সাতক্ষীরায় এ বছর মুকুলের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নতুন মৌসুমের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রতিটি আম গাছে এখন মুকুল ভরে গেছে, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি মুকুলের ঘ্রাণ। জেলায় এবার মোট ৪ হাজার ১৩৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে, যা προηγের তুলনায় বেশ উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। আশা করা হচ্ছে, এই মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পৌঁছাবে ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন, যা গত বছর প্রায় সমান। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
Blog
-

কালীগঞ্জে রেল লাইনের পাশে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকায় রেল লাইনের পাশে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেই যুবকের প্রায় ২০ থেকে ২১ বছরের মরদেহটি সংগ্রহ করে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো সকালে বারবাজার এলাকার রেল লাইনের পাশ দিয়ে গেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরের পাশে এক যুবকের নিথর শরীর পড়ে থাকতে দেখেন। তারা সন্দেহ থেকে তা স্থানীয়দের জানায়, পরে পুলিশেও খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, যুবকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে হয়তো ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি কি সত্যিই একটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
যশোর রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জৌতিষচন্দ্র বর্মন বলেন, ‘আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়েছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য পরিস্থিতির বিস্তারিত জানা যাবে।’
অপরদিকে, যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তার পরিচয় জানার জন্য আশপাশের থানাগুলোতে সাধারণ ডায়েরি জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। যুবকের পরিচয় জানা গেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তখনই সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
-

চাঁদাবাজি বন্ধের পর কালীগঞ্জে ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করলেন এমপি আবু তালিব
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরকে আরও বেশি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব। বুধবার সকাল থেকেই তিনি নিজে হাতে ঝাড়ু তুলে নিয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
সকাল থেকেই শহরের বড় বাজার, জনতা মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয় এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। এই সময়ে ময়লা-আবর্জনা সরানো, ড্রেন পরিষ্কার করা এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নানা কার্যক্রম চালানো হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, পথচারী এবং সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে উৎসাহিত করে বলেন, একজন সংসদ সদস্যের সরাসরি মাঠে নেমে এই ধরনের উদ্যোগ দেখে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রেরণা জাগে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে শহর আর বেশি যত্নসহকারে পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং শহর বাতাসে সুগন্ধি থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে তিনি শহরের বিভিন্ন সড়কে উপস্থিত হয়ে অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং এর জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।
সংসদ সদস্য আবু তালিব বলেন, একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর প্রতিষ্ঠা করতে শুধু পোরসভার ভূমিকা নয়, সচেতন নাগরিকেরও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, কালীগঞ্জকে একটি আদর্শ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি নিয়মিত এই ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাবেন এবং পৌরবাসীকে এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। তারা আশা করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কালীগঞ্জ আরও আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে উন্নতি করবে।
-

৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি ব্যবসায়ী সুজনের, পরিবারের দাবি উদ্ধার করা হোক
খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন গত বুধবার তারাবির নামাজ আদায় করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। পাঁচ দিন ধরে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, যা দেখে পরিবারের সদস্যরা গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভেঙে পড়েছেন। মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, স্তব্ধ স্ত্রী ও কাঁদছে পাঁচ বছরের একমাত্র ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী আব্দুস সোবহান, সুজনের পিতা, জানান, তার ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় তারা সবাই מאוד অসুস্থ। তিনি বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে বাসায় ইফতার শেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর তিনি পুলিশ লাইন মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে যান। প্রায় আধাঘণ্টা নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি সামনের রাস্তায় দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তাই তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৪৬০) করেন। পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্যে তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজ চালিয়েছেন, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। মানসিকভাবে ধরাশায়ী এই পরিবার জানিয়েছেন, সুজন কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনও জড়িত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা শত্রুতা নেই। তিনি শুধু ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তিনি খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সুজন মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে দেখাও গেছে। কিন্তু ক্যামেরাগুলোর বেশিরভাগই নষ্ট থাকায় তার গন্তব্য নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফুটেজে ধারণা করা হয়েছে, তিনি সম্ভবত কাস্টমঘাট এলাকার দিকে গিয়েছিলেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কাজী আব্দুস সোবহান জানান, সুজন কোনও হুমকি বা সন্দেহজনক ফোন কলের খবর পাননি। তার কোনও বিরোধ বা লেনদেনের সমস্যা ছিল না। তিনি আরো যোগ করেন, নামাজে যাওয়ার সময় সুজন মোবাইল বা মানিব্যাগ নিজ সঙ্গে নিয়ে যাননি; সম্ভবত পকেটে সামান্য টাকা থাকতে পারে।
অবস্থা এতটাই উত্তেজনাকর যে পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে খুঁজে না পাওয়ায় উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। জানা গেছে, তিনি খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তার সন্ধানে কাজ করছে।
খুলনা সদর থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, সুজনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। ক্যামেরাগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি নামাজ শেষ করে কাস্টমঘাট এলাকায় গিয়েছিলেন, এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। আমরা তার খোঁজে নানা ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে কাজী আব্দুস সোবহান একের পর এক আবেদন করেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে তার ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি প্রার্থনা করছি, যেন তিনি এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
-

