Blog

  • আশরাফুল থাকবেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্যাটিং কোচ

    আশরাফুল থাকবেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ব্যাটিং কোচ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রকাশ করেছে যে, জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে মোহাম্মদ আশরাফুলের দীর্ঘমেয়াদে নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি, তাকে আগামী ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব দিয়ে রাখতে যাওয়া হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন আশরাফুল। তার কাজের ধরন এবং দক্ষতা দেখে বোর্ডের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সে জাতীয় দলের সঙ্গে ক্যানের মতো থাকবে।’ তিনি যোগ করেন, কত বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে, একটি সূত্র জানায়, আলোচনা হয়েছে চট্টগ্রামে সিরিজ শেষে। সেখানে আশরাফুলের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এ ব্যাপারে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি করতে সম্মত হয়েছেন।

    আশরাফুলের কোচিং ক্যারিয়ার দীর্ঘদিনের নয়। তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রংপুর রাইডার্সে মিকি আর্থারের সহকারী কোচ ছিলেন। এছাড়া, গ্লোবাল টি২০ টুর্নামেন্টে রংপুরের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশীয় ক্রিকেটে তার কোচিং অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত, যেমন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বরিশাল দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেছেন।

    বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও। একই সঙ্গে, ৬ ডিসেম্বর থেকে মিরপুরে এক সপ্তাহের জন্য টি২০ ও ওয়ানডে দলের batters নিয়ে ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। এই ক্যাম্পে উপস্থিত থাকবেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, সহকারী কোচ সালাউদ্দিন ও নতুন দায়িত্বে থাকা ব্যাটিং কোচ আশরাফুল।

  • ফকিরহাটে আট দলীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

    ফকিরহাটে আট দলীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

    ফকিরহাটে আট দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আটটি কিলোমিটার দীর্ঘ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় কাজী আজহার আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার শুভ সূচনা করেন বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো: বাতেন। তিনি বেলুন, ফেস্টুন উড়িয়ে ও কবুতর উড়িয়ে খেলাধুলার এই মহোৎসবের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথির পাশাপাশি এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা হুসাইন আহম্মেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ তৈয়বুর রহমান।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আট্টাকী যুব সংঘের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্যরা শেখ মুশফিকুজ্জামান রিপন, মো: জিয়াউর রহমান জিয়া, ইউপি সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক শেখ সৈয়দ আলী, ক্লাবের সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মামুন ফকির, সহ-সভাপতি তানভীর ইসলাম লিমন, রবীফকিরসহ অন্যান্যরা। খেলোয়াড়রা এ উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণ করে। খেলায় নৈহাটী সান স্পোটিং ক্লাব ২-০ গোলের ব্যবধানে খুলনা টাইগার ক্লাবকে পরাজিত করে। খেলা পরিচালনা করেন মো: মিরাজ সরদার, সহকারী ছিলেন সুমন রাজু ও জসিম। এই পরিবেশে দেশের ও বিদেশের খেলোয়াড়দের খেলা দেখার জন্য হাজার হাজার দর্শক ভিড় করেন এবং মাঠে উপভোগ করেন এই সুন্দর প্রতিযোগিতা।

    বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো: বাতেন বলেন, এ ধরনের খেলাধুলা সমাজকে সুন্দর করে তোলে, যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হয়। তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা যুবকদের সহনশীলতা, teamwork ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সমাজের সমন্বয় সাধনে সহায়ক।

  • সাধारण গ্রুপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, কঠিন লড়াইয়ে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া

    সাধारण গ্রুপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, কঠিন লড়াইয়ে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া

    দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের নিরীখ ড্রয়ের পর অবশেষে নিশ্চিত হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ বিভাজন। চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সহজ গ্রুপে পড়েছে, যা আকর্ষণীয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে। ব্রাজিলকে দেওয়া হয়েছে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা জায়গা করে নিয়েছে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে। উভয় দলের প্রথম ম্যাচ হবে যথাক্রমে মরক্কো ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে।

    ড্রের শুরুতে বিশেষ উপস্থিতি ছিলেন তিন দেশের প্রধান—কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—যারা নিজ নিজ দেশের নাম ঘোষণা করেন। এই তিন দেশই ইতিমধ্যে তাদের গ্রুপ নিশ্চিত করেছিল: মেক্সিকো ‘এ’ গ্রুপে, কানাডা ‘বি’ গ্রুপে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপে খেলবে। এরপর বাকি দলগুলোকে নির্ধারণের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

