Blog

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা খেলাপি ঋণসহ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এবং অন্যান্য ঝুঁকি শনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তত্পরতা বৃদ্ধি করেছে। এজন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বতী প্রতিবেদন যথাসময়ে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ এই সংক্রান্ত একটি সার্কুলার প্রকাশের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী, নিরীক্ষা বছরের নবম মাস ভিত্তিক একটি অন্তর্বতীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সেটি নিরীক্ষা বছর শেষের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। একই নিয়মে ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে।

    আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য ইতোমধ্যে সুপারভিশন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিবিশ্লেষণ ভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একইভাবে দেখা না হয়, বরং যেসব ব্যাংকের ঝুঁকি বেশি, তাদের ওপর বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। এর ফলে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগেভাগে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর প্রভাব একদিকে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা, বিশেষ করে ঋণ ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমগ্র ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি پাবে।

  • ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময় ঘোষণা, এক ঘণ্টা কমালো সময়সূচি

    ব্যাংক লেনদেনে নতুন সময় ঘোষণা, এক ঘণ্টা কমালো সময়সূচি

    জাতীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সিদ্ধান্তে ব্যাংকের কার্যকাল এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি কার্যকর করেছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন পরিচালনা করবে, যা আগে ছিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর ফলে ব্যাংকের অফিস সময় কমে এখন বিকেল ৪টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে চলে আসবে। এই নতুন সময়সূচি শনিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রথাগতভাবে, ব্যাংকের অফিস সময় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকত। তবে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার এ্যাডজাস্টমেন্ট করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই পরিবর্তিত সময়সীমা ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে অন্তত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এটাই কার্যকর থাকবে।

    অন্যদিকে, সমুদ্র, স্থল ও বিমান বন্দর এলাকায় ব্যাংকের শাখাগুলি সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, আগের মতোই। এই সিদ্ধান্তটি গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়, এবং এটি দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিসের সময়সীমাও এক ঘণ্টা কমিয়ে ৭ ঘণ্টা নির্ধারিত হয়েছে। এখন থেকে সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখতে হবে এবং বিয়ে বাড়িতে আলোর সাজসজ্জাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

  • মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

    মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ

    দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের মাস ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.১৩ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৩৫ শতাংশ। এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হলো খাদ্যপণ্যের দাম কমে যাওয়া, যা মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে ৮.২৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এটি ছিল ৯.৩০ শতাংশ, আগের বছরের মার্চে ছিল ৮.৯৩ শতাংশ। অন্য দিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যেখানে ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.०১ শতাংশ এবং গত বছরের মার্চে ছিল ৯.৭০ শতাংশ। গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা দৃশ্যমান স্বস্তি এসেছে। গ্রামে মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.২১ শতাংশ এবং গত বছরের মার্চে ছিল ৯.৪১ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি গ্রামে কমে ৮.০২ শতাংশে এসেছে, যেখানে গত মাসে ছিল ৯.০৭ শতাংশ। তবে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৯.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। শহরাঞ্চলে, মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.৬৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.০৭ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ফেব্রুয়ারি ছিল ৯.৮৭ শতাংশ। খাদ্যবহির্ঘূত মূল্যস্ফীতি অল্প বেড়ে ৮.৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে, মজুরি বৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে মার্চে হয়েছে ৮.০৯ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারি ছিল ৮.০৬ শতাংশ। এরপরও, মূল্যস্ফীতি এখনো মজুরি বৃদ্ধির হার থেকে বেশি থাকায় শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রকৃত আয় পুরোপুরি বাড়াতে পারছেন না। এর ফলে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত, মোট ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি যে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছিল, তখন মজুরির বৃদ্ধি ছিল ৭.৯৩ শতাংশ। এর ফলে দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট। বর্তমানে সেই ব্যবধান সংকুচিত হয়ে এসে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি সূচিত করছে।

  • স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলো চার দফা দাম বৃদ্ধির পর

