Blog

  • খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়

    খালেদা জিয়ার ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনের স্মরণীয় অধ্যায়

    জাতীয়তাবাদী দলের প্রবীণ নেত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ আর নেই। তিনি মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, যা দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় শোকের ঘটনা।

    খালেদা জিয়া তার গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে ৪১ বছর ধরে দেশের মুখে হাসি সঞ্চার করেছেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে, কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নির্বাচন হয় তার। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলের নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

    তার ব্যক্তিত্ব, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সংগ্রামী জীবন তাকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরে স্থান করে দিয়েছে। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি দলের নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়। ইতিহাসে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাক্ষী হয়ে আছেন।

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জিয়া(‘–‘)র হত্যার পর বিএনপি সংকটে পড়ে। তখন তিনি স্বামীকে হারানোর দুঃখের অভিঘাতে স্বামীকে হারানোর বেদনা নিয়ে দলটিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে তার প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হয় তার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

    তিনি ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১ এপ্রিলের বর্ধিত সভায় তার বক্তৃতা সংগৃহীত হয়। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হওয়ার পর তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব সামলান। ১৯৮৪ সালের মে মাসে তিনি প্রকাশ্যে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

    খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রাম শুরু করে। তার নেতৃত্বে দলটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকে বাতিল করার জন্য তাঁর আপসহীন লড়াই এক বিস্ময়কর ইতিহাস গড়ে। বিভিন্ন সময় তাকে আদালতের নানা নিষেধাজ্ঞা ও মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে।

    জিয়া পরিবারের এই প্রবীণ নেত্রীর জীবনে নানা সংকট এসেছে। অগ্নিসংযোগে আক্রান্ত হয়েছেন, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে এরশাদের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন, নিজের বাড়ি হারানোর সর্বনাশের সময়েও তিনি দমে দেননি। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জেল জীবন উপভোগ করতে হয়েছে তাকে। পরে ২০০৮ সালে মুক্তির পর তার মা, বেগম তৈয়বা মজুমদার মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্য তা আরও গভীর শোকের বিষয়।

    করোনা মহামারীর সময় ২০২০ সালে পারিবারিক অনুরোধে তাকে ছয় মাসের জন্য শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আবার মুক্তি পান। তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

    চিরঘুমে শায়িত হলেও তার রাজনীতিমুখী জীবন ও সংগ্রাম বাংলা রাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি, বরং প্রতিবারই জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের ইতিহাসে একজন সফল নারী নেত্রীর বৈচিত্র্য আয়ত্ত করেছেন। তার নেতৃত্বে নানা সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

    আজ তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন শোকেরাগ্নিতে দগ্ধ। তার জীবন ও সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিকার নেতা কখনো অস্ত যায় না। তার অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি

    বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই শূন্যতা শুধুমাত্র দেশের জন্যই নয়, বরং গণতান্ত্রিক পৃথিবীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও অসীম গুরুত্ববহ।

  • খালেদা জিয়া নির্বাচনে পরাজয় করেননি

    খালেদা জিয়া নির্বাচনে পরাজয় করেননি

    বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য নেত্রী, যার জীবন boyunca কখনও নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয়নি। প্রায় চার দশক ধরে তিনি দেশের নির্বাচনী মাঠের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন, এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সফলতা অর্জন করেছেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে তিনি তিনটি আলাদা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যেকবারই জয় লাভ করেন। শেষবার ২০০৮ সালে তিনি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন। তবে এরপরই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুরু হয়। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বয়কট করে নির্বাচনে অংশ নেয়নি, আর ২০১৮ সালে মামলার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের.Suppressb শেষের অংশটুকু বয়কট করেছে বিএনপি। ফলে, গত কিছু বছর ধরে তিনি নির্বাচনী মাঠের বাইরে ছিলেন। তবে, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার তিনটি আসন থেকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে দ্বিতীয় দায়িত্বকাল ছিল মাত্র এক মাস। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শাইরুল কবির খান জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে বাংলার সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনী আনা হয়, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন, তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তনের পর ২০০১ সালে বিএনপি হেরে যায় এবং তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে অবস্থান করে যান। ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের সমন্বয়ে এই সফলতা অর্জন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন শেষে তিনি বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের এক পরম ধরনের নেত্রী, যিনি কখনও হার মানেননি এবং দেশের রাজনীতিতে তার অবদান অসীম।

  • সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপি নেতারা

    সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন বিএনপি নেতারা

    খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবর্ধনামূলক এক সংবাদ সম্মেলনে চোখে অশ্রু নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দুজনকে কাঁদতে দেখা যায়, যা নবনির্মিত নেতাকর্মী আর সাধারণ মানুষের হৃদয় বিদ indruking করে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, ‘এটি আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক যে, আজ আমাদের প্রিয় নেত্রী আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা কখনো ভাবিনি, এই দিনটি আসবে। আশা করেছিলাম, তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে ফিরবেন। কিন্তু আজ ভোর ৬টায় ড. শাহাবুদ্দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের নেতা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এই শোক অপূরণীয়, এই ক্ষতি কখনো পূরণ হবে না। তিনি সারাজীবন জনগণের অধিকার ও কল্যাণের জন্য আত্মনিয়ােগী হয়ে সংগ্রাম করেছেন, সেই নেত্রী আর আমাদের মধ্যে নেই। বাংলাদেশে একটি বিশাল শূন্যতা তৈরী হলো, যা কোনোভাবেই পূরণ হবে না। এই শূন্যতা শুধু সাধারণের নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরও বড় ক্ষতি।’

    রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন, ‘আমরা আজ এক গভীর শোকের মধ্যে আছি, যেন আমাদের মায়ের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনি ছিলেন অসুস্থ, হাসপাতালে ছিলেন, আবার বাড়িতে। তবুও আমাদের মনে হত, তিনি আছেন, কারণ তাঁর উপস্থিতি আমাদের সাহস দিত। এই দীর্ঘ সময় ছাত্র রাজনীতি থেকে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন, তাঁর ত্যাগ স্বীকারের সাহায্যে আমরা শক্তি পেতাম। এত তাড়াতাড়ি তিনি চলে যাবেন, ভাবতেই কষ্ট হয়। এ শোক ও সংকট কাটিয়ে উঠা খুবই কঠিন। নিপীড়নের মধ্যেও তিনি স্বল্প সময়ে স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন, তাঁর লড়াইয়ের জন্য আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা। বিশ্বের সব মানুষের হৃদয় তাঁর জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছে। এই শোকময় সময়ে মানবতা ও গণতন্ত্রের জন্য তিনি যে ত্যাগ করে গেছেন, তার জন্য আমরা চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবো।’

  • বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর

    বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর

    বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এর জানাজা আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ মিটিংয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে চোখের সামনাে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে এবং তাকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হবে। সভায় মন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, আন্তঃসরকারি তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠান চলাকালে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও, তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছিল এবং তার এই মৃত্যু প্রতিটি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজে দেশের সাধারণ জনগণের শৃঙ্খলিত সমাগম ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে, এই তিন দিন—৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি—রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকবে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই শোয়েব রাজনীতিক নেত্রী, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই শোক ও শ্রদ্ধার মধ্যে তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানের প্রতি সব মানুষের সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • বেগম জিয়ার মৃত্যুতে দায় হাসিনা ও তার সরকারের, আইন উপদেষ্টা বলেন

    বেগম জিয়ার মৃত্যুতে দায় হাসিনা ও তার সরকারের, আইন উপদেষ্টা বলেন

    বাংলা politieke দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। আইন উপদেষ্টার মতে, এই মৃত্যু সাম্প্রতিক সরকারের, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট মুখোশ পরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্ররোচনামূলক ও অন্যায় সিদ্ধান্তের ফল। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো রায় দিয়ে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছিল, যা নিঃসন্দেহে অহিংস ও নির্মম নির্যাতন। তার দেখানো বারবার আদালতের রায় ও সংবিধানের প্রতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দ্ব্যর্থকতা এই সত্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি দাবি করেন, অবিচার ও নিপীড়নের এই পরিস্থিতিতে দেশের ইতিহাসের এই নেত্রীর মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি দায়ী বর্তমান সরকারের প্রধান ব্যক্তি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সম্ভব সবকিছুই করেছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে সবসময় খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। যদি তার অবস্থা কিছুটা ভালো হতো, তাহলে হয়তো তাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হতো। তবে, ভাগ্যক্রমে তিনি আমাদের ছেড়ে গেলেও, দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বিদায় নিলেন।

    শীঘ্রই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে এক জরুরি বৈঠক করবে, যেখানে খালেদা জিয়ার জানাজার অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, জানাজার স্থানসহ সব ধরনের সহযোগিতা অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে পাওয়া যাবে।

    অতিরিক্তভাবে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা ও সকল আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করা হবে। এর আগে, বাংলার এই বড় নেত্রীর সঙ্গে শেষবারের মতো কথোপকথন হয়েছিল সশস্ত্র বাহিনী দিবসে, যেখানে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।

