Blog

  • ধবলধোলাইয়ে শেষে আইসিসির শাস্তি: জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার ও ডিমেরিট পয়েন্ট

    ধবলধোলাইয়ে শেষে আইসিসির শাস্তি: জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার ও ডিমেরিট পয়েন্ট

    শ্রীলঙ্কা সফর বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্য মোটেই ভালো কাটেনি; সিরিজে দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে শাস্তিও পেয়েছেন তিনি।

    আইসিসি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জ্যোতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ পরিচালনার সময় দলের অধিনায়কের আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গের অভিযোগে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি মাঠের দুই আম্পায়ার এলয়িজ শেরিডান ও শাথিরা জাকির জেসি, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার চম্পা চাকমা করেন; ম্যাচ রেফারি হিসেবে শাস্তি ঘোষণা করেছেন সুপ্রিয়া রানি দাস।

    আইসিসির খেলোয়াড় ও সাপোর্ট পারসোনেলের আচরণবিধির ধারা ২.২ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে ক্রিকেট সরঞ্জাম, পোশাক বা মাঠের সরঞ্জাম ও স্থাপনা অপব্যবহারের অভিযোগে জ্যোতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে লঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর হাতে আউট হওয়ার (৯ বল থেকে ১৩ রান) পর হতাশায় ব্যাট ছুড়ে মারার ঘটনাই এ অভিযোগের সূত্র।

    আইসিসি জানিয়েছে, গত ২৪ মাসে এটি জ্যোতির প্রথম অপরাধ। তিনি দায় স্বীকার করায় আলাদা শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। লেভেল-১ ধারা ভঙ্গের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে আনুষ্ঠানিক তিরস্কার; সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ফি থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা এবং এক বা দুই ডিমেরিট পয়েন্ট আরোপ।

    খেলাগত দিক থেকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র সান্ত্বনা ছিল রাজশাহীতে পাওয়া প্রথম ওয়ানডে জয়। দলের সেই জয় ব্যতীত পরের পাঁচটি ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে হারতে হয় বাংলাদেশকে—ওয়ানডে সিরিজে ২-১ করে হার এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ। এই ধাক্কার পর ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি পাওয়ায় জ্যোতির ওপর এখন নজর থাকবে।

  • সালমান খান হারালেন ৪২ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুশীল কুমার

    সালমান খান হারালেন ৪২ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুশীল কুমার

    বলিউড তারকা সালমান খান তাঁর ৪২ বছর বয়সী ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুশীল কুমারের মৃত্যুর খবর সামাজিক মাধ্যমে নিজেই নিশ্চিত করেছেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    সালমান পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি সুশীলকে ভাইয়ের মতোই চিনতেন। স্মৃতিচারণ করতে করতে তিনি বন্ধুর সঙ্গে যেসব মুহূর্ত কেটেছে সেগুলোকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন এবং একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    পোস্টে সালমান বলেন, সুশীল ছিলেন এমন একজন — জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়েও তার মুখে সবসময় হাসি থাকতো। তিনি সবসময় বলতেন ‘সব ঠিক হয়ে যাবে, কিছুরই কিছু যায় আসে নেই’। এই সুরক্ষামূলক মনোভাবই ছিল তার বিশেষত্ব।

    বন্ধুর প্রয়াণের বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান লেখেন, সুশীল মৃত্যুর সঙ্গে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মতো লড়েছেন। তাঁর জন্য চোখে কোনো অতিরিক্ত জল নেই, বরং রয়েছে হাসি আর আনন্দময় স্মৃতি — যেগুলো সারাজীবন সঙ্গে থাকবে। সালমান আরও বলেছেন, জীবনে কাউকে আগে বা পরে পৃথিবী ছাড়তে হয়; তাই জীবিত থাকা অবস্থায় মানুষের জন্য কিছু করে যাওয়া উচিত।

    আরেক পোস্টে তিনি লিখেছেন, যাঁদের সময় এসেছে তাদের আটকে রাখা সম্ভব নয়; ভালো মানুষ অনেক সময় আগে চলে যান; আর যাঁদের কিছু দেনা-পাওনা মেটানো বাকি থাকে, তারা হয়তো একটু বেশি সময় পান; অসৎ বা দুর্নীতিগ্রস্তদের সময় সাধারণত পরে আসে — এমন অনুভব তার রয়েছে।

