Blog

  • সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে

    সোনার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে

    বাংলাদেশে সোনার বাজারে নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানো এই দামটি এখন থেকে কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি বুধবার। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরি মানের সোনার দাম এতো দিন থেকে এতো দিন পর্যন্ত বেড়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি মূলত বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির ফলাফল।

    বিশ্বের স্বর্ণমূল্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৭৪৫ ডলার প্রতি আউন্সের বেশি। এর ফলে দেশের বাজারে সোনার দামের এই উত্থান ঘটেছে।

    নতুন দামে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি এখন ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪৬ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা।

    এছাড়া, দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রুপার দামেরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের রুপার এক ভরি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকায়, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ২৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৪ হাজার ৮০২ টাকা। এই দামে এখন বিক্রি হচ্ছে দেশের গহনা বাজারের প্রয়োজনীয় ধাতু।

  • সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    সোনার ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ছাড়াল

    এক দিনে আবারও দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে, যা নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৩৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের উচ্চ মানের সোনার দাম দুই লাখ ৫২ হাজার টাকারও বেশি হয়েছে, যা দেশের সর্বোচ্চ সোনার দাম হিসেবেই রেকর্ড করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বাজুসের একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, এবং নতুন মূল্য আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য হু হু করে বাড়ছে।

    বিশ্বে স্বর্ণ ও রুপার দামের বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা গেছে, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অতিক্রম করেছে ৪ হাজার ৮০০ ডলার প্রতি আউন্সের মতো কঠিন স্তর।

    নতুন দামে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা, যেখানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২০৬,৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম এখন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।

    এছাড়াও, সোনার দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে রুপার দামেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম এখন ৪ হাজার ২০০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের মনে নানা প্রশ্ন বরং উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

  • তারেক রহমানের ঘোষণা: বাংলাদেশ সবার আগে, নয় দিল্লি বা পিন্ডি

    তারেক রহমানের ঘোষণা: বাংলাদেশ সবার আগে, নয় দিল্লি বা পিন্ডি

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতি তার unwavering অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে প্রথমে রাখবো আমাদের অগ্রাধিকার।’ এই অভিমত তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের পুণ্যভূমিতে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ব্যক্ত করেন।

    বিশ্লেষণে, তিনি বলেন, দেশ গড়ার মূল চাবিকাঠি হলো দেশের প্রতি সম্পূর্ণ অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ। ভোটের জন্য আবেদন করে তিনি উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। এই নির্বাচনে বিএনপি যদি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়, তবে দেশের গণতন্ত্রের নতুন যে যুগ শুরু হবে, সেটি স্বৈরাচার মুক্ত ও মানুষের অধিকারের প্রতিশ্রুতি প্রদান করবে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ধানের শীষের বিজয় সাধন খুবই জরুরি।

    ব্যাপক জনসমাগমে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তারা কি ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে পারবেন? উত্তরে সমর্থকেরা হাত তোলেন unanimously, এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘ইনশাআল্লাহ’।

    তিনি আবারও স্পষ্ট করে দেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এ সময় বিএনপি’র পুরনো স্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ এর ব্যাখ্যাও দেন।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারে গেলে মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, সিলেটের বহু মানুষ বিদেশে যায়, তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সচেষ্ট থাকবেন।

    এ সময় তিনি বলেন, যারা পালিয়ে যায়, তারা ভোট ও মুক্তিসহ স্বাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়; তারাই ইলিয়াস আলী, দিনার ও শতাধিক মানুষের হত্যাকারী, গুম-খুনের মামলায় জর্জরিত করে। গত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার, উন্নয়নের নামে অর্থ লুটের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই অবস্থা পরিবর্তন করে দেশের উন্নয়ন চান।

    অন্যশ্রেণীর ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি সতর্কতা জ্ঞাপন করে বললেন, দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তিনি বেশ সুসম্পন্ন থাকবেন। তিনি জনতাকে জানান, আগামীতেও তারা ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

    জনসভায় উপস্থিত কিছুকজনকে মনে করিয়ে দিতে তিনি একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘আপনার নাম কি?’ উত্তরে তিনি ‘এটিএম হেলাল, সুনামগঞ্জ’ বলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “তুমি কি কাবা শরীফের মালিক?” উত্তরে হেলাল বলেন, “আল্লাহ।” তারেক রহমান বুঝিয়ে বলেন, “অর্থাৎ পৃথিবীর মালিকও আল্লাহ। তাহলে অন্য কেউ বেহেশত বা দোযখের মালিক কি হতে পারে?” — এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে জনতার উত্তর দেন, “আল্লাহ।” তখন তিনি মনে করিয়ে দেন, “আল্লাহর মালিকানা ছাড়া অন্য কেউ কিছু দিতে পারে না। সেহেতু, যারা বেহেশত বা স্বর্গের কথা বলে, তারা শিরক করছে। কারণ, তাদের মালিক একমাত্র আল্লাহ।”

