পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদললেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অপরিবর্তিত থাকবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলেছে বলেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বদলাবে না। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্বাচন তাদের নিজস্ব বিষয়; বাংলাদেশ তার ফরেন পলিসি সব ক্ষেত্রেই একইভাবে পরিচালনা করবে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই ফরেন পলিসি থাকবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, আমাদের নীতি পরিবর্তন হবে না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতেই সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব।”

ডিসি সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধ ও মানুষকে দালাল চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করাই প্রধান অগ্রাধিকার। বহু বাংলাদেশি বিদেশে যাওয়ার সময় প্রতারণার শিকার হয়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন; অনেকের প্রাণও হারাচ্ছেন। এসব রোধ করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের বড় ভূমিকা আছে—জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্থানীয়ভাবে সামাজিক জাগরণ তৈরি করা এবং সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে মানুষকে জানানো।

প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে তোলা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন ইনস্টিটিউট স্থাপনে ডিসিরা কাজ করতে পারবেন। এতে দক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো সহজ হবে, ফলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অন্যদিকে অবৈধ মাইগ্রেশন কমানো সম্ভব হবে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সরকারের মেনিফেস্টোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—স্কিলড ও সেমি-স্কিলড লেবার বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেশের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা হবে। জেলা প্রশাসকদের কাজ হবে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে কার্যকর করে আরও বেশি তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কর্মজীবনে প্রস্তুত করা।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কঠোর প্রভাব ফেলছে এবং সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশু সম্প্রদায়ের ওপর এর প্রভাব গুরুভাবে পড়ছে। কোন অঞ্চলে কী পরিস্থিতি আছে তা পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিসিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে এসব দিক নিয়েও ব্যাপক কথা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের যে কোনো পরামর্শ গ্রহণে উন্মুক্ত আছে বলেও তিনি জানান। “জেলা প্রশাসকরা যেকোনো সময় আমাদের সাথে আলোচনা, মত বিনিময় বা পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের যোগাযোগ লাইন সব সময় খোলা আছে—ডিসি থেকে উপজেলা পর্যায়ে পর্যন্ত আমরা নিয়মিত সংযোগে আছি,” প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।