    সালমান সামাজিক মাধ্যমে প্রচলিত ‘আরআইপি’ শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থেকে জানিয়েছেন, তিনি সুশীলকে মৃতদেহ হিসেবে দেখতে চান না; তাকে তাঁর নামেই ডাকতে চান।

    সবশেষে বন্ধু হারানোর একাকীত্ব নিয়েও কথা বলেছেন অভিনেতা। তিনি শেয়ার করেছেন, সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু এখন বন্ধু ছাড়া একাকীত্বে তার শারীরিক ও মানসিক কিছু ক্ষতি হতে পারে — এমনটিতে তিনি উদ্বিগ্ন।

    সামাজিক মাধ্যমে সালমানের এই আবেগঘন পোস্টে নেটিজেনরা শোকাহত কমেন্ট করেছেন এবং সুশীলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • আবার অসুস্থ তানিয়া বৃষ্টি; ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

    আবার অসুস্থ তানিয়া বৃষ্টি; ভক্তদের কাছে দোয়া চাইলেন অভিনেত্রী

    ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি ফের অসুস্থ হয়ে ভক্তদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে তিনি; অল্প সময়ের মধ্যে মস্তিষ্কের টিউমারের বিরুদ্ধে দুইবার অস্ত্রোপচারও করেছেন। তাই তার শারীরিক অবস্থাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    শনিবার (২ মে) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তানিয়া লিখেছেন, “আসসালামু আলাইকুম। আমাদের সবার প্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি আপু শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থতার মধ্যে আছেন। তবে চিন্তার তেমন কিছু নেই, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রামে আছেন।” পাশাপাশি তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়াও চেয়েছেন।

    পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘‘আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন যেন তিনি খুব দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসতে পারেন।’’ এই আহ্বানে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে শোকান্বিত ও সহানুভূতিশীল মন্তব্য দেখা গেছে।

    চিকিৎসা বিষয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তানিয়ার ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। প্রথম অস্ত্রোপচার সফলভাবে করা হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে। পরে শারীরিক জটিলতা দেখা গেলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়, যেখানে দ্বিতীয় দফায়ও সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

    শোবিজ কেরিয়ারের কথা মনে করলে তানিয়া ২০১২ সালে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মঞ্চে পা রাখেন এবং এরপর টিভি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ২০১৫ সালে ‘ঘাসফুল’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে। যদিও তিনি কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেছেন, তবুও নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

    তানিয়ার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ছিল ২০১৯ সালে মুক্তিকৃত ‘গোয়েন্দাগিরি’। দীর্ঘ বিরতির পর রায়হান খানের ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমায় ফের বড়পর্দায় হাজির হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে চিকিৎসা ও বিশ্রামের দিকে মনোযোগী থাকায় তার কাজকর্ম নিয়ে অপেক্ষার পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ স্বভাবতই আছে; অনেকেই চিকিৎসার সফলতা ও দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করছেন।sources একযোগে দোয়া ও ভালবাসার আবেদন জানিয়েছেন, যাতে তানিয়া শীঘ্রই সুস্থ হয়ে পুনরায় দর্শক-দর্শিকাদের মাঝে ফিরতে পারেন।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তদন্তে কমিশন প্রত্যাশা করে হাইকোর্টে রিট

    অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম তদন্তে কমিশন প্রত্যাশা করে হাইকোর্টে রিট

    অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন ও দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ওই সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।

    রোববার (৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন। রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যকালীন গৃহীত সব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের বৈধতা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্তকমিশন গঠনের আবেদন করা হয়েছে।

    আবেদনটিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে এবং আদালতকে অন্তর্বর্তী সরকারের সব কার্যক্রম তদন্তপূর্বক একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, একই আইনজীবী পূর্বে বর্তমান সরকারের শপথ নেওয়া ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেছিলেন। সেই রিট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ খারিজ করে দেয়। পরে আপিল হলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ওই অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।

  • সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করতে হবে

    সংস্কার নিয়ে সরকারের প্রতারণার অভিযোগ; জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্য করতে হবে

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে যে সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোই অনুসরণ না করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সরকার যদি এভাবে চলে, তাহলে তা কর্তৃত্ববাদী পথে অভিনিবেশ করবে—তাই বিএনপিকে জুলাই সনদ (জুলাই চাটার) বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে বলে বক্তারা দাবি করেছেন।

    রোববার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এসব বক্তব্য রাখেন নেতারা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

    এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই স্পষ্ট হয়েছে—এ সংসদ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার সংসদ। সরকার এমন আইন করে যা তাদের ক্ষমতা বাড়ায়, কিন্তু যেগুলো সরকারি জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সেগুলো বাদ দেওয়া বা বাতিল করা হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমন কিছু অধ্যাদেশ ছিল যা স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সহজ করে দেয়; বর্তমানে সেই ক্ষমতা সরকারের হাতে পড়েছে, ফলে বিরোধী দলের কাউকে অপসন্দ হলে প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া যাচ্ছে।

    হান্নান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে কিছু কমিশন ও সংস্কারের কথাই উপেক্ষা করেছে। পুলিশ কমিশন নিয়ে দ্বিমত থাকলেও রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার যে উদ্যোগগুলো চাওয়া হয়েছিল সেগুলো থেকে সরকার সরে গেছে—কিছু ক্ষেত্রে কমিশন বাতিলও করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠনের উদ্যোগটিও বাতিল করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে যে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলো চেয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেগুলোর কোনোটি বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, দেশের শাসন ব্যবস্থায় একটি ক্ষমতাসম্পন্ন অভিজাত বর্জিত কাঠামো রয়ে গেছে—সিভিল, মিলিটারি ও বুরোক্রেসির সমন্বয়ে তৈরি ক্ষমতাগোষ্ঠী সংস্কার চান না। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সংসদে করা বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি কোনো উন্নত দেশে এমন মিথ্যা বক্তৃতা দিত কোনো মন্ত্রী, তাকে সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগ করতে হতো।

    সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য—এর মূল লক্ষ্য ছিল বিচার, শাসন ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। সংবিধান সংস্কারের প্রথম পর্যায়ে যে অনেক র‌্যাডিকাল ধারণা এসেছে, তাতে একাধিকার রোধের বিষয়টি ছিল স্পষ্ট; বিশেষ করে একই ব্যক্তির সব দায়িত্ব থাকা উচিত নয়—রাষ্ট্রপ্রধান এবং দলের নেতা আলাদা হওয়া উচিত। বিএনপির চাপে কিছু অবস্থান সমঝোতা করা হলেও যে অংশগুলো রক্ষা পেয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নই ছিল বড় অর্জন।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে ইচ্ছুক নয়—অনেকেই প্রথমে তাদের ‘সুদৃষ্টি’ সুবিধা দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পষ্ট হয়েছে তারা আর সংস্কার করবে না। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-ঘোষণা ও দলের ইশতেহারে থাকা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি সরকারের কার্যক্রমের মধ্যেই ভঙ্গ করা হয়েছে—উদাহরণ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নিয়োগ উল্লেখ করেছেন।

    সেশন সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সম্ভবত ক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চাইছে। তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’-কে মূল সমস্যা হিসেবে দেখেন না, বরং চান বিএনপি স্পষ্ট করে বলুক গণভোটের কোন অংশে তাদের আপত্তি—কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল একটি উচ্চকক্ষ হবে (ভোটের পিআর অনুযায়ী), তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা থাকবে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিরপেক্ষ বোর্ডের মাধ্যমে হবে। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি মধ্যম পথ হিসেবে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী ও গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের আইডিয়া নিয়ে এক সমাধান চাওয়া হয়েছিল—কিন্তু বিএনপি সেই প্রস্তাব থেকেই দুরে সরে গেছে।

