Blog

  • ভারতে না গেলে বিকল্প ভেন্যু দেবে আইসিসি, বিসিবিকে এক দিনের সময়

    ভারতে না গেলে বিকল্প ভেন্যু দেবে আইসিসি, বিসিবিকে এক দিনের সময়

    সিকিউরিটি উদ্বেগের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যেতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ; বিকল্প ভেন্যু দেয়ার অনুরোধ এসেছে আইসিসির কাছে। দফায় দফায় বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করেও সমস্যার ন্যায্য সমাধান না হওয়ায় আইসিসি আজ (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এক দিনের সময় সীমা দিয়েছে।

    আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত আইসিসির বিশেষ সভায় পূর্ণ সদস্য সব দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন এবং আইসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসতে ক্রিকইনফোসহ কিছু সংবাদমাধ্যমও খবর প্রকাশ করেছে।

    ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সভায় অংশ নেওয়া বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশকে ভারতে গিয়ে খেলতে উৎসাহিত করেন। তবে যদি বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে না যায়, তাহলে ওই আসনে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিসিবি সিদ্ধান্ত নিতে আরেকটি দিন পাচ্ছে।

    সভায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। সভায় অংশ নেয় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সহ অন্যান্য পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। আইসিসির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী, ইভেন্ট বিভাগের প্রধান ও লিগ্যাল অফিসার।

    আইসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিষয়টি দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন যাতে টুর্নামেন্টের সূচি এবং প্রস্তুতি কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা না ঘটে। বর্তমানে বিসিবির পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় পুরো বিষয়টি; তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইসিসিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • থাইলে শ্রীলঙ্কাকে ৬–৩ হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইলে শ্রীলঙ্কাকে ৬–৩ হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বাংলাদেশ

    থাইল্যান্ডে চলমান সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ৬–৩ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠেছে বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও কৃষ্ণা রানী সরকার খেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন—প্রতিটি দুইটি করে গোল করেছেন তারা।

    চারের ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ এখন ১০ পয়েন্ট; এক পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এই জয়ে টাইবে আরও আত্মবিশ্বাস যোগ পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

    স্কোরলাইন বড় হলেও ম্যাচের শুরুতে রক্ষা পাচ্ছিল না ব্যবধান। খেলায় মাত্র প্রথম ১৫ মিনিটেই বাংলাদেশ ০–২ পিছিয়ে পড়ে। গোলরক্ষায় শপনা আক্তার জিলির কিছু অনভ্যস্ত মুহূর্ত দলের ওপর চাপ তৈরি করেছিল, যদিও বল দখলে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে ছিল।

    চাপে থাকা মুহূর্তেই দলের ভরসা ছিলেন সাবিনা ও কৃষ্ণা। বিরতির আগ পর্যন্ত কৃষ্ণা দুইটি অ্যাসিস্ট করলে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে সাবিনা দুটি গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ। কৃষ্ণা রানী সরকার যোগ করেন আরও দুটি গোল; এ ছাড়া মাতসুশিমা সুমাইয়া এবং মাসুরা পারভীন একটি করে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধে শানু পাস্কারানের একটি গোল ছিল, আর তাদের দ্বিতীয় গোল করেছিলেন ইমেশা কানকানামলাগে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইমেশাও একটি সান্ত্বনার লক্ষ্য করেন; তবুও সেটি শূন্যে রাখা যায়নি।

    এই জয়ে বাংলাদেশ সার্কুলারে ফিরে এসেছে; পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও একইভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শীর্ষস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করবে দল।

  • চিরবিদায়: দুই বাংলার প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিরবিদায়: দুই বাংলার প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি; বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। মৃত্যুর সঠিক কারণ পরিবারের তরফে জানানো হয়নি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর প্রথম জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি সেখানে জানান, ‘‘আমার মামি জয়শ্রী কবির, এককালের বিখ্যাত নায়িকা ও ১৯৬৮ সালের ‘মিস ক্যালকাটা’, লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।’’ জাভেদ আরও বলেন, তিনি বহু দিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