    বক্তা ব্যক্তি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতা মহান ব্যক্তিদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসিকতায় সম্ভব হয়েছে, আর সেই মানুষদের দ্বারা এই দেশ পরিচালিত হয়েছে। তাই আমাদের একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, মিথ্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এসো, ফিরে যাওয়াকে টেক ব্যাক বাংলাদেশে রূপান্তর করি।’

    তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এখনই খাটা প্রয়োজন, কেবল ভোটের অধিকার দিয়ে নয়, প্রত্যেকের সক্ষমতা ও স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যবস্থা করতেই হবে। মানুষের জীবন মান উন্নত করতে, নিরাপদে চলাচলের সুবিধা প্রদান করতে হবে, এই মূল লক্ষ্যই হলো—‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

    তিনি মনে করেন, গত ১৫ বছরে দেশের উন্নয়নের নামে অন্যায়ভাবে সম্পদ লুটপাট হয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি বা অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা নয়, আমাদের স্বার্থে সবসময় প্রথমে বাংলাদেশ।’

    তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, দেশের সব মানুষ আমাদের সত্যিকারের শক্তি। তাই, দেশের উন্নয়নের জন্য তারা সবাইকেই পাশে পেতে চাই। শুধুমাত্র ভোটের অধিকার নয়, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতার জন্যও কাজ করা হবে। তার ভাষায়, ‘শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশের উন্নয়নকাজ চলেছিল, কলকারখানা গড়ে উঠেছিল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। এই কারণেই আবার বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে চাই।’

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী ১২ তারিখের ভোটে জয় লাভ করে দেশ পরিচালনা করবেন, যেন ন্যায়ের পথে দেশ চালানো যায়। তিনি সবশেষে বলেন, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’

    বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংবর্ধনা ও কার্যক্রম পরিচালনা করেন জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বক্তৃতা করেন বিএনপির অন্যান্য প্রার্থী-নেতারা, যারা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:২৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে। সকলে তাকে হাত তুলে স্বাগত জানান, সমর্থকদের উল্লাসে মঞ্চ প্রকম্পিত হয়। এর আগে সূর্যোদয় থেকে শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে পুরো আয়োজন।

  • মানুষ ফ্যামিলি কার্ড ও ফ্ল্যাট চায় না, নিরাপদ জীবন চায়: নাহিদ ইসলাম

    মানুষ ফ্যামিলি কার্ড ও ফ্ল্যাট চায় না, নিরাপদ জীবন চায়: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের দশ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বাংলার সাধারণ মানুষের pipর্ণতাকে তুলে ধরে বলেছেন, মানুষ এখন কার্ড বা ফ্ল্যাট চায় না, তারা চাই আরও বেশি নিরাপদ জীবন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি যে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছে, সেটি কাদের জন্য? যারা সত্যিই দরিদ্র বা সুবিধাবঞ্চিত, তারা কি এই কার্ডের সুবিধা পাবেন? নাকি এই কার্ড পেতে হবে ঘুষ দিয়ে? বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, একদিকে তারা কার্ড দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছেন। যারা ক্ষমতায় গেলেই জনগণের টাকাকে লুট করবে এবং বরখাস্ত হবে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনতার অর্থ লুটপাটের জন্য এজেন্ডা সাজানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    বিশেষ করে এতদিন যারা বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বস্তিবাসীরা এখন আর ফ্ল্যাট চায় না। তারা চায় একটি নিরাপদ জীবন, যা বস্তিতে থেকেও সম্ভব। অতীতে যারা বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনের পরে তারা উচ্ছেদ করতে নেমেছেন। বস্তিবাসীরা এখন এসব মিথ্যা আশ্বাস বুঝতে পারছেন। তারা দেশের স্বার্থে, ন্যায়ের পক্ষে ভোট দেবে, ফ্ল্যাটের জন্য নয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। তিনি আশ্বস্ত করেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি সচেতন ও উদ্বুদ্ধ। কোনো দলের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেওয়া চলবে না। তিনি বলেন, আমরা মাঠে আছি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

