Blog

  • বাংলাদেশ আমাদের আকস্মিকভাবে চাপে ফেলেছে, ভাবছে কি আমরা ‘সহযোগী দেশ’ হয়ে যাচ্ছি: মোহাম্মদ আমির

    বাংলাদেশ আমাদের আকস্মিকভাবে চাপে ফেলেছে, ভাবছে কি আমরা ‘সহযোগী দেশ’ হয়ে যাচ্ছি: মোহাম্মদ আমির

    বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে আট উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের তীব্র বোলিংয়ে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী পাকিস্তান দল। পরে লক্ষ্য তাড়া করে টাইগাররা মাত্র ১৫.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই ফলাফল নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমির ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বাংলাদেশ এমন উইকেট বানিয়েছে যা পাকিস্তান আশাব্যঞ্জক ভাবেই চিন্তা করেছিল না — সে ছিল ‘‘সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন’’। মিরপুরে স্পিন উইকেট হবে বলে ধারণা ছিল, কিন্তু ঘাসে ঢাকা, বাউন্সি উইকেট করে বাংলাদেশ দ্রুত গতিপ্রবণ শর্ত তৈরী করেছে। এতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যথাযথভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    আমির বলেন, ‘‘আমরা টার্নিং উইকেট ভাবছিলাম, কিন্তু ওরা গতির উইকেট বানিয়েছে। ঠিক যেন অ্যাসাইনমেন্টের বাইরে প্রশ্ন এসে গেল। আমাদের ব্যাটসম্যানেরা ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে গতির বোলার দেখতে পেলে চিন্তা করে ফেলছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দুর্দান্ত বল করেছে—বিশেষ করে নাহিদ ১৪০-এর বেশি গতি করে।’’

    পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পেছনে আমির অনুশীলনের অভাব ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের অনেক ক্ষেত্রে টেকনিকগত দুর্বলতা আছে; তারা মিড উইকেটে খেলা ছাড়া অফ-স্টাম্পের বল বোঝে না। অনুশীলনের জায়গায় উপরের থেকে বল সরাসরি ছুড়ে দিলে সেটা হাতে খেলা নয় — আসল পেসের বিপরীতে খেলার জন্য সঠিক প্রস্তুতি দরকার।

    নির্বাচনী নীতির সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘‘৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়েই দল রচনা করা ঠিক না। দলে সিনিয়র ও জুনিয়রের ভারসাম্য থাকতে হবে। আমরা এখন বাংলাদেশকেও হারতে শুরু করেছি—এটা দেখে আমি ভয় পাই, শেষ পর্যন্ত আমরা কি সহযোগী দেশে পরিণত হয়ে যাচ্ছি?’’ তিনি দাবি করেছেন যে কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো পারফর্মাররা যথাযথ সুযোগ পাননি।

    আমির আশা করছেন সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একই ধরনের উইকেটই রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘তারা আমাদের ওপর এমনভাবে ধাক্কা দিয়েছে—মনে হচ্ছিল ওরাও অনেক মজা পাচ্ছিল। যে উইকেটে আমরা ১১৪ করেছি, সেই উইকেটে ওরা ১০-১২ ওভারের মধ্যে—or বাস্তবে ১৫.১ ওভারেই—রান তাড়া করে ফেলেছে। আমি বলছি, বাংলাদেশ আপনাদের স্পিন ট্র্যাক দেবে না; তারা গতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ কিলোমিটারে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। সিরিজ জিততে তারা এই সুযোগ কাজে লাগাবে।’’

    এসব মন্তব্যের মাধ্যমে আমির পাকিস্তান দলের সমন্বয়, প্রস্তুতি ও নির্বাচনী নীতিকে প্রশ্ন করেছে। সামনে বাকি ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান কীভাবে এই সমালোচনা ও সমস্যা মোকাবিলা করে—এটিই এখন দেখার বিষয়।

  • বিম-১০ে দুর্নীতির অভিযোগ: উইন্ডিজ পেসার জাভন সিয়ার্লসসহ তিনজন সাময়িক নিষিদ্ধ

    বিম-১০ে দুর্নীতির অভিযোগ: উইন্ডিজ পেসার জাভন সিয়ার্লসসহ তিনজন সাময়িক নিষিদ্ধ

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) বার্বাডোসে চলমান ঘরোয়া টু-টেন লিগ ‘বিম-১০’ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে তিন জনকে সবরকম ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এতে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার জাভন সিয়ার্লস, টুর্নামেন্টের একজন দল মালিক চিত্রঞ্জন রাঠোর এবং কর্মকর্তা ট্রেভন গ্রিফিথ।

