Blog

  • নব্বইয়ে নগরবাউল জেমস আজ বাষট্টিতে

    নব্বইয়ে নগরবাউল জেমস আজ বাষট্টিতে

    উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী ও জনপ্রিয় গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। আজ তিনি বয়সের প্রথম বৃত্ত সম্পন্ন করে ৬২-এ পা রাখলেন।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই রকবাদক এখন একটি শক্তিশালী অবস্থানে। জেমস শুধু একজন গায়ক নয়, বরং অনুভূতির এক দিগন্ত-প্রসারী নাম, যাঁর গায়কি ও সৃষ্টির জন্য বহু মানুষ তাকে ভালোবাসে। ভক্তরা তাকে সম্মান ও ভালোবাসায় গুরু হিসেবে ডাকে।

    বয়সের ধারকেও অতিক্রম করে, পুরোপুরি চির তরুণ এই শিল্পী এখনও তার ঝাকড়া চুলে গিটার হাতে গানে গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। বয়স তার কাছে কেবল Zahlen, কারণ এই গায়ক এখনো গানের জাদুকর হিসেবে הפעולה চালিয়ে যাচ্ছেন।

    জেমসের জীবনযাত্রার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। তার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছোটবেলায় শৈল্পিক ঝোঁক থাকলেও পরিবারের অনিচ্ছাকেই অবজ্ঞা করে তিনি সংগীতের পথে এগিয়ে যান। বাবার সঙ্গে গানের প্রতি আবেগবিহ্বল হয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকাকালীন তাঁর সংগীতের যাত্রা শুরু হয়।

    ১৯৮০ সালে তিনি একটি ব্যান্ড গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ‘ফিলিংস’। এই ব্যান্ডের তিনি ছিলেন প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকাল। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়, যদিও তখন বেশ জনপ্রিয়তা পায়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ‘অনন্যা’ অ্যালবামটি একের পর এক সুপারহিট হয়ে ওঠে।

    তারপরের বছর অর্থাৎ ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অব ফিলিংস’—এই সমস্ত অ্যালবামগুলো তার ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ায়। এছাড়াও তার অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ও একক অ্যালবাম যেমন ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, এবং ‘কাল যমুনা’।

    অ্যালবামের গানের পাশাপাশি জেমস চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও অর্জন করেছেন ব্যাপক সফলতা। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি গানে গলাপ গেয়েছেন, এবং সে গানের জন্য দিয়েছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ও ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানের চাহিদা অনেকে মানতে বাধ্য। এছাড়াও বাংলাদেশের ‘সত্তা’ সিনেমায় গাওয়া গান তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও এনে দেয়।

  • ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের শিকার, নেটিজেনদের সমালোচনায় সরব মেহজাবীন ও আরশ খান

    ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের শিকার, নেটিজেনদের সমালোচনায় সরব মেহজাবীন ও আরশ খান