    অবশেষে তিনি ইনসাফের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন। বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নয়, এটি একটি গণভোটও। সবাইকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, আমরা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব। বৈষম্য, চাঁদাবাজি, অন্যায়, জুলুম ও আধিপত্যবাদকে একিমাত্র পথে পরাজিত করতে এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

    নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আন্দোলনের শুরুতে যা লক্ষ্য ছিল, তা অনেকটাই অধরাই রয়ে গেছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে আমরা এই সংগ্রামে বিজয় অর্জন করব, আর এর মাধ্যমে আমাদের আন্দোলনকে ফলপ্রসূ করে তুলব।

  • নতুন জামাকাপড় পরে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসলে ৫ আগস্টের ফলাফল হবে: জামায়াত আমির

    নতুন জামাকাপড় পরে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসলে ৫ আগস্টের ফলাফল হবে: জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই না বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা হোক। যদি নতুন জামাকাপড় পড়ে ফ্যাসিবাদ আবারো সার্বিকভাবে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে ৫ আগস্টের ফলাফল তারই প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ হবে। অতীতের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং এমন কোনও চিহ্ন যেন ফুটে ওঠে না, যা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান নির্দেশ করে।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    ডা. শফিকুর রহমান অাত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এখানের উপস্থিত প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষই প্রথম বা দ্বিতীয়বার ভোটদানে অক্ষম, বহু মানুষ জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। যারা এই ভোটাধিকারের অপব্যবহার করেছে, তাদের নাম ‘ভোট ডাকাত’। আপনাদের কি নতুন করে ভোট ডাকাত দেখার ইচ্ছে আছে? আমরা চাই না আবারো ভোট ডাকাতের দুর্বিপাকের শিকার হতে। এই ৪০ শতাংশ যুবক-যুবতীরাই মূলত আন্দোলনের মূল动力, তাদের নেতৃত্বে দেশ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তাদের হাত ধরেই আজ আমরা এই সভায় একত্রিত।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, আপনাদের যে দুঃশাসন, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলেছিলেন—যে ন্যায়বিচার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যতক্ষণ না সেটি বাস্তবায়িত হয়, ততক্ষণ ঘরে ফিরে যাব না।

    তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের দলের গোষ্ঠীচক্রের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলারাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষের হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা রোখার জন্য কাজ করতে পারবে, তারা আগামী বাংলাদেশের জন্য আদর্শ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে যারা এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবেন, তারা যত স্বপ্ন দেখুক না কেন, জনগণ তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল, তাদের মূল দোসররা এখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছে বিনীত অনুরোধ, যারা এই ধরনের কষ্ট দিয়েছেন, সেই কষ্ট যেন আর কেউ আর না দেয়।

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি এটি বন্ধ না হয়, তাহলে আগামী ১২ তারিখের ভোটে জনগণ দুটি ‘না’ ভোট দেবে, ইনশাআল্লাহ। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনের ইচ্ছা স্পষ্ট, তাই তারা আশা করে এই ভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে।

    শফিকুর রহমান একথা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় সমস্ত জনগণ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দলগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ দল জিতলে তা হবে এক বড় গণআন্দোলনের সূচনা, যা দখলদার, চাঁদাবাজ, ব্যর্থ বা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ হবে, পাশাপাশি ব্যাংক ডাকাতি ও নারীর মর্যাদায় হাত তোলার বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

  • পোস্টাল ব্যালট দখলের অপচেষ্টা ও ভোটের পরিস্থিতি আলোচনা

    পোস্টাল ব্যালট দখলের অপচেষ্টা ও ভোটের পরিস্থিতি আলোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার নামে পোস্টাল ব্যালট দখলের চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এই মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা এখন আবার জনগণের সামনের আসতে চাইছে। এই শক্তিগুলোর কারণে লাখো মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। ইতিহাস এই সব শক্তির সত্যতা জানে, আর নতুন করে চিনতেই প্রয়োজন নেই। এখন সময় এসেছে জনশক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার।

    তিনি অভিযোগ করেন, যারা ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অপচেষ্টায় লিপ্ত, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে এবং টাকা দিয়ে ভোট কিনে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সৎ শাসনের কথা বলে নিজেদের মধ্যে অসৎ পথে হাঁটছে এইসব শক্তি। নির্বাচনের আগে যারা এমন অবৈধ কাজ করছে, তাদের পক্ষে সৎ শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। বিএনপিকে ভোট দিলে আবারও সেই সুযোগ ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে মানুষ ভোটাধিকার পেয়েছে যা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই অধিকার হরণ হলে দেশের জন্য ভয়াবহ বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। সেটি রোধ করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রার্থীরা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েও প্রস্তুতি নেবেন।

