Blog

  • মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

    মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় বুধবার রাতে গুলোধর্ষণে নিহত হন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। পুলিশের বরাতে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হৃদয়বিদারক এই ঘটনার সময় তাঁর মাথায় পরপর তিনটি গুলি নোট করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের সময় চন্দ্রনাথের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। দুর্বৃত্তরা গাড়ির পিছু নিয়ে দোহাড়িয়ার একটি স্থানে পৌঁছালে অন্তত চারটি রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    চন্দ্রনাথ রথ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলেও উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বসবাস করতেন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ভরসা ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন—২০১৮ সাল থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন এবং শুভেন্দুর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক সব কাজকর্ম, যোগাযোগ ও সভা-সমাবেশের তদারকি করতেন।

    সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনায় চন্দ্রনাথর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ন। এই মুহূর্তে শুভেন্দুর রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র আলোচনা—সেই প্রেক্ষাপটে তার ঘনিষ্ঠ সহকারীর ওপর এই হামলার ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পরিকল্পনার কথা অনেকে উল্লেখ করছেন।

    ঘটনার পর দ্রুত পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। গুলিবিদ্ধ যানবাহন উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতা ও বিধায়ক ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে ছুটে বেড়ান। তারা আহত এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রাথমিক বিবরণ সংগ্রহ করেন; অনেকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় দিক থেকে গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জনজীবন অস্থির হয়ে পড়েছে। পুলিশ পুলিশের ওপর চাপা দেয়ার পাশাপাশি এলাকায় পর্যাপ্ত চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশির কাজ বাড়িয়েছে।

    প্রসঙ্গক্রমে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করতেই তদন্ত চলছে। পুলিশ সম্ভব প্রমাণ সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোন কল রেকর্ড ও সានিনদের বয়ান যাচাই করছে। ঘটনার সব দিক পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করা হয়নি।

  • এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র

    হোয়াইট হাউস মনে করছে, এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকই ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ করে দিতে পারে। ওই স্মারকের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি বিস্তারিত আলোচনার কাঠামোও স্থাপন করা হবে — এ খবর বুধবার (৬ মে) প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।

    সংবাদটি বলছে, দুই পক্ষ যদি ঐ স্মারকে সম্মত হয়, তাহলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, ইরানের জব্দ থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেবার কথাও ভাবছে।

    তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সম্মতি হয়েছে বলে বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন ইস্যুতে যে আপোষ হয়েছে, সেগুলো মিলিয়ে এখন পরিস্থিতি সামান্য হলেও সুষ্ঠুভাবে এগোচ্ছে — তথাপি মূল বিরোধগুলো মুছে যায়নি। স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়িত হবে কীভাবে তা এক চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভর করবে; যদি তা ব্যর্থ হয়, পরিস্থিতি পুনরায় জটিল বা তীব্র হলে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে পারে।

    এক্সিওসকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানি নেতৃত্ব আদেশে কিংবা নীতিগত একমত না হওয়ায় চূড়ান্ত সম্মতি টানাটানির মধ্যে পড়তে পারে। ফলে এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটিও শেষ পর্যন্ত না হতে পারে বলে তারা সন্দিহান।

    সমঝোতা স্মারকটি এক পৃষ্ঠার একটি খসড়া যাতে মোট ১৪টি দফা আছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ইরানের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জার্ড ক্রুসনার। মার্কিন দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ট্রাম্প হরমুজে নতুন কোনো অভিযানের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মারক গ্রহণ করা হলে মধ্যপ্রাচ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে এবং এরপর ৩০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার সময়সীমা শুরু হবে। ওই সময়ে হরমুজ খোলা রাখা, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য আলাপচারিতা চলবে। সেই আলোচনা হতে পারে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়।

    আলোচনার ধাপগুলোতে ধীরে ধীরে ইরান হরমুজে আরোপিত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থ মুক্তি প্রদান করবে — তবে সবকিছুই পর্যায়ক্রমে হবে। আর যদি আলোচনাগুলো ভেস্তে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ বা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের পথে ফিরতে পারে।

