Blog

  • জামায়াত আমিরের চিঠি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ চাওয়া—পরে নতুন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা

    জামায়াত আমিরের চিঠি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ চাওয়া—পরে নতুন উপদেষ্টার নাম ঘোষণা

    জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে একটি চিঠি দিয়ে তাঁর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিটি বিরোধী দলীয় নেতার দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এই চিঠি পৌঁছানো এবং অনুরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জামায়াত আমিরের যুক্তি ছিল, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের কূটনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক দেশের সঙ্গে বিরোধী দলের সম্পর্ক উন্নয়নে কাজে লাগবে; একই সঙ্গে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিসমূহ সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা যাবে এবং বৈশ্বিক মঞ্চে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    তবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও পেশাদার কূটনীতিকরা এ ধরনের পদায়ন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে না বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের কথায়, এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এমন নজির নেই। তারা আরও বলেন যে যুক্তরাজ্যসহ কিছু পশ্চিমা দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর ভূমিকা দেখা যায়; আবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় সংকট বা বিশেষ প্রয়োজনে সব দল একসঙ্গে কাজ করার উদাহরণ আছে।

    প্রাক্তন ও বর্তমান কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবেদনশীল মহল। বিদেশি দেশ ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করার সময় দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার ও ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছাকে বিবেচনায় রেখে সতর্ক সমন্বয় প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্নভাবে নিয়ে এলে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকতে পারে।

    জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান নিজেই আমিরকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন এবং সেখানে মৌখিক সম্মতিও এসেছে। কিন্তু মন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগের বিষয়টিতে আমির অনুমোদন দেননি। পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবকেও জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে জামায়াত আমির উল্লেখ করেছেন যে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় রূপায়িতভাবে কাজ করতে সক্ষম। তিনি ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা ও দেশের পররাষ্ট্রনীতির সামঞ্জস্য ধরে রাখতে মাহমুদুল হাসানকে পদায়নের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেছেন।

    চিঠি পাঠানো ও পরবর্তীতে উপদেস্টার বদলের ঘটনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় বা সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও সীমিত। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

  • নাহিদ ইসলাম: ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ব’

    নাহিদ ইসলাম: ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গড়ব’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে এগোতে হবে। সোমবার সন্ধ্যায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এনসিপির আয়োজন করা বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ বলেন, যেভাবে আজকের ইফতার মাহফিলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, ঠিক সেই মনোভাব নিয়ে সংসদেও একযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সকল অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বারবার বলেন, জুলাই সনদই হচ্ছে সেই নির্দেশনা—এটি বাস্তবায়ন করেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথে এগাব।

    বক্তা অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার কোনো স্বতন্ত্র নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসেনি; এটি অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজন করা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের বৈধতাও তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদে বেঁধে দিয়েছেন এবং তা কেউ ভোলা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    নাহিদ আরও বলেন, পুরোনো সংবিধানের আড়ালে যদি সংস্কারের কাজ থেকে পিছু হঠা হয় বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হয়, তাহলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শাহাদাত ও হাজারো মানুষের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদকে যদি আবারও পুরোনো সংবিধানের ঢিলেঢালা ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্কার সভা, শপথ গ্রহণ বা প্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা হয়, তবে আগস্ট–জুলাই কর্মসূচি, নির্বাচনের মধ্যপ্রাচীতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা সবকিছুরই প্রশ্ন উঠবে।

    নাহিদ গানেন, এই মুহূর্তে যে ঐক্য এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্ভব হয়েছে, তা হয়েছে তাদের হাজারো ভাই-বোনের শাহাদাত ও রক্তের বিনিময়ে—তারা রাজপথে দাঁড়িয়েছেন বলেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটিতে বিভিন্ন দল থেকে নেতৃবৃন্দ ও অনেকে অংশ নেন এবং একযোগে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১৮ ও ১৯ মার্চ কিছু শাখা সীমিতভাবে খোলা থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১৮ ও ১৯ মার্চ কিছু শাখা সীমিতভাবে খোলা থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদের ছুটির সময়ে আগামী ১৮ মার্চ (বুধবার) ও ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) কয়েকটি এলাকার কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এই নির্দেশনা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট ও অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) জারি করেছে।

    সরকার নির্বাহী আদেশে ১৮ মার্চকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করায় সাধারণত তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা বন্ধ থাকবে। তবে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধ এবং রফতানি বিল ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বিশেষ কিছু শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখিত শাখাগুলো হলো ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বস্ত্রশিল্প সংযুক্ত এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখা। এসব শাখায় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সীমিত সংখ্যক কর্মী নিয়ে ১৮ ও ১৯ মার্চ দুইদিন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

    এই দুইদিন ব্যাংকের অফিস খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। অফিসের মধ্যে যোহরের নামাজের জন্য দুপুর ১:১৫টা থেকে ১:৩০টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে। আর লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

    আগে জারি করা নির্দেশনা অনুসারে সমুদ্র, স্থল ও বিমান বন্দর সংলগ্ন (পোর্ট ও কাস্টমস) এলাকায় থাকা শাখা, উপশাখা ও বুথগুলো ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিতভাবে চালাতে পারবে; এই ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এসসংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • বাজুস: প্রতি ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমলো

    বাজুস: প্রতি ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩,২৬৬ টাকা কমলো

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এ ঘোষণা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি দাম দুই লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে, ফলে ভালো মানের সোনার ভরি দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।

    বাজুস আজ সোমবার (০৯ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ে বলে, নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমায় স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দর অনুযায়ী প্রতিটি গ্রেডের ভরি দাম হচ্ছে:

    – ২২ ক্যারেট: দুই লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: দুই লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: এক লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও কমে গেছে। প্রতি ভরির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে:

    – ২২ ক্যারেট: ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ৬ হাজার ৬৫ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ৫ হাজার ১৯০ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ৩ হাজার ৯০৭ টাকা

    বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত ঘটনায় স্বর্ণের দাম বাড়ছিল। কিন্তু আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন দেখা গেছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুসারে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,০৯০ ডলার, যেখানে গতকাল ছিল ৫,১৭০ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলারে উঠেছিল।

    স্থানীয় বাজারে এই পতন আগের সপ্তাহের উত্থানের পর আগত সমন্বয় হিসেবেও দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ায় দেশে এক ধাক্কায় দাম বাড়ানো হয়েছিল—২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এক অবশ্যম্ভাবী সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ায়, ফলে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকায়; যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড।

  • ৩৪তম দফায় হাইপারসনিকসহ চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

    ৩৪তম দফায় হাইপারসনিকসহ চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান

    ইরানের ৩৪তম দফার হামলায় হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ মোট চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দেশটির আধা-সরকারি সূত্র দাবি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা।

    ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বিবৃতি উদ্ধৃত করে মেহর নিউজ জানিয়েছে, এ দফায় আইআরজিসি তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি, বাহরাইনের জুফায়ার এলাকার মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফা শহরের বেসামরিক বিমানবন্দর।

    আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গোপন ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারেও আঘাত হেনেছে। তবে এসব দাবির ক্ষতিসাধন বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব লক্ষ্যমাত্রা শনাক্ত ও প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই চলছে।

    এই ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন সরকারি ও আধা-সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে; পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ এখনো হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা।

  • ইরানের হামলায় ইসরায়েলে হাসপাতালে ভর্তি ২,৩৩৯ জন

    ইরানের হামলায় ইসরায়েলে হাসপাতালে ভর্তি ২,৩৩৯ জন

    গত ১০ দিনে ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত হয়ে মোট ২,৩৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে বর্তমানে ৯৫ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সদ্য ১৯১ জন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    পটভূমি জানাতে গেলে, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলেছিল ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত—মোট ২১ দিন। ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান চালায়।

    আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের প্রথম দিনেই—২৮ ফেব্রুয়ারি—ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ অন্তত ৪০ জন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যদিও এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানিয়েছে, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জয়েন্ট হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত এবং ১০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • খুলনায় ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে ১৫ তলা থেকে শ্রমিক নিহত

    খুলনায় ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণে ১৫ তলা থেকে শ্রমিক নিহত

    খুলনায় নির্মাণাধীন ক্যান্সার হাসপাতালের ১৫ তলা থেকে পড়ে বজলুর রহমান (৪৫) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা পৌনে ১২টার দিকে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অন্তর্বর্তী ভবনে নির্মাণকাজ চলার সময়।

    সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত বজলু সাতক্ষীরা জেলার কুশখালী গ্রামের বাবর আলীর ছেলে।

    প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বজলু সিনিয়র রড মিস্ত্রি হিসেবে ১৫ তলায় কাজ করছিলেন। হঠাৎ পড়ে গেলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় থানায় নথি করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে, পুলিশ পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবে।

  • খুলনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত: আলোচনা ও অগ্নি-ভূমিকম্প মহড়া

    খুলনায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালিত: আলোচনা ও অগ্নি-ভূমিকম্প মহড়া

    ‘‘দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব’’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অগ্নিকান্ড ও ভূমিকম্প থেকে আত্মরক্ষার ওপর মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম। তিনি বক্তব্যে বলেন, জনসচেতনতা হলো দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে দুর্ঘটনাকে বৃহত্তর বিপর্যয়ে পরিণত হতে বাধা দেয়া যায় এবং জীবন ও মালমাল রক্ষায় তা সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

    আরিফুল ইসলাম আরও জানান, ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে পড়ে — তাই আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি সবাইকে সাহস ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিবেশ রক্ষা হলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

    জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদ সরদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা। তারা মহড়ায় অংশ নিয়ে অগ্নি ও ভূমিকম্পের সময় করণীয়, দ্রুত সীমিত ক্ষতি ও উদ্ধারকর্ম পরিচালনার কৌশল উৎকর্ষ করার নির্দেশনা দেন।

    দিবসটির অংশ হিসেবে খুলনা কালেক্টরেট চত্বরে অগ্নিকান্ড ও ভূমিকম্প থেকে আত্মরক্ষার মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এর আগে নগরীর শহিদ হাদিস পার্ক থেকে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

