Blog

  • রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন

    রুনা লায়লার মৃত্যু নিয়ে অদ্ভুত গুজব ছড়িয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন

    উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ করে ছড়িয়ে পড়ে। এই অপ্রত্যাশিত গুজবের কারণে তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি সরাসরি এই বিভ্রান্তি বাতিল করেন। রুনা লায়লা বলেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং ভালো আছেন। এই গুজবের জন্য তিনি খুবই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার প্রিয় ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে আমি জানাতে চাই, আমি এখন সুস্থ আছি। এটি একটি ভিত্তিহীন খবর যা আমাকে এবং আমার পরিবারের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। আমি অনুরোধ করছি, এই ধরনের খবর শেয়ার করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করুন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে রয়েছি এবং ‘মিনার-ই-দিল্লি’ পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠান অংশ নিচ্ছি। এতে আমি শান্ত, সুস্থ ও সুখী আছি।”

    প্রসঙ্গত, রুনা লায়লার জন্ম ১৯৭০ সালে পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে উর্দু ভাষার হাম দোনো চলচ্চিত্রে ‘নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা’ গান দিয়ে তিনি সংগীতজগতে প্রবেশ করেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান টেলিভিশনে নিয়মিত পরিবেশনা করতেন। ভারতেও তার খ্যাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে ‘ও মেরা বাবু চেল চাবিলা’ ও ‘দামা দম মাস্ত কালান্দার’ গানের মাধ্যমে। তার অসাধারণ কণ্ঠস্বর ও সংগীতের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের অধিক মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

  • তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বিজয় রেকর্ড ভেঙেছেন, প্রথমবারের মতো ভোটে জয় লাভ করে মুখ্যমন্ত্রী

    তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বিজয় রেকর্ড ভেঙেছেন, প্রথমবারের মতো ভোটে জয় লাভ করে মুখ্যমন্ত্রী

    নিজের প্রথম নির্বাচনের সেটিই ছিল বিরাট এক সফলতা। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিতে পা রাখতে গিয়ে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি এখন তামিলনাড়ুর প্রথম অভিনেতা-নেতা, যিনি নিজের প্রথম নির্বাচনে জয় লাভ করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এই ঘটনা এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার একজন তারকা অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর থেকে এই চিত্রটি দেখা যায়নি, কারণ অধিকাংশ চলচ্চিত্র তারকা বা অভিনেত্রী রাজনৈতিক সফলতা অর্জন করতে পারেননি। এমজি রামাচন্দ্রান জন্মগতভাবে রাজনীতি শুরু করেননি, তবে তিনি তার দলের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়েন। এরপর বেশ কিছু চলচ্চিত্র তারকা নিজেকে রাজনীতির সমর্থকদের জন্য প্রস্তুত করলেও, তারা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো উচ্চ পর্যায়ে যেতে পারেননি। জয়ললিতা, যারা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন, তিনি একসময় এআইএডিএমকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও, তিনি নিজে কোনো নতুন দল তৈরি না করে ঐ দলের মধ্যেই থেকে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তবে তিনিও এরপর আর কখনো এই চূড়ান্ত পদে পৌঁছাতে পারেননি।

    বিজয় এখন সেই ঐতিহ্যকে ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নিজের দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে) এর প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এই নির্বাচনে তিনি নিজে বিজয়ী হয়েছেন, পাশাপাশি তার দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে বিরাট সাফল্য দেখিয়েছে। তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট ২৩৪ আসন রয়েছে, যেখানে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ১১৯ আসনে জয়প্রাপ্ত হতে হয়। তবে এই ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্পষ্ট করে দেয় যে বিজয় তার দলসহ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। পররাষ্ট্রে বিধানসভা সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য দল বা জোটের সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করতে হবে। তবে এই ফলাফল নিশ্চিত করে দেয় যে, বিজয় ও তার দল এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

    এটা সম্ভব হয়েছে মূলত এমজি রামাচন্দ্রান রাজনীতির কৌশল অনুসরণ করে। তিনি তার বিশাল ভক্তশ্রেণিকে ভোটার ও রাজনীতির কর্মী হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন। বিজয়ও একই পথে হাঁটছেন। ২০০৯ সালে তিনি তার ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন, বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ে তোলেন। এটি সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এই দলের সমর্থন নিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি এই দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজে একটি স্বতন্ত্র দল গঠন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নতুন দলের নাম রেখেছেন তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম, এবং তিনি সেই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।