    তিনজনের বিরুদ্ধে ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিম-১০ টুর্নামেন্টে ম্যাচফিক্সিং এবং দুর্নীতির চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলি হচ্ছে—ম্যাচফিক্সিংয়ের চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্য খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সাথে যুক্ত হতে উসকানিবেন (ধারা ২.১.৪), জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষকে না জানানো (ধারা ২.৪.২) এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের তদন্তে বাধা দেওয়া বা তথ্য লুকানো।

    বিশেষ করে ট্রেভন গ্রিফিথের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরের ম্যাচেও দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে—এটি আইসিসির নোটে উঠে এসেছে। আইসিসি ও সিডব্লিউআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সর্বসম্মত প্রতিক্রিয়া জানাতে ২৫ মার্চের মধ্যে সময় দেওয়া হয়েছে।

    এই পদক্ষেপটি একটি বিস্তৃত তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ; তদন্ত সম্পন্ন হলে কড়াকাড়ি বা চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হবে। আপাতত সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগই কেন্দ্রবিন্দু, নেমে আসা সিদ্ধান্ত তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

    জাভন সিয়ার্লস ক্যারিবীয় ক্রিকেটে পরিচিত একজন পেসার। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা ছাড়াও ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন এবং ২০১৮ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াডেও ছিলেন। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতেও একই টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সকে দুর্নীতির অভিযোগে নামানো হয়েছিল।

    আইসিসি ও সিডব্লিউআই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে, এখন পর্যন্ত নেওয়া এই পদক্ষেপ অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • নাতালিয়া ‘রাক্ষস’ এর আইটেম গানে: শুটিং-দৃশ্য ফাঁস

    নাতালিয়া ‘রাক্ষস’ এর আইটেম গানে: শুটিং-দৃশ্য ফাঁস

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যামে সম্প্রতি একটি ছবি ব্যাপকভাবে ঘুরছে। চলচ্চিত্রভিত্তিক গ্রুপ ও পেজগুলোতে ছবিটি ‘রাক্ষস’ ছবির আইটেম গানের শুটিংয়ের একটি দৃশ্য হিসেবে শেয়ার করা হচ্ছে। প্রযোজনা সংস্থা রিয়েল এনার্জি জানায়, ছবিটি সত্যিই তাদের শুটিং সেটেরই — কিভাবে এটি লিক হলো তা তারা এখনও অনুসন্ধান করছে।

    রিয়েল এনার্জির অন্যতম কর্ণধার আজিম হারুন বলেন, “এই ছবি আমাদের ছবির আইটেম গানের একটি দৃশ্য। যাঁকে ছবিতে দেখা গেছে তিনি বলিউডের অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। তিনি গানটিতে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে নেচেছেন। আমার মনে হয়, তিনি এই প্রথম কোনো বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন।”

    নাতালিয়া জানোসজেক ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত একজন বলিউড অভিনেত্রী। বলিউডের পাশাপাশি তিনি হলিউড প্রজেক্টেও অংশ নিয়েছেন। তাকে ‘হাউজফুল ৫’, ‘মাস্তি ৪’ ও ‘৩৬৫ ডেইজ’সহ কয়েকটি জনপ্রিয় ছবিতে দেখা গেছে এবং তিনি জনপ্রিয় টিভি শো ‘বিগ বস’-েও অংশ নিয়েছেন।

    প্রযোজনা সংস্থার আরেক কর্ণধার শাহরীন আখতার সুমি জানান, আইটেমটির কোরিওগ্রাফি করেছেন বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার আদিল শেখ। সংগীত নির্মাণ করেছেন জিএম আশরাফ, গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জিএম আশরাফ ও দোলা। তিনি বলেন, “আমরা এই আইটেম গানটি বড় বাজেটেও তৈরি করছি এবং দেশের বাইরে বড় আয়োজনে শুটিং চলছে। আশা করছি দর্শক গানটি ভালো লাগবে। আমাদের বিশ্বাস এবারের ঈদের সেরা ছবি হবে ‘রাক্ষস’।”

    মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত ‘রাক্ষস’ ছবির প্রধান চরিত্রে আছেন সিয়াম আহমেদ ও কলকাতার অভিনেত্রী সুস্মিতা চ্যাটার্জি। প্রযোজনা সংস্থাটি আগে ‘বরবাদ’ নির্মাণ করেছিল; সেটি শাকিব খান অভিনীত ও ব্যবসাসফল একটি ছবি হিসেবে পরিচিত।

    প্রযোজনা দল শুটিং-চিত্রের লিক বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং অনির্ধারিতভাবে ছবির স্থল ও সময়ে বড় ধরনের বদলি না হওয়া পর্যন্ত বেশি বিস্তারিত সামনে আনছে না। দর্শকেরা এখন অপেক্ষায়, আইটেম গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হলে সেটি কতটা আলোচনার জন্ম দেবে।

  • বিদেশি মদ উদ্ধারের মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর খালাস

    বিদেশি মদ উদ্ধারের মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর খালাস

    কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে চার বোতল বিদেশি মদ নিজের হেফাজতে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। সোমবার (৯ মার্চ) ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী শুনানি শেষে জানান, মামলার অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি, তাই আসিফকে বেকসুর খালাস দেয়া হলো।

    আসিফের আইনজীবী প্রদীপ কুমার দেবনাথ রায় নিশ্চিত করেছেন। শুনানির সময় আসিফ আকবর নিজেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায়ের পর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

    ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৬ জুন তেজগাঁও থানার আওতাধীন পান্থপথে আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের অফিস থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় অফিস কক্ষে চার বোতল বিদেশি টকিলা মদ পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সিআইডির সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর গত ৩ মার্চ আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন। মামলার সময় মোট তিন জন সাক্ষী চার্জের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    আসিফ আকবরের খালাস রায়ের ফলে এই দীর্ঘ বিবাদ শেষ হয়েছে, তবে মামলার দিক থেকে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

  • অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল বাংলাদেশ

    অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল বাংলাদেশ

    দীর্ঘমেয়াদি তেলচুক্তির পাশাপাশি ভারত থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানের আগ্রহ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের অতিরিক্ত সরবরাহ চাওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    সপ্তাহজুড়ে চলা আলোচনার পর আজ বুধবার জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেন। সরকার এবিষয়ে ভারতের কাছে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়েছে।

    ২০২৩ সালের মার্চে ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়। পাইপলাইনের বাৎসরিক পরিবহনক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন হলেও বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী এই বছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল পরিবহনের কথা রয়েছে। বর্তমান বাস্তবায়নে মাসে আনুমানিক ১৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে।

    বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আপৎকালীন অবস্থার জন্য আমরা আমাদের ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছি। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে কতটা বাড়ানো সম্ভব।’ প্রণয় ভার্মাও জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে জ্বালানিসহায়তার আবেদন করেছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিটি পরবর্তীতে ভারত সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং কীভাবে তা আরও শক্তিশালী করা যায়—এসব দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    গত রোববারও ঢাকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার আলোচনায় মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে এটি আপৎকালীন চাহিদা মেটাতে তড়িঘড়ি নেওয়া যেতে পারে এমনই প্রস্তাব।

    সরকার এবং ভারতীয় পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাইপলাইনের সক্ষমতা, চুক্তির শর্ত এবং সরবরাহ বৃদ্ধির সময়সূচি নিয়েও খুঁটিনাটি আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষ কবে এবং কতটা অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে তা চূড়ান্ত হওয়া বাকি আছে।

  • ভাঙার ১৭ মাস পর আজ ত্রয়োদশ সংসদ; সভাপতিত্বে কে?

    ভাঙার ১৭ মাস পর আজ ত্রয়োদশ সংসদ; সভাপতিত্বে কে?