    চলচ্চিত্রে জয়শ্রী কবিরের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্র থেকে। এরপর তিনি বাংলা সিনেমায় দৃশ্যমান উপস্থিতি তৈরি করেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে বাংলাদেশি পরিচালক আলমগীর কবিরের Several ছবিতে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে দুই বাংলায় জনপ্রিয়তা অর্জন করেন; তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    জয়শ্রী ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায় এবং পড়াশোনা করেছেন সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জেতার পর চলচ্চিত্রে আসেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও দাম্পত্য বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মাথায় তারা বিবাহবিচ্ছেদ করেন। তাদের সংসথিত একমাত্র পুত্র সন্তানের নাম লেনিন সৌরভ কবির।

    বিবাহবিচ্ছেদের পর প্রথমে কলকাতা ফিরে যান জয়শ্রী; পরে চলে আসেন লন্ডনে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং ছেলে লেনিনকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন, এরপর থেকে বাংলাদেশে আর দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু বাংলা সিনেমাসাহিত্যের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা শেষকৃত্যের বিবরণ এখনও सार्वजनिक করা হয়নি।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের বর্ষীয়ান নায়ক ও কৃতী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘ দিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ৮২ বছর বয়সে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন; গতবারের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল; হাসপাতালে করে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ডলি বলেন, কয়েকদিন ধরেই হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দিচ্ছিলেন। আজ সকালে নার্সরা এসে জানালে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, এরপর অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

    ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস—পরিচিত নাম ইলিয়াস জাভেদ। প্রথমদিকে পরিবার পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্থান করে নেন। নৃত্য পরিচালনা করেই ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে নায়কের ভূমিকায় বহুল জনপ্রিয়তা পান।

    তার চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়ী জিন্দেগি’ থেকে। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ ছবিতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার বিপরীতে অভিনয় করে তিনি বড় পর্দায় নিজের আসন পাকাপোক্ত করেন; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটল জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনেও ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। সত্তুর ও আশির দশকের দর্শকদের কাছে তার পরিচয় ছিল ঝরঝরে নাচ ও অ্যাকশনের ৰোমাঞ্চকর মিশ্রণ হিসেবে। চলচ্চিত্র জীবন ও নৃত্যশৈলীর জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

    তার উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আবদুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলাসিনোর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি—বিশেষত সত্তুর-আশির দশকের ভক্তদের কাছে—এমনকি নৃত্য ও বিনোদনশিল্পের এক যুগপতিক স্মৃতি।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরেছেন আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরেছেন আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির leerling আবিদুর রহিম (১২)। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিলিজ পেয়েছেন, খবরটি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মোট ছয় মাস—প্রায় ১৮০ দিন—চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। রহিমের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ছিল; এ ছাড়াও তিনি ইনহেলেশান বার্নে ভুগেছেন এবং মুখ ও দুই হাতে দাগ ও পোড়া ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের দিকে বসেছিল।

    রফিক জানান, তার অবস্থাও ছিল ক্রিটিক্যাল—শুষ্কভাবে বলতে গেলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল পাঁচ দিন, এরপর হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ছয় দিন এবং কেবিনে প্রায় ১৭২ দিন চালিয়ে চিকিৎসা ক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। দুই হাতের তত্পরতার কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়—অর্থাৎ নষ্ট হওয়া চামড়া অপসারণ করে হাত রক্ষা করার প্রয়াস নেয়া হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে তিনি ৩৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্যে পড়েছেন; এর মধ্যে ২৩টি ছোট ধরনের অপারেশন এবং চামড়া প্রতিস্থাপন বা গ্রাফটিং করা হয়েছে ১০ বার। মুখ ও হাতের ফ্ল্যাক কভারেজের কাজও করা হয়েছে।