    এভাবে একদিকে যেমন তিনি দর্শকের বিনোদন দুনিয়া থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন, অন্যদিকে এমজি রামাচন্দ্রনের মতো কৌশল অবলম্বন করে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। এটি তামিলনাড়ুর রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়, যেখানে প্রথমবারের মতো একজন চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি নির্বাচনে জয় লাভ করে রাজ্যের শীর্ষ পদে উঠছেন।

  • ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ ফুটবলে এসবিআলী সেমিফাইনালে

    ঢাকার অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ ফুটবলে এসবিআলী সেমিফাইনালে

    বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরাম এর উদ্যোগে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহযোগিতা এবং বসুন্ধরা কিংসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বসুন্ধরা কিংস বিএফএসএফ অনূর্ধ্ব-১৪ একাডেমী কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে এসবিআলী ফুটবল একাডেমী খুলনা।

    সোমবার (৪ মে) ঢাকার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এসবিআলী ফুটবল একাডেমী খুলনা এবং হরিয়ান ফুটবল একাডেমী রাজশাহী। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে এসবিআলী ক্লাব ৩-১ গোলে হারায় রাজশাহী বিভাগের হরিয়ানা একাডেমিকে। গোলগুলো করেন ইমরান, শিশির এবং অন্তর। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এসবিআলী ফুটবল একাডেমীর ইয়াসিন।

    আগামী ৬ মে বিকেল ৪টায় সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

    এসবিআলী ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন আকাশ, হামিম, হোসাইন, জামিল, রিফাত, ইয়াসিন, শিশির, অন্তর, সুজন, সাব্বির, অংকন, বাইজিদ, সৌরভ, অনিক, রোহিত, তাজ, ইমরান, আবির, নাফিস, রাফি ও আইয়ান। দলের সঙ্গে রয়েছেন টিম ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, প্রধান কোচ শহিদুল ইসলাম এবং সহকারী কোচ নুরুল ইসলাম শিমুল।

  • বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ৮ নম্বরে বাংলাদেশ

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ জুনের র‍্যাঙ্কিং আপডেটে দেখা গেছে, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল এক ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থান অর্জন করেছে। এই উন্নতি এসেছে বাংলাদেশের বার্ষিক রেটিং হালনাগাদে।

    বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, শীর্ষে রয়েছে ভারত, যারা সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে এবং তাদের পয়েন্ট এখন ২৭৫। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড (২৬২ পয়েন্ট), আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (২৫৮ পয়েন্ট)। আইসিসির এই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ সাত দলের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

    নিউজিল্যান্ড চার্থে রয়েছে ২৪৭ পয়েন্টের সঙ্গে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা আছে পঞ্চম স্থানে (২৪৪ পয়েন্ট), পাকিস্তান ষষ্ঠ (২৪০ পয়েন্ট), এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সপ্তম স্থানে (২৩৩ পয়েন্ট)।

    অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ৬ পয়েন্ট কমিয়ে নবম স্থানে নেমে গেছে। তুলনায়, বাংলাদেশ ২২৫ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে অষ্টম স্থানে, যেখানে আগের আপডেটে তাদের পয়েন্ট ছিল কম। এই ফলাফলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে গেছে পাকিস্তানকে, যার পয়েন্ট ২৪০।

    বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ এই আপডেটে মোট ১ পয়েন্ট অ্যাড করেন।

    এছাড়া, ১০ম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান (২২০ পয়েন্ট), যেখানে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড যথাক্রমে অনির্বাচিত অবস্থানে থাকছে।

    অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ উন্নতি করে ১৩তম স্থানে উঠেছে, যেখানে তারা এখন ৬ পয়েন্ট বেশি অর্থাৎ ২১১ পয়েন্ট। তারা এই অবস্থানে এসে নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ডের বাইরে চলে গেছে। উভয়ে যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ নম্বরে অবস্থান করছে।

  • শাহিন আফ্রিদি: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান

    শাহিন আফ্রিদি: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তান

    বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি যেন পাকিস্তানের জন্য আর শুধু একordinary দ্বিপক্ষীয় ম্যাচ নয়, এটি এখন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বৃহৎ অভিযানের একটি অংশ। মিরপুরে প্রথম টেস্টের আগের সংবাদ সম্মেলনে শাহিন শাহ আফ্রিদি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, পাকিস্তান এই সিরিজের মাধ্যমে নিজের লক্ষ্য বেশ বড় করে দেখছে। শুধু সিরিজ জেতা নয়, লম্বা পথ অতিক্রম করে ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

    ৮ মে, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শাহিন বলেন, ‘আমরা দল হিসেবে অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের এখনকার অবস্থান নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই।’

