পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

ভারতজুড়ে বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি রক্তাক্ত ঘটনা। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় গুলির মাধ্যমে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তার মাথায় পরপর তিনটি গুলি ছোঁড়া হয়েছে।

নিহত চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর প্রাইভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ জানিয়েছে, রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ির ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পিছু নিয়ে দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথকে দ্রুত ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একই হামলার ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য এক ব্যক্তি বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে হলেও তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামে বাস করতেন। রাজনৈতিক সূত্রের তরফ থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি।

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চন্দ্রনাথ শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী ও আস্থাভাজন ছিলেন। তাঁর দায়িত্বে ছিল শুভেন্দুর সকল রাজনৈতিক কার্যকলাপ, যোগাযোগ, সভা ও সমাবেশের আয়োজন ও তদারকি। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়লাভ করেছেন। আগামী ৯ মে বিজেপি সরকার গঠনের কথা রয়েছে, এবং শুভেন্দুর নাম সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রীর দরজায়। এই সময়ে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীর উপর এমন হঠাৎ হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ ছড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স এবং আধা-সার্বভৌম কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখনো হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ নিশ্চিত করা যায়নি।

খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান এবং হাসপাতালে যান। বিভিন্ন নেতা এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে উল্লেখ করেছেন।

মধ্যমগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মধ্য দিন সময়ে গাড়ির ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কে পড়েছেন। পুলিশ তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।