Blog

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু খবর শোনা গেছে। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানা দিয়েছেন; মৃত্যুকালে তার বয়স যেমন জানানো হয়েছে, তেমনই পরিবার সঠিক মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশ করেনি।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সংবাদ প্রথম তাৎক্ষণিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি পোস্টে লিখেছেন, “আমার মামি — এককালের বিখ্যাত নায়িকা ও ‘মিস ক্যালকাটা’ — লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’সহ অনেক চলচ্চিত্রে নায়িকা ছিলেন।”

    জাভেদ মাহমুদ জানান, জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের তরফে এখনও কোনো অফিসিয়াল শোকবার্তা বা জানালার সময়সূচি দেয়া হয়নি।

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন; পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব ও কিশোরকাল কলকাতায় কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাব জিতে সুবর্ণ সময় কাটান এবং ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ দিয়ে শক্তিশালীভাবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন — যা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পকে চলচ্চিত্রায়িত করে নির্মিত হয়েছিল।

    ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি আরও প্রশংসা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। বিশেষ করে পরিচালক আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবিতে তিনি মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন; এসবের মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ উল্লেখযোগ্য।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে তিনি আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই বিবাহ কয়েক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদে পরিণত হয়। এ দাম্পত্য থেকে তাদের একটি পুত্র সন্তান লেনিন সৌরভ কবির জন্মগ্রহণ করেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী প্রথম কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে লন্ডনে পাড়ি জমান; সেখানেই বহু বছর ধরে বসবাস করে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং পুত্রকে নিয়ে সেখানেই ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি একবার ঢাকায় এসেছিলেন; তারপর থেকে বাংলাদেশে দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবির বাংলা অভিনেত্রী হিসেবে দুই বাংলার দর্শকের মনে যে স্থান করে নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে। শিল্পী হিসেবে তার অবদান এবং স্মৃতি আরও অনেকের হৃদয়ে থাকবে। পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই।

  • ফ্ল্যাটের পর নগদ ১ কোটি: ওসমান হাদির পরিবারকে দেবে সরকার

    ফ্ল্যাটের পর নগদ ১ কোটি: ওসমান হাদির পরিবারকে দেবে সরকার

    সরকার শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের জন্য আরেকটি নগদ ১ কোটি টাকা দেবে, যার ফলে পরিবারটি মোট দুই কোটি টাকা পাচ্ছে। এই তথ্য বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়‑সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান।

    এর আগে অর্থ বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে এক কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল। ওই অনুদান দিয়ে লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ নামে সরকারি আবাসিক ভবনে ১,২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনা হবে; সেটি ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানরা ব্যবহার করবেন।

    অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটের জন্য যে এক কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে অর্থ বিভাগ, আরেকটি পৃথক এক কোটি টাকা এসেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে — সেটা পরিবারের দৈনন্দিন জীবিকার খরচ মেটানোর জন্য দেওয়া হচ্ছে। সূত্র বলেছে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল এবং অর্থ বিভাগ স্ত্রীর ও সন্তানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার শর্তে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    পটভূমি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরিফ ওসমান বিন হাদি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়েছিল। পরে ঢাকায় চিকিৎসার পর ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

    ওসমান হাদির হত্যাকারী মামলার প্রধান আসামি ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম পুলিশের তথ্যানুযায়ী ভারতে পালিয়ে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এক দিনের শোক পালন করা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক ভাষণে রাষ্ট্র পরিবারের দায়িত্ব নেবে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

    এছাড়া সংবাদে বলা হয়েছে, শরিফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    সরকারি এই অনুদান ও আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত পরিবারকে অনিশ্চিত সময় সামলাতে সহায়তা হিসেবে এসেছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

  • মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল ১২ বছরের আবিদুর রহিম

    মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল ১২ বছরের আবিদুর রহিম

    রাজধানীর উত্তরা এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২) ছয় মাসের চিকিৎসা ও মোট ৩৫টি অপারেশনের পর শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরেছেন। আবিদ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রহিম গত বছরের ২১ জুলাই থেকে ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন এখানে চিকিৎসা সেবা নেয়েছেন। রহিম ছিলেন যেদের মধ্যে সর্বশেষ যারা এখান থেকে রিলিজ পেলেন।

