খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেছেন, দেলুটি ইউনিয়ন হলো খুলনা ও পাইকগাছার মধ্যে অন্যতম অবহেলিত ও জরাজীর্ণ এলাকা। এখানকার রাস্তাঘাট নেই বললেন তিনি, আমি আজ নিজে এসে এই অঞ্চলের অবস্থা দেখেছি, কতটা অসহায় এই জনসাধারণ। আমি এই এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে উঠেছি, আপনাদের সবাইকে আমি যেন ভোট দিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেন। আমি এই দ্বীপপুঞ্জের তিন ভাগে বিভক্ত দেলুটি ইউনিয়নকে সুন্দরভাবে উন্নত করতে চাই। একইসঙ্গে কয়রা-পাইকগাছার সাথে খুলনাকে সংযোগ করতে দেলুটি এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও প্রসারিত হবে, আর এই অঞ্চলকে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাপক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রভাষক সুজিত কুমার মন্ডল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ আবদুল মজিদ, পাইকগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট জিএম আব্দুর সাত্তার, এস এম ইমদাদুল হক, আবুল হোসেন, সেলিম রেজা লাকী, তুষার কান্তি মন্ডল, মোস্তফা মোড়ল, টিএম সাইফুদ্দিন সুমন, শেখ মেছের আলী সানা, শেখ রুহুল কুদ্দুসসহ আরও অনেক নেতা ও কর্মী।
Blog
-

খুলনায় মিথ্যা মামলায় জেল খেটেছেন নূর হাসান, তদন্তের দাবী
খুলনায় একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ২৪ দিন কারাগারে বসবাস করতে হয়েছে নূর হাসান নামে এক ব্যক্তিকে। মঙ্গলবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের দুঃখ এবং পরিস্থিতি তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে একটি গার্মেন্টস পণ্য বিক্রির ব্যবসায় একজন ব্যক্তি ফাহাদ আহমেদ তৃপ্তের সঙ্গে কাজ করতাম। ব্যবসার সময় তিনি আমার থেকে দুই মাসের comissão হিসেবে প্রায় ৫ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন, যা পরে সমন্বয় করার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার দিন, আমার অনুপস্থিতিতে তিনি ওই হিসাবের খাতা চুরি করে নিয়ে যান। আমি তখন ঢাকায় ছিলাম।
-

খুলনায় আলামিন হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধার
খুলনায় আলামিন হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দৌলতপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে সোমবার খুলনা সদর থানাধীন সার্কিট হাউস এলাকার কাছ থেকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত আকাশ হাওলাদার নামে এই আসামির কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে ব্যবহৃত ধারাল দেশীয় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর)।
আটকের পর তার কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আলামিন হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কোথায় রাখা হয়েছে বলে সে স্বীকার করে। এরপর ডুবুরি দলসহ পুলিশ মহেশ্বরপাশা উত্তর বনিকপাড়া এলাকার একটি পুকুর তল্লাশি করে সেখানে থাকা চাপাতি, এক বড় ছোরা ও মাঝারি আকারের ছোড়া উদ্ধার করে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালত থেকে রিমান্ড নেওয়া হয় এবং পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আকাশ হাওলাদার। এছাড়াও, এতে সংশ্লিষ্ট আরেকজন আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ৩ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার সময় মহেশ্বরপাশা উত্তর বনিকপাড়া এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে আলামিন হাওলাদারকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
-

চিতলমারী ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা ব্যাপক উত্তেজনাকর
বাগেরহাটের চিতলমারী সদর বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে এখন জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এ নির্বাচনের জন্য চলছে ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বণিক সমাজের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে মুখরোচূর্ণ আলোচনা চলছে। ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে বাজারের অলিগলি, যা চোখে পড়ার মতো। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে, কেউ জেতার দৌঁড়ে জড়িয়ে পড়েছেন, আবার কেউ ভাবছেন কাকে ভোট দেবেন। কে জিতবেন এবং কে হারবেন — এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মোট কথা, সদর বাজারের ব্যবসায়ী সংস্থার নির্বাচনে এখন যে উদ্দিপনা এবং আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বুলু, ৮ নভেম্বর রাতে। তফশীল অনুযায়ী, এ বছর ২৮ নভেম্বর (শুক্রবার) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে পাঁচটি পদে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনী এ লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থী ও ভোটাররা শীতের মধ্যে চেষ্টায় লিপ্ত, দিনরাত প্রার্থনা ও শুভকামনা করছেন। ভোটারদের ধারণা, ১৭ বছর পরের এ নির্বাচনটি হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
প্রার্থী কেউ কেউ হচ্ছেন, সভাপতি পদে মোঃ শহর আলী গাজী, মোঃ শোয়েব হোসেন গাজী ও মোঃ মনিরুজ্জামান খান। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন শেখ আসাদুজ্জামান ও জয়নুল পারভেজ সুমন। সাংগঠনিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোঃ রাসেল শেখ ও সাদ্দাম শেখ। দপ্তর সম্পাদক পদে আছেন সৈয়দ সিব্বির হাসান ও অনুপম সাহা। অন্যদিকে, কোষাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন রাজু তালুকদার ও লিটন। এ বছর মোট ৭০৮ ব্যবসায়ী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ডিসেম্বর চিতলমারী বাজারের ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন শেখ হাফিজুর রহমান সভাপতি এবং মোঃ শহর আলী গাজী সাধারণ সম্পাদক পদে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এরপর নানা কারণে নির্বাচন না হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি আবার নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আটেক নতুন প্রজন্মের মধ্যেও এ নির্বাচনের প্রভাব ব্যাপকভাবে অনুভব করা হচ্ছে, যা বাজারের চলমান অর্থনৈতিক জীবন ও শ্রমিক সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
-

