Blog

  • সংস্কৃতিমন্ত্রীর মন্তব্য: ‘আনন্দ’ বা ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক দেশকে বিভক্ত করতে পারে

    সংস্কৃতিমন্ত্রীর মন্তব্য: ‘আনন্দ’ বা ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক দেশকে বিভক্ত করতে পারে

    সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘আনন্দ’ কিংবা ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রা নাম নিয়ে ফের বিতর্ক দেশকে আরও বিভক্ত করার আশঙ্কা তৈরি করছে। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, পহেলা বৈশাখ পালন যথাযোগ্য মর্যাদা ও চিরায়ত ধারায় হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, বাংলা একাডেমি, নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মোট প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বিত মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে শোভাযাত্রা, আলপনা, গান-বাজনা ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    তিনি বলেন, ‘আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, অন্তর্বর্তী সরকার পহেলা বৈশাখের উৎসব সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের ডকট্রিন অব নেসেসিটির সাথে মানানসইভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব তারা নিয়েছিল। এই দায়িত্বে তারা অনেক কিছুই সামলেছেন, তাই তাদের বিপথগামী বলে মনে করি না।’

    এছাড়া, তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখছি এক ধরণের প্রবণতা পঞ্চাশের দশক পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের উল্লেখ এড়িয়ে যেতে চাওয়া। তবে আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সবাই জানোক, তরুণ প্রজন্মের জানার অধিকার রয়েছে। ১৯৫২, ১৯৭১, মুক্তিযুদ্ধ—এই গৌরবের ইতিহাসগুলো তুলে আনতে হবে, যেন আমাদের জাতীয় চেতনা সুদৃঢ় হয়। গণতন্ত্রের চর্চা ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি উজ্জ্বল করে রাখতে চাই।’

    মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামের পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে নামকরণ করেছে বলে আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে এই পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না। এক্ষেত্রে নামের পার্থক্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করতে চাই না।’

    তিনি স্বীকার করেন, সমাজে চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক—এটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বিভিন্ন মতামতের মধ্যে ঐক্য। প্রচলিত সংস্কৃতি ও জীবনধারার মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও আমরা সবাই একসাথে থাকতে চাই। এই বিভাজনবাদ ও বিতর্ক unnecessary বলে মনে করি।’

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশের উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার দায়িত্বশীল বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হওয়া আবশ্যক। ১৯৭৪ সালের চব্বিশের অভ্যুত্থান এবং মৌলবাদী চিন্তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অপসংস্কৃতি রোখে জীবনের মূলধারার সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করবে সরকার।’

    অন্ততপক্ষে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও শুভভাবে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।

  • এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না: সরকার

    এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না: সরকার

    সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে। এ কারণে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন হবে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এই ঘোষণা দেয়।

    জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছেন, নতুন মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত) অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থাকছেই, আর অকটেনের দাম স্থির থাকবে ১২0 টাকায়। এছাড়া, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১2 টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    এই মূল্যহার অনুমোদন ও নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নেওয়া হয়েছে। আর এ মূল্য নির্ধারণ এপ্রিল মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।

    বিশ্ববাজারে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরির আশঙ্কা বেড়ে গেছে। বাংলাদেশও এ প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের বেশি সময় হয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল। তবে, প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা দেননি।

    সরকার প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে থাকলেও, এ মাসে দাম অপরিবর্তিত থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ফলে, জনমনে এক ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। আগামী এক মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না।

    প্রবাসী সরকারের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত অনেকটাই স্থিতিশীল। ডিজেলের মজুত রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬०৯ টন। সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

    তিনি আরও বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং হজ মৌসুমের কথা বিবেচনা করে জেট ফুয়েলের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    অতিরিক্তভাবে, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি সংরক্ষণ ও মজুতের খবর উঠেছে, যা উদ্বেগের কারণ। এ বিষয়ে অভিযান চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ৩৯১টি অভিযান সম্পর্কিত প্রতিবেদনে ১৯১টি মামলা দায়ের এবং ৯৮,০৩,৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সময়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও পরিবহন সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য শিখন ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুবিধাজনক করতে নতুন পরিকল্পনা নিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা প্রস্তাব করছে, শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে তিন দিন সরাসরি স্কুলে গিয়ে ক্লাস করবে এবং বাকি তিন দিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠ নিয়ে থাকবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা ও অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, এ পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন যে কোনো সময় জারি হতে পারে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবেন, বাকিগুলো অনলাইনে পাঠক্রম চলবে। ক্লাসের দিন নির্ধারণে জোড় বা বিজোড় তারিখ বা রোল নম্বর পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তবে অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সাধারণ বিষয়াদি ছাড়াও বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো বাস্তব ল্যাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ছুটি ও অনলাইন শিক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিখন ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের জন্য তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রস্তাবটি আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকবে।