    প্রথম পটের দল হিসেবে ব্রাজিল সি গ্রুপে এক নম্বর স্থান পায়, তারপরে জার্মানি ই গ্রুপে, নেদারল্যান্ডস এফ গ্রুপে, ব্লাজিয়াম গোষ্ঠী জি, স্পেন এইচ, আর্জেন্টিনা জে, ফ্রান্স আই, পর্তুগাল কে, এবং ইংল্যান্ড এল গ্রুপে অবস্থান করে। ফাইনালে দেখা হবে না শীর্ষ দুই র‌্যাংকিংধারী দল—স্পেন ও আর্জেন্টিনা—যদি তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। একই পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের ক্ষেত্রেও।

    দ্বিতীয় পট থেকে বিভিন্ন দল চূড়ান্ত হয়েছেন, যেমন কোরিয়া এ গ্রুপের তিন নম্বর স্থান, সুইজারল্যান্ড বি গ্রুপের চার নম্বর, মরক্কো সি গ্রুপের দ্বিতীয়, অস্ট্রেলিয়া-আমেরিকা ডি গ্রুপের tercera, ইকুয়েডর ই গ্রুপে, জাপান এফ গ্রুপে, ইরান জি গ্রুপে, উরুগুয়ে এইচ গ্রুপে, সেনেগাল আই গ্রুপে, অস্ট্রিয়া জে গ্রুপে, পর্তুগাল কে গ্রুপে, কলম্বিয়া এল গ্রুপে, দক্ষিণ আফ্রিকা এ গ্রুপে, কাতার বি গ্রুপে, প্যারাগুয়ে ডি গ্রুপে, আইভরি কোস্ট ই গ্রুপে, তিউনিসিয়া এফ গ্রুপে, মিশর জি গ্রুপে, স্কটল্যান্ড সি গ্রুপে, সৌদি আরব এইচ গ্রুপে, আলজেরিয়া জে গ্রুপে, উজবেকিস্তান কে গ্রুপে, পানামা এল গ্রুপে, নরওয়ে আই গ্রুপে, ডেনমার্ক বা অন্য দলের অনুসারে, নর্থ মেসিডোনিয়া বা অন্য দলের মতো বিভিন্ন দল আরও নির্ধারিত হয়েছে।

    এই বিভাজনে মোট ৩২টি দল বিভক্ত হয়েছে, এবং প্রতি গ্রুপে চারটি দলের সমন্বয়ে মৌলিক লড়াই শুরু হবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দল পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে, যেখানেকের মধ্যে শক্তিশाली প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা চলবে প্রতিযোগিতার অবশ্যম্ভাবী অংশ হিসেবে।

  • ডোনাল্ড ট্রাম্প পেলেন ফিফা শান্তি পুরস্কার

    ডোনাল্ড ট্রাম্প পেলেন ফিফা শান্তি পুরস্কার

    অবশেষে এক বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব ফুটবল সংস্থার (ফিফা) নতুন একটি পুরস্কার, যা হচ্ছে ‘ফিফা পিস প্রাইজ’, এর প্রথম প্রাপক হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার ওয়াশিংটনে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকা জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিজে তার হাতে এই পুরস্কারটি তুলে দেন।

    জন এফ. কেনেডি সেন্টারে প্রবেশের সময় কালো লাল গালিচায় পদচারণায় সেখানে উপস্থিত হয় একের পর এক ফুটবল তারকারা। তবে এর অন্যতম দৃষ্টি কোনওভাবে দাঁড় করিয়েছিল আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সঙ্গে নিয়ে লাল গালিচা দিয়ে তিনি অতিথির আসন গ্রহণ করেন। এরপর উচ্ছ্বসিত ভাষণে ইনফান্তিনো অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান এবং এর পরে ট্রাম্পের হাতে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ তুলে দেওয়া হয়।

    পুরস্কার জেতার সময় নিজের গলায় পদক ঝুলিয়ে, ট্রাম্প এক স্বাভাবিক সাহসিকতার সঙ্গে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। পাশে থেকে ইনফান্তিনো পুরস্কার ও স্বাগত ভাষণের অংশের পড়া শোনান।

