Blog

  • রুনা লায়লা নিজেই খণ্ডন করলেন নিজের মৃত্যুর গুজব

    রুনা লায়লা নিজেই খণ্ডন করলেন নিজের মৃত্যুর গুজব

    উপমহাদেশের বরেণ্য গণকণ্ঠ রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া অদ্ভুত গুজব নিয়ে তিনি সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। ভক্ত-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করে রুনা লায়লা জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গেছেন। এই সময়ে দেশ-বিদেশে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট তুলে সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ভক্তদের ধোঁয়াশা দূর করেন।

    পোস্টে রুনা লায়লা লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে — আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়ানো হয়েছে। আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি।’ তিনি অনুরোধ করেন, এ ধরনের কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন, কারণ এসব ভিত্তিহীন খবর তার এবং তার পরিবারের জন্য খুব কষ্টদায়ক।

    সংগীতজীবনে রুনা লায়লার নামবিশেষ প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৬ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘হাম দোনো’র গায়কী ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিল্যা’ দিয়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন। ১৯৬০-এর দশকে নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশন শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ জাতীয় গানগুলো দিয়ে ভারতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    ভক্তদের মধ্যে এখন নীরব শ্বাস ফেলার প্রশান্তি ফিরে এসেছে, আর অনেকে তার দ্রুত সেবায় ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।

  • তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন থালাপতি বিজয়

    তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের রেকর্ডে ভাগ বসালেন থালাপতি বিজয়

    দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করে মাত্র প্রথম নির্বাচনে নজির গড়েছেন জোসেফ ‘বিজয়’ চন্দ্রশেখর। এককভাবে বড় জয় না পেলেও তার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১০৮টি আসন জিতেছে—এভাবে ১৯৭৭ সালের এমজি রামাচন্দ্রানের পর আবার কোনও চলচ্চিত্র-তরকারার নেতা এত বড় রাজনৈতিক সাফল্যের পথে দাঁড়ালেন।

    তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪, এককভাবে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি। বিজয় নিজে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এবং টিভিকে ১০৮টি আসনে সাফল্য অর্জন করায় পার্লামেন্টের নিয়মে সরাসরি একক সরকার গড়া সম্ভব না হলেও জোট গঠন করে সরকার গঠনের চিত্র স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে জোট হলেও টিভিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে সামনে আছেন বলে সদরগোল দেখা যাচ্ছে।

    এই ফলাফলের গুরুত্ব বোঝার জন্য ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। ১৯৭৭ সালে তামিল চলচ্চিত্রের সুপরিচিত সুপারস্টার এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন—এটাই ছিল চলচ্চিত্র-থেকে রাজনীতিতে এসে শীর্ষ নির্বাহি পদে সুন্দর উদাহরণ। পরবর্তীকালে জয়া ললিতাও তৎকালীন এমজিআরের দল এআইএডিএমকে-র মাধ্যমে রাজনীতিতে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসেন, যদিও তিনি নিজে একটি সম্পূর্ণ নতুন দল গঠন করেননি।

    এরপর দীর্ঘ সময় কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেই উচ্চতা ছোঁয়াতে পারেননি। তাই বিজয়ের এই অর্জনকে অনেকেই এমজি রামাচন্দ্রানের সঙ্গে তুলনা করছেন—কারণ চলচ্চিত্র পটভূমি থেকে এসে নিজের দলের নেতৃত্বে বিধায়ক এবং সরকারের প্রধানত্বের পথে এগোচ্ছেন তিনি।

    বিজয়ের রাজনৈতিক পথ দীর্ঘসময় ধরে তৈরি। ২০০৯ সালের দিকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্ত গ্রুপকে এক করে গঠন করেছিলেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই সংগঠন ধারাবাহিকভাবে এমজিআর-নেতৃক এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিয়েছে। এরপর ২০২১ সালে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন বিজয়।

    ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি এবং সেই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হলো। নতুন দলের পক্ষে ১০৮ আসন—এমন ফলাফল এক বছরেরও কম সময়ে গঠন হওয়া একটি দলের জন্য উল্কাপাতের মতো চমকপ্রদ।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমজি রামাচন্দ্রানের মতো বিজয়ও ভক্তশ্রেণিকে কেবল তরফদার নয়, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছেন—এটিই তাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি। এখন প্রশ্ন শুধু জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠার: টিভিকে কাদের সঙ্গে জোট করবে এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর কারাই সরকার-নির্বাহী ম্যান্ডেট পাবে।

