নিউজিল্যান্ডকে ১০০ রানে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ১০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো ভারত। একই সঙ্গে ইতিহাস গড়লো সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত — বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার শিরোপা জিতেছে ভারত।

ফাইনালে জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুতেই যেন সমস্ত পরিকল্পনা ভঙা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারের শেষে ইতিমধ্যে তিন জন ব্যাটার সাজঘরে ফিরে যান; ফিন অ্যালেন ৯, রাচিন রবীন্দ্র ১ ও গ্লেন ফিলিপস ৫ রান করে আউট হন। পরে মার্ক চ্যাপম্যান ৩ রানে ফেরেন।

প্রতিষ্ঠিত উইকেট পতনের মোকাবিলায় ওপেনার টিম সেইফার্ট একা লড়াই চালান; মাত্র ২৬ বল খেলে তিনি ৫২ রান করে সর্বাধিক ব্যক্তিগত স্কোর করেন। ড্যারেল মিচেলও আউট হওয়ার আগে করেন ১৭ রান। দলের বাকিদের মধ্যে কোনো বড় সংযোজন করতে পারেননি, শুধুমাত্র অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করলে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন। জেমস নিশাম ৮, ম্যাট হেনরি শূন্য, লকি ফার্গুসন ২ ও জ্যাকব ডাফি ১ রান করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ের মধ্যে সেরা ছিলেন জেমস নিশাম; তিনটি উইকেট নেন তিনি। ম্যাট হেনরি ও রাচিন রবীন্দ্র এক একটা উইকেট শিকার করেছেন। নিয়মিত উইকেট পতনের ফলে কিউই জহর সাতটা সংগ্রহ পেতেই মুখ থুবড়ে পড়ে এবং টার্গেট তাড়া থেকে তারা দূরে সরে যায়।

এর আগে আহমেদাবাদে ম্যাচের টস জিতে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ভারতকে ব্যাট করতে আমন্ত্রণ জানান। ভারত ব্যাটিংয়ে নামে এবং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। প্রথম ছয় ওভারে একের পর এক ছক্কা ও চার মেরে ভারত ৯২ রান তুলে নেয় বিনা উইকেটে।

অভিষেক শর্মা মাত্র ১৮ বলেই অর্ধশতক পূরণ করেন, শেষ পর্যন্ত ২১ বল খেলে ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দ্বিতীয় উইকেটে নামা স্যামসন (সানজু স্যামসন ধরে নিলে পাঠকদের পরিচিত মনে হবে) ৪৬ বল খেলে ৮৯ রানের ঝলক দেখান; তার ইনিংসটি পাঁচটি চার ও আটটি ছক্কায় রাঙানো ছিল। ইশান কিষাণও খেলা উজ্জ্বল রাখেন—মাত্র ২৫ বলেই ৫৪ রানে আউট হন তিনি।

দলনেতা সূর্যকুমার যাদব সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও দলের মধ্যম ও শেষ দিকে হার্দিক পান্ডিয়া ১৩ বলে ১৮ রান করে ফেরেন। শেষ দিকে শিবম দুবে মাত্র ৮ বল খেলে ঝড়ো ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর তিলক ভার্মা ৬ বল খেলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

এই জয়ে ভারত শুধু প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিধ্বস্ত করেনি, ইতিহাসেও নিজকেই উজ্জ্বল করে তুলেছে—টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়াও তিনবার শিরোপা জেতার নজির গড়লো ভারত। ফাইনালে পাওয়া সমর্থন, আগ্রাসী ব্যাটিং ও কড়া বোলিং মিলিয়ে ভারত স্মরণীয় এক বিজয় এনে দিল।