    পুরস্কার গ্রহণের পর ট্রাম্প বলেন, পৃথিবী এখন অনেক বেশি নিরাপদ। এটি সত্যিই আমার জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। আমি মনে করি আমরা লাখ লাখ জীবন রক্ষা করেছি, যেমন কঙ্গো, যেখানে যুদ্ধসহ নানা সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সংঘাতও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এই শান্তি প্রয়াসের মাধ্যমে। ইনফান্তিনো ও তার দল এক অসাধারণ কাজ করে চলেছেন। টিকিট বিক্রিতে তারা রেকর্ড গড়েছেন, যা ফুটবল প্রেমীদের জন্য একটি গর্বের বিষয়।

    গত মাসে ফিফা এই পুরস্কারের ঘোষণা দেয়, যেখানে বলা হয়—বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী ভূমিকা’ পালন করেছেন যারা তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে ট্রাম্পের নামও শোনা যায় মনোনীত হিসেবে। যদিও, নোবেল শান্তি পুরস্কার এই বছর ট্রাম্পকে দেওয়া হয়নি, তবুও তিনি দাবি করেন যে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

    গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে অন্তত ছয়বার একসঙ্গে দেখা গেছে। রুয়ান্ডা ও কঙ্গোতে শান্তি চুক্তির অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে ছিলেন ট্রাম্প। এর আগে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালেও এই দুই কর্তার উপস্থিতি দেখা যায়। এমনকি ট্রফি উদযাপনের সময় মঞ্চে উঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ট্রফি গ্রহণ করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ফিফা তাকে আসল ট্রফি উপহার দিয়েছে, এবং এর পরবর্তী ম্যাচের জন্য নতুন ট্রফি বানানো হয়েছিল।

    অগস্ট মাসে হোয়াইট হাউসে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র ভেন্যু ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যদি চান, তিনি উপস্থিত থাকবেন এই মহাযজ্ঞে—যদিও এখনো রাশিয়া নিষিদ্ধ থাকলেও। এছাড়া, সম্প্রতি গাজা যুদ্ধবিরতি বিষয়ক অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো বলেন, ট্রাম্প বিশ্ব শান্তির পথে দেয়াল ভেঙে সেতু নির্মাণ করেছেন।

    নভেম্বরে আবারো ইনফান্তিনো তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, যা ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার আনুষ্ঠানিকতা।

    ২০২৬ সালের ১১ জুন শুরু হবে এই বিশাল কান্ট্রি কাপে, যা ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে। এটি এখন तक কালের সবচেয়ে বৃহৎ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, যেখানে অংশ নিচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক ৪৮টি দল।

    ইনফান্তিনো তার প্রশংসা প্রকাশ করে বলেন, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজনের ক্ষেত্রে অসাধারণ সহায়তা করেছেন। তার শক্তি, উদ্যম এবং প্রতিশ্রুতি এ উপলক্ষে সত্যিই প্রশংসনীয়। ফুটবল বিশ্বের অনেক তারকাও ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সের সম্মানে হোয়াইট হাউসের ভোজে অংশ নেওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বলেন, তিনি এমন একজন, যিনি বিশ্বকে বদলে দিতে পারেন।

  • পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, ইমরান খান ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

    পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, ইমরান খান ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান Tehreek-e-Insaf (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানকে দেশের সেনাবাহিনী এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, তিনি ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী ও সেনা সম্প্রদায়ের প্রধান মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ কথা বলেন।

    আইএসপিআর প্রধান উল্লেখ করেন যে, ইমরান খান ও তার দল নানা উপায়ে সেনাবাহিনী বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, বিদেশি কূটনীতির সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইমরান খান এমন এক অহংবোধে ভুগছেন যে মনে করেন, তার ছাড়া কোন উপায় নেই। এই আত্মকেন্দ্রিক ও বিভ্রান্ত মানসিকতা বর্তমানে জাতিগত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

    চৌধুরী জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে ইমরান খান বারবার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও বদনাম চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ভারত ও আফগানিস্তানের কিছু সংবাদ মাধ্যম ইমরানের বক্তব্য প্রচার করছে যাতে দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্ত করেন, সেনাবাহিনীসহ স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো মানে হলো, একটি নতুন সেনাবাহিনী সৃষ্টি করার মতো ব্যাপার।