    পরিচালক বলেন, এতদিন হাসপাতালের বেডে থাকার ফলে সূর্যালোক পায়নি এবং শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা এসেছে; তাই বহুমুখী থেরাপি ও নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং রহিম তাদের মধ্যে সর্বশেষ রিলিজ পাওয়া রোগী। তিনি চিকিৎসা দলের, নার্সদের ও অন্যান্য কর্মীদের আত্মনিয়োগী ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান—অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, ফলে হাসপাতাল বাইরে থেকে সরাসরি আর্থিক অনুদান নেয়া হয়নি।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং মٹریয়াল ব্যবহার করতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ঘটনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উন্নত মানের উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা মন্ত্রণালয়ের কাছে বলা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদেরও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশ্বাস দেন যে চিকিৎসা সেবা না থেমে প্রয়োজনীয় সমস্ত থেরাপি ও সাপোর্ট দেওয়া হবে।

    আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছেলেকে ছয় মাস চিকিৎসার পর বাড়ি পাচ্ছি—এ কথাটি ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। ছেলে বলেছে, ‘আজকে আমার ঈদের মতো লাগছে।’ তিনি হাসপাতাল স্টাফদের সহনশীলতা ও যত্নের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকারের কাছে তিনি আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বলেন, ঘোষিত ক্ষতিপূরণ এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতে প্রচুর চিকিৎসা ব্যয় ভুগতে হতে পারে, যার দায়িত্ব তারা একা বহন করতে পারবেন না।

    সংবাদ সম্মেলনে আবিদ আবদারভাবে বলেন, ‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’—এই কথাই বলে তিনি কেঁদে ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর পড়ে বিধ্বস্ত হলে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং অসংখ্য আহতের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন চিকিৎসা নেন। ইনস্টিটিউট বলেছে, যারা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলো-আপ প্রয়োজন হবে।

  • ফ্ল্যাটের অনুদানের পরে আরও এক কোটি নগদ দেবে সরকার — ওসমান হাদির পরিবারকে মোট দুই কোটি

    ফ্ল্যাটের অনুদানের পরে আরও এক কোটি নগদ দেবে সরকার — ওসমান হাদির পরিবারকে মোট দুই কোটি

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারি হিসেবে আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর আগে অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছিল; এ দুটি অনুদান মিলিয়ে পরিবারটি মোট দুই কোটি টাকা পাবেন।

    বৃহস্পতিবার নয়; বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর আর্থিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ওসমান বিন হাদির পরিবারের বিষয়ে দুইটি অর্থায়ন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ঢাকার লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ থেকে এক হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে আলাদাভাবে নগদ এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবারের জীবনযাত্রা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।

    অর্থ বিভাগের দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ফ্ল্যাট কেনার অনুদানের জন্য আবেদন করে; পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে সেই অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি অনুদান কেনা ফ্ল্যাটটি হাদির স্ত্রী ও সন্তানরা ব্যবহার করবেন।

    পটভূমি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরের দিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়; পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর এবং ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

    নিহতের অভিযোগের প্রধান আসামি এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম পুলিশের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    একই সময়ে হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

  • ফ্ল্যাটের অনুদানের পরে আরও এক কোটি নগদ দেবে সরকার — ওসমান হাদির পরিবারকে মোট দুই কোটি

    ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের জন্য সরকারি হিসেবে আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর আগে অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছিল; এ দুটি অনুদান মিলিয়ে পরিবারটি মোট দুই কোটি টাকা পাবেন।

    বৃহস্পতিবার নয়; বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর আর্থিক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ওসমান বিন হাদির পরিবারের বিষয়ে দুইটি অর্থায়ন করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ঢাকার লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ থেকে এক হাজার ২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে আলাদাভাবে নগদ এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা পরিবারের জীবনযাত্রা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।

    অর্থ বিভাগের দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ফ্ল্যাট কেনার অনুদানের জন্য আবেদন করে; পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে সেই অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি অনুদান কেনা ফ্ল্যাটটি হাদির স্ত্রী ও সন্তানরা ব্যবহার করবেন।