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান সবাইকে মুগ্ধ করে আসছেন সিনেমা ও নাটক উভয় ক্ষেত্রেই। তার অভিনয় দক্ষতা ও অভিনয়শৈলী দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। সম্প্রতি তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, বিজয়া দশমির দিন, কপালে সিঁদুর, তিলক লাগিয়ে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ বিজয়া।’ সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। তবে এর পর থেকে নেটিজেনদের একাংশ তার ধর্ম সম্পর্কে নানা কটূক্তি ও বিদ্রুপ মন্তব্য করতে শুরু করেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মুসলমান ভেবে ভুল করে ছিলাম!’, ‘আপনার নাটক আজ থেকে আর দেখা হবে না। কারণ আগে ভেবেছিলাম আপনি মুসলিম।’ এ ধরনের অহেতুক নেতিবাচক মন্তব্যে কিছু নেটিজেন মন খারাপ করেছেন, যাকে নিয়ে সরব হয়েছেন ব্যস্ত বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। কোণঠাসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও অভিনেতা আরশ খান। মেহজাবীন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘কারও পোস্টে বাজে মন্তব্য করা, স্ল্যাং ব্যবহার করা বা ভুয়া প্রোফাইল দিয়ে কথা বলা আপনাকে সাহসী করে তোলে না। বরং এটা আপনার মানসিকতার অবনতি ও ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা প্রকাশ করে। এমন ঘৃণা ও অবজ্ঞা নিয়ে আপনি কীভাবে শান্তিতে ঘুমাতে পারেন?’ অন্যদিকে, আরশ খান নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অভিনয় আর ব্যক্তিত্ব উভয়ই আমাকে প্রশংসা করেছে। তিনি তার ধর্ম বা জন্মস্থান দ্বারা কোনও ভাবে অপ্রকাশিত। বরং নিজস্ব প্রতাপ ও দক্ষতা দিয়ে তিনি দেশের মানুষকে এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ধর্মের ব্যাপারটি মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, দেশের জন্য সব মানুষই সমান।’ ইয়াশ রোহান ধর্মীয় বিভাজন টপকে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুবই সরল ও স্বাভাবিক মানুষ। তার মন্তব্যে কটূক্তির জবাবেও তার সহজ ও সদাহাস্য পদচারণা চোখে পড়ে। তবে সবমিলিয়ে, নেতিবাচক মন্তব্যের সাথে সঙ্গে ভালোবাসাও পেয়েছেন এই তরুণ অভিনেতা। একজন লিখেছেন, ‘আজ বুঝলাম রোহান ভাই হিন্দু। ভালোবাসা অবিরাম ভাই।’ অন্য আরেকজন লিখেছেন, ‘কমেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় মানুষের মানসিকতা কত নিচে নেমে গেছে।’ ইয়াশ রোহান অনন্তপরিবারের বরেণ্য অভিনেতা নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান। তাঁকে প্রথম বড়পর্দায় অভিনয় করতে দেখা যায় গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে। শোবিজে তার এই যাত্রা শুরু।

  • রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ও আলোচিত চলচ্চিত্র জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা অবশেষে তাদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই দুই তারকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন করেছেন।

    এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) একটি পারিবারিক समारोहের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্য ও কাছের বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই দীর্ঘ প্রত্যাশিত বাগদান সম্পন্ন হয়। তবে, তারা এখনও নিজেদের বাগদান বা বিয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

    শোনা যাচ্ছে, এই প্রেমের জুটি আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    ভক্তরা তাদের সম্পর্কের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যেই সম্প্রতি রাশমিকা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই জল্পনায় ইন্ধন দিলেন। দশেরার দিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কপালে তিলক পরা এক ছবি তিনি শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ দশেরা আমার প্রিয়জন… এই বছর আমি বিশেষ করে কৃতজ্ঞ। কারণ, ‘তাম্মা’ ট্রেলার এবং আমাদের গানের জন্য আপনারা যে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তার জন্য আমি সত্যিই ধন্য। আপনাদের বার্তা, উৎসাহ ও সমর্থন আমার জন্য অনেক কিছু। শিগগিরই সিনেমার প্রচার শুরু হবে; আপনাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি অপেক্ষা করতে পারছি না।’

    অভিনেত্রীর এই পোস্টে কিছু স্পষ্টভাবেই ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।

    রাশমিকা মান্দানাকে খুব শিগগিরই পরিচালক আদিত্য সারপোতদার এর ভৌতিক-কমেডি সিনেমা ‘তাম্মা’ তে দেখা যাবে। সেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করবেন আয়ুষ্মান খুরানা। এই ছবিতে আরও রয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, পরেশ রাওয়ালসহ অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরা। এই ছবি আসছে ২১ অক্টোবর মুক্তির অপেক্ষায়।

    অন্যদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গৌতম তির্ণানুরির তেলুগু স্পাই অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিংডম’ (২০২৫) সিনেমায়।

  • বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিনকে, স্বজনের অভিযোগ বিস্ফোরক

    বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিনকে, স্বজনের অভিযোগ বিস্ফোরক

    প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে এখনো নানা জল্পনা-কল্পনা চলচ্ছে। নতুন করে এক বাবা-ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জুবিনকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার ব্যান্ড সদস্য এবং মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির রিপোর্টে জানা গেছে, রিমান্ড নোটে সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী উল্লেখ করেছেন, জুবিনের মৃত্যু যা ঘটেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। প্রচুর সন্দেহজনকভাবে এটি একটা দুর্ঘটনা নয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, এই হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক হোটেলকেই বাছাই করা হয়, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রায় এক মাস আগে, ৫২ বছর বয়সী এই গায়ক রে জুবিন গার্গ, ভারতীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী ও ভারত-আসিয়ান পর্যটনের উৎসবের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে যাত্রা করেছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য একটি দ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে ডুবে গিয়ে তার মৃত্যু হয়, যা প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়।