    আইএসপিআর প্রধান আরও বলেন, ইমরানের সাম্প্রতিক টুইটগুলো আত্মবিশ্বাসের অমূলক অহংকারের প্রকাশ এবং এই অহংকার জাতির স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক। তিনি নিজের তুলনাও করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ইমরান খানের তুলনা ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।

    সেনাবাহিনীর জন্য তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে সব সময় প্রধান কর্তৃপক্ষ হলো রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার। সেনাবাহিনী তাদের অধীনস্ত, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেটা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যাবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।

    তিনি আধুনিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করা উচিত। কোনো ষড়যন্ত্র বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তান থাকবে, সেনাবাহিনী থাকবে, এই প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন তিনি।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট প্রস্তাব: ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলোর উপরে জোর

    পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট প্রস্তাব: ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলোর উপরে জোর

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং চীনকে কেন্দ্র করে একটি ত্রিদেশীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জোটে আরও অন্যান্য দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পরিধি আরও বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া, তিনি জানান, এই অঞ্চলের বাহিরে অন্য কোনও দেশের অংশগ্রহণও সম্ভব হতে পারে।

    গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কনক্লেভ ফোরামে এক বক্তৃতায় ইশহাক দার বললেন, “আমরা আন্দোলিত হয়ে অন্যের ক্ষতি নয়, বরং সহযোগিতার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। আমরা সবসময় সংঘাতের বদলে সম্প্রীতির দিকে এগোতে পছন্দ করি।” তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই জোট পাকিস্তানের জন্য সার্কের বিকল্প কিছু প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অংশ, কারণ ভারতে বিরাজমান উত্তেজনার কারণে সার্ক কার্যকর থাকতে পারেনি।

    জানা গেছে, 지난 জুনে চীন-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছিলেন, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। তারা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এ আলোচনা কোনও অন্য দেশের লক্ষ্য নয়।

    অবশ্য, ইশহাক দার এই কথাবার্তার সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা চলমান থাকাকালে সেই আলোচনাগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেন। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ-সংঘাত চলে আসছে, যার মধ্যে মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধও হয়েছিল। এছাড়া, গত বছর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় সম্পর্কের তিরি ডুবতে থাকে। মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখনো তাকে ফেরত পাঠানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

    পাকিস্তানের এই প্রস্তাব বা উদ্যোগ কেমন ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা চলছে। ইসলামাবাদ কনক্লেভে ইশহাক দার বললেন, “আমাদের নিজের জাতীয় উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্বার্থ বড়, সুতরাং কোনও রাজনৈতিক অচলাবস্থা আমাদের অগ্রগতি রুখে দেবে না। আমি জানি, ভারতের সাথে সম্পর্ক আরও আরও ভালো করার ওপর আমাদের গুরুত্ব দেওয়া দরকার।”

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সীমাবদ্ধ সম্পর্কের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক অঙ্গনে অনেক সম্ভাবনা অপচয় হচ্ছে। তবে, সার্কের বদলে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে বের করতে চাই।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হবে এবং চীন-ভারত সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হবে।

    সাধারণত, দক্ষিণ এশিয়া বড় আঞ্চলিক সংগঠনের ব্যর্থতা, উচ্চ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের কারণে স্বল্প পরিসরে উঠে আসা এই প্রস্তাব নতুন আঞ্চলিক জোটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তোলে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগ কার্যকরী হলে এর ফলাফল আরেকবার দেখাতে পারে আঞ্চলিক সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বের বাড়বাড়ন্ত। সবকিছুর উপর নির্ভর করছে এই জোট কেমনভাবে গড়ে ওঠে ও দেশের স্বার্থে কতটা কার্যকর হয় সেটাই দেখার বিষয়।

  • ফোনে আড়িপাততে মরিয়া ভারত সরকার, এবার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা

    ফোনে আড়িপাততে মরিয়া ভারত সরকার, এবার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা

    ভারত সরকার নজরদারির আধুনিকীকরণে নতুন একটি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে, যেখানে আরেকধাপে স্মার্টফোনগুলোতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্থানে থাকার খবর বা স্থান নির্ধারণের সেবা সবসময় চালু থাকবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুমতি বা সেটি বন্ধ করার সুযোগ থাকবে না, যা অধিকতর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে সরকার বা প্রভাবশালী সংস্থাগুলির জন্য ব্যবহারকারীকে নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করাও অনেক সহজ হয়ে যাবে।