    তারা ইরান কতদিন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখবে সেটাও নিয়ে আলোচনা করছে; এ মুহূর্তে ১২ বছরের কথা বলা হচ্ছে এবং তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের রকমের শর্ত দিয়েছিল, কিন্তু ইরান প্রথমে মাত্র ৫ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল।

    সমঝোতা স্মারকে ইরানের পক্ষ থেকে চুক্তিভিত্তিক প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে যে তারা কখনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক সুবিধাগুলোর কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার বিষয়টিও আলোচনার সূচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র তত্ত্বাবধানে পরিদর্শন ও নজরদারি দিতে হবে।

    আর এক বাবি হল সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের স্থানান্তর—এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনা হতে পারে।

    সূত্র: এক্সিওস

  • নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলে ঘুমন্ত স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার

    নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ঘুমন্ত স্ত্রীর উপর তলোয়ারنما বটিতে আঘাত করে হত্যার অভিযোগে স্বামী সাকিব শেখ (২৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাত দেড়টার দিকে ঘটেছে এই নৃশংস ঘটনা।

    নিহত গৃহবধূ খাদিজা আক্তার চাঁদনী (২০) খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামের কালাম শেখের মেয়ে। অভিযুক্ত সাকিব শেখ একই উপজেলার দামোদার গ্রামের জাহিদ শেখের ছেলে। তাদের সংসারে সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি ছেলে, তুফান, রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার (৪ মে) দুপুরে খুলনা থেকে সাকিব ও চাঁদনী নড়াইলের বাহিরগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকায় সাকিবের খালুর বাড়িতে যেতে। রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় সাকিব চাঁদনীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। চাঁদনীর চিৎকারে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দেরও অভিযোগ, সাকিব মাদকাসক্ত এবং কর্মবিমুখ হওয়ায় দম্পতির মাঝে প্রায়ই পারিবারিক কলহ থাকত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাকিবও পারিবারিক কলহের বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নড়াইল সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সন্দেহভাজন সাকিবকে আটক করেছি। ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত খড় কাটা বটি, বিছানার চাদরসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত চলছে।

  • এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: যশোর বোর্ডে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে গতিবরে অব্যাহতি দিয়েছে। বোর্ড আশ্বস্ত করেছে, ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না।

    জানা গেছে, ৩০ এপ্রিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের ২০৪ নম্বর কক্ষে নলডাঙ্গা ইব্রাহিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী সাদিয়া খাতুন অংশ নিই। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র থাকা সত্ত্বেও কক্ষ পরিদর্শকরা ভুলবশত তাকে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন।

    পরীক্ষা শেষে বাড়িতে পৌঁছে পরিস্থিতি টের পেয়ে সাদিয়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরে তদন্ত করে বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় কক্ষ পরিদর্শক—সুন্দুরপুর চাঁদবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম এবং কে.পি.কে.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

    ঘটনায় কেন্দ্র সচিব ও সলিমুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদৌরা আক্তারকেও স্থানে থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় সহকারী প্রধান শিক্ষক গৌতম তরফদারকে নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    বিদৌরা আক্তার অব্যাহতির বিষয়ে জানান, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এবং এই বিষয়ে ভিডিও প্রমাণও আছে। তবুও কেন তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বোধগম্য করেন না।

    কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা রয়েছে এবং যশোর শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, কেন্দ্র সচিব পরিবর্তনের কথা তিনি শুনেছেন, তবে এখনো লিখিত কোনও নির্দেশনা পাননি।

    যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন বলেন, ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের দায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে ওই পরীক্ষার্থীর কোনো ক্ষতি হবে না এবং সে প্রশ্নপত্র অনুযায়ী তার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে।

    ঘটনাটি পরীক্ষাকেন্দ্রে তদারকি ও দায়িত্ব পালনের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর সতর্কতা ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • নাহিদ রানা বাংলাদেশের বড় সম্পদ: শাহিন আফ্রিদি

    নাহিদ রানা বাংলাদেশের বড় সম্পদ: শাহিন আফ্রিদি

    পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতির আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আফ্রিদি নাহিদ রানাকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    নাহিদ রানা দুই বছর ধরে জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে খেলছেন। সাদা বলের ক্রিকেটে হয়তো তিনি সম্পূর্ণ নিয়মিত নন, কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজে তার প্রদর্শন মনে রাখবার মতো ছিল এবং এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাল বলের ম্যাচেও তাকে খেলতে দেখা যেতে পারে।

    মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন বলেন, তিনি ওয়ানডে সিরিজের আগে শন টেইটের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তার মতে নাহিদ রানা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় এক সম্ভাব্য সম্পদ। শাহিন আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তার এই প্রতিভাকে ভালোভাবে কাজে লাগাবে।

    একই সঙ্গে শাহিন হাশ্পাশ করে বলেন, রানা ভালো ফর্মে থাকলেও তিনি আশা করেন নাহিদ তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি বিপদ সৃজন করতে পারবে না (হাসি)।

    আগের টেস্ট সিরিজ হার নিয়ে প্রশ্নে আফ্রিদি বলেন, ‘‘অতীত তো অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীত ধরে রাখতে চাই না। আমাদের নজর বর্তমান ও ভবিষ্যতের ওপর। আমরা কিভাবে নিজেদের তৈরি করছি সেটাই এখন মুখ্য।’’

    শাহিন আরও স্পষ্ট করে জানান, দল হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য কেবল কোনো একটি সিরিজ জেতা নয়, বরং ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার মতো বড় লক্ষ্য অর্জন করা। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দল ইতোমধ্যে নিজেদের তৈরি করে যাচ্ছে।

  • বিসিবি নির্বাচনে মনোনয়নের শেষ সময় ১৬ মে

    বিসিবি নির্বাচনে মনোনয়নের শেষ সময় ১৬ মে

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন প্রক্রিয়া formally শুরু হয়েছে। গঠনতন্ত্রের ধারা ১২.৭ অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরের মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ মে।

    বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের আয়োজন তিনটি ক্যাটাগরিতে হয়। প্রথম ধাপ হিসেবে তিন ক্যাটাগরির সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও ক্লাবদের কাছে কাউন্সিলর মনোনয়নের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্যাটাগরি ভেদে বিশদ রয়েছে এভাবে:

    ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা): এখানে ৭১ জন কাউন্সিলর থাকবেন। এই ক্যাটাগরি থেকেই বোর্ডে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। ওই ১০ পরিচালক সাতটি বিভাগের মধ্যেই বণ্টিত — ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে প্রতিটি বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর থেকে প্রতিটি বিভাগে ১ জন করে পরিচালক আসে। প্রতিটি বিভাগের নিজস্ব কাউন্সিলররা তাদের বিভাগীয় পরিচালক নির্ধারণ করবেন। বিভাগভিত্তিক কাউন্সিলর সংখ্যা ও পরিচালক বাছাইয়ের হিসাব: ঢাকা ১৮ কাউন্সিলর (২ পরিচালক), চট্টগ্রাম ১২ (২ পরিচালক), খুলনা ১১ (২ পরিচালক), রাজশাহী ৯ (১ পরিচালক), সিলেট ৫ (১ পরিচালক), বরিশাল ৭ (১ পরিচালক) এবং রংপুর ৯ (১ পরিচালক)।

    ক্যাটাগরি-২ (প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্লাব, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ): এই বিভাগ থেকে ৭৬ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে একজন করে কাউন্সিলর থাকেন — প্রিমিয়ার ডিভিশনে ১২ জন, প্রথম বিভাগে ২০ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ২৪ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ২০ জন কাউন্সিলর। এই প্রতিনিধিরা মিলিয়ে ১২ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন।

    ক্যাটাগরি-৩ (সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা): এখানে কাউন্সিলর সংখ্যা মোট ৪৫ জন। এই ক্যাটাগরির মধ্য থেকে এক জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক দুইজন পরিচালক মনোনীত হবেন। এইভাবে সবমিলিয়ে তিনটি ক্যাটাগরির কাউন্সিলর সংখ্যা ৭১+৭৬+৪৫ = ১৯২ জন হয়।

    অন্যদিকে বিসিবি জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। বোর্ডের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে — ৬৪টি জেলা কোচ পদের জন্য আবেদনকারীদের মূল্যায়নে একটি কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমান জেলা কোচদের চুক্তি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নিয়োগে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে। বাছাইয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় ধরনের পরীক্ষা নেয়া হবে।