নড়াইলে ৪ হত্যাকাণ্ডে মামলা এখনো দায়ের হয়নি, আটক ৭ জন
নড়াইলের সদরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা-ছেলেসহ চারজনের নিহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার এখনও কোনো মামলা করেনি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার মধ্যে পুলিশ এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাতজনকে আটক করেছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলি মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটককৃতরা হলেন: সদর উপজেলার সিংগা গ্রামের ইউপি সদস্য ও মুক্তার হোসেন মোল্যার পুত্র মুশফিকুর রহমান ওরফে মোфাজ্জেল (৫৫), তারপুর গ্রামের মৃত রুফল মোল্যার পুত্র সদর মোল্য (৩৬), তৈয়ব শিকদারের ছেলে সূর্য শিকদার লাজুক (৩২), সবুর মোল্যার পুত্র জসিম মোল্যা (৩৬), একই গ্রামের আমিন শিকদারের ছেলে রনি শিকদার (২৯), বড়কুলা গ্রামের মৃত লালন ফকিরের ছেলে হালিম ফকির (৬০) এবং কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের তোজাম মোল্যার পুত্র তুফান মোল্যা (৩০)।
প্রাথমিক সূত্রে জানা যায়, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খয়রুজ্জামান মোল্যা ও খলিল শেখের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। সোমবার ভোরে (২৩ ফেব্রুয়ারি) সেহরির সময় খইরুজ্জামান মোল্যার অনুসারীরা বড়কুলা এলাকায় খলিল শেখ ও তার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। গুলি চালানো হয় এবং আতঙ্ক বিরাজ করে। এ সময় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ ও চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখকে এলোপাতাড়ি কোপে হত্যা করা হয়।
নির্বিচারে হামলায় আরও ১০ জন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা অহিদুর ফকিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মরদেহগুলি ময়নাতদন্ত শেষে নিহত খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ ও চাচাতো ভাই ফেরদৌসের দাফন সম্পন্ন হয়। একই দিনে খয়রুজ্জামান মোল্যার অন্য ছেলে অহিদুরের মরদেহ তারাপুরে দাফন করা হয়।
অভিযোগে জানা যায়, এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ সাতজনকে আটক করে। সোমবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাজুক, রনি, সদর, জসিম, হালিম, তুফানসহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে, মঙ্গলবার রাতে মোফাজ্জেলকে সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। তাদের ১৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, কারণ তারা নিহতদের ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ হচ্ছে।
-

খুলনা অঞ্চলের কাঁচাপাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা
খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। বর্তমানে পাটের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, ফলে বেশ কিছু মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়ছে, পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক লোকসান বাড়ছে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ হয়ে আছে। শ্রমিকরা এখানে কাজ করতে এসে দিন কাটাচ্ছেন বিনা কাজে। একই পরিস্থিতি খুলনার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত এক ডজনের বেশি মিলের। কিছু মিল কেবল সীমিত আকারে উৎপন্ন করলেও বেশিরভাগেই কার্যক্রম বন্ধ বা স্থবির। শ্রমিকরা সতর্ক করে বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা স্থায়ীভাবে কর্মচ্যুতি হতে পারে।
দৌলতপুর জুট মিলে শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দেড় মাস ধরে আমাদের মিল বন্ধ, কাঁচা পাট না থাকায় মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আমাদের চাকরি হারাতে হবে, কারণ মালিক চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে পারে। আর আমাদের জন্য নতুন কাজের সুযোগও ক্ষীণ।
একই মিলের শ্রমিক হাবিবুল্লাহ আরও জানান, আমরা কাজ করিা এ দাবি নিয়ে মালিকের কাছ থেকে পেয়ে থাকি দু’টাকা আয়, আর আমাদের মজুরি মাত্র এক টাকা। গত তিন বছর ধরে মিলটি ভালোই চলছিল, কিন্তু গত দেড় মাস থেকে আমরা বসে আছি। মালিক যদি নিজেও বাঁচেন না, তাহলে আমাদের বাঁচানোর কী উপায়? এ সংকটের সমাধানে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শুরুর সময় পাটের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা মণ, বর্তমানে তা বেড়ে ৫২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে এসেছে। দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু বাজারে পণ্যের মূল্য সে অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে উদ্যোক্তারা উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলিক জানান, এখন পাটের দাম বাড়ায় মিল চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে প্রতিটি ব্যাগ বিক্রি হত ৮০ টাকা, এখন পাটের দাম ৫২০০ টাকায় পৌঁছেছে। এই দামে উৎপাদন চালিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়েছে, ফলে শেষ পর্যন্ত মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কাঁচা পাটের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগ মতে, চলতি বছরেও পাটের উৎপাদন মোটেও কম নয়, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। সরকার এখন পর্যন্ত তদারকি না করলে এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে।
অর্থনৈতিক ও কৃষি তথ্য বলছে, গত দুই বছরে খুলনা অঞ্চলে পাটের উৎপাদন মোটেও কম হয়নি। কৃষি বিভাগ সূচক অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টরে ৯৪,৬৬৬ মেট্রিক টন, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ২৮৬ হেক্টরে ৯১,১৩৫ টন পাট উৎপাদিত হয়েছে।
তবে মিল মালিকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাট মজুত করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেছেন, বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের ভর্তুকি ও তদারকি 늘ানোর উদ্যোগ দরকার। তিনি আরও বলেন, অসাধু মহল কৃত্রিমভাবে পাট মজুত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে এবং এর ফলে সমগ্র খাতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ার সমস্যাও রয়েছে।
পাট অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারিতে রয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার জানিয়েছেন, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কঠোর তদারকি করছি, বেশি মজুত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এসব মিলের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার একটি বড় অংশ বিদেশে রফতানি হয়। যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে উৎপাদন ও রফতানিতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
-

ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার
প্রবাসীরা দেশটিতে ঈদুল ফিতর, জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে আগের থেকেও বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায়, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছুঁই ছুঁই করেছে দুই বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি ডলার), যা এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে এই মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশাও করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট এবং রমজানের সময় পরিবারের বাড়তি খরচ মোকাবিলা করতে প্রবাসীরা আরও বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, মার্চ ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতর সময় ৩২৯ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে, মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। সেখানে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই অগ্রগতি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য আশার সূচনা করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে, ieএমএফের হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ কিছু কম—প্রায় ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে। ব্যাংকখাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়াসহ, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীলতা লাভ করেছে।
-

বাংলাদেশে ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বাড়ছে। আজ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা ভরি দামের বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরির দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বাজুস এই নতুন দাম সম্পর্কে জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সংগঠনটি উল্লেখ করে যে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।
এদিকে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের এই বৃদ্ধি দেশের বাজারে সোনার দাম আরও ক্লারিটি দিয়েছে। এক্ষেত্রে, মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার ভরি নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য ক্যারেটের দামের মধ্যে রয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।
সোনার দামের সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে চলমান বৃদ্ধির চিত্রও স্পষ্ট। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।
অতীতে, গত ৩০ জানুয়ারিতে দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারিতে এটি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম সাধারণত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ২৬ জানুয়ারির শেষে দেখা গেছে, এক বারে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়, ফলে মানসম্পন্ন এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি ছিল তখন পর্যন্ত দেশের বাজারে সর্বোচ্চ সোনার দাম, যা আগে কখনো এত বেশি বাড়েনি।
-

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান নিয়োগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই বিষয়গুলো জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ড. আহসান এইচ মনসুরের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে, যা ১৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে নির্দেশিকায় উল্লেখ ছিল।
নতুন গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে জানানো হয়, তিনি অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে, তার যোগদানের দিন থেকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি এফসিএমএ শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং সরকারের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্তাদি চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অতিদ্রুত কার্যকর এই আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সংস্থা বিজিএমইএ’র সদস্য ও হিরা সোয়েটার প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি একজন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কোনও আনুষ্ঠানিক কিছু না জানিয়ে ব্যাংকের কার্যালয় ত্যাগ করেন। তার অবজারভেশনের জন্য কিছু মিডিয়া এই নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারলে তিনি জানান, আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবর শুনেছি। এর বাইরে আর কিছু বলেননি তিনি।
সূত্র থেকে জানা যায়, সকালে অফিসে সাধারণ কার্যক্রম করতে গিয়ে হঠাৎ তার পরিবর্তনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তিনি কোনও কথা না বলে অফিস ত্যাগ করেন। তার এই আকস্মিক প্রস্থান ব্যাংকের কর্মপরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৯ আগস্ট বিকেলে পদত্যাগ করেন। এরপর ১৩ আগস্ট ড. আহসান এইচ মনসুরকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
-

দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই দাম গতির দুই দিনের ব্যবধানে আবারো বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় এক বিজ্ঞপ্তির মধ্য দিয়ে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, দেশে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বাড়ার কারণে সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন দরে, ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্যও বাড়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। তবে এই দামে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরির কথা যুক্ত থাকবে। গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরি পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দামে সমন্বয় করে। সেই দিন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারিত হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।
এই বছর এখন পর্যন্ত ৩২ বার স্বর্ণের দাম নতুন করে নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বার দাম বেড়েছে এবং ১২ বার কমেছে। গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৯ বার দাম কমেছিল।
অপরদিকে, এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব রুপার মার্কেটে পড়েনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকায়।
চলতি বছরে রুপার দামে ১৮ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার বেড়েছে এবং ৭ বার কমে। গত বছর মোট ১৩ দফায় রুপার দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ১০ বার বাড়ে এবং ৩ বার কমে।