    গত রোববার, রমজান, ঈদ ও অন্যান্য ছুটির মিলিয়ে দীর্ঘ ৪০ দিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুললেও প্রথম দিন উপস্থিতির হার খুবই কম ছিল। বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার মতো এলাকায় অবস্থানরত স্কুলগুলোতে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে নিচে ছিল।

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক নিজস্ব পরিবহন ব্যবহার না করতে পারায় তারা আগে থেকেই স্কুলের ছুটির কথাও জানিয়েছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের মতে, ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর পরিস্থিতি উন্নত করতে তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে যদি পরিস্থিতি বিচ্ছিন্ন হয়, তবে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ক্লাস, হাইব্রিড পদ্ধতি (মিশ্র শিক্ষা), অথবা সপ্তাহের দিন ভাগ করে পড়ানোর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম হান্নান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষাক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এই পরিকল্পনাগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ ও সুবিধাজনক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

  • ইরাকি নাগরিকের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন দণ্ড

    ইরাকি নাগরিকের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে যাবজ্জীবন দণ্ড

    ইরাকেরBaghdad আদালত বাংলাদেশি নাগরিক আজাদ আলীর হত্যাকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত ইরাকি নাগরিক মুসা জাসিমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ইরাকের রাজধানী بغدادের কাজিমিয়া এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিক আজাদ আলীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে অভিযুক্ত মুসা জাসিম। হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং থানায় মামলা দাখিল করা হয়।

    বিশ্লেষণমূলক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে, কোর্ট-বাগদাদের ফৌজদারি আদালত গত ২৯ মার্চ অভিযুক্তের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায়, তাকে দণ্ডিত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    অভিযুক্তের পরিবার থেকে প্রাপ্ত ২৫ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় অপরাধীদের ন্যায়বিচার সম্পন্ন হওয়ায় নিহতের স্বজনেরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

  • দেশের পাঁচ মেডিকেল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ ও এক উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

    দেশের পাঁচ মেডিকেল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ ও এক উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

    সরকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক)সহ দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ করেছে। এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গতকাল (সোমবার, ৩০ মার্চ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পারসোনেল-১ শাখার উপ-সচিব দূর-রে-শাহওয়াজের স্বাক্ষরে জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান, যিনি এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

    শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মো. আঈনুল ইসলাম খান; তিনি ও আগে স্বাস্থ্য প্রশাসনে ওএসডি হিসেবে কাজ করেছেন। একই প্রতিষ্ঠানে উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খানকে।

    নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছেন নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, এবং মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি এই আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

  • বাংলাদেশি নাগরিক হত্যায় ইরাকি নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বাংলাদেশি নাগরিক হত্যায় ইরাকি নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    ইরাকে বাংলাদেশি নাগরিক আজাদ আলীর হত্যার দায়ে একজন ইরাকি নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বাগদাদের এক আদালত। এই তথ্য মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরাকের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়।

    দূতাবাসের বরাতে বলা হয়েছে, ঘটনা ঘটেছিল গত ১১ সেপ্টেম্বর বাগদাদের কাজিমিয়া এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী অভিযুক্ত মুসা জাসিম নৃশংসভাবে আজাদ আলীকে হত্যা করেন। হত্যার পর মামলা সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করা হয়।

    কার্থ-বাগদাদ বিজ্ঞ ফৌজদারি আদালত গত ২৯ মার্চ মুসা জাসিমের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

    দূতাবাস জানিয়েছে, অভিযুক্তের পরিবার থেকে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার আদায় করে নিহত আজাদ আলীর পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গণরায়ের অবজ্ঞা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    গণরায়ের অবজ্ঞা করলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে: আসিফ মাহমুদ

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সরকার যদি গণরায়কে উপেক্ষা করে আগাতে চায় তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না, বরং ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এ কথা বলেছেন স্বাধীনতা দিবসে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস প্রমাণ করে যে যারা শক্তিশালী ভূমিকায় থেকেও জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করেছে, তারা ইতিহাসের পাতায় মিলিয়ে গেছে। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্ম নেওয়া এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরাচ্যের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পরিবর্তন আসার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের দমন-পীড়নের পরও জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে শাসন কায়েমের যে চেষ্টা হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত জনগণের আন্দোলনের মুখে টেকেনি—এ তথ্য তিনি উল্লেখ করেন।

    গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ‘হ্যাঁ’ দিয়েছেন আশয় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন শহীদ পরিবার, আহত মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনতা দেখেছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি গণরায় বা গণভোটের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে তা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে ৭০ শতাংশের বেশি লোক যাদের ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল, তারা রাস্তায় নেমে আর দ্বিতীয়বার ভাববে না।

    আসিফ মাহমুদ সব রাজনৈতিক দল ও সরকারের কাছে আহ্বান জানান—জনগণের পাশে দাঁড়ান, মিলেমিশে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু করুন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জনগণকে মাঠে নামাতে তাদেরকে বাধ্য হতে পারে।

  • ৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা

    ৫ সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা

    চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য নিজেদের মেয়রপ্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। রোববার (২৯ মার্চ) রাতেই রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

    এনসিপির ঘোষিত মেয়রপ্রার্থীরা হচ্ছেন — ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জন্য রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী।

    এনসিপি জানায়, বাকি সাতটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীর নাম আগামী এপ্রিলের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন সিটিতে প্রশাসক নিযুক্ত করে প্রশাসনকে দলীয় রঙ দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসকদের নিয়োগের ফলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না এবং দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করা যাবে না—যা স্থানীয় সরকারের সমন্বিত ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাধা সৃষ্টি করছে। নাহিদ আগামী ছয় মাসের মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার দাবি জানান।

    এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মনোনীত পাঁচ মেয়রপ্রার্থী ছাড়াও দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, গ্রস ৩৪.০৫ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, গ্রস ৩৪.০৫ বিলিয়ন ডলার

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। ৩০ মার্চ পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ এখন দাঁড়িয়েছে ৩৪,০৫৭.৪৮ মিলিয়ন ডলার — যা প্রায় ৩৪.০৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯,৩৫৯.০৭ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    তুলনায় ২৯ মার্চের তথ্য অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ ছিল প্রায় ৩৩.৯৯ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল প্রায় ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গ্রস রিজার্ভে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ ভিত্তিক পরিমাপ অনুযায়ী আনুমানিক ৬৯ মিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধিই দেখা যাচ্ছে।

    নিট রিজার্ভ হিসাব করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে—মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ পাওয়া যায়। এই বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থায় সামান্য হলেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা ও আমদানি খরচ সহ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

  • সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    সিপিডি: রাজস্ব আহরণের দীর্ঘ দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের বড় বাধা

    রাজস্ব আদায়ে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা দেশের বাজেট বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে — এমনই সতর্কতা দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা যদি বাস্তবে অর্জিত না হয় তাহলে উন্নয়ন ব্যয় ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ বেড়ে যাবে।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত ‘‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’’ শীর্ষক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানটি এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজন।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমানে জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ে আরও সতর্কতা ও রিকৌশন প্রয়োজন।

    তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আহরণে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যায় এমন দুর্বলতা হলে নির্ধারিত আয়ের তুলনায় আদায় কম হয় এবং তাতে উন্নয়নমূলক ব্যয়ের জন্য চাপ পড়ে। ফলে সরকারি নীতিনির্ধারণ ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ব্যাহত হতে পারে।

    সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী ঋণের বোঝা এবং চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন করে ঋণ নিয়ে অর্থনীতিকে চালু রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধিও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

    এই প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে বাস্তবসম্মত রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারভিত্তিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবেলা করা যায় এবং উন্নয়ন কর্মসূচির কর্পোরেটির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

    কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, যারা এখনো করের আওতায় আনা হয়নি তাদেরকে ধাপে ধাপে কর ভিত্তিতে আনতে হবে। তবে করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ানো ঠিক হবে না; সামাজিক ন্যায্যতা ও কর দায়ভার বিবেচনায় রাখা জরুরি।

    এছাড়া তিনি সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজের আয় বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন। এসব প্রতিষ্ঠান যদি স্বনির্ভর না হতে পারে, তাহলে তাদের ভর্তুকির উপর দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরতা বজায় রাখা টেকসই হবে না এবং এর যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

    সংক্ষিপ্তভাবে, সিপিডি বলছে—রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, করভিত্তি সম্প্রসারণ ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বাড়ানো না হলে নতুন বাজেট বাস্তবায়ন ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রদক্ষিণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।