    স্বর্ণের দাম কিছুটা কমলো চার দফা দাম বৃদ্ধির পর

    টানা চার দফা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পর দেশের বাজারে এখন কিছুটা কমে এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃপক্ষ ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এখন থেকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকায়। এ তথ্য সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবং নতুন দাম কার্যকর হবে একই দিন সকাল ১০টা থেকে। সংগঠনটির মতে, স্বর্ণের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের বাজারে বর্তমানে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমার পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। এর আগে, ১ এপ্রিল সকালে বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের ভরি দামের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা ঘোষণা করেছিল। সেই সময়ে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল, যেমন ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাম ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা। এখন পর্যন্ত এই বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে ৩০ দফা দাম বৃদ্ধি এবং ২২ দফা দাম কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার মূল্য বাড়ানো এবং ২৯ বার দাম হ্রাস করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, রুপার দামেও সংশোধন আনে বাজুস। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে এখন রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪০ টাকায়। অন্যান্য ক্যারেটের রুপার দাম হলো, ২১ ক্যারেটের ৫ হাজার ৩০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

  • ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতের লোকসান ও সিএসআর খাতে হ্রাস

    ২০২৪ সালে ব্যাংকখাতের লোকসান ও সিএসআর খাতে হ্রাস

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকখাতে এক কঠিন আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। বছরজুড়ে অর্থনৈতিক চাপে পড়ায় মোট ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। যে ব্যাংকগুলো মুনাফা করেছে, তাদের আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি, যার প্রভাব পড়ে তাদের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের ওপর, যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববার প্রকাশিত সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক মোট খাতে কেবল ৩৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। 이는 আগের বছরে বা ২০২৪ সালে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বছরে এই খাতে ব্যয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস।前年ের তুলনায় এটি ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। এই পরিমাণটাই এখন পর্যন্ত এই খাতের সবচেয়ে কম ব্যয়ের রেকর্ড, যা গত দশকে দেখা যায়নি।

    আগের বছরের সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ২০১৫ সালে, যেখানে শুধুমাত্র ५২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল। এরও আগে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে এই সংখ্যা আবারও খরচের নিম্নমুখী প্রবণতা ইঙ্গিত করছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে মোট ব্যয় হয়েছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে এই খাতে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে আরও বেশি—প্রায় ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় কমে গেছে প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়, অর্থাৎ জুন-জুলাইয়ে, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট, ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশিত হতে শুরু করে, যা প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে প্রকৃত লোকসান ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা আগে কাগজে-করা মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত অর্থনৈতিক দুর্বলতা উন্মোচন করে। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলো এই চাপের মধ্য দিয়ে পড়েছে। এসব ব্যাংকে কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের বিষয়গুলো পরস্পর জড়িয়ে রয়েছে। সরকার এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়, যাতে তাদের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।

    ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর ব্যয়ের এই হ্রাসের পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগের সময়ে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকার যখন আসে, তখন বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান ও সহায়তার জন্য চাপ থাকত। ফলে ব্যাংকগুলো বেশি ব্যয় করত, যেগুলোর অনেকটাই প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে চলে যেতো। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে এই চাপ অনেকটাই কমে গেছে। এখন ব্যাংকগুলো বেশি বিবেচনা করে গণমানুষের জন্য প্রকৃতার্থে প্রয়োজনীয় কর্মসূচিতে ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপের কারণে কখনো কখনো এই অর্থ অপ্রয়োজনীয় ও অপুষ্টি খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্য থেকে বিভ্রান্ত করে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো তাদের নিট মুনাফার একটি নির্দিষ্ট অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করবে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যে, এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে খরচ করা যাবে।

    তবে বাস্তবে এই নির্দেশনা গুরুত্বের সঙ্গে মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ ‘অন্যান্য’ খাতে ব্যয় করেছে, যেখানে শিক্ষায় ব্যয় ছিল ২৮.৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবেশে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ না থাকায় এসব খাতে কম ব্যয় দেখানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে কোনও অর্থই ব্যয় করেনি, যাদের মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া, এই বছর লোকসানে থাকা বেশ ক’টি ব্যাংকও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয়ের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে আছে- এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক অনেকটাই লোকসানে থাকলেও তারা এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে সাড়া দিয়েছে, যার ফলে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার দায়িত্বে আরও গুরুত্ব দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভের আহ্বান জানালেন

    নাহিদ ইসলাম ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভের আহ্বান জানালেন

    বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে অগ্রসর করার জন্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে নেমে বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা রক্তের ওপর দিয়ে তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়, প্রত্যাশার বাইরে নোটবাড়িয়েছে। তবে যতটুকু সংস্কার বা অর্জন হয়েছে, তা ধরে রাখতে তাঁদেরকে অবশ্যই মাঠে নামতে হবে। আমি ড. ইউনূসকেও বিক্ষোভে মাঠে নামার دعوت জানাচ্ছি।’ এই বক্তব্য তিনি পবিত্র ওমরাহ পালনশেষে আজ শনিবার দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্যক্ত করেন।

