Blog

  • এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৩ কোটি ডলার

    এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৩ কোটি ডলার

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লাভ করেছে। এ মাসে বাংলাদেশে মোট ৩১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ৪২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
    তারা জানান, গত এপ্রিল মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে গত বছর দেশের বাইরে থেকে এসেছিল ২৭৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, অর্থাৎ তুলনায় ১২.৫৬ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
    অর্থনৈতিক বছর ২০২৩-২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯.৫০ শতাংশ বেশি।
    বিশেষ করে, চলতি বছরের মার্চ মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যেখানে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠানো হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।
    অতীতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও যথাক্রমে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ও ৩০৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বরের অপেক্ষাকৃত বেশি ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
    তারা আরও জানান, গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে। আগের মাসগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ দেখা গেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
    এদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে এক নাগাড়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড। এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভারসাম্য ও ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য প্রবাসী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

  • বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো: ভরি কত? তাজা আপডেট

    বাংলাদেশে সোনার দাম কমলো: ভরি কত? তাজা আপডেট

    বাংলাদেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। একের পর এক স্বর্ণের দাম নির্ধারণে পরিবর্তন আসলে দেশের স্বর্ণচাহিদা ও বৈষম্য বজায় রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এবারে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে, উচ্চ মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি এখন দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা পড়ে গেছে, যা আগে ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

    বুধবার (৫ মে) সকালে বাজুস একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম পরিবর্তনের তথ্য জানায়। নতুন মূল্য নির্ধারণের সময় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড (প্রিয় স্বর্ণ) এর দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমেছে। এই নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার বাজার দরে এক ভরি নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা।এছাড়াও, অন্যান্য মানের স্বর্ণের দাম ধাপে ধাপে নির্ধারিত হয়েছে। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দামের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকা।

    প্রতি ভরি রুপার দামও অপরিবর্তিত থাকছে। ২২ ক্যারেটের রুপার দাম বর্তমানে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা।

    বিশ্ব বাজারে এর মধ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে সোনার মূল্য সম্প্রতি ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে এসে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে, ৩০ জানুয়ারি এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি তা ৫ হাজার ৫৫০ ডলার পর্যায়ে উঠেছিল। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে সোনার দামও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কমে এসেছে।

  • সোনার দামে আবারও দফা বৃদ্ধি

    সোনার দামে আবারও দফা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আবারও টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা বর্তমানে ২২ ক্যারেটের ভাল মানের সোনার ভরি এখন দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে বুধবার (৭ মে) সকালে বাজুস এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নতুন এই দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটির জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বাজারে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি নির্ধারিত হয়েছে দুই লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ভরির দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য ভরি দামের নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    অতিরিক্তভাবে, রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৫৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৭২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৮ টাকায়।

    বিশ্ববাজারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণ ও রুপার দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব দেশে এসে মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে জানুয়ারিতে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, ২৯ জানুয়ারিতে ওঠে ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    এদিকে, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও তা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় নিয়ে যায়, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ স্তরে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে সোনার দাম আগে কখনো এত বেশি বাড়েনি, যা সত্যিই এক নজিরবিহীন ঘটনা।

  • সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে; সনদ বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে

    সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে; সনদ বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে

    সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনের আগে যারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দেখানো হচ্ছে সরকার আসলে কর্তৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে চলেছে। ৩ মে রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকে আমি বলেছিলাম, এটি এক ধরনের প্রতারণার সংসদ। কেন আমি এই সংসদে এসেছিলাম এবং কী পেলাম? সরকার যখন আইন করে ক্ষমতা বাড়ানোর অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত করে আইনগত রূপ দিচ্ছে, তখন মুক্তিপ্রাপ্ত মূল দাবি ও জবাবদিহির বিষয়গুলো লুকানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময় ভোটচুরি ও স্থানীয় প্রতিনিধি অপসারণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা এখন সরকারের পক্ষ থেকে আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা এখন খুব সহজে পাওয়া যাবে। বিরোধীদলের কাউকে অপছন্দ হলে তারা সরিয়ে দিতে পারবে পছন্দের প্রশাসক বসানোর জন্য। এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। বরং তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পুলিশ কমিশন তৈরি, সংবিধান সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কিন্তু ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে গিয়ে এটি সবই আর সম্ভব হলো না; বরং তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন ঘটছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পরের ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, ক্ষমতাসীন দলগুলো আসলে সংস্কার করতে চায় না, বরং তারা পুরনো ক্ষমতা ধরে রাখতে চান। বাংলাদেশের এলিট বুরোক্রেসি, সিভিল ও মিলিটারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, ফলে বরং সংস্কার বাধা পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্প্রতি সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলারা বলছেন, কানাডায় যদি এক মন্ত্রী এরকম মিথ্যা কথা বলতেন, তাহলে সেদিনই পদত্যাগ করতে হতো। সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও শাসন বিভাগে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা। সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির প্রথমে ঘোষিত র‌্যাডিকেল কিছু প্রস্তাব ছিল, যেমন একজন ব্যক্তিই এক সঙ্গে সরকারের প্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না, কিন্তু বিএনপির চাপের কারণে তা পরিবর্তিত হয়। এখন বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়েছে, বলছেন তিনি। সারোয়ার তুষার জানান, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ, বিশেষ করে সংবিধান ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবগুলো। তিনি আরও বলেন, দলীয় ও নির্বাচনী ইশতেহারে যে সংস্কারসমূহের কথা বলা হয়েছে, তা কার্যকর করতে তারা অসমর্থ। মূলত, তারা সংবিধানেও দলীয়করণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে, সংস্কার এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা নোট অব ডিসেন্ট তুলে ধরে নিজেদের ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ রেখেও মূল ব্যাপারগুলোতে একমত নয়। গণভোটের পরে তাদের অবস্থান স্পষ্ট, এখন বড় বিষয় তারা কি করবেন। তারা চারটি প্রশ্নে আপত্তি জানালেও মূল বিষয়গুলো ছিল উচ্চকক্ষের নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সংবিধানসম্মতভাবে নিরপেক্ষ করে তোলা। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, তারা এসব বিষয়েও অঙীকার ভঙ্গ করছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত দ্রুত সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

  • খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা: পদপ্রত্যাশীদের লবিং চলছে

    খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা: পদপ্রত্যাশীদের লবিং চলছে

    খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ সময় ধরে কমিটি না থাকার কারণে সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যদিও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিছু চাঞ্চল্য দেখা গেছে। তবে, এখনো চূড়ান্ত নেতৃত্বের অভাব রয়েছে, তাই কর্মী ও নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছেন। খুলনায় ছাত্রদলের নেতৃত্বের জন্য ডজনখানেক নেতার মধ্যে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সম্পর্কিত সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যিনি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হুইপ, তার ওপর অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

    ২০১৯১ সালের ২৪ মার্চ ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিককে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন হয়। এই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানার অন্তর্ভুক্ত ৩১টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠন করে সংগঠনের ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে, তিন বছর পার হয়ে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একইভাবে, জেলা ছাত্রদলের কমিটিও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নয়। ২০১৬ সালে মান্নান মিস্ত্রি সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গঠিত কমিটি তার দায়িত্ব আট বছর ধরে পালন করে। এই সময়ে তারা ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৯টি থানার অন্দরে ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। তবে, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর একই দিনে জেলা কমিটিও অবসরে যায়।

    চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে, কেন্দ্রীয় নেতারা ৫ আগস্ট থেকে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করেন, তাদের মেয়াদ শেষ বলে মনে করে। তবে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি গঠনে দেরি হচ্ছে। বর্তমানে মাঠের ইউনিটগুলো কার্যকর থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ে কোনও অভিভাবক বা শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকার কারণে খুলনায় ছাত্রদলের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্বের জন্য ব্যাপক যাচাই ও অনুসন্ধান চলছে, এবং এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সদস্য ও খোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। ভবিষ্যত নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষে আছেন সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মো. শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ।

    অপরদিকে, জেলা নেতৃত্বের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

    জেলার সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যদি নতুন কমিটি গঠন হয়, তবে প্রকৃত ত্যাগী নেতারা নেতৃত্বে আসবেন। ঝঞ্ঝাটের মধ্যে এক ধরনের আশার আলো দেখছে তারা। তাজিম বিশ্বাস উল্লেখ করেন, ছাত্রদল বিএনপি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলের সাথে যুক্ত হয়। বর্তমানে সংসদে বেশিরভাগ মন্ত্রী ও এমপির আগের ছাত্রনেতা থাকায়, দলের গতিশীলতা বাড়াতে দ্রুত নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে।

