Blog

  • প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা চলছে

    প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী : মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা চলছে

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সোমবার (০৬ এপ্রিল) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার প্রবাসী মামুনের মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার জন্য কায়মনে কাজ করছি এবং এর প্রক্রিয়াকে সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমবাজার খোলার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের প্রবাসীরা সুবিধাজনক পরিবেশে কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি আরবের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মামুনের মরদেহ পৌঁছায়। পুরো পরিবারের উপস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রধানরা মরদেহ গ্রহণ করেন।

    মামুনের পরিবারের একজন সদস্য জানান, ঈদুল ফিতরের একমাস পর দেশে ফিরে নতুন বাড়ি বানানোর পরিকল্পনা ছিল তার। তবে দুর্ভাগ্যবশত, সে আর সেটা দেখতে পেল না। ২০ বছর বয়সে পরিবারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছর প্রবাস জীবনের পরে, তার স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সে চিকিৎসার জন্য লাইফ সাপোর্টে থাকতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল খারজ এলাকায় একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ауыр আহত হন মামুন। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার পর রিয়াদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর বেশ কিছু দিন পরে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ বাংলাদেশে আসে।

    প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরও জানান, এই ট্র্যাজেডির ফলে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ দেশের আনা সম্ভব হয়েছে। তাদের পরিবারের প্রতি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

  • সরকারের সিদ্ধান্তঃ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করার ঘোষণা

    সরকারের সিদ্ধান্তঃ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত না করার ঘোষণা

    বিচার, গুমের অভিযোগ, দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো এখনো আইনে পরিণত হয়নি, আর এ ব্যাপারে সরকারের পেছনে হটার ইঙ্গিত প্রকাশ করেছেন Transparency International Bangladesh (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় ধানমন্ডির সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন।

    ইফতেখারুজ্জামান বললেন, বিচার বিভাগের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি লাগানোর সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য এবং তা জাতীয় স্বার্থে ক্ষতিকর।

    টিআইবির মতে, আইনে পরিণত হতে যাওয়া ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে এর ফলে আইনের দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

    সংগঠনটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যদিও মতামত দেয়, তবে বাতিল ও সংশোধনের সিদ্ধান্তগুলো কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়, বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করবে বলে মনে করা হয়।

    এছাড়াও, গুম প্রতিরোধ কমিশন নিয়ে সরকারের চিন্তা অগ্রহণযোগ্য ও ধিক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন তারা। পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেন, এটি সকল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে সংস্থাটি এটিকে বাতিলের পক্ষে মত দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং সরকারের অঙ্গীকারের বিরুদ্ধে যায়—যদিও এই পরিকল্পনাগুলো প্রথমে এ লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছিল। গণমাধ্যমের মতে, এসব পদক্ষেপের কারণে আগের অঙ্গীকারের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সরকারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যেন সব কিছু তার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে।

    সংস্থাটি প্রশ্ন তোলে, গত ৫ আগস্টের পরে সৃষ্ট অগ্রগতি ও সম্ভাবনাগুলো কি এখন আর আগের মতো কার্যকর হবে না? তারা মনে করে, এসব সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী প্রবণতা সৃষ্টি করছে এবং পেছনের দিক থেকে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।

    সংগঠনটির মতে, এই সিদ্ধান্তগুলো সরকারের পরিকল্পনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের দৃষ্টিকোণ থেকে এক ধরনের ক্ষতি সাধন করছে। সেইসঙ্গে, গুম বিরোধী কমিশন ও বিচার বিভাগ নিয়ে সরকারী পদক্ষেপগুলো সমালোচনার মুখে পড়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর অফিস সিদ্ধান্ত নেবে বৈশাখে ভারতের জন্য ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে

    প্রধানমন্ত্রীর অফিস সিদ্ধান্ত নেবে বৈশাখে ভারতের জন্য ইলিশ পাঠানোর বিষয়ে

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখে ভারতের জন্য ইলিশ পাঠানো নিয়ে সিদ্ধান্তrafting হবে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। এ ব্যাপারটি কোনো রপ্তানি কার্যক্রম নয়, বরং এটি এক ধরনের সৌজন্য ও সম্মানের প্রকাশ। তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত ভারতের প্রবাসী ও সহযোগীদের ধারণ করে, এটি দেশের জন্য অর্থনৈতিক শিশুবিশেষ কিছু নয়।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। মন্ত্রী জানান, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহটি আগামী ৭ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। দেশের ২০টি জেলায় এই সপ্তাহের কর্মসূচি উদযাপিত হবে, যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামীকাল চাঁদপুরে আয়োজন করা হবে।

    তিনি এ সময় আরও সতর্ক করে বলেন, জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রি ও মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হবে। জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা জরুরি, যাতে ইলিশের সম্পদ সংরক্ষণ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে সবাই।

    ভারতে ইলিশ পাঠানোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার কোনো ধরনের ইলিশ রফতানি করে না। ভারতে যা পাঠানো হয়, তা মূলত সৌজন্য স্বরূপ। এবার পহেলা বৈশাখে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, তা প্রধানমন্ত্রীের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

    অন্যদিকে, সরকার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সরবরাহ বাড়লে ইলিশের দাম কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে এই মাছ পেয়ে থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ ব্যাপারে জানান, জাটকা সংরক্ষণে প্রয়োজন হলে জেলেদের খাদ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আর্থিক সহায়তা বিতরণে কোনও ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সরকার অনলাইন ক্লাসের দিকে যাচ্ছে না বলে জানালেন প্রতিমন্ত্রী

    সরকার অনলাইন ক্লাসের দিকে যাচ্ছে না বলে জানালেন প্রতিমন্ত্রী

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকার বর্তমানে অনলাইন ক্লাসের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য কেবিনেট এখনো কিছু বড় পরিকল্পনা করছে না। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রাথমিক শিক্ষাক্ষাতে বিনিয়োগগুলো কীভাবে আরও ফলপ্রসূ করে তোলা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। তিনি অব্যাহত রাখেন, মে-জুন মাসের মধ্যে সারা দেশে জেলা ও উপজেলাগুলোর প্রাথমিক স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত পরিদর্শন চালানো হবে, যাতে এই খাতে আরও বিকাশ ও উন্নয়ন সম্ভব হয়। ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, অতীতের বেশ কিছু কাজ যেখানে থেমে ছিল, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে এবং সেগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারের উদ্দেশ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রকৃত পরিবর্তন ও অগ্রগতি অর্জন।

  • ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারের হাইকোর্টে জামিনের আদেশ

    ধর্ম অবমাননার মামলায় বাউল আবুল সরকারের হাইকোর্টে জামিনের আদেশ

    ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল গানের শিল্পী আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। এই সঙ্গে আদালত জারি করেছে রুল, সেটি জানানোর জন্য কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা দেন।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) আবুল সরকারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলাটি জামিনযোগ্য ধারায় হওয়ায় আদালত আবুল সরকারকে জামিন দিয়েছেন।

    প্রাথমিকভাবে, গত ২০ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে তাকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশ। পরের দিন, ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আবদুল্লাহ বাদী হয়ে আবুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় মামলা করেন। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং বিকেলে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    এরই মধ্যে, ১ ডিসেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ডা. মো. মাহফুজুর রহমান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে another মামলা করেন। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আবুল সরকার মানিকগঞ্জের এক মেলার মঞ্চে পরিবেশিত গানে আল্লাহকে অবজ্ঞা করে অশ্রদ্ধামূলক মন্তব্য করেন, যা বাদীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে।

    অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৮৬০ এর ২৯৫ ও ২৯৫(ক) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

  • মাইক বিভ্রাটে সংসদ অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য স্থগিত

    মাইক বিভ্রাটে সংসদ অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য স্থগিত

    রোববার (৫ এপ্রিল) বিকাল ৫টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় পার্লামেন্টের সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটির দায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমাদ সংসদ অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিন আজ। দিনটি শুরু থেকেই মাইকে সমস্যা দেখা দেয়; স্পিকার ও সংসদ সদস্যরা একে অপরের বক্তব্য শুনতে অসুবিধা বোধ করলে শেষ পর্যন্ত স্পিকার বিরতি ঘোষণা করেন।

    এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদ কক্ষ থেকে দাঁড়িয়ে জানান, ‘‘মাননীয় স্পিকার, আমাদের মাইকে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, আপনার মাইকেও সমস্যা হচ্ছে।’’ এই অভিযোগের পর স্পিকার মাইকে ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করেন।

    স্পিকার জানান মাইক অসামঞ্জস্য দ্রুত ঠিক করা হবে এবং মুলতবির সময়ের মধ্যে ২০ মিনিট মাগরিবের আজানের জন্যও রাখা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন গত ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম দিনেও মাইকে বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল এবং তখনও সংসদ কাজ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হয়েছিল।

  • সংবিধানকে সংস্কার বলা যাবে না, শুধুই সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধানকে সংস্কার বলা যাবে না, শুধুই সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংসদে বলেছেন, সংবিধান কখনই ‘সংস্কার’ হয় না — এটি সংশোধন, স্থগিত বা রহিত করা হয়। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ৭১ সালের জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এ মন্তব্য করেন।

    তিনি সবদলীয় সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাবও দেন, যাতে সংবিধান কীভাবে সংশোধন করা হবে তা নিয়ে বিনিময় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৭১ সালের ছাত্র-জনতা ও জনগণের অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে আমরা সম্মান জানাই। সেই যাত্রার সারসংক্ষেপ—৭১ সালের জাতীয় সনদ ও ঘোষণাপত্র—আমরা সংবিধানে ধারণ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। এর বিন্যাস চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তিনি ব্যক্ত করেন যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা করা যায় না।

    সালাউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনের সময় সংবিধানে অনেক ধরনের ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি মিলভাগ হয়েছে, যার কিছু অংশ হাইকোর্ট ইতোমধ্যে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশের বিষয়ে সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষত ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণাগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পরিষ্কার করে বিলুপ্ত করা প্রয়োজন হবে।

    তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন—এই ঘটনাকেই প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে সংবিধানে ফিরিয়ে আনা হবে।

    সংবিধানের মৌলিক নীতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি আমরা পুনর্বহাল করতে চাই।’ তিনি বলেন, এটি আগেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, পরে এক ফ্যাসিস্ট শাসনামল এটি বাদ দিয়েছিল। যদিও জাতীয় সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কিছু দলের আপত্তির কারণে তা রাখা হয়নি, তবু সরকার এটি ফিরিয়ে আনার প্রতিজ্ঞায় দৃঢ়।

    রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান অধিকারী জনগণ—এমন কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমে প্রয়োগ হয়। সরকারের ম্যান্ডেট অনুযায়ী তারা একটি ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের প্রস্তুতি নিয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব দেয়া হবে।

    শেষে বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘‘সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলেই বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করুন। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে—বাহ্যিক কোনো প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে নয়।’’

  • চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

    চব্বিশের অর্জন রক্ষা না হলে ২০২৬-২০২৭ সালে পুনরায় অভ্যুত্থানের আশঙ্কা—আসিফ

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ও চেতনাকে রক্ষা করা না হলে ২০২৬ কিংবা ২০২৭ সালে একই ধরনের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করা হয়নি—এর ফলেই ১৯৭১ সালের ঘটনার পথ তৈরি হয়েছিল।

    সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে—বিশেষ করে গণভোটের ফল উপেক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি অধ্যাদেশ বাতিল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে।

    আসিফ বলেন, বিএনপি বারবার সংবিধান কথা বললেও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধানই ভঙ্গ করছে। সংবিধানে স্থানীয় সরকার সংস্থায় জনপ্রতিনিধি নিয়োগে ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের থাকার কথা স্পষ্টভাবে বলা আছে; কিন্তু যে অধ্যাদেশগুলো আগেই জারি ছিল সেগুলো বজায় রেখে নির্বাহী প্রশাসনের হাতে এমন ক্ষমতা রেখে দেওয়া হচ্ছে যে, কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধিকে anytime অপসারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিকে ভয় দেখিয়ে অনুগত ‘প্রশাসক’ বানিয়ে রাখার সুযোগ তৈরী হচ্ছে—যা স্পষ্টতই সংবিধান লঙ্ঘন।