    এছাড়া গত মাসে যারা ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারের মেয়াদ শেষ হয়েছিল, তাদের মেয়াদ বিসিবি আরো তিন মাস বাড়িয়েছে।

    বিসিবি এখন মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষে নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করবে; মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপে প্রার্থীতা যাচাই ও ভোটের প্রস্তুতি শুরু হবে।

  • রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে

    রুনা লায়লা: আমার মৃত্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে

    উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় শিল্পী নিজেই ভক্ত-অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও ভালো আছেন।

    বর্তমানে তিনি ভারতের দিল্লিতে ‘মিনার–ই–দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন। এই সময়ে হঠাৎ তার মৃত্যুর খবরে দেশ-বিদেশে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নজরে আসার পর রুনা লায়লা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করে সততা নিশ্চিত করেছেন।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে—আমার মৃত্যু নিয়ে কিছু অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে।’ তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই যে আমি বহাল তবিয়তে বেঁচে আছি। অনুগ্রহ করে এমন কোনো পোস্ট শেয়ার করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন; এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদানক। সবার জন্য অনেক ভালোবাসা।’

    শিল্পীর এই বার্তায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য দ্রুত কন্ট্রোল করতে সহায়তা করার অনুরোধও ছিল। রুনা লায়লা ভক্তদের ধৈর্য ও সচেতনতার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    রুনা লায়লা ১৯৬৬ সালে হাম দোনো চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ গান দিয়ে সংগীতে পরিচিতি পান। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা করতে থাকেন এবং পরবর্তীতে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ এর মতো গানগুলো দিয়ে ভারত ও সাবেকি উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

    এই ঘটনায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদ যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং উৎস থেকে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

  • বিজয়ের প্রথম নির্বাচনে এমজিআরের ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগি

    বিজয়ের প্রথম নির্বাচনে এমজিআরের ৪৯ বছর পুরনো রেকর্ডে ভাগি

    দক্ষিণ ভারতের দর্শকপ্রিয় তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—যাকে দর্শক ‘থালাপতি বিজয়’ নামে চেনে—নিজের প্রথম নির্বাচনে দর্শক এবং রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় কেবল ব্যক্তিগতভাবেই জয়ী হননি; বরং তিনি ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রানের সৃষ্ট ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে দিয়েছেন।

    ১৯৭৭ সালে তৎকালীন চলচ্চিত্র তারকা এমজি রামাচন্দ্রান নিজের দল এআইএডিএমকে গঠন করে রাজ্যপালকে হারিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অভিনেত্রী জয়ার্মা (জয়ললিতা) মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসলেও তিনি নিজে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেননি; এমজিআরের দলেই উঠে আসতেন। এরপর দীর্ঘদিন কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজের প্রতিষ্ঠিত দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রীতে পৌঁছাননি—এই চিত্র এবার বদলে গেছে বিজয়ের হাতেই।

    বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে) ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে। এবারের ভোটে টিভিকে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। আইন অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে ১১৮টি আসন প্রয়োজন। তাই টিভিকে সরাসরি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, কিন্তু জোট গঠন করলেই দলের সিংহভাগ কণ্ঠস্বর এবং নেতৃত্বের ভূমিকা টিভিকেই নিতে হবে—যার ফলে বিজয়ের তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাবনা কার্যত নিশ্চিত বলে বলা হচ্ছে।

    এই সাফল্যের পেছনে বিজয়ের দীর্ঘতর ভূমিকা এবং ভক্তশ্রেণীর সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ গঠন করেন। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছিল, কিন্তু ২০২১ সালে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির পথে হাঁটেন বিজয়।

    ফিল্ম জগত থেকে উঠে এসে নিজের ভক্তকুলকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা—এই কৌশলটিই এমজি রামাচন্দ্রানের সময়ে কাজ করেছিল এবং বিজয়ও সেই পথই অনুসরণ করেছেন। টিভিকের দ্রুত ওঠা এবং নির্বাচনী ফলাফল ২০২৪ সালে গঠিত নতুন কোনো দলের জন্য অত্যন্ত নজিরবিহীন বলা চলে।