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বেলা ১১টায় উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং এরপর সংসদ সদস্যরা বিতর্কে অংশ নেবেন।

    পটভূমি: ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। সেই থেকে সংসদে কোনও অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি। এখন নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে শুক্রবার থেকে সংসদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনটিই ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশনও বটে।

    রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ক্ষমতাবলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা চূড়ান্ত হবে। সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রথম কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করাতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। গত ১৮ মাসে অন্তর্বতীকালীন সরকার মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছিল।

    সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়; এ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে হয়। ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনী কার্যক্রম গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের ফল গেজেট প্রকাশিত হয়। তাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়ী হয়েছে; এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিন বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে; দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    নেতৃত্ব ও সভাপতিত্ব: নতুন সংসদে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে উদ্বোধনী অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে—কারণ দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে আছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ অবস্থায় রয়েছেন। সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই সভাপতিত্ব করেন এবং তাদের উপস্থিতিতে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দু’জনেই দায়িত্ব পালনের অবস্থায় না থাকায় বিকল্প প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

    বৈঠক ও সিদ্ধান্ত: ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র সংসদীয় দলের এক বৈঠকে উদ্বোধনী দিন কীভাবে অধিবেশন পরিচালনা হবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকের পর বিএনপি’র চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশন শুরু করা হবে। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের পর সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সভার অস্থায়ী সভাপতির জন্য প্রস্তাব করবেন; অন্য এক সদস্য এটি সমর্থন করলে ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য সাময়িকভাবে অধিবেশন পরিচালনা করবেন। তার পরিচালনায় নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে এবং শপথ গ্রহণের পর তারা অধিবেশনে স্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করবেন। শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশনটি ১৫–২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে। সংসদীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

    সংবিধান ও বিশেষজ্ঞ মতামত: সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। আর সংবিধানের ৭২(৬) অনুচ্ছেদ বলে, নতুন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল থাকেন বলে গণ্য হবেন। বর্তমান বাস্তবতায় তা প্রযোজ্য না হওয়ায় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির আলোকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে গবেষক অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে থাকেন, কিন্তু বর্তমানে উভয়ের অনুপস্থিতিতে শূন্যতা দেখা দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, কার্যপ্রণালী বিধি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ব্যবহার করে উদ্বোধনী অধিবেশন পরিপাটি করে পরিচালনার পথ খোঁজা সম্ভব।

    উপসংহার: প্রথম অধিবেশনটি দেড় বছরের অন্তর্বতী সরকারের পর দেশের নির্বাচিত সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার দিন হিসেবেই গুরুত্ব বহন করছে। উদ্বোধনী দিনে কোথা থেকে এবং কার নেতৃত্বে কাজ শুরু হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দ্রুত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ঢুকবে।

  • রাষ্টপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন

    রাষ্টপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার বসছে। নিয়ম অনুযায়ী এ দিনে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ হওয়ার কথা। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছে বিরোধীদলীয় দলগুলো — জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) — তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে।

    অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, চলমান নিয়ম ও রীতির মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেবেন। বুধবার দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন।’’

    সালাহউদ্দিন বলেন, ‘‘জুলাই সেশনের সব বিষয় এ ভাষণে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। এবারই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে এবং তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি।’’

    আজ জাতীয় সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় দলের বৈঠক হয়েছে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভার সভাপতিত্ব করেন। আগামীকের সংসদ অধিবেশন ও সেসঙ্গে প্রয়োজনীয় কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    একই দিন দুপুরে বিরোধী দলের এমপিদেরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টদের দোসর। তারা যাকে দিয়ে ভাষণ করাতে চায়, সেই ব্যক্তির সংসদে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই।’’

    তাহের আরো বলেন, ‘‘আগামীকাল যে সংসদ বসবে সেখানে আমাদের কী ভূমিকা থাকবে, তা নির্ধারণে বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনেকে সংসদের অনেক সদস্যই নতুন, তাই তাদের জন্য সংসদের আচার-ব্যবহার ও চরিত্র নিয়ে কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

    ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘যখন প্রস্তাব আসবে তখন আমরা জানাবো। কালকে বিষয়টি খোলাসা করা হবে।’’ শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা মনে করে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই এবং এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত আগামীকাল প্রকাশ করা হবে।

  • জুলাই সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না জামায়াত

    জুলাই সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না জামায়াত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সংস্কারের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে তারা ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করবে না। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বক্তব্য জানান।