ধানের শীষ: সকল মানুষের প্রতীক
বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন মহানগরীর খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, সারাদেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা একত্রে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। ধানের শীষ শুধু একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতীক। এটি হচ্ছে সমস্ত সাধারণ মানুষের প্রতীক।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ১০টায় নগরীর শেরে বাংলা রোডের কিডস্ ক্যাম্পাস কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে কেক কেটে বই ও খেলার ক্লাসের শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আবুল বাসার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু।
এর পরে তিনি রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশাপাশি তিনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে এক আলোচনা সভায় অংশ নেন। সন্ধ্যার পর তিনি কেডিএ এভিনিউস্থ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিটি ইমেজিং সেন্টার ও মিউচুয়াল ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অর্থাৎ, তিনি অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি ও ব্যাংক কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় আলোচনায় অংশ নেন, যেখানে তিনি ব্যাংক কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সব কর্মসূচির মধ্যে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি, যেখানে তিনি বলেছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করবেন। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এই নির্বাচনে যাতে সবাই একযোগে কাজ করে গণতন্ত্রের পথ ধরে সরকারের শুভ পরিবর্তন আনা যায়, সেখানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনেক প্রাকৃতিক নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা, যারা সব মিলিয়ে এই নির্বাচনকে শক্তিশালী ও ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
-

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়লো
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এক মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে করদাতারা এখন আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, যেখানে সাধারণত শেষ দিন নির্ধারিত ছিল ৩০ নভেম্বর। ব্যবসায়ীরা ও বিভিন্ন করদাতাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর), এক প্রজ্ঞাপন মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
এনবিআরের একজন কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান, নতুন কর আইনের (আয়কর আইন, ২০২৩) অধীনে ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য বিনা কোম্পানি করদাতাদের জন্য রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ Originally ৩০ নভেম্বর ছিল। করদাতাদের পক্ষ থেকে সময় বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন অনুরোধের প্রেক্ষিতে তা বিবেচনা করে নতুন এ তারিখ জানানো হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। ৪ আগস্ট ২০২৫ সালে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ এই ই-রিটার্ন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে করদাতারা সহজে, দ্রুত ও অনায়াসে তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারছেন।
এ বছর এ বছরের জন্য বিশেষভাবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসামর্থ্য বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারা, মৃত করদাতার আইনগত উত্তরাধিকারী ও বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে নিয়মের বাইরে থাকা ব্যক্তিরাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।
দেশে বা বিদেশে থাকলেও, বাংলাদেশি করদাতারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ করে [email protected] এই ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্টে আবেদন করতে পারেন। এর মাধ্যমে তাদের ই-মেইলে OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিঙ্ক পাঠানো হয়, যা ব্যবহার করে সহজে রিটার্ন দাখিল করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; কেবলমাত্র আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য প্রদান করলেই তাৎক্ষণিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকৃতি বার্তা ও কর সংক্রান্ত সনদ পাওয়া যায়। ফলে দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশে অবস্থানরত করদাতাদের মধ্যে ই-রিটার্ন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু করেছে, যেখানে করদাতারা কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান পেতে পারেন। তদ্ব্যতীত, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের E-Tax সার্ভিস ও দেশের প্রতিটি কর অঞ্চলকেন্দ্রের হেল্প ডেস্ক থেকে সরাসরি সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
-

আগামী জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ক্যাশলেস লেনদেন চালু হচ্ছে: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে ব্যাংক, এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসেস), বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবস্থা চালু হবে। এর ফলে সব ধরনের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনে নগদ টাকা ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না, যা লেনদেনের স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন তিনি। গভর্নর বলেন, লেনদেনে স্বচ্ছতা, আকর্ষণীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন একমাত্র সমাধান। আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের এই নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব আয় বাড়বে এবং অর্থ লেনদেন আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে।
উল্লেখ্য, এই পরিকল্পনাকে সফল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গেটস ফাউন্ডেশনের মোজোলুপের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপত্তার কারণে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। চুক্তির আওতায়, মোজোলুপের নতুন প্ল্যাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি), যা দেশের সব অর্থপ্রদান ব্যবস্থা আরও আরও উন্নত ও স্বচ্ছ করে তুলবে।
-