    এখন বিজয় শপথগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং রাজনৈতিক রণনীতির দিক থেকে টিভিকে জোট গঠন করেই সরকার গঠন করবেন—এমনটাই পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। (সূত্র: এনডিটিভি)

  • জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

    জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা

    আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে ধাপে ধাপে মাঠ থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে এবং জুন মাসের মধ্যেই সব সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হবে। দূরবর্তী জেলা থেকে প্রথম দফায় প্রত্যাহার করা হবে, এরপর বিভাগীয় শহর ও বড় জেলা থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।

    গতকাল (মঙ্গলবার) কোর কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকার গঠনের পর কোর কমিটি প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছে। গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময়ব্যাপী সভায় মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারাদেশে চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ নানা বিষয় আলোচনা হয়েছে।

    পটভূমি: ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই—সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে বিকট আন্দোলন–দাঙ্গায় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে সৈন্য নামায়। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই রয়ে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই জানান যে, পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাসদস্যরা ব্যারাকে ফিরে যেতে চান। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় কিছু সেনাসদস্যকে মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সেনাসদস্যরা মাঠে ছিলেন; এখনো সারাদেশে আনুমানিক ১৭ হাজার সেনা মাঠপর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিল। সূত্র বলছে, দীর্ঘ সময় মাঠে দায়িত্ব পালন করতে করতে সদস্যরা ক্লান্ত, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন—এটিই প্রত্যাহারের একটি বড় কারণ।

    কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—

    – ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের ব্যাপারেও আলোচনা হয়। যাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অপরাধ নেই, তাদের ক্ষেত্রে জামিন না আটকানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যারা দেশের বাইরে যেতে চান তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    – আওয়ামী লীগ শাসনকালে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স পেয়েছেন যারা—তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়।

    – ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের জন্য গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়।

    – মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ও जनসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    – সারাদেশে চাঁদাবাজি রোধে যাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণ আছে, তাদের নামে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়; চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখা হবে না—এ ধরনের নির্দেশও রয়েছে।

    – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

    – পুলিশের পোশাক পরিবর্তন বিষয়েও আলোচনা হয়। আইজিপি পুলিশের প্যান্ট খাকি না রাখার অনুরোধ করেন, তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সরকারি দরকার অনুযায়ী নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই সরকারি ইউনিফর্ম হিসেবে থাকবে।

    কোর কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে আগামী ৬ জুন থেকে প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হলে, প্রথম ধাপে দূরবর্তী জেলার উপর দিয়ে প্রত্যাহার করা হবে এবং পরবর্তী কয়েক দিনে ধাপে ধাপে বড় শহর ও জেলা থেকে সেনা সরানো হবে—মোট মিলিয়ে জুন মাসের মধ্যেই মাঠ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

    বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। সূত্র: প্রথম আলো।

  • নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন

    নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন

    অন্যের স্ত্রী প্রলুব্ধ করে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে করা মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১০ জুন। এই দিন ধার্য করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত, যেখানে বুধবার (৬ মে) উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

    শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন করেন। শুনানিতে নাসির হোসাইন ও তামিমা সুলতানা তাম্মি উভয়েই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    মামলাটি ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের দায়ের করা অভিযোগ থেকেই শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয় ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যা রয়েছে। তাম্মি পেশায় কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ে সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন।

    বাদীর বক্তব্য, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থায় তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইনের পরিপন্থী; তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নাসির তাকে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন; এরপর তাম্মি ও নাসিরের সম্পর্কের ফলে রাকিব ও তাদের কন্যা মানসিক কষ্টে পড়েছেন এবং রাকিবের মানহানি হয়েছে।

    পরে বিচার প্রক্রিয়ায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে পরে মামলায় অব্যাহতি দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ বিচার চলার নির্দেশ দেন এবং সুমির অব্যাহতি বহাল রাখেন।

    মামলায় মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে; সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে ১৬ এপ্রিল। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। তাম্মির সাফাই সাক্ষীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর আদালত ৬ মে যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেন, যা আবশ্যিক শুনানির পর ৬ মে অনুষ্ঠিত হয় এবং রায় ঘোষণার দিন ১০ জুন ঠিক করা হয়।