Blog

  • খুলনায় জ্বালানী তেল সরবরাহ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে ৩৫ ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ

    খুলনায় জ্বালানী তেল সরবরাহ ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে ৩৫ ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ

    খুলনা মহানগর ও জেলার জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ৩৫ জন সরকারি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুরুল হাই মোঃ আনাছের স্বাক্ষরিত সরকারি আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে মহানগরে ১৭ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৮ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের নিজ নিজ ফিলিং স্টেশনে নিয়মিত উপস্থিত থেকে তেলের সরবরাহ, সংগ্রহ, মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম মনিটর করবেন।

    নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারদের প্রধান দায়িত্ব হলো, প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক মজুদ রেকর্ড করা, ডিপো থেকে সরবরাহকৃত তেলের পরিমাণ যাচাই, ডিসপেন্সিং মেশিনের মিটার রিডিং পর্যবেক্ষণ ও বিক্রয় শেষে মজুদ পর্যালোচনা করা। এছাড়া তারা অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী মজুদ ক্ষমতা পরীক্ষা, ট্যাংক বা সংরক্ষণের উপযুক্ততা নিশ্চিত এবং ভোক্তার জন্য অবৈধ বিক্রি রোধে সচেতন থাকবেন।

    ট্যাগ অফিসাররা দিনে অন্তত তিনবার স্টক আপডেট নিশ্চিত করবেন। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি শুরু না হয়, তাহলে প্রথমে সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং তৃতীয়বার পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সাময়িক স্থগিতাদেশের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক এই উদ্যোগের মাধ্যমে খুলনায় তেল সরবরাহের কার্যক্রম আরো স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিমুক্ত করে তোলার আশা প্রকাশ করেছেন।

    প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের রিপোর্ট তারা নিয়মিত সংরক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তথ্য পাঠানো হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বেশি কার্যকরি ও সুষ্ঠু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • খুলনায় চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড

    খুলনায় চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ড

    খুলনার শিববাড়ি মোড় এলাকায় একটি চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকা- নের ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে। ঘটনাটি ঘটে আদ-দ্বীন হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে, যেখানে হঠাৎ করে আগুন লেগে গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। তবে সেখানে কোনো রোগী ছিলেন না; গাড়িতে ছিলেন শুধু চালক।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দ্রুত অভিযানে আসা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। অ্যাম্বুলেন্স চালক মোল্লা সোহাগ বলেন, আমি আদ-দ্বীন হাসপাতালে থেকে ময়লাপোতা মোড়ে যাচ্ছিলাম। সেখান থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে আবার রওনা দিই। যখন শিববাড়ি মোড়ে আসি, তখন দেখতে পাই গাড়িটি বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ মনে হলো আগুনের তাপ। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম আগুনের ধোঁয়া এবং তাপে চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। পেছনের অংশে কিছু চুলও পুড়ে যায়। আমি দ্রুত গাড়ি থেকে নামি এবং জানাই অফিসের স্যারকে। সিনিয়র কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিদাহ নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল হক বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমরা দুটি ইউনিট মাত্র ৫-১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিক ধারণা, এটি ইঞ্জিনে ওভারহিট বা অতিরিক্ত গরমের কারণে ঘটে থাকতে পারে, যার ফলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয়। ঘণ্টা চলাকালীন গাড়িটি চলন্ত অবস্থায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই অগ্নিকা- ঘটে।

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হোসেন জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এর কারণ দেরিতে জানা গেলেও ঘটনাটির প্রকৃতি ও কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    রিজার্ভ কমে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কিছুদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়ে এখন ৩৩.৯৯ বিলিয়ন ডলারে এসে পৌঁছিয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 최신 তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯.৩০ বিলিয়ন ডলার।  

    আরিফ হোসেন খান উল্লেখ করেন, “মূলত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানির জন্য পণ্য আমদানি মূল্য পরিশোধের কারণে রিজার্ভে কমতি এসেছে। তবে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ভালো থাকায় রিজার্ভের ওপর কিছুটা চাপ কমে গেছে। অন্যথায়, এটি আরও কমে যেতে পারতো। বর্তমানে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখনও সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।”

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এর আগে গত ১৬ মার্চ রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার, এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ান ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

    বর্তমানে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা মোটামুটি পাঁচ মাসের আমদানি প্রয়োজনীয়তা পূরণে সক্ষম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, দেশের কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকা জরুরি। সেই দিক থেকে দেখা হলে, বাংলাদেশ এখনও স্বস্তিতে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অর্থনীতি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • প্রবাসীর আয়ে নতুন রেকর্ড, ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ডলার

