জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ দিনের আলোচনায় এই কথা বলেন তিনি।সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে এবং আমরা মনে করি, আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাছাকাছি আছি।” গণভোটের প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সকল রাজনৈতিক দল মিলে ধারণা করছি, আমাদের কি জনগণের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। যদি জনগণের কাছে এই গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করা যায় যে, আমরা এই সনদে স্বাক্ষর করেছি এবং অঙ্গীকার করেছি, তখন জনগণের পক্ষ থেকেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হবে।”তিনি আরও বলেন, “গণভোটের জন্য সংবিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগ সরকার যে আর্টিকেল ১৪২ এর অধীনে গণভোটের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিল, তা হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন কেউ সংবিধানে কোথাও গণভোটের প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাবেন না। এক্ষেত্রে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে নির্বাচন কমিশনকে এই সুবিধা দিতে পারা সম্ভব, যাতে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করা যায়।” স্লাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনস্ব idée সার্বভৌম ক্ষমতার অভিপ্রায়। তাই সংসদ এবং সংসদ সদস্যরা এই রায় মানতে বাধ্য হবেন।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি আগামী সংসদে এই সনদের বিরোধী সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে, তবে তারা জনমতকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। কারণ, এই ভোট সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, যা মান্যতা পাবে।”তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষরিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই বিষয়ক ইশতেহারে নিজেদের অঙ্গীকার প্রকাশ করবেন। সেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ হবে এবং জনগণ জানবে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি কি-কি। যাঁরা এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট করবেন, তারা তা অনুসরণ করতে পারবেন।” সুবিধার্থে বোঝানোর জন্য বলে রাখা ভালো, এই প্রক্রিয়া সমন্বিতভাবে চলবে, যাতে সকলের মধ্যে স্পষ্ট যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
Blog
-

তারেক রহমানের আহবান: একসঙ্গে গড়ে তুলবো সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক সঙ্গে সবুজ এবং টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার গুরুত্ব আরোপ করেছেন। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সকলের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুরক্ষিত বাসস্থান অধিকারের বিষয়টি অপরিহার্য। আমাদের গ্রামাঞ্চল, শহর, নদী, বন—সকলই আমাদের জীবনযাত্রার অংশ, এবং এগুলোর সংরক্ষণ ও উন্নয়ন ভবিষ্যৎকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে। টেকসই উন্নয়ন ছাড়া একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ জাতি সম্ভব নয়, এর জন্য বিশৃঙ্খল নগরায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তির মোকাবিলা জরুরি। আজকের বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে তিনি বিএনপি’র ৩১-দফা পরিকল্পনাকে আমাদের রোডম্যাপ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষা, পরিকল্পিত ও সুষম নগরায়ন এবং বিকেন্দ্রীকরণ এই তিনটি বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হতে চাই। তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ঢাকা কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বন্ধ করে, দেশের প্রত্যেক অঞ্চলে উন্নত ও আধুনিক শহর গড়ে তুলতে হবে যাতে সব নাগরিক উপকৃত হন। তিনি একটি জাতীয় সবুজায়ন কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেন, যার আওতায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ, নদী পুনরুদ্ধার, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, আধুনিক কৃষি, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমিকে প্রসারিত করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকার বাসস্থান ও ভবিষ্যৎ দু’টিই রক্ষা করবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি সবুজ, টেকসই ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ‘বিশ্ব বাসস্থান’ দিবস প্রতি বছর অক্টোবরে প্রথম সোমবার পালিত হয়, যার প্রধান লক্ষ্য হলো সবাইকে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দ্রুত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জে সচেতনতা বৃদ্ধি।
-

