Blog

  • মুস্তাফিজ-শরিফুলদের পিএসএলে খেলতে এনওসি মিলেছে, ছাড়পত্র ১২ এপ্রিল পর্যন্ত

    মুস্তাফিজ-শরিফুলদের পিএসএলে খেলতে এনওসি মিলেছে, ছাড়পত্র ১২ এপ্রিল পর্যন্ত

    পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে এবার পাঁচ বাংলাদেশি ক্রিকেটারের অনাপত্তি (এনওসি) মিলেছে। বিসিবি তাদের সবাইকে এনওসি দিয়েছে এবং তারা লিগটিতে খেলতে পারবেন চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত।

    লাহোর কালান্দার্স সরাসরি চুক্তিতে নিয়েছে বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। নিলামে দল পেয়েছেন রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমন। কিছু দিন আগে শরিফুল ইসলামও প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ডাক পেয়েছেন—এবং এখন তিনি পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে পিএসএলে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে নাহিদ রানার সঙ্গে পেশোয়ার জালমির হয়ে মাঠে দেখা যাবে শরিফুলকে।

    এছাড়া পারভেজ ইমন মুস্তাফিজের সঙ্গে লাহোরের জার্সি গায়ে তুলবেন। রিশাদ হোসেন খেলবেন রাওয়ালপিন্ডির হয়ে। খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের দলে না থাকায় এবং ঘরের মাঠে সিরিজের পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা সীমিত থাকায় এই ছাড়পত্র সম্ভব হয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশে অ্যারাইভ করার আগে পিএসএল থেকে ফিরতে হবে মুস্তাফিজ ও রিশাদদের—সেজন্যই ছেঁকে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবির এক বিশ্বস্ত সূত্র; সব খেলোয়াড়ের এনওসি মঞ্জুর হয়েছে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও সম্প্রতি বলেছেন, ওয়ানডে লাইন-আপে আমাদের প্রয়োজন যে খেলোয়াড়দের, সেক্ষেত্রে আপস করা হবে না। কিন্তু যদি কোন খেলোয়াড়ের টি-টোয়েন্টি উন্নতির দিক থেকে সুযোগ দেওয়া যায় এবং একই সময় আমাদের বিকল্পও থাকে, তখন তাদের ছাড় দেওয়া হবে।

    পিএসএল ২৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্স মুখোমুখি হবে হায়রাবাদ হিউস্টনের সঙ্গে—অর্থাৎ শুরু থেকেই মুস্তাফিজ ও ইমন মাঠে থাকতে পারেন। আর ২৮ মার্চের ম্যাচে মাঠে নামেন রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুল; যদি তিনজনই একাদশে থাকেন, তখন রানা-শরিফুলের পেশোয়া জালমি রাওয়ালপিন্ডির বিরুদ্ধে খেলবে এবং একই সময়ে মুস্তাফিজ-ইমনের লাহোরের বিপক্ষেও পেশোয়া ও রাওয়ালপিন্ডি হয়ে মাঠে দেখা হতে পারে। ফলে এবারের পিএসএলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কয়েকজন সতীর্থ একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন।

    খেলার সময় ও দলগত পরিস্থিতি ঠিক থাকলে দর্শকদের জন্য এটি আকর্ষণীয় হেড-টু-হেড কনটেস্ট হবে—এবং বাংলাদেশের তরুণ পেসারদের আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে আরও উন্নতির সুযোগও তৈরি হবে।

  • আইপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের দুঃসংবাদ: নিরাপত্তা ও চোটে উদ্বেগ

    আইপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের দুঃসংবাদ: নিরাপত্তা ও চোটে উদ্বেগ

    আইপিএলের শুরু আর বিদেশি তারকারা—দুইয়ের মাঝেই চলেছে অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আকাশপথে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছেন, ফলে ভারত আনার জন্য বিকল্প রুট খোঁজা প্রয়োজন পড়বে। আর এই উদ্বেগের সঙ্গে যোগ হয়েছে একের পর এক চোটের খবর, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হবে এবারের আইপিএল—তবে অনেক বিদেশি খেলোয়াড় শুরুর কয়েকটা ম্যাচ মিস করতে পারেন বা পুরো টুর্নামেন্ট থেকেও অনুপস্থিত থাকছেন।