    আসিফ নজরুল বলেন, এই মুহূর্তে দেশের মানুষের হৃদয়ে খালেদা জিয়ার স্থান অটুট ও অক্ষয়। তার পাপড়ির মতো স্থায়িত্ব, তার জন্য দেশের প্রতিটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ভবিষ্যতেও অম্লান থেকে যাবে। তার জানাজার নামাজ যথাযথভাবে, শৃঙ্খলার সঙ্গে, ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    সুরক্ষা ও শোকের স্মারক হিসেবে জানানো হয়, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। এছাড়া, এ সময়ে সরকারি সব ধরনের অনুষ্ঠান ও সরকারি কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।

    মঙ্গলবার ভোর ৬টা দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তার স্মৃতি, মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের প্রভাব চিরদিন বাংলার মানুষের হৃদয়ে অম্লান থাকবেন।

  • তারেক রহমানের মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, দোয়া চান

    তারেক রহমানের মাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট, দোয়া চান

    সদ্য মৃত্যু হয়েছে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। এই শোকাহত দেশের মানুষ অন্ধকারে ডুবে গেছে, বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে শোক প্রকাশ করছেন। সরকারও এই দুঃখের সময় শোকপ্রকাশে ঘোষণা দিয়েছে।

    বিপুল শোকের মধ্যেই তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগময় পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, মা—বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দেশের স্বার্থে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আজ (মঙ্গলবার) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    তারেক রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন, অনেকের কাছে তিনি গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেত্রী, দেশের মূল নেতা। আজ দেশের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন, এক এমন পথপ্রদর্শককে হারানো, যিনি গণতন্ত্রের পথে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন এবং এর জন্য অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন।

    তিনি বলেন, আমার জন্য তিনি একজন মাতৃপ্রেমী মা, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায়। তিনি স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সবসময় লড়েছেন, দেশের স্বাধিকার, সুষ্ঠু শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

    মাকে স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, ত্যাগ ও সংগ্রামে পরিপূর্ণ এই মানবী পরিবারের একমাত্র খুঁটি, এমন একজন আলোকবর্তিকা, যাঁর অভিন্ন ভালোবাসা আমাদের সব শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি বারবার গ্রেফতার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তারপরও তাঁর সাহস, সহানুভূতি ও দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে পরিবারকে তিনি শক্তিশালী করেছেন।

    পরিবারের বয়ান তুলে ধরে তিনি জানিয়েছেন, দেশের জন্য তিনি স্বামী-সন্তান হারিয়েছেন। সেই ত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের মানুষই became his extended family, his identity, his existence. তার কর্ম জীবন রেখে গেছেন এমন এক ইতিহাস, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    শেষে, তিনি দোয়া চেয়ে বলেছেন, সকলেই তাঁর মা-এর জন্য দোয়া করবেন। দেশের প্রতি তাঁর আস্থা, ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা তার পরিবারের প্রতি আজও অটুট, এবং আবেগময় এই শোকার্ত পরিবার সমস্ত দেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।

    মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। বিকেল ছয়টার দিকে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • খালেদা জিয়ার দাফন-জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হবে: প্রেস সচিব

    খালেদা জিয়ার দাফন-জানাজা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হবে: প্রেস সচিব

    বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এভারকেয়ার থেকে শুরু করে তার জানাজা ও দাফনের পুরো প্রক্রিয়ায় মোতায়েন থাকবে ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার পরে এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    প্রেস সচিব জানান, খালেদা জিয়ার মরদেহের দাফন ও জানাজা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এটি পরিচালনা করার জন্য ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর পাশাপাশি, খালেদা জিয়ার জানাজায় উপস্থিত থাকবেন তার প্রধান উপদেষ্টা সহ সব উপদেষ্টা।

    এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফম খালিদ হোসেন, আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, নৌপরিবহন ও শ্রম বিভাগে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্থানীয় সরকার, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও রেলপথের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।

    এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

  • হাদিকে নিয়ে পোস্টে চমক-ামানুমকে হত্যার হুমকি

    হাদিকে নিয়ে পোস্টে চমক-ামানুমকে হত্যার হুমকি

    সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফুল ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় পুরো দেশেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আকস্মিক এই হামলায় গুরুতর আহত হন হাদির পরিবার ও অনুসারীরা, এবং তার সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর মধ্যে দোয়া ও সমবেদনা জানান বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। জনপ্রিয় দুই শোবিজ তারকা, যারা হাদির জন্য দোয়া ও সমর্থন জানাচ্ছেন, তারা ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের হাতে বিচারের দাবিও তুলেছেন।