বিএনপির মনোনয়ন পাবেন কারা, জানালেন তারেক রহমান
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের পেশি শক্তি বা অর্থের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর যোগাযোগ ও জনসমর্থনই মনোনয়নের মূল ভিত্তি হবে। বিএনপির এই নেতা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া দুপর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে এসব কথা ব্যক্ত করেন। প্রথম পর্বটি সোমবার প্রচারিত হয়, এবং আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ৯টায় বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে দ্বিতীয় পর্বের সাক্ষাৎকার দেখানো হবে।
সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচন, রাজনীতি এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। পছন্দের প্রার্থনির জন্য পেশিশক্তি বা অর্থের প্রভাবের অভিযোগের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ’আমরা কখনোই এইসব বিবেচনায় যেসব বিষয় আসে, তা বিবেচনা করি না। আমাদের মনোনয়নের সিদ্ধান্ত সাধারণত ওই এলাকায় যে ব্যক্তি এলাকার সমস্যা ভালো বোঝে, যার সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ রয়েছে, যারা পরিস্থিতির উন্নতিতে সক্ষম এবং জনগণের সমর্থন আছে, তাদের ভিত্তিতে হয়।”
তিনি জানান, “অর্থাৎ, এমন একজন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, যার সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ, নারী, বৃদ্ধ, ছাত্র-ছাত্রীরা যোগাযোগ রাখে। তার জনসমর্থন থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এমন ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেই, যার জনসমর্থন রয়েছে, যে সেই সমর্থন বহন করতে পারে।”
তৃণমূলের মতামত কতটা প্রাধান্য পাবে, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে যেখানে মতামত থাকা স্বাভাবিক। বিভিন্ন মতামত আসে, কেউ এককভাবে সব বলবে না। জনপ্রতিনিধি যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য মূলত মেজরিটি বা বেশি সংখ্যক মানুষের মতামতই বিবেচনা করা হয়। আমরা আমাদের এলাকাকার মানুষের মতামত খুঁজে থাকি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করছি না, বরং এমন ব্যক্তিকে খুঁজছি, যে দলমত নির্বিশেষে এলাকার অধিকাংশ মানুষের সমর্থন পায়। এটি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন এবং নিজ এলাকায় জনপ্রিয়। আমরা চাই, এই ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। কারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা সেই ধরনের ব্যক্তির খোঁজ করছি, যার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও যে সমর্থন আছে।”
-

তারেক রহমান বললেন, দ্রুত দেশে ফিরে আসব এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তিনি দ্রুত দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আজ সোমবার বিবিসি বাংলার বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পরে প্রথমবারের মতো তিনি কোনো মৌখিক সাক্ষাৎকারে অংশ নিলেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি আগামী নির্বাচনের জন্য দলের কৌশল, আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের নেতাকর্মীদের বিচার, বাংলাদেশের নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিপ আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির ও সিনিয়র সাংবাদিক কাদির কল্লোল। সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ আজ বিবিসি বাংলার পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো।
বিবিসি বাংলার প্রশ্নে, তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছরে নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের এক বছর সম্পন্ন হল, এবং অনেকের মনে ছিল যে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দেশে এসে দলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে এখনো নিজেকে দেশে ফিরবেন কি না, তার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলতে না পারলেও তিনি জানান, ফেরার সময় খুবই কাছাকাছি এবং শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরবেন।
তিনি বলেন, ‘কিছু সংগত কারণে এখনো ফিরতে পারেননি, তবে এখন সময় এসেছে। ইনশআল্লাহ, শীঘ্রই ফিরে আসব।’ তারেক রহমানের এই কথায় বোঝা যায়, তিনি খুব দ্রুত দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি জানান, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইচ্ছা এবং প্রবল আগ্রহ নিয়ে সেই প্রত্যাশিত নির্বাচনে অংশ নিতে। নির্বাচন যখন হবে, আমি অবশ্যই জনগণের মাঝে থাকব।’
একই সাথে, তিনি বলেন, তার দলের কিছু নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এখনো দেশে ফিরছেন না। তিনি এই বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন সূত্র থেকে নানা রকম শঙ্কার খবর শুনেছেন, যা সরকারের কাছ থেকেও কিছু কিছু প্রকাশ পেয়েছে।
পরবর্তী প্রশ্নে, তাকে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি উত্তর দেন, ‘আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। নির্বাচনে আমি অংশ নেব—এটা নিশ্চিত। নির্বাচন যেখানে হবে, সেখানে আমি থাকব।’ তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের জনগণের। এটি আমার নয়, তাদের সিদ্ধান্ত।’
শেষে, প্রশ্ন করা হয়, আসলেই কি তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। তিনি উত্তরে স্পষ্টভাবে বলেন, ‘নিশ্চয়ই। আমি ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে থাকব।’ এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি খুব দ্রুত দেশের রাজনীতিতে বড়ভাবে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
-

