Blog

  • খুলনায় চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি

    খুলনায় চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড, প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি

    খুলনার শিববাড়ি মোড়ে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে চলন্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লেগে গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। ঘটনায় কোনো রোগী ছিলেন না; অ্যাম্বুলেন্সটিতে একাই ছিলেন চালক মোল্লা সোহাগ।

    চালক মোল্লা সোহাগ ঘটনাস্থল থেকেই জানান, ‘‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল থেকে ময়লাপোতা মোড় হয়ে অফিস যাওয়ার পথে শিববাড়ি মোড়ে গাড়িটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। বামে তাকালে গাড়ির পেছন থেকে তাপবৃদ্ধি অনুভব করি, তারপর মাথার দিকে আগুনের তাপ আসে। দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে যাই; পেছনের অংশ থেকে কিছু চুল পুড়ে যায়, কিন্তু কোনো গুরুতর আঘাত হয়নি। এরপর অফিসকে ফোন করে জানালে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়।’’

    খবর পেয়ে খুলনা ফায়ার সার্ভিস দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৫–১০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইঞ্জিনে ওভারহিট হওয়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং গাড়িটি চলাচলের সময় ভিতর থেকে গ্রাস করে আগুন ছড়ায়।

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হোসেন বলেন, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে জানার জন্য তদন্ত চলছে।

    এই অগ্নিকাণ্ডে বড় কোনো মানবিক ক্ষতি এড়াতে পেরে স্থানীয়রা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বস্তি ব্যক্ত করেছেন। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টরা আরও বিস্তারিত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবেন।

  • বিগ ব্যাশ বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনয়ন পেলেন রিশাদ হোসেন

    বিগ ব্যাশ বর্ষসেরা খেলোয়াড় মনোনয়ন পেলেন রিশাদ হোসেন

    ক্রিকেট তাসমানিয়া ২০২৫–২৬ মৌসুমের অসাধারণ পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি দিতে বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। এই অনুষ্ঠান আগামী ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন বিভাগের খেলোয়াড়দের সম্মাননা জানানো হবে এবং মৌসুমভিত্তিক একাধিক পুরস্কার দেওয়া হবে।

    সারা মৌসুম জুড়ে নজর কাড়া পারফরম্যান্সের স্বীকৃতির তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ ‘বিগ ব্যাশ’ প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এবারের মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। বিগ ব্যাশে নিজের প্রথম মৌসুমেই দারুণ ছাপ রেখে তিনি এই মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।

    হারিকেন্স দলের হয়ে রিশাদ পুরো মৌসুমে ১৫টি উইকেট নিয়েছেন, যা ছিল দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রথম বারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেললেও বিভিন্ন ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। শুরুতেই তাকে বোলিংয়ে নিয়ে আসা হয়ে থাকে, তাতে করে প্রতিপক্ষকে আগ থেকেই চাপে রাখতে ও মধ্য ওভারগুলোতে খেলায় নিয়ন্ত্রণ দেখাতে সক্ষম হন তিনি।

    তার সেরা বোলিং ফলাফল ছিল স্ট্রাইকার্সের বিরুদ্ধে ৩ ও ২৬ রান, যা লক্ষ্য করার মতো একটি কার্যকর ইনিংস ছিল। ধারাবাহিক উইকেট ও মধ্যকার ওভারগুলোতে চাপে রাখার সামর্থ্যের কারণে তরুণ এই স্পিনার দলীয় পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখতে পেরেছেন।

    রিশাদের সঙ্গে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন নিখিল চৌধুরী, নাথান এলিস ও ক্রিস জর্ডান। নিখিলকে নেওয়া হয়েছে ব্যাট ও বল—দুই দিকেই কার্যকরী ভুমিকার জন্য, এলিসকে ধারাবাহিক বোলিংয়ের জন্য এবং জর্ডানকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতার জন্য বিবেচনা করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানের সময় বিজয়ীদের নাম সামাজিক মাধ্যমে জানানো হবে। নিজের অভিষেক মৌসুমেই এমন মনোনয়ন পাওয়া রিশাদ হোসেনের জন্য এক যোগ্য সম্মান এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার এক বড় বার্তা।

  • বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও তদন্ত কমিটির সম্মুখীন

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও তদন্ত কমিটির সম্মুখীন

    জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্যরা এরপর থেকে একের পর এক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও তাদের সম্মুখীন হয়েছেন।

    তদন্তকার্যের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওই সদস্য জানিয়ে দিয়েছেন, বুলবুল দেশে ফেরার আগে লিখিতভাবে কমিটিকে উত্তর পাঠিয়েছিলেন। এরপর ব্যক্তিগতভাবে দেখা ও কথা বলার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে যাকে দরকার হবে তার সঙ্গেই কথা বলবেন কমিটির সদস্যরা। কাজটি এখন পর্যন্ত ভালোভাবে চলছে।’