    শাহিনের ভাষ্য, ‘আমরা শুধুই একটি সিরিজের জন্য ভাবছি না, বরং টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথাও ভাবছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কিভাবে ফাইনালে পৌঁছানো যায় এবং সেখানে ভালো খেলতে পারা। আমরা সবাই জানি, আমাদের এই ক্রিকেটে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।’

    প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের টেস্ট রেকর্ড বেশ ভাল না থাকলেও শাহিন তা মান্য করে বললেন, ‘আমরা যদি পয়েন্ট টেবিলে ছয়, সাত বা আট নম্বর স্থানে থাকি, তা মোটেও আমাদের মানানের সঙ্গে যায় না। আমাদের উন্নতির অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। শেষ সিরিজে আমরা হয়তো ভালো খেলেছি, কিন্তু সেটি আমাদের ২-০ ব্যবধানে জিততে পারেনি।’

    শাহিনের মতে, পাকিস্তান দরকার এখন টেস্ট ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগ দেয়া—কারণ এই পাঁচ দিনের ক্রিকেট আধুনিক যুগে দলের সামগ্রিক মান উন্নত করে। বললেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষে থাকা। যদি টেস্টে ভালো করি, তাহলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এজন্য আমাদের ফিটনেসের দিকেও আরও বেশি যত্ন নেওয়ার দরকার।’

    ড্রেসিংরুমের আনুষ্ঠানিক বার্তার মধ্যে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ অবশ্যই একই বার্তা দিয়েছেন। শাহিন জানিয়েছেন, সরফরাজ আফ্রিদি বলেছেন, ‘যদি টেস্টে ভালো করি, তবে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ক্রিকেটও উন্নত হবে। সবাই একমত, এই ক্রিকেটের উন্নতি হলে বাকি সংস্করণগুলোতেও ভালো ফলাফল সম্ভব।’

    সরফराजকে পাকিস্তানের প্রধান কোচ হিসেবে পেয়ে শাহিন খুবই আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘সরফরাজ ভাই যখন এই দায়িত্ব পান, আমরা সবাই উত্সাহিত। তিনি একজন অভিজ্ঞ কোচ, আমাদের খেলতে জানতে চান ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। আমরা তাঁকে অত্যন্ত মূল্য দেই।’

    শাহিন আরও যোগ করেন, ‘উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য সরফরাজই সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প। তিনি আমাদের সাথে দীর্ঘদিন খেলেছেন, অধিনায়কের সময়ও দুরন্ত পারফর্ম করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।’

    বাংলাদেশের বিপক্ষে অতীতের রেকর্ড বা ফলাফল নিয়ে বেশি ভাবতে রাজি নন শাহিন। তার মনোযোগ এখনো বর্তমান ও ভবিষ্যতে, যেখানে তার লক্ষ্য হচ্ছে পাকিস্তান ক্রিকেট কিভাবে উন্নতি করে, সেটাই। তিনি বলেন, ‘অতীত অতীতই। আমি ব্যক্তিগতভাবে অতীতে বসে থাকতে চাই না। আমাদের এখন জরুরি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়’।

  • শাহিন আফ্রিদি বললেন, নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ

    শাহিন আফ্রিদি বললেন, নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ

    জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন নাহিদ রানা, যা গত দুই বছর ধরে চলমান। যদিও সাদা বলের ক্রিকেটে তার ধারাবাহিকতা কম থাকলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তিনি একজন সফল এবং সঙ্গত ধারার গতি তারকা। সম্প্রতি পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করেন, যা তার ক্রিকেটার জীবনকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। এখন তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    আজ মিরপুরে পাকিস্তানের হয়ে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন শাহিন আফ্রিদি। সেখানে তিনি জানান, নাহিদ রানা বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। শাহিন বলেন, আমি ওয়ানডে সিরিজের আগে শন্তি টেইটের সঙ্গে কথা বলেছি, এবং মনে করি নাহিদ রানা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় সম্ভাবনা। আমি আশাবাদী, বাংলাদেশ এই צעত্রক ক্রিকেটারকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবে।

    শাহিন আফ্রিদি একটু হাস্যরস করেও জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন, নাহিদ রানা খুব ভালো ফর্মে থাকলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করবে না। তিনি বলেন, খুব ভালো ফর্মে আছে, তবে আমাদের বিপক্ষে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না (হাসি)।