    সংস্কার নিয়ে যা কিছু হচ্ছে তা অপ্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে, বিশেষ করে সংস্কারকে কেন্দ্র করে, এটা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। ৫ আগস্টের পর থেকে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, কিন্তু বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনের জন্য এগিয়ে আসবে।’ তিনি আরও জানান, তারা মূলত আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন, আর বিএনপি আগের অর্থাৎ পুরোনো ধারাকে ধরে রাখতে চেয়েছিল নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে।

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপির কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি অর্জন করা দুই-তৃতীয়াংশ আসনের পরও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় আইনের বিরোধিতা করছে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনা থেকে বিরত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন, উচ্চ আদালত ও বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশ রয়েছে। তারা এই সব বাতিল করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন করতে চাইছে, যেখানে নির্বাহী বিভাগের একচেটিয়া ক্ষমতা থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬ বছরে এই দলটি বড় ধরনের নিপীড়নের মুখে পড়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছে, কিন্তু মানুষের এ দলের প্রতি আস্থা কমেছে, কারণ নেতৃত্বে তারা আস্থা অর্জন করতে পারেনি।’ ফলে, এনসিপির নেতারা সংসদে সমাধান না পেয়ে এখন রাজপথে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা সরকারের কাছে দাবি, সংবিধান সংস্কার ও অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার বুঝতে পারছে না যে, সামনে আর অর্থনৈতিক মন্দা আসছে, যদি জনগণের আস্থা না থাকে তাহলে তারা আর সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।’ তিনি অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ অন্য উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বলতে চান, তাদের উচিত এখন এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে কথা বলা, মুখ খুলতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘ড. ইউনূসসহ যারা এই আইনগুলো করেছিলেন, তাদের এখন ঘোষণা দিয়ে বলতে হবে, এগুলো বাতিল হচ্ছে। না হলে, তারা এদিক-সেদিক মুখোশ আড়াল করবেন। তাদেরকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

    প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে ওমরাহ পালন ও জেয়ারত শেষে নাহিদ ইসলাম ঢাকার বিমানবন্দর ছেড়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় যান। ৩০ মার্চ পবিত্র ওমরাহ পালন ও মহৎ নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর রওজা মোবারক জিয়ারতের পরে, শনিবার বেলা প্রায় ২টার দিকে বাংলাদেশের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি দেশে ফেরেন। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর সাংগঠনিক ও অন্যন্য সেবার জন্য তাঁকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতৃবৃন্দ।

  • বিএনপি দ্রুততম সময়ে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিল

    বিএনপি দ্রুততম সময়ে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিল

    দ্রুত সময়ের মধ্যে দলীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন দলের নেতারা। বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য দ্রুততম সময়ে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এই কাউন্সিল খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরও জানান, বৈঠকে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি, হামের প্রাদুর্ভাবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার সম্প্রতি ৪৭ দিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়েও অবহিত করা হয়।

    উল্লেখ্য, শনিবারের এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বিএনপি গঠনের ইতিহাসের দিকে ফিরে দেখা যায়, দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়া রহমান ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন, যার ভিত্তিতে দলটি গঠিত হয়।

    বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নির্বাহী কমিটি বা পরিষদ গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে শেষবারের মতো ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা জটিলতার কারণে আর কোনও কাউন্সিল হয়নি। এখন সংবিধানগতভাবে দলটি আবারও নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে যাচ্ছে।

  • গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের ঐক্য

    গণভোট ইস্যুতে সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের ঐক্য

    গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ও তা অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে রাজধানীতে বিশাল এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলের ঐক্য। শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে এই মিছিলের পূর্ব সমাবেশে নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ফ্যাসিবাদী মনোভাব দেখাচ্ছে। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি এই ফ্যাসিবাদ কায়েম করার চেষ্টা চলতে থাকে, তাহলে অতীতের সরকারগুলোর মতো বিএনপিকে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেমন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’ ও ‘গণভোট মানতে হবে’। নেতাকর্মীরা slogans দেন গণভোটের পক্ষে এবং সরকারের অবস্থানের বিপক্ষে। এই ঐক্যবদ্ধ মিছিল ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের আকাঙ্খাকে গুরুত্ব না দিয়ে গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অবস্থায় আছে। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, যদি অবিলম্বে এই রায় বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও মতামতের প্রতিফলন নিশ্চিত করতে সংবিধানে সংশোধনের উপরও জোর দেন বক্তারা।