    প্যাট কামিন্স: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ভাষ্যে কামিন্স মূলত দলে ফিরবেন, তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পিঠের চোটে ভুগছেন। ফলে আইপিএলের শুরুর ম্যাচগুলোতে তিনি দলে থাকবেন না; অধিনায়কত্ব সাময়িকভাবে ইশান কিষাণের হাতে দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কামিন্স দলভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েইছে, তবে তা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনুষ্ঠানিক ফিটনেস রিপোর্টের উপর নির্ভর করবে।

    মিচেল স্টার্ক: স্টার্ক বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট ইনজুরিতে নেই, তবে অতিরিক্ত কাজের চাপ বিবেচনায় তার নাম নিয়েও সতর্কতা অব্যাহত আছে। সাম্প্রতিক অ্যাশেজ সিরিজে কামিন্স-হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে বৃদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হয়েছে তাকে; সেই মর্মে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এখন অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে চান না। দিল্লি ক্যাপিটালস তখনই আশাবাদী হবে যখন স্টার্কের ফিটনেস সম্পর্কে ইতিবাচক সংবাদ পাওয়া যাবে।

    জশ হ্যাজলউড: গত মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিলেন হ্যাজলউড। এবার তিনি হ্যামেরস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস ইনজুরির পুনর্বাসন চলছে বলেই শুরুর ম্যাচগুলো মিস করতে পারেন। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ফিটনেস টেস্টে পাস করলেই তিনি দলে যোগ দেবেন।

    নাথান এলিস: সাদা বলের দলে নাথান এলিসের গুরুত্ব বড়, তবু হ্যামেরস্ট্রিং চোটের কারণে এবারের পুরো আইপিএল থেকেই তিনি ছিটকে গেছেন বলে জানা গেছে। চেন্নাই সুপার কিংস তার বিকল্পকে খুঁজছে।

    স্যাম কারান: ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে চেন্নাই থেকে ট্রেডে রাজস্থান রয়্যালসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু গ্রোয়িন ইনজুরির কারণে তিনি পুরো মৌসুমটি মিস করতে পারেন—এই কারণে রাজস্থানের প্রথম একাদশ পরিকল্পনায় বদল আনতে হবে।

    জ্যাক এডওয়ার্ডস: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে সম্ভাব্য ডার্বা বোলিং অপশন হিসেবে রাখা হয়েছিল তাকে, কিন্তু পায়ের চোটের কারণে এডওয়ার্ডস পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বাহিরে আছেন। ফলত হায়দরাবাদের বোলিং অপশনগুলোতে বড় ধাক্কা লেগেছে।

    লকি ফার্গুসন: পাঞ্জাব কিংসের কিউই পেসার লকি ফার্গুসন ব্যক্তিগত কারণে আইপিএলের প্রথম ভাগ মিস করবেন—সাম্প্রতিক সময় তিনি পিতৃত্বকালে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তিনি দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এখন নিরাপত্তা ও চোট—এই দুই সংকট মোকাবেলায় ব্যস্ত। বিমান маршруটে পরিবর্তন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস যাচাই ও বিকল্প খেলোয়াড় খোঁজা—এসব মিলিয়ে কড়া সময় কাটছে দলের ম্যানেজমেন্টদের। দর্শকরা আশা করছেন যে শুরুর দফায় অনুপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ তারকা পরের ধাপে ফিরে এসে ট্যুর্নামেন্টকে প্রতিযোগিতাময় ও উচ্ছ্বাসময় করে তুলবেন।

  • প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান—চাঁদরাতে মুক্তি ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান—চাঁদরাতে মুক্তি ‘শুকরিয়া হাসনাহ’

    দেশের পরিচিত কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে জাহিদ নিরবের সুর ও ব্যবস্থাপনা। নিজের কণ্ঠেও বেশ প্রশংসিত একাধিক গান আছে তার। এবার বিশেষ এক আত্মীয়-মিলনে প্রথমবার বাবাও ভাইদের নিয়ে গান প্রকাশ করতে যাচ্ছেন নিরব। ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে মুক্তি পাবে তাঁর কাওয়ালী ধারার গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ভিডিওটি প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল YouTube চ্যানেলে উন্মুক্ত করবে প্রতিষ্ঠানটি। এটি প্রাইম ব্যাংক হাসানাহ-এর একটি জিঙ্গেল থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গানে রূপান্তর করা হয়েছে।

    নিরব বলেন, ‘‘বাড়িতে আমরা সবাই মিলে গান করি। আব্বা হারমোনিয়ামে ভাগ্য খুলে দেন, আমি মাইক্রোফোনের সামনে—এভাবেই শুরু আমার সংগীতজীবন। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা বাজান, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার ছোঁয়ায় থাকে, আর মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাবে প্রাণ ঢুকিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের আবহই এবার গান হয়ে প্রকাশ করছি।’’

    গানের কথার দায়িত্ব পালন করেছেন মঞ্জুর এলাহী। তিনি বলেন, ‘‘গানটির কথা লেখার সময়ই একটি জাগরণ হচ্ছিল—কতটুকু আমরা সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ, তা মাপা যায় না। সেই অনুভূতিই গানটিকে চালিত করেছে।’’

    আলাপের সূত্রপাত মূলত প্রাইম ব্যাংকের একটি জিঙ্গেল থেকেই—নিরব নিজে বলেন, ‘‘গানের ভাবনা ও কথাগুলো আমাকে খুব ভালো লেগে ছিল, তাই অনুমতি নিয়ে সেটিকে পুরো গান বানাই। গান প্রকাশে ভিডিওও জরুরি; অনেক দিনের বন্ধু কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তাঁর টিম আমাদের স্বপ্নটি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রেখেছেন।’’

    এবারের ঈদ নিরবের জন্য বিশেষ—গত বছর তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এই প্রথম বিবাহোত্তর ঈদটা পার করছেন। নিরব জানালেন, ‘‘বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সব কিছুই একরকম আলাদা লাগছে।’’ তবুও বিশ্রুর সুযোগ নেই; নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদের জন্য পূর্ণ ব্যস্ততা রয়েছে।

    নিরব বলেন, তিনি বর্তমানে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন; তানিম নূরও এই কাজ সহজ করে দিয়েছেন। এছাড়া রায়হান রাফীর ছবি ‘প্রেশার কুকার’-এ একটি গান আছে, যা গেয়েছেন অঙ্কন কুমার; গানটির কথা ও সুরও অঙ্কনেরই।

    ঈদের কয়েকটি নাটকের গানেও কাজ করেছেন নিরব। ‘তবুও মন’ নাটকে ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ গানটির কথার জন্য রয়েছেন তারিক তুহিন; সুর ও ব্যবস্থাপনা করেছে নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান; কথা লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব ছিলেন কর্মব্যস্ত—একাধিক কাজ প্রকাশ পেয়েছে। ‘মিউ’ ওয়েবফিল্মের ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুশ্রেণির ‘মিউ মিউ মিউ’ তার করা। প্রবাসীদের অংশগ্রহণে প্রাইম ব্যাংকের জন্য একটি মিউজিক ভিডিওও করেছেন তিনি; সেই গানটির অনপ্লাগড ভার্সনও তৈরি করা হয়েছে এবং শিগগিরই প্রকাশ হবে।

    তার নিয়মিত ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫—এ তিনি মিউজিক ডিরেক্টর। ঈদে ধারাবাহিকটির একটি বিশেষ এপিসোড আসছে। সব মিলিয়ে এই ঈদ জাহিদ নিরবের জন্য আনন্দ এবং কর্মবহুল স্মৃতিতে পরিপূর্ণ।

  • ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি: কনসার্ট হয়ে উঠল বিশাল অর্থনীতি

    ১৪ কনসার্টে দিলজিৎ আয় ৯৪৩ কোটি: কনসার্ট হয়ে উঠল বিশাল অর্থনীতি

    কনসার্ট কি শুধুই গান-আনন্দ? দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক ট্যুর দেখিয়ে দিয়েছে, এতে লুকিয়ে থাকতে পারে কোটি কোটি টাকার একটি ব্যাপক অর্থনীতি। মাত্র ১৪টি শো এবং ১৩টি শহরে নিয়েই তার আয় দাঁড়াল প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকায় — এই ভ্রমণকে বলা হচ্ছে ডিল-লুমিনাটি ট্যুর, যা লাইভ মিউজিকের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

    টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ২২১ কোটি, স্পনসরশিপে পাওয়া হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকার বেশি — প্রতিটি শো যেন নিজের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকটা এসেছে পরোক্ষ আয়ে: ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেলবাসা, খাবার ও কেনাকাটাসহ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। রিপোর্ট অনুযায়ী, দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশ অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থেকেছেন, ফলে কনসার্টগুলো স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসাকে নতুন গতি দিয়েছে।

    দর্শক উপস্থিতিও ছিল নজর কাড়ার মতো — ১৪টি শোতে মোট حضور ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারের ওপরে, আর দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক; সব শোই হাউসফুল। বিশ্বমঞ্চে বড় তারকার সঙ্গে তুলনা করলে এখনও কিছুতে পিছিয়ে থাকতে পারেন, তবু এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছে।

    শুধু বিনোদন নয় — এই ট্যুর তৈরি করেছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা সৃষ্টির কথা বলা হচ্ছে; লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন থেকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রই কনসার্ট জগত থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছে। এর মানে স্পষ্ট: এখন একটি কনসার্ট কেবল গান-সংগীতের ব্যাপার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম।

  • তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা

    তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা

    বিএনপি নেতা তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের সবাইসহ বিশ্বের সমস্ত মুসলিম জনতাকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি শুক্রবার (২০ মার্চ) এক বাণীতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন।

    বাণীতে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের দুই প্রধান ধর্মীয় উৎসবের একটি। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর এ উৎসব আসে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে। রমজান মাস সিয়াম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয়, যা মানুষের নৈতিকতা ও সহমর্মিতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে প্রতিফলিত হওয়া উচিত; এটাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি উৎসবের এই দিনে ধনী-গরিব, ছোট-বড়—সকল ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রতিজ্ঞা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিএনপি নেতা সবাইকে অনুরোধ করেছেন যেন ঈদের আনন্দ বঞ্চিতদের সঙ্গে করে তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করা যায়। ‘‘সমাজের অসহায় ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের ঈদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত,’’ ধরনের ভাবাবেগ তিনি ব্যক্ত করেছেন।

    তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, পবিত্র ঈদুল ফিতর জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি মানুষকে ঈদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    বাণীর সমাপ্তিতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যে, আল্লাহ সকলের জীবনে ঈদের আনন্দ, রহমত ও বরকত বর্ষিত করুন; দেশ ও জাতিকে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করুন।

  • জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জামায়াত-এনসিপি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মনিরুল হক চৌধুরী

    জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রবিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব আলোচনা কালে বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াত ও এনসিপি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন এবং অতীত রাজনীতির স্মৃতিচারণ করেছেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর দেশে এক মেধাবী শ্রেণি উঠে আসে যারা পরে জাসদ গঠন করে। ‘‘বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে দেশ গেছে, জাতি গেছে, তারা তো আছেই না,’’ বলছিলেন মনিরুল হক। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং ঘটনাগুলো হজম করার তৌফিক কামনা করেন।

    বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণ করে তিনি বলেন, জামায়াতকে রাজনীতিতে এনে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার পেছনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও আছে—এটা ভোলা ঠিক হবে না। ১৯৯১ সালের সংসদে তিনি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করে মনিরুল হক বলেন, অনেক সময় মনে করা হয় গত ১৫-২০ বছর ধরে বিএনপি ছিল না; অথচ তখনও দল কাজ করেছে এবং নেতৃত্বর সিদ্ধান্তগুলোকে স্মরণ করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, জাসদ একসময় আওয়ামী লীগকে প্রতিপক্ষ মনে করত—এ ধরনের ইতিহাস বিবেচনা করে দেশের অবস্থা কোথায় গিয়েছিল তাও তাৎপর্যপূর্ণ।

    সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলা নিয়ে তিনি কিছুটা অনিশ্চয়তা তুলে ধরেন। ‘‘কখনো মনে হয় কোথায় কথা বলব—আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম; আজকার বিরোধীপক্ষের অনেককেই আমি এখনও চিনি না,’’ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি স্মরণ করান, তারেক রহমান কঠিন নির্বাচনের কথা বলেছিল—সেসময় অনেকে বুঝতে না পারলেও পরে নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় তা উপলব্ধি হয়েছে।

    মনিরুল হক বলেন, এত বিশাল সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর কাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত তা নিয়ে চিন্তা আছে, এবং এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীকে আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত এমন অভিভাবকতাও থাকতে পারে—তবে আজকাল আমাদের নিজের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছু জীবিত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে যে প্রশ্ন উঠছে, তা কতোটা ন্যায়সঙ্গত তা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার নামে যদি অন্যায় হয়েছে, সেটিকে আলাদা করে বিবেচনা করা উচিত বলেও জানান মনিরুল হক। তিনি বলেন, এই ব্যাপারগুলো তিনি মহান সংসদের সামনে রেখে দিয়েছেন এবং জামায়াতকে শুধু একটা কথা বলবেন—স্বাধীনতার পরে বা এনসিপি’র মতো খণ্ডের নেতাদের বয়স তুলনায় কম হলেও তাদের প্রতি সম্মান রাখা উচিত, কারণ তারা সাহসী এবং এ যুগের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

  • কারও কষ্ট হয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    কারও কষ্ট হয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে নানা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত ও জনপ্রিয় হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কিছু মন্তব্য ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় সে সম্পর্কেই নতুন করে внимание বাড়ে।

    বুধবার সকালে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লিখেছেন, ‘‘যদি আমার কোনো কথা বা আচরণ অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকে, সে জন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’’ তিনি তার বক্তব্যে জানান যে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী, মন্ত্রী-এমপি ও সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথন করেছেন এবং সেসব আলাপের মধ্য থেকেই মূল্যবান দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

    পাটওয়ারী বলেন, সবাই তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলা, অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকা এবং গঠনমূলক আলোচনায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সেই পরামর্শ বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করছেন এবং আরও শান্ত ও দায়িত্বশীলভাবে পথ চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    নেতা জানান, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির কাজে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যেতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমর্থকদের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শই তার পথচলার শক্তি।

    এক প্রশ্নের জবাবে পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, ‘‘গতকাল ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে একটি নীরব আত্মিক যাত্রা শুরু করেছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।’’

    ঘোষণাটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে এবং তা দলীয় কর্মকাণ্ড ও স্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    ক্রেডিট কার্ড গাইডলাইন হালনাগাদ: ঋণসীমা বেড়ে ৪০ লাখ

    বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনা আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করার লক্ষ্যে একটি নতুন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন জারি করেছে। গাইডলাইনে ঋণসীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক অধিকার সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে, যা রোববার ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান।

    দৈনন্দিন জীবনে নগদ বহনের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বাড়ায় এবং সেবার পরিধি সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে এই খাতের জটিলতা দূর করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে পুরনো নীতিমালা হালনাগাদ করে এখন একটি সামগ্রিক গাইডলাইন চালু করা হলো।

    নতুন নির্দেশনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানকে উৎসাহিত করে নগদবিহীন লেনদেনের জন্য স্বচ্ছ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইনে প্রযোজ্যতা ও সংজ্ঞা, ক্রেডিট কার্ডের প্রকারভেদ, গ্রাহকের যোগ্যতার মানদন্ড, ক্রেডিট সীমা ও সুদের হার নির্ধারণ, কার্ড ইস্যু ও বিপণন পদ্ধতি, বিলিং ও আদায় প্রক্রিয়া, গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও অধিকার সুরক্ষা, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    সংস্কারিত গাইডলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিতরণযোগ্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা আগের ২৫ লাখ টাকার পরিবর্তে এখন ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিরাপদ (অনসিকিউরড) ঋণের সীমাও ১০ লাখ টানা থেকে বৃদ্ধি করে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের অভিযোগ, অনিয়ম বা জালিয়াতি, কার্ড লেনদেনের পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা ও বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে স্বচ্ছতা বাড়বে, গ্রাহক সুরক্ষা শক্তকরণ হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক তদন্ত শুরু

    চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ও শিপিং করপোরেশনে অনিয়ম: দুদক তদন্ত শুরু

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে।

    দুদক তাঁর উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চারটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আগে যখন শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, তখন ২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকার বাজেটে ৬টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; কিন্তু শেষপর্যন্ত মাত্র ৪টি জাহাজই কেনা হয়। এর ফলে প্রকল্পে প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতির চিহ্ন পড়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা যায়।

    এছাড়া মোংলা বন্দরের ‘পশুর চ্যানেল সংরক্ষণ ড্রেজিং’ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    দুদকের অনুসন্ধানকারী দল সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি তলব করেছে এবং অভিযোগ এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দুদক বলেছে, তদন্তের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অনুসন্ধান শেষ হলে তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

  • ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    ঈদে আল-আকসা বন্ধ: জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের গভীর হতাশা

    পবিত্র আল-আকসা মসজিদ জেরুসালেমে মুসলমানদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থান। এবার রমজানের শেষ দিকে মসজিদটি বন্ধ রাখা হয়—এটি ১৯৬৭ সালের পর এমন ঘটনা। ফলে ঈদুল ফিতরের দিন অনেক মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে কাছাকাছি মাঠ ও সড়কে নামাজ আদায়ে বাধ্য হন।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে ওল্ড সিটি জেরুসালেমের বাইরে শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে ঈদের জামাত পড়তে দেখা গেছে। ইসরাইলি পুলিশ মসজিদের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়া ছিল, ফলে মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা পড়ে।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, মার্কিন ও ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তারা বলেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে পুরো রমজানজুড়ে মসজিদে প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পুরনো শহরের গেটের বাইরে নামাজ আদায় করেছেন।

    ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করেন, এটি কেবল নিরাপত্তার কথা বলা নয়—এটি একটি কৌশলের অংশ। তাদের দাবি, উত্তেজনা বা সংঘর্ষকে অজুহাত করে আল-আকসা কমপ্লেক্সে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা হচ্ছে। আল-হারাম আল-শরিফ বা টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ডোম অব দ্য রকসহ বহু পবিত্র স্থাপনা আছে, তাই এর ওপর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্রীয় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হয়।

    জেরুজালেমের মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা গেছে। ৪৮ বছর বয়সি হাজেন বুলবুল বলেন, “এবারের ঈদ আমাদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন। এটা একটি খারাপ নজির রয়ে গেল—ভবিষ্যতেও এমন ঘটতে পারে।” তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ অনেক বেড়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরনো শহরে অনেক ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইসরায়েলি বসতকারীরা বারবার মসজিদ এলাকায় ঢোকে, নামাজের সময়ও অনেককে আটক করে ও মসজিদে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। সাধারণত ঈদের আগে ওল্ড সিটি ভিড় ও ব্যস্ত থাকলেও এবার এলাকাটি প্রায় ফাঁকা ছিল; দোকানপাটও বেশিরভাগ বন্ধ ছিল—শুধু ওষুধ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের দোকান খোলা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    আল-আকসার খতিব ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি একরিমা সাবরি ফিলিস্তিনি মুসলিমদের আহ্বান জানিয়েছেন—যদি মসজিদে ঢুকতে না পারেন, তবে যতটা সম্ভব কাছাকাছি কোথাও ঈদের নামাজ আদায় করুন। কিন্তু পুরনো শহরের ভিতরে কড়া নিরাপত্তা ও তল্লাশির কারণে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বেড়ে গেছে।

    আল-আকসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে আরব লীগ। সংস্থাটি বলেছে, এটা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এছাড়া ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) ও আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনও একই সুরে নিন্দা জানিয়েছে এবং সতর্ক করেছে, এমন পদক্ষেপ চলতে থাকলে সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়তে পারে ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক শান্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

    আল-কুদস ইউনিভার্সিটির প্রেসিডিয়া মিডিয়া ইউনিটের পরিচালক খলিল আসালি বলছেন, আল-আকসা বন্ধ করা ‘ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়’। তিনি জানান, অনেক তরুণ যখন মসজিদের কাছাকাছি নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন, তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ধাওয়া করে নামাজরত অবস্থাই সরিয়ে দেয়।

    অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় ইহাই পরিস্থিতি যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের ছায়ায় আরও কষ্টকর। রমজানের শেষে যখন বিশ্বের অনেক মুসলিম ঈদ পালন করছেন, গাজার শহরগুলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সীমিত উদযাপন করছে। ইসরায়েলি বিমান হামলা থামেনি, ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ পালন করছেন।

    উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহে আশ্রয় নেওয়া ৩২ বছর বয়সি সাদিকা ওমর বলেন, “ঈদের আনন্দ অসম্পূর্ণ। প্রত্যেকের কাঁদার কাহিনী আছে—কেউ বাড়ি হারিয়েছে, কেউ পরিবারের সদস্য। আমার স্বামী দূরে রয়েছে, তাই পুরোপুরি খুশি হওয়া যায় না। তবু আমরা চেষ্টা করি ধর্মীয় বিধি মেনে কিছুটা আনন্দ রাখার। ”

    খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া ৪৯ বছরের আলা আল-ফাররা বলেন, “যুদ্ধের শুরুতে আমরা আমাদের গ্রাম আল-ক্বারারা থেকে বিতাড়িত হয়েছি। প্রতিদিনের হামলার কারণে চলাফেরা সীমিত, তাই এবারও ঈদ অনেকটা সীমিত।” ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে কিছু ভাঁড়ার চুলায় কায়েক ও মামুলের সুবাস ছড়ালেও অনেকের তাছাড়া পৌঁছায় না—ছোট ছোট ক্রয়ই শিশুকে সাময়িক আনন্দ দেয়।

    গাজায় কিছুদিন পর গত ১৯ মার্চ রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং সীমিতভাবে খুলে দেয়া হয়। বলা হয়েছে, এটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হওয়ার পর গাজার জন্য জাতিসংঘের প্রথমবারের মতো একটি কনভয় প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে। তবু ঈদের আনন্দ অনেকটাই অনিশ্চয়তায় আবদ্ধ।

    গাজা সিটির ৪২ বছর বয়সি খলুদ নামের এক পিতা বলেন, “যুদ্ধবিরতির পর আপাতত কিছুটা নিরাপত্তা আছে, কিন্তু যথেষ্ট নয়। চলতি সপ্তাহেই আমাদের এলাকায় বিমান হামলার প্রস্তুতিতে মানুষকে সরানো হয়েছে—ইফতারকালের পার্শ্ববর্তী মুহূর্তে, কিছুই নিয়ে যেতে পারেনি কেউ।”

    নীতিগত ও মানবিক দিক থেকে আল-আকসা বন্ধ রাখা এবং গাজায় চলমান সীমাহীন ধ্বংস আন্দোলনের মধ্যে ফিলিস্তিনি জনগণের ঈদ এবার শোক, ক্ষতি ও অন্ধকার স্মৃতির সঙ্গে কেটেছে—ঐতিহ্যের উজ্জ্বলতা তুলনামূলকভাবে ক্ষীণ। (সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও স্থানীয় প্রতিবেদক)