    প্রবাসীর আয়ে নতুন রেকর্ড, ২৮ দিনে এসেছে ৩৩৩ কোটি ডলার

    চলতি মার্চ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের বিশাল এক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৮ দিনেই বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানিয়েছেন, চলতি মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশের বৈদেশিক রেমিট্যান্স এসেছে এত বিপুল পরিমাণ, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা এই সময়ের প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।

    ব্যাংকারদের ধারণা, রমজান ও ঈদুল ফিতর আসার সময়ে সাধারণত প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠায়। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার কারণে অনেক প্রবাসী দেশের অর্থ সরাসরি পাঠিয়ে থাকতে পারেন। এই প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চের ২৮তম দিন পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩১ দশমিক ০২ বিলিয়ন বা ৩৪ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা দেশের একক অর্থবছরে সবচেয়ে বড় রেকর্ড।

    তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে প্রবাসী আয়ের উপর। সংঘর্ষ চলমান থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। যদি পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়, তবে নেতিবাচক প্রভাব সীমিত থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংকটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৭ শতাংশ আসে উপসাগরীয় আস্তরণের দেশগুলো থেকে, যেখানে দেশের জনশক্তি রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বাজারও অবস্থিত। এই অঞ্চলের যেকোনো সংকটই সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে।

  • দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেলো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এখন দেশের মোট রিজার্ভ মোট ৩৪ হাজার ৫৭ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হয়েছে। এই তথ্য সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৩৫৯ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার, বা প্রায় ২৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে, ২৯ মার্চ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং একই সময়ের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার।

    নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে, যেখানে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি বোঝা যায়। এর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত অর্থনীতির স্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

  • রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা: সিপিডি

    রাজস্ব দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা: সিপিডি

    সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করছে, দেশের দীর্ঘদিনের রাজস্ব আহরণের দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নে প্রধান এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনীতি আরও চাপের মধ্যে পড়বে।

    মঙ্গলবার, ৩১ শে মার্চ, ঢাক city’s ধানমন্ডিতে আয়োজিত একটি আলোচনায় এই বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এটি ‘নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে ভাবনা’ শীর্ষক ছিল এবং এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

    ড. দেবপ্রিয় বলেন, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়নের সময় এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

    তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের রাজস্ব সংগ্রহে দুর্বলতা মূলত বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য চাহিদা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, অতীতের ঋণের বোঝা ও বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণে নতুন আর্থিক সুস্থতা অর্জনও কঠিন হয়ে পড়ছে। দরকার আরও বেশি কর হলেও, এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা কমানোর ওপরেও মনোযোগ দিতে হবে।

    সিপিডি বলছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, উচ্চ আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিতিশীলতার কারণে। এই পরিস্থিতিতে, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটটি বাস্তবসম্মত হওয়া ও প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

    আলোচনায় আরো বলা হয় যে, করের আওতা আরও বিস্তৃত করতে হবে, বিশেষ করে যাদের এখনো করের আওতায় আনা হয়নি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ছাড়াও, সাধারণ মানুষও যাতে করের বোঝা কমতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আয় বৃদ্ধি উপরেও গুরুত্ব আরোপ করে বলা হয়, যদি এ প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের আয় বাড়াতে না পারে, তবে ভর্তুকি দিয়ে চালানোর যৌক্তিকতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

  • সারা বছরই করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    সারা বছরই করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, এখন থেকে করদাতারা বছরের যে কোনও সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে যারা দ্রুত রিটার্ন জমা দেবেন, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন চার ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে, যাতে এটি সহজ ও স্বচ্ছ হয়।

    প্রতিবছর জুনের শেষে এবং নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নের জন্য নির্ধারিত থাকলেও, করোনা মহামারির কারণে চলতি বছর সময় বৃদ্ধি করে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা করছে এনবিআর। এছাড়া, পরবর্তী তিন মাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রবাহ আরো জোরদার হয়।

  • কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রমের পর থেকে তিনি নানা বিষয় নিয়ে আলোচনায় ও সমালোচনায় ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী। তাঁর মন্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়, যা অনেকের আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করে। আজ বুধবার সকালে এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি কেউ তাঁর কথা বা কাজে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, “গত কিছু দিন আমি আমার বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও প্রিয় সহযোদ্ধাদের সাথে কিছু খোলামেলা ও আন্তরিক কথাবার্তা বলার সুযোগ পেয়েছি। সবাই থেকে আমি সুন্দর পরামর্শ পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনে কথা না বলা ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া।”