    এর আগে গত শনিবার বিসিবি পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হন। রোববার কমিটি বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গেও কথা বলেন।

    সাক্ষাতের পর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার কারণে ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা কম ছিল। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না; ভোটার ছিল ৭৬ জন, ৪২ জন ভোট দিয়েছেন এবং আমি সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছি। সুতরাং এখানে ম্যানিপুলেশনের সম্ভাবনা খুবই কম। আমার মনে হয় ভোটাভুটি ঠিকভাবেই হয়েছে।’

    তদন্ত কমিটি এখনও প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎ ও তথ্য যাচাই চালিয়ে যাচ্ছেন। কমিটির পরবর্তী রিপোর্ট ও সুপারিশ কী হবে, তা এনএসসি বা কমিটি সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

  • শ্রবণশক্তি হারিয়ে গান থেকে দূরে অলকা ইয়াগনিক: ফেরার আশা কেমন?

    শ্রবণশক্তি হারিয়ে গান থেকে দূরে অলকা ইয়াগনিক: ফেরার আশা কেমন?

    বলিউডে চার দশকের শিল্পজীবন কাটিয়ে তিনি ছিলেন বহু হৃদয়ের গান। অসংখ্য হিট ন্যুম্বার, পরিচিত কণ্ঠস্বর—অলকা ইয়াগনিক সেই সব দিনের নাম। কিন্তু বর্তমানে এই জনপ্রিয় গায়িকা নিজেই মাইক্রোফোন থেকে দূরে: শ্রবণশক্তি হ্রাসের কারণে তিনি গান গাওয়া বন্ধ রেখেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বের হওয়া প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    অলকার কণ্ঠ ২০২৪ সালে হঠাৎ থেমে যায়। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার বিবরণ জানান তিনি—এক বিমানে নামার সময় অনভিপ্রেতভাবে কান শুনে না পেতে শুরু করেন, পরে পরীক্ষায় চিকিৎসক জানতে দেন যে ভাইরাসজনিত আক্রমণের কারণে একটি বিরল স্নায়ুর সমস্যা হয়েছে, ফলত তাঁর শ্রবণশক্তি কমে গেছে। তিনি লিখেছিলেন, এটা তার জন্য বড় ধাক্কা, এবং তিনি ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সঙ্গে অনুরোধ করেছিলেন—তার জন্য দোয়া করবেন মানুষ।

    ওই ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আলাপ অনুযায়ী তেমন উন্নতি হয়নি। অলকা নিজেই জানিয়েছেন যে গাইতে ফেরার মতো পর্যাপ্ত শ্রবণশক্তি এখনো নেই—এজন্যই মাইক্রোফোনের সামনে ফেরেননি। তবু শিল্পী মহলে তাঁর প্রভাব কমেনি; গীতিকার এবং সুরকাররা এখনও প্রায়ই তাঁকে গান গাওয়ার প্রস্তাব দেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি সেটি নিতে পারবেন না।

    শ্রবণশক্তি হারানোর সংবাদে ভেঙে পড়েন শিল্পপ্রেমীরা। অনেকে এখনও তাঁর অভাব অনুভব করেন। আশার কোনো নির্দিষ্ট বার্তা না দিলেও অলকা নতুন প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন—উচ্চ শব্দ এড়ানো, হেডফোন দীর্ঘসময় বা উচ্চ ভলিউমে ব্যবহার না করা ইত্যাদি, কারণ এগুলো শ্রবণশক্তির ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    অলকা ইয়াগনিক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যে বড় চিহ্ন রেখে গেছেন, তা অদূর ভবিষ্যতেও ভোলা যাবে না। আশার কথাটি এখন অনেকে জানায়—চিকিৎসা ও সময়ের সঙ্গে তাঁর অবস্থার উন্নতি হলে আবার শ্রোতাদের জন্য ফেরা সম্ভব হবে।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানালেন, ভুলবশত কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমা চান

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানালেন, ভুলবশত কেউ কষ্ট পেলে ক্ষমা চান

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই নানা প্রসঙ্গে আলোচিত এবং সমালোচিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মন্তব্য ও কথাবার্তা বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে উঠেছে। আজ বুধবার সকালে এক পোস্টে তিনি সংযত মনোভাব ও আন্তরিকতা দিয়ে বলেছেন, যদি কখনো কোনো কথা বা কাজের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গত কয়েক দিনে বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে কিছু মনোভাবাপন্ন ও আন্তরিক আলাপের সুযোগ হয়েছিল। সবার কাছ থেকেই সুন্দর ও গঠনমূলক দিকনির্দেশনা পেয়েছি। নিজেদের বিরোধদ্বয় এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা ও সৃজনশীল আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেছেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে এই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং আরও শান্ত, দায়িত্বশীল এবং দায়িত্বপ্রবণ ভাবে পথচলা চালিয়ে যাব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য আমি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চাই।’

