ২২ ক্যারেট রূপার এক ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অন্য রকমের রূপার দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতনী পদ্ধতির প্রতি ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    মোটকথা, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চড়া দরই কেজিডেভাইস হিসেবে স্থানীয় বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রেকর্ড এই মূল্যে কেনাবেচা ও বাজার প্রভাব কেমন হবে, তা আগামী সময়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল

    যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল

    জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে সংগঠনের সঙ্গে বিচ্ছেদের সব ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।

    এটি ছিল লাখ বছরের পুরনো রাজনৈতিক লক্ষ্য—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডব্লিউএইচও থেকে বেরোতেই চেয়েছেন। প্রথম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে তিনি একবার সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সংস্থা থেকে বের হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে।

    আইন অনুযায়ী ডব্লিউএইচও থেকে বের হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এক বছরের নোটিশ দেওয়া এবং সংগঠনের কোঠাগুলো পরিশোধ করে নেওয়ার শর্ত মেনে চলতে হতো। এখনও সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বাকি আছে।

    আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত এই টাকা পরিশোধ নাও করতে পারে। ডব্লিউএইচওর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে পাওনা না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হওয়া সমস্যাগ্রস্ত হবে; আইনগত দিক থেকে এটি ঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে কোনো রকম বৈধতা মিলবে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সংগঠনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ের শক্ত করে কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় নেই।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সকল সরকারি তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত কর্মী ও ঠিকাদারদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো এবং কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপে তার আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণও বাতিল করেছে।

    সূত্র: সিএনএন।

  • ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    আগামী টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে ভারতের মাটিতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলকে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে বিসিবি mehrfachবার আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেরা ম্যাচ স্থানান্তর করার অনুরোধ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরও আইসিসি থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করা না হলেও প্রাকটিক্যালভাবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাব্যতা অত্যন্ত কম—এমনটি বলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন, ভারতে পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন ছিল। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ প্রমাণ করে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার খবর প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্মভূমি থাকা এক মুসলিম শ্রমিক মনজুর আলম লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়—এই ঘটনার কথাই তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন।

    বিশ্বকাপ ইস্যুর সূচনা মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু উগ্র হিন্দু নেতার হুমকির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিসিবি পরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছিল। ফারুকী বলেছেন, এসব ঘটনা যদি দীর্ঘদিন ধরে চালানো বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যার ফলশ্রুতিতে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব ও গুরুতর বলে মানতে হবে।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মনজুর আলম লস্কর, বয়স ৩২। তিনি উস্থি থানার রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় এক দশক ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সেখানে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়—প্রথমে ২৫ হাজার রুপি দাবি করা হলেও পরে স্ত্রীকে অজানা নম্বর থেকে কল করে ৬ হাজার রুপি পাঠাতে বলা হয়। পরিবারের পাঠানো ৬ হাজার রুপির পরে বুধবার রাতে জানানো হয় যে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।

    মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, অভিযোগ করেছেন হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত। তিনি বলছেন, যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে সাহায্য করার।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। উশতির তৃণমূল নেতৃত্ব এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে বিজেপি বা তাদের মিত্র শাসিত রাজ্যগুলো এই তৎপরতা পরিচালনা করছে যাতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল আতঙ্কিত করা যায়। তৃণমূল এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে।

    ঘটনার খবরে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় নেতারা দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন, আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে।

  • ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়াই সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে

    ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়াই সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে

    খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী ও বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, ধর্মীয় ভেদাভেদের ভিত্তিতে কাউকে ভাগ করা হবে না; সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে উন্নয়নের অধিকার পাবে। তিনি বলেন, ‘‘কে কোন ধর্মের — তা বড় বিষয় নয়। সবাই সমান অধিকারভোগী হিসেবে বসবাস করবে এবং সাম্প্রদায়িক বন্ধন আরও দৃঢ় করা হবে। ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।’’

    এই প্রতিশ্রুতিগুলো তিনি রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মাঠে আয়োজিত জনসংযোগ অনুষ্ঠানকালে দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই-এর উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরীর সার্বিক উপস্থাপনায় শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

    নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে হেলাল বলেন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধ করে নারী অধিকার নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। ‘‘নারীকে সম্মান ও নিরাপত্তা না দিলে কোনো সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়,’’ তিনি উল্লেখ করেন। মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে সচেতন ভূমিকা নিতে অনুরোধ জানান।

    মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, কেবল আইন-শৃঙ্খলা নয়, পারিবারিকভাবে ধর্মীয় জীবনচর্চা ও ক্রীড়া-সংস্কৃতির প্রচারও জরুরি। তাই উপজেলার সব স্তরের খেলার মাঠ আধুনিককরণ করে তরুণদের খেলাধুলার দিকে আকৃষ্ট করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তরুণ সমাজকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সুস্থ পথে ফেরানোর ওপর বিশেষ জোর থাকবে।

    ফিফা রেফারি মনির ঢালীর প্রশ্নে হেলাল আশ্বস্ত করেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনটি উপজেলায় তিনটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, খেলাধুলা যুব সমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ জাতি গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

    নির্বাচনী হটলাইন চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, তিনি নির্বাচিত হন বা না হন তাঁর হটলাইন নম্বর সক্রিয় থাকবে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ চলবে। রূপসার সাংবাদিকদের জন্য আধুনিক প্রেসক্লাব গঠন ও উন্নয়নে তিনি সহযোগিতা করবেন এবং সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

    ভূমি অফিসে দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ এলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোকে দালাল-মুক্ত করে কোনো আর্থিক লেনদেন ছাড়াই জনগণের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ভবিষ্যতে অভিযোগমুলক ঘটনার বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

    নিজের বিরুদ্ধে আগের মিথ্যা মামলা ও কারাবরণের প্রসঙ্গে হেলাল বলেন, ‘‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ছাড়া নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না।’’ তিনি আরও বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত এবং অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থাই তার রাজনীতির মূল আদর্শ।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজল হেলাল, মেডিকেল শিক্ষার্থী রাহুল, খ্রিস্টান সমাজের জয় নোটন বাড়ই, ফিফা রেফারি মনির ঢালী, সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন, বাকির হোসেন, প্রধান শিক্ষক বিউটি পারভিন, হাফিজুর রহমান, আঃ কুদ্দুসসহ প্রায় শতাধিক জনতা।

    বিএনপি’রস্থানীয় নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, রূপসা উপজেলা আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা আহবায়ক চৌধুরী কাউসার আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, উপজেলা সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, আনিসুর রহমান, জেলা বিএনপি নেতা শেখ আলী আজগর, এম এ সালাম, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, আছাফুর রহমান, জেলা যুবদল নেতা গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাঁতিদল নেতা মাহমুদুল আলম লোটাসসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে শেষ অংশে স্থানীয় শিল্পী কুদ্দুস বয়াতী সাংস্কৃতিক পরিবেশন করেন।

  • ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না: রকিবুল ইসলাম

    ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে ভোট কেনা যাবে না: রকিবুল ইসলাম

    বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ ধানের শীষ প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে মিথ্যা ফতোয়া বা ধর্মীয় অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোট কেনা সম্ভব না। তিনি বলেন, আজকের ভোটাররা বেশ সচেতন; তারা প্রকৃত উন্নয়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

    বকুল বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে ঢাল বানিয়ে বিভ্রান্ত কল্পনা ছড়ানো আর কাজ করবে না। যারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল তাদের পরাজয় নিশ্চিত বুঝে নানা রকম বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের মূল ধারার বিরুদ্ধে।

    গতকাল শুক্রবার ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়া ও ওয়ার্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ জহর মীরের রুহের মাগফিরাত কামনায় বায়তুল নাজাত জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় বকুল এসব মন্তব্য করেন।

    দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের সভাপতি আবু সুফিয়ান নান্নু। প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী। সভায় বক্তব্য দেন সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মো. চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, প্রবীণ রাজনীতিবিদ স ম আব্দুর রহমান, খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ আলী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লবুর রহমান কুদ্দুস এবং থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলাউদ্দিন তালুকদার।

    অন্যান্য উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী তরফদার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক লুৎফর রহমান, জংশন বাজারের সভাপতি মো. কোরবান মীর, সমাজসেবক মীর আব্বাস আলী, বিএল কলেজের সাবেক প্রভাষক অধ্যাপক আনোরুল ইকবাল, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার খন্দকার কামাল উদ্দিন আহমেদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহিন আজাদ। স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

    বকুল উল্লেখ করেন, খুলনাবাসী সততা ও সাহসিকতার পক্ষে একজোট এবং তারা তাদের হকৰ রক্ষায় সচেষ্ট। তিনি প্রশাসন ও সাধারণ জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, খোলা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    অনুষ্ঠান শেষে বায়তুল নাজাত জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা আব্দুস সাত্তার বিশেষ মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়া ও সৈয়দ জহর মীরের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের কল্যাণ কামনা করেন।

  • চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

    চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

    বিপিএল ফাইনাল শুরুর আনুষ্ঠানিকতায় হেলিকপ্টারযোগে মঞ্চে এলো ট্রফিটি—সাথে ছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন। আকবর আলী যুব বিশ্বকাপজয়ের স্মৃতিচারণ করে ট্রফি মঞ্চে আনেন এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছড়ান।

    মাঠে নেমে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে জিতে দেন। তানজিদ ৬১ বলেই সেঞ্চুরি করে, পরের বলে মুগ্ধরের উইকেটে গিয়ে ৬২ বলে ১০০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার অগ্রগতিতে রাজশাহী ১৭৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ গড়তে পারে এবং জয়ের জন্য চট্টগ্রামকে ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিতে পারে।

    লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বলেই নাইম শেখকে সাজঘরে ফেরানো হয়—বিনুরার ডেলিভারিটি অফ স্টাম্পের বাইরে থেকেই ভেতরে ঢুকতে গিয়ে বোল্ড হয় নাইম। দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদুল হাসান জয়ও। এরপর তানজিদের বলেই সাজঘরে ফেরেন দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানও। মির্জা ও হাসান নাওয়াজ একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও নাওয়াজকে ফেরান হাসান মুরাদ।

    চট্টগ্রামের বেশ কজন ব্যাটসম্যান টিকতে পারেননি; মেহেদী, জাহিদুজ্জামান সাগর ও অন্যান্যরাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান তাহির ও আসিফ আলি দায়িত্বশীলভাবে খেললেও কোনো বড় জুটিও গড়ে তুলতে পারেননি। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ ও আসিফ ২১ রানে ফেরার পর চট্টগ্রামের জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এবং তারা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয়। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো চারটি উইকেট নেন, আর হাসান মুরাদ তিনটি উইকেটের অবদান রাখেন।

    আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ভালো শুরু পায়—সাহিবজাদা ও তানজিদ ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন। পাওয়ার প্লে পেরিয়ে গেলে তারা আক্রমণাত্মক খেলায় তাবড় প্রভাব ছড়ান; তানজিদ ২৯ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। ওপেনিং জুটির সংগ্রহ ছিল ৮৩ রানের ওপর। পরে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ সেই জুটি ভাঙেন। কিয়ান উইলিয়মসন কিছুটা দ্রুত মারতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঝড় তোলেন তানজিদ। উইলিয়ামসন সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন।

    তানজিদের সেঞ্চুরি ইতিহাসের পাতায় জায়গাও করে নিল—বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তিনি তৃতীয় ক্রিকেটার। এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তানজিদের এই ক্যারিয়ার-উপলক্ষ্যে একটি অন্য মাইলফলতিও এসেছে: বিপিএলে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা তালিকায় তানজিদ এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, তিনটি সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি শান্ত, তাওহিদ হৃদয় ও তামিমকে পেছনে ফেলেছেন; কেবল ক্রিস গেইলের পাঁচটি সেঞ্চুরি এখনও তার ওপরে আছে।

    রাজশাহীর সাজগোজের শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রানে ইনিংস শেষ করেন। তানজিদের সেঞ্চুরিতে রানের পুঁজি দাঁড়ায় ১৭৪।

    টুর্নামেন্ট লিডারশিপকেও নতুন কোনো রূপ দেয়া হয়েছে: ইনিংসের শেষ বলে শান্তকে ফেরিয়ে তাসকিন আহমেদকে ছাড়িয়ে এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের মালিক হয়েছেন শরিফুল ইসলাম—গত আসরে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেন তাসকিন; এবারের সমান ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন শরিফুল।

    চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স উজ্জ্বল একটি জয় থেকে ট্রফি জিতে নেয়—ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্তে দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তানজিদের ধ্বংসাত্মক ইনিংসই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

  • বিপিএলে কারা কোন পুরস্কার পেলেন

    বিপিএলে কারা কোন পুরস্কার পেলেন

    রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বলিষ্ঠ জয়ে শেষ হলো এবারের বিপিএল—নাজমুল হোসেন শান্তের অধীনে দল প্রথম শিরোপা জিতলো। ফাইনালে তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহানের ধারাবাহিক জুটিই রাজশাহীকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে; তানজিদ 62 বলেই সেঞ্চুরি করে 7টি ছক্কায় 100 রানের ইনিংস খেলেন এবং দল 174 রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