    রিমান্ডের বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ জানায়, মূল সাক্ষী তথা জুবিনের ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যখন জুবিনের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে, তখন দেখানো হয় যেন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একেবারে চিকিৎসায় সাহায্য না করে, শুধুমাত্র ‘অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এই অবহেলা, গোস্বামীর মতে, জুবিনের মৃত্যুর পথটা আরও ত্বরান্বিত করেছে।

    গোস্বামী আরও দাবি করেছেন, জুবিন একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন, এরূপ পরিস্থিতিতে তার স্বাভাবিক ডুবে যাওয়ার কোনও কারণ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্যামকানু মহন্ত ও শর্মা এই ঘটনার প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ইয়ট দুর্ঘটনার কোনও ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করতে নাকোচ করেছিলেন।

    এ পর্যন্ত, এই ঘটনায় মোট চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নিয়েছে। তাদের মধ্যে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত, মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং অন্য এক শিল্পী রয়েছেন। এই ঘটনায় তদন্ত এখনো চলমান।

  • সোহানের ক্যামিওয়ে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশ

    সোহানের ক্যামিওয়ে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশ

    অ্যাফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম খেলায় বাংলাদেশ দারুণ একটি জয় পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান ছিল নুরুল হাসান সোহান এবং রিশাদ হোসেনের, যাঁরা শেষ মুহূর্তে আবেগঘন এক ক্যামিও খেলেছেন। ম্যাচটি শারজাহতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের দল শুরুতেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচকে রীতিমতো জমিয়ে তুলেছিল।

    শুরুর দিকে, তানজিদ তামিম এবং পারভেজ হোসেন ইমন দুর্দান্ত ব্যাটিং করে উদ্বোধনী জুটিতে শতরান সংগ্রহ করেন। এই দুজনের আক্রমণাত্মক খেলায় আফগান বোলাররা খুবই বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। এমনকি, পুরো দলের রান যখন ৫১ বলের মধ্যে ৪৩, তখন সবাই মনে করছিলেন সহজ জয়ের পথে বাংলাদেশ। তবে, জীবনের ম্যাচে কিছুটা নাটকীয়তা থাকবেই—পরের মুহূর্তে বাংলাদেশের শুরুর ৬ ব্যাটসম্যানই দ্রুত ফিরে যান, বাংলাদেশ এক সময় ৯ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় ধাক্কা খায়।

    বিশেষ করে, রশিদ খান বাংলাদেশের জন্য যেন এক কাল স্বপ্নের মতো, তাঁর ৪ উইকেটই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। বাংলাদেশ ১০৯ থেকে ১১৮ রানে পৌঁছানোর পর হারিয়ে বসে ৬ উইকেট। তখনই ম্যাচের উত্তেজনা ফেরে, যখন নুরুল হাসান সোহান (১৩ বলে ২৩*) ও রিশাদ হোসেন (৯ বলে ১৪*) অবিশ্বাস্য ধৈর্য্য ও ঘোরাঘুরির মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামলে নেন।

    লক্ষ্য ছিল ১৫২ রান, যা তারা মাত্র ৮ বল হাতে রেখে অর্জন করে। শুরুতে বাংলাদেশের দুজন ওপেনার, তানজিদ হাসান তামিম (৫১) ও পারভেজ হোসেন ইমন (৫৪) দুর্দান্ত শুরু করে, তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ সহজই ছিল। পরে কিছু ব্যর্থতা ও জোড়ালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা চললেও, শেষ দিকে সোহান ও রিশাদের অবিশ্বাস্য ঠান্ডা মাথায় খেলা জয় নিশ্চিত করে।

    ম্যাচের আগে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তবে, বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তাদের দারুণ প্রস্তুতি ও শুরুটা দেওয়া নাসুম আহমেদের প্রথম ওভার, যেখানে তিনি ইব্রাহিম জাদরানকে শিকার করেন। নিচের দিকে ব্যর্থ ছিলেন সাদিকুল্লাহ আতালও। এরপর দারউইস রাসুলি ও মোহাম্মদ ইশাকের ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায়।