    কনভেনশনে আলোচনা করায় অংশ নেন আরও অনেকে এবং অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধানে নানা ধারার বক্তারা সরকারের সংস্কার-নীতির সমালোচনা করে দ্রুত ও কার্যপন্থায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দেন। সম্মেলনের বক্তারা মিলে দাবি করেন—যদি সরকার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণের অধিকার রক্ষায় জাতির পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন দেখা দেবে।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল: সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির, পদপ্রত্যাশীরা লবিংয়ে

    খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো শক্তিশালী শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়েছে। মহানগর ও জেলা পর্যায়ের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় দলের স্থানীয় শাখাগুলোতে কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই নতুন কমিটি গঠনের জন্য বিভিন্ন নেতার মধ্যে তৎপরতা ও লবিং বাড়ছে।

    দলীয় সূত্র অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান দাব্দা কমিটি ২০২১ সালের ২৪ মার্চ গঠন করা হয়েছিল। তখন ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহবায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্যসচিব করা হয়েছিল। ওই কমিটি মহানগরের ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টিতে, ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৫টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তিন বছর পর, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    জেলা ছাত্রদলের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি আট বছর দায়িত্ব পালন করেছে। সেই সময় তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। মহানগরের মতোই ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই জেলা কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তিত পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর ও জেলা কমিটিগুলোকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘোষণা করে বিলুপ্ত করেছে বলে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানালেও, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কমিটি করা সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠে কিছু ইউনিট কমিটি কার্যকর থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকায় খুলনায় organisational শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের خلل দেখা দিয়েছে।

    একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের জন্য ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদারকি চলছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল নিজে এই প্রক্রিয়া তদারকি করছেন বলে সূত্ররা জানায়।

    মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদ নিয়ে বিভিন্ন নাম আলোচনা কেন্দ্রstage; উল্লেখযোগ্য পদপ্রত্যাশীর মধ্যে আছেন সাবেক সদস্যসচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি।

    জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে সাড়া জাগানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, ‘‘মামলার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এবং ত্যাগ-কৃত নেতাদের গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করা হলে সত্যিকার সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতারা নেতৃত্বে আসবে।’’ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব তাজিম বিশ্বাস বলেন, ‘‘ছাত্রদল বিএনপির সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলের সঙ্গে যুক্ত হয়; দেশের বর্তমান সংসদের অনেক মন্ত্রী-এমপি একজন সময়ের ছাত্রনেতা ছিলেন। দলকে গতিশীল রাখতে দ্রুত নতুন কমিটি প্রয়োজন।’’

    এ সময় দলীয় কর্মীরা বলছেন, নতুন কমিটি ঘোষণা হলে খুলনার স্থানীয় সংগঠনগুলোতে কার্যক্রম পুনরায় ঝোঁক ফিরে আসবে এবং যুব নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। তবে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ওপর নির্ভর করবে বলে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।

  • এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য বিদায়ী এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এপ্রিলে দেশে গড় প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স ছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, তাই বছর হিসেবে এপ্রিলে প্রবাহ বেড়েছে।

    চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বছরের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

    এর আগে মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স, যা কোনো এক মাসে পাওয়া সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

    অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার; আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

    একই সঙ্গে জানা গেছে, গণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ।

  • এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    এপ্রিলের ২৯ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    চলতি এপ্রিলে প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে মোট ৩০০ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা প্রায় ৩.০০২ বিলিয়ন ডলার। এ হিসেবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে প্রাপ্ত এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, এ মাসের মধ্যে শুধু ২৯ এপ্রিলেই দেশে এসেছে প্রায় ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময় (এপরিলে) দেশে রেমিট্যান্স আসেছিল ২৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, তাই চলতি বছরের এপ্রিলে পাঠানো অর্থ আগের বছরের তুলনায় বেশ বাড়তি।

    এর আগে মার্চে এক মাসে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসে থাকে — ওই মাসের ৩১ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩.৭৫৫ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের ঘরের ওপরে ছিল; জানুয়ারিতে পাঠানো অর্থ ছিল ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

    অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। চলতি বছরের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উৎসকে শক্ত রেখেছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ৩০ দিনের মধ্যে সব বিবাদ সমাধান চায় ইরান, দিলো ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব

    ৩০ দিনের মধ্যে সব বিবাদ সমাধান চায় ইরান, দিলো ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব

    ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত স্থায়ীভাবে শেষ করতে ১৪ দফার একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বদলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সব অমীমাংসিত ইস্যু নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    তেহরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ সূত্র হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানায়, প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ-অবরোধের সমাপ্তি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি। এছাড়াও লেবাননে ইসরাইলি অভিযানসহ এই অঞ্চলের সব ধরনের শত্রুতা বন্ধের শর্তও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দফায়-দফায় উপস্থাপিত ৯ দফার পরিকল্পনার জবাব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান এখন দ্রুত ও সমাধানমুখী সমঝোতার ওপর জোর দিচ্ছে — সময়সীমা নির্ধারণ করে তিন-চতুর্থাংশ ইস্যু দ্রুত নিরসনের দরকার আছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে ইরানের আগে করা একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি এখনও কার্যকর রয়েছে, বলে জানানো হয়েছে।

    এদিকে আজ (রোববার, ৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির মধ্যে এ নিয়ে ফোনালাপ হয়েছে। ওমান দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটন—দুইপক্ষকেই সংযোগকারী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে; এবারও শান্তি প্রক্রিয়ায় ওমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা প্রকাশ্যে এসেছে।

    এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে, কিন্তু দুইপক্ষের সম্মতি ছাড়া এর সার্বিক ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে কঠিন। আন্তর্জাতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এখন তেহরানের ১৪ দফার প্রস্তাবের ওপর চোখ রাখছে।

  • মমতা: ‘সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন—জয় হবে আমাদেরই’

    মমতা: ‘সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন—জয় হবে আমাদেরই’

    তৃণমূলের নেতাকর্মী, প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের ধৈর্য ধরে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ছাড়তে না বললেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে দেয়া ভিডিও বার্তায় তিনি দলের সবাইকে অনুরোধ করে বললেন, “সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, গণনা অনেক বাকি এখনও, জয় হবে আমাদেরই।”

    প্রাথমিক গণনায় সকাল থেকে মধ্যাহ্ণ পর্যন্ত যে প্রবণতা দেখা গেছে, তাতে বিজেপি ১৮৩টি আসনে এগিয়ে আছে, আর তৃণমূল ১০২টি আসনে। এমন পরিস্থিতিতে মমতা নেতাদের বললেন যেন কেউ হতাশ না হন বা কাউন্টিং কেন্দ্র ত্যাগ না করেন। তিনি আশ্বাস দিলেন, শুরুতে বিজেপি এগিয়ে থাকার ঘটনা আশা করা যাচ্ছিলো—শেষ রাউন্ডে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

    ভিডিওবার্তায় মমতা অভিযোগ করেন যে অনেক জায়গায় গণনা থামিয়ে রাখা হয়েছে এবং ফল পরবর্তী সময়ে দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “কল্যাণীতে এমন সাতটি মেশিন ধরা পড়েছে, যেখানে কোনো মিলই নেই।” এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে কড়া অভিযোগ করেন—বলেন, কমিশন ইচ্ছেমতো কাজ করছে এবং কেন্দ্রের শক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করছে; স্থানীয় পুলিশেরও সেই প্রভাব পড়ছে। (এগুলো তার অভিযোগ হিসেবে জানানো হয়েছে।)

    তবে তৃণমূলনেত্রীর প্রধান বার্তাটি ছিল মনোবল বজায় রাখা। মমতা বলেন, “দয়া করে কোনও প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছেড়ে আসবেন না। এটা বিজেপির পরিকল্পনা।” তিনি আরও বলেন, এখন মাত্র তিন-চার রাউন্ড গণনা শেষ হয়েছে; সাধারণত ১৮-১৯ রাউন্ড পর্যন্ত গণনা হয়—শেষ রাউন্ডগুলিতেই ফল আমাদের অনুকূলে আসবে। “ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ, আপনারা সবাই জিতবেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে রয়েছি।”

    বার্তাটির শেষে মমতা কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।”