    পরিচালক জানান, আবিদের শরীরের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শতাংশটি কম বলে মনে হলেও তার সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন ছিল, সঙ্গে ফেস ও দুই হাত দগ্ধ হওয়ায় জটিলতা আরও বেড়েছে। ঘটনার সময় সে ক্লাসরোমের সামনের অংশে অবস্থান করছিল। তার অবস্থা প্রথম দিকে ক্রিটিক্যাল ছিল; পাঁচ দিন তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, এরপর ছয় দিন হাইডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয় এবং পরে ১৭২ দিন কেবিনে চিকিৎসা হয়েছে।

    আবিদুর রহিমের দুই হাতের ক্ষত রক্ষা করতে বিশেষ অস্ত্রোপচার করা হয়—চামড়ার ক্ষতিমুক্ত অংশ কেটে শল্যচিকিৎসা করা হয়। মোট ৩৫ বার শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তন্মধ্যে ছোট ধরনের শল্যচিকিৎসা ২৩ বার এবং চামড়া লাগানো (স্কিন গ্রাফট) ১০ বার হয়েছে। মুখ ও হস্তে ফ্ল্যাপ কভারেজও করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকায় সূর্যালোক পাবার সুযোগ পায়নি, ফলে শরীর বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতির মুখে পড়ে; তার নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চলবে যাতে বাড়িতে যাওয়ার পরও স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা যায়।

    পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, আজ থেকে আবিদ বাড়ি ফিরছে—এটা আমাদের আনন্দের দিন। তিনি চিকিৎসা টিম, নার্স, হাসপাতালের কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধরনের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করেছে, তাই প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেনি।

    তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও বিশেষ উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আরো উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাটেরিয়াল নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের কাছে ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা ও সাংবাদিকদের সমর্থন কামনা করেন।

    অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, যারা এখন পর্যন্ত ছেড়ে গেছেন তাদেরও অন্তত দুই বছর নিয়মিত ফলোআপে থাকতে হবে। রিলিজ হওয়া রোগীরা হাসপাতালে সপ্তাহে বা পনেরো দিন পর এবং মাসিকভাবে এসে থেরাপি নেবেন। হাসপাতালে একজন বিশেষ সেলও আছে, যেখানে যাদের চিকিৎসায় সমস্যা বা অতিরিক্ত সহায়তা লাগবে, তাদের জন্য সমন্বয় করা হবে।

    আবিদুর বাবা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘ছেলেটি ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে আজ বাড়ি ফিরছে—এ কঠিন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’’ তিনি জানান, ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলে আবিদ বলেছিল, ‘‘বাবা, আজ আমার মতো ঈদের দিন মনে হচ্ছে।’’ বাবার ভাষায়, চিকিৎসক, নার্স ও সকলের সহায়তায় তিনি অভিভূত। তিনি চিকিৎসক জহিরকে ছেলের দেওয়া বিশেষ নামে স্মরণ করেন। আবিদ আগে ক্লাসে এক থেকে পাঁচের মধ্যে রোল করত এবং নিয়ম করে মসজিদে নামাজ আদায় করত; দুর্ঘটনার ফলে গত ছয় মাস ধরে নামাজও করা হয়নি।

    আবুল কালাম আজাদ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নিহত ও আহতদের যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল থেকে রিলিজের পরও যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরকার, তাদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করে ওঠা তাদের পক্ষে কঠিন। তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ রি-নির্ধারণ ও দ্রুত অর্থায়নের আহ্বান জানান।

    রিলিজের সময় আবিদ সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে যেয়েছিলেন; তিনি ‘‘আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি’’ বলেই আবেগে ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। এই সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান ও অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্স উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হলে বিপুল ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জন মারা যান এবং বহুজন আহত ছিলেন; সর্বমোট ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

  • মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

    রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর ঘটানো হেনস্থা ও হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বুধবার (২১ জানুয়ারি) আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

    ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। মব করে জনমত প্রভাবিত করার দিন শেষ।’’ তিনি বলেন, যদি কেউ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে হবে; কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা দলের কোন অধিকার নেই জনতার মধ্যে মব সৃষ্টি করার। জামায়াত এমন নোংরা মবের কড়া নিন্দা জানায়, যোগ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা চাই এই মব এখানেই থামুক। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের কাছে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করে এবং দলের অঙ্গীকার ও কর্মসূচি তুলে ধরে। তিনি বলেন, জনগণ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় করে কার ওপর আস্থা রাখবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    ডা. শফিকুর রহমান দলের অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা, যেখানে ফ্যাসিজম আর ফিরে আসবে না। এই উদ্দেশ্যেই আমরা পরবর্তী দু’টি নির্বাচনে একসাথে অংশগ্রহণ করব।’’

    তিনি ৩০০ আসনে যারা নির্বাচন করছেন তাদেরও অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জনগণের প্রতি আস্থা রাখুন; ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিত করুন এবং ভোটারদের তাদের পছন্দমত প্রতীক ও বাক্সে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিন।

  • ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ

    ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের চিঠি গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগের কার্যালয় থেকে এ চিঠি গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম।

    চিঠি গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলায় মনিরুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় কমিশনার সব প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন। মনিরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, যুবক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার ভোটাররা তারেক রহমানকে সমর্থন জ্ঞাপন করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    একই দিনে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জমান ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকও পান।

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় শেষ হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সোমবারের পরিবর্তে বুধবার সম্পন্ন করেছে। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।

    ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে পৃথক ব্যালেটে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

  • মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক কমলো, ফোনের দাম কমার আশা

    মোবাইল আমদানিতে কাস্টমস শুল্ক কমলো, ফোনের দাম কমার আশা

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল ফোন আমদানি ও দেশীয় সংযোজন শিল্পের জন্য উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমিয়েছে, যা বাজারে ফোনের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    এনবিআর মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে দেশীয় মোবাইল সংযোজনকারীদের জন্য উপকরণ আমদানিতে ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নেয়া হয়েছে।

    এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ।

    এনবিআর জানান, মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান শুল্কের পরিমাণ আপেক্ষিকভাবে ৬০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে সংযোজনকারীদের উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে।

    প্রজ্ঞাপনের প্রভাব হিসাব করে এনবিআর বলেছে: সম্পূর্ণভাবে আমদানিকৃত প্রতিটি মোবাইল ফোন (৩০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের) আনুমানিক ৫,৫০০ টাকা সস্তা হতে পারে; আর ৩০,০০০ টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি ফোনের দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা কমতে পারে।

    এনবিআর ও সরকার আশা করছে, উল্লেখযোগ্য শুল্কহ্রাসের ফলে সব ধরনের মোবাইল ফোনের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং দেশের নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ আরও সহজতর হবে। সরকার মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

  • ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির ফলে ভালো মানের সোনার দামের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে—এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকায়।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন এই দর কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে। বাজুস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে মূল্য বাড়ছে। বিশ্বস্ত সূত্র গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি অনুযায়ী বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ে এবং প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরে গেছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী ভরের দামের তালিকা হলো:

    – ২২ ক্যারেট: ২,৪৪,১২৮ টাকা

    – ২১ ক্যারেট: ২,৩২,৯৮৮ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট: ১,৯৯,৭৪৬ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির: ১,৬৩,৮২১ টাকা

    সোনার সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। রূপার নতুন মূল্য হলো:

    – ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি: ৬,৫৯০ টাকা

    – ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি: ৫,২৯৯ টাকা

    – ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি: ৫,৪২৪ টাকা

    – সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি: ৪,০৮২ টাকা

    বাজারে এই পরিবর্তন ক্রেতা ও স্বর্ণবিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যারা বিনিয়োগ বা গহনা কেনাবেচা করছেন, তাদের কাছে নতুন এই দর বিবেচনায় রাখা জরুরি।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন — যদি তারা তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র চালায় বা তাকে হত্যার হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে ‘‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা’’ হবে বলে সতর্ক করেছেন। খবরটি প্রথমে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিল।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা যদি আমার বিরুদ্ধে এমন কিছু করে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে—আমি এ ব্যাপারে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি।’’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সরাসরি মুখ খুলে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একে অপরকে রক্ষা করা উচিত।

    তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের কাছ থেকে উদ্ধৃত এক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার নেপথ্যে থাকতে পারে এমন ষড়যন্ত্র। সোলাইমানিকে ২০২০ সালে ট্রাম্প সরকারের সময়ই একটি মার্কিন বিমান অভিযানেই নিহত করা হয়।

    ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেও প্রশাসনিক পর্যায়ে এধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছেন—এমনকি এক সময়ে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন যদি তারা তাকে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তারা এমন কোনও কাজ করেনি; করলে ‘‘এটি তাদের জন্য ভয়াবহ ফল বয়ে আনত।’’

    সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এসব ঘটনার মধ্যেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আরোপ করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে—যদিও তাকে জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হত্যার ঘটনা আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটিকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায় এবং বাইরের শক্তির পরিকল্পনা দেশকে দুর্বল করার উদ্দেশ্য বহন করে। তিনি সেপ্টেম্বর করে বলেছেন, দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে তারা আগ্রহী নয়; কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কারওও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এই তপ্ত বিবাদে প্রতিপক্ষ দু’পক্ষের বক্তব্যই ঘটনাস্থল ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি ও ইরানের নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে সংকট কেমন ভাবে বেড়ে উঠে তা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া বিষয় হয়ে পড়েছে।

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত শান্তি পরিষদ ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প নিজেকে বোর্ডের আজীবন—or অনির্দিষ্টকালীন—চেয়ারম্যান রাখা করেছেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের এতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বোর্ডে আজীবন সদস্য হতে চান, তাদের প্রতি দেশ ১ বিলিয়ন ডলার করে দেবে এমন শর্ত রয়েছে।

    এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ তালিকায় ইসরায়েলও যুক্ত হলো। কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান যদি শক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে তা হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকেও ট্রাম্প নিজে উস্কে দিয়েছেন।

    তবে নেতানিয়াহুর যোগদানকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং কিছু দেশ তাকে গাজার ঘটনায় দায়ী করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে—যার ফলে অনেকের কাছে তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে নেওয়া সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক গত বছরের নভেম্বরে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এই পটভূমিতে নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত নেতাকে বোর্ড অব পিসে তুলে নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন না করে সমালোচনা করায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সমালোচকরা বলছেন, এমন অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ন্যায় ও মানবाधিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত এই মঞ্চ বিশ্ব কূটনীতি ও শান্তির প্রচেষ্টাকে ধাঁধাঁতে ফেলতে পারে।

  • সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরার চার আসনে ২০ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ

    সাতক্ষীরায় চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ জন প্রার্থীকে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার তার সম্মেলন কক্ষে সকল দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীকের বরাদ্দ দেন।

    বরাদ্দকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলায় কোনো হয়রানি বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়াভাবে হস্তক্ষেপ করবে বলে সতর্ক করেন। এসময় পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, জেলার বিজিবি প্রধান ও আনসার কমান্ডান্টসহ অন্যরা নির্বাচন-সংক্রান্ত সামগ্রিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বক্তব্য রাখেন।

    এবার সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট আট ধরনের প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বরাদ্দকৃত প্রতীকগুলো হলো: বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব, বাংলাদেশ জাসদের মটরগাড়ি, একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রকেট প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।

    আসনভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকা বেশি পরিষ্কারভাবে এভাবে জানা যায়:

    – সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): বিএনপি থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ), জামায়াত থেকে মো. ইজ্জত উল্লাহ (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।

    – সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা): বিএনপির আব্দুর রউফ (ধানের শীষ), জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী (মটরগাড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম (হাতপাখা)।

    – সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ): স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল), বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন (ধানের শীষ), জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশার (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির রুবেল হোসেন (রকেট)।

    – সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর): বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ধানের শীষ), জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের এইচ এম মিজানুর রহমান (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ (লাঙ্গল)।

    প্রসঙ্গত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। প্রথম দফায় ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় যাচাই-বাছাই করা হয়; রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে ১৯ জনকে বৈধ ও ১০ জনকে বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচনী আপিলে চারজন বৈধ ঘোষিত হওয়ায় মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩। পরে ২০ জানুয়ারি তিনজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় চূড়ান্তভাবে ২০ জন প্রার্থী প্রতীকে ছেদে লড়বেন বলে বিবেচিত হন। বুধবার দুপুর থেকে এসব চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বিতরণ করা হয়েছিল।