    রান তাড়া করার পথে শুরু থেকেই হতাশায় ভুগে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দো নাইম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফেরিয়ে বন্দরনগরীর দলকে চাপে ফেলেন। মাঝের ওভারগুলোতে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদও জাদু দেখান—ফাইনালে তিন উইকেট নেন তিনি। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে বিনুরার স্লোয়ার এবং মুরাদের স্পিন মিলিয়ে চট্টগ্রামকে 111 রানে বেধে রাখে রাজশাহী, ফলে শেখ মেহেদীর দল 63 রানে হেরে যায়।

    চ্যাম্পিয়ন প্রতিটি দল 2 কোটি 75 লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে, রানার্স-আপ চট্টগ্রাম পেয়েছে 1 কোটি 75 লাখ টাকা।

    ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকা:

    – ফাইনাল সেরা (ম্যান অফ দ্য ম্যাচ): তানজিদ হাসান তামিম — ফাইনালে সেঞ্চুরি করে এই পুরস্কার ও 5 লাখ টাকা অর্জন করেন। টুর্নামেন্টজুড়ে তানজিদ মোট 356 রান করেছিলেন।

    – টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক (বেস্ট ব্যাটার): পারভেজ হোসেন ইমন (সিলেট টাইটান্স) — 395 রান; বেস্ট ব্যাটার হিসেবে তিনি 5 লাখ টাকা পেয়েছেন।

    – সবচেয়ে বেশি ক্যাচ (আউটফিল্ডে): লিটন দাস — পুরো টুর্নামেন্টে কিপিং না করেও আউটফিল্ডে 10টি ক্যাচ নিয়েছেন।

    – সেরা ফিল্ডার: রংপুর রাইডার্সের ডানহাতি ব্যাটার — সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার ও 3 লাখ টাকা পান। (প্রতিযোগিতার বিবরণে খেলোয়াড়ের নাম আলাদা করে দেওয়া হয়নি)

    – ইমার্জিং প্লেয়ার: রিপন মণ্ডল (রাজশাহী)— 8 ম্যাচে 17 উইকেট; ইমার্জিং প্লেয়ারের পুরস্কারসহ তিনি 3 লাখ টাকা পান। রিপন ছিলেন ফাইনালের একাদশে না থাকলেও টুর্নামেন্টে তাঁর পারফর্ম্যান্স নজর কেড়েছে।

    – বেস্ট বোলার: শরিফুল ইসলাম — বাঁহাতি এই পেসার 12 ম্যাচে 26 উইকেট নিয়ে বিপিএলের এক সিজনে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন (পেছনে ফেলেছেন তাসকিনের 25 উইকেটকে)। বেস্ট বোলারের পুরস্কার হিসেবে তিনি 5 লাখ টাকা পান।

    – প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটারও হয়েছেন শরিফুল ইসলাম; প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হিসেবে তিনি 10 লাখ টাকা পান। এই সম্মানের কথা শেয়ার করে শরিফুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে, তবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগতো।’

    পুরস্কারদানে এবং পারফরম্যান্সে মিলে এবারের বিপিএল স্মরণীয় হয়ে থাকল—রাজশাহীর প্রথম ট্রফি, ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের উঠে আসা।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ মারা গেলেন

    ঢালিউডের সোনালী দিনের জনপ্রিয় নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘসময় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইন্তেকাল করেন তিনি।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়রে জন্ম নেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে সপরিবারে পাঞ্জাব চলে গেলেও পরবর্তীকালে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে কাজ শুরু করেন।

    জানানো হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ক্যানসারে ভুগছিলেন জাভেদ; পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও ছিল। গত বছরের এপ্রিলে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। কয়েক দিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসাসেবা চলছিল; হাসপাতালে তখন চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে তাঁর দেখাশোনা করছিলেন। জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হয়। দুই নার্স এসে জানায় শরীর পুরো ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অভিনয় ও নৃত্যের সাথে শুরু থেকেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল জাভেদের। তিনি zunächst নৃত্য পরিচালনায় ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটলেও প্রকৃতভাবে খ্যাতি আসে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, যেখানে বিপরীতে ছিলেন শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করে তোলেন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক ছবিতে এবং সত্তর-আশির দশকে দর্শকদের মনে তিনি ছিলেন নাচ-অ্যাকশনের এক অনবদ্য মিশ্রণ। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে।

    জাভেদের কিছু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্তশপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা-বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।

    ইলিয়াস জাভেদের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের শেষচিহ্ন, অনেকেই তাঁর চলে যাওয়াকে বাংলা সিনেমার ভাণ্ডারের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন সহশিল্পী ও অনুরাগীরা।