    তবে যে কোন সূত্রেই হোক, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এমজি রামাচন্দ্রানের সঙ্গে একটি ৪৯ বছরের পুরনো ধারাবাহিকতায় নাম লেখাচ্ছেন। শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজয়।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল

    সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারের বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ধীরগতিই এখন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বড় একটি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বনানীতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পাস আয়োজিত এক সংলাপ শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী হতাশ হচ্ছেন। এই জটিলতা দূর করে একটি সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকা সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি পরিস্থিতি দ্রুত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক বাধা খেলে বিনিয়োগ ধীরগতিতে আটকে পড়ে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মসূচি পিছিয়ে যায়।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বিষয়টি এখনো দেশের জন্য বড় একটি সমস্যা। সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পর্যায়ে সংলাপ শুরু হয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি neighbouring countries–এর সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার গুরুত্বও উল্লেখ করেন এবং বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

    দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করে বলেন, নির্বাচনের পর কিছু পরিবর্তন এসেছে, তথাপি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

    জ্বালানি খাতেও বড় সংকট রয়েছে বলে মির্জা ফখরুল সতর্ক করেন এবং জানান, সরকার সেই সংকট মোকাবিলায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস উত্তোলন বাড়াতে আগামী তিন মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    মোটmil, তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে দেশকে বিনিয়োগবান্ধব ও স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

  • মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার

    মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার

    নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এবং ওই ঘটনার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র‌্যাব-১৪ একটি অভিযানিক দল তাকে আটক করে।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, র‌্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) তারেক লাগানো এক অভিযানে গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আসামিকে মদন থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং হস্তান্তরের পর যত দ্রুত সম্ভব তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

    ওসি তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘‘আসামিকে আমাদের হাতে পেলে যদি সময় থাকে আমরা আজকেই তাকে আদালতে পাঠাব, না হলে আগামীকালকে পাঠাতে হবে।’’

    র‌্যাব-১৪ এই চাপসৃষ্ট মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আজ দুপুর ১২টায় একটি প্রেস ব্রিফিং করবেন বলে জানা গেছে। তদন্তপ্রক্রিয়া ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বাকি তথ্য প্রয়োজনীয়তার সাথে জানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

  • এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা

    এনসিপি ১০ মে ঘোষণা করবে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীদের তালিকা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, আগামী ১০ মে’র মধ্যে দলের প্রাথমিক সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার আশা করছেন তারা।

    তিনি জানান, প্রথমে তারা ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক কিছু অনিবার্য কারণে সেই সময়সীমা পিছিয়েছে।

    সারজিস আলম কথাগুলো বলেন মঙ্গলবার (০৫ মে) রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ণ টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের যোগদানের অনুষ্ঠানে। সেখানে তিনি জানান, ‘‘আমরা আশা করছি ১০ মে’র মধ্যে প্রাথমিকভাবে যারা এনসিপি সমর্থন পেয়েছে তাদের তালিকা ঘোষণা করতে পারব।’’

    তিনি আরও বলেন, এ মাসেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য এনসিপি সমর্থিত মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে এনসিপি একটি ১১দলীয় জোটে আছে এবং বিরোধীতার ভূমিকা পালন করছে; পাশাপাশি সংসদে অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াও চলছে, তাই স্থানীয় স্তরে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে।

    সারজিস আলম অভিযোগ করেন, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছিয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তারা ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনগুলোর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘‘উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে কার্যকর প্রতিষ্ঠান নেই; তারা আবার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা শুরু করেছে। শুনেছি তারা উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টা করছে—এ ধরনের পদক্ষেপ তাদেরই পক্ষে বিপরীত ফল দেবে।’’

    অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের সময়সীমা এ বছরের মধ্যেই নির্ধারণ করে সম্পন্ন করা উচিত। সারজিস আলম দলকে শক্তিশালী করতে এবং স্থানীয় হিসেব করে প্রার্থী ঘোষণা করতে তারা দ্রুততার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

