যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত শান্তি পরিষদ ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।
ট্রাম্প নিজেকে বোর্ডের আজীবন—or অনির্দিষ্টকালীন—চেয়ারম্যান রাখা করেছেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের এতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বোর্ডে আজীবন সদস্য হতে চান, তাদের প্রতি দেশ ১ বিলিয়ন ডলার করে দেবে এমন শর্ত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ তালিকায় ইসরায়েলও যুক্ত হলো। কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান যদি শক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে তা হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকেও ট্রাম্প নিজে উস্কে দিয়েছেন।
তবে নেতানিয়াহুর যোগদানকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং কিছু দেশ তাকে গাজার ঘটনায় দায়ী করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে—যার ফলে অনেকের কাছে তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে নেওয়া সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক গত বছরের নভেম্বরে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
এই পটভূমিতে নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত নেতাকে বোর্ড অব পিসে তুলে নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন না করে সমালোচনা করায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সমালোচকরা বলছেন, এমন অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ন্যায় ও মানবाधিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত এই মঞ্চ বিশ্ব কূটনীতি ও শান্তির প্রচেষ্টাকে ধাঁধাঁতে ফেলতে পারে।