    তিনি যোগ করেছেন, ‘আমার কোনো কথাবার্তা বা কাজের জন্য যদি কাউকে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পৌঁছে থাকেন, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা সকলের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ আমার পথচলার জন্য শক্তির উৎস।’

    এর পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন, ‘গতকাল ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই আত্মিক যাত্রার এক নিঃশব্দ সূচনা কর litered। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’

  • স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে জামায়াতের আমির বললেন, ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে জামায়াতের আমির বললেন, ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’

    মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পবিত্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এখানে এসেছি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে। এটি আমাদের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার এবং সরকারি আনুষ্ঠানিকতার অংশ। আমাদের সবার মতো আমরা এই পবিত্র স্থানে এসে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে উপস্থিত হয়েছি।

    বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ সকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মনোজ্ঞ প্রার্থনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের জন্য আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, যেন সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা রক্ষা ও শান্তি বজায় রাখতে আল্লাহ রহমত ও বরকত দেন।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো অহিংস, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যে আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করছি এবং দেশের সবাইকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি। তারা সবাই মহান মুক্তি দিবসের গুরুত্ব ও সম্মান জানাতে এই স্মৃতিসৌধে সমবেত হয়েছেন।

  • প্রথমবারের মতো বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা গেল তারেক রহমানের উপস্থিতি

    প্রথমবারের মতো বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা গেল তারেক রহমানের উপস্থিতি

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারেক রহমান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। নেতাকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে তাকে স্বাগত জানাতে স্লোগানে স্লোগানে। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছায়; তখন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে বাহবা ও স্লোগান দেয়। এর কিছুক্ষণ পর, বিকেল ৬:৩০ টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতারা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তিনি গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার রাতে নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য্য ধরে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে, এবং যেন সাধারণ মানুষের কষ্ট বা ভোগান্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরো আসব, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচল ও পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে দাও না।’ তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এসে সাংগঠনিক কাজ করা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়। ‘আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, না থাকলে পারব না,’ যোগ করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য रखने আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরে আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, দেশে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে, সেগুলো মানুষকে বোঝাতে হবে এবং তাদের ধৈর্য্য ধরাতে সহায়তা করতে হবে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি রাস্তা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো রাস্তা পরিষ্কার করা।’ একই সঙ্গে সতর্ক করেন যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে তাঁর পক্ষে সেখানে আসা কঠিন হবে। বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর সময় নেতাকর্মীরা বেশ উৎসাহে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে মুখরিত করে তোলে গোটা এলাকা। দুপুর থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের সাড়ে ৪টার মধ্যে সড়ক পুরোপুরি ভরে যায় তাদের শ্লোগানে। সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার খবর পেয়ে, প্রোটেকশন টিমের সদস্য আরেক বার উদ্বেলিত হয়ে জানিয়ে দেন তিনি সেখানে গেছেন। তারেক রহমান কার্যালয়ে প্রবেশের পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দলের নেতাদের সঙ্গে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় ও চলমান কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। এ উপলক্ষে ভিড় দেখা যায় পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের কার্যালয় পর্যন্ত, যেখানে নেতাকর্মীরা হাতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে থাকেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়, যেমন ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা ও স্বাগত’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ ও তারেক রহমানের জন্য শুভেচ্ছা’। ওইদিন সকাল থেকে তারেক রহমানের আগমন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। যানজটের সৃষ্টি হয় পুরো নয়াপল্টন এলাকায়, যেখানে ট্রাফিক একলাইনে গাড়ি চলাচল করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর, আইনশৃঙ্খলার বাহিনী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একজন নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশ আমাদের তাড়া করত, গ্রেফতার করত। কিন্তু আজকে এমনকি আল্লাহ চান, কী না হয়—সেটা দেখযোগ্য।’

  • ৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ঢাকার দুটিসহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা দেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার (২৯ মার্চ) রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য এনসিপির পক্ষ থেকে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াকে এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহমান আফজাল ও রাজশাহীর জন্য মো. মোবাশ্বের আলী মেয়র প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন।

    অপরদিকে, এনসিপি জানিয়েছে, আগামী এপ্রিলের মধ্যেই আরও সাতটি সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে তারা অন্যান্য নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে দলীয় সর্শক প্রার্থী চূড়ান্ত করছেন।

