পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি নিরঙ্কুশভাবে সাফল্য লাভ করে, তাহলে প্রথমবার রাজ্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে—আর সেই বাস্তবতার সামনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: কে হবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বে ঘোষণা করেছেন যে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ‘‘একজন বাঙালি’’ হবেন। তবু এখনও কেন্দ্রীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করেনি। দলের ভেতরে ও রাজনৈতিক মহলে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘুরছে। তালিকার সর্বোচ্চ আলোচনায় আছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবাদমাধ্যমের মতে, গত পাঁচ বছর বিরোধী নেতা হিসেবে বিধানসভায় শুভেন্দুর ভূমিকা তাকে শক্ত দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি নন্দীগ্রাম ছাড়াও ভবানিপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছেন। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড অনুযায়ী ভবানিপুরে তিনি লিড বজায় রেখেছেন বলে দাবি করেছেন এবং মমতাকে হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন। তবে এনডিটিভিকে সোমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ সংক্রান্ত সরাসরি মন্তব্য এড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এই স্পর্শকাতর প্রশ্নে কোনও মন্তব্য করব না। বিজেপি সম্মিলিত নেতৃত্ব—নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আমরা লড়েছি এবং ফল বেরোচ্ছে।’’

শুভেন্দুর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষের নামও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও হেভিওয়েট নেতা; খড়গপুর সদর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে বলা হচ্ছে। দলের তৃণমূল কর্মীপ্রশাখার সঙ্গে তার সম্পর্ক ও দল গড়ায় ভূমিকা তাকে মুখ্যমন্ত্রী সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে একজন করে তুলেছে।

রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও নানাভাবে নজরে পড়ছেন—তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং রাজনৈতিক বক্তৃতা ও তত্ত্বগত দিক থেকে প্রশংসিত। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদারও দলের কৌশল নির্ধারণ ও ওয়াররুম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে পছন্দনীয় প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নামটিও সম্ভাব্যদের তালিকায় আছে; তিনি উত্তরবঙ্গে দলকে মজবুত করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং মাথাভাঙা কেন্দ্র থেকে লড়েছেন। আর রাজনৈতিক-সাংবাদিক লড়াই থেকে আসা পদ্মভূষণ পুরস্কার প্রাপ্ত স্বপন দাশগুপ্তকে বিজেপির বুদ্ধিজীবী প্ররোচনার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—তাকে ‘‘ভদ্রলোক’’ রাজনীতির মুখ হিসেবেও দেখা হয়।

এখনকার ফলাফলের প্রাথমিক ছবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য বলছে—২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯৯টিতে এগিয়ে আছে, তৃণমূল ৮৮টিতে এগিয়ে; পাশাপাশি সিপিএম ও কংগ্রেস প্রত্যেকে ২টি-২টি আসনে এগিয়ে এবং অন্যান্যরা ২টিতেই এগিয়ে রয়েছে (সূত্র: আনন্দবাজার)।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতে। নাম ঘোষণার আগে দলের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কৌশল, জোট-সমীকরণ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয় সবই বিবেচনায় নেওয়া হবে।