  • অভ্যুত্থানের দিগন্ত উন্মোচন: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবার সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা

    অভ্যুত্থানের দিগন্ত উন্মোচন: আসিফের সতর্কতা ২৬-২৭ সালে আবার সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকার গণতন্ত্রের অখণ্ডতা এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার প্রায়ই বলে যে আগামী ১৫-২০ বছরেও দেশে কোনও গণঅভ্যুত্থান হবে না, কিন্তু ইতিহাস তার বিপরীতটা দেখিয়েছে। ৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সফলতা যখন রক্ষা করা হয়নি, তখনই ৭১ সালে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। যদি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনগুলো সংরক্ষণ না করা হয়, তবে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারও একই ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবর্ধনাসম্পন্ন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এই সংবাদ সম্মেলনটি বিএনপি সরকারের বেআইনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটের রায় উপেক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের নিয়োগের আইন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আয়োজন করা হয়েছিল।

    আসিফ বলেন, অনেক সময় আমরা দেখছি, বিএনপি সংবিধানের কথা বলে। কিন্তু নিজে যখন প্রশাসক নিয়োগের ব্যাপারে আসে, তখন তারা সংবিধান লঙ্ঘন করে। সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, স্থানীয় সরকারের প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়োগ সাধারণ ভোটের মাধ্যমে হতে হবে। কিন্তু বর্তমান অধ্যাদেশগুলো বহাল রেখে তারা নির্বাহী বিভাগকে এত ক্ষমতা দিয়েছে, যাতে কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে যেকোনো সময় অপসারণ করা যায়। এতে বিরোধী দলের কেউ যদি নির্বাচিত হন, তাদের নতুনভাবে আঘাত করে মনোভাবপ্রদর্শন বা অপসারণের হুমকি দেয়া হয়, যা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

    ফোনে অডিও-প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ১৮-১৯টি এজেন্সির ব্যক্তিগত ফোনে অডিও ফাঁসের ক্ষমতা ছিল, এবং এই কাজে কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে অস্থায়ী সরকার সেই ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানে রাখে এবং আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে দেয়। কিন্তু এখন বর্তমান সরকার সেই বাধ্যবাধকতা সরিয়ে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে ফাঁসের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে।

    এনসিপির মুখপাত্র আরো জানান, জনগণের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যদি এই সরকার গণভোটের রায় না মানে, তবে তাদের “অবৈধ সরকার” ঘোষণা করা হবে। তারা বলছেন, যেমন তারা তাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে মরিয়া, তেমনি তারা তাদেরকেও অবৈধ ঘোষণা করতে অপেক্ষা করছে না।

    আসিফ আরও জানান, তারা শুরু থেকেই এই সরকারকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সরকারের দুঃনীতি ও অপ্রিয়তায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সব রাজনৈতিক অংশীজনের সঙ্গে বসে সমাধানের জন্য তিনি প্রস্তুত। তবে গণভোটের নাটকীয়তার কারণে তাদের রাজপথে নামা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে। এটি কারো জন্যই সুখকর হবে না বলে মনে করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।

  • সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় কিছু শক্তি: মির্জা ফখরুল

    সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় কিছু শক্তি: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবাইকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, সব ধরনের বিভাজন ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অবশ্যই রুখে দিতে হবে।

    শনিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমাদের অবশ্যই সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটি চিরতরে বিদায় দিতে হবে। আসল শক্তি হলো মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং সৌহার্দ্য, যা আমাদের পথচলার মূল চালিকা শক্তি হওয়া উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখাতে পারে কীভাবে সব ধর্মের মানুষ এখানে এক সাথে বসবাস করে। দেশটি একদিকে যেমন ইসলাম ধর্মকে ধারণ করে, তেমনি Hindu, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধধর্মের অনুসারীরাও এই দেশের অংশ। অতীত থেকে এই ভূখণ্ডে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করে আসছে।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এককালীন সময়ে ধর্মের ভিত্তিতে সমাজে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা থেকে সবাইকে মুক্তির পথ খুঁজে বের করতে হবে।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করা, যেখানে সবাই থাকবে সম্পৃক্ত। সামনে আমাদের অনেক কাজ রয়েছে, যা সবাই মিলে সম্পন্ন করতে হবে।’