  • এনসিপি ঘোষণা করবে ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা

    এনসিপি ঘোষণা করবে ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থীরা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ১০০টির বেশি উপজেলা ও পৌরসভায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা। তবে কিছু ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় আমরা সেই তারিখ রাখতে পিছিয়ে গিয়েছি।তবে আশাবাদী, আগামী ১০ মে’র মধ্যে আমরা আমাদের প্রাথমিক প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে পারবো।আজ মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলামোটর রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিক ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।সারজিস আলম আরও বলেন, এ মাসের মধ্যে ঢাকার সাতটি সিটি করপোরেশনের জন্য এনসিপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম বাদে অন্য প্রার্থীরাও ঘোষণা করবে তারা। বর্তমানে আমরা একটি ১১ দলের জোটের অংশ। বিরোধীদল হিসেবে আমরা রাজনীতি করছি। সংসদে আমাদের ভূমিকা থাকলেও, সংগঠনিক এবং রাজনৈতিকভাবে এককভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠার প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছি। এজন্য বিভিন্ন নির্বাচনে আমরা আমাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করব।সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একটি পরিকল্পিত টালবাহানা করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেরি করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে নেওয়ার জন্য তারা ইচ্ছা করছে। তারা ইতিমধ্যে জেলা ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসন বরাদ্দ দিয়েছে।তাতে তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান নেই। তারা পূর্বে ক্ষমতাসীনদের মতো ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার পাঁয়তারা শুরু করেছে। শুনছি তারা উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করারও চেষ্টা করছে। এই ধরনের ক্ষমতা বৃহৎ স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের তারিখ এই বছরের মধ্যেই নির্ধারণ করতে হবে।

  • এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামী পুত্র ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধররা

    এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামী পুত্র ও হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধররা

    জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী বিশিষ্ঠ ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর ও আন্দোলনের নেতাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, গাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফসহ ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগদান করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান বর্তমানে তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারেননি; তবে তিনি অনলাইনে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রায় চার হাজার সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে ৫০ সদস্য উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।

    সংবাদ সম্মেলনে হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরি হয়েও আমি এনসিপিতে একজন কর্মী হিসেবে কাজ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাজী শরীয়তুল্লাহ কোনো রাজা ছিলেন না, তিনি এ দেশের গ্রামের সাধারণ কৃষক জনগণের নেতা ছিলেন। নেতা এবং রাজার মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। আমরা কাউকে পূজা করি না, বরং চাই আমাদের নেতা যদি ভুল কী করে, আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারি। এই দলটির মূল উদ্দেশ্য হলো, যদি আমাদের সিদ্ধান্ত ভুল হয়, আমি ন্যায়কে সমর্থন করতে পারি এবং অন্যায়ের বিরुद्ध দাঁড়াতে পারি।’

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘দেশের হারানো পথ 찾ার দায়িত্ব নেবে এনসিপি। বর্তমান সংসদে বিএনপি বিশ্বাসঘাতকতা চালাচ্ছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আমরা অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাই।’

    দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে লুটপাটের চাঁদাবাজির সেক্টর বানানোর। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন ও উপজেলা, পৌরসভা নির্বাচন দিতে হবে চলতি বছরের মধ্যেই।’

    দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমান সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে, যা তারা সংসদে গর্বের সঙ্গে প্রকাশ করছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। অতীতে যারা এ রকম প্রতারণা করেছে, তারাই জনগণের রোষানলে পড়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যেমন সারাদেশে প্রশাসক নিয়োগ করেছিলেন, তারেক রহমানও সেই আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান। তারা বারবার গণতন্ত্রকে তাদের রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।’

    সংবাদ সম্মেলনে নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

  • নাহিদ: দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িকতার প্রচেষ্টা চালাবে

    নাহিদ: দেশবিরোধী গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রদায়িকতার প্রচেষ্টা চালাবে

    পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি বিরোধীদলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সুযোগে সাম্প্রদায়িকতা জ্বালিয়েছেন বলে দেখানো চেষ্টা করবে, তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের স্মৃতি হলে ইনসিপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ এক অঞ্চল। সেখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিষয় ভারতের অভ্যন্তরীণ হলেও নির্বাচনের আগে কয়েক লাখ ভোটারের নাগরিকত্ব বাতিল ও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চনা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, এই ভোটারদের মধ্যে বড় অংশ মুসলমান ও মতুয়া সম্প্রদায়ের।

    তিনি আরও যোগ করেন, সংসদেও বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান, মতুয়া, দলিত ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে দেন, বাংলাদেশে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উসকানি আরও বেশি দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিরোধী ও দেশের স্বার্থবিরোধী গোষ্ঠীগুলো নানা ধরনের উসকানি দেবে, সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা চালাবে, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে যাবে। আমাদের সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

    আহ্বায়ক বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষে আমাদের এখানকার দায়িত্ব আরও বাড়ছে। দেশের হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।’ তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করবে। মুসলমান, দলিত, মতুয়া এবং অন্যান্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের পক্ষে তিনি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে, দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যবন্ধনের আহ্বান জানান নাহিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো বিভাজন চলবে না। যে কোনো স্থান থেকে আসুক, সবাই যেন এনসিপির পতাকায় ঐক্যবদ্ধ থাকি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

    বক্তব্যের শেষে তিনি নেতা-কর্মীদের প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কি সবাই একত্র হয়ে থাকব?’ উত্তরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে সমর্থন দেন।

  • ঈদুল আজহায় ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

    ঈদুল আজহায় ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটির অনুমোদন দিয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ঈদের দিনসহ পুরো সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেড়াতে যেতে পারবেন। তবে ঈদের আগে অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ মে যথারীতি অফিস খোলা থাকবে। এই সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তির মধ্যে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। তবে এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনিবার ও রবিবার) সরকারি দপ্তরগুলো স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে।

    অপরদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এই নীতির উদ্যোগে মাঠে কাজ করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। দেশের সকল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন পাবলিক টয়লেট সুবিধার ব্যবস্থা করে জনস্বাস্থ্য উন্নত করা, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধাজনক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তুলবে। ভবিষ্যতেও নীতিমালা বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেটের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করবে। পাশাপাশি, উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। সব ধরনের টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণে সেফটি ট্যাংক নির্মাণের বাধ্যবাধকতা থাকবে, যাতে কোনোভাবেই বর্জ্য নদী, খাল বা জলাশয়ে ফেলে পানি দূষণ না ঘটে।

    জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আলাদভাবে কাজ করবে। সড়ক ও মহাসড়ক এলাকায় সড়ক পরিবহণ বিভাগ ও স্থানীয় الحكومة সমন্বিতভাবে নারীর এবং পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেবে। এই সব প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়নে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো উদ্যোগ নেবে।

    সব কিছু বিবেচনায় এনে এই নীতিমালার খসড়া সরকারের অনুমোদন লাভ করেছে, এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত, শিশুর চোখে গুলি

    চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত, শিশুর চোখে গুলি

    চট্টগ্রামের রৌফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে একজন যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন এক শিশু, যার চোখেও গুলি লেগেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১১টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ কলোনির শহীদ মিনার গলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাজু (২৪) রাউজান উপজেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি ওই এলাকার একটি বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। অন্যদিকে, আহত শিশু রেশমি আক্তার ১১ বছর বয়সী, যিনি রৌফাবাদ কলোনির রিয়াজ আহমেদ ও সাবেরা বেগমের সন্তান।

    স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাতে শিশু রেশমি আক্তার তার বাসার পাশের একটি দোকানে ছিল। একই সময়ে রাজু তার বোনের বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি দল সন্ত্রাসী হঠাৎ করে এলাকার মধ্যে গুলি চালাতে শুরু করে। তারই ছোঁড়া একটি গুলি রেশমির চোখে বিদ্ধ হয়, পরে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একই ঘটনায় রাজুও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

    আহত রাজু ও রেশমিকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রেশমিকে প্রথমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চক্ষু বিভাগের মধ্যে পাঠানো হয়।

    রাজুর বড় বোন রুমা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই চার দিন আগে এখানে বেড়াতে এসেছিল। কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো?’

    চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক বলেন, ‘গুরুতর গুলিবিদ্ধ এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বা গুলি চালানোর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।’

    মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’