    তিনি আরও বলছেন, “আমি বিনয় ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই পরামর্শগুলো গ্রহণ করছি এবং ভবিষ্যতেও শান্ত, দোষ মুক্ত ও দায়িত্বশীল আচরণে মনোযোগ দেব। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন के জন্য আমি আমার সক্ষমতার মধ্যে থেকে কাজ চালিয়ে যাব।”

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও জানান, “যদি কেউ তাঁর কথায় বা কাজের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি। আপনারা যারা দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ দেন, তারাই আমার শক্তির উৎস।”

    তিনি বলেন, “গতকাল আমি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে এই আত্মিক যাত্রার এক নীরব সূচনা করেছি। আল্লাহ আমাদের সকলকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”

  • ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, জামায়াতের আমিরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে ভাষণ

    ‘নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এসেছি’, জামায়াতের আমিরের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে ভাষণ

    মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. Shফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একান্তই একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে এখানে এসেছি। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আচার, আর আমরা সবার মতো এই পবিত্র দিনে শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে গিয়েছি।শনিবার (২৬ মার্চ) সকাল বেলা, শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের জন্য বিশেষ ভাবে মোনাজাত করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় এসব কথা বলেন।তিনি আরও বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, যেন আমাদের শহীদদের বিদেহী আত্মाएं শান্তি পায়। পাশাপাশি, দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা রক্ষায় দেশবাসীর অঙ্গীকার এবং এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি পালন করে দেশের উন্নয়ন কামনায় আমরা প্রার্থনা করেছি। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আমাদের লক্ষ্য হলো অহিংসা, দারিদ্র্যহীন ও বৈষম্যবিহীন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি সবাইকে দেশের স্বার্থে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান এবং দেশবাসীকে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি।

  • প্রথমবারের মত বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে তারেক রহমানের উচ্ছ্বাস

    প্রথমবারের মত বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে তারেক রহমানের উচ্ছ্বাস

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই এর আগে কখনো নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতি দেখানো হয়নি। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলে নেতাকর্মীরা উল্লাসের সঙ্গে তাকে স্বাগত জানায়। এর আগে, সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তাঁর গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানাতে থাকেন। এই সময় তারেক রহমানের গাড়ি কার্যালয়ের সামনে আসতেই নেতাকর্মীরা গাড়ির দরজায় হাত নেড়ে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তবে, এর আগের দিন সন্ধ্যার দিকে দলের নেতা-কর্মীরা নানা শ্লোগান ও ব্যানার নিয়ে ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে নয়াপল্টনের মূল সড়ক ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে দুপুর আড়াইটা থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা কার্যালয়ের সামনের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন, বিকেলের পর পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। সন্ধ্যায় এটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা হয়। দলের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবর দিয়ে বলেছেন, নেতাকর্মীদের জন্য তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কিছু সময় সাক্ষাৎ করতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি কার্যালয়ে এসে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সড়ক ও ট্রাফিক নিয়মনীতির মধ্যে থেকে সেখানে আসা-যাওয়া চালিয়ে যেতে হবে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের চেষ্টা করা উচিত সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, তবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচল ও যানজট যেন না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।’ এদিকে, নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধৈর্য্য ও সাহস বজায় রাখতে তিনি অনুরোধ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, সকলের সহযোগিতা থাকলে তিনি অফিসে আসতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরে আইন শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাধারণ মানুষ কষ্ট বা দুর্ভোগে না पड़েন।’ বক্তৃতার শেষ অধ্যায়ে তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ‘প্রথম ও প্রধান কাজ এখন আমাদের রাস্তা পরিষ্কার রাখা, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে। ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে আমাদের জন্য আসা কঠিন হবে।’ এর আগে বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছার সময় নেতাকর্মীরা তাকে বিপুল উচ্ছ্বাসে স্বাগত জানান। এই ঘটনায় নয়া পল্টনসহ আশপাশের সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দুপুর থেকেই নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় ও আশপাশে জড়ো হতে থাকেন। পুরো এলাকা নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখর হয়ে যায়। মোটকথা, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের এই প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আবেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমর্থন পেয়েছে।