চার জেলায় বন্যার সংকেত প্রাপ্তি
লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর এবং কুড়িগ্রাম—এই চারটি জেলায় বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে দেশটির বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। রোববার সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা जारी করে। আবহাওয়া বার্তায় জানানো হয়, আজ (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে আগামীকাল (৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীগুলো বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই এলাকায় নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগ ও তার উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন অংশে প্রবল বৃষ্টিপাতের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্চগড় জেলায় ১১৮ মিলিমিটার, নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮৫ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে ভারতের দার্জিলিংয়ে ২৬১ মিলিমিটার, কোচবিহারে ১৯০ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ১৭২ মিলিমিটার, শিলিগুড়িতে ১৩৪ মিলিমিটার, আরুনাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ৮৯ মিলিমিটার ও সিকিমের গ্যাংটকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে নদীগুলোর পরিস্থিতি আরও সংকটময় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
-

গ্রেফতারের সময় পুলিশের পরিচয়পত্র থাকতে বাধ্যতামূলক
আসামি গ্রেফতারের সময় এখন থেকে পুলিশের নেমপ্লেট ও পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক করেছে আইনমন্ত্রীশিপ। এই উদ্যোগটি মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কার্যক্রম-১ এর আওতায় ফৌজদারি বিচার সংস্কারের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রোববার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগামী দিনে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রথমত, গ্রেফতারকালে পুলিশকে অবশ্যই তাদের নেমপ্লেট ও পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। এছাড়া, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকটজনকে গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য জানাতে পুলিশ বাধ্য থাকবে। যদি গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আহত বা অসুস্থ হন, তবে তার চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সব প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা ও তদারকি করবেন আদালত।
দ্বিতীয়ত, এখন থেকে মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, কারণ ভুক্তভোগীকে আগের মতো স্বতন্ত্রভাবে মামলা করতে হবে না।
তৃতীয়ত, মিথ্যা অভিযোগকারীদের সাজা বাড়ানো হয়েছে, এবং এই সাজা কার্যকর করার জন্য বিচারক নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
অবশেষে, সাক্ষী ও ভিকটিমের সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে এবং সংক্ষিপ্ত ও কার্যকরী বিচার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এই সংস্কারগুলোর মাধ্যমে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থা আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং ন্যায়নিষ্ঠ হবে।
-

তারেক রহমান: জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড আমি নই, জনগণই এর মূল কাণ্ডারী
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, নিজেকে কখনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে দেখেন না। তিনি জানান, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি এবং কৌশলগত নেতৃত্ব জনগণের মধ্যেই ছিল। তারেক রহমান বিবিসি বাংলাকে একাধিক পর্বের সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন, যার প্রথম অংশ সোমবার (৬ অক্টোবর) তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আড়ালে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহৎ গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এই ব্যাপক বিক্ষোভে তীব্র সংঘর্ষের মাঝখানে, ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এর পরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়, কে বা কারা ছিল এই আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি বা মাস্টারমাইন্ড।
বিশেষ করে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে ছাত্রদের পরিচিতি হওয়ার পর বিষয়টি আরও জোরেশোরে আলোচনায় আসে। এরপর বিএনপি, জামায়াত, ইসলামপন্থী বিভিন্ন দলসহ ছোট ছোট দলে নেতাদের মাধ্যমে নানা সমাবেশে আন্দোলনের কৃতিত্বের দাবির চলতে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কখনোই নিজেকে এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভাবি না। এই আন্দোলনটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যা সবাই জুড়ে দিয়েছে জুলাই মাসের নামে। কিন্তু এর প্র্রারম্ভকাল বহু আগে থেকেই। এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, তাদের নেতাকর্মীরা, যারা গণতান্ত্রিক মূলধারার। তারা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে অবদান রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কেবল রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নয়, সেদিন বিভিন্ন পেশার মানুষও রাস্তায় ছিলেন। মাদরাসার ছাত্র, গৃহিণারা সন্তানের পেছনে রাস্তায় নেমেছিলেন। কৃষক, শ্রমিক, সিএনজি চালক, ছোট দোকানি থেকে শুরু করে গার্মেন্টস কর্মী-সবাই আন্দোলনে শরিক ছিলেন। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্বৈরাচারের অত্যাচারে দেশত্যাগ করা সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিতি দেখিয়েছেন। এই প্রত্যেকের অবদানকে আমরা ছোট করে দেখিনা। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সবাই এই আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘এই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের আন্দোলন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। এটাই ছিল মূল আন্দোলনের শক্তি এবং মাস্টারমাইন্ড, কারণ কেউ কোনো দল বা ব্যক্তি নয়—এই আন্দোলনের একমাত্র মূল চালিকা শক্তি হলো দেশের গণতন্ত্রকামী জনতা।’
আন্দোলনের শুরুতেই ছাত্রদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি নেড বলে, ‘আমরা যখন বাইরে থেকে কাজ করছিলাম, তখন আমাদের জন্য যোগাযোগের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় স্বৈরাচারিরা টেলিফোন বা অনলাইন যোগাযোগে নানা বাধা সৃষ্টি করেছিল। আমাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে, কার্যত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে যোগাযোগ চালাতে হয়েছে। সবসময় এই যোগাযোগ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ বা স্মুথ ছিল না, তবে প্রত্যেকের সহযোগিতায় আন্দোলন চালাতে পেরেছি।’
-