    তারেক রহমান আরও stress করেন, এবারের নির্বাচনে দেশের মানুষ ন্যায়পরায়ণতা ও সততার পক্ষে রায় দেবে। ভোটাধিকার কোনভাবেই হরণ হলেও দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে যেন ভোটার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে না পারে।

    তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রতিটি পরিবারের মা-বন ও কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে, যার মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রবাসী তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তারাও বিদেশে বিপুল বেতনে কাজ পেতে পারবেন।

    তারেক রহমান বলেন, মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের ভাঙা রাস্তা-ঘাটই তার কথার প্রমাণ। গত ১৫ বছরে যারা নির্বাচন নিয়ে প্রহসন চালিয়ে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, তারা উন্নয়ন করতে সক্ষম হননি। স্কুল, কলেজ ও রাস্তাঘাটের সর্বনাশ হয়েছে। দেশ দুর্নীতির টানাপোড়েনে এখন ছিন্নভিন্ন; লুটপাট চলছে জাতীয় সম্পদে।

    তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে আসার। কারণ, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা সমাধানে যোগ্য জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন, যা জনগণের সরকারের মাধ্যমে সম্ভব। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে এ সুযোগ আসবে।

    জনসভায় সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার। সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ।

  • প্রথম নির্বাচনি প্রচারণায় acteurs প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিতর্কের ঝড়

    প্রথম নির্বাচনি প্রচারণায় acteurs প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিতর্কের ঝড়

    নির্বাচন প্রচারণার শুরুতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মাঠে তর্ক বিতর্কের ধারা গড়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের আলিয়া মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি বলেন, ‘‘কেউ নির্দিষ্ট করে বলছেন না, তবে বোঝা যাচ্ছে কেউ যেন বেহেশতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাইছে। এর আগেও তারা মানুষকে ঠকিয়েছে, স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনের পর তাদের কী অবস্থা হবে তা সবাই বুঝে গেছে।’’ এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি ‘কেউ’ বলে কার সাথে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। অপর দিকে, একই দিন বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে জামায়াতের নেতৃত্বে শরিক দলগুলো প্রথম নির্বাচনি সমাবেশ করে। সেখানে জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি, বড় দল হিসেবে পরিচিত এই দলের প্রধানের বক্তৃতার বিষয়বস্তু শুধুই জামায়াত ইসলামীর. তিনি বলেছেন, জামায়াত জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে, কিন্তু তিনি কাকে এই মন্তব্যের জন্য স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি।’’প্রচারণার প্রথম দিনে নেতারা পরস্পরের প্রতি তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হলেও, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক বিতর্কের আঙিনা বেড়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জামায়াতের জনসভায় বক্তব্যের সময় ‘বিএনপি’র নাম উল্লেখ না করলেও, তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’, তার টাকার উৎস ও বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন। এই কার্ড ও উন্নয়নের অজুহাতে জনগণের বিরোধিতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসে। জামায়াতের এক নেত্রী বলেন, ‘‘সরকারের এই টাকা সোর্স কী? এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকা, যা সাধারণ মানুষকে দিয়ে হয়।’’এছাড়াও, জামায়াতের একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মন্তব্য, ‘‘১৭ বছর পর লন্ডন থেকে একজন মোফতী এসেছেন, যিনি মুসলমানদের কুফরি বলে আখ্যা দিচ্ছেন। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভারতের আশীর্বাদ নেওয়া শাসকরা থাকবেন না,’’—বলেন।তিনি আরও বলেন, ‘‘সবকিছুর মালিক একজন, এবং সেই হলো আল্লাহ। তবে কেউ কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ভোট চাইছে, যা খুবই গর্হিত।’’ এ সময়, বিচার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের বিতর্ক তুলনা ও তর্ক-বিতর্ক গণতন্ত্রের জন্য স্বাস্থ্যকর, তবে এই উত্তাপ যেন বিশৃঙ্খলায় রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনও জানায়, এই প্রথম দিনে দলগুলো পৃথক পৃথক মতবিনিময় ও বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব ইশতেহার প্রকাশে স্বাধিকার পায়। আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবে কে ভালো, কে খারাপ।’’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ২৯৮টি আসনে মোট ১৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এবারের নির্বাচনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিবন্ধনবিহীন দলগুলো অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

  • বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    বহু প্রার্থী ও দুটি ব্যালটে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে

    এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এছাড়া, সারাদেশে নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হওয়ায় ভোট গ্রহণ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় আগের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই নির্বাচনে বিদেশ থেকে প্রায় ৫০০ পর্যবেক্ষক ও সংবাদদাতা অংশ নেবেন।

    বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (বিএনসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ইসি সচিব।

    সচিব বলেন, এবারে প্রবাসী ভোটার এবং অভ্যন্তরীণ ভোটার উভয়ের জন্য আলাদা ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট ও প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে ভোট গণনাও সময়সাপেক্ষ হবে। বিশেষ করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।

    এমনই এক পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লায় ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসাবে নিবন্ধিত। যদিও এক কেন্দ্রে সাধারণত ৩ হাজার ভোটার থাকলেও পোস্টাল ব্যালটের চাপ বেড়ে ৫-৬ গুণ হতে পারে, যা ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব সৃষ্টি করতে পারে।

    আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকা নিয়ে সচিব জানান, ইসি ৮৩টি সংস্থাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা এখন নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন, যা পরে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি, কমনওয়েলথের ১০ জন এবং তুরস্কের ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সর্বমোট প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন। তাঁদের জন্য অপ্রত্যাশিত হলো ভিসার সুবিধা প্রদান।

    নির্বাচনে কালো টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারে আলোচনা হয়েছে বলেও সচিব জানান। তিনি জানান, পুরোপুরি বন্ধের পরিকল্পনা আমাদের নেই, তবে লেনদেনের ওপর একটি সীমা নির্ধারণের চিন্তা চলছে। আই-ব্যাংকিং সেক্টরেও একই নীতি কার্যকর করা হতে পারে।

    সচিবের তথ্যমতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৯৮১ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলো সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যা মোট ২৮৮ জন। ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ প্রার্থী থাকলেও পিরোজপুর-১ আসনে দুইজন প্রার্থীই শেষ।

    ভোটারদের জন্য সতর্কতাও দেওয়া হচ্ছে, যেন তারা তাদের এনআইডি কার্ড অন্য কারো কাছে হস্তান্তর না করে। সচিব বলেন, মিরপুরে এনআইডি কার্ড নেওয়ার ঘটনাটি আচরণবিধি লঙ্ঘন। ভোটারদের সচেতন থাকতে উপদেশ দেন।

    টিআইবির দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ক উদ্বেগের বিষয়ে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া ধীর গতির। তবে, কেউ যদি গোপনে প্রার্থী হন এবং পরে তা উঠে আসে, তবে আইন অনুযায়ী স্বক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবার ১৬,০০০ এর বেশি বিএনসিসি ভলান্টিয়ার কাজ করবে। তারা এর ডেপ্লয়মেন্ট স্ট্রাকচার ও পরিকল্পনা শুরুর জন্য প্রস্তুত। জানানো হয়, আগামী রোববার তাদের কার্যক্রম চূড়ান্ত হবে।

  • সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাপ্রধানের ঘোষণা: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণভোটে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবো

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

    সেনাপ্রধান বলেন, দেশের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। নির্বাচন নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি দায়িত্বের ক্ষেত্রে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনী সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সবাইকে একযোগে কাজ করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর জন্য চট্টগ্রাম জেলার সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের উপর একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। তিনি এই পরিকল্পনার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনী পরিস্থিতি ইতিমধ্যে বেশ শুভ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ।

    সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    এছাড়াও, তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা অংশ নেন। এই সভায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদান ও দায়িত্বের ব্যাপারে আলোচনা চলমান থাকে।

  • এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবার ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি এ কথা বলেন বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ ছিবগাত উল্লাহ।

    তিনি জানান, অতীতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন অস্ত্রধারী পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে কমপক্ষে দু’জন পুলিশ ও তিনজন আনসার থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আরও বেশি সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে, যেখানে তিনজন পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়জন পুরুষ ও চারজন মহিলা আনসার সদস্য লাঠিসহ মোতায়েন থাকবেন। তিনি বলেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে। এজন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

    উপদেষ্টা আরও জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও ব্যাপক হবে। প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, বডি ওর্ণ ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের ব্যবহারে। প্রবাসী ভোটার, সরকারি কর্মকর্তারা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপে নিবন্ধন করে ভোট দিতে পারবেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও নির্বাচনী সহায়তায় অংশ নেবেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথমে চলমান দায়িত্বশীল বাহিনী থাকবেন, আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।

    সঙ্গে তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরের সিআইডি কর্মকর্তাদের মধ্যে কৃতিত্বের ভিত্তিতে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।