হাইকোর্ট সোমবার দেশজুড়ে হাম আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে যে তদন্ত বা তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের দুই সপ্তাহের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম ও ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কিত একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায়ের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদেশের শুনানিতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। ঘটনা সংক্রান্ত সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইন কর্মকর্তারা।
রিটটি গত ২ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করা হয়েছিল। আবেদনটিতে বলা হয়, দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। সেই রিটে আরও দাবি করা হয়, হামের প্রকোপ না কমানো পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখাসহ জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
রিট আবেদনে সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ সময়মত টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া, টিকার প্রাপ্যতা বজায় রাখতে না পারা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিক্রিয়া প্রদানে ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা এসবকে সংবিধানগত অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২১৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে; এদের মধ্যে ৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৩১,০২৮ জন এবং তাদের মধ্যে ৪,৬০৩ জন রোগীর হাম নিশ্চিত হয়েছে।
হালের প্রাদুর্ভাবটি দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে শহর ও জনবহুল এলাকায় দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচ বছরের নিচের শিশু—এবং অভিযোগ করছেন ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়নি এমন শিশুদের birnäকে কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিকমতো টিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
হাইকোর্টের এই নির্দেশ সরকারকে ত্বরান্বিত অবস্থায় টিকাদান ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। আদালত দুই সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী নির্দেশনা জারি করবেন।