    দিবসটি মূলত জনসচেতনতা বাড়ানো, দুর্যোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত সাড়া দানের সক্ষমতা শক্তিশালী করাই লক্ষ্য রাখে। আয়োজকরা বলেন, নিয়মিত মহড়া ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ চালিয়ে জনগণকে আরো প্রস্তুত করা হবে।

  • ব্রাজিলে ফাইনালে মারামারি—২৩ জনকে লাল কার্ড

    ব্রাজিলে ফাইনালে মারামারি—২৩ জনকে লাল কার্ড

    দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে উত্তেজনা এবং প্রবল আবেগ দুর্লভ নয়। তবে ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে যা ঘটল, তা যেন সব রেকর্ডই হার মানাল। মিনিটের মধ্যে খেলোয়াড়েরা একে অপরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করলেন, শেষে রেফারি পকেট থেকে বের করলেন মোট ২৩টি লাল কার্ড — ফুটবলের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।

    ফাইনালে মুখোমুখি ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রুজেইরো ও অ্যাতলেটিকো মিনেইরো। ম্যাচ একেবারে শেষ মুহূর্তে পৌঁছালে ক্রুজেইরো এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে। ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার মাত্র ৩০ সেকেন্ড আগে ক্রুজেইরোর স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান ও অ্যাতলেটিকোর গোলরক্ষক এভারসনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

    ঘটনার পর এভারসন তার নিয়ন্ত্রণ হারান—ক্রিস্টিয়ানকে টেনে মাটিতে ফেলে ও তাঁর বুকের ওপর উঠে ক্ষোভ উছলান। পরিস্থিতি শান্ত করতেই রেফারি এগিয়ে আসেন, কিন্তু পেছন থেকে ক্রুজেইরোর এক খেলোয়াড় এভারসনকে ধাক্কা দিলে তিনি গোলপোস্টে গিয়ে আঘাত লাগে ও ভূমিতে পড়ে যান।

    ঠিক তখনই মাঠে বিশাল মারামারি শুরু হয়। দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে আক্রমণ করতে শুরু করেন; কিল-ঘুষি, লাথি ও ধাক্কাধাক্কি ছড়ায়। ডাগআউট থেকে বেঞ্চের খেলোয়াড় ও ক্লাব স্টাফরাও দ্রুত মাঠে কূট-কেচুরি নিয়ে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠে যে মাঠ থেকে নিরাপত্তাকর্মী এবং সামরিক পুলিশকে লুটিয়ে দিতে হয়।

    ম্যাচটি মারামারির কারণে প্রায় দশ মিনিট বন্ধ রাখা হয়। শান্তি ফিরে আসার পরে খেলোয়াড়রা মাঠে ফিরে গেলেও রেফারি কোনো বুকিং দেননি তখনই। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনার কারণে রেফারি মোট ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন।

    রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যাতলেটিকোর ১১ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পান—ইদের মধ্যে সাবেক ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার হাল্কও রয়েছেন—অপরদিকে ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পেয়েছেন। এই কার্ডসংখ্যা ১৯৫৪ সালে দেখা ২২টি লাল কার্ডের ৭২ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ডও ভেঙে দিল।

    ঘটনাটি ব্রাজিলীয় ফুটবলের ইতিহাসে কড়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং ম্যাচ শেষে উভয় ক্লাব ও ফেডারেশনের তদন্ত শুরু হওয়ার আশंका রয়েছে। সাধারণ দর্শক ও নিরাপত্তা সংস্থার সতর্ক হস্তক্ষেপ না হলে বড় ধরনের আকার ধারণ করতে পারে এমন সমস্ত সংঘাত নিয়ন্ত্রণকল্পে আগামী দিনগুলোতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে।

  • ট্রফি উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ

    ট্রফি উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ

    আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উপস্থিতিতে ট্রফি উন্মোচন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক এই আয়োজনেই দুই দলের অধিনায়ক ট্রফি সবার সামনে তুলে ধরেন এবং সিরিজকে ঘিরে প্রত্যাশা ও উত্তেজনা উভয়ই লক্ষ্য করা যায়।

    তিন ম্যাচের সিরিজে দুই দলই সেরা ফল চায়। স্বাগতিক বাংলাদেশ ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভালো করার পরিকল্পনা করছে, আর সফরকারী পাকিস্তান শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতিতে আছে। উন্মোচন অনুষ্ঠান ও সিরিজকে সামনে রেখে দুই দলের প্রস্তুতি ও কৌতুকেই ফুটেছে সিরিজের গুরুত্ব।

    বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘এ বছর আমাদের অনেক ওয়ানডে ম্যাচ আছে। সুতরাং আমরা পরিকল্পনা খুব ভালোভাবে করতে পারব। প্রতিটা ম্যাচ, প্রতিটা সিরিজ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

    সিরিজের প্রথম ওয়ানডে আগামী বুধবার মাঠে গড়াবে। একই ভেন্যুতে পরবর্তী দুই ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে, তাই উভয় পক্ষই ধারাবাহিকতা রাখার ওপর জোর দিচ্ছে। দর্শক ও ক্রিকেটভক্তরা এই বিতর্কিত সিরিজটি উপভোগের জন্য অপেক্ষা করছে।