    শেষ দিকে, মোহাম্মদ নবি ঝড় তোলেন, ১৮ বলে ৩৮ রান করে তাসকিনের ১৮তম ওভারে তিন ছক্কা হাঁকান। যদিও, সেই ওভারে আউট হন তিনি। এর আগে তিনি ১২ বলে ১৭ রান করেন। পাকিস্তানির এই ইনিংসের পর, বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে ম্যাচ জিতে সিরিজের প্রথম জয় করে নেয়।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল উন্মোচন করল ফিফা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল উন্মোচন করল ফিফা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আসর অনুষ্ঠিত হতে এখনো এক বছর অপেক্ষা করতে হবে, তবে এর আগেই শুরু হয়ে গেছে সুদৃশ্য প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা। সম্প্রতি, বিশ্বকাপের ব্যতিক্রমী ও আধুনিক বলের প্রথম প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ব্রিজ পার্কে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে বিশ্বব্যাপী ফুটবল প্রেমীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তী ফুটবলাররা। এই তালিকায় ছিলেন পাঁচবারের বিশ্বকাপজয়ী জার্মানির ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান, ব্রাজিলের কাফু, ইতালির আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো, স্পেনের জাভি হার্নান্দেজ এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান।

    নতুন বিশ্বকাপের বলের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাইওন্ডা’, যা অ্যাডিডাস তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটিই ধারাবাহিকভাবে ১৫ বার ফিফার অফিসিয়াল বল সরবরাহ করে আসছে। ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘আমরা গর্বিত এই নয়া বল উপস্থাপন করতে পেরে, যাকে ডিজাইন করা হয়েছে কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্য ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক হিসেবে।’

    ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি এসেছে দুটি শব্দ থেকে—‘ট্রাই’ অর্থ তিন এবং ‘ওন্ডা’ অর্থ ঢেউ। বলটি আলোকিত হয়েছে প্রবল দেশপ্রেম ও বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে, যেখানে রয়েছে লাল, সবুজ ও নীল রঙের ঢেউ। এই তিন রঙের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, এই তিন দেশের মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্য। আরও স্পষ্টতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে বলের নকশা, যেখানে দেখা যায় ‘অ্যাপোলো’, ‘আমেরিকা’, ‘ম্যাকডোনাল্ড’ প্রতীক।

    বিশেষ করে, বলের ওপরের প্রতীকগুলো গ্রাফিক্স ও খোদাই করা, যার সঙ্গে রয়েছে সোনালি রঙের স্পর্শ। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের মহামহিম ট্রফির প্রতি সম্মান ও উচ্চারণ করা হয়েছে, যে বলই ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের জন্য তৈরি।

    নতুন ডিজাইনের এই বলের বৈশিষ্ট্য হলো চার-প্যানেল নকশা, যা বলটিকে আরও স্থিতিশীল এবং টেকসই করে তুলেছে। পুরু সেলাই ও স্পষ্ট রেখাগুলো বাতাসের মাধ্যমে বলের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। বলের উপর খোদাই করা প্রতীকগুলো ভেজা অবস্থায়ও গ্রিপ সহজ করে দেয়। তবে মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অ্যাডিডাসের ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’, যেখানে ভেতরে থাকা ৫০০ হার্জের সেন্সর খেলোয়াড়দের কর্মকাণ্ডের রিয়েলটাইম তথ্য সরবরাহ করে, যা ব্যবস্থাপনাকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে, офফসাইড বা ফাউলের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

    অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি বলেন, ‘প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে, আর এই ডিজাইনগুলো—খোদাই, গ্রাফিক্স ও রঙ—বলটিকে আলাদা করে তুলেছে। এটি আমাদের তৈরি করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফুটবল বিশ্বকাপ বল।’

  • বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করল

    বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করল

    প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও একই রূপে দেখা গেল বাংলাদেশের দৃশ্যপটে। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে গেল দল, কিন্তু শেষমেশ নেতৃস্থানীয় খেলোয়াড়দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সাফল্য অর্জন করে। নুরুল হাসান সোহান ছিলেন ম্যাচের নায়ক, তিনি শেষের দিকের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জয়ে অবদান রাখেন। প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের সঙ্গে সাফল্য পেয়ে আজ শরিফুল ইসলামকে পেয়েছেন, যা দলের পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই জয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।