    পটভূমি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরের দিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়; পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর এবং ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

    নিহতের অভিযোগের প্রধান আসামি এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম পুলিশের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    একই সময়ে হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরেছেন আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির leerling আবিদুর রহিম (১২)। তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিলিজ পেয়েছেন, খবরটি নিশ্চিত করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মোট ছয় মাস—প্রায় ১৮০ দিন—চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। রহিমের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়ে ছিল; এ ছাড়াও তিনি ইনহেলেশান বার্নে ভুগেছেন এবং মুখ ও দুই হাতে দাগ ও পোড়া ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের দিকে বসেছিল।

    রফিক জানান, তার অবস্থাও ছিল ক্রিটিক্যাল—শুষ্কভাবে বলতে গেলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল পাঁচ দিন, এরপর হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ছয় দিন এবং কেবিনে প্রায় ১৭২ দিন চালিয়ে চিকিৎসা ক্ষমতা বজায় রাখা হয়েছে। দুই হাতের তত্পরতার কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়—অর্থাৎ নষ্ট হওয়া চামড়া অপসারণ করে হাত রক্ষা করার প্রয়াস নেয়া হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে তিনি ৩৫টি অস্ত্রোপচারের মধ্যে পড়েছেন; এর মধ্যে ২৩টি ছোট ধরনের অপারেশন এবং চামড়া প্রতিস্থাপন বা গ্রাফটিং করা হয়েছে ১০ বার। মুখ ও হাতের ফ্ল্যাক কভারেজের কাজও করা হয়েছে।

    পরিচালক বলেন, এতদিন হাসপাতালের বেডে থাকার ফলে সূর্যালোক পায়নি এবং শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা এসেছে; তাই বহুমুখী থেরাপি ও নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং রহিম তাদের মধ্যে সর্বশেষ রিলিজ পাওয়া রোগী। তিনি চিকিৎসা দলের, নার্সদের ও অন্যান্য কর্মীদের আত্মনিয়োগী ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান—অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করেছেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, ফলে হাসপাতাল বাইরে থেকে সরাসরি আর্থিক অনুদান নেয়া হয়নি।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং মٹریয়াল ব্যবহার করতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ঘটনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য উন্নত মানের উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা মন্ত্রণালয়ের কাছে বলা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদেরও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশ্বাস দেন যে চিকিৎসা সেবা না থেমে প্রয়োজনীয় সমস্ত থেরাপি ও সাপোর্ট দেওয়া হবে।

    আবিদের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছেলেকে ছয় মাস চিকিৎসার পর বাড়ি পাচ্ছি—এ কথাটি ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল। ছেলে বলেছে, ‘আজকে আমার ঈদের মতো লাগছে।’ তিনি হাসপাতাল স্টাফদের সহনশীলতা ও যত্নের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকারের কাছে তিনি আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়ে বলেন, ঘোষিত ক্ষতিপূরণ এখনও পুরোপুরি পাওয়া যায়নি এবং ভবিষ্যতে প্রচুর চিকিৎসা ব্যয় ভুগতে হতে পারে, যার দায়িত্ব তারা একা বহন করতে পারবেন না।

    সংবাদ সম্মেলনে আবিদ আবদারভাবে বলেন, ‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’—এই কথাই বলে তিনি কেঁদে ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর পড়ে বিধ্বস্ত হলে জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং অসংখ্য আহতের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন চিকিৎসা নেন। ইনস্টিটিউট বলেছে, যারা ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত চিকিৎসা ও ফলো-আপ প্রয়োজন হবে।

  • ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রাবন্তী, নতুন ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে তাকে

    ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রাবন্তী, নতুন ওয়েব সিরিজে দেখা যাবে তাকে

    ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করছেন এক বিশেষ চরিত্রে—‘ঠাকুমা’। তবে এটি কোনো জনপ্রিয় কার্টুন বা রূপকথার গল্প নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার ওয়েব সিরিজ। এই সিরিজের নাম ‘ঠাকুমার ঝুলি’, যেখানে তিনি নাতনির ভূমিকায় অভিনয় করবেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যাণী মন্ডলের সঙ্গে।

    সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’ তাদের নতুন বছরের সিরিজের তালিকায় এই প্রজেক্টটির নাম ঘোষণা করেছে। মূল গল্পটি আবর্তিত হবে একজন ঠাকুমা ও তার নাতনির মধ্যে বিশেষ এক সম্পর্কের দিকে। এর আগে শ্রাবন্তীকে মা বা স্ত্রীর চরিত্রে দেখা গেলেও, এবারই প্রথম তাকে এমন বয়সী বা ঠাকুমার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। পর্দায় তার নতুন লুক এবং প্রিয় নায়িকার এই ভোলবদল দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে, যারা এই পরিবর্তন দেখতে আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন।

    ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা থাকলেও, বর্তমানে শ্রাবন্তী তার ক্যারিয়ার নিয়েই পুরোদমে ব্যস্ত। সম্প্রতি তিনি পরিবারের সঙ্গে গোয়া ভ্রমণ শেষ করে কলকাতায় ফিরে এসেছেন। জানা গেছে, চলতি মাসে তিনি এই ওয়েব সিরিজের শুটিং শুরু করবেন। সুতরাং, প্রিয় নায়িকার বৃদ্ধা লুকস ও নতুন চরিত্রের জন্য দর্শকরা অপেক্ষা করছেন।

    গত বছরে তার অভিনীত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফুলকি’ দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছিল। এবার তিনি আবারও ভিন্ন এক রূপে, এক নতুন লুকসায়, দর্শকদের মন জয় করে তুলতে প্রস্তুত।

    এদিকে ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ফুলকি’ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া দিব্যাণী মন্ডলও এই সিরিজে থাকছেন এক বড় চমক হিসেবে। শ্রাবন্তীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, যা দর্শকদের জন্য আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।

  • তাৎসানের আকুতি: আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন

    তাৎসানের আকুতি: আমাকে একটু বাঁচতে সাহায্য করুন

    বিচ্ছেদ ও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের খবর প্রকাশের পর থেকেই বেশ আলোচনায় আছেন জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদপত্রে তার ব্যক্তিগত জীবনের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে থাকে। সংবাদমাধ্যমের ফোনকলের চাপ তার জন্য মানসিকভাবে অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তিনি একেবারেই উপভোগ করছেন না। তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন যে, এই মুহূর্তে তিনি শান্তি ও স্বস্তি চেয়ে থাকেন।

    সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাহসান বলেন, ‘প্রচুর সংবাদ হচ্ছে। আসলে আমি একটু শান্তি চাই। আমার জন্য একটু বাঁচার সুযোগ দেওো।’ এই পরিস্থিতিতে তিনি আহ্বান জানান উপযুক্ত সমর্থনের।

    এর আগে তাহসান জানিয়েছিলেন, তার স্ত্রী রোজা আহমেদের সঙ্গে আলাদা জীবন যাপন শুরু করার পর থেকেই তার জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি আরো জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে যাচ্ছেন। সেই ট্যুরের আগে থেকেই তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অনেকটা দূরে ছিলেন, গান থেকে বিরত থাকেন। এখন সময় কাটছে নিজের মতো করে একা ঘুরে বেড়ানো, বই পড়া ও ট্রাভেল করে। এই একাকিত্বে তার মনোযোগ থাকে নিজের নীরবতায়।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে তার সঙ্গী ছিল বই, যা তাকে মানসিকভাবে কিছুটা শান্তি দিয়েছে।

    তাহসান খান ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে ঘর বাঁধেন। রোজা একজন পেশাদার ব্রাইডাল মেকআপ শিল্পী, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। নিউইয়র্কে তার নিজস্ব মেকআপ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, তাহসান খান এর আগে ২০০৬ সালে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর এই সম্পর্ক ২০১৭ সালে আলাদা হয়ে যায়।