    এদিকে, হাদিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করার পর চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন, নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ ও ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই হুমকির মধ্যে রয়েছে চমকের ফোন নম্বর ফাঁসের ঘটনা এবং তাঁদের অবস্থান বা লোকেশনের ট্র্যাকিং করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

    নির্মাতা মামুন সামাজিক মাধ্যমে এই হুমকির বিষয়টি জানিয়ে লিখেছেন, ‘হাদিকে নিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা জানে না, হাদি আমার জন্য একটি ভালোবাসার নাম। আমি মৃত্যুভয়কে কখনও মানি না। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, আমার বিশ্বাস আমাকে আল্লাহই রক্ষা করবেন।’

    অন্যদিকে, ডাল্টন সৌভাতো হীরা নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই হুমকি বাতচিত হচ্ছে, এর আগে শরিফুল ওসমান বিন হাদির অনুরূপ হুমকি দেওয়া হয়েছিলো এই অ্যাকাউন্ট থেকে।

    আলোচিত নির্মাতা অনন্য মামুন সম্পর্কে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এ বাটপারের নাম উল্লেখ করতেও ভুলে গিয়েছিলাম। অনন্য মামুন—দ্য পিম্প। ও যেন শান্তিপূর্ণভাবে থাকুক। আর ওর চলচ্চিত্র যেন কেউ প্রডিউস না করে, এতে নিজেরই ক্ষতি হয়ে যাবে।’

    আর, বান্নাহ ও চমককে কাজে ডাকা বা না ডাকার বিষয়ে হুমকি দাতা লিখেছেন, ‘মাবরুর রশীদ বান্না ও রোকেয়া জাহান চমক, বঙ্গবন্ধুর ৩২ ভাঙার পর যারা কুৎসিত উল্লাস করেছে, যদি কেউ তাদের কাজে ডাকে, সেটি যেন নিজের দায়ে নেয়। এই নব্য রাজাকারের সঙ্গে কাজ করাটা আপনার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কেউ যেন এই দুইজনের লোকেশন ট্র্যাক করে এবং প্রয়োজন অনুসারে তাদের কাছে পৌঁছে। এই তথ্য আমাদের আইটি টিমের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে, যাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’

  • অভিনেত্রীর মধ্যে ভিড়ের মধ্যে হেনস্তা, ওড়না ধরে টান

    অভিনেত্রীর মধ্যে ভিড়ের মধ্যে হেনস্তা, ওড়না ধরে টান

    অনুরাগীরা সর্বদা তাদের পছন্দের তারকাদের সঙ্গে ছবি তুলতে উদগ্রীব থাকেন। অনেক সময় তারা প্রিয় অভিনেতাকে স্পর্শ করেন বা ফ্রেমবন্দি হওয়ার সময় কাছ থেকে আকর্ষণ দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই আবেগের অতিক্রম হয় সীমা লঙ্গন করে। সম্প্রতি দক্ষিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী নিধি আগরওয়ালের সঙ্গে এমন এক অসংগত ঘটনা ঘটেছে।

    ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার রাতে। এরই মধ্যে এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি দেখলে বোঝা যায়, প্রভাসের নেতৃত্বে থাকা দক্ষিণী সুপারস্টার অভিনেতা এবং নিধির নতুন সিনেমা ‘রাজা সাব’ এর গানের লঞ্চের পরে যখন তারা বেরোচ্ছিলেন, তখন একভূত হেনস্তার শিকার হন অভিনেত্রী। ভক্তরা নিরাপত্তা উপেক্ষা করে ছবি তুলতে পথ আটকান এবং অযত্নে দ্রুত এগোতে দেখা যায়। কেউ কেউ পেছন থেকে ধাক্কা দেন, আবার কেউ কেউ ভিড়ের মধ্যে নিধির ওড়না ধরার চেষ্টা করেন এবং টানাটানি করেন।

    অভিনেত্রীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে গাড়িতে ওঠা খুবই কঠিন হয় এবং তাকে ভিড়ের মধ্য দিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনা দেখে অনেক নেটিজেনই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মন্তব্যে বলেছেন, এই ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ মানায় না মানুষের। কেউ কেউ লিখেছেন, “মানুষের দল হায়নার চেয়েও খারাপ আচরণ করছে। পুরুষরা কেন এই ধরনের মারাত্মক হয়রানির জন্য দায়ী হতে পারে। ঈশ্বর তাদের সবাইকে অন্য কোথাও রাখেন কি না, এটি ভাবনার বিষয়।”

    তেলুগু ছবির এই জনপ্রিয় নায়িকা ‘মুন্না মাইকেল’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন টাইগার শ্রফ। সর্বশেষ তাকে বড় পর্দায় দেখা গেছে সানি দেওলের বিপরীতে ‘জাট’ সিনেমায়। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে তার জন্য সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।