    খবরের সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন নথি, ইমেল এবং মোট পাঁচটি স্বতন্ত্র সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তাহলে স্মার্টফোনে থাকা লোকেশন পরিষেবাগুলোর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে, এবং ব্যবহারকারী চাইলে সেই পরিষেবাগুলো ডিঅ্যাকটিভেট বা বন্ধ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত এই-জিপিএস প্রযুক্তি তখনই সক্রিয় হয় যখন ব্যবহারকারী কোন অ্যাপ চালু করে বা জরুরি কল করে, কিন্তু নতুন প্রস্তাব এড়াতে পারবে না। ফলে, সরকারের জন্য ব্যবহারকারীর অবস্থান প্রায় নিখুঁতভাবে জানতে পারা সহজ হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটেনের ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জুনাদে আলী এই নতুন পরিকল্পনাকে ‘একটি সম্পূর্ণ নজরদারি ডিভাইস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে ফোনগুলো সম্পূর্ণরূপে বর্তমানের থেকে আলাদা একটি নজরদারির যন্ত্র হয়ে উঠবে।

    এর আগে, মোদি সরকার সকল ডিভাইসের মধ্যে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ প্রি-লোড করার নির্দেশ দিলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্কের মুখে সেটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। এই পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই নতুন পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    অতিরিক্ত তদন্তে দেখা যায়, টেলিকম সংস্থাগুলোর কাছে আইনি অনুরোধ করেও তারা ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান নির্ধারণে অক্ষম। বর্তমান ব্যবস্থায়, সংস্থাগুলো কেবলমাত্র সেলুলার টাওয়ার ডেটা ব্যবহার করে থাকে, যা আনুমানিক এলাকা নির্দেশ করে। এই ডেটা অনেকাংশে ব্যবহারকারী থেকে কিছু মিটার দূরে দেখায়। অন্যদিকে, এই-জিপিএস প্রযুক্তি এক মিটারের মধ্যেই অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

    প্রস্তাবিত এই প্রযুক্তির ব্যাপারে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগ সংস্থা যেমন রিলায়েন্সের জিও ও ভারতী এয়ারটেল-এর প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারের যদি নির্দেশনা থাকে, তবে তারা এ-জিপিএস প্রযুক্তিক সক্রিয় করতে পারে।

    বিশেষ করে, লবিং সংস্থা ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (আইসিইএ), যা অ্যাপল ও গুগলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের এক গোপন চিঠিতে জানিয়েছে, এই ধরনের স্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অন্য কোথাও দেখা যায় না এবং এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

    অপরদিকে, মার্কিন ভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কুপার কুইন্টিন এমন পরিকল্পনাকে ‘সত্যিই ভয়ানক’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের 위험 বাড়াতে পারে।

    এখনো ভারতের সরকার এই বিষয়ে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেনি, তবে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ও লবিং সংস্থা এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা মনে করছে, এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী যেমন সামরিক অফিসার, বিচারক, কর্পোরেট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠবে, কারণ তাঁদের সংবেদনশীল তথ্য থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়বে।

    অন্যদিকে, টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোর দাবি, পুরোনো ট্র্যাকিং পদ্ধতিগুলোর কারণে অনেক সময় সমস্যা হয়, বিশেষ করে যখন মোবাইল প্রস্তুতকারীরা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার জন্য পপ-আপ বার্তা দেখায়। সেই বার্তাগুলোতে লেখা থাকে যে, তাদের নেটওয়ার্কের দ্বারা তাঁদের স্থানাঙ্কের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারে যে তাদের স্থান ট্র্যাক করা হচ্ছে। ফলে, সংস্থাগুলো সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, এই পপ-আপ ফিচারটি ডিঅ্যাকটিভেট করার সুযোগ দিতে। তবে আইসিইএ বলছে, ব্যবহারকারীর স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই ধরনের সতর্কতা সংবিধান ও গোপনীয়তা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

