ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন নথিতে স্বাক্ষর করে গেজেট করার কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে, যা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সোমবার (৪ মে) নিশ্চিত করেছেন।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা নুসরাত তাবাসসুমের নামে গেজেট করার জন্য নথিতে স্বাক্ষর করে ফেলেছি; এখন এটি বিজি প্রেসে পাঠানো হবে।
নিসচরিতভাবে, নুসরাত এবং আরেক প্রার্থী এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনদের মধ্যে ওই আসনের পরিস্থিতি আদালতেও গড়িয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল করা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনিরা শারমিনের করা রিটের শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত হবে। যদি শুনানিতে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা আসে, তখন সেই অনুযায়ী কাজ করা হবে; তবে আপাতত নির্বাচনী কমিশনের কাছে এ বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশনা নেই, জানান সংশ্লিষ্ট কমিশনার।
ঘটনার পটভূমি— ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে নানা বিতর্কের মধ্যে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জামায়াত জোটের হয়ে দাখিল করা হয়। সময়ের পরে জমা হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা তা গ্রহণ করতে বিরত থাকেন। এরপর ২৩ এপ্রিল মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। মনিরা সরকারি ব্যাংক থেকে অবসর নেওয়ার তারিখ থেকে তিন বছর পূর্ণ না হওয়াকে মোটিভ হিসেবে এই বাতিলের বিষয়টি আলোচিত ছিল।
নুসরাত পরে হাইকোর্টে রিট করেন; শুনানি শেষে আদালত তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা শনিবার (২ মে) বাছাই করে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং রোববার (৩ মে) সেই অনুযায়ী বৈধ প্রার্থীর তালিকায় নুসরাতের নাম প্রকাশ করেন। নির্বাচন আইনের প্রক্রিয়া মেনে বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করার পর আইন অনুযায়ী একদিন অপেক্ষা করা যায়; কমিশন বলছে তারা দুই দিন অপেক্ষা করেছে এবং এখনও কোনো উচ্চতর আদেশ পাননি।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি মনিরা শারমিনের রিটের শুনানি শেষে আদালত তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বলেন, তাহলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভোট দিয়ে দুই প্রার্থীর মধ্যে একজনকে বেছে নিবে। আর যদি আদালত মনিরার মনোনয়নপত্র খারিজের নির্দেশ দেন, তাহলে নুসরাত ওই আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে জায়গা নেবেন।
নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনগুলোর বণ্টন করে দিয়েছে— বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোটকে একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন। নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না; সেসব আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন।
কমিশন বলছে, আগামী শুনানির ফলাফল অনুযায়ী তারা দ্রুত নেয়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন এবং প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশ ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা পূরণ করবে।