    অর্থাৎ, টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক জাকের আলী। শুরুতেই আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ অতাল ও ইব্রাহীম জাদরানকে সংগ্রহ করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয় বাংলাদেশের বোলারদের। পাওয়ার প্লে-তে তারা উইকেট না হারালেও মাত্র ৩৫ রান তুলতে সক্ষম হন।

    আফগান ওপেনার সেদিকউল্লাহ ১৯ বলে ২৩ রান করে রশিদ হোসেনের উইকেটের শিকার হন, এরপরই ইব্রাহীম ৩৭ বলে ৩৮ রানে ফিরে যান নাসুম আহমেদের শিকার হয়ে। ওমরজাই ও দারউইশ রাসুলী শেষ দিকে ধীরে ধীরে নেয়াঠে পারেননি, কিন্তু অবিচ্ছিন্ন ২৯ রানের জুটিতে দলকে ১৩০ রান পার করে দেন। আফগানদের ইনিংসশেষে সব মিলিয়ে ১৫০ রানের কাছাকাছি সংগ্রহ করে তারা।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম ও রিশাদ দুটি করে উইকেট পান, শরিফুল ইসলাম এক উইকেট নেন। মুস্তাফিজুর রহমান দুর্দান্ত বোলিং করলেও উইকেট পাননি, তবে দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রাখতে সহায়তা করেন।

    ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের জন্য শুরুটা ছিল চ্যালেঞ্জের, তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন দুজনই প্রথম ওভারে আউট হয়ে যান। তামিম প্রথম ওভারে ফিরে যান, যখন আজমতউল্লাহ ওপরজাই তার ক্যাচ নিতে সক্ষম হন। এরপর দ্রুতই সাইফ হাসান ও জাকের আলীও ফিরে যান। তবে, দলের মধ্য থেকে জাকের আলী ও শামীম পাটোয়ারির জুটিতে রান গড়ে ওঠে, যা দলের স্বপ্ন দেখার জন্য আশাজাগানিয়া ছিল। ১৩.৫ ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ করে বাংলাদেশ।

    শুরুতে হাফ সেঞ্চুরিয়ান শামীম পাটোয়ারি ৩৩ রান করে বিদায় নেন এবং এরপরই দলের বিপদ বাড়ে। এই দুর্যোগের মধ্যেও নুরুল হাসান সোহান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আউট হন, আর তার পরিবর্তে নাসুম যোগ দেন। ১৭তম ওভারে রশিদের শেষ বলে ১১ বলে ১০ রান করে বোল্ড হন নাসুম, এরপর সাইফউদ্দিন ও রিশাদ আহমেদ দ্রুত ফিরে যান। এই সময় বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯ রান।

    সোহান তার সাবলীল ব্যাটিং দিয়ে ১৭ রান হাঁকান, আর শরিফুল ইসলাম চার হাঁকান, ফলের এই ওভারে ১৭ রান আসে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১০২ রান সংগ্রহ করে। তবে পরে, ম্যাচের শেষার্ধে বাজে পারফরম্যান্সে ব্যাটাররা ধাক্কা খায়, ১০ উইকেটে ১৪৮ রানে শেষ হয় আফগানিস্তানের ইনিংস।

    বিশেষ উল্লেখ, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ উইকেট পতনের মধ্যেও জাকের আলী অনিক ও শামীম পাটোয়ারির ব্যাটে আশা বজায় ছিল। জাকের আলী ২৫ বলে ৩২ রান করে যান, যেখানে তার ব্যাটে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। শামীমের সঙ্গে তার জুটি ৫৬ রানের, যা দলের জন্য আশার আলো। কিন্তু আউট হওয়ার কিছু সময় পরে, শামীমও ফিরে যান। শেষদিকে তারকা ব্যাটাররা নিরবচ্ছিন্নভাবে অবিরত ব্যাট চালিয়ে যান।

    অপরদিকে, বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের জন্য শেষ ওভারে ১৯ রান দরকার ছিল। সোহানের ছক্কা ও শরিফুলের চার এই ওভারকে স্মরণীয় করে তোলে। এই জয়ের জন্য বাংলাদেশের পুরো দলের সাহসিকতা ও দৃঢ়তা ছিল অপরিহার্য।

  • স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পিসিবির সভাপতি নকভি, ভারতকে ট্রফি না দেয়ায়