  • পাকিস্তানে কারাগারে ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    পাকিস্তানে কারাগারে ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তিনি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তিনি ইমরানকে ‘যুদ্ধ উন্মাদনায় মগ্ন চরমপন্থি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ইমরানকে ‘মানসিক রোগী’ ও দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে সরকার তার সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা জিও টিভির ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, “কয়েদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আইন এবং নিয়মানুযায়ী। এখন আর কোনো সাক্ষাৎ হচ্ছে না। সব ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি কেউ জোরপূর্বক ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চায় বা এ নিয়ে আন্দোলন করে, তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেল থেকে শত্রুদের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। উল্লেখ্য, দুই দিন আগে ইমরান খান তার বোন উজমা খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে দেখা করেন। এরপর তিনি জানাতে পারেন, সেনাপ্রধান অসীম মনিরের কর্মকাণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ। ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে কারাগারে থাকছেন। গত সপ্তাহে তার সঙ্গে কারাগারে কারো যোগাযোগ হয়নি বলে সমালোচনাও উঠেছিল। এরই মধ্যে পিটিআই প্রতিষ্ঠার জন্য বিক্ষোভও শুরু হয়েছিল। তবে তার বোন উজমা খানকে দেখা করতে দেওয়া হয় ক্ষণিক সময়ের জন্য।

  • পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগানিস্তানে চারজন নিহত

    পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগানিস্তানে চারজন নিহত

    আফগানিস্তানের বোলদাক বিভাগের সীমান্তে পাকিস্তানি ও আফগানি সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে চারজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। কাবুলের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, এই চারজনে সাধারণ নাগরিক ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত রাতের প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে, যখন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলির শব্দে ভágioপ্রাপ্ত হয় পুরো এলাকাটি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই গোলাগুলি চলতে থাকায় আকাশে ও জমিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।

    উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতি গত অক্টোবর থেকে অব্যাহত আছে। ঐ মাসে দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যেখানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সেই সংঘাত কিছুটা কমে আসলেও সম্প্রতি আবার সেটি জোরদার হয়েছে।

    কিছুদিন আগে সৌদি আরবে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে কে আগে গুলি চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়; উভয় পক্ষই একে-অপরের উপর দোষারোপ করছে।

    কান্দাহার প্রদেশের গভর্নর জানান, চারজনের মৃত্যুর তথ্যটি তারা নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, চামান সীমান্তে পূর্বাভাসবিহীনভাবে আফগান সেনারা প্রথমে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলী মোহাম্মদ হাকমাল বলেছেন, পাকিস্তানি সেনারা হালকা ও ভারী কামান দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ কামানের গোলা বেসামরিক মানুষের বাড়িতে আঘাত হেনেছে।

    দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শান্তি বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • নগরীতে দোয়া ও প্রার্থনা: মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় স্বাস্থ্য কামনা

    নগরীতে দোয়া ও প্রার্থনা: মসজিদ, মন্দির ও গীর্জায় স্বাস্থ্য কামনা

    খুলনায় বিএনপি নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্যের জন্য ব্যাপক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল জুমাতের নামাজের পর নগরীর নিউমার্কেটের বায়তুল নূর জামে মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধারণ মুসল্লি, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

    দোয়া অনুষ্ঠানের আগে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীই নন, তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের, মানবাধিকার ও ভোটাধিকার সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশের সকলের দোয়া সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি আল্লাহর কাছে তার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করেন।

    তুহিন আরো বলেন, এই সময়টি জাতির জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বেগম জিয়ার অবদান অস্বীকার করা যায় না। তার সুস্থতা এখন লাখো মানুষের প্রত্যাশা ও উদ্বেগের বিষয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির ইকবাল বাপ্পি, নেতা নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ কাজী নজরুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, শওকাত আলী বিশ্বাস লাবু, আবু আরা, ইয়াসিন শেখ, আবু বক্কার মীর, শেখ ফারুক হোসেন, ইশতিয়াক উদ্দিন লাভলু, সাঈদ হাসান লাভলু, ইয়াজুল ইসলাম অ্যাপোলো, গাজী আনিস, বেল্লাল হোসেন, মীর সুমন, মোহাম্মদ রনি, আ. সুলতান মাহমুদ সহ অসংখ্য নেতা-কর্মী।

    দোয়া মাহফিল চলাকালে নিউমার্কেট এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। দোয়া শেষে নেতা-কর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাদের প্রিয় নেত্রীর দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন।

    অতিরিক্ত হিসেবে, খুলনা মহানগর, সদর, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী থানাসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও পৃথক দোয়া-মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি, সুস্থতা ও দীর্ঘায়ুর জন্যে প্রার্থনা করা হয়; এমনকি বিভিন্ন মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাতেও বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সবাই একসাথে মানত করেন নেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায়।