  • নিজামী পুত্র, হাজী শরীয়তullah’র বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    নিজামী পুত্র, হাজী শরীয়তullah’র বংশধর ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ এনসিপিতে যোগ দিলেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তে নতুন করে একঝাঁক জনশক্তি যোগ দিয়েছে—জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামের ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ ও ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’র অন্যান‍্য সদস্যরা। তারা মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলজয় ঘোষণা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও অনলাইনে যুক্ত হয়ে এনসিপিতে যোগদানের কথা জানান।

    ওয়ারিয়র্স অব জুলাই সদস্যদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সংগঠনের প্রায় চার হাজার সদস্য এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবুও সকল সদস্য একসাথে উপস্থিত ছিলেন না — প্রেস কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত ছিলেন আনুমানিক ৫০ জন সদস্য।

    হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “হাজী শরীয়াতুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না; তিনি এ দেশের সাধারণ কৃষক-জনগণের নেতা ছিলেন। নেতা আর রাজা হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা কোনো নেতার ইবাদত করি না। আমরা দল করি যাতে আমাদের নেতা যদি ভুল পথে চলেন, আমরা তাকে সুদৃঢ়ভাবে ফেরাতে পারি; যদি দলের কোনো ভুল সিদ্ধান্ত হয়, সেখানে ন্যায় সমর্থন করতে পারি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি।”

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “দেশের পথ হারানো রাজনীতির হাল ধরবে এনসিপি।” তিনি বিএনপি নিয়ে তীব্র সমালোচনায় বলেন, “সংসদে তারা প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে, যার ফল ভালো হবে না।” এছাড়া তিনি গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রগুলোকে বর্তমান শাসকরা নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারা আর লুটপাটের খাত হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন দ্রুত—এ বছরের মধ্যেই—নির্ধারণ ও অনুষ্ঠিত করা উচিত।

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, “সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং তা তারা মুখে বলে সংসদে ঘোষণা করছে; এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।” তিনি অতীতের রাজনৈতিক প্রতারণার উদাহরণ টেনে বলেন, যারা জনগণকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে, তাদেরই পরে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়াও তিনি মন্তব্য করেন যে হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদের মতো প্রশাসক নিয়োগে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা আর ফিরে আসা উচিত নয় এবং এরশাদের মতোই তরিক রহমানরাও রাষ্ট্র পরিচালনায় এমনই পথ বেছে নিতে চাইছেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শেষে নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলের একজন হিসেবে পরিচয় করানো হয়।

  • সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    সোনার দাম কমলো: প্রতি ভরিতে নতুন দাম কত?

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২,২৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন দাম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস বলেছে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার স্থানীয় দাম কমায় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়। এতে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। এ দিনের আগে, সোমবার (৪ মে) ২২ ক্যারেট সোনার ভরির দাম ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    অন্য ক্যারেট অনুযায়ী নির্ধারিত নতুন দামের তালিকা হলো: ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি এক লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    সোনার দাম কমলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজুসের বেঁধে দেওয়া মূল্য অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার কারণে এক পর্যায়ে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। পরে দর সমন্বয়ের ফলে দাম ওঠানামা করে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে প্রায় ৪,৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। আগের দিকে, ৩০ জানুয়ারি প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি তা ছিল প্রায় ৫,৫৫০ ডলার।

  • এপ্রিলেই রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    এপ্রিলেই রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার

    সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে দেশে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার তথ্যটি নিশ্চিত করেন এবং বলা হয়, এ হিসাবে প্রতিদিন গড় রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

    গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, তাই বছর ঘেঁষে এপ্রিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

    এর আগে মার্চ মাসে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা কোনো এক মাসে দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়েছে।

    বছরের অন্যান্য মাসগুলোর রেমিট্যান্সের চিত্রও মিশ্র ছিল। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ও ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার; নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্টে এসেছে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ছিল ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

    এদিকে, পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রবাসীরা মোট পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা এক নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

  • আরব সাগরে আটকা ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    আরব সাগরে আটকা ভারতীয় নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান

    আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকা পড়া ভারতীয় জাহাজ এমভি গৌতমের নাবিকদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী। মঙ্গলবার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

    জাহাজটিতে মোট ছয়জন ক্রু ছিলেন—৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। কয়েক দিন আগে ওমানের একটি বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় এমভি গৌতম সাগরে ভাসতে থাকে। অনেকে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় রসদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত সংকটাপন্ন হয় এবং জাহাজ থেকে এসওএস বার্তা পাঠানো হয়।

    এসওএসটি মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) পায়। বার্তা পাওয়ার পর এমআরসিসি ইসলামাবাদে যোগাযোগ করে এবং পাকিস্তানের কাছে সহায়তার অনুরোধ জানায়। অনুরোধ পাওয়ার ভিত্তিতেই পাকিস্তানের নৌবাহিনী আরব সাগরে তাদের জাহাজ ‘পিএমএসএস কাশ্মির’ পাঠায়।

    পাকিস্তানি নৌবাহিনীর বিবরণে বলা হয়েছে, তারা এমভি গৌতমের ক্রুদের খাদ্য, ওষুধ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছে এবং জাহাজটির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করেছে। এ অভিযানে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি (পিএমএসএ) নামের দেশটির সামুদ্রিক উদ্ধারকারী সংস্থাও সহযোগিতা করেছে।

    কাতারের ইংরেজি দৈনিক দ্য গালফ টাইমস তাদের টুইটারে পাকিস্তানি নৌবাহিনী কর্তৃক নাবিকদের কাছে রসদ সরবরাহের ছবি প্রকাশ করেছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত মাসে আরব সাগরে আটকা পড়া আরেকটি জাহাজ থেকে পাকিস্তানের নৌবাহিনী ১৮ জন ক্রুকে উদ্ধার করেছিল; ওই নাবিকদের মধ্যে চীন, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা ছিলেন।

    সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন

  • মুখ্যমন্ত্রী হতে সমর্থন চাইলে থালাপতি বিজয়কে কংগ্রেসের শর্ত

    মুখ্যমন্ত্রী হতে সমর্থন চাইলে থালাপতি বিজয়কে কংগ্রেসের শর্ত

    তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে ২৩৪ টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে সর্বোচ্চ সাংসদীয় শক্তি অর্জন করেছে। পুরো বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, তাই একাই সরকার গঠনের জন্য তাদের আরও ১০টি আসন দরকার। এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় কংগ্রেসসহ কয়েকটি দলের কাছে সহায়তা চান টিভিকে।

    সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর বরাত দিয়ে জানা গেছে, কংগ্রেস স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে— থালাপতি বিজয় যদি তাদের সমর্থন চান, তাহলে তিনি বিজেপি বা বিজেপি-সমর্থিত কোনো দলের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠন করবেন না। এনডিটিভি জানিয়েছে, টিভিকে-র শীর্ষ নেতারা এআইএডিএমকে-র নেতা ইদাপ্পাদি কে. পালানিস্বামীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন; এআইএডিএমকে আগে বিজেপির মিত্র ছিল। এই সাক্ষাতের পর কংগ্রেস তাদের অবস্থান আরো ঝাঁটার মতো পরিস্কার করে দিয়েছে।

    কংগ্রেস তামিলনাড়ুতে মোট ৫টি আসনে জিতেছে। কংগ্রেস যদি টিভিকে-কে সমর্থন দেয়, তাহলে মোট আসন হবে ১০৮+৫ = ১১৩, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ১১৮ থেকে এখনও ৫টি কম। অর্থাৎ কংগ্রেসের সমর্থন থাকলেও টিভিকে-কে আরও কিছু ছোট দল বা স্বতন্ত্র বিধায়কের সমর্থন সংগ্রহ করতে হবে।

    টিভিকে ইতোমধ্যে ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএমের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। এই দলগুলো যদি বিজয়কে সমর্থন দেয়, তবে তিনি সরকার গঠন করতে পারবেন। পরবর্তী কয়েক দিনে কাদের কাছে আনুষ্ঠানিক সমর্থন গড়ে উঠবে, সেটাই সিদ্ধান্তমূলক হবে।

    সূত্র: দ্য হিন্দু, এনডিটিভি