    জারকারী হিসেবে তিনি বলেন, বিএনপি আনঅফিশিয়ালি তাদের কাছে ডেপুটি স্পেকারের প্রস্তাব এনেছে; এ প্রস্তাবের জন্য তারা কৃতজ্ঞ, কিন্তু যে শর্ত তারা রেখেছে—জুলাই সংস্কার সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে—তাহাই অবশ্যক। আংশিক বা খণ্ডিত কোনো বাস্তবায়ন তারা মেনে নেবে না।

    ডা. শফিকুর বলেন, একটি দায়বদ্ধ বিরোধী দল হিসেবে তারা দেশের ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে চায়। প্রথমে যদি সরকার ভুল করে তারা ভ্রটি দেখিয়ে দেবে; তা না হলে শান্তিসম্মতভাবে প্রতিবাদ করবে এবং প্রয়োজন হলে জনগণকে নিয়ে আন্দোলনে যাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবু সব সিদ্ধান্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে দুটি বিষয়—একটি গণভোট ও একটি সংসদ নির্বাচন—দুইটোকেই মেনে নেওয়া হয়েছে। সংস্কার পরিষদে তারা শপথ নিয়েছেন, কিন্তু সরকারি দল এখনো শপথ নেয়নি; ‘২৪ থাকলে ২৬ থাকবে, নইলে থাকবে না’—এই কথায় তিনি দ্রুত শপথ গ্রহণের আশা প্রকাশ করেন এবং আক্ষেপ করেন যে ৬৯% মানুষ গণভোটে রায়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

    জামায়াত আমির আবেদন করেন যে গণভোটে রায় দেওয়া চারটি ইস্যু বাস্তবায়ন করা হোক। এই লড়াই তারা সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গায় একসঙ্গে চালিয়ে যাবে; সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো বিষয় আদালতে নেওয়া সঠিক হবে না এবং সরকার বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত বক্তব্য ও অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে—এই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে

    ভরিতে সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমেছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার জানিয়েছে যে ভরিপ্রতি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দর সোমবার (০৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার আন্তর্জাতিক দর কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম নামানো হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম দুই লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য মানের দামগুলো হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২৫২,৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি ২১৬,৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১৭৬,৯৪৩ টাকা।

    রুপার দামও কমেছে—২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬,৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৬,০৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩,৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে জানা যায়, গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,০৯০ ডলার। রবিবার তা ছিল ৫,১৭০ ডলার। গত মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দর ওঠানামার ফলে দেশীয় বাজারেও বড় ওঠানামা দেখা গেছে—উদাহরণস্বরূপ ২৯ জানুয়ারি বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম রেকর্ড ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দেয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং এক ধাক্কায় এত বড় বাড়তি কখনো করা হয়নি।

    বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক ওঠানামার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা (ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কিত) প্রধান প্রভাব হিসেবে দেখা গেছে। তবে আজকের বাজারে দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা স্থানীয় ক্রেতা-বিতরণ ও মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

  • সোনার দাম ভরিতে ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার

    সোনার দাম ভরিতে ছাড়াল ২ লাখ ৭০ হাজার

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দিনও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের নতুন সিদ্ধান্তে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরির দাম ভরিতে ২ হাজার টাকারও বেশি বাড়িয়ে নির্ধারিত হয়েছে ২,৭০,৪৩০ টাকা।

    বাজুস বুধবার (১১ মার্চ) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম বুধবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দর বাড়ার প্রভাব বিবেচনায় রেখে সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দামের তালিকা (প্রতি ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম):

    – ২২ ক্যারেট: ২,৭০,৪৩০ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৫৮,১২৪ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ২,২১,২৬৬ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতি: ১,৮০,৬১৭ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রুপার ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের এক ভরি দামে প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬,৭০৭ টাকা। অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী রুপার দাম যথাক্রমে ২১ ক্যারেট ৬,৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫,৪৮২ টাকা ও সনাতন পদ্ধতি ৪,০৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    এই পরিবর্তন ক্রেতা ও আভরণ ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে বলা হচ্ছে। বাজার থেকে প্রাপ্ত নতুন দামের ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম চলবে।