Blog

  • আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    আ’লীগের নিষিদ্ধ কর্মসূচি ঠেকাতে আজ রাজপথে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি, যা আওয়ামী লীগ গত ১৩ নভেম্বর ঘোষণা করেছিল। এই কর্মসূচিকে বাধা দেওয়ার জন্য, চারঠা দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আজ রাজপথে উপস্থিত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকলে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির সমস্ত নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী রাস্তায় নামবেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদ বিরোধী ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে একত্রিত করে শক্তি প্রদর্শন করা।

    অতীতে যেখানে আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল, সেখানে আজ এই দলগুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে এবং জনগণকে রাজপথে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির সফলতা ও গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং আট দলের নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

  • গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    গণভোটের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি: গোলাম পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে গণভোটের বিষয়ে যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তাতে দেশবাসীর প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়ে স্বচ্ছ ও সংকটমুক্ত নির্বাচন পূর্বাভাসের আশা করছিলেন সাধারণ মানুষ, কিন্তু আসলে সেটি সম্পন্ন হয়নি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যদি জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোটের জন্য কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যালটপেপার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে “হ্যাঁ” বা “না” ভোটের পরিস্থিতি কী হতে পারে তা স্পষ্ট নয়। গণভোট ও নির্বাচনের ব্যালটের প্রকৃতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে ভাষণে যথেষ্ট ব্যাখ্যা বা স্পষ্টতা ছিল না।

    তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ে জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ও এ সংক্রান্ত আদেশের ওপর ভিত্তি করে নভেম্বর মাসে গণভোটের আয়োজনের যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে দেশের মধ‍্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণে ঝামেলা ও বিভ্রান্তি বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

    গেল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ওই সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বস্ত দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামোতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় মগবাজারের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে অন্যরা ছিলেন— সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ নেতা সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তর বিভাগের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, দক্ষিণ বিভাগের নায়েবে আমির অ্যাড. ড. হেলাল উদ্দিন ও মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

    গোটা আলোচ্য বিষয় হলো, দুইটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে, যা দেশের বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে নেতৃবৃন্দ বিশ্লেষণ করেছেন।

  • বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানাল

    আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সভা থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তাঁরা বিশেষ করে ঘোষণা দেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপি তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ব্যক্ত করে।

    অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা গুলশানে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

    সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত বলেন। তিনি বলেন, ‘আজকের ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনের দিন গণভোটের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগের জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশা করি, সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

    ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, ১৭ অক্টোবর ঐক্যমতের ভিত্তিতে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সংবিধানের ওপর জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য গণভোটের আয়োজন ও শিগগিরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাউদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

  • গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    গণভোট ‘অপ্রয়োজনীয়’, বলছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

    প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জুলাই মাসে সরকারের সিদ্ধান্তে গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তবে, কয়েকটি বাম ঐক্যধারার রাজনৈতিক দল এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং সংবিধানের বাইরেও বলে মত প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার ভাষণের পর তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলো অবৈধ এবং সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

    উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেন, তিনি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন, যা রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরে নিশ্চিত হয়েছে। তবে সবাই এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বাসদ মার্কসবাদীর সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, “রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর এবং আদেশ জারি করা সংবিধানের বৈধতা না থাকায়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবৈধ ও সাংঘর্ষিক।” তিনি আরো যোগ করেন, “গণভোট সম্পূর্ণরূপে সংবিধানবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয়, এর কোনও বাস্তবায়ন হওয়া উচিত না।”

    বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐকমত্য কমিশনের প্রধান একই ব্যক্তি, এটা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। গণভোটের প্রয়োজন নেই, এটা অর্থনৈতিকভাবে অসমর্থ এবং গরিব দেশে এর কোনও কোনোটাই দরকার নেই।“ তিনি বললেন, “এই গণভোট অপরিহার্য নয়, এর কোনও আইনি ভিত্তিও নেই। জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল না। এটির কোনও মূল্য নেই এবং সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের কোন বাস্তবতা নেই।”

    ফিরোজ আরও যোগ করেন, “বর্তমানে জনগণের মনোযোগ নির্বাচন কমিশন ও আগামী ভোটের দিকে, গণভোটে নয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তৃতায় কোনও মন্তব্য না থাকা উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক দলগুলো এই সংক্রান্ত আলোচনা অগ্রাহ্য করেছেন এবং এখন মূল মনোযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ায়।“

    বাসদ মার্কসবাদীর মাসুদ রানা বলেন, “নোট-অফ-ডিসেন্টও এড়িয়ে গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাও উপেক্ষা করা হয়েছে। চারটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটিতে সবাই একমত হলেও, একটিতে ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগও থাকছে না। ফলে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

    সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “সংবিধানে গণভোটের উপায় না থাকায় এখন এ বিষয়ে কোনো আলোচনা প্রয়োজন নেই। বর্তমান সরকারের কাছ থেকে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, গণভোটের দরকার নেই।”

    প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “গণভোট অপ্রয়োজনীয় এবং এর জন্য সংবিধানেও কোনও স্থান নেই। জাতীয় নির্বাচন বাদ দিয়ে অন্য কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাগুলো অগ্রহণযোগ্য, এসবের পক্ষে সংগঠন বা ব্যক্তির কোন সমর্থন নেই।”

    অবশেষে, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, “বর্তমানে সরকার এই বিষয়ে মতামত দিচ্ছে না এবং তারা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। এটা অগত্যা যে কোনও প্রতিক্রিয়া জারি করার আগে প্রক্রিয়াটি সবার কাছে পরিষ্কার করা দরকার।”

  • গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    গণভোটের চেয়ে আলু চাষিদের ন্যায্যমূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান

    জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ বছর কৃষকরা সম্ভবত আলু নিয়ে বেশ বিপাকের মুখে পড়েছেন। এক একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গেলে রাষ্ট্রের সব সম্পদ ব্যয় করে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাবে। এই পরিস্থিতিতে, চাষিদের জন্য আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া খুব জরুরি, গণভোটের চেয়ে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল যদি মনে করে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্বল এবং ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারে; বা জনগণের ভোটে বিএনপি জয় যেন রুখে দেওয়া যায়; তাহলে তা নিজের জন্য ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করলে উল্টো ফল হতে পারে।

    রাজপথের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টায় লিপ্ত, দয়া করে সেটা বন্ধ করুন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারীদের প্রতি তিনি সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।

    তিনি আরো বলেন, বেশ কিছু দল বর্তমানে বিভিন্ন অজুহাতে জাতীয় নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা নিয়ে সুযোগ নিয়ে তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চাকা ধাক্কা দিতে চাইছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, ভোটের মুখোমুখি হলেও দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে।

    তারেক রহমান আলু চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন। এ বছর আলুর উৎপাদন ও সংগ্রহে খরচ প্রায় ২৫ থেকে ২৭ টাকা কেজিতে পড়েছে। কিন্তু এখন চাষিরা বাজারে এই আলু বিক্রি করতে পারছেন অর্ধেক দামে বা তেমন লাভ নয়। ফলে, এ বছর কৃষকরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। রাষ্ট্রের জন্য এই আলুর ভাণ্ডার সংগ্রহ ও বিক্রির জন্য বাজেটে বিশাল টাকা ব্যয় করতে হবে, যা চাষিদের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন—বিশ্বের মধ্যে সম্ভবত বাংলাদেশেই সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়। যদিও বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়টি যেন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।

    সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মৌলিক সংস্কার শুরু করেছিলেন, তবে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি তারেক রহমানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনার পিতার কাজের দিক থেকে শুরু করে অগ্রগতি আরো এগিয়ে নিয়ে যান; আমরা সব সময় আপনাকে সহযোগিতা করব।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

    সভাপতিত্ব করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সাত্তার পাটোয়ারী। এর পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, এপি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

  • চার দিনে ২০ যানবাহনে আগুন, ৫০টির বেশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে

    চার দিনে ২০ যানবাহনে আগুন, ৫০টির বেশি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে

    রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এ সব ঘটনার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকদিন ধরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের নামে নাশকতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আসছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার আগেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর ফলে ঢাকাজুড়ে নানা অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত চার দিনে ঢাকাসমলিত বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং ৫০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক স্থানেই সন্ধ্যা পর্যন্ত অবিরত অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা দেখা গেছে। অন্যদিকে, গত ১০ দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণগ্রেফতার চালিয়ে মোট ১৯৫জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই আটকদের মধ্যে বেশির ভাগই নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনায় জড়িত বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, ১১ ও ১২ নভেম্বরের অভিযানে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা অনিরাপদ পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রের অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্থানে একত্রিত হয়ে নাশকতা কর্মকাণ্ড চালাতে চেয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে গজারিয়া, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মিরপুর, গাজীপুরসহ অন্যান্য এলাকা। এর মধ্যে অনেকজনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের পদে থাকেন। ডিবির ধারণা, এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনমনে ভয়াবন্ত আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ১৩ নভেম্বরের দিন ঢাকায় নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যাতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তবে, এই অস্থিরতা উর্ধ্বমুখী থাকায় রাজনীতি ও সাধারণ জীবনপ্রবাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০টি যানবাহনে আগুন লাগানো এবং অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আশুলিয়া, গাজীপুর, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় এ ঘটনা বেশিরভাগই ঘটে। বুধবার ভোরে আশুলিয়ায় আলীফ পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। একই দিন গাজীপুরের বাসন ও কাশিমপুর থানার বাসগুলোতে আগুন ধরানো হয়। মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় আলম এশিয়া পরিবহনের বাসে আগুন দিয়ে একজন হেলপার মারা যান। এর আগে, সোমবার বাড্ডা ও নতুনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা জুড়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকালে আরো চারটি স্থানে এই ধরনের ঘটনা দেখা গেছে। এর সাথে সাথে ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে দুটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ এবং শাহবাগ, ধানমন্ডি, মিরপুর, ফার্মগেট ও মালিবাগের মতো এলাকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ১ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর ১৫টি স্থানে ২৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেগুলো মূলত দেশীয় তৈরি পটকার মতো সরল বিস্ফোরক। তিনি বলেন, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের জন্য পুলিশ তৎপর। তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও প্রকাশ্য সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে এবং রাজনীতি বিভক্তি বৃদ্ধি পায়, তাহলে বিপদ আরও সংগঠিত হবে। তাদের মতে, সহিংসতার এই সংস্কৃতি থামানোর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দুর্বৃত্তায়ন থেকে বিরত থেকে সংলাপ ও সমঝোতার পথে এগোানো। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও বলেন, পুলিশ সব সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ঠেকানোর জন্য কঠোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এ সব ঘটনায় বেশ কিছু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও গ্রেফতার হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন।

  • ডিপজলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত শুরু পিবিআইয়ের দ্বারা

    ডিপজলের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত শুরু পিবিআইয়ের দ্বারা

    অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও তার সহযোগী মো. ফয়সালের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগের নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ঢাকার আদালতে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর কাছে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনাটি ঘটেছে মনোয়ারের স্ত্রী রাশিদা আক্তারের দাবি অনুযায়ী।

  • ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়াল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

    ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়াল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ

    আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য উপ-কমিটির সদস্য এবং ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়াল ও তাঁর স্ত্রী সবিতা আগারওয়ালের আয়কর নথি জব্দের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা তিনি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা তদন্তযোগ্য আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ সাব্বির ফয়েজ এ নির্দেশ প্রদান করেন।

    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে দুইটি আলাদা দরখাস্তে এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত এই আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, দিলীপ কুমার আগারওয়াল অসাধু উপায়ে অবৈধভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন ও তা ভোগদখলে রেখেছেন। এছাড়া তিনি নিজের ও তাঁর স্বার্থবিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এসব অর্থ তিনি দুর্নীতি, ঘুষ, এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে দুদকের অভিযোগ।

    অন্য আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর স্ত্রী সবিতা আগারওয়ালও অসাধু উপায়ে ৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। তার নামে ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পাওয়া গেছে আটটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন। এসব অর্থও দুর্নীতি, ঘুষের টাকা ও মানি লন্ডারিংয়ে ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    উভয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের স্বার্থে তাদের আয়কর পর্যালোচনার জন্য এসব নথি তদন্ত কর্মকর্তার হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন আদালতের অনুমোদন ও নির্দেশনা, যাতে তাদের আয়কর নথিগুলি জব্দ করে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

  • একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাপ্রধানের সক্ষমতা অর্জনের আহবান

    একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাপ্রধানের সক্ষমতা অর্জনের আহবান

    সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে যাতে আমরা একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জগুলির সাথে সামনের দাঁড়াতে পারি। তিনি সম্প্রতি রাজশাহী সেনানিবাসে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট’ এর ২০তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহবান জানান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশের স্বার্থে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া, তিনি অধিনায়কদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, পেশাদারী দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোকপাত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আধুনিক আর্মির বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যার মধ্যে রয়েছে এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, বগুড়া এরিয়া কমান্ডার এবং অন্যান্য উচ্চস্তরের সেনা কর্মকর্তা। এ অনুষ্ঠানে সব ইউনিটের অধিনায়ক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের আগের দিন, সেনাবাহিনী প্রধানকে সম্মেলন কক্ষে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানিয়ে অভ্যর্থনা জানান আর্টডকের জিওসি, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড্যান্ট, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং বগুড়া এরিয়া কমান্ডার। এর মাধ্যমে, সেনাবাহিনী নতুন করে নিজের প্রস্তুতি ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে তারা দেশের জন্য ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।

  • বিটিভি রাজনীতির হাতিয়ার নয়, সংস্কারের পথে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে: মাহফুজ আলম

    বিটিভি রাজনীতির হাতিয়ার নয়, সংস্কারের পথে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে: মাহফুজ আলম

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে বিটিভিকে স্বায়ত্তশাসিত করার কাজ চলমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিটিভিকে পুনর্গঠিত করা হচ্ছে, যাতে এটি কোনো দলের বা রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে।

    মাহফুজ আলম আরও বলেন, বিটিভিতে নতুন করে আরও আধুনিক রিয়েলিটি শো এবং প্রতিযোগীদের নিয়ে নতুন অনুষ্ঠান শুরু করা হবে, যা ভবিষ্যতেও চালু থাকবে। এখন থেকে বিটিভি হবে সবার, সব দলের এবং সব মানুষের জন্য।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শাপলা হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নতুন বাংলাদেশে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এটি একটি সাংস্কৃতিক উপলক্ষ নয় শুধু, বরং তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন দিগন্তের সূচনা। এটি তরুণদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভা প্রকাশের জন্য একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোর ও তরুণরা নির্বাচিত হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল বা অর্থনৈতিক অবস্থা নির্বিশেষে এই সব তরুণরা নতুন বাংলাদেশের পতাকা বহন করবে, নিজেদের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জুলাই মাসের শহীদ ও আহতদের স্মরণে এই প্রতিযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও তিনি 강조 করেন।

    মাহফুজ আলম বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশকে একক ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ বহুবিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যের দেশ, কিন্তু এ বৈচিত্র্যের পূর্ণ সৌন্দর্য আগে আমরা উপভোগ করতে পারিনি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ অনেকাংশে বাধা পেয়েছে, যার ফলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ধরনের স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিবাদ নেমে আসে।

    তিনি আরও বলেন, এখন থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোতেও সকলের স্থান নিশ্চিত করতে হবে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সংস্কৃতি হবে শক্তির উৎস। অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য ও মানবতার শান্তিপূর্ণ মিলনের মধ্য দিয়েই আমাদের সভ্যতা বিকাশ পাবে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সম্পদ ও অনন্য অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই অনন্যতার অনুসরণে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে accelerated হয়ে চলছি।

    ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহফুজ আলম আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতিভা, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী শক্তি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই-তিন সপ্তাহের সময়সীমায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুনভাবে মানেবাস জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি আশা করেন, তরুণ প্রতিভাবানরা এই সৃজনশীল যাত্রা অব্যাহত রাখবে এবং দেশের গৌরব আরও বৃদ্ধি করবে। তিনি বিশেষ করে জোর দেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের এই যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, নতুন বাংলাদেশের জন্য এই অঙ্গীকার ও মানসিকতা বজায় রাখা জরুরি।