    বিএনপি এই পর্যায়ে এখনই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিকল্পনা করেননি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে, তবে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। সিটি করপোরেশনের জন্য বিএনপি রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিচ্ছে না, অধিকাংশ নেতাদের প্রশাসক পদে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কারণে, এনসিপি তার মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে আলাদা আঙিনায় দেখিয়ে দিল।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। এই প্রশাসকদের কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচনও করা যাবে না। তিনি আরও জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি তারা উচ্চকণ্ঠে জানাচ্ছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়র প্রার্থীর পাশাপাশি দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের বিরুদ্ধে গেলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণরায়কে উপেক্ষা করে সরকার যদি অগ্রসর হতে চায়, জনগণ তা মানবে না। গণরায়ের বিরোধিতা করলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের ইতিহাসে অনেক ক্ষমতাশালী নেতাই এসেছে, যারা গৌরবের আলো ছড়িয়েছে। কিন্তু যখনই তারা গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে বা এর বিরোধিতা করেছে, তখন তাদের পরিচয় ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে। গণরায়ের গুরুত্ব তিনি এভাবেই ব্যাখ্যা করেন।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের রায় পেয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। একইভাবে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন রূপ নেয় এবং গণরায়ের ভিত্তিতে পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শাসনের নামে দমন-পীড়ন চালানো হলেও, গণরায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের চেষ্টা সফল হয়নি।

    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, যদি এখনো গণরায় ও গণভোটের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সরকার এগিয়ে যেতে চায়, তবে জনগণ তা মানবে না। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সুবিধাবাদীরা বলছে, এত রক্তের বিনিময়ে যেই স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন না হলে, যারা ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলেছে, তারা রাস্তায় নামতে দ্বিধা করবে না।”

    আসিফ মাহমুদ বলেছেন, আমাদের সবাইকে জনগণের পক্ষে দাঁড়াতে হবে, যাতে একসঙ্গে সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়তে পারি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি জনগণের বিপক্ষে যান, তাহলে আবার আমাদেরকে জনগণের হাতে ক্ষমতা রক্ষার জন্য মাঠে নামতে হতে পারে।

  • ঈদ উপলক্ষে ১৫ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৮৭ মৃত্যুর শঙ্কা

    ঈদ উপলক্ষে ১৫ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৮৭ মৃত্যুর শঙ্কা

    ঈদুল ফিতর উদযাপনের আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন যানবাহন পথের ১৫ দিনে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৮৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য রোড। এ দুর্ঘটনা ও হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়ে তারা একটি বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা এই মৌসুমি অপেক্ষা ও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসের ১৬ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌপথে ঘটেছে মোট ৩ হাজার ৫০১টি দুর্ঘটনা। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৯ জন। সংগঠনের মতে, এই সময়ের পরিবহন পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা, অদক্ষ চালক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কিছু অংশের অবহেলা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে উঠছে।

    সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা জানান, ঈদের সময় অদক্ষ ও ক্লান্ত চালকদের কারণে দুর্ঘটনাগুলোর সংখ্যা বেড়েছে। পাশাপাশি, নারী ও শিশুদের জন্য এই দুর্ঘটনা ও হতাহতের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঈদের সময়কালে ১ হাজার ৯৩৭ নারী ও শিশু আহত হয়েছেন এবং ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব এক পুরুষের মধ্যে আহত ও নিহত হয়েছেন ৮১১ জন, নব্বইয়ের দশকের মধ্যে থাকা ১৮-৫৫ বছরের পুরুষের মধ্যে আহত ১ হাজার ১১১ জন ও নিহত ১৮১ জন।

    প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতি ও অব্যাহত নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ বেশ বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাস না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে, যেমন ট্রাক ও পিকআপে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মোট ক্ষতি হয় আনুমানিক ৩২০ কোটি টাকার উপর। তারা বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা এখনো অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। অদক্ষতা, অবহেলা এবং দুর্নীতির কারণে এটি ঘটছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও লাইসেন্সহীন চালকদের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।

    তাদের ভাষায়, প্রতিটি ৩ কিলোমিটারে পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি বা নজরদারি না থাকাও বড় কারণ। এই সময়ে সড়কে ১২২টি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আহত হয়েছেন ৯৬ জন। নারী নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ৩১৬টি শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে এবং একটি ধর্ষণের ঘটনা রেজিস্টার করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ দাখিল করেননি।

    নৌপথেও পরিস্থিতি অনেকটাই ভয়াবহ। কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১০২টি নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আহত হয়েছেন ১০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ১৫ জন। রেলপথে ২০ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২১০ জন ও নিহত হয়েছেন ১৪ জন।

    অবশ্য, আকাশপথে বড় কোনও দুর্ঘটনা না ঘটলেও জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য কারণে সেতো শতাধিক হজযাত্রীসহ মোট ২৫৬ জন পথচারী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মন্ডল, প্রতিষ্ঠাতা মোমিন মেহেদী ও ভাইস চেয়ারম্যান বিকাশ রায়সহ অন্যরা বলেন, দ্রুত সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, সড়ককে নিরাপদ ও নিয়মের ধারায় আনতে দুর্নীতি দমন, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    পরে তারা আরও বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্ভব হবে সড়ক, রেল ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।