    তিনি ফোনে আড়ি পাতার ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ উত্থাপন করেন। বলেন, আওয়ামী শাসনের সময় প্রায় ১৮-১৯টি সংস্থার কাছে ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি চালানোর ক্ষমতা ছিল এবং তাদের ওপর কোনো কার্যকর আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার সে ক্ষমতা সীমিত করে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিল এবং আদালতের অনুমতিকে বাধ্যতামূলক করেছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কারধর্মী অধ্যাদেশটি বাতিল করে আবারও ১৮-১৯টি এজেন্সির হাতে অপ্রতিবদ্ধ নজরদারি ক্ষমতা ফিরিয়ে দিচ্ছে—এটি জনগণের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক, বলেছেন তিনি।

    মুখপাত্র আরও বলেন, অতীতেই আমরা ফ্যাসিবাদের ছাপ দেখেছি, আর এখন সরকারের মধ্যে স্বৈরাচারের লক্ষণ পরিষ্কার হয়ে উঠছে। যদি বর্তমান সরকার গণভোটের রায় মেনে না নেয়, উত্তর থেকেই তারা ‘অবৈধ সরকার’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সতর্ক করে বলেন আসিফ। তিনি আরও জানায়, যেভাবে সরকার আমাদের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ করতে সময় নিচ্ছে না, আমরাও তাদের অবৈধ ঘোষণায় দেরি করব না।

    আসিফ দাবি করেন, শুরু থেকেই এনসিপি এই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছে, কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সব অংশীজনকে নিয়ে আলোচনা־সমাধান করতে চান তারা; তবে গণভোটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া নাটকীয়তার কারণে বাধ্য হয়ে সড়কে নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজপথে নামা কারোর জন্যই মঙ্গলজনক হবে না, কিন্তু বিকল্পও আর নেই।

    সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারি করে একটি নতুন বাংলাদেশের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে এবং তা রুখে দিতে হবে। রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমাদের সমাজ থেকে ‘ঘৃণা’ শব্দটিকে চিরতরে বিদায় দিতে হবে। ঘৃণা নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

    তিনি জোর দিয়েছেন যে বাংলাদেশ এমন একটি ভূখণ্ড যেখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বেঁচে এসেছে। ‘‘এই দেশে ইসলামসহ সকল ধর্মের লোকেরা রয়েছে; খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সবাই একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ,’’ বলেন তিনি। অতীতে ধর্মীয় ভিত্তিতে যে বিভাজনের চেষ্টা হয়েছে, সেগুলো থেকে সবাইকে সরে এসে সংহতি গঠনের পথে হাঁটতে হবে—এই বার্তাটিও তিনি দিচ্ছেন।

    খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা আগামীতে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে অনেক কাজ রয়েছে, তা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।’’

    অনুষ্ঠানে তিনি সকল মহলকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিদ্বেষ ও বিভাজনকে প্রতিহত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

  • জ্বালানি-বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল

    জ্বালানি-বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যাংকের লেনদেন সময় এক ঘণ্টা কমল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে ব্যাংকের লেনদেনের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকে লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা শনিবার (৪ এপ্রিল) জারি করে এবং জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি ৫ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক লেনদেন সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা, আর অফিস খোলা থাকত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

    একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ন নিশ্চয়তা হিসেবে বলা হয়েছে যে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরের (পোর্ট ও কাস্টমস) এলাকায় থাকা ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথ—এইসব স্থানে আগের মতোই সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা হবে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশে চলছে এমন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সব অফিসের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সরকার বাস্তবে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সাত ঘণ্টা নির্ধারণ করেছে—সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার এবং বিয়ে বাড়িতে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সিদ্ধান্তগুলোর লক্ষ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমানো এবং সাময়িক সংকট শাসন করা। ব্যাংকিং খাতেও এই পরিবর্তন একই প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।