শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: দীপু মনির, বাবু ও রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন প্রসিকিউশন

ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায় হত্যার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোঃ আমিনুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, প্রসিকিউশন এই ঘটনায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ, অর্থাৎ ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের আপোষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনার যাতে ভিন্ন দৃষ্টিকোণে আনা যায়, সে জন্য এই ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত ভ‚মিকা ছিল বলে ধারণা করছি। ফলে, আগামী দিনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রোডাকশনের নির্দেশনা চাইতে পারে এবং প্রয়োজনে তাদের গ্রেফতারও করা হতে পারে।”

প্রসিকিউশন অফিস জানায়, এদিন সকালেই হেফাজতে ইসলামের এক প্রতিনিধি দল ট্রাইব্যুনালে গিয়ে প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। এই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে অতিরিক্ত তথ্য ও নিহতদের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়।

শ Aptলা চত্বরে ঘটনা তদন্তে একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সমীকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, “সারাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই ঘটনার ভিন্ন খাতে নিতে সাংবাদিক ফারজানা রূপা কিছু বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেন এবং পুরো বিষয়টিকে বিভ্রান্ত করে দেন। এছাড়া, একাত্তর টেলিভিশন, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার ভূমিকা এই মামলার স্বার্থে গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।”

আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, “তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছেন। তাদের এই রিপোর্টের সত্যতা প্রায় নেই বললেই চলে, তারা শুধুমাত্র বিতর্কিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। এই সমস্ত কাজ দেশের বৃহৎ তদন্তের স্বার্থে খুব জরুরি।”

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির ব্যাপারে তিনি জানান, “দীপু মনি তার একান্ত সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার বক্তব্যের একই প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘তারা (হেফাজতকারীরা) রঙের কাপড়ে শুয়ে ছিল, পুলিশ আসার সময় দৌড় দিয়েছে।’ বিদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে এই অদ্ভুত ইন্টারভিউ দিয়ে তিনি ঘটনাটিকে ভিন্ন দিক থেকে উপস্থাপন করেছেন, যা ভাবনায় আনে যে, এই পরিকল্পিত কাজের সঙ্গে তারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।”

আসছে পরিস্থিতিতে, তিনজনই প্রোডাকশনের জন্য ডাকা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদেরকে হয়তো ভবিষ্যতে যথাযথ প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “ঘটনার পরদিনই তারা যে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে, তার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? তারা বলছে, হতাহতের ঘটনা ঘটেল না। তারা বেনজীর (সাবেক আইজিপি), যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মাধ্যমে বলিয়েছে, সেখানে কোনো হতাহত হয়নি। শেখ হাসিনাও পার্লামেন্টে এই দাবি করেছেন।”

তিনি আরো যোগ করেন, “আমাদের সন্দেহ, এই পরিকল্পনার আগে থেকেই তারা এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি দিচ্ছিল। এটি এক ধরনের যৌথ অপরাধ, যেখানে সবাই যোগসাজশে হেফাজতকে বিতর্কিত করে তোলার জন্য কাজ করেছে।”

শাপলা চত্বরের অভিযানে রাতের ইন্টারনেট শাটডাউন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের বিষয়েও তিনি জানান, “এই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করছি, যারা সেই রাতে ব্ল্যাকআউটের সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

ওই রাতেই দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা পর পরই মূল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, পুলিশ কর্মকর্তারা এই ঘটনায় জড়িত কি-না, তা তদন্তের মধ্যে রয়েছে।

প্রশ্নের জবাবে, লাশ গুমের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তদন্ত চলছে। আরও কিছু তদন্তের জন্য অপেক্ষা করুন, সব কিছু জানানো হবে।” এছাড়া, এই মামলার পরবর্তী তারিখ ৭ জুন নির্ধারিত রয়েছে বলে জানানো হয়।