দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করে মাত্র প্রথম নির্বাচনে নজির গড়েছেন জোসেফ ‘বিজয়’ চন্দ্রশেখর। এককভাবে বড় জয় না পেলেও তার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে) এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১০৮টি আসন জিতেছে—এভাবে ১৯৭৭ সালের এমজি রামাচন্দ্রানের পর আবার কোনও চলচ্চিত্র-তরকারার নেতা এত বড় রাজনৈতিক সাফল্যের পথে দাঁড়ালেন।
তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪, এককভাবে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮টি। বিজয় নিজে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এবং টিভিকে ১০৮টি আসনে সাফল্য অর্জন করায় পার্লামেন্টের নিয়মে সরাসরি একক সরকার গড়া সম্ভব না হলেও জোট গঠন করে সরকার গঠনের চিত্র স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে জোট হলেও টিভিকেই নেতৃত্ব দিতে হবে এবং বিজয়ই তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে সামনে আছেন বলে সদরগোল দেখা যাচ্ছে।
এই ফলাফলের গুরুত্ব বোঝার জন্য ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। ১৯৭৭ সালে তামিল চলচ্চিত্রের সুপরিচিত সুপারস্টার এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন—এটাই ছিল চলচ্চিত্র-থেকে রাজনীতিতে এসে শীর্ষ নির্বাহি পদে সুন্দর উদাহরণ। পরবর্তীকালে জয়া ললিতাও তৎকালীন এমজিআরের দল এআইএডিএমকে-র মাধ্যমে রাজনীতিতে উঠে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসেন, যদিও তিনি নিজে একটি সম্পূর্ণ নতুন দল গঠন করেননি।
এরপর দীর্ঘ সময় কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী সেই উচ্চতা ছোঁয়াতে পারেননি। তাই বিজয়ের এই অর্জনকে অনেকেই এমজি রামাচন্দ্রানের সঙ্গে তুলনা করছেন—কারণ চলচ্চিত্র পটভূমি থেকে এসে নিজের দলের নেতৃত্বে বিধায়ক এবং সরকারের প্রধানত্বের পথে এগোচ্ছেন তিনি।
বিজয়ের রাজনৈতিক পথ দীর্ঘসময় ধরে তৈরি। ২০০৯ সালের দিকে তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ভক্ত গ্রুপকে এক করে গঠন করেছিলেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই সংগঠন ধারাবাহিকভাবে এমজিআর-নেতৃক এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিয়েছে। এরপর ২০২১ সালে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজেকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন বিজয়।
২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি এবং সেই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হলো। নতুন দলের পক্ষে ১০৮ আসন—এমন ফলাফল এক বছরেরও কম সময়ে গঠন হওয়া একটি দলের জন্য উল্কাপাতের মতো চমকপ্রদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমজি রামাচন্দ্রানের মতো বিজয়ও ভক্তশ্রেণিকে কেবল তরফদার নয়, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছেন—এটিই তাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল ভিত্তি। এখন প্রশ্ন শুধু জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠার: টিভিকে কাদের সঙ্গে জোট করবে এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর কারাই সরকার-নির্বাহী ম্যান্ডেট পাবে।
তবে যে কোন সূত্রেই হোক, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এমজি রামাচন্দ্রানের সঙ্গে একটি ৪৯ বছরের পুরনো ধারাবাহিকতায় নাম লেখাচ্ছেন। শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন বিজয়।
সূত্র: এনডিটিভি