সিইসির আহ্বান: মিডিয়াকে পাশে চাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য নির্বাচন কমিশন মিডিয়াকে সহযোগী পার্টনার হিসেবে পাশে চাই। তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, মিথ্যা তথ্য (মিসইনফরমেশন) এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচার (ডিসইনফরমেশন) নির্বাচনের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, এজন্য গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা খুবই জরুরি। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীতে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র ভোটের আয়োজন নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্মল নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর জন্য মিডিয়াকে পাশে চায় সংস্থাটি। তিনি বলেন, অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এত কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সংলাপ একে নিয়েই কেন দেরি হলো। এ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন, বলেন, গঠিত সংস্কার কমিশন ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশীজন, মিডিয়া, সিভিল সোসাইটি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সাথে বিস্তৃত আলোচনা চালিয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো কমিশনের কাজ সহজ করে দিয়েছে। ফলে, মূল সংলাপে দেরি হলেও, পূর্বপ্রস্তুতি শুরু থেকেই চলছিল। তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করতে কিছুটা বিলম্বের কারণ, তারা এখনো ভোট আইন ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তাদের আমন্ত্রণ জানালেও, প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে কি না—এ ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। এজন্য সংলাপ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চলতি সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। এর মাধ্যমে প্রায় ৭৭ লাখ মানুষের তথ্য আপডেট করা হয়েছে। এর ফলে, ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটার তালিকা থেকে সরানো হয়েছে, পাশাপাশি ৪৩ লাখের বেশি নতুন ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি বড় অগ্রগতি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি সৃষ্টি করেছে। সিইসি উল্লেখ করেন, নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা যেখানে আগে ৩০ লাখের বেশি বিভাজন ছিল, সেখানে এবার তা কমে ১৮ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, নারীরা ভোটদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল, তবে কমিশনের উদ্যোগে সেই আগ্রহ আবার ফিরে এসেছে। প্রবাসীদের ভোটের বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন, এবং ১০ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতের योजनাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আউটজোনে প্রবাসীদের জন্য আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তারা সহজে ভোট দিতে পারবে। এছাড়া, ভোটের দায়িত্বে থাকা প্রায় ১০ লাখ কর্মী—যেমন পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা ও হাজতিরা—ও ভোটের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এর বাস্তবায়নও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যেখানে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। সংলাপে প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সিভিল সোসাইটি, সাংবাদিকসহ সব অংশীদাররা একসাথে কাজ করবে। সিইসি বলেন, নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক হয়, সেই জন্য মিডিয়াকে শুধুমাত্র প্রচারক নয়, বরং নীতিনির্ধারনী আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও ভুল তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রন্টলাইন পার্টনার’ হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, এই সংলাপ কেবল আনুষ্ঠানিকের জন্য নয়; বরং সাংবাদিকদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসgäযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়তে চায় নির্বাচন কমিশন। অনুষ্ঠানে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজের পরিচালনায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
-

জনপ্রশাসনে বড় পরিবর্তন আসছে: পদনাম পরিবর্তন এবং নতুন সার্ভিসের ঘোষণা
জনপ্রশাসনের সংগঠন ও কার্যাপদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে গঠিত হয়েছে নতুন সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস), যা দেশের বিভিন্ন ক্যাডার থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ তৈরি করবে। এই সার্ভিসের অধীন থাকবে উপসচিব থেকে শুরু করে সচিব পদপর্যায়ের সকল কর্মকর্তার পদ।
এছাড়াও, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদনাম পরিবর্তনসহ প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চলমান প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র। জানিয়েছে, এই সংস্কারের ফলে গঠিত হবে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, যা বাংলাদেশের সাধারণ প্রশাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
শোনা যাচ্ছে, ডিসির পদবি পরিবর্তন করে এখন থেকে তাকে বলা হবে ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা কমিশনার’, আর ইউএনও’র পদনাম হবে ‘উপজেলা কমিশনার’। এসব পরিবর্তন দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে ন্যাশনাল ইমপ্লিমেন্টেশন কেমিটি (নিকার), যাতে এই প্রক্রিয়াগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী,এসইএস গঠনের জন্য বিভিন্ন সার্ভিসের কর্মক্ষম মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হবে। এই সার্ভিসে নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থাকবে, যিয়ে উপসচিব পদে পদোন্নতির জন্য মূল যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আগামী দিনে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই পরীক্ষার জন্য সুপারিশ পাঠানো হবে সরকারকে।
প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে, সব কর্মকর্তাদের একটি সম্মিলিত মেধা তালিকা তৈরি করা হবে। এতে, কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে তাদের পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে। বিশেষায়িত সার্ভিসের কর্মকর্তারা ভিন্নভাবে এই ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়বেন না।
বর্তমানে, উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে থাকা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে। সচিব, মুখ্যসচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবও এই সার্ভিসের অংশ হয়ে যাবেন। বিশেষ করে, একটি মন্ত্রিসভার কমিটি এর নেতৃত্বে উচ্চপদে পদোন্নতি প্রদান করা হবে।
নতুন এই সিস্টেমে, সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, জেলা কমিশনার (বর্তমানে জেলা প্রশাসক), অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনার পদে নিয়োগ হবে। এই পদের সঙ্গে এসইএস কর্মকর্তাদের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পদটি পরিবর্তন করে ‘অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (ভূমি ব্যবস্থাপনা)’ করার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও দক্ষ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করতে দুই শতাধিক সংস্কারমূলক প্রস্তাব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। এ সমস্ত পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার প্রশাসনিক কার্যপদ্ধতিকে যুগপূর্য ও যুগোপযোগী করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
-

প্রবাদপ্রতিম সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই
উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন কিংবদন্তি শিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র বুধবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। তবে তার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে। এই শোকের খবর শুনে ভারত এবং বাংলাদেশের সংগীতজগৎ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।
শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে বিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরো খারাপের খবর পাওয়া যায়, এরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি দেখে ১১ সেপ্টেম্বর মির্জাপুরের মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের বিশেষ চিকিৎসকদের একটি দল তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।
ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি তার প্রেমের শুরু বাবার, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার দেখাদেখি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখা দেয়। বাবার নির্দেশনায় সংগীতের ধারায় তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রায় এক শ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের নানা রাগ, ভজন ও ধারা সমৃদ্ধ করেছেন। তার কণ্ঠে রচিত রাগ ও ভজনের দলগুলো দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছে। ভারতীয় সংগীতজগৎ তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে স্মরণ করবে।
শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট ও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরেছেন। তাঁর অপ্রতিরোধ্য সঙ্গীত জীবন ও অবদানে বাংলা-বাংলাদেশ ও ভারতের সংগীতপ্রেমীরা গভীর শোক প্রকাশ করছে। তাঁর প্রয়াণে সংগীতের অঙ্গন এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে।