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে: বাংলাদেশের ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ার ঝুঁকিতে
বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ, নানা কারণে আবারও দারিদ্র্যসীমার নিচে পতনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে—’বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য হ্রাস করেছে। এর ফলে, দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বের হয়ে এসেছে এবং ৯০ লাখ মানুষ অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছে। তাদের জীবনমানের অনেকটাই উন্নত হয়েছে, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, এবং পয়ঃনিষ্কাশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো এখন আরও সহজে পেয়েছেন।
তবে, করোনাভাইরাস মহামারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ২০১৬ সাল থেকে দারিদ্র্য কমার গতি ধীর হয়ে গেছে, সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও মন্থর হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হার ১২.২ শতাংশ থেকে কমে ৫.6 শতাংশে নেমে এসেছে এবং মাঝারি দারিদ্র্য ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিপথ বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, ফলে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য দ্রুত কমলেও শহরে এর হার কমে যাওয়ার প্রবণতা ধীর হয়ে গেছে। ২০২২ সালের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে একজন নগর বাসিন্দা হিসেবে জীবনযাপন করছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশের বিভাগের প্রধান জাঁ পেম বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাসে সফল হলেও, বর্তমানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ুঝুঁকি এবং কাজের সুযোগের অপ্রতুলতার কারণে শ্রমশক্তির আয় কমে গেছে। তিনি পরামর্শ দেন, দারিদ্র্য কমানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে যুবক, নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। তাঁর মতে, টেকসই উন্নয়ন ও দরিদ্র-বান্ধব পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র্য এড়াতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন খাতে নিজেদের কাজের সুযোগ সীমিত, এর পরিবর্তে কম উৎপাদনশীল খাতে বেশি কর্মসংস্থান হচ্ছে, যা নারীদের এবং তরুণদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। প্রতি পাঁচ নারীর মধ্যে একজন বেকার, এবং অনেক শিক্ষিত নারীর কাজের সুযোগ নেই। শহরেও, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে, কর্মসংস্থান তৈরি খুবই কম। ফলে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক কমে গেছে। ১৫-২৯ বছর বয়সী তরুণদের অর্ধেক কম মজুরিতে কাজ করছে, যা শ্রমশক্তির দক্ষতা ও চাহিদার মধ্যে বৈষম্য নির্দেশ করে।
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন বাংলাদেশে অন্যতম দারিদ্র্য উত্তরণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। প্রবাসে থাকা পরিবারের আয়ে দেশের দারিদ্র্য কমে আসছে, তবে বিদেশেরা ঘিঞ্জি শহুরে এলাকায় জীবনযাপন করেন যেখানে জীবনযাত্রার মান খুবই নিম্ন। বিদেশে যাওয়ার খরচ অনেক বেশি, যার জন্য সাধারণ পরিবারের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। পাশাপাশি, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে, তবে এর ব্যবস্থাপনা অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পেয়েছেন মোট সুবিধাভোগীর মধ্যে ৩৫% ধনী পরিবারের লোকজন, যেখানে অর্ধেক অতি দরিদ্র পরিবার সুবিধা পায়নি। subsidies দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিকতা কম, এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বিভিন্ন ভর্তুকির বেশিরভাগটাই ধনী পরিবারেরাই পেয়ে থাকেন।
দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর জন্য চারটি মূল নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে: উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো; দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি; আধুনিক শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ তৈরি; এবং কার্যকর, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু।
বিশ্বব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক সার্জিও অলিভিয়েরি বলেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিমের বৈষম্য। তবে জলবায়ু পরিবর্তন শহর ও গ্রামাঞ্চলে বৈষম্য বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, উদ্ভাবনী নীতি, যোগাযোগ উন্নতি, শহরে গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ক্ষেত্রে সহায়ক মূল্যশৃঙ্খল ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ দারিদ্র্য কমানোর গতি আবার বাড়াতে পারে এবং সব শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
-

ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা: ভারত ভ্রমণে সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটের দিন পর্যন্ত ব্যাংক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শুধুমাত্র অত্যাবশ্যক কারণে দেশের বাইরে যেতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় ব্যাংকিং পরিষেবার স্বাভাবিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের নির্বিঘ্নতা বজায় রাখতে মূলত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের অব্যাহত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা মানতে হবে সকল ব্যাংক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে, যা ব্যাংকিং আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার অংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হবে এবং নির্বাচনী সময়ে ব্যাংকিং পরিষেবা সময়োচিত ও নিরাপদ রাখতে এটি অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
-

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ এখন ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি
বাংলাদেশের ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে, দেশের ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে, একই সময় গত বছরের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মহামারি কাটিয়ে উঠতে শুরু করা এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৯ মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বেড়েছে।
আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকের ঋণ খেলাপির এই মহাসংখ্যার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নাম-বেনামে অত্যন্ত বড় অঙ্কের অর্থ তুলা হয়েছিল, যা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আরও এক কারণ হলো, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ নবায়নের নিয়ম পরিবর্তনের ফলে দেশে খেলাপি ঋণের সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ঋণই নতুন করে নবায়ন করা হলেও, তার বেশিরভাগেরই ঋণ আদায় সম্ভব হচ্ছে না। এই সব অনিয়ম ও অপব্যবহারের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিচ্ছে, ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে, দেশে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এটি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