    স্বর্ণপদক পাচ্ছেন পিসিবির সভাপতি নকভি, ভারতকে ট্রফি না দেয়ায়

    অভিনন্দন ও সম্মাননা পাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নকভি। সম্প্রতি এশিয়া কাপের ক্রিকেট ফাইনালে ট্রফি বিতরণের ঘটনায় তৈরি হওয়া বিতর্কের মাঝেই তাকে দেওয়া হবে ‘শহীদ জুলফিকার আলী ভুট্টো এক্সেলেন্স গোল্ড মেডেল’। এই খবর প্রকাশিত হয়েছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় দৈনিক দ্য নেশন এর প্রতিবেদনে।

    পাকিস্তানের সিন্ধ ও করাচি বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গুলাম আব্বাস জামাল জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত উত্তেজনার মধ্যেই নকভির এই সিদ্ধান্ত দেশের মর্যাদা রক্ষা করেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতীয় ক্রিকেটাররা ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানালে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর নকভি নিজেই ট্রফিটি রাখতে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‘‘ভারতীয় দল চাইলে অফিসিয়াল অ্যাসিসির মূল কার্যালয় থেকে ট্রফি নিতে পারে।’’

    নকভি বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি এবং বিসিসিআই’র কাছে ক্ষমা চাইব না।’ পাকিস্তানে তার এই দৃঢ় অবস্থান ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং অনেকে এটিকে দেশের জন্য গর্বের বিষয় ও সাহসের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    পুরস্কার গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পেছনে রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘ দিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা। পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের অনেক পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুড়ংগে গড়িয়ে গেছে। এশিয়া কাপের সময়ও এর প্রভাব ফুটে ওঠে, যেখানে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মিলাতে অস্বীকার করে এবং ফাইনাল জিতলেও ট্রফি নিতে রাজি হয়নি।

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই ইতোমধ্যে এশিয়া কাপের এই ঘটনার বিষয়ে জাতীয় সভায় আলোচনা করেছে এবং আগামী নভেম্বরের আইসিসির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করছে।

  • রোহিতকে সরিয়ে ভারতের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল

    রোহিতকে সরিয়ে ভারতের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক শুভমান গিল

    ভারতের ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে বড় একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোহিত শর্মাকে এই সিরিজের জন্য শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে রাখা হয়েছে, এবং নতুন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে শুভমান গিলকে। আগামী ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতের নেতৃত্ব দেবেন ২৬ বছর বয়সী এই ওপেনার।

    ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে যে, রোহিত শর্মাকে এখন থেকে দলের মূল অধিনায়ক নয়, তবে তিনি এখনও ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকবেন। একই সময়ে, বিরাট কোহলি ফের ফিরে এসেছেন ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে। দুজনই মার্চে অনুষ্ঠিত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর প্রথমবার আবার একসঙ্গে ভারতের জার্সিতে খেলবেন।

    শনিবার আহমেদাবাদে নির্বাচক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১৪০ রানের বিশাল জয়ের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাবেক পেসার অজিত আগারকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি মনে করেছে যে, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে গিলকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা জরুরি, যা দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে।

    এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে আগারকার, ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং বিসিসিআই সচিব দেবজিত শইখিয়ার যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে। বর্তমানে, ২৬ বছর বয়সী শুভমান গিল ভারতের তিন ফরম্যাটেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন— টেস্ট ও ওয়ানডেতা অধিনায়ক এবং টি-টোয়েন্টিতে সহ-অধিনায়ক হিসেবে।

    রোহিত শর্মা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পূর্ণকালীন ওয়ানডে অধিনায়ক হন। তার অধীনে ভারতের খেলাগুলির মধ্যে ৫৬টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে জিতেছে ৪২টি, হেরেছে ১২টি, এক ড্র, এবং একটিতে পরিত্যক্ত। রোহিতের নেতৃত্বে ভারত এশিয়া কাপ ২০১৮ ও ২০২৩ সালে জিতেছে, এবং ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তারা ফাইনালে পৌঁছেছে। তার নেতৃত্বের সময়কালে ইনজুরিতে পড়ে ট্রফি জয়ের অংশীদার ছিল।

    টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর, মে মাসে ইংল্যান্ড সফরের আগে গিল ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক হন। প্রথম সিরিজেই ইংল্যান্ডের মাটিতে ২-২ ড্র করে ভারত। সেই সিরিজে গিল দুর্দান্ত খেলেছেন, ব্যাট হাতে গড়ে ৭৫.৪০ রান করেন, যা সিরিজে সর্বোচ্চ ছিল।

    রোহিত ও কোহলি এখন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন, যার ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হবে তাদের সাত মাস পরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন। সিরিজের পরে, ১৯, ২৩ এবং ২৫ অক্টোবর, ভারত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিবে, যা ২৯ অক্টোবর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

    এরপর, তারা নভেম্বর-ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ওয়ানডে সিরিজে খেলার সুযোগ পাবেন।

  • আগামী সপ্তাহে শুরু হবে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা

    আগামী সপ্তাহে শুরু হবে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা

    আগামী সপ্তাহে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এই পুরস্কারটি চিকিৎসা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য, অর্থনীতি ও শান্তি ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য প্রদান করা হয়। বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের মধ্যে আলবার্ট আইনস্টাইন থেকে শুরু করে মাদার টেরেসা—allই এই পুরস্কারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রতিটি বিজয়ী পাবেন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা বাংলাদেশি টাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখের সমান, এবং মার্কিন ডলার প্রায় ১২০ হাজার। তবে শুধু আর্থিক পুরস্কার নয়, নোবেল অর্জনকারীরা পান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি ও সম্মান যা অধিকাংশ গবেষক ও বিজ্ঞানীর জন্য অকল্পনীয় বলে মনে করে। সুতরাং, এই পুরস্কার শুধুই অর্থের নয়, এটি একটি বিশাল মর্যাদা, যা ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলাদা স্থান করে দেয়। এই পুরস্কার শুরু হয় সুইডিশ রসায়নবিদ ও উদ্যোক্তা আলফ্রেড নোবেলের হাত ধরে, যিনি ডিনামাইট আবিষ্কার করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিলেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তার অর্জিত সম্পদ মানবকল্যাণে কাজ করে এমন ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দিতে ব্যয় করবেন। ১৯০১ সালে প্রথমবারের মতো পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তি শাখায় নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। নোবেল নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন কোন সংস্থা এই পুরস্কার প্রদান করবে। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নের পুরস্কার রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস, সাহিত্য পুরস্কার সুইডিশ অ্যাকাডেমি, চিকিৎসাশাস্ত্র শাখার পুরস্কার কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট, আর শান্তির পুরস্কার প্রদান করে নরওয়ের সংসদ। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নরওয়েকে নির্বাচনের কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি; তবে তখন সুইডেন ও নরওয়ে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিল। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০তম বার্ষিকী উদযাপনকালে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করে, যা রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের মাধ্যমে প্রদান হয়। এই পুরস্কার ঘোষণা অত্যন্ত গোপনীয়তা রাখার জন্য পরিচিত। মনোনীতদের নাম সাধারণত প্রকাশ পায় না, এবং বিচারকদের আলোচনা-পর্যালোচনাও ৫০ বছর গোপন থাকতে হয়। তবে মনোনয়ন দাতারা চাইলে প্রস্তাব প্রকাশ করতে পারেন। এবারের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হবে সোমবার, স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা শাখার পুরস্কার দিয়ে। এরপর মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যা, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তি, আবার ১৩ অক্টোবর অর্থনীতির বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে। উল্লেখযোগ্য নোবেলজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, নীলস বোর, মেরিাকুরি, লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, আলবেয়ার কামু, নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও মাদার টেরেসার মতো ব্যক্তিত্বরা। তবে কিছু নোবেল পুরস্কার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যেমন, ১৯৪৯ সালে শারীরবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পান এগাস মনিজ, যিনি বর্তমানে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত লোবোটমি পদ্ধতির জন্য তার পুরস্কার পান। এছাড়াও শান্তি বিষয়ে দেওয়া বেশ কয়েকটি পুরস্কারও সমালোচিত হয়েছে—for example, হেনরি কিসিঞ্জার, ইয়াসির আরাফাত, আইজাক রবিন ও শিমন পেরেজের পুরস্কার। ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীকে মৃত্যুর আগে পুরস্কার না দেওয়াকেও এক ধরনের বড় অবহেলা বলে মনে করা হয়। সূত্র: এনডিটিভি।