রপ্তানি আয়ে পতন মার্চেও অব্যাহত থেকেছে—রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানায়, গত মাসে দেশের রপ্তানি আয় ১৮.০৭ শতাংশ কমে ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমেছে; গত বছরের একই সময় এটি ছিল ৪.২৪ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত তাদের বরাত মতে মোট রপ্তানি আয় ৪.৮৫ শতাংশ কমে ৩৫.৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৩৭.১৯ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা আট মাস ধরে রপ্তানি আয় নিম্নমুখী রয়েছে।
দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেও নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতে আয় ৫.৫১ শতাংশ কমে ২৮.৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার।
ইপিবি বলেছে, রপ্তানির সামগ্রিক পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কিছু বাহ্যিক কারণে চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংলগ্ন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং তার সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো প্রধান গন্তব্যের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করেছে।
এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে রপ্তানি আদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। তবে ইপিবি জানায় হিমায়িত ও জীবিত মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্রকৌশল পণ্য খাত কয়েকটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক বৃদ্ধির লক্ষণ দেখাচ্ছে, যা সামগ্রিক ঘাটতি কিছুটা প্রশমিত করেছে।
ইপিবি’র এই তথ্য দেশের রপ্তানিখাতকে ঘিরে সচেতনতা বাড়িয়েছে যে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা আর্থিক ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, এবং তালিকাভুক্ত প্রধান খাতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য দ্রুত কার্যকর নীতিগত সমন্বয় প্রয়োজন।
