জামায়াতে ইসলামির মহাসচিব ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই না বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখা হোক। যদি নতুন জামাকাপড় পড়ে ফ্যাসিবাদ আবারো সার্বিকভাবে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে ৫ আগস্টের ফলাফল তারই প্রত্যক্ষ বহিঃপ্রকাশ হবে। অতীতের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে না আসে, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং এমন কোনও চিহ্ন যেন ফুটে ওঠে না, যা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান নির্দেশ করে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর আদর্শ স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
ডা. শফিকুর রহমান অাত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, এখানের উপস্থিত প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষই প্রথম বা দ্বিতীয়বার ভোটদানে অক্ষম, বহু মানুষ জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। যারা এই ভোটাধিকারের অপব্যবহার করেছে, তাদের নাম ‘ভোট ডাকাত’। আপনাদের কি নতুন করে ভোট ডাকাত দেখার ইচ্ছে আছে? আমরা চাই না আবারো ভোট ডাকাতের দুর্বিপাকের শিকার হতে। এই ৪০ শতাংশ যুবক-যুবতীরাই মূলত আন্দোলনের মূল动力, তাদের নেতৃত্বে দেশ পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তাদের হাত ধরেই আজ আমরা এই সভায় একত্রিত।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আপনাদের যে দুঃশাসন, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলেছিলেন—যে ন্যায়বিচার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যতক্ষণ না সেটি বাস্তবায়িত হয়, ততক্ষণ ঘরে ফিরে যাব না।
তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের দলের গোষ্ঠীচক্রের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলারাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানুষের হত্যা, গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা রোখার জন্য কাজ করতে পারবে, তারা আগামী বাংলাদেশের জন্য আদর্শ নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে যারা এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবেন, তারা যত স্বপ্ন দেখুক না কেন, জনগণ তাদের চক্রান্ত বুঝে ফেলবে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল, তাদের মূল দোসররা এখন দৃশ্যমান নয়। ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের কাছে বিনীত অনুরোধ, যারা এই ধরনের কষ্ট দিয়েছেন, সেই কষ্ট যেন আর কেউ আর না দেয়।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনও কিছু জায়গায় ফ্যাসিবাদের ছায়া কাজ করছে। যদি এটি বন্ধ না হয়, তাহলে আগামী ১২ তারিখের ভোটে জনগণ দুটি ‘না’ ভোট দেবে, ইনশাআল্লাহ। দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনীতির কাঠামো পরিবর্তনের ইচ্ছা স্পষ্ট, তাই তারা আশা করে এই ভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে।
শফিকুর রহমান একথা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় সমস্ত জনগণ, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী সবাই রাস্তায় নেমেছে। নির্বাচনী মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দলগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১০ দল জিতলে তা হবে এক বড় গণআন্দোলনের সূচনা, যা দখলদার, চাঁদাবাজ, ব্যর্থ বা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ হবে, পাশাপাশি ব্যাংক ডাকাতি ও নারীর মর্যাদায় হাত তোলার বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
