Blog

  • একত্র হয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আহ্বান তারেক রহমানের

    একত্র হয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে গুপ্ত স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার আহ্বান তারেক রহমানের

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন যে, সমাজের চারপাশে গোপনে থাকা স্বৈরাচারী শক্তিগুলোর হাত থেকে দেশের গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক মূলনীতি রক্ষা করতে তার দল একত্রিত হয়ে কাজ করবে। এই মন্তব্য করে তিনি দলীয় একক প্রার্থীকে বিজয়ী করে যেন এই ‘গুপ্ত স্বৈরাচার’ প্রতিরোধ করা যায়, সেই জন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    রোববার রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে বিএনপির প্রবাসী নেতাকর্মীদের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্যপদ গ্রহণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দলের ওয়েবসাইটের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, শীঘ্রই বিভিন্ন সংসদীয় আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। দল যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবে, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে জয়যুক্ত করে সেই প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করে আনতে হবে। তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, আমাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা ও গুপ্ত স্বৈরাচার lurking করছে, তাই নিজেদের মধ্যে রেষারেষি, বিবাদ ও বিরোধ আসন্ন নির্বাচনে কোনও ধরনের সুযোগ দেবে না।

    তিনি উল্লেখ করেন, ধানের শীষে ভোট দিলে যুব থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ—প্রতিটি বিএনপি কর্মী, সমর্থক ও নেতাকর্মী শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন। এর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও প্রগতির বিজয় ঘটবে। তিনি বললেন, ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষককে অবজ্ঞা করা বা তার অবদানকে প্রশ্ন করার লক্ষণীয় কোনও কাজ যেন না হয়। এ জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    সমাপ্তিতে তিনি স্লোগান দেন, ‘ভোট দিলে ধানের শীষে দেশ গড়ব, মিলে-মিশে।’

    বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন সঠিক সময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। এই নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি প্রস্তুত হচ্ছে এবং প্রায় ৩০০ সংসদীয় আসনে দলের বা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে।

    তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকেও বিএনপি সমর্থন দিচ্ছে। এ কারণে কিছু আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারে, তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়—এটাই আমাদের মূল মানদণ্ড।

    অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের প্রযুক্তির চার্টার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এই ‘ফোর্থ ইনдуস্ট্রিয়াল রেভলিউশনের’ যুগে আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি। সবারই প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার জন্য তিনি দলের সবাইকে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ডিজিটাল কার্যক্রমে আরও অগ্রসর হওয়াই আমাদের ভবিষ্যত।

    আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

  • সরকার গোপন সমঝোতা করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হতে পারে

    সরকার গোপন সমঝোতা করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গ হতে পারে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, গোপন যৌথ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সরকার যদি আরপিওর সর্বশেষ সংশোধনী বাতিল করে দেয়, তবে এটি একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও নিবন্ধিত দলের প্রার্থী যদি জোটের অন্য দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাহলে আইনগতভাবে অনুমোদিত এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। বিস্ময়করভাবে, সরকার যদি কোনও দলের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে, তাহলে তা ন্যাক্কারজনকভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যত্যয় ঘটানোর শঙ্কা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠবে। রোববার এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বিষয়ে কঠোর বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী জোট গঠিত হলেও প্রতিটি প্রার্থী তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে—গত ২৩ অক্টোবর এই বিধান সংযোজন করে নির্বাচন আইন সংশোধন করা হয়, যা প্রচারিত হয় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দ্বারা। তবে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, বিএনপি’র একজন নেতা ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার মধ্যে গোপন ‘জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্ট’ থাকায়, এই সংশোধনী বাতিলের সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। দেশবাসী মনে করে, যদি এই সংশোধনী বাতিল হয়, তবে সেটি অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, যদি এই সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ব্যক্তিগত একটি গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে বাতিল করা হয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও সকল দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণে বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। জনগণের কাছে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য, এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ও যৌক্তিক ভিত্তি কি? নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভোটাধিকার পূরণের জন্য দায়বদ্ধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া কি অন্ধকারে ঢুকবে? চার মাস সময় থাকতে, যদি এমন গোপন যোগসাজшисьল বচáles যায়, তবে নির্বাচন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও ভ্রান্তি মুক্ত হবেনা। জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বহাল রাখা জরুরি। আমাদের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে এবং সকলের স্বার্থে ন্যায় ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে।

  • ৮ দলের নতুন কর্মসূচি announced to implement 5-Point Demands

    ৮ দলের নতুন কর্মসূচি announced to implement 5-Point Demands

    বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল আবারও তাদের ৫ দফা দাবির বাস্তবায়নের জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলটির প্রধান নেতা, আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাহমুলুল হক বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। যদিও নির্বাচন কৌশলগতভাবে ঘনিয়ে আসছে, তবে ৭ জুলাই তোরার জন্য প্রণীত সনদ, যার আইনি ভিত্তি প্রয়োজন, এখনও তুলে ধরা হয়নি। জনগণের স্বপ্ন ও রাজনৈতিক প্রত্যাশা পূরণে এই সনদ কার্যকর করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে, সমমনা আটটি দলের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবির আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, অন্যথায় কিছুই সম্ভব নয়।

    তদন্তের পরেও, যথাসময়ে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা এবং সকল প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে, দেশের নির্বাচনী পরিবেশ অনিশ্চিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদের আইনি বৈধতা অর্জনের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গণভোটের আয়োজন করে জনগণের মতামত নিশ্চিত করতে হবে। নামমাত্র আইনী পরিবর্তন না করে, যদি আরপিও পূর্বের মতোই রাখা হয়, তাহলে নির্বাচন প্রক্রিয়া অস্থির হবে। তিনি আশাবাদী যে, রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে, ও জোর দিয়েছেন যে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে না।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, অনেক সমমনা দল আগেই বিভিন্ন বৈঠকে একমত হয়েছিলেন, কিন্তু হঠাৎ এক দল তাদের ঐকমত্যে সরে আসায় কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পারস্পরিক বিরোধ দ্রুত সমাধান হবে। দাবী করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণভোটের সময়সীমা শিথিল হবে না, কারণ জনগণের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ ছোট হয়ে যাবে। নির্বাচনের দিন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আলোচনাই হবে, ফলে গণভোটের সময় আলাদা করে আয়োজন অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর জন্য একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ নভেম্বর ঢাকায় একটি বৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। মামুনুল হক বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সরকার সাত দিন সময় দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে সমাধান করতে সক্ষম হবে। দেশের স্থিতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ।

    এছাড়া, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, যেমন: ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, নেজামে ইসলামের মুফতি হারুন ইজহারসহ এফএএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও অন্যান্য শীর্ষ নেতারা।

    এর আগে সকালে, এই আটটি দল একসঙ্গে বৈঠক করে তাদের মূল অবস্থান ও কর্মসূচি চূড়ান্ত করে। এ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), খেলাফত আন্দোলন ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা। এই সভার ফলস্বরূপ, জনগণের জন্য এক ছিল কর্মসূচি ও দাবি। তারা উল্লেখ করেন যে, JULY সনদের আইনি কাঠামো স্পষ্ট না হলে, জনগণ আস্থা হারাবে এবং জাতীয় নির্বাচনও অনির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। তাই, এই দলগুলো মনে করে, সমঝোতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা আশাবাদী যে, একত্রে আলোচনা করে দ্রুত অচিরেই এই সংকট সমাধান হবে।

  • সংকটময় মুহূর্তে দেশ: নির্বাচনের গুরুত্ব ও দায়িত্বের পূর্ণ নিশ্চিতকরণ, সিইসির মন্তব্য

    সংকটময় মুহূর্তে দেশ: নির্বাচনের গুরুত্ব ও দায়িত্বের পূর্ণ নিশ্চিতকরণ, সিইসির মন্তব্য

    বাংলাদেশ এখন এক সংকটময় পরিস্থিতিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কীভাবে দাঁড়াবে, তা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের ফলাফলের ওপরে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যক্রমও দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    সোমবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনসার-ভিডিপির ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা মহড়া ও আনসার সদস্যদের সমাপনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথাগুলো বলেন সিইসি। তিনি আরও বলেন, শতভাগ সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

    সিইসি জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে মোট প্রায় ১০ লাখ মানুষ ভোটদানে অংশ নেবে। এতে সার্বজনীনতার জন্য কারাবন্দী ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, আনসার-ভিডিপি বাহিনীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বাহিনী দেশের বৃহত্তম স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা। চলমান পর্যায়ে তাদের আরও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষিত ও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পূর্বের ধারার বাইরে গিয়ে নতুন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এসোসিয়েটেড ইনটেলিজেন্স (এআই) এর অপব্যবহার করে যাতে নির্বাচন পবিত্রতা নষ্ট না হয়, সে জন্য সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান সিইসি। তিনি বলনে, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রক্রিয়া বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সবাই যেন সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার তাগিদ দেন।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে আনসারের প্রায় পাঁচ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মাধ্যমে নির্বাচনে নিরাপত্তা ও সঠিক পরিবেশ বজায় রাখতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, ১ লাখ ৪৫ হাজার নতুন আনসার সদস্যকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ চলমান রয়েছে, যা ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

    মেজর জেনারেল মাহমুদ আরও বলেন, ‘ইসি ( নির্বাচন কমিশন) সব ধরনের সহযোগিতা করবে। শুধু নির্বাচনী কার্যক্রমে নয়, নির্বাচন প্রচারণা ও জনসচেতনায়ও আমাদের সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাবে।’

  • তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

    তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

    রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলের স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকটি ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন এবং সভার সভাপতিত্ব করছেন। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বৈঠকের পর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি, বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানা গেছে, বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে বলা হয়েছে, গতকাল গুলশানে হোটেলে প্রবাসী নেতা কর্মীদের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন, নতুন সদস্যপদ গ্রহণ এবং দলের ওয়েবসাইটে দ্রুত একক তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা চলছে। তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, শিগগিরই দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নাম জানানো হবে, যারা আসনে নমিনেশন পাবেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আশেপাশে গুপ্ত স্বৈরাচার ও স্বার্থান্বেষী মহল ওত পেতে রয়েছে, তাই দলের ভেতরে রেষারেষি, বিরোধ ও বিরোধিতা এড়াতে সবাই সতর্ক থাকবেন। দলের স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে দল ও জোটের প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত আছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গুলশানের এই কার্যালয়ে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তারেক রহমান। প্রার্থীদের কাছে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, দল যেসব প্রার্থীকে ধানের শীষের প্রতীকের জন্য মনোনীত করবে, তাদের পক্ষে কাজ করতে হবে। প্রথম দফায় প্রায় দুইশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতএ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের প্রথম দিকে প্রায় দুইশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। সকল প্রার্থীকে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ না করে অনুগত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

    উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদ এবং তার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি জরুরি উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভাটি সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রেস ইউং থেকে জানা গেছে, এই সভায় দেশের সংকট সমাধানে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য এবং বিভিন্ন বিষয়ে সম্মতিতে পৌঁছানোর জন্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। এছাড়া, আলোচনা করা হয়েছে জুলাই মাসে প্রণীত জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার), এর প্রয়োগ, গণভোটের আয়োজন ও এর বিষয়বস্তু সংক্রান্ত বিষয়গুলো।

    অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বহু দিন ধরে চলমান আলোচনা সত্ত্বেও কিছু সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে। এছাড়া, গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং তার বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে, গণভোটের সময় নির্ধারণ, এর বিষয়বস্তু এবং জুলাই সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন মতের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

    সভার প্রধান বার্তা ছিল, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে দ্রুত আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা প্রদান করার। এই নির্দেশনা পেলে, সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় ক্ষয় না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, এ বিষয়ে সবাই একমত হন।

    সভার অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা।

  • ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোর ঝুঁকি: সরকারের নতুন নীতির ফলাফল

    ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোর ঝুঁকি: সরকারের নতুন নীতির ফলাফল

    সরকারের প্রস্তাবিত নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালার কারণে দেশের গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট সেবার খরচ অন্তত ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতারা। তারা মনে করছেন, এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের হাতে গেলে আরও ভালো হবে, কারণ এতে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এই প্রসঙ্গে তারা রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন।

    আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এই সব তথ্য জানান। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি গাইডলাইন খসড়া তৈরি করেছে, যেখানে নতুন নিয়মের আওতায় ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এফটিএসপি) জন্য বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর বিরোধিতা করে আইএসপিএবি জানায়, নতুন গাইডলাইনে রেভিনিউ শেয়ার ৫.৫ শতাংশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের জন্য ১ শতাংশ এবং এফটিএসপি প্রকল্পের জন্য ক্রয়মূল্য ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, “সরকার টেলিযোগাযোগ খাতের উপর থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং এটি জনগণের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। সরকার ভুল পথে হাঁটছে।” তিনি তুলনা করে দেখান, বর্তমানে বিদ্যমান নীতিতে সরকারের আয়ের হার ২১.৪৫ শতাংশ হলেও নতুন নীতিতে তা বেড়ে ৪০.২৫ শতাংশ হবে। তিনি বলেন, এতে শহর ও গ্রামে বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

    আমিনুল হাকিম আরো অভিযোগ করে বলেন, “বৈষম্য আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার এই বিষয়গুলো বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এখন আবার বৈষম্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ইন্টারনেটের দাম কমানোর কথা বললেও, সরকার নিজে দাম বাড়াচ্ছে।”

    তাদের দাবি, স্টারলিংকের জন্য সরকার লাইসেন্স ফি ধার্য করেছে ১০ হাজার ডলার (প্রায় ১২ লাখ টাকা), তবে দেশের আইএসপিদের জন্য সেটি ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। তিনি প্রশ্ন করেন, “স্টারলিংক সার্ভিসের জন্য এত সুবিধা কেন দিচ্ছে সরকার?”

    সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি আরও জানায়, প্রস্তাবিত নতুন গাইডলাইনে মোবাইল অপারেটরদের জন্য ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকচেস এবং লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগের মাধ্যমে ফিক্সড কানেক্টিভিটির স্পষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা দেশের স্বাভাবিক, দেশীয় ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আইএসপিগুলোর জন্য চরম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়বে, বলে জানিয়েছে তারা।

  • নামাজরত বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে আটক ও তিন পুলিশ আহত

    নামাজরত বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে আটক ও তিন পুলিশ আহত

    পাবনা সদর উপজেলায় রোববার রাতে নামাজের সময় একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে যেখানে এক ছেলে নিজের বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করতে গেলে তার ছুরিকাঘাতে তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি ঘটে চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গী গ্রামে, যেখানে নিহত নিজাম প্রামাণিক (৬০) নামের একজন কৃষক নিজের ঘরে এশার নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎ করে তার ছেলে মোস্তফা প্রামাণিক (৩৫) ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং হাতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে পরিবারের লোকজন তাদের সঙ্গে কোনো শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে লাশ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

    অভিযুক্ত মোস্তফাকে আটক করতে গেলে তিনি ছুরিকাঘাত করেন তিন পুলিশ সদস্যকে—এসআই আবুবকর সিদ্দিক, জিয়াউর রহমান ও আবু রায়হান। জিয়াউর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য দু’জনেরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্ধকারে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার মাদকের টাকার জন্য বাবার সঙ্গে ঝগড়া চলত। টাকা না দিলে বাড়িতে ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপকর্ম করত। মাসখানেক আগে সে বড় ভাইকে মারধর করেছিল। আজও বাবার কাছে মাদকের জন্য টাকা চাচ্ছিল, না পাওয়ায় তাকে হত্যা করে।

    পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “নিহত ব্যক্তির লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • অভিনেতা হাসান মাসুদ হাসপাতালে ভর্তি, গুরুতর অসুস্থ

    অভিনেতা হাসান মাসুদ হাসপাতালে ভর্তি, গুরুতর অসুস্থ

    জনপ্রিয় অভিনেতা ও সাংবাদিক হাসান মাসুদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তাঁর সম্প্রতি অসুস্থতার খবর জানানো হয়।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা নিশ্চিত করেন, তিনি ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি তার হার্টেও লঘু আঘাত ধরা পড়েছে।

    হাসপাতালটির পরিচালক ডা. আশিষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, হাসান মাসুদ ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার হার্টের লঘু অ্যাটাক হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিউরোলোজিস্ট, কার্ডিওলোজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সাধারণত এই ধরনের রোগীদের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, এরপর উদ্ধৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।

    অভিনয়ে দীর্ঘদিন থেকে অপ্রকাশিত থাকলেও সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন, অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে তার মন্তব্যের জন্য। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেন, আর অভিনয়ে ফিরবেন না; বরং কোনো স্থায়ী চাকরি খুঁজছেন বলে জানান।

    তার ভাষ্য, আমি এখন একটা পেশা খুঁজছি। সেটা যে ক্ষেত্রেই হোক—সাংবাদিকতা, প্রশাসন বা অন্য কিছু—আমি অপেক্ষা করছি যেন হারিয়ে যেতে পারি পুরোপুরি।

    ১৯৮৫ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। সাত বছর পরে, ১৯৯২ সালে তিনি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

    সাংবাদিকতা থেকে সরে আসার পর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্মিত ‘ব্যাচেলর’ ছবি দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর তিনি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমায় অভিনয় করেন এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটকে কাজ করে দর্শকদের মনে স্থান করে নেন।

    তার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে – হাউসফুল, ট্যাক্সি ড্রাইভার, এফডিসি, বউ, খুনসুটি, গ্র্যাজুয়েট, রঙের দুনিয়া, আমাদের সংসার, গনি সাহেবের শেষ কিছুদিন, বাতাসের ঘর ও প্রভাতী সবুজ সংঘ।

  • চেন্নাইয়ে রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি, পুলিশ সতর্ক

    চেন্নাইয়ে রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি, পুলিশ সতর্ক

    তামিল সিনেমার দুই জনপ্রিয় তারকা রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলা হতে পারে বলে ভারতের চেন্নাই পুলিশের কাছে হুমকি এসেছে। একইসঙ্গে সেখানকার একজন রাজনীতিবিদের বাড়িও লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালাচ্ছে। শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্কের ছায়া।

    রোববার সকালে ট্যামিলনাড়ু পুলিশের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে পাঠানো একটি ইমেইলে দাবি করা হয়, তাদের বাড়িতে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে। এই হুমকি পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বম্ব ডিসপোজাল দল ও অনুসন্ধানী স্কোয়াডের মাধ্যমে রজনীকান্ত, ধানুশ এবং ঐ রাজনীতিবিদের বাড়ি তল্লাশি করে। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর পুলিশ নিশ্চিত করে, কোথাও কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এটি ছিল একটি ভুয়া হুমকি।

    এর আগে, অক্টোবরে অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণন, রাজনীতিক ও অভিনেতা এস. ভি. শেখর এবং সুরকার ইলাইয়ারাজারের স্টুডিওতেও একই ধরণের হুমকি এসেছিল— যা তদন্তে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

    অক্টোবরের শুরুর দিকে অভিনেতা বিজয়ের বাড়িতেও এ ধরনের বোমা হুমকির ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ একটি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীদের মতে, এই ইমেইল ও ফোনকলের মাধ্যমে অন্যাগুলি সৃষ্টি ও আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল।

    চেন্নাই পুলিশ জানিয়েছে, ডিপিও ও গ্রেটার চেন্নাই সিটি পুলিশের যৌথ টিম এই হুমকির উৎস শনাক্তে কাজ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত এসব ঘটনার পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য জানতে পারে নাই।