    অতীতে টেস্ট সিরিজ হারের প্রসংগে আফ্রিদি বলেন, অতীতকে মনে রাখা ঠিক নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি অতীতের ভুলগুলো পছন্দ করি না। আমাদের লক্ষ্য এখন এবং ভবিষ্যত, আমরা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

    অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা, কেবল একটি সিরিজ জেতা নয়। তিনি বলেন, দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়, এবং আমরা এই লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রস্তুত।

  • বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনের মনোনয়ন শেষ তারিখ নির্ধারিত ১৬ মে

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনের মনোনয়ন শেষ তারিখ নির্ধারিত ১৬ মে

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেটের পরিচালন ব্যবস্থা আরও কার্যকর এবং গণতান্ত্রিক করতে নতুন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে, গঠনতন্ত্রের ১২.৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সব ক্যাটাগরি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন ক্যাটাগরি থেকে মোট ১৯২ জন কাউন্সিলরকে মনোনয়নের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে, এবং এই মনোনয়নপ্রক্রিয়ার শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৬ মে।

    বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচন তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ক্যাটাগরি হলো জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা, যেখানে ৭১ জন কাউন্সিলর মনোনীত হন। এই ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হন, যাঁরা বিভিন্ন বিভাগ থেকে আসেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে প্রত্যেকটি বিভাগে ২ জন করে পরিচালক নির্বাচন হবে, অন্য বিভাগগুলো থেকে একজন করে। এর ফলে, প্রতিটি বিভাগের কাউন্সিলররা তাদের নিজ বিভাগে পরিচালক নির্বাচন করবেন।

    দ্বিতীয় ক্যাটাগরি হলো প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্লাব, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ। মোট ৭৬ জন কাউন্সিলর এই ক্যাটাগরি থেকে মনোনীত হন। প্রতিটি ক্লাব থেকে একক কাউন্সিলর নির্বাচন হয়, যেখানে প্রিমিয়ার বিভাগে ১২ জন, প্রথম বিভাগে ২০ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ২৪ জন, এবং তৃতীয় বিভাগে ২০ জন কাউন্সিলর থাকবেন। এই কাউন্সিলররাই ভবিষ্যতে ১২ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন।

    তৃতীয় ক্যাটাগরি হলো সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা। এখানে একজন পরিচালক নির্বাচিত হবে। পাশাপাশি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মনোনীত দুজন প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকবেন। এই ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫ জন কাউন্সিলর দায়িত্ব পালন করবেন।

    নির্বাচনের পাশাপাশি, বিসিবি জেলা পর্যায়ে কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। বুধবারের বোর্ড সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৬৪ জেলা কোচ পদের জন্য আবেদনকারীদের মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা আধুনিক ও বাস্তবভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা যাচাই করবে।

    তবে, গত মাসে মেয়াদ শেষ হওয়া ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে তারা ওই দায়িত্বে আগামী তিন মাস পর্যন্ত কর্মরত থাকবেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে চান প্রশাসন, যাতে ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হয়।

  • পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

    ভারতজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি রক্তাক্ত ঘটনা। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় গুলির মাধ্যমে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তার মাথায় পরপর তিনটি গুলি ছোঁড়া হয়েছে।

    নিহত চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর প্রাইভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ জানিয়েছে, রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পিছু নিয়ে দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

    গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথকে দ্রুত ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হামলার ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তি বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে বাস করতেন। রাজনৈতিক সূত্রের তরফ থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি।

    পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চন্দ্রনাথ শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী ও আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁর দায়িত্বে ছিল শুভেন্দুর সকল রাজনৈতিক কার্যকলাপ, যোগাযোগ, সভা ও সমাবেশের আয়োজন ও তদারকি। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়লাভ করেছেন। আগামী ৯ মে বিজেপি সরকার গঠনের কথা রয়েছে, এবং শুভেন্দুর নাম সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর দরজায়। এই সময়ে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীর উপর এমন হঠাৎ হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে।

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং আধা-সার্বভৌম কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখনো হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।

    খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান এবং হাসপাতালে যান। বিভিন্ন নেতা এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছেন।

    মধ্যমগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মধ্য দিন সময়ে গাড়ির ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কে পড়েছেন। পুলিশ তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

  • পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ফলে তিস্তা চুক্তির আশার আলো দৃশ্যমান

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ফলে তিস্তা চুক্তির আশার আলো দৃশ্যমান

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই বিজয়ের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। এই ফলের সাথে সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য নতুন আলোর আভাস দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত তিস্তা পানির বিরোধ সমাধানে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এটি উভয় দেশের মধ্যেকার সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

    ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিএনপি’র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই জয় তিস্তা পানি বণ্টন বিষয়ক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা 해결ের পথ সুগম করবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এখন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সাথে যৌথ উদ্যোগে এই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু হতে পারে।

    হেলাল ব্যাখ্যা করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। তবে এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির জয় বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন, কারণ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত এই রাজ্য দিয়ে গড়া। এই পরিবর্তন দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে।”

    তিস্তা প্রকল্প নিয়ে হেলাল আরও বলেন, “আগে দেখা গেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিল এই প্রকল্পের মূল বাধা। এখন শুভেন্দু অধিকারীের নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কাছে প্রত্যাশিত এই ব্যারেজ চুক্তিটি বাস্তবায়নে তারা সাহায্য করবে। আশা করছি, তৃণমূলের পরিবর্তে বিজেপির প্রশাসনই এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করবে।”

    প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে একটি কেন্দ্রীয় অমীমাংসিত সমস্যা। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি ন্যায্য হস্তান্তর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশ এই পানির জন্য বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছে।

    বাংলাদেশের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে ভারত পর্যাপ্ত পানি ছাড়েনা, যা কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি করে, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই সমস্যা আরও বেড়ে গেছে। ১৯৮৩ সালে ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়। ২০১১ সালে দুই দেশ একটি তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করে, যেখানে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ৩৭.৫% এবং বাংলাদেশের ৪২.৫% পানি পাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির কারণে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।

    আরও আশার কথা হলো, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরেও আলোচনায় আসে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক পানি বণ্টন চুক্তির অঙ্গীকার, তবে সেই সময়ও বাধা হয়ে দাঁড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫৪টি নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও, এখনো কেবল গঙ্গা ও কুশিয়ারা নদীর জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা, ফেনী ও অন্যান্য নদীর বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান।

    এ বিষয়ে হেলাল বলেন, যদিও বিএনপি ও বিজেপির আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও, তিস্তা ব্যারেজ ও সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষের স্বার্থ一致। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার এই সম্পর্ককে আরও ত্বরান্বিত করতে সক্ষম হবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির আশঙ্কা

    পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির আশঙ্কা

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পরাজয়কে স্বীকার করতে নারাজ। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফলের কারণে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না এবং সরকার পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করবেন। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাদের সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, যার পরে কী হবে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সূত্রমতে, বিজেপি নেতা-কর্মীরা আগামী ৯ মে শনিবার রবীন্দ্রজন্মোৎসবের দিন শপথ গ্রহণ করবেন।

    প্রবীণ আইনজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যদি তৃণমূল নেত্রী তার স্থিতিতে অটল থাকেন, তাহলে আগামী ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ নতুন সরকার শপথ নেওয়ার এক দিন আগে, পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে। এটি বিরল μία ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ভারতের ইতিহাসে এর আগে কোনো অচেনা জটিল পরিস্থিতিতে এমন নজির দেখা যায়নি।

    ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাসকের দেওয়া প্রভাব থাকা উচিত। সাধারণত, পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী দ্রুতই রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের জন্য দায়িত্ব দেন, যতক্ষণ না নতুন সরকার শপথ নেয়। সেখানে কেয়ারটেকার সরকার কাজ চালায় এবং কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এই সংগঠন মূলত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

    তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নতুন সরকার শপথ নেয়নি, তবে সেখানে নেতারা পদত্যাগ করেছেন এবং রাজ্যপাল স্ট্যালিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এটি পশ্চিমবঙ্গের বিপরীতে, যেখানে এখনও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি।

    সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদায়ী সরকারকে সরিয়ে দিতে হয়। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার কার্যকর থাকবে না। ফলে, রাত ১২টা ১ মিনিটের পর রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে, যদি পরিস্থিতি অনুকূল হয়।

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩ টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের তালিকা রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতেই রাজ্যপাল সরকার গঠনের জন্য দল বা নেতা ধরে নেয়া হবে এবং শপথের প্রস্তুতিমূলক সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বিজেপি এই মুহূর্তে ৯ মে শপথ নেওয়ার ঘোষণা করেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে, যখন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে। তখন নেতৃস্থানীয় দল বা ব্যক্তিরা ক্ষমতা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করলে, মমতা পদত্যাগ করবেন এবং নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    অন্যদিকে, यदि তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সংবিধান অনুযায়ী, সাময়িক সময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি হতে পারে। তবে, মমতা এই পরিস্থিতি এড়াতে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি হারেননি এবং পদত